রাজবাড়ী মেইল
সর্বশেষ

 সারাদেশ সারাদেশ

মতামতমতামত

সিজারের পর পেটে গজ রেখেই নার্সের সেলাই; অসুস্থ বিথীর গোয়ালন্দের বাড়িতে ইউএনও, দিলেন সু-চিকিৎসার আশ্বাস

মঈনুল হক মৃধা, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ীঃ সিজারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই করা ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স সেই বিথীর বাড়িতে ছুটে গেলেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদা। তিনি অসুস্থ বিথীর চার মাসের ছোট্ট শিশুকে কোলে নিয়ে সু-চিকিৎসার আশ্বাস প্রদান করেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তমিজ উদ্দিন মৃধা পাড়া গ্রামে বিথীর স্বামীর বাড়িতে ছুটে যান তিনি। এ সময় তিনি পরিবারের কাছ থেকে অসুস্থ বিথীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নেন এবং চিকিৎসার বিষয়ে জানতে চান। পাশাপাশি সরকারি পর্যায় থেকে সম্ভবপর সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।ইউএনওর এ উদ্যোগে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিথীর স্বামী রাকিবুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা। ভুল চিকিৎসায় সিসিইউ ও সার্জারি বিভাগে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা একজন অসহায় বোনের পাশে প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার এগিয়ে আসায় স্থানীয়রাও বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান। পরিবার জানায়, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় চিকিৎসক তামান্না এবং ইন্টার্ন চিকিৎসক অরবিন্দের মাধ্যমে বিথীর পেটে গজ রেখেই সেলাই দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকেই শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগতে থাকেন বিথী। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউতে (কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিট) চিকিৎসাধীন আছেন এবং জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।চার মাস ধরে নিজের নবজাতক সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরা তো দূরের কথা, সন্তানকে কোলে নেওয়া কিংবা দুধ খাওয়ানোর মতো অবস্থাতেও নেই তিনি। মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তার ছোট্ট সন্তান।পরিবারের অভিযোগ, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিথী আক্তারের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়। অস্ত্রোপচারের সময় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে তার পেটের ভেতর গজ থেকে যায়। এরপর থেকেই তার শরীরে তীব্র যন্ত্রণা ও দীর্ঘ জটিলতা শুরু হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথম অস্ত্রোপচারের প্রায় দুই মাস পর তাকে আবারও বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করাতে হয়। পরবর্তীতে পেটের নাড়িতে জটিলতা দেখা দেওয়ায় তাকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকতে হয় এবং বাইপাস সার্জারিসহ একাধিক জটিল চিকিৎসা নিতে হয়। দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় এক সময়ের ৬১ কেজি ওজনের বিথীর শারীরিক ওজন কমে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৩৯ কেজিতে।মঙ্গলবার দুপুরে বিথীর বাড়ি ঘুরে এসে ইউএনও সাইফুল হুদা বলেন, বিথীর অসুস্থতার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ফেসবুকের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পরই তার চার মাসের ছোট্ট শিশু ও পরিবারের খোঁজ খবর নিতে এসেছি। তিনি বলেন, বিথীর মতো একজন নার্সের সাথে যদি ভুল চিকিৎসা ঘটে, তাহলে সাধারণ মানুষের কি হবে। আমরা বিষয়টি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে উদ্ধর্তন কতৃপক্ষকে জানিয়েছি, আশা করছি এ বিষয়ে কতৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসন থেকে নগদ অর্থ ও তার শিশুর জন্য কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রী সহযোগিতা করা হয়েছে। বিথীর পরিবারের পাশে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সর্বক্ষণ থাকবে এবং খোঁজ খবর রাখবে। সরকারি পর্যায় থেকে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।স্থানীয়রা মনে করছেন, একজন মিডওয়াইফ নার্স বিথীর সাথে এমন ভুল চিকিৎসা ঘটলে সাধারণ মানুষের কি অবস্থা করে এ সমস্ত ভুয়া চিকিৎসকেরা। তারা সরকারের নিকট বিথীর সু-চিকিৎসা সহ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

রাজবাড়ীতে জিপিএ-৫ সংবর্ধনা; স্বপ্ন পূরণের জন্য আবারও প্রথম আলো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ছুটে আসে

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ ঘড়ির কাটায় তখন ১২টা ৫ মিনিট। অনুষ্ঠান শেষে সবাই যখন বের হয়ে যাচ্ছিল ঠিক তখনই এসে হাজির রাকিবুর জাহান রিয়াদ নামের এক কৃতি শিক্ষার্থী। বাবার সাথে তরিঘড়ি করে অনুষ্ঠানস্থলে এসে আয়োজকদের খুঁজতে থাকে। এক হাতে অনুষ্ঠানের নিবন্ধনপত্র, অন্যহাতে ব্যাগ। রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সে এ বছর এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। রাকিবুর জাহান রিয়াদ জানায়, ছোটবেলা থেকে প্রথম আলো কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন দেখে আসছি। স্বপ্ন দেখতাম আমিও একদিন এমন অনুষ্ঠানে থাকবো। সকালে সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠানস্থলে এসে দেখি নিবন্ধনপত্র ও মোবাইলফোন নেই। উপায় না পেয়ে আবার বাড়ি বালিয়াকান্দি ছুটে যাই। অনুষ্ঠানস্থল থেকে বাড়ির দূরত্ব প্রায় ১৬ কিলোমিটার। যেতে হয় অটোরিক্সা বা সিএনজি করে। বাড়ি থেকে নিবন্ধনপত্র নিয়ে বাবার সহযোগিতায় দ্রুত এসে দেখি অনুষ্ঠান শেষ।বাবা শাহজাহান হোসেন বলেন, শিখো-প্রথম আলোর জিপিএ-৫ অনুষ্ঠানে আসবে বলে রাকিবুর জাহান রিয়াদ আজ ঘুম থেকে উঠে প্রস্তুতি নেই। ভুলক্রমে নিবন্ধনপত্র বাড়ি রেখে আসায় আবার সে বাড়ি ফিরে যায়। পরে মোটরসাইকেলে সঙ্গে করে নিয়ে এসে দেখি অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেছে। আয়োজকদের সঙ্গে কথা বললে তারা শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত উপহার সামগ্রী তুলে দেয়।  এর আগে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা বাজতেই রাজবাড়ী সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে একে একে হাজির হতে থাকে শিক্ষার্থীরা। সঙ্গে মা, কারো বাবা বা বড় ভাই এসেছেন। মিলনায়তনে প্রবেশের আগেই নির্ধারিত বুথ থেকে নিবন্ধনপত্র দেখিয়ে বরাদ্দকৃত উপহার সামগ্রী নিয়ে প্রবেশ করছে। কারো হাতে পত্রিকা, কারো হাতে ক্রেস্ট। আবার কেউ বন্ধু বা বান্ধবীর সঙ্গে মুঠোফোনে সেলফি তোলা বা ফটো ফ্রেমে ছবি তোলায় ব্যাস্ত হয়ে পড়ে। অনুষ্ঠানস্থলে আসতে থাকেন আমন্ত্রিত অতিথিগন। সকাল ১০টা না বাজতেই মিলনায়তনে কৃতি শিক্ষার্থী এবং অতিথিদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠে। বন্ধুদের কাছে পেয়ে সেলফি তুলছিলেন সানজিনা ইসলাম। সে গোয়ালন্দ শহীদ স্মৃতি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। সানজিনা ইসলাম জানায়, বাবা ছিলেন বাজারের একজন সামান্য আদায়কারী। তাও দুই বছর ধরে বেকার জীবন কাটাচ্ছেন। মা বাড়িতে কিছু হাঁস-মুরগি লালন পালন করে কোনোভাবে সংসার চালিয়ে যাচ্ছে। অভাব আর কষ্ট দূর করতে নিজে অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রাইভেট পড়তে পারেনি বলে ফ্রি অনলাইনে ক্লাস করে পড়াশোনা করতাম। অর্থ সঙ্কটে দূরে কোথাও ভর্তি হতে না পেয়ে গোয়ালন্দ সরকারি কামরুল ইসলাম কলেজে ভর্তি হয়েছে। একেকজন কৃতি শিক্ষার্থীদের গল্প একেক ধরনের খুঁজে পাওয়া যায়। গত বছর জিপিএ-৫ সংবর্ধনা পাওয়ার পর এবারও অনুষ্ঠানে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আরাফ সারজিন স্নেহা। সে জানায়, বাবা ছাড়া সংসার চালাতে যখন মাকে অনেক সংগ্রাম করতে হচ্ছে, তখনই পাশে দাঁড়িয়েছে প্রথম আলো। প্রথম আলোর বৃত্তি পাওয়ার পর পড়াশোনা চালিয়ে নিতে তেমন বেগ পোহাতে হচ্ছে না। তবে মাও ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে জীবন মরণ সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। মায়ের চিকিৎসার পাশাপাশি নিজের পড়াশোনা ও পরিবার মিলে অনেক বেগ পোহাতে হচ্ছে। তারপরও প্রথম আলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি পাশে থাকার জন্য।  ১০টা বেজে ১ মিনিটে সমবেত কণ্ঠে গায়তে শুরু করেন জাতীয় সঙ্গীত। মঞ্চে আমন্ত্রিত শিল্পী এবং বন্ধুসভার সদস্যদের তেজদীপ্ত ভরাট কণ্ঠে সবাই গায়তে থাকেন জাতীয় সঙ্গীত। জাতীয় সঙ্গীত শেষে শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রথম আলো রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি এম রাশেদুল হক। বন্ধুসভার বন্ধু সহকারী অধ্যাপক রাজ্জাকুল আলম ও মাহফুজুর রহমান মিলনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, রাজবাড়ী সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর রেজভী জামান, প্রথম আলোর বিজনেস এডিটর সুজয় মহাজন, রাজবাড়ী একাডেমীর সভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান, সাবেক মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজিজা খানম, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রাজবাড়ীর সহসভাপতি শাহিনা সুলতানা, কৃতি শিক্ষার্থী হামদুল্লাহ ফুয়াদ, ইশরাত জাহান নিশি, আরাফ সারজিন স্নেহা, অভিভাবক মাইনুল হাসান চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।  অধ্যাপক রেজভী জামান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রেখে বলেন, প্রথম আলোর ভালো কাজ থেকে আমি অনুপ্রাণিত হই তারা যখন গণিত অলিম্পিয়াড করে। আমি উদ্ধুদ্ধ হই যখন তারা ইয়াং লিডারদের বেছে নিয়ে তাদের দিয়ে ফোরাম তৈরী করে। প্রথম আলো সেই পত্রিকা অবজেকটিভ জার্নালিজমের পথ দেখায় এবং আমাদের উম্মুক্ত সত্যকে পথ দেখতে শেখায়। তাঁদের অজস্র সফলতা আছে, অজস্র গৌরব গাঁথা আছে। তাঁর মধ্যে অন্যতম আয়োজন হচ্ছে আজকের এই মেধার মিলন মেলা। রাজবাড়ী একাডেমীর সভাপতি সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, প্রথম আলো প্রকাশের পর থেকে আমি পড়ে আসছি। তাঁদের কর্মকা- সবকিছুই আমি অনুসরণ করি। প্রথম আলোর প্রতিদিনের পত্রিকাসহ নিয়মিত ঈদ সংখ্যা এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সংখ্যা গত ২৮ বছর ধরে আমি সংগ্রহ করে আসছি। এখনও আমার বাসায় তা সংরক্ষণ করা আছে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদের এই সাফল্যে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। কেউ এ সাফল্যকে বিরাট করে দেখার সুযোগ নেই, কারণ এটা শুরু মাত্র। আমরা কেউ জিপিএ-৫ না পেয়ে অনেকে ব্যার্থ হয়ে যাই। এটা ভাবা যাবে না। একটা ফলাফলই জীবনের অনেক কিছু পরিবর্তন করে দেয়। তাই এখন থেকে আমরা জীবনকে সেভাবে গড়ে তুলবো।       শিক্ষাবীদ আজিজা খানম বলেন, তোমাদের প্রথম আলো সংবর্ধনা দিচ্ছে এর কারণ তোমরা জীবনের প্রথম ধাপে সফল হয়েছো। তোমাদের স্বীকৃতি দিচ্ছে এর একটাই কারন তোমরা ভালো। কিন্তু এখনও অনেক আলোকিত মূখ বাইরে রয়েছে। তোমাদের এই সফলতা ধরে রাখতে হবে। জীবনে অনেক বড় হতে হলে তার জন্য তোমরা অবশ্যই আগামীর জন্য প্রস্তুত করবে। অনুষ্ঠানে আব্দুস সাত্তার কালুর নির্দেশনায় ‘কি অপরুপ হেরেনি পল্লী জননী’, ‘যে দেশের মাটির গান বাংলা ভাষা একুশের উপরে’ নামক দুটি গানের নৃত্য পরিবেশিত হয়। এছাড়া স্থানীয় বাউল শিল্পী দোতরা বাবু, শারমীন লালনী, সুমনা বাউল, আউয়াল বাউল ও রিপন বাউল। পরে কুইজ বিজয়ীদের মাঝে পুরুষ্কার তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে বেলা পৌনে ১২টায় অনুষ্ঠান শেষ হয়।  

রাজবাড়ীতে অনুষ্ঠিত হলো দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা; কালুখালীর খাগজানা উচ্চ বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে অনুষ্ঠিত হলো দুর্নীতি বিরোধী রচনা, বিতর্ক ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজবাড়ী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয় ফরিদপুর ও জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, রাজবাড়ী। “দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের একতা, গড়বে আগামী শুদ্ধতা” এই স্লোগান সামনে রেখে উপজেলা পর্যায়ে দুর্নীতি বিরোধী রচনা, বিতর্ক ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা শেষে জেলা পর্যায়ে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় রাজবাড়ী সদর উপজেলার রাজবাড়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বালিয়াকান্দি উপজেলার বারুগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়, কালুখালী উপজেলার খাগজানা উচ্চ বিদ্যালয়, পাংশা উপজেলার পাংশা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এবং গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া মডেল হাই স্কুল এই পাঁচটি উপজেলার পাঁচটি দলের শিক্ষার্থীরা অংশ গ্রহণ করে। তুমুল প্রতিযোগিতা শেষে পাংশা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং কালুখালীর খাগজানা উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে কালুখালী উপজেলার খাগজানা উচ্চ বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। রানার আপ হিসেবে পুরুষ্কার গ্রহণ করে পাংশা উপজেলার পাংশা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এছাড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ী দলের দলনেতা ওয়াজিহা আব্রæ শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক হিসেবে পুরুষ্কৃত হন। দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, রাজবাড়ী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয় ফরিদপুরের উপপরিচালক রতন কুমার দাশ, সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজ, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি প্রফেসর মো. মতিয়ার রহমান প্রমূখ। বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহসভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক অধ্যাপক আবু মুসা বিশ্বাস ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা সমবায় অফিসার আব্দুর রাজ্জাক মিয়া। এছাড়া এ সময় অবসরপ্রাপ্ত যুব উন্নয়ন অফিসার আবুল বাশার চৌধুরী, জেলা ডিবেট এসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক উদ্দিন সহ জেলার প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি, সম্পাদক সহ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

গোয়ালন্দের গুণী শিক্ষক, সর্বজন শ্রদ্ধেয় সুলতান উদ্দিন আহমেদ আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার গুণীজন,সর্বজন শ্রদ্ধেয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ঢাকা অঞ্চলের অবসরপ্রাপ্ত বিদ্যালয় পরিদর্শক এবং গোয়ালন্দ নাজির উদ্দিন পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক সুলতান উদ্দিন আহমেদ (৮৫) বার্ধ্যক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।গোয়ালন্দ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিপেন রায়ের পাড়ার নিজ বাড়িতে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এর আগে গত বছর তাঁর স্ত্রীও দীর্ঘদিন অসুস্থ্য অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সুলতান উদ্দিন আহমেদ দীর্ঘদিন স্ট্রোক করে প্যারালাইসিস হয়ে নিজ বাড়িতে শয্যাশায়ী অবস্থায় ভুগছিলেন।  মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়ে, নাতী-নাতনী সহ অনেক গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বৃহস্পতিবার রাত ৯ টায় গোয়ালন্দ নাজির উদ্দিন পাইলট সরকারি উচ্চ মাঠে তাঁর জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর জানাজা নামাজে উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তি সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ শরিক হন। পরে গোয়ালন্দ পৌরসভার কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়। 

গোয়ালন্দে মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভা অনুষ্ঠিত; সভাপতি রফিকুল, সম্পাদক কাশেম নির্বাচিত

শামীম শেখ, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে বৃহস্পতিবার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সমিতির সভাপতি পদে চৌধুরী আব্দুল হামিদ একাডেমির প্রধান শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক পদে দৌলতদিয়া মডেল হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক মুহম্মদ আবুল কাশেম নির্বাচিত হন।এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দৌলতদিয়া মডেল হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক শামীম শেখ,  দফতর সম্পাদক পদে আঃ রশিদ এবং কোষাধ্যক্ষ পদে গোয়ালন্দ প্রপার হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক লুৎফর রহমানকে নির্বাচিত করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি ও রাজবাড়ী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবিব। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির গোয়ালন্দ উপজেলা শাখার সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কাশেম ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. তৈয়বুর রহমান।সভায় শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ, অধিকার ও সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক- কর্মচারীরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।সভায় প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে শিক্ষক সমাজের ঐক্য, পেশাগত মর্যাদা রক্ষা এবং কল্যাণমূলক কার্যক্রম জোরদার করার জন্য কল্যাণ সমিতি গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এ সময় শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে শিক্ষক-কর্মচারীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির রাজবাড়ী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম শেখ, সহ-সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক, সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. ময়নুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা শিক্ষক-কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন।

রাজবাড়ীতে প্রবাসীর স্ত্রী হত্যার তিন বছর পর রায়, প্রধান আসামির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার মুচিদাহ খামারডাঙ্গী গ্রামের কাতার প্রবাসী আনিছুর রহমানের স্ত্রী রুনা খাতুনকে (৩০) শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে তিন বছর পর মামলার প্রধান আসামি প্রতিবেশী যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে রাজবাড়ীর বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ইউসুফ হোসেন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামির নাম মিলন শেখ (৩০)। তিনি নিহত গৃহবধু রুনা খাতুনের প্রতিবেশী খলিল শেখের ছেলে। রায় ঘোষণার পর আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটার (এপিপি) মো. আইয়ুব আলী খান বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো ন্যায় বিচার এখনও আছে এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতা অক্ষুন্নু থাকবে। এ মামলার অপর দুই আসামি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় তাদের নারী ও শিশু আদালতে পাঠানো হয়েছে।  রায় ঘোষণার পর আসামিকে আদালত থেকে বের করে রাজবাড়ী জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। এ সময় মিলন শেখকে বিমর্ষ ও কান্নারত অবস্থায় দেখা যায়। কারাগারে মিলন শেখকে পাঠানোর সময় পিছনে হাঁঠতে ছিলেন স্ত্রী চম্পা খাতুন এবং তাঁর দুই শিশু সন্তান।  মিলনের স্ত্রী চম্পা খাতুন রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে কান্নারত অবস্থায় বলেন, “বাবা ছাড়া ইসরাফিল শেখ (১২) ও মিরা খাতুন (৫) নামের দুই শিশু সন্তান নিয়ে আমি এখন কোথায় যাবো। আমাদের প্রতি অবিচার করা হয়েছে। আমরা এ রায়ের ব্যাপারে উচ্চ আদালতে আপিল করার মতোও আমার সামর্থ্য নেই। আমাদের আল্লাহ ছাড়া এখন দেখার কেউ নেই।” রায়ের পর নিহত রুনা খাতুনের বড় ভাই ও মামলার বাদী রায়হান বিশ্বাস বলেন, তিনি আসামির মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করেছিলেন। তিনি বলেন, আসামি আমার ছোট বোনের বাড়ি দেখাশোনা করতো। তার অ্যান্ড্রয়েট ফোনে থাকা বিকাশের টাকা এবং স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিতে বোনকে হত্যা করা হয়েছে। মিলনের সাথে অভিযুক্ত দুইজনের বয়স কম হওয়ায় শিশু কিশোর আদালতে কি হয় সে অপেক্ষায় আছি।  জানা যায়, পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের মুচিদাহ খামারডাঙ্গী গ্রামের প্রবাসী আনিছুর রহমান খামারডাঙ্গী গ্রামের নতুন বাড়ি করেন। স্ত্রী রুনা খাতুন, কন্যা সিনহা আক্তার (৯) ও হুসাইন নামের দেড় বছরের ছেলে রেখে আনিছুর রহমান কাতার পাড়ি দেন। প্রতিবেশী মিলন তাদের বাড়ি দেখভাল করতেন। ২০২৩ সালের ১৯ আগষ্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুই সন্তান নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। দেড়টার দিকে শিশু সন্তান হুসাইন কান্না করলে পাশে থাকা সিনহার ঘুম ভেঙে যায়। বিছানায় মাকে না পেয়ে বারান্দায় মিলনকে এবং উঠানে দুই পা বাধা মায়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে সিনহা চিৎকার দিলে মিলনসহ অজ্ঞাত দুইজন পালিয়ে যায়। আশপাশের লোকজন এসে রুনার মরদেহ দেখতে পায়। পরদিন সকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। নিহতের বড় ভাই রায়হান বিশ^াস বাদী হয়ে ২০ আগষ্ট মিলনকে প্রধান অভিযুক্ত এবং অজ্ঞাত দুইজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। পুলিশ অভিযুক্ত মিলন (২৮) সহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার একই গ্রামের আলম হোসেনের ছেলে তেছেম সরদার (১৬) ও কাজেম জোয়াদ্দারের ছেলে রিয়াজ জোয়াদ্দারকে (১৫) গ্রেপ্তার করে। ২১ আগষ্ট দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তৎকালিন পুলিশ সুপার জি. এম. আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রবাসীর স্ত্রী রুনা খাতুনকে বিকাশের টাকা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে হত্যা করা হয়। হত্যার ১২ ঘন্টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত মিলন শেখসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

রাজবাড়ীতে উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যাত্রা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যাত্রা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রাজবাড়ী প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের এ যাত্রার শুভ উদ্বোধন করেন সংগঠনটির সভাপতি নতুন প্রজন্ম উদ্যোক্তা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাগুফতা সুলতানা। সংবাদ সম্মেলনে যাত্রা শুরুর উদ্বোধনী দিনে উইমেন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সাগুফতা সুলতানা বলেন, রাজবাড়ীর চেম্বার নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক তৈরীর পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন মেন্টরশিপ, ব্যবসায়ী পরামর্শ, বাজার সংযোগ বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে চায়। তিনি আরো বলেন, রাজবাড়ীর উৎপাদিত পণ্য স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, সঠিক মান প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং, বাজার সংযোগের মাধ্যমে ও আন্তর্জাতিক বাজারেও জায়গা করে নেবে। সাগুফতা সুলতানা বলেন, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে কোন দয়া বা অনুগ্রহের বিষয় নয়, এটি নারীর অধিকার। একটি দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংশ হিসেবে কাজ করতে চায় রাজবাড়ী উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। তিনি আরো জানান, চলতি বছরের গত ৩ সেপ্টেম্বর গঠিত ১৩ সদস্য বিশিষ্ট দ্বি-বার্ষিক কমিটিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে কার্যক্রম চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে রাজবাড়ী উইমেন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতিকে চিঠি প্রদান করেন। চেম্বার এর মূল প্রত্যয় উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁদের সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস বিকাশের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী নারী উদ্যোক্তাসমাজ গড়ে তোলার কথা বলা হয়। নতুন প্রজন্ম উদ্যোক্তা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও উইমেন চেম্বারের সভাপতি সাগুফতা সুলতানা ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মেহেরবা নিগার পারভীন, ফরিদা খাতুন, শামীমা খাতুন, ইয়াসমিন আক্তার, তাহমিনা বাড়ি বনানী, মমতাজ বেগম, আমিনা খাতুন, তাহামিনা খন্দকার, ফরিদা খাতুন প্রমুখ।

রাজবাড়ীর কালুখালীতে সালেহা সামাদ হেলথ সার্ভিস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান, জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর কালুখালীতে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান পরিচালনা করে নানা অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে। শুক্রবার বিকেলে অভিযানের নেতৃত্ব দেন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামস সাদাত মাহমুদ উল্লাহ। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির মালিককে তিন হাজার জরিমানা প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে চিহিৃত অনিয়ম দূর করে লাইসেন্স হালনাগাদ করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। ভ্রাম্যমান আদালত সূত্র জানায়, কালুখালী উপজেলার ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন সংলগ্ন সালেহা সামাদ হেলথ সার্ভিস নামক ডায়াগনস্টিক সেন্টারটির মালিক চিকিৎসক না হয়েও নিজেই নিয়মবহির্ভূতভাবে আলট্রাসনোগ্রাফি করছিলেন অভিযোগ উঠে। এ ছাড়া নিজের নামের ডা. ব্যবহার, অচল ফ্রিজ ব্যবহার এবং মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট রাখারও অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে অভিযান চালিয়ে প্রাথমিক সত্যতার প্রমাণ মিলে।ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানকালে ডায়াগনস্টিক নিজেই নিয়মবহির্ভূতভাবে আলট্রাসনোগ্রাফি করছিলেন এমন প্রমাণ পায়। একই সঙ্গে তিনি নিজের নামের আগে চিকিৎসক না হয়েই চিকিৎসক শব্দটি ব্যবহার করছিলেন। এছাড়া অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পায় অভিযানিক দল। এসব অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শামস সাদাত মাহমুদ উল্লাহ প্রতিষ্ঠানটির মালিক আবু হোসেনকে তিন হাজার টাকা জরিমানা করেন। এ সময় কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ইসরাত জাহান উম্মন উপুস্থত ছিলেন। এ সময় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে চিহিৃত সব ধরনের অনিয়ম ও সমস্যা সমাধান করে লাইসেন্স হালনাগাদ করার নিদের্শনা প্রদান করেন। একই সঙ্গে এমবিবিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসক ছাড়া অন্য কাউকে দিয়ে কোনোভাবেই আলট্রাসনোগ্রাফি না করানোর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। 

রাজবাড়ীতে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় অন্যত্র স্থানান্তর প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন

ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী সদর উপজেলার ৫ নং বরাট ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয় অন্যত্র স্থানান্তর প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার পাচুরিয়া রেলওয়ে ষ্টেশন প্লাটফর্মে ৫ নং বরাট ইউনিয়ন স্থানান্তর প্রতিরোধ কমিটির ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। মরডাঙ্গা সেকেন্দারিয়া ফাজিল ডিগ্রী মাদারাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষক আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বরাট নবগ্রাম বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুস সাত্তার, বরাট ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নং ওয়ার্ড সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম, রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতাল নার্সিং কর্মকর্তা, স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল প্রামানিক, বরাট নবগ্রাম বাজারের পল্লী চিকিৎসক আব্দুল মালেক, বরাট ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল হালিম মিয়া, স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি আব্দুস সাত্তার বেপারী প্রমূখ।বক্তারা বরাট ইউনিয়ন পরিষদ ভবন স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও স্থানীয় জনগণের সুবিধার কথা বিবেচনা করে বর্তমান স্থানেই ইউপি ভবন রাখা প্রয়োজন। ভবনটি অন্যত্র স্থানান্তর করা হলে স্থানীয়দের ভোগান্তি বাড়বে বলে জানান।তারা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান ভবন ও জমির সঙ্গে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এ কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ জোন গড়ে উঠেছে। এখানে ঐতিহ্যবাহী পাচুরিয়া রেলস্টেশন, ব্যাংক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ প্রায় ৭০০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ইউপি ভবন স্থানান্তর করলে ব্যবসায়ীসহ স্থানীয়দের চরম ভোগান্তি ও নানা সংকটে পড়তে হবে।বরাট নবগ্রাম বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুস সাত্তার বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা তৎকালীন মাখন লাল পোদ্দারের কাছ থেকে ১৯৬১ সালে প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান খোন্দকার অলিয়ার রহমান নিজে প্রায় ৫৪ শতাংশ জমি ইউনিয়ন পরিষদের নামে ক্রয় করেন। এরপর থেকে ওই জায়গায় বরাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) কার্যক্রম চলতে থাকে। দীর্ঘ সময় এখানে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চলায় এখানে বাজার সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেছে। অথচ পরিষদের জন্য নতুন ভবন নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ আসায় একটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। শিক্ষক আলতাফ হোসেন বলেন, বরাট ইউনিয়ন পরিষদকে কেন্দ্র করে প্রায় ৭০০ পরিবার বসবাস করছেন। এখানে বাজার, নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন আর্থিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। উড়াকান্দার যেখানে ইউনিয়ন পরিষদ স্থাপন করতে চান, তার থেকে মাত্র ১৫০ মিটার দূরেই পদ্মা নদী। অথচ বর্তমান সরকার তরুণদের মাদকের হাত থেকে রক্ষায় খেলাধুলার প্রতি বেশি মনোযোগী হচ্ছেন। অথচ একটি মহল খেলাধুলার মাঠ বন্ধ করে সেখানে ইউনিয়ন পরিষদ স্থাপন করতে চায়। আমরা তা হতে দিবনা। প্রয়োজন রেলপথ, সড়ক পথ অবরোধ করে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। অন্যান্য বক্তারা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন কোথায় থাকবে, সে বিষয়ে স্থানীয় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, জনগণের সুবিধা এবং ইউনিয়ন পরিষদের নামে ক্রয় করা জমির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান স্থানেই পরিষদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি জানান তারা।উড়াকান্দা এলাকার কয়েকজন জানান, ১৯৯৪ সালে স্থানীয় দানশীল ব্যক্তি আলহাজ্ব আব্দুল করিম মোল্লা বরাট ইউনিয়ন পরিষদের নামে ৩৩ শতাংশ জমি দান করেন। এছাড়া পরবর্তীতো আরও কিছু জমি দান করেন। জমিটি পরিত্যক্ত থাকায় স্থানীয় যব সমাজ খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করেন। এছাড়া উড়াকান্দা বরাট ইউনিয়নের মধ্যবর্তী এলাকা হওয়ায় ওই এলাকার বাসিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদ স্থানান্তের জন্য কয়েক মাস আগে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি পেশ করেন।

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৩ জন
১

রাজবাড়ীতে ৩২ বছর পর আ.লীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যানের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

২

স্মৃতি-গান আর আড্ডায় খানখানাপুর তমিজুদ্দিন খান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান

৩

পুরোনো রাউটারকে বানিয়ে ফেলুন ওয়াই-ফাই এক্সটেন্ডার

৪

গোয়ালন্দে ছয় মামলার আসামি, ডাকাত দলের সদস্য গ্রেপ্তার

৫

চামড়া সংরক্ষণে বিনামূল্যে ৩০ হাজার টন লবণ দেবে সরকার

৬

দৌলতদিয়ায় যৌনপল্লীর নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় ‘প্রজন্ম সোপান’প্রকল্পের উদ্বোধন

৭

অন্য কেউ আপনার জিমেইল ব্যবহার করছে? এখনই ব্যবস্থা না নিলে হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি!

৮

রাজবাড়ীতে দুই বন্ধু মিলে প্রেমিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ, তরুণকে আটক করে পুলিশে দিল এলাকাবাসী

৯

দৌলতদিয়া ঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও চাঁদাবাজি চলবে না - সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী মাহমুদ

১০

বাজেটে কৃষি খাতে ৪০ শতাংশ উন্নয়ন বরাদ্দের দাবি

জনপ্রিয় সব খবর
১

সিজারের পর পেটে গজ রেখেই নার্সের সেলাই; অসুস্থ বিথীর গোয়ালন্দের বাড়িতে ইউএনও, দিলেন সু-চিকিৎসার আশ্বাস

২

রাজবাড়ীতে ঋষি পরিবারে হামলা, আতঙ্কে কাটছে দিন

৩

রাজবাড়ীতে জিপিএ-৫ সংবর্ধনা; স্বপ্ন পূরণের জন্য আবারও প্রথম আলো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ছুটে আসে

৪

রাজবাড়ীতে অনুষ্ঠিত হলো দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা; কালুখালীর খাগজানা উচ্চ বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন

৫

গোয়ালন্দের গুণী শিক্ষক, সর্বজন শ্রদ্ধেয় সুলতান উদ্দিন আহমেদ আর নেই

৬

গোয়ালন্দে মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভা অনুষ্ঠিত; সভাপতি রফিকুল, সম্পাদক কাশেম নির্বাচিত

৭

রাজবাড়ীতে প্রবাসীর স্ত্রী হত্যার তিন বছর পর রায়, প্রধান আসামির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড

৮

রাজবাড়ীতে উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যাত্রা শুরু

৯

দৌলতদিয়ায় বাসে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

১০

দৌলতদিয়া টার্মিনালে রেখে গেলেন ভালো বাস, খবর পেয়ে এসে দেখলে আগুনে সব শেষ

সর্বশেষ সব খবর

 বানিজ্য বানিজ্য

রাজবাড়ীতে উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যাত্রা শুরু

রাজবাড়ীতে উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যাত্রা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যাত্রা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রাজবাড়ী প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের এ যাত্রার শুভ উদ্বোধন করেন সংগঠনটির সভাপতি নতুন প্রজন্ম উদ্যোক্তা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাগুফতা সুলতানা। সংবাদ সম্মেলনে যাত্রা শুরুর উদ্বোধনী দিনে উইমেন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সাগুফতা সুলতানা বলেন, রাজবাড়ীর চেম্বার নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক তৈরীর পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন মেন্টরশিপ, ব্যবসায়ী পরামর্শ, বাজার সংযোগ বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে চায়। তিনি আরো বলেন, রাজবাড়ীর উৎপাদিত পণ্য স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, সঠিক মান প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং, বাজার সংযোগের মাধ্যমে ও আন্তর্জাতিক বাজারেও জায়গা করে নেবে। সাগুফতা সুলতানা বলেন, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে কোন দয়া বা অনুগ্রহের বিষয় নয়, এটি নারীর অধিকার। একটি দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংশ হিসেবে কাজ করতে চায় রাজবাড়ী উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। তিনি আরো জানান, চলতি বছরের গত ৩ সেপ্টেম্বর গঠিত ১৩ সদস্য বিশিষ্ট দ্বি-বার্ষিক কমিটিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে কার্যক্রম চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে রাজবাড়ী উইমেন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতিকে চিঠি প্রদান করেন। চেম্বার এর মূল প্রত্যয় উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁদের সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস বিকাশের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী নারী উদ্যোক্তাসমাজ গড়ে তোলার কথা বলা হয়। নতুন প্রজন্ম উদ্যোক্তা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও উইমেন চেম্বারের সভাপতি সাগুফতা সুলতানা ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মেহেরবা নিগার পারভীন, ফরিদা খাতুন, শামীমা খাতুন, ইয়াসমিন আক্তার, তাহমিনা বাড়ি বনানী, মমতাজ বেগম, আমিনা খাতুন, তাহামিনা খন্দকার, ফরিদা খাতুন প্রমুখ।

রাজবাড়ীর কালুখালীতে শেষ হলো তিন দিনের নৌকাবাইচ, বিজয়ী পাবনার নিউ শাপলা

রাজবাড়ীর কালুখালীতে শেষ হলো তিন দিনের নৌকাবাইচ, বিজয়ী পাবনার নিউ শাপলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ আবহমান বাংলার ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে রাজবাড়ীর কালুখালীতে শেষ হলো তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলা। কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের মহেন্দ্রপুর খেয়াঘাট সংলগ্ন পদ্মার শাখা নদীতে বুধবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। পাবনার আমিনপুর উপজেলার চর গোবিন্দপুর থেকে আসা নৌকাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় পাবনার সৈয়দপুরের নিউ শাপলা নৌকা। এছাড়া প্রতিযোগিতায় চর গোবিন্দপুরের নৌকা দ্বিতীয় এবং খয়রান একতা চ্যালেঞ্জার নামক নৌকা তৃতীয় স্থান অর্জন করে। প্রতিযোগিতায় মোট ৮টি নৌকা অংশ গ্রহণ করে। বিজয়ী নৌকাকে মোটরসাইকেল এবং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী নৌকাগুলোর মধ্যে রিফ্রেজারেটর প্রদান করা হয়।পদ্মার পাড়ে তিন দিনব্যাপী নৌকা বাইচ এবং গ্রামীণ মেলায় দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় পড়ে। মুখরোচক খাবার সহ নানা ধরনের পণ্যের পসরা বসে পদ্মার পাড়ে। মেলা ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ আর উদ্দীপনা দেখা দেয়। কালুখালীসহ আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে মহেন্দ্রপুর পদ্মার পাড়ে জড়ো হন।মহেন্দ্রপুর খেয়াঘাট মেলা কমিটির আয়োজনে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান তোতার সঞ্চালনায় নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় উপস্থিত ছিলেন, পাংশা উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ আলী খান, পাংশা পৌর বিএনপির সভাপতি বাহারাম হোসেন সরদার, কালুখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি লুৎফর রহমান খান, রাজবাড়ী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব তুহিনুর রহমান, কালুখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রকিবুল হাসান প্রমূখ। এছাড়াও অনুষ্ঠান উপভোগ করতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।  সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিন দিনব্যাপী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলার উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কালুখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোটেক রকিবুল হাসান, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহŸায়ক কে এম আইনুল হাবীব, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মনজুর হোসেন মঞ্জু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব তুহিনুর রহমান, কালুখালী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জামাল খান প্রমূখ। উদ্বোধনী দিনে চারটি নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে। প্রথম প্রতিযোগিতায় উলাট একতা এক্সপ্রেসকে হারিয়ে বিজয়ী হয় ‘নিউ শাপলা’ নামক নৌকা। দ্বিতীয় বাইচে ‘চর গোবিন্দপুরের নৌকা’কে হারিয়ে বিজয়ী হয় ‘নিউ জনতার সংগ্রাম’, তৃতীয় বাইচে হয় ‘দুলদুল এক্সপ্রেস’কে হারিয়ে বিজয়ী হয় ‘খয়রানা একতা চ্যালেঞ্জার’ এবং শেষ বাইচে ‘কুষ্টিয়ার লালন’কে হারিয়ে বিজয়ী হয় পাবনার সুজানগরের ‘শিমুল একতা এক্সপ্রেস’। আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব তুহিনুর রগমান বলেন, নৌকাবাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি আবহমান গ্রামবাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হারিয়ে যেতে বসা এ ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এমন আয়োজন করা হয়েছে।

রাজবাড়ীতে সরকার নির্ধারিত দামে সার সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ ১১ দফা দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

রাজবাড়ীতে সরকার নির্ধারিত দামে সার সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ ১১ দফা দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

আব্দুল হালিম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে সরকার নির্ধারিত দামে কৃষককে সার সরবরাহ নিশ্চিত করা, কৃষিপণ্যে ধলতা বা তোলাবাজি বন্ধে কার্যকরী প্রদক্ষেপ গ্রহণ ও প্রকৃত কৃষককে কৃষি কার্ড প্রদানসহ ১১ দফা দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২ টার দিকে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা পরিষদের সামনে বাংলাদেশ কৃষক সমিতি পাংশা উপজেলা শাখার উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন পাংশা উপজেলা শাখার সভাপতি মো. তোফাজ্জেল হোসেন। এতে বক্তব্য দেন রাজবাড়ী জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি আব্দুস সামাদ মিয়া, জেলা কৃষক সমিতির সভাপতি আব্দুস সাত্তার মন্ডল, পাংশা উপজেলা কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, কৃষক নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তোস দাস।এ সময় বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনীতির প্রধান বুনিয়াদ কৃষি। পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে দেশের অর্থনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক ভিত্তি কৃষির উপর নির্ভর করে দাঁড়িয়ে আছে। অথচ কৃষি ও কৃষক সবচায়তে নিগৃহীত। কৃষক মাঠে ফসল ফলায়। কিন্তু সেই ফসল ফলাতে সবচায়তে বেশি প্রয়োজন রাসায়নিক সার। দীর্ঘদিন ধরে সারের বাজার অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। সরকার নির্ধারিত এক কেজি ইউরিয়ার সারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ২৭ টাকা। কিন্তু কৃষককে স্থানভেদে এই সার কিনতে হয় ৩০ থেকে ৩৩ টাকায়। এক কেজি ডিএপি সারের খুচরা মূল্য ২১ টাকা, এক কেজি টিএসপি সার ২৭ টাকা ও এক কেজি এমওপি (পটাশ) সার সরকার নির্ধারিত দাম ২০ টাকা। কিন্তু পাংশা ও আশপাশের কোন স্থানেই এই দামে সার পাওয়া যায় না। স্থানভেদে কোন কোন সার ৪৫ টাকা কেজি দরেও কিনতে হয়। কৃষক যখন দোকানে যায় তখন দোকানদাররা বলেন সারের সংকট রয়েছে। অথচ বেশি টাকা হলেই সারের আর অভাব থাকে না। সারের এই সিন্ডিকেট বন্ধ করতে হবে।বক্তারা বলেন, শুধুমাত্র সারের দাম বৃদ্ধি নয়। অতিরিক্ত খরচ দিয়ে ফসল উৎপাদন করা হয়। সেই ফসল বাজারে নিয়ে গেলে আবার ধলতা দিতে হয়। আন্দোলনের মুখে সরকার দলতা প্রথা বাতিল করেছে। কিন্তু হাটে বাজারে সেটা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এখনও হাটবাজারে পেঁয়াজ, রসুন, পাটসহ বিভিন্ন পণ্যের উপর ধলতা নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনকে এই দিকে নজর দিতে হবে। কৃষি ও কৃষক বাঁচাতে হলে সরকারকে এই দিকে নজর দিতে হবে। এ সময় বক্তারা সরকার যে কৃষি কার্ড দিচ্ছে সেটা যেন প্রকৃত কৃষকরা পায় সে বিষয়ে নজর দেওয়ার আহবান জানান তারা।মানববন্ধন শেষে একটি সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। পরে পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা। অন্য দাবিগুলো হলো, ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি ক্রয়কেন্দ্র চালু করা, সরকারি ক্রয়কৃত পণ্য সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ক্রয় করতে হবে, ফসলের লাভজনক দাম দিতে হবে। সার, বীজ, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের দাম কমাতে হবে। সবজি সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করতে হবে। নিরবিছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। বিএডিসিকে সচল, পল্লী রেশন ও শস্যবীমা চালু করতে হবে। পল্লী বিদ্যুৎ ও ভূমি অফিসের অনিয়ম, হয়রানি ও দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।

বর্তমান সরকার টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার পুরো পরিকল্পনা করেছে -রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

বর্তমান সরকার টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার পুরো পরিকল্পনা করেছে -রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, বর্তমান সরকার টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার পুরো পরিকল্পনা যেমন করেছে, একই সঙ্গে সেই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে বলেই আমরা আশা করছি কিছু দিনের মধ্যে আমরা স্বস্তি পাবো। গ্রীষ্মকালে পুরোটাই স্বস্তি পাবো এবং আমাদের ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির জন্যে যে জ্বালানি কাঠামো দরকার, সেটাও নিশ্চিত করা হবে। রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের নিজ বাসভবনে অবস্থানকালে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে শুক্রবার দুপুরে অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা পদ্মা ব্যারাজের প্রস্তাবিত স্থান উপজেলার হাবাসপুর এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন-অর রশিদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি আসলাম মিয়া, জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে হাবাসপুর কে রাজ উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনসভা শেষে কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিদর্শন করেন। কুষ্টিয়া থেকে ফিরে সন্ধ্যায় নিজ বাসভবনে অবস্থান করেন। রাতে বাসভবনে অবস্থানকালে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাথে মতবিনিময়কালে উপদেষ্টা সৌর বিদ্যুৎ নিয়ে বলেন, সৌর বিদ্যুৎ আমরা যে কোন গ্রাহক থেকে উৎপাদন করতে পারি। কিন্তু অতিতের সরকার, পতিত সরকার যেহেতু আমদানী নির্ভরতা চেয়েছে, যেহেতু তার গোষ্ঠীর স্বার্থ নিশ্চিত করতে চেয়েছে। অলিগারকির শাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চেয়েছে, সেই জন্য কোনো উদ্যোগ নেয়নি। যাতে করে সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে যে সমস্ত উপকরণ লাগে, ইতিমধ্যেই সেই উপকরণগুলোর ক্ষেত্রে শুল্কো ব্যবস্থায় বড় রকমের পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে। একই সঙ্গে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে করে দেশের মধ্যেও সৌরবিদ্যুতের জন্যে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো তারা উৎপাদন করতে পারে। পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের মৌলিক সমস্যা পানির ক্ষেত্রে, অনেক সময় অনেক বেশি পানি থাকে, আবার কিছুদিন কোনো পানি থাকে না। অর্থাৎ টু মাস ওয়াটার, টু লিটেল ওয়াটার। যার কারনে আমাদের উৎপাদন কৃষি, প্রকৃতি, পরিবেশ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। আমাদের যেহেতু গঙ্গা, ব্রম্ম্রপুত্র, মেঘনা অববাহিকার ভাটির দেশ। উজানের পানির হিস্যা দরকার। এরকম পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের পানি সম্পদের মৌলিক পরিকল্পনা দরকার। নিশ্চিত করা দরকার কৃষক, প্রকৃতি, মৎস্যসহ সকল সম্পদ যাতে থাকে। সে কারনে দরকার নদীতে সঠিক পরিমান পানি থাকা এবং নদী থেকে যে শাখা নদী বা খাল আছে সেখানেও পানি থাকা দরকার। যাতে কৃষি উৎপাদন হোক, মৎস্য উৎপাদন হোক বা প্রকৃতির ভারসাম্যই হোক তা বজায় থাকা দরকার। এ জন্যই বর্তমান সরকার নির্বাচনে ইশতেহারে সার্বিক, সামগ্রিক, দেশব্যাপী পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক পানি থেকে ন্যায্য হিস্যার কথা বলেছে। তারই পদক্ষেপ হিসেবে পদ্মা ব্যারাজ একনেক অনুমোদন করেছে। 

জাতীয়

সিজারের পর পেটে গজ রেখেই নার্সের সেলাই; অসুস্থ বিথীর গোয়ালন্দের বাড়িতে ইউএনও, দিলেন সু-চিকিৎসার আশ্বাস

সিজারের পর পেটে গজ রেখেই নার্সের সেলাই; অসুস্থ বিথীর গোয়ালন্দের বাড়িতে ইউএনও, দিলেন সু-চিকিৎসার আশ্বাস

মঈনুল হক মৃধা, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ীঃ সিজারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই করা ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স সেই বিথীর বাড়িতে ছুটে গেলেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদা। তিনি অসুস্থ বিথীর চার মাসের ছোট্ট শিশুকে কোলে নিয়ে সু-চিকিৎসার আশ্বাস প্রদান করেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তমিজ উদ্দিন মৃধা পাড়া গ্রামে বিথীর স্বামীর বাড়িতে ছুটে যান তিনি। এ সময় তিনি পরিবারের কাছ থেকে অসুস্থ বিথীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নেন এবং চিকিৎসার বিষয়ে জানতে চান। পাশাপাশি সরকারি পর্যায় থেকে সম্ভবপর সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।ইউএনওর এ উদ্যোগে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিথীর স্বামী রাকিবুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা। ভুল চিকিৎসায় সিসিইউ ও সার্জারি বিভাগে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা একজন অসহায় বোনের পাশে প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার এগিয়ে আসায় স্থানীয়রাও বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান। পরিবার জানায়, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় চিকিৎসক তামান্না এবং ইন্টার্ন চিকিৎসক অরবিন্দের মাধ্যমে বিথীর পেটে গজ রেখেই সেলাই দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকেই শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগতে থাকেন বিথী। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউতে (কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিট) চিকিৎসাধীন আছেন এবং জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।চার মাস ধরে নিজের নবজাতক সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরা তো দূরের কথা, সন্তানকে কোলে নেওয়া কিংবা দুধ খাওয়ানোর মতো অবস্থাতেও নেই তিনি। মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তার ছোট্ট সন্তান।পরিবারের অভিযোগ, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিথী আক্তারের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়। অস্ত্রোপচারের সময় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে তার পেটের ভেতর গজ থেকে যায়। এরপর থেকেই তার শরীরে তীব্র যন্ত্রণা ও দীর্ঘ জটিলতা শুরু হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথম অস্ত্রোপচারের প্রায় দুই মাস পর তাকে আবারও বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করাতে হয়। পরবর্তীতে পেটের নাড়িতে জটিলতা দেখা দেওয়ায় তাকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকতে হয় এবং বাইপাস সার্জারিসহ একাধিক জটিল চিকিৎসা নিতে হয়। দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় এক সময়ের ৬১ কেজি ওজনের বিথীর শারীরিক ওজন কমে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৩৯ কেজিতে।মঙ্গলবার দুপুরে বিথীর বাড়ি ঘুরে এসে ইউএনও সাইফুল হুদা বলেন, বিথীর অসুস্থতার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ফেসবুকের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পরই তার চার মাসের ছোট্ট শিশু ও পরিবারের খোঁজ খবর নিতে এসেছি। তিনি বলেন, বিথীর মতো একজন নার্সের সাথে যদি ভুল চিকিৎসা ঘটে, তাহলে সাধারণ মানুষের কি হবে। আমরা বিষয়টি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে উদ্ধর্তন কতৃপক্ষকে জানিয়েছি, আশা করছি এ বিষয়ে কতৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসন থেকে নগদ অর্থ ও তার শিশুর জন্য কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রী সহযোগিতা করা হয়েছে। বিথীর পরিবারের পাশে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সর্বক্ষণ থাকবে এবং খোঁজ খবর রাখবে। সরকারি পর্যায় থেকে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।স্থানীয়রা মনে করছেন, একজন মিডওয়াইফ নার্স বিথীর সাথে এমন ভুল চিকিৎসা ঘটলে সাধারণ মানুষের কি অবস্থা করে এ সমস্ত ভুয়া চিকিৎসকেরা। তারা সরকারের নিকট বিথীর সু-চিকিৎসা সহ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

৪ ঘন্টা আগে

 বিশ্ব বিশ্ব

বর্তমান সরকার টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার পুরো পরিকল্পনা করেছে -রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

বর্তমান সরকার টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার পুরো পরিকল্পনা করেছে -রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, বর্তমান সরকার টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার পুরো পরিকল্পনা যেমন করেছে, একই সঙ্গে সেই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে বলেই আমরা আশা করছি কিছু দিনের মধ্যে আমরা স্বস্তি পাবো। গ্রীষ্মকালে পুরোটাই স্বস্তি পাবো এবং আমাদের ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির জন্যে যে জ্বালানি কাঠামো দরকার, সেটাও নিশ্চিত করা হবে। রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের নিজ বাসভবনে অবস্থানকালে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে শুক্রবার দুপুরে অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা পদ্মা ব্যারাজের প্রস্তাবিত স্থান উপজেলার হাবাসপুর এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন-অর রশিদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি আসলাম মিয়া, জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে হাবাসপুর কে রাজ উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনসভা শেষে কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিদর্শন করেন। কুষ্টিয়া থেকে ফিরে সন্ধ্যায় নিজ বাসভবনে অবস্থান করেন। রাতে বাসভবনে অবস্থানকালে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাথে মতবিনিময়কালে উপদেষ্টা সৌর বিদ্যুৎ নিয়ে বলেন, সৌর বিদ্যুৎ আমরা যে কোন গ্রাহক থেকে উৎপাদন করতে পারি। কিন্তু অতিতের সরকার, পতিত সরকার যেহেতু আমদানী নির্ভরতা চেয়েছে, যেহেতু তার গোষ্ঠীর স্বার্থ নিশ্চিত করতে চেয়েছে। অলিগারকির শাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চেয়েছে, সেই জন্য কোনো উদ্যোগ নেয়নি। যাতে করে সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে যে সমস্ত উপকরণ লাগে, ইতিমধ্যেই সেই উপকরণগুলোর ক্ষেত্রে শুল্কো ব্যবস্থায় বড় রকমের পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে। একই সঙ্গে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে করে দেশের মধ্যেও সৌরবিদ্যুতের জন্যে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো তারা উৎপাদন করতে পারে। পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের মৌলিক সমস্যা পানির ক্ষেত্রে, অনেক সময় অনেক বেশি পানি থাকে, আবার কিছুদিন কোনো পানি থাকে না। অর্থাৎ টু মাস ওয়াটার, টু লিটেল ওয়াটার। যার কারনে আমাদের উৎপাদন কৃষি, প্রকৃতি, পরিবেশ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। আমাদের যেহেতু গঙ্গা, ব্রম্ম্রপুত্র, মেঘনা অববাহিকার ভাটির দেশ। উজানের পানির হিস্যা দরকার। এরকম পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের পানি সম্পদের মৌলিক পরিকল্পনা দরকার। নিশ্চিত করা দরকার কৃষক, প্রকৃতি, মৎস্যসহ সকল সম্পদ যাতে থাকে। সে কারনে দরকার নদীতে সঠিক পরিমান পানি থাকা এবং নদী থেকে যে শাখা নদী বা খাল আছে সেখানেও পানি থাকা দরকার। যাতে কৃষি উৎপাদন হোক, মৎস্য উৎপাদন হোক বা প্রকৃতির ভারসাম্যই হোক তা বজায় থাকা দরকার। এ জন্যই বর্তমান সরকার নির্বাচনে ইশতেহারে সার্বিক, সামগ্রিক, দেশব্যাপী পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক পানি থেকে ন্যায্য হিস্যার কথা বলেছে। তারই পদক্ষেপ হিসেবে পদ্মা ব্যারাজ একনেক অনুমোদন করেছে। 

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 রাজনীতি রাজনীতি

রাজবাড়ীতে ঋষি পরিবারে হামলা, আতঙ্কে কাটছে দিন

রাজবাড়ীতে ঋষি পরিবারে হামলা, আতঙ্কে কাটছে দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর পাংশায় দুই লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ঋষি পরিবারে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সুশীল কুমার ঋষি বাদী হয়ে সোমবার রাতে পাংশা মডেল থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি একই উপজেলার মৌরাট ইউনিয়নের ঋষিপাড়ার বাসিন্দা। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১১টার দিকে অজ্ঞাত কয়েক ব্যক্তি তার বাড়িতে গিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তার প্রবাসী ছেলের কাছেও ফোন করে চাঁদা চায়। চাঁদা না দিলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে আবারও তার বাড়ি গিয়ে প্রথমে গালিগালাজ করে। পরে ঘরের বেড়া ভেঙে ভেতরে ঢুকে নগদ ১০ হাজার টাকা সহ কিছু মালপত্র নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় পাঁচ লাখ টাকা রেডি রাখতে বলে। সুশীল কুমার ঋষি জানান, তিনি হামলাকারীদের চেনেন না। ওদের মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। ঘটনার পর থেকে তারা খুবই আতঙ্কে আছেন। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নেমে এসেছে অস্থিরতা। তারা কেউ স্বাভাবিক কাজ কর্ম করতে পারছেন না। পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম মঙ্গলবার বিকেলে জানান, ঘটনাটি রোববার দিবাগত রাত পৌনে একটার দিকে জানা মাত্র পুলিশ নিয়ে আমি নিজে ঘটনাস্থলে পৌছি। এ সময় ঘটনাস্থলে ঘরের বেড়ায় কোপানোর চিহ্ন সহ থেকে একটি অবিস্ফোরিত পটকা বাজি জব্দ করা হয়। এছাড়া ১০-১২টি পটকা বাজি ফোটানোর আলামত পাওয়া যায়। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে সুশীল কুমার ঋষি বাদী হয়ে বাধন নামের একজনকে অভিযুক্ত করে অজ্ঞাত ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে আজ মঙ্গলবার বিকেলে মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

গোয়ালন্দে মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভা অনুষ্ঠিত; সভাপতি রফিকুল, সম্পাদক কাশেম নির্বাচিত

গোয়ালন্দে মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভা অনুষ্ঠিত; সভাপতি রফিকুল, সম্পাদক কাশেম নির্বাচিত

শামীম শেখ, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে বৃহস্পতিবার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সমিতির সভাপতি পদে চৌধুরী আব্দুল হামিদ একাডেমির প্রধান শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক পদে দৌলতদিয়া মডেল হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক মুহম্মদ আবুল কাশেম নির্বাচিত হন।এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দৌলতদিয়া মডেল হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক শামীম শেখ,  দফতর সম্পাদক পদে আঃ রশিদ এবং কোষাধ্যক্ষ পদে গোয়ালন্দ প্রপার হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক লুৎফর রহমানকে নির্বাচিত করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি ও রাজবাড়ী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবিব। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির গোয়ালন্দ উপজেলা শাখার সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কাশেম ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. তৈয়বুর রহমান।সভায় শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ, অধিকার ও সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক- কর্মচারীরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।সভায় প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে শিক্ষক সমাজের ঐক্য, পেশাগত মর্যাদা রক্ষা এবং কল্যাণমূলক কার্যক্রম জোরদার করার জন্য কল্যাণ সমিতি গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এ সময় শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে শিক্ষক-কর্মচারীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির রাজবাড়ী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম শেখ, সহ-সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক, সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. ময়নুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা শিক্ষক-কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন।

রাজবাড়ীতে উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যাত্রা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যাত্রা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রাজবাড়ী প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের এ যাত্রার শুভ উদ্বোধন করেন সংগঠনটির সভাপতি নতুন প্রজন্ম উদ্যোক্তা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাগুফতা সুলতানা। সংবাদ সম্মেলনে যাত্রা শুরুর উদ্বোধনী দিনে উইমেন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সাগুফতা সুলতানা বলেন, রাজবাড়ীর চেম্বার নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক তৈরীর পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন মেন্টরশিপ, ব্যবসায়ী পরামর্শ, বাজার সংযোগ বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে চায়। তিনি আরো বলেন, রাজবাড়ীর উৎপাদিত পণ্য স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, সঠিক মান প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং, বাজার সংযোগের মাধ্যমে ও আন্তর্জাতিক বাজারেও জায়গা করে নেবে। সাগুফতা সুলতানা বলেন, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে কোন দয়া বা অনুগ্রহের বিষয় নয়, এটি নারীর অধিকার। একটি দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংশ হিসেবে কাজ করতে চায় রাজবাড়ী উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। তিনি আরো জানান, চলতি বছরের গত ৩ সেপ্টেম্বর গঠিত ১৩ সদস্য বিশিষ্ট দ্বি-বার্ষিক কমিটিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে কার্যক্রম চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে রাজবাড়ী উইমেন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতিকে চিঠি প্রদান করেন। চেম্বার এর মূল প্রত্যয় উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁদের সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস বিকাশের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী নারী উদ্যোক্তাসমাজ গড়ে তোলার কথা বলা হয়। নতুন প্রজন্ম উদ্যোক্তা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও উইমেন চেম্বারের সভাপতি সাগুফতা সুলতানা ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মেহেরবা নিগার পারভীন, ফরিদা খাতুন, শামীমা খাতুন, ইয়াসমিন আক্তার, তাহমিনা বাড়ি বনানী, মমতাজ বেগম, আমিনা খাতুন, তাহামিনা খন্দকার, ফরিদা খাতুন প্রমুখ।

রাজবাড়ীতে উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যাত্রা শুরু

দৌলতদিয়ায় বাসে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা একটি লোকাল বাস আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে মুক্তার হোসেন মোল্লা (৩২) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত যুবকের নাম মুক্তার হোসেন মোল্লা গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ফৈজুদ্দিন মাতুব্বর পাড়ার আরজান মোল্লার ছেলে। এছাড়া সে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরের দিকে মুক্তারের নিজ বাড়ি হতে তাকে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ। এর আগে গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিনবাগত রাত ১ টার দিকে মা ক্লাসিক্যাল নামের ওই লোকাল বাসটিতে অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি ঘটে। আগুনে বাসটির অনেকাংশ পুড়ে গেছে। তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।এ ঘটনায় বাস মালিক এসএম সুলতান আহমদ বাদী হয়ে পরদিন রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অজ্ঞাতনামা ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিকে ঘিরে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য বাসে এ অগ্নিসংযোগ করা হতে পারে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম জাানান, সন্ধিগ্ধ আসামী হিসেবে মুক্তার হোসেন মোল্লাকে বাস পোড়ানোর ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর সোমবার দুপুরে রাজবাড়ীর বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। সে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সম্পাদক বলে জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় মামলার তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে।

দৌলতদিয়ায় বাসে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

দৌলতদিয়া টার্মিনালে রেখে গেলেন ভালো বাস, খবর পেয়ে এসে দেখলে আগুনে সব শেষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া বাস টার্মিনালে পার্কিং করা ‘মা ক্লাসিক্যাল’ নামক লোকাল বাসে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দিবাগত রাত একটার দিকে বাসটিতে আগুন দেখা দেয়। এ সময় বাসটিতে চালক-সহকারী কেউ ছিলেন না। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের কর্মীরা আগুন নেভায়। বাস শ্রমিকদের ধারণা, দুর্বৃত্তরা গান পাউডার জাতীয় কোনো পদার্থ ব্যবহার করে আগুন দিয়েছে। টার্মিনালে থাকা শ্রমিকেরা জানান, রাজবাড়ী জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের আওতাধীন ‘মা ক্লাসিক্যাল’ নামক বাস দৌলতদিয়া-কুষ্টিয়া রুটে চলাচল করে। শনিবার রাতে ট্রিপ দেয়া শেষে দৌলতদিয়া টার্মিনালে বাসটি পার্কিং করে রাখা হয়। রাত একটার দিকে হঠাৎ করে বাসটির পিছন থেকে আগুন জ¦লতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। তারা দ্রুত গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনে খবর দেয়। খবর পেয়ে পায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নেভায়। অগ্নিকাÐের প্রাথমিক কারন বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।   ‘মা ক্লাসিক্যাল’ বাস চালক উজ্জল মণ্ডল বলেন, কুষ্টিয়া থেকে যাত্রীর ট্রিপ মারা শেষে শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে দৌলতদিয়া টার্মিনালে রেখে হেলপারকে সবকিছু দেখে তালা মারার কথা বলে সাড়ে ৬টার দিকে তিনি রাজবাড়ীর বানিবহ বাড়ি চলে যান। রাত দেড়টার দিকে তাঁর কাছে স্থানীয়রা ফোন করে বাসে আগুন লাগার বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে ঘাটে এসে দেখেন বাসটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। বাসের ভিতর কেউ ছিলেন না, এমনকি দরজাও তালাবদ্ধ ছিল? তার ধারণা দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে।  বাসটির তত্বাবধায়ক (সুপার ভাইজার) সিরাজুল ইসলাম বলেন, শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাসটি টার্মিনালে রেখে তিনিসহ চালক ও সহকারী সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে যার যার বাড়ি চলে যান। এ সময় বাসটির সকল জানালা ভালো করে লাগিয়ে এবং দরজা তালাবদ্ধ করে ভালো বাস রেখে যান। রাত একটার দিকে  অন্য পরিবহনের সুপারভাইজারের কাছ থেকে ফোন পেয়ে টার্মিনালে এসে দেখেন বাসটি সম্পূর্ণ পুড়ে শেষ হয়ে গেছে।  প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, বাসটির পিছন থেকে স্থানীয়রা হঠাৎ আগুন দেখতে পান। মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে সম্পূর্ণ বাসটি পুড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন গাড়ির দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে। স্বাভাবিকভাবে আগুন লাগলে এত দ্রæত বাসটি পোড়ার কথা না। তাঁদের ধারণা, দুর্বৃত্তরা গান পাউডার জাতীয় ধাতব পদার্থ ব্যবহার করায় দ্রæত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ বাসটি পুড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে অন্তত ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ বিষয়ে তারা পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নিবেন। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, রাত একটার কিছুক্ষণ পরই আমরা খবর পাই। এ সময় বাস থেকে কয়েক গজ দূরে স্থানীয় কাঁচাবাজারের সামনে আমাদের টহলরত পুলিশ ছিল। দ্রæত তারা ঘটনাস্থলে পৌছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অন্যান্য বাস সরিয়ে ফেলা হয়। বাসটিতে আগুন লাগার প্রাথমিক কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

দৌলতদিয়া টার্মিনালে রেখে গেলেন ভালো বাস, খবর পেয়ে এসে দেখলে আগুনে সব শেষ

রাজবাড়ীতে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় অন্যত্র স্থানান্তর প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন

ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী সদর উপজেলার ৫ নং বরাট ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয় অন্যত্র স্থানান্তর প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার পাচুরিয়া রেলওয়ে ষ্টেশন প্লাটফর্মে ৫ নং বরাট ইউনিয়ন স্থানান্তর প্রতিরোধ কমিটির ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। মরডাঙ্গা সেকেন্দারিয়া ফাজিল ডিগ্রী মাদারাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষক আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বরাট নবগ্রাম বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুস সাত্তার, বরাট ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নং ওয়ার্ড সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম, রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতাল নার্সিং কর্মকর্তা, স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল প্রামানিক, বরাট নবগ্রাম বাজারের পল্লী চিকিৎসক আব্দুল মালেক, বরাট ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল হালিম মিয়া, স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি আব্দুস সাত্তার বেপারী প্রমূখ।বক্তারা বরাট ইউনিয়ন পরিষদ ভবন স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও স্থানীয় জনগণের সুবিধার কথা বিবেচনা করে বর্তমান স্থানেই ইউপি ভবন রাখা প্রয়োজন। ভবনটি অন্যত্র স্থানান্তর করা হলে স্থানীয়দের ভোগান্তি বাড়বে বলে জানান।তারা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান ভবন ও জমির সঙ্গে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এ কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ জোন গড়ে উঠেছে। এখানে ঐতিহ্যবাহী পাচুরিয়া রেলস্টেশন, ব্যাংক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ প্রায় ৭০০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ইউপি ভবন স্থানান্তর করলে ব্যবসায়ীসহ স্থানীয়দের চরম ভোগান্তি ও নানা সংকটে পড়তে হবে।বরাট নবগ্রাম বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুস সাত্তার বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা তৎকালীন মাখন লাল পোদ্দারের কাছ থেকে ১৯৬১ সালে প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান খোন্দকার অলিয়ার রহমান নিজে প্রায় ৫৪ শতাংশ জমি ইউনিয়ন পরিষদের নামে ক্রয় করেন। এরপর থেকে ওই জায়গায় বরাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) কার্যক্রম চলতে থাকে। দীর্ঘ সময় এখানে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চলায় এখানে বাজার সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেছে। অথচ পরিষদের জন্য নতুন ভবন নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ আসায় একটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। শিক্ষক আলতাফ হোসেন বলেন, বরাট ইউনিয়ন পরিষদকে কেন্দ্র করে প্রায় ৭০০ পরিবার বসবাস করছেন। এখানে বাজার, নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন আর্থিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। উড়াকান্দার যেখানে ইউনিয়ন পরিষদ স্থাপন করতে চান, তার থেকে মাত্র ১৫০ মিটার দূরেই পদ্মা নদী। অথচ বর্তমান সরকার তরুণদের মাদকের হাত থেকে রক্ষায় খেলাধুলার প্রতি বেশি মনোযোগী হচ্ছেন। অথচ একটি মহল খেলাধুলার মাঠ বন্ধ করে সেখানে ইউনিয়ন পরিষদ স্থাপন করতে চায়। আমরা তা হতে দিবনা। প্রয়োজন রেলপথ, সড়ক পথ অবরোধ করে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। অন্যান্য বক্তারা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন কোথায় থাকবে, সে বিষয়ে স্থানীয় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, জনগণের সুবিধা এবং ইউনিয়ন পরিষদের নামে ক্রয় করা জমির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান স্থানেই পরিষদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি জানান তারা।উড়াকান্দা এলাকার কয়েকজন জানান, ১৯৯৪ সালে স্থানীয় দানশীল ব্যক্তি আলহাজ্ব আব্দুল করিম মোল্লা বরাট ইউনিয়ন পরিষদের নামে ৩৩ শতাংশ জমি দান করেন। এছাড়া পরবর্তীতো আরও কিছু জমি দান করেন। জমিটি পরিত্যক্ত থাকায় স্থানীয় যব সমাজ খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করেন। এছাড়া উড়াকান্দা বরাট ইউনিয়নের মধ্যবর্তী এলাকা হওয়ায় ওই এলাকার বাসিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদ স্থানান্তের জন্য কয়েক মাস আগে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি পেশ করেন।

রাজবাড়ীতে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় অন্যত্র স্থানান্তর প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন

 খেলা খেলা

সকল জেলার খবর

 সাহিত্য সাহিত্য

লাইফ স্টাইল

আর্কাইভ

কৃষকের জানালা

রাজবাড়ীতে প্রবাসীর স্ত্রী হত্যার তিন বছর পর রায়, প্রধান আসামির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড

রাজবাড়ীতে প্রবাসীর স্ত্রী হত্যার তিন বছর পর রায়, প্রধান আসামির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার মুচিদাহ খামারডাঙ্গী গ্রামের কাতার প্রবাসী আনিছুর রহমানের স্ত্রী রুনা খাতুনকে (৩০) শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে তিন বছর পর মামলার প্রধান আসামি প্রতিবেশী যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে রাজবাড়ীর বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ইউসুফ হোসেন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামির নাম মিলন শেখ (৩০)। তিনি নিহত গৃহবধু রুনা খাতুনের প্রতিবেশী খলিল শেখের ছেলে। রায় ঘোষণার পর আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটার (এপিপি) মো. আইয়ুব আলী খান বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো ন্যায় বিচার এখনও আছে এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতা অক্ষুন্নু থাকবে। এ মামলার অপর দুই আসামি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় তাদের নারী ও শিশু আদালতে পাঠানো হয়েছে।  রায় ঘোষণার পর আসামিকে আদালত থেকে বের করে রাজবাড়ী জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। এ সময় মিলন শেখকে বিমর্ষ ও কান্নারত অবস্থায় দেখা যায়। কারাগারে মিলন শেখকে পাঠানোর সময় পিছনে হাঁঠতে ছিলেন স্ত্রী চম্পা খাতুন এবং তাঁর দুই শিশু সন্তান।  মিলনের স্ত্রী চম্পা খাতুন রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে কান্নারত অবস্থায় বলেন, “বাবা ছাড়া ইসরাফিল শেখ (১২) ও মিরা খাতুন (৫) নামের দুই শিশু সন্তান নিয়ে আমি এখন কোথায় যাবো। আমাদের প্রতি অবিচার করা হয়েছে। আমরা এ রায়ের ব্যাপারে উচ্চ আদালতে আপিল করার মতোও আমার সামর্থ্য নেই। আমাদের আল্লাহ ছাড়া এখন দেখার কেউ নেই।” রায়ের পর নিহত রুনা খাতুনের বড় ভাই ও মামলার বাদী রায়হান বিশ্বাস বলেন, তিনি আসামির মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করেছিলেন। তিনি বলেন, আসামি আমার ছোট বোনের বাড়ি দেখাশোনা করতো। তার অ্যান্ড্রয়েট ফোনে থাকা বিকাশের টাকা এবং স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিতে বোনকে হত্যা করা হয়েছে। মিলনের সাথে অভিযুক্ত দুইজনের বয়স কম হওয়ায় শিশু কিশোর আদালতে কি হয় সে অপেক্ষায় আছি।  জানা যায়, পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের মুচিদাহ খামারডাঙ্গী গ্রামের প্রবাসী আনিছুর রহমান খামারডাঙ্গী গ্রামের নতুন বাড়ি করেন। স্ত্রী রুনা খাতুন, কন্যা সিনহা আক্তার (৯) ও হুসাইন নামের দেড় বছরের ছেলে রেখে আনিছুর রহমান কাতার পাড়ি দেন। প্রতিবেশী মিলন তাদের বাড়ি দেখভাল করতেন। ২০২৩ সালের ১৯ আগষ্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুই সন্তান নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। দেড়টার দিকে শিশু সন্তান হুসাইন কান্না করলে পাশে থাকা সিনহার ঘুম ভেঙে যায়। বিছানায় মাকে না পেয়ে বারান্দায় মিলনকে এবং উঠানে দুই পা বাধা মায়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে সিনহা চিৎকার দিলে মিলনসহ অজ্ঞাত দুইজন পালিয়ে যায়। আশপাশের লোকজন এসে রুনার মরদেহ দেখতে পায়। পরদিন সকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। নিহতের বড় ভাই রায়হান বিশ^াস বাদী হয়ে ২০ আগষ্ট মিলনকে প্রধান অভিযুক্ত এবং অজ্ঞাত দুইজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। পুলিশ অভিযুক্ত মিলন (২৮) সহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার একই গ্রামের আলম হোসেনের ছেলে তেছেম সরদার (১৬) ও কাজেম জোয়াদ্দারের ছেলে রিয়াজ জোয়াদ্দারকে (১৫) গ্রেপ্তার করে। ২১ আগষ্ট দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তৎকালিন পুলিশ সুপার জি. এম. আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রবাসীর স্ত্রী রুনা খাতুনকে বিকাশের টাকা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে হত্যা করা হয়। হত্যার ১২ ঘন্টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত মিলন শেখসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

আইন-কানুন

সিজারের পর পেটে গজ রেখেই নার্সের সেলাই; অসুস্থ বিথীর গোয়ালন্দের বাড়িতে ইউএনও, দিলেন সু-চিকিৎসার আশ্বাস

সিজারের পর পেটে গজ রেখেই নার্সের সেলাই; অসুস্থ বিথীর গোয়ালন্দের বাড়িতে ইউএনও, দিলেন সু-চিকিৎসার আশ্বাস

মঈনুল হক মৃধা, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ীঃ সিজারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই করা ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স সেই বিথীর বাড়িতে ছুটে গেলেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদা। তিনি অসুস্থ বিথীর চার মাসের ছোট্ট শিশুকে কোলে নিয়ে সু-চিকিৎসার আশ্বাস প্রদান করেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তমিজ উদ্দিন মৃধা পাড়া গ্রামে বিথীর স্বামীর বাড়িতে ছুটে যান তিনি। এ সময় তিনি পরিবারের কাছ থেকে অসুস্থ বিথীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নেন এবং চিকিৎসার বিষয়ে জানতে চান। পাশাপাশি সরকারি পর্যায় থেকে সম্ভবপর সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।ইউএনওর এ উদ্যোগে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিথীর স্বামী রাকিবুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা। ভুল চিকিৎসায় সিসিইউ ও সার্জারি বিভাগে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা একজন অসহায় বোনের পাশে প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার এগিয়ে আসায় স্থানীয়রাও বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান। পরিবার জানায়, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় চিকিৎসক তামান্না এবং ইন্টার্ন চিকিৎসক অরবিন্দের মাধ্যমে বিথীর পেটে গজ রেখেই সেলাই দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকেই শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগতে থাকেন বিথী। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউতে (কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিট) চিকিৎসাধীন আছেন এবং জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।চার মাস ধরে নিজের নবজাতক সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরা তো দূরের কথা, সন্তানকে কোলে নেওয়া কিংবা দুধ খাওয়ানোর মতো অবস্থাতেও নেই তিনি। মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তার ছোট্ট সন্তান।পরিবারের অভিযোগ, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিথী আক্তারের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়। অস্ত্রোপচারের সময় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে তার পেটের ভেতর গজ থেকে যায়। এরপর থেকেই তার শরীরে তীব্র যন্ত্রণা ও দীর্ঘ জটিলতা শুরু হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথম অস্ত্রোপচারের প্রায় দুই মাস পর তাকে আবারও বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করাতে হয়। পরবর্তীতে পেটের নাড়িতে জটিলতা দেখা দেওয়ায় তাকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকতে হয় এবং বাইপাস সার্জারিসহ একাধিক জটিল চিকিৎসা নিতে হয়। দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় এক সময়ের ৬১ কেজি ওজনের বিথীর শারীরিক ওজন কমে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৩৯ কেজিতে।মঙ্গলবার দুপুরে বিথীর বাড়ি ঘুরে এসে ইউএনও সাইফুল হুদা বলেন, বিথীর অসুস্থতার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ফেসবুকের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পরই তার চার মাসের ছোট্ট শিশু ও পরিবারের খোঁজ খবর নিতে এসেছি। তিনি বলেন, বিথীর মতো একজন নার্সের সাথে যদি ভুল চিকিৎসা ঘটে, তাহলে সাধারণ মানুষের কি হবে। আমরা বিষয়টি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে উদ্ধর্তন কতৃপক্ষকে জানিয়েছি, আশা করছি এ বিষয়ে কতৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসন থেকে নগদ অর্থ ও তার শিশুর জন্য কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রী সহযোগিতা করা হয়েছে। বিথীর পরিবারের পাশে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সর্বক্ষণ থাকবে এবং খোঁজ খবর রাখবে। সরকারি পর্যায় থেকে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।স্থানীয়রা মনে করছেন, একজন মিডওয়াইফ নার্স বিথীর সাথে এমন ভুল চিকিৎসা ঘটলে সাধারণ মানুষের কি অবস্থা করে এ সমস্ত ভুয়া চিকিৎসকেরা। তারা সরকারের নিকট বিথীর সু-চিকিৎসা সহ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

৪ ঘন্টা আগে

 বিনোদন বিনোদন

রাজবাড়ীর কালুখালীতে শেষ হলো তিন দিনের নৌকাবাইচ, বিজয়ী পাবনার নিউ শাপলা

রাজবাড়ীর কালুখালীতে শেষ হলো তিন দিনের নৌকাবাইচ, বিজয়ী পাবনার নিউ শাপলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ আবহমান বাংলার ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে রাজবাড়ীর কালুখালীতে শেষ হলো তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলা। কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের মহেন্দ্রপুর খেয়াঘাট সংলগ্ন পদ্মার শাখা নদীতে বুধবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। পাবনার আমিনপুর উপজেলার চর গোবিন্দপুর থেকে আসা নৌকাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় পাবনার সৈয়দপুরের নিউ শাপলা নৌকা। এছাড়া প্রতিযোগিতায় চর গোবিন্দপুরের নৌকা দ্বিতীয় এবং খয়রান একতা চ্যালেঞ্জার নামক নৌকা তৃতীয় স্থান অর্জন করে। প্রতিযোগিতায় মোট ৮টি নৌকা অংশ গ্রহণ করে। বিজয়ী নৌকাকে মোটরসাইকেল এবং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী নৌকাগুলোর মধ্যে রিফ্রেজারেটর প্রদান করা হয়।পদ্মার পাড়ে তিন দিনব্যাপী নৌকা বাইচ এবং গ্রামীণ মেলায় দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় পড়ে। মুখরোচক খাবার সহ নানা ধরনের পণ্যের পসরা বসে পদ্মার পাড়ে। মেলা ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ আর উদ্দীপনা দেখা দেয়। কালুখালীসহ আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে মহেন্দ্রপুর পদ্মার পাড়ে জড়ো হন।মহেন্দ্রপুর খেয়াঘাট মেলা কমিটির আয়োজনে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান তোতার সঞ্চালনায় নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় উপস্থিত ছিলেন, পাংশা উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ আলী খান, পাংশা পৌর বিএনপির সভাপতি বাহারাম হোসেন সরদার, কালুখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি লুৎফর রহমান খান, রাজবাড়ী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব তুহিনুর রহমান, কালুখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রকিবুল হাসান প্রমূখ। এছাড়াও অনুষ্ঠান উপভোগ করতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।  সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিন দিনব্যাপী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলার উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কালুখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোটেক রকিবুল হাসান, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহŸায়ক কে এম আইনুল হাবীব, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মনজুর হোসেন মঞ্জু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব তুহিনুর রহমান, কালুখালী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জামাল খান প্রমূখ। উদ্বোধনী দিনে চারটি নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে। প্রথম প্রতিযোগিতায় উলাট একতা এক্সপ্রেসকে হারিয়ে বিজয়ী হয় ‘নিউ শাপলা’ নামক নৌকা। দ্বিতীয় বাইচে ‘চর গোবিন্দপুরের নৌকা’কে হারিয়ে বিজয়ী হয় ‘নিউ জনতার সংগ্রাম’, তৃতীয় বাইচে হয় ‘দুলদুল এক্সপ্রেস’কে হারিয়ে বিজয়ী হয় ‘খয়রানা একতা চ্যালেঞ্জার’ এবং শেষ বাইচে ‘কুষ্টিয়ার লালন’কে হারিয়ে বিজয়ী হয় পাবনার সুজানগরের ‘শিমুল একতা এক্সপ্রেস’। আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব তুহিনুর রগমান বলেন, নৌকাবাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি আবহমান গ্রামবাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হারিয়ে যেতে বসা এ ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এমন আয়োজন করা হয়েছে।

মনসুর উল করিম বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনের উজ্জল নক্ষত্র - সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

মনসুর উল করিম বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনের উজ্জল নক্ষত্র - সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

সুমন বিশ্বাস, রাজবাড়ীঃ একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিমের ৭৬ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজবাড়ীতে নানা আয়োজনে স্মরণ করা হয়েছে এই গুণী শিল্পীকে। শনিবার রাজবাড়ী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মনসুর উল করিম স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং কেক কাটার মধ্য দিয়ে জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, "মনসুর উল করিম শুধু রাজবাড়ীর নন, তিনি বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। রাজবাড়ীর মাটিতে তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। তাঁর সৃষ্টিকর্ম আজও শিল্পপ্রেমীদের অনুপ্রাণিত করে। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর শিল্পকর্ম ও জীবনাদর্শ তুলে ধরতে আমাদের আরও উদ্যোগী হতে হবে।"প্রতিমন্ত্রী বলেন, "রাজবাড়ীর সাংস্কৃতিক বিকাশে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জেলার শিল্প-সংস্কৃতির প্রসারে একটি আধুনিক কালচারাল কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই এর নির্মাণকাজ শুরু হবে। এছাড়া রাজবাড়ীর অ্যাক্রোবেটিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে আরও আধুনিক ও কার্যকরভাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি ভবিষ্যতে জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।" মনসুর উল করিম স্মৃতি পরিষদের আহ্বায়ক কবি খোকন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল, চিত্রশিল্পী মনসুর করিম স্মৃতি সংসদের সদস্য সচিব আজিজা খানম, উপদেষ্টা চৌধুরী আহসানুল করিম হিটু, নূরুল হক আলম, জেলা কালচারাল অফিসার সুজিত কুমার সাহা, মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি সংসদের আহ্বায়ক কবি সালাম তাসির, রাজবাড়ী বাংলা একাডেমির সভাপতি সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমানসহ চিত্রশিল্পী মনসুর করিম স্মৃতি সংসদের অন্যান্য সদস্য, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।আলোচনা সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিম তাঁর সৃষ্টিশীলতা, নান্দনিক চিন্তা ও শিল্পকর্মের মাধ্যমে দেশের শিল্পাঙ্গনে অনন্য অবদান রেখে গেছেন। তাঁর স্মৃতি ও কর্ম নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।পরে অতিথিরা কেক কেটে মনসুর উল করিমের ৭৬ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করেন। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।উল্লেখ্য, চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিম ১৯৫০ সালের ১৪ জুলাই রাজবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ শিল্পজীবনে তিনি দেশ-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করেন এবং শিল্পকলায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে একুশে পদকে ভূষিত হন। ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর শিল্পকর্ম আজও বাংলাদেশের চারুকলার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।

রাজবাড়ীতে উদীচীর গান, নৃত্য ও ফলাহারে বর্ষা উৎসব অনুষ্ঠিত

আব্দুল হালিম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে গান, নৃত্য ও ফলাহারের মধ্য দিয়ে উদীচীতে বর্ষা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী রাজবাড়ী জেলা কমিটির উদ্যোগে শহরের আজাদী ময়দান সংলগ্ন সংগঠনের মিলনায়তনে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়।আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা উদীচীর সহসভাপতি আজিজুল হাসান খোকা। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা উদীচীর সংগীত বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল জব্বার। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উদীচী কেন্দ্রীয় কমিটির সংগীত বিষয়ক সম্পাদক সুরাইয়া পারভীন, সদস্য শিখা কর্মকার। এতে স্মৃতিচারণ মূলক বক্তব্য দেন জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কমরেড আব্দুস সামাদ মিয়া, রাজবাড়ী নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফকীর শাহাদত হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা চিত্রশিল্পী মো. গোলাম আলী, রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক এম দেলোয়ার হোসেন, রাজবাড়ী বৈচিত্র্য সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি আজাদ সিদ্দিকী মিলন, জেলা উদীচীর সাংগঠনিক সম্পাদক ধীরেন্দ্র নাথ দাস প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক এজাজ আহম্মেদ।  বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ছয়টি ঋতুর মধ্যে বর্ষা ঋতু হলো মধুর ঋতু। এই ঋতু শুরু হলে প্রকৃতি হাঁসে। প্রকৃতি জীবন্ত হয়ে ওঠে। চারপাশ সবুজে ভরে যায়। প্রবীণ তার কৈশোরে ফিরে যায়। তবে মানুষ আজ প্রকৃতি ধ্বংস করে ফেলছে। নিয়মিত বনায়ন ধ্বংস করা হচ্ছে। একারণে বর্ষার প্রকৃত রূপ এখন আর দেখা যায় না। বর্ষাকে বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের বেশি বেশি গাছ রোপণ করতে হবে। প্রকৃতি সুন্দর হলে এই পৃথিবী আরও সুন্দর হবে।অনুষ্ঠানে উদীচী ও রাবেয়া কাদের স্মৃতি পাঠাগারের শিল্পীরা সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা করেন

রাজবাড়ীতে উদীচীর গান, নৃত্য ও ফলাহারে বর্ষা উৎসব অনুষ্ঠিত

গোয়ালন্দে নজরুল বর্ষের শুভ উদ্বোধন

মঈনুল হক, গোয়ালন্দ রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে ঘোষিত নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭ এর শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানের শুরুতে ভার্চ্যুয়ালি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ টেলিকাস্ট) উপভোগ করেন উপস্থিত অতিথি ও দর্শকরা। পরে স্থানীয়ভাবে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাসের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি (তদন্ত) মো. রাশিদুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার দাস, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু মোল্লা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবলু, নাজিরুল ইসলাম তিতাস, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মোল্লা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আবু সাঈদ মণ্ডল সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।উপজেলা প্রশাসন জানায়, তিন দিনব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে প্রথম দিনে আলোচনা সভা, উদ্ভোধনী সংগীত (চল চল), সমবেত সংগীত, সমবেত নৃত্য, আবৃত্তি, একক সংগীত ও নৃত্য, দ্বিতীয় দিনে নজরুলের উপর রচনা, আবৃত্তি, নজরুল সংগীত ও নৃত্য প্রতিযোগিতা, তৃতীয় দিনে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে লালন, দেশত্ববোধক, ভাটিয়ালি সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনা সভায় বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর জীবন, সাহিত্যকর্ম, দেশপ্রেম, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, বিদ্রোহ, সাম্য ও মানবতার কবি নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত আজও বাঙালির স্বাধীনতার চেতনা, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মূল্যবোধের অন্যতম প্রেরণার উৎস। নতুন প্রজন্মের মাঝে নজরুলের আদর্শ, সাহিত্য ও সংগীত ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা মন্তব্য করেন।আলোচনা সভা শেষে নজরুল সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, দর্শন ও সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।

গোয়ালন্দে নজরুল বর্ষের শুভ উদ্বোধন

রাজবাড়ীতে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে দেশব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’-এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি দেশের ৬৪ জেলা এবং নির্বাচিত ৭৪টি উপজেলায় একযোগে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’-এর স্মারক ও ডাক টিকিট অবমুক্ত, লোগো উন্মোচন ও নজরুল বর্ষের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে রাজবাড়ীতেও শুরু হলো ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭-এর কর্মসূচি। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে বছরব্যাপী নানা সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক আয়োজনের মাধ্যমে এ বর্ষ উদযাপন করা হবে।সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি বক্তব্য রাখেন।বিশেষ অতিথি হিসেবে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি; তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডাঃ জাহেদ উর রহমান ও মন্ত্রী পরিষদের সচিব ডঃ নাসিমুল গনি বক্তব্য।এদিকে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মিয়া, সিভিল সার্জন ডাঃ এস এম মাসুদ, স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক কল্যাণ চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ তারিফ-উল-হাসান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ্যাডঃ লিয়াকত আলী বাবু, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবীব, রাজবাড়ী সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজে অধ্যক্ষ প্রফেসর রেজভি জামান, রাজবাড়ী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর মোস্তফা কামাল সহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিসহ সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বছরব্যাপী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।উল্লেখ্য, গত ২৫ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে এ বছরের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত এক বছর নজরুল বর্ষ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।

রাজবাড়ীতে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরান দলকে সমর্থন

সোহাগ মিয়া, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের হামিদ মৃধার হাট এলাকায় ব্যতিক্রমী ঘটনার জন্ম দিয়েছেন আলাল মোল্লা নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে সে এলাকায় আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের ঘোর সমর্থক হিসেবে পরিচিত থাকলেও এবার তিনি প্রকাশ্যে দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরান ফুটবল দলের সমর্থক হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এমন ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাত ৯টার দিকে হামিদ মৃধার হাট বাজারে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে আলাল মোল্লা তাঁর কর্মী সমর্থকদের জড়ো হন। এ সময় তিনি দুধ দিয়ে গোসল করে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নতুন ইসলামী রাষ্ট্র ইরানের পক্ষে অবস্থানের কথা ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণার পর মুহূর্তেই তাঁর কর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তোলে। একই সাথে বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। বাজারে উপস্থিত অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেন, আবার কেউ কেউ বিষয়টিকে ব্যক্তিগত পছন্দ ও মতামতের স্বাধীনতা হিসেবেও দেখেন।আলাল মোল্লা বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক ছিলাম। তবে ব্যক্তিগত চিন্তা-ভাবনা ও ধর্মীয় অনুভূতি থেকে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আজ থেকে আমি ইরান দলকে সমর্থন করব। আমি আর কখনো আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেব না। এজন্য দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরান ফুটবল দলের সমর্থক হয়েছি।তার এই ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয় যুবকদের মধ্যে কেউ বিষয়টিকে মজার ঘটনা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে একজন সমর্থকের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন।স্থানীয় হামিদ মৃধা হাট এরাকার আক্কাস সরদার, আব্বাস মোল্লা, জামাল হোসেন, হারুন ব্যাপারী সহ অনেকে জানান, সাধারণত ফুটবল দল পরিবর্তনের ঘটনা নতুন নয়। তবে প্রকাশ্যে দুধ দিয়ে গোসল করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে এক দলের সমর্থন ছেড়ে অন্য দলের প্রতি সমর্থন জানানোর ঘটনা এলাকায় খুব একটা দেখা যায় না। ফলে আলাল মোল্লার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।এ বিষয়ে স্থানীয় নুরুল ইসলাম, আহম্মদ আলী শেখ সহ অনেকের ভাষ্য, খেলাধুলা মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। যে কেউ নিজের পছন্দ অনুযায়ী যে কোনো দলকে সমর্থন করতে পারেন। আলাল মোল্লার এই ঘোষণাও তার ব্যক্তিগত মতামত ও পছন্দেরই বহিঃপ্রকাশ।ব্যতিক্রমী এই দলবদলের ঘটনা এখন গোয়ালন্দের হামিদ মৃধার হাট সহ আশপাশের এলাকায় আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।

দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরান দলকে সমর্থন

 মতামত মতামত

সিজারের পর পেটে গজ রেখেই নার্সের সেলাই; অসুস্থ বিথীর গোয়ালন্দের বাড়িতে ইউএনও, দিলেন সু-চিকিৎসার আশ্বাস

সিজারের পর পেটে গজ রেখেই নার্সের সেলাই; অসুস্থ বিথীর গোয়ালন্দের বাড়িতে ইউএনও, দিলেন সু-চিকিৎসার আশ্বাস

মঈনুল হক মৃধা, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ীঃ সিজারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই করা ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স সেই বিথীর বাড়িতে ছুটে গেলেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদা। তিনি অসুস্থ বিথীর চার মাসের ছোট্ট শিশুকে কোলে নিয়ে সু-চিকিৎসার আশ্বাস প্রদান করেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তমিজ উদ্দিন মৃধা পাড়া গ্রামে বিথীর স্বামীর বাড়িতে ছুটে যান তিনি। এ সময় তিনি পরিবারের কাছ থেকে অসুস্থ বিথীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নেন এবং চিকিৎসার বিষয়ে জানতে চান। পাশাপাশি সরকারি পর্যায় থেকে সম্ভবপর সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।ইউএনওর এ উদ্যোগে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিথীর স্বামী রাকিবুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা। ভুল চিকিৎসায় সিসিইউ ও সার্জারি বিভাগে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা একজন অসহায় বোনের পাশে প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার এগিয়ে আসায় স্থানীয়রাও বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান। পরিবার জানায়, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় চিকিৎসক তামান্না এবং ইন্টার্ন চিকিৎসক অরবিন্দের মাধ্যমে বিথীর পেটে গজ রেখেই সেলাই দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকেই শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগতে থাকেন বিথী। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউতে (কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিট) চিকিৎসাধীন আছেন এবং জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।চার মাস ধরে নিজের নবজাতক সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরা তো দূরের কথা, সন্তানকে কোলে নেওয়া কিংবা দুধ খাওয়ানোর মতো অবস্থাতেও নেই তিনি। মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তার ছোট্ট সন্তান।পরিবারের অভিযোগ, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিথী আক্তারের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়। অস্ত্রোপচারের সময় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে তার পেটের ভেতর গজ থেকে যায়। এরপর থেকেই তার শরীরে তীব্র যন্ত্রণা ও দীর্ঘ জটিলতা শুরু হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথম অস্ত্রোপচারের প্রায় দুই মাস পর তাকে আবারও বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করাতে হয়। পরবর্তীতে পেটের নাড়িতে জটিলতা দেখা দেওয়ায় তাকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকতে হয় এবং বাইপাস সার্জারিসহ একাধিক জটিল চিকিৎসা নিতে হয়। দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় এক সময়ের ৬১ কেজি ওজনের বিথীর শারীরিক ওজন কমে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৩৯ কেজিতে।মঙ্গলবার দুপুরে বিথীর বাড়ি ঘুরে এসে ইউএনও সাইফুল হুদা বলেন, বিথীর অসুস্থতার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ফেসবুকের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পরই তার চার মাসের ছোট্ট শিশু ও পরিবারের খোঁজ খবর নিতে এসেছি। তিনি বলেন, বিথীর মতো একজন নার্সের সাথে যদি ভুল চিকিৎসা ঘটে, তাহলে সাধারণ মানুষের কি হবে। আমরা বিষয়টি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে উদ্ধর্তন কতৃপক্ষকে জানিয়েছি, আশা করছি এ বিষয়ে কতৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসন থেকে নগদ অর্থ ও তার শিশুর জন্য কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রী সহযোগিতা করা হয়েছে। বিথীর পরিবারের পাশে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সর্বক্ষণ থাকবে এবং খোঁজ খবর রাখবে। সরকারি পর্যায় থেকে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।স্থানীয়রা মনে করছেন, একজন মিডওয়াইফ নার্স বিথীর সাথে এমন ভুল চিকিৎসা ঘটলে সাধারণ মানুষের কি অবস্থা করে এ সমস্ত ভুয়া চিকিৎসকেরা। তারা সরকারের নিকট বিথীর সু-চিকিৎসা সহ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

৪ ঘন্টা আগে

 স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

সিজারের পর পেটে গজ রেখেই নার্সের সেলাই; অসুস্থ বিথীর গোয়ালন্দের বাড়িতে ইউএনও, দিলেন সু-চিকিৎসার আশ্বাস

সিজারের পর পেটে গজ রেখেই নার্সের সেলাই; অসুস্থ বিথীর গোয়ালন্দের বাড়িতে ইউএনও, দিলেন সু-চিকিৎসার আশ্বাস

মঈনুল হক মৃধা, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ীঃ সিজারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই করা ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স সেই বিথীর বাড়িতে ছুটে গেলেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদা। তিনি অসুস্থ বিথীর চার মাসের ছোট্ট শিশুকে কোলে নিয়ে সু-চিকিৎসার আশ্বাস প্রদান করেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তমিজ উদ্দিন মৃধা পাড়া গ্রামে বিথীর স্বামীর বাড়িতে ছুটে যান তিনি। এ সময় তিনি পরিবারের কাছ থেকে অসুস্থ বিথীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নেন এবং চিকিৎসার বিষয়ে জানতে চান। পাশাপাশি সরকারি পর্যায় থেকে সম্ভবপর সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।ইউএনওর এ উদ্যোগে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিথীর স্বামী রাকিবুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা। ভুল চিকিৎসায় সিসিইউ ও সার্জারি বিভাগে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা একজন অসহায় বোনের পাশে প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার এগিয়ে আসায় স্থানীয়রাও বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান। পরিবার জানায়, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় চিকিৎসক তামান্না এবং ইন্টার্ন চিকিৎসক অরবিন্দের মাধ্যমে বিথীর পেটে গজ রেখেই সেলাই দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকেই শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগতে থাকেন বিথী। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউতে (কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিট) চিকিৎসাধীন আছেন এবং জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।চার মাস ধরে নিজের নবজাতক সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরা তো দূরের কথা, সন্তানকে কোলে নেওয়া কিংবা দুধ খাওয়ানোর মতো অবস্থাতেও নেই তিনি। মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তার ছোট্ট সন্তান।পরিবারের অভিযোগ, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিথী আক্তারের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়। অস্ত্রোপচারের সময় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে তার পেটের ভেতর গজ থেকে যায়। এরপর থেকেই তার শরীরে তীব্র যন্ত্রণা ও দীর্ঘ জটিলতা শুরু হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথম অস্ত্রোপচারের প্রায় দুই মাস পর তাকে আবারও বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করাতে হয়। পরবর্তীতে পেটের নাড়িতে জটিলতা দেখা দেওয়ায় তাকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকতে হয় এবং বাইপাস সার্জারিসহ একাধিক জটিল চিকিৎসা নিতে হয়। দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় এক সময়ের ৬১ কেজি ওজনের বিথীর শারীরিক ওজন কমে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৩৯ কেজিতে।মঙ্গলবার দুপুরে বিথীর বাড়ি ঘুরে এসে ইউএনও সাইফুল হুদা বলেন, বিথীর অসুস্থতার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ফেসবুকের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পরই তার চার মাসের ছোট্ট শিশু ও পরিবারের খোঁজ খবর নিতে এসেছি। তিনি বলেন, বিথীর মতো একজন নার্সের সাথে যদি ভুল চিকিৎসা ঘটে, তাহলে সাধারণ মানুষের কি হবে। আমরা বিষয়টি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে উদ্ধর্তন কতৃপক্ষকে জানিয়েছি, আশা করছি এ বিষয়ে কতৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসন থেকে নগদ অর্থ ও তার শিশুর জন্য কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রী সহযোগিতা করা হয়েছে। বিথীর পরিবারের পাশে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সর্বক্ষণ থাকবে এবং খোঁজ খবর রাখবে। সরকারি পর্যায় থেকে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।স্থানীয়রা মনে করছেন, একজন মিডওয়াইফ নার্স বিথীর সাথে এমন ভুল চিকিৎসা ঘটলে সাধারণ মানুষের কি অবস্থা করে এ সমস্ত ভুয়া চিকিৎসকেরা। তারা সরকারের নিকট বিথীর সু-চিকিৎসা সহ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

রাজবাড়ীতে ঋষি পরিবারে হামলা, আতঙ্কে কাটছে দিন

রাজবাড়ীতে ঋষি পরিবারে হামলা, আতঙ্কে কাটছে দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর পাংশায় দুই লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ঋষি পরিবারে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সুশীল কুমার ঋষি বাদী হয়ে সোমবার রাতে পাংশা মডেল থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি একই উপজেলার মৌরাট ইউনিয়নের ঋষিপাড়ার বাসিন্দা। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১১টার দিকে অজ্ঞাত কয়েক ব্যক্তি তার বাড়িতে গিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তার প্রবাসী ছেলের কাছেও ফোন করে চাঁদা চায়। চাঁদা না দিলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে আবারও তার বাড়ি গিয়ে প্রথমে গালিগালাজ করে। পরে ঘরের বেড়া ভেঙে ভেতরে ঢুকে নগদ ১০ হাজার টাকা সহ কিছু মালপত্র নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় পাঁচ লাখ টাকা রেডি রাখতে বলে। সুশীল কুমার ঋষি জানান, তিনি হামলাকারীদের চেনেন না। ওদের মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। ঘটনার পর থেকে তারা খুবই আতঙ্কে আছেন। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নেমে এসেছে অস্থিরতা। তারা কেউ স্বাভাবিক কাজ কর্ম করতে পারছেন না। পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম মঙ্গলবার বিকেলে জানান, ঘটনাটি রোববার দিবাগত রাত পৌনে একটার দিকে জানা মাত্র পুলিশ নিয়ে আমি নিজে ঘটনাস্থলে পৌছি। এ সময় ঘটনাস্থলে ঘরের বেড়ায় কোপানোর চিহ্ন সহ থেকে একটি অবিস্ফোরিত পটকা বাজি জব্দ করা হয়। এছাড়া ১০-১২টি পটকা বাজি ফোটানোর আলামত পাওয়া যায়। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে সুশীল কুমার ঋষি বাদী হয়ে বাধন নামের একজনকে অভিযুক্ত করে অজ্ঞাত ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে আজ মঙ্গলবার বিকেলে মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

গোয়ালন্দের গুণী শিক্ষক, সর্বজন শ্রদ্ধেয় সুলতান উদ্দিন আহমেদ আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার গুণীজন,সর্বজন শ্রদ্ধেয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ঢাকা অঞ্চলের অবসরপ্রাপ্ত বিদ্যালয় পরিদর্শক এবং গোয়ালন্দ নাজির উদ্দিন পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক সুলতান উদ্দিন আহমেদ (৮৫) বার্ধ্যক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।গোয়ালন্দ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিপেন রায়ের পাড়ার নিজ বাড়িতে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এর আগে গত বছর তাঁর স্ত্রীও দীর্ঘদিন অসুস্থ্য অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সুলতান উদ্দিন আহমেদ দীর্ঘদিন স্ট্রোক করে প্যারালাইসিস হয়ে নিজ বাড়িতে শয্যাশায়ী অবস্থায় ভুগছিলেন।  মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়ে, নাতী-নাতনী সহ অনেক গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বৃহস্পতিবার রাত ৯ টায় গোয়ালন্দ নাজির উদ্দিন পাইলট সরকারি উচ্চ মাঠে তাঁর জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর জানাজা নামাজে উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তি সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ শরিক হন। পরে গোয়ালন্দ পৌরসভার কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়। 

গোয়ালন্দের গুণী শিক্ষক, সর্বজন শ্রদ্ধেয় সুলতান উদ্দিন আহমেদ আর নেই

রাজবাড়ীতে প্রবাসীর স্ত্রী হত্যার তিন বছর পর রায়, প্রধান আসামির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার মুচিদাহ খামারডাঙ্গী গ্রামের কাতার প্রবাসী আনিছুর রহমানের স্ত্রী রুনা খাতুনকে (৩০) শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে তিন বছর পর মামলার প্রধান আসামি প্রতিবেশী যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে রাজবাড়ীর বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ইউসুফ হোসেন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামির নাম মিলন শেখ (৩০)। তিনি নিহত গৃহবধু রুনা খাতুনের প্রতিবেশী খলিল শেখের ছেলে। রায় ঘোষণার পর আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটার (এপিপি) মো. আইয়ুব আলী খান বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো ন্যায় বিচার এখনও আছে এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতা অক্ষুন্নু থাকবে। এ মামলার অপর দুই আসামি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় তাদের নারী ও শিশু আদালতে পাঠানো হয়েছে।  রায় ঘোষণার পর আসামিকে আদালত থেকে বের করে রাজবাড়ী জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। এ সময় মিলন শেখকে বিমর্ষ ও কান্নারত অবস্থায় দেখা যায়। কারাগারে মিলন শেখকে পাঠানোর সময় পিছনে হাঁঠতে ছিলেন স্ত্রী চম্পা খাতুন এবং তাঁর দুই শিশু সন্তান।  মিলনের স্ত্রী চম্পা খাতুন রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে কান্নারত অবস্থায় বলেন, “বাবা ছাড়া ইসরাফিল শেখ (১২) ও মিরা খাতুন (৫) নামের দুই শিশু সন্তান নিয়ে আমি এখন কোথায় যাবো। আমাদের প্রতি অবিচার করা হয়েছে। আমরা এ রায়ের ব্যাপারে উচ্চ আদালতে আপিল করার মতোও আমার সামর্থ্য নেই। আমাদের আল্লাহ ছাড়া এখন দেখার কেউ নেই।” রায়ের পর নিহত রুনা খাতুনের বড় ভাই ও মামলার বাদী রায়হান বিশ্বাস বলেন, তিনি আসামির মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করেছিলেন। তিনি বলেন, আসামি আমার ছোট বোনের বাড়ি দেখাশোনা করতো। তার অ্যান্ড্রয়েট ফোনে থাকা বিকাশের টাকা এবং স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিতে বোনকে হত্যা করা হয়েছে। মিলনের সাথে অভিযুক্ত দুইজনের বয়স কম হওয়ায় শিশু কিশোর আদালতে কি হয় সে অপেক্ষায় আছি।  জানা যায়, পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের মুচিদাহ খামারডাঙ্গী গ্রামের প্রবাসী আনিছুর রহমান খামারডাঙ্গী গ্রামের নতুন বাড়ি করেন। স্ত্রী রুনা খাতুন, কন্যা সিনহা আক্তার (৯) ও হুসাইন নামের দেড় বছরের ছেলে রেখে আনিছুর রহমান কাতার পাড়ি দেন। প্রতিবেশী মিলন তাদের বাড়ি দেখভাল করতেন। ২০২৩ সালের ১৯ আগষ্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুই সন্তান নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। দেড়টার দিকে শিশু সন্তান হুসাইন কান্না করলে পাশে থাকা সিনহার ঘুম ভেঙে যায়। বিছানায় মাকে না পেয়ে বারান্দায় মিলনকে এবং উঠানে দুই পা বাধা মায়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে সিনহা চিৎকার দিলে মিলনসহ অজ্ঞাত দুইজন পালিয়ে যায়। আশপাশের লোকজন এসে রুনার মরদেহ দেখতে পায়। পরদিন সকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। নিহতের বড় ভাই রায়হান বিশ^াস বাদী হয়ে ২০ আগষ্ট মিলনকে প্রধান অভিযুক্ত এবং অজ্ঞাত দুইজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। পুলিশ অভিযুক্ত মিলন (২৮) সহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার একই গ্রামের আলম হোসেনের ছেলে তেছেম সরদার (১৬) ও কাজেম জোয়াদ্দারের ছেলে রিয়াজ জোয়াদ্দারকে (১৫) গ্রেপ্তার করে। ২১ আগষ্ট দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তৎকালিন পুলিশ সুপার জি. এম. আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রবাসীর স্ত্রী রুনা খাতুনকে বিকাশের টাকা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে হত্যা করা হয়। হত্যার ১২ ঘন্টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত মিলন শেখসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

রাজবাড়ীতে প্রবাসীর স্ত্রী হত্যার তিন বছর পর রায়, প্রধান আসামির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড

রাজবাড়ীতে উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যাত্রা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যাত্রা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রাজবাড়ী প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের এ যাত্রার শুভ উদ্বোধন করেন সংগঠনটির সভাপতি নতুন প্রজন্ম উদ্যোক্তা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাগুফতা সুলতানা। সংবাদ সম্মেলনে যাত্রা শুরুর উদ্বোধনী দিনে উইমেন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সাগুফতা সুলতানা বলেন, রাজবাড়ীর চেম্বার নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক তৈরীর পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন মেন্টরশিপ, ব্যবসায়ী পরামর্শ, বাজার সংযোগ বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে চায়। তিনি আরো বলেন, রাজবাড়ীর উৎপাদিত পণ্য স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, সঠিক মান প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং, বাজার সংযোগের মাধ্যমে ও আন্তর্জাতিক বাজারেও জায়গা করে নেবে। সাগুফতা সুলতানা বলেন, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে কোন দয়া বা অনুগ্রহের বিষয় নয়, এটি নারীর অধিকার। একটি দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংশ হিসেবে কাজ করতে চায় রাজবাড়ী উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। তিনি আরো জানান, চলতি বছরের গত ৩ সেপ্টেম্বর গঠিত ১৩ সদস্য বিশিষ্ট দ্বি-বার্ষিক কমিটিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে কার্যক্রম চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে রাজবাড়ী উইমেন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতিকে চিঠি প্রদান করেন। চেম্বার এর মূল প্রত্যয় উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁদের সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস বিকাশের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী নারী উদ্যোক্তাসমাজ গড়ে তোলার কথা বলা হয়। নতুন প্রজন্ম উদ্যোক্তা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও উইমেন চেম্বারের সভাপতি সাগুফতা সুলতানা ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মেহেরবা নিগার পারভীন, ফরিদা খাতুন, শামীমা খাতুন, ইয়াসমিন আক্তার, তাহমিনা বাড়ি বনানী, মমতাজ বেগম, আমিনা খাতুন, তাহামিনা খন্দকার, ফরিদা খাতুন প্রমুখ।

রাজবাড়ীতে উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যাত্রা শুরু

দৌলতদিয়ায় বাসে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা একটি লোকাল বাস আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে মুক্তার হোসেন মোল্লা (৩২) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত যুবকের নাম মুক্তার হোসেন মোল্লা গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ফৈজুদ্দিন মাতুব্বর পাড়ার আরজান মোল্লার ছেলে। এছাড়া সে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরের দিকে মুক্তারের নিজ বাড়ি হতে তাকে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ। এর আগে গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিনবাগত রাত ১ টার দিকে মা ক্লাসিক্যাল নামের ওই লোকাল বাসটিতে অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি ঘটে। আগুনে বাসটির অনেকাংশ পুড়ে গেছে। তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।এ ঘটনায় বাস মালিক এসএম সুলতান আহমদ বাদী হয়ে পরদিন রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অজ্ঞাতনামা ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিকে ঘিরে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য বাসে এ অগ্নিসংযোগ করা হতে পারে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম জাানান, সন্ধিগ্ধ আসামী হিসেবে মুক্তার হোসেন মোল্লাকে বাস পোড়ানোর ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর সোমবার দুপুরে রাজবাড়ীর বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। সে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সম্পাদক বলে জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় মামলার তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে।

দৌলতদিয়ায় বাসে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার