নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে সঞ্চয় হিসাব খোলার নামে প্রতারণা ও জালিয়াতারি মাধ্যমে সাদা কাগজে দাপ্তরিক সিল ব্যবহার করে গ্রাহকের প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় পোষ্টামাষ্টর সহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। তাঁদেরকে আগামী ৩ নভেম্বর আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভূক্তভোগী নাছরিন আক্তারের করা মামলায় রাজবাড়ীর অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ও সদর আমলি আদালতের বিচারক হায়দার আলী এ আদেশ দেন। মামলার বাদী নাছরিন আক্তার রাজবাড়ী সদর উপজেলার চর লক্ষ্মীপুর গ্রামের সেলিম মিয়ার স্ত্রী। তিনি দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় মামলাটি করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে সমন জারির নির্দেশ দেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট অশোক কুমার ঘোষ-২, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম লাভলু ও অ্যাডভোকেট খান মো. জহুরুল হক। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজবাড়ী সদর আমলী আদালতে ভূক্তভোগী গ্রাহকদের পক্ষে নাছরিন আক্তার নামের এক গ্রাহক দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের পোষ্টামাষ্টার বিকাশ চন্দ্র বিশ^াস, লেটার রাইটার শিহাব মৃধা, পিএলআই এজেন্ট মাহবুব মৃধা, লেটার রাইটার মাহবুবুর রহমান, পোষ্টাল অপারেটর নাজমুল হাছান, ট্রেজারার পবিত্র কুমার সরকার, এম.এল.এস.এস মো. রেজাউল আলম, পোষ্টাল অপারেটর মো. গোলাম মোস্তফা বাচ্চু, পোষ্টাল অপারেটর এস এম নুরুজ্জামান, পোষ্টাল অপারেটর আসমা আক্তার, প্যাকার কাম মেইল ক্যারিয়ার বিউটি রানী দাস, পোষ্টাল কর্মচারী নুরুল মাসুদ ও রোকসানা আক্তার। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে সকলের বিরুদ্ধে সমন ইস্যুর আদেশ দেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট অশোক কুমার ঘোষ-২, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম লাভলু ও অ্যাডভোকেট খান মো. জহুরুল হক। অভিযোগে বলা হয়, সঞ্চয় হিসাব খোলার নামে সাদা কাগজে দাপ্তরিক সিল ব্যবহার করে ৬১ জন গ্রাহকের কাছ থেকে ৯২ লাখ টাকা নেওয়া হয়। রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের পোষ্ট মাষ্টার বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাসসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহায়তায় এটি করেন লেটার রাইটার শিহাব মৃধা। তবে ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়। ডাক বিভাগের তথ্যমতে, ‘লেটার রাইটার’ স্থায়ী বা রাজস্বভুক্ত কোনো পদ নয়। তবে কিছু ডাকঘরে কাজের সুবিধার জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে এ ধরনের লেটার রাইটার হিসেবে কোনো ব্যক্তিকে নিয়োগ করা হয়। অভিযুক্ত শিহাব মৃধা রাজবাড়ী সদর উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নের রশোড়া বাঘিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। জানা গেছে, গত ১৩ জুলাই কুষ্টিয়া বিভাগীয় ডাক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে যান। সে সময় লেটার রাইটার শিহাবকে ডাকঘরে পাওয়া গেলেও তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। পরে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান। এরপর থেকেই তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি।অন্যদিকে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা ডাকঘরে এসে তাদের অর্থ ফেরতের দাবি জানাচ্ছেন। বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করছেন। এ অভিযোগের মধ্যে ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে পোষ্টামাষ্টার বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাসকে সম্প্রতি কুষ্টিয়ায় বদলী করা হয়েছে।গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে ১৬ জুলাই খুলনা দক্ষিণাঞ্চলের পোস্টমাস্টার জেনারেল (চলতি দায়িত্ব) কবির আহমেদ স্বাক্ষরিত এক পত্রে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটিতে খুলনা দক্ষিণাঞ্চলের অতিরিক্ত পোস্টমাস্টার জেনারলকে সভাপতি, খুলনা সার্কেল অফিসের সুপারিনটেনডেন্টকে সদস্য সচিব, ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল (তদন্ত) দক্ষিণাঞ্চল খুলনা ও কুষ্টিয়া বিভাগের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেলকে সদস্য করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রæত তদন্ত শেষ করে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিধি-বিধানের অপর্যাপ্ততা বা পদ্ধতিগত কোনো ত্রæটির কারণে সরকারি ক্ষতি সংঘটিত হয়ে থাকলে তা সংশোধন, নিরসন ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষে যুক্তসংগত প্রস্তাব বা সুপারিশসমূত তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া কুষ্টিয়া বিভাগীয় কার্যালয় থেকেও চার সদস্যের পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের সদ্য যোগ দেওয়া পোষ্টমাষ্টার শামীম আহমেদ বলেন, শিহাব মৃধা ২০২১ সাল থেকে ‘হেল্পিং হ্যান্ডস’ হিসেবে লেটার রাইটারের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি সরকারি রাজস্বভুক্ত কর্মচারী নন। গত বছর সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছর জুন পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনা ঘটে। তিনি রাজবাড়ীতে যোগদানের পর ৬ জুলাই এক গ্রাহকের কাছে সাদা কাগজের স্লিপ পাওয়ার পর একে একে প্রকাশ্যে আসে। বিষয়টি জানতে পেরে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাঁদের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে।
অনলাইন জরিপ
রাজনীতি
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার কালিকাপুর গ্রামে রাতে পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে নগদ দুই লাখ টাকা এবং প্রায় পাঁচ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার গভীররাতে উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার নুরু শেখ (৬৫), তাঁর স্ত্রী হামিদা বেগম (৫৫) ও তাঁদের প্রবাস ফেরত ছেলে জুয়েল শেখ (২৭)। বর্তমানে আহতরা কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে চিহিৃত এবং অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনকে অভিযুক্ত করে শনিবার কালুখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নুরু শেখের স্ত্রী হামিদা বেগম।অভিযোগে জানান, গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত আনুমানিক পৌনে এগারটার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের বাড়ির টিনের চালে ঢিল ছুড়ে। পরে তাদের মধ্যে একজন বাবলু শেখ পরিচয়ে গেট খুলতে বললে পরিবারের সদস্যরা গেট খুলে দেন। গেট খোলার সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্তরা পিস্তল সহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে নুরু শেখ, স্ত্রী হামিদা বেগম ও তার ছেলে জুয়েল শেখকে জিম্মি করে ঘরের ভেতরে নিয়ে যায়। এ সময় দুর্বৃত্তদের মধ্যে স্থানীয় বাবলু শেখ সহ কয়েকজনকে তারা চিনতে পারেন। কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন সৌদি প্রবাস ফেরত জুয়েল শেখ জানান, দুর্বৃত্তরা বাড়ির ভিতর প্রবেশ করে আমাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এ সময় তারা অস্ত্রের বাট দিয়ে আমাকে প্রচণ্ড মারধর করে। এ সময় তারা আলমারি ও বাক্স খুলে দিতে বাধ্য করে। পরে আলমারি থেকে নগদ প্রায় দুই লাখ টাকা এবং একটি গলার হার, একটি চেইন, এক জোড়া হাতের বালা ও দুই জোড়া কানের দুলসহ প্রায় পাঁচ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। বাধা দিলে তারা আমাকে, আমার বাবাকে এবং মাকে মারধর করে আহত করেন। দুর্বৃত্তরা চলে যাওয়ার সময় মামলা করলে পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকিও দেয়।পরে তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে শনিবার (১ আগষ্ট) বিকেলে কালুখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্থানীয় বাবলুর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন না ধরায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। কালুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মোস্তফা কামাল বলেন, স্থানীয় আধিপত্যের বিস্তারকে কেন্দ্র দুটি পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ ঘটনার তারই একটা অংশ। খবর পেয়ে তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এ ঘটনায় শনিবার বিকেলে থানায় অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের উড়াকান্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ সাড়ে ১১ কেজি গাঁজাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়।শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের উড়াকান্দা এলাকার ‘গল্প গৃহ-রিসোর্ট’ এর সামনে সন্দেহজনকভাবে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্থানীয় লোকজন আটক করে থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশের একটি দল বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অটোরিকশাটিতে তল্লাশি চালিয়ে সাড়ে ১১ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে। এ সময় অটোরিকশায় থাকা দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার পশ্চিম-দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের মো. রহম মালিথার ছেলে মো. ফারুক ইসলাম (৪২) এবং একই উপজেলার সিরাজনগর গ্রামের মো. উজির মালিথার ছেলে সিএনজিচালক মো. আজমত আলী (৩৫)।রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ জানান, স্থানীয়দের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সাড়ে ১১ কেজি গাঁজা সহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়েছে।তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছেন যে, বেড়িবাঁধ সড়ক ব্যবহার করে গাঁজাগুলো দৌলতদিয়া ঘাট হয়ে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া এলাকায় নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’য় বিএনপি ও ছাত্রদলের সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগে প্রতিবাদ জানিয়ে রাজবাড়ীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল ৬টার দিকে জাতীয় ছাত্রশক্তি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাজবাড়ী জেলা শাখার আয়োজনে রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের পান্না চত্বর এলাকা প্রদক্ষিণ করে রেলগেট শহীদ স্মৃতি চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়ক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাজবাড়ী জেলা শাখার সাবেক আহ্বায়ক মীর মাহমুদ সুজন, জেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়ক সাঈদুজ্জামান সাকিব, জেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়ক ও বালিয়াকান্দি উপজেলার প্রধান সমন্বয়ক পলাশ খান আব্দুল্লাহ, যুগ্ম সমন্বয়ক মো. জহিরুল ইসলাম, জেলা সদস্য মারুফ আহমেদ, গোয়ালন্দ উপজেলা এনসিপির সদস্য আবির হাসান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাজবাড়ী জেলা শাখার আহ্বায়ক রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, জাতীয় ছাত্রশক্তি রাজবাড়ী জেলা শাখার আহ্বায়ক নয়ন মুন্সি, কালুখালী উপজেলা এনসিপির যুগ্ম সম্পাদক জিহাদুল ইসলাম, বালিয়াকান্দি উপজেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়ক মনির মিয়া, সদর উপজেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়ক সাত্তার মিজি এবং সদর উপজেলা এনসিপির সদস্য মির্জা আকরাম।বক্তারা হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রায় হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সহিংসতা পরিহার করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
ইমরান হোসেন মনিম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে গণ ভোটের রায়, জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ও গণ হত্যার বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে রাজবাড়ী জেলা শিবির।শনিবার (২৫ জুলাই) বিকাল পৌনে ছয়টায় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বেরহয়। মিছিলটি রাজবাড়ী প্রেসক্লাব হয়ে পান্নাচত্তর ও বড়পুল প্রদক্ষিন করে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি স্তম্ভে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়। সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি আবু তাহের এম তানভীর। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্র শিবিরের সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ, অফিস সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, মিডিয়া ও বায়তুল মাল সম্পাদক সম্পাদক আল মামুন প্রমূখ।এ ছাড়া এ সময় জেলা সেক্রেটারিয়েট সদস্যবৃন্দ ও সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।সভায় বক্তারা বলেন, সরকার নির্বাচিত হওয়ার পর জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে নানা তালবাহানা করছে। অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। আর যদি জুলাই সনদ নিয়ে কোন ধরনের বিলম্ব করা হয় তাহলে ছাত্র জনতা সহ সকল শ্রেনী পেশার মানুষদের নিয়ে মাঠে নেমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান বক্তারা।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আলেয়া বেগমের (৫০) মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুর পর পরীক্ষা নীরিক্ষার রিপোর্টে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন।আলেয়া বেগমের বাড়ি রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামে। তার বাবার নাম খোরশেদ আলী মিয়া। তিনি ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে এই প্রথম ডেঙ্গু পজিটিভ হিসেবে কেউ মারা গেলেন।হাসপাতাল ও স্থানীয়রা জানায়, আলেয়া বেগম জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বুধবার (২২ জুলাই) সকালে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালে চিকিৎসাকালে তিনি ডেঙ্গু পজিটিভ কি না নিশ্চিত হতে চিকিৎসকরা পরীক্ষা নীরিক্ষা করেন। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবার আজ সকালে পরীক্ষার রিপোর্টে ডেঙ্গু পজিটিভ হিসেবে জানতে পারেন।এদিকে আলেয়া বেগমের এই অনাকাঙ্খিত মৃত্যুতে পরিবার এবং এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন, বুধবার সকালে আলেয়া বেগম জ্বর নিশে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। এ সময় ডেঙ্গু সহ তাঁর কিছু প্যাথলজি পরীক্ষা দেওয়া হয়েছিল। এমন অবস্থায় আজ বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে তিনি মারা যান। মারা যাওয়ার পরে ডেঙ্গু পরীক্ষার রিপোর্ট আমাদের হাতে আসে। এতে তাঁর ডেঙ্গু পজিটিভ এসেছে। এর আগে আমরা তাঁকে অন্যত্র স্থানান্তরের সুযোগ পায়নি। কারণ আমরা রিপোর্টে কি আসে সেই অপেক্ষায় ছিলাম।
সুমন বিশ্বাস, রাজবাড়ীঃ একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিমের ৭৬ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজবাড়ীতে নানা আয়োজনে স্মরণ করা হয়েছে এই গুণী শিল্পীকে। শনিবার রাজবাড়ী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মনসুর উল করিম স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং কেক কাটার মধ্য দিয়ে জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, "মনসুর উল করিম শুধু রাজবাড়ীর নন, তিনি বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। রাজবাড়ীর মাটিতে তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। তাঁর সৃষ্টিকর্ম আজও শিল্পপ্রেমীদের অনুপ্রাণিত করে। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর শিল্পকর্ম ও জীবনাদর্শ তুলে ধরতে আমাদের আরও উদ্যোগী হতে হবে।"প্রতিমন্ত্রী বলেন, "রাজবাড়ীর সাংস্কৃতিক বিকাশে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জেলার শিল্প-সংস্কৃতির প্রসারে একটি আধুনিক কালচারাল কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই এর নির্মাণকাজ শুরু হবে। এছাড়া রাজবাড়ীর অ্যাক্রোবেটিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে আরও আধুনিক ও কার্যকরভাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি ভবিষ্যতে জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।" মনসুর উল করিম স্মৃতি পরিষদের আহ্বায়ক কবি খোকন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল, চিত্রশিল্পী মনসুর করিম স্মৃতি সংসদের সদস্য সচিব আজিজা খানম, উপদেষ্টা চৌধুরী আহসানুল করিম হিটু, নূরুল হক আলম, জেলা কালচারাল অফিসার সুজিত কুমার সাহা, মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি সংসদের আহ্বায়ক কবি সালাম তাসির, রাজবাড়ী বাংলা একাডেমির সভাপতি সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমানসহ চিত্রশিল্পী মনসুর করিম স্মৃতি সংসদের অন্যান্য সদস্য, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।আলোচনা সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিম তাঁর সৃষ্টিশীলতা, নান্দনিক চিন্তা ও শিল্পকর্মের মাধ্যমে দেশের শিল্পাঙ্গনে অনন্য অবদান রেখে গেছেন। তাঁর স্মৃতি ও কর্ম নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।পরে অতিথিরা কেক কেটে মনসুর উল করিমের ৭৬ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করেন। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।উল্লেখ্য, চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিম ১৯৫০ সালের ১৪ জুলাই রাজবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ শিল্পজীবনে তিনি দেশ-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করেন এবং শিল্পকলায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে একুশে পদকে ভূষিত হন। ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর শিল্পকর্ম আজও বাংলাদেশের চারুকলার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
বিনোদন
সুমন বিশ্বাস, রাজবাড়ীঃ একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিমের ৭৬ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজবাড়ীতে নানা আয়োজনে স্মরণ করা হয়েছে এই গুণী শিল্পীকে। শনিবার রাজবাড়ী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মনসুর উল করিম স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং কেক কাটার মধ্য দিয়ে জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, "মনসুর উল করিম শুধু রাজবাড়ীর নন, তিনি বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। রাজবাড়ীর মাটিতে তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। তাঁর সৃষ্টিকর্ম আজও শিল্পপ্রেমীদের অনুপ্রাণিত করে। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর শিল্পকর্ম ও জীবনাদর্শ তুলে ধরতে আমাদের আরও উদ্যোগী হতে হবে।"প্রতিমন্ত্রী বলেন, "রাজবাড়ীর সাংস্কৃতিক বিকাশে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জেলার শিল্প-সংস্কৃতির প্রসারে একটি আধুনিক কালচারাল কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই এর নির্মাণকাজ শুরু হবে। এছাড়া রাজবাড়ীর অ্যাক্রোবেটিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে আরও আধুনিক ও কার্যকরভাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি ভবিষ্যতে জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।" মনসুর উল করিম স্মৃতি পরিষদের আহ্বায়ক কবি খোকন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল, চিত্রশিল্পী মনসুর করিম স্মৃতি সংসদের সদস্য সচিব আজিজা খানম, উপদেষ্টা চৌধুরী আহসানুল করিম হিটু, নূরুল হক আলম, জেলা কালচারাল অফিসার সুজিত কুমার সাহা, মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি সংসদের আহ্বায়ক কবি সালাম তাসির, রাজবাড়ী বাংলা একাডেমির সভাপতি সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমানসহ চিত্রশিল্পী মনসুর করিম স্মৃতি সংসদের অন্যান্য সদস্য, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।আলোচনা সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিম তাঁর সৃষ্টিশীলতা, নান্দনিক চিন্তা ও শিল্পকর্মের মাধ্যমে দেশের শিল্পাঙ্গনে অনন্য অবদান রেখে গেছেন। তাঁর স্মৃতি ও কর্ম নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।পরে অতিথিরা কেক কেটে মনসুর উল করিমের ৭৬ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করেন। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।উল্লেখ্য, চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিম ১৯৫০ সালের ১৪ জুলাই রাজবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ শিল্পজীবনে তিনি দেশ-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করেন এবং শিল্পকলায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে একুশে পদকে ভূষিত হন। ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর শিল্পকর্ম আজও বাংলাদেশের চারুকলার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
আব্দুল হালিম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে গান, নৃত্য ও ফলাহারের মধ্য দিয়ে উদীচীতে বর্ষা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী রাজবাড়ী জেলা কমিটির উদ্যোগে শহরের আজাদী ময়দান সংলগ্ন সংগঠনের মিলনায়তনে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়।আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা উদীচীর সহসভাপতি আজিজুল হাসান খোকা। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা উদীচীর সংগীত বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল জব্বার। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উদীচী কেন্দ্রীয় কমিটির সংগীত বিষয়ক সম্পাদক সুরাইয়া পারভীন, সদস্য শিখা কর্মকার। এতে স্মৃতিচারণ মূলক বক্তব্য দেন জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কমরেড আব্দুস সামাদ মিয়া, রাজবাড়ী নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফকীর শাহাদত হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা চিত্রশিল্পী মো. গোলাম আলী, রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক এম দেলোয়ার হোসেন, রাজবাড়ী বৈচিত্র্য সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি আজাদ সিদ্দিকী মিলন, জেলা উদীচীর সাংগঠনিক সম্পাদক ধীরেন্দ্র নাথ দাস প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক এজাজ আহম্মেদ। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ছয়টি ঋতুর মধ্যে বর্ষা ঋতু হলো মধুর ঋতু। এই ঋতু শুরু হলে প্রকৃতি হাঁসে। প্রকৃতি জীবন্ত হয়ে ওঠে। চারপাশ সবুজে ভরে যায়। প্রবীণ তার কৈশোরে ফিরে যায়। তবে মানুষ আজ প্রকৃতি ধ্বংস করে ফেলছে। নিয়মিত বনায়ন ধ্বংস করা হচ্ছে। একারণে বর্ষার প্রকৃত রূপ এখন আর দেখা যায় না। বর্ষাকে বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের বেশি বেশি গাছ রোপণ করতে হবে। প্রকৃতি সুন্দর হলে এই পৃথিবী আরও সুন্দর হবে।অনুষ্ঠানে উদীচী ও রাবেয়া কাদের স্মৃতি পাঠাগারের শিল্পীরা সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা করেন
মঈনুল হক, গোয়ালন্দ রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে ঘোষিত নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭ এর শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানের শুরুতে ভার্চ্যুয়ালি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ টেলিকাস্ট) উপভোগ করেন উপস্থিত অতিথি ও দর্শকরা। পরে স্থানীয়ভাবে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাসের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি (তদন্ত) মো. রাশিদুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার দাস, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু মোল্লা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবলু, নাজিরুল ইসলাম তিতাস, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মোল্লা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আবু সাঈদ মণ্ডল সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।উপজেলা প্রশাসন জানায়, তিন দিনব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে প্রথম দিনে আলোচনা সভা, উদ্ভোধনী সংগীত (চল চল), সমবেত সংগীত, সমবেত নৃত্য, আবৃত্তি, একক সংগীত ও নৃত্য, দ্বিতীয় দিনে নজরুলের উপর রচনা, আবৃত্তি, নজরুল সংগীত ও নৃত্য প্রতিযোগিতা, তৃতীয় দিনে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে লালন, দেশত্ববোধক, ভাটিয়ালি সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনা সভায় বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর জীবন, সাহিত্যকর্ম, দেশপ্রেম, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, বিদ্রোহ, সাম্য ও মানবতার কবি নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত আজও বাঙালির স্বাধীনতার চেতনা, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মূল্যবোধের অন্যতম প্রেরণার উৎস। নতুন প্রজন্মের মাঝে নজরুলের আদর্শ, সাহিত্য ও সংগীত ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা মন্তব্য করেন।আলোচনা সভা শেষে নজরুল সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, দর্শন ও সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।
ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে দেশব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’-এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি দেশের ৬৪ জেলা এবং নির্বাচিত ৭৪টি উপজেলায় একযোগে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’-এর স্মারক ও ডাক টিকিট অবমুক্ত, লোগো উন্মোচন ও নজরুল বর্ষের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে রাজবাড়ীতেও শুরু হলো ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭-এর কর্মসূচি। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে বছরব্যাপী নানা সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক আয়োজনের মাধ্যমে এ বর্ষ উদযাপন করা হবে।সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি বক্তব্য রাখেন।বিশেষ অতিথি হিসেবে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি; তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডাঃ জাহেদ উর রহমান ও মন্ত্রী পরিষদের সচিব ডঃ নাসিমুল গনি বক্তব্য।এদিকে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মিয়া, সিভিল সার্জন ডাঃ এস এম মাসুদ, স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক কল্যাণ চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ তারিফ-উল-হাসান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ্যাডঃ লিয়াকত আলী বাবু, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবীব, রাজবাড়ী সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজে অধ্যক্ষ প্রফেসর রেজভি জামান, রাজবাড়ী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর মোস্তফা কামাল সহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিসহ সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বছরব্যাপী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।উল্লেখ্য, গত ২৫ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে এ বছরের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত এক বছর নজরুল বর্ষ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।
সোহাগ মিয়া, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের হামিদ মৃধার হাট এলাকায় ব্যতিক্রমী ঘটনার জন্ম দিয়েছেন আলাল মোল্লা নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে সে এলাকায় আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের ঘোর সমর্থক হিসেবে পরিচিত থাকলেও এবার তিনি প্রকাশ্যে দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরান ফুটবল দলের সমর্থক হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এমন ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাত ৯টার দিকে হামিদ মৃধার হাট বাজারে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে আলাল মোল্লা তাঁর কর্মী সমর্থকদের জড়ো হন। এ সময় তিনি দুধ দিয়ে গোসল করে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নতুন ইসলামী রাষ্ট্র ইরানের পক্ষে অবস্থানের কথা ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণার পর মুহূর্তেই তাঁর কর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তোলে। একই সাথে বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। বাজারে উপস্থিত অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেন, আবার কেউ কেউ বিষয়টিকে ব্যক্তিগত পছন্দ ও মতামতের স্বাধীনতা হিসেবেও দেখেন।আলাল মোল্লা বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক ছিলাম। তবে ব্যক্তিগত চিন্তা-ভাবনা ও ধর্মীয় অনুভূতি থেকে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আজ থেকে আমি ইরান দলকে সমর্থন করব। আমি আর কখনো আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেব না। এজন্য দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরান ফুটবল দলের সমর্থক হয়েছি।তার এই ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয় যুবকদের মধ্যে কেউ বিষয়টিকে মজার ঘটনা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে একজন সমর্থকের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন।স্থানীয় হামিদ মৃধা হাট এরাকার আক্কাস সরদার, আব্বাস মোল্লা, জামাল হোসেন, হারুন ব্যাপারী সহ অনেকে জানান, সাধারণত ফুটবল দল পরিবর্তনের ঘটনা নতুন নয়। তবে প্রকাশ্যে দুধ দিয়ে গোসল করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে এক দলের সমর্থন ছেড়ে অন্য দলের প্রতি সমর্থন জানানোর ঘটনা এলাকায় খুব একটা দেখা যায় না। ফলে আলাল মোল্লার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।এ বিষয়ে স্থানীয় নুরুল ইসলাম, আহম্মদ আলী শেখ সহ অনেকের ভাষ্য, খেলাধুলা মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। যে কেউ নিজের পছন্দ অনুযায়ী যে কোনো দলকে সমর্থন করতে পারেন। আলাল মোল্লার এই ঘোষণাও তার ব্যক্তিগত মতামত ও পছন্দেরই বহিঃপ্রকাশ।ব্যতিক্রমী এই দলবদলের ঘটনা এখন গোয়ালন্দের হামিদ মৃধার হাট সহ আশপাশের এলাকায় আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।
মাঈনুল হক, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ীঃ “নারীর সম্মান, সমাজের উন্নয়ন”এ স্লোগানে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের সংগঠন স্বপ্ন কুঁড়ি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে “শ্রেষ্ঠ পুত্রবধূ সম্মাননা স্মারক-২০২৬” প্রদান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভিন্নধর্মী এ অনুষ্ঠানে তিনজন সংগ্রামী নারীকে শ্রেষ্ঠ তিন পুত্রবধূকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। ব্যাতিক্রমধর্মী এমন আয়োজনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত এবং আমন্ত্রিত অতিথিগন সবাই মুগ্ধ হন। সোমবার (৮ জুন) বেলা ১১টায় গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ভিন্নধর্মী এ আয়োজনে অনুষ্ঠানে সমাজে পারিবারিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। “স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন দেখাই”স্লোগানধারী সংগঠন আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান।অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, গোয়ালন্দ রাবেয়া ইদ্রিস মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল কাদের শেখ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম, গোয়ালন্দ সরকারি কামরুল ইসলাম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও সংগঠনটির উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুহিত হিরা, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সালমা বেগম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার দাস, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. হাফিজুল হক, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ও স্বপ্ন কুঁড়ি সামাজিক সংগঠনের উপদেষ্টা সানোয়ার আহমেদ সহ সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মণ্ডল, সদস্য নাহিদুল ইসলাম, নাজমুল ইসলাম, আকিব সরদার, ফাহিম আশরাফ হিমেলম সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।গোয়ালন্দ উপজেলার ৪৭ জন সংগ্রামী নারীর মধ্যে সম্মাননা প্রাপ্ত তিন নারী হলেন, গোয়ালন্দ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড গোয়ালন্দ বাজার রেলওয়ে ষ্টেশন এলাকার বাসিন্দা প্রয়াত ছাত্তার শেখ এর স্ত্রী মোছাঃ সহিতুন নেছা, গোয়ালন্দ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বীপেন রায় পাড়ার প্রয়াত ইকবাল হোসেন বাবলুর স্ত্রী নাসিমা আখতার ডলি ও পৌরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ড বদিউজ্জামান বেপারী পাড়ার মো. সেলিম মিয়ার স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম।বক্তারা বলেন, একটি পরিবার ও সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে এবং শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি সম্মান, দায়িত্ববোধ ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। এ ধরনের আয়োজন সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।অনুষ্ঠানে উপস্থিত নারীদের উদ্দেশ্যে পারিবারিক সম্পর্ক উন্নয়ন, বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং সামাজিক মূল্যবোধ চর্চার বিষয়ে বিভিন্ন দিক নির্দেশনামূলক আলোচনা করা হয়। পরে নির্বাচিত তিন জন নারীর মাঝে “শ্রেষ্ঠ পুত্রবধূ সম্মাননা স্মারক-২০২৬”হিসেবে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।আয়োজকরা জানান, সমাজে ইতিবাচক মূল্যবোধ ও পারিবারিক সম্প্রীতি জোরদারের লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার কালিকাপুর গ্রামে রাতে পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে নগদ দুই লাখ টাকা এবং প্রায় পাঁচ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার গভীররাতে উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার নুরু শেখ (৬৫), তাঁর স্ত্রী হামিদা বেগম (৫৫) ও তাঁদের প্রবাস ফেরত ছেলে জুয়েল শেখ (২৭)। বর্তমানে আহতরা কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে চিহিৃত এবং অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনকে অভিযুক্ত করে শনিবার কালুখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নুরু শেখের স্ত্রী হামিদা বেগম।অভিযোগে জানান, গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত আনুমানিক পৌনে এগারটার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের বাড়ির টিনের চালে ঢিল ছুড়ে। পরে তাদের মধ্যে একজন বাবলু শেখ পরিচয়ে গেট খুলতে বললে পরিবারের সদস্যরা গেট খুলে দেন। গেট খোলার সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্তরা পিস্তল সহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে নুরু শেখ, স্ত্রী হামিদা বেগম ও তার ছেলে জুয়েল শেখকে জিম্মি করে ঘরের ভেতরে নিয়ে যায়। এ সময় দুর্বৃত্তদের মধ্যে স্থানীয় বাবলু শেখ সহ কয়েকজনকে তারা চিনতে পারেন। কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন সৌদি প্রবাস ফেরত জুয়েল শেখ জানান, দুর্বৃত্তরা বাড়ির ভিতর প্রবেশ করে আমাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এ সময় তারা অস্ত্রের বাট দিয়ে আমাকে প্রচণ্ড মারধর করে। এ সময় তারা আলমারি ও বাক্স খুলে দিতে বাধ্য করে। পরে আলমারি থেকে নগদ প্রায় দুই লাখ টাকা এবং একটি গলার হার, একটি চেইন, এক জোড়া হাতের বালা ও দুই জোড়া কানের দুলসহ প্রায় পাঁচ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। বাধা দিলে তারা আমাকে, আমার বাবাকে এবং মাকে মারধর করে আহত করেন। দুর্বৃত্তরা চলে যাওয়ার সময় মামলা করলে পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকিও দেয়।পরে তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে শনিবার (১ আগষ্ট) বিকেলে কালুখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্থানীয় বাবলুর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন না ধরায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। কালুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মোস্তফা কামাল বলেন, স্থানীয় আধিপত্যের বিস্তারকে কেন্দ্র দুটি পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ ঘটনার তারই একটা অংশ। খবর পেয়ে তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এ ঘটনায় শনিবার বিকেলে থানায় অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর খানখানাপুর রেলগেট এলাকায় রোববার রাতে তেলবাহী ট্রেনের বগির সাথে যাত্রীবাহি বাস, মাহিন্দ্র ও ইজিবাইকের চতুর্মুখী সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১০ জন যাত্রী গুরুতর আহত হন। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পর দুই জনের মৃত্যু হয়। রোববার রাত পৌনে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন, ইজিবাইকের যাত্রী রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর ইউনিয়নের ব্র্যাক পাড়ার মনোয়ার হোসেন (৫০) ও মাহিন্দ্র যাত্রী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের শামুকখোলা গ্রামের আব্দুল মালেক (৪৫)। এছাড়া আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। জানা যায়, রোববার (২৬ জুলাই) রাতে ফরিদপুর পাওয়ার প্লান্ট সদর উপজেলার ধুলদি থেকে তেল নামিয়ে ইঞ্জিনসহ ৩০টি বগি রাজবাড়ীর দিকে যাচ্ছিল। রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে ট্রেনটি সদর উপজেলার খানখানাপুর রেলগেট অতিক্রম করার আগে পিছনের পাঁচটি বগির কাপলিং (সংযুক্ত ক্লিপ) খুলে যায়। ইঞ্জিনসহ ২৫টি ওয়াগন রেলক্রসিং পার হওয়ার পর রেলগেটের দায়িত্বে থাকা গেটম্যান ব্যারিয়ার তুলে দিলে ফরিদপুর থেকে আসা দৌলতদিয়াগামী অপর্ণা পরিবহনের যাত্রীবাহি লোকাল বাস, যাত্রীবাহি মাহিন্দ্র, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় রেলের বিচ্ছিন্ন বগিগুলো সজোরে আঘাত করলে দুমড়ে মুচড়ে যায় মাহিন্দ্রা ও ইজিবাইক। যাত্রীবাহি বাসটির সামনের অংশ ভেঙে মহাসড়ক থেকে ছিটকে রেললাইনের পাশে আটকা পড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উভয় যানবাহনের অন্তত ১০জন যাত্রী গুরুতর আহত হন। মাহিন্দ্র ও ইজিবাইকের আটকা পড়া চারজন যাত্রীর হাত, পা সহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয়দের পাশাপাশি পাশেই অবস্থিত খানখানাপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ উদ্ধার কাজ শুরু করে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্য, হাইওয়ে পুলিশ ও সদর থানা পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় একজন বলেন, রেললাইনের ব্যারিয়ার তুলে দেওয়ার পর বাসটি পার হওয়ার জন্য রেললাইনের ওপর আসে। বিপরিত পাশ থেকে মাহেন্দ্র ও একটি ইজিবাইকও আসে। এক মিনিটও লাগেনি, মুহুর্তের মধ্যে রেলের বগিগুলো এসে সজোড়ে আঘাত করে টেনে নিয়ে যায়। এক মিনিট পর ব্যারিয়াটি তুললে হয়তো এ দুর্ঘটনা ঘটতো না। মো. মমিন নামের একজন বলেন, রেলগেটের ব্যারিয়ার তুলে দেওয়ার পরই বাস, মাহিন্দ্র, ইজিবাইকসহ আমরা রেললাইন পার হচ্ছিলাম। গেটের দায়িত্বরত গেটম্যান কি খেয়াল করলো না পিছনে আরও চার-পাঁচটি বগি রয়েছে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বগিগুলো এসে আঘাত করে সব দুমড়ে মুচড়ে নিয়ে যায়। রাজবাড়ী রেলওয়ের জ্যেষ্ঠ উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মাহাবুব হাসান বলেন, ফরিদপুরের পাওয়ার প্লান্টে তেল নামিয়ে দিয়ে ৩০টি বগি নিয়ে রাজবাড়ী আসছিল। পথিমধ্যে বগির কাপলিং খুলে যাওয়ায় পিছনের পাঁচটি বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রায় ৮৫ কিলোমিটার গতিতে ইঞ্জিনসহ বগিগুলো খানখানাপুর রেলক্রসিং পার হওয়ার পর গেটম্যান ব্যারিয়ার তুলে দেন। পিছনে বিচ্ছিন্ন আরও পাঁচটি বগি রয়েছে যা দেখতে পাননি। ব্যারিয়ার উঠানোর পর রেললাইন পার হওয়ার সময় যানবাহনগুলোকে পিছনের বগিগুলো এসে আঘাত করে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে বগিগুলোকে ফরিদপুর আমিরাবাদ স্টেশনে রাখা হয়েছে। রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ জানান, ব্যারিয়ার খুলে দেওয়ার পর রেললাইনে চলে আসা যাত্রীবাহি বাস, মাহিন্দ্র, অটোরিক্সা সাথে বগির চতুর্মুখী সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পাঁচজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে রাতেই দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর পাংশায় মারামারির ভিডিও করার অভিযোগে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে পাংশা পৌর শহরের মৈশালা বাসস্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার ওই সাংবাদিকের নাম মো. আকাশ মাহমুদ (২৫)। তিনি কালের কণ্ঠের রাজবাড়ী জেলার মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার ও অনলাইন পোর্টাল এনপিবি রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি। এ ছাড়া হামলায় কলেজ শিক্ষার্থী সাগর শিকদার সহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সাংবাদিক আকাশ মাহমুদ ও কলেজ শিক্ষার্থী সাগর শিকদারকে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন সাংবাদিক আকাশ মাহমুদ জানান, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) তুচ্ছ বিষয় নিয়ে অটোরিকশা (ইজিবাইক) চালকদের স্থানীয় কিছু কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে একটি চক্র দুর্ব্যবহার করে। এ নিয়ে শনিবার বিকালে ছাত্র প্রতিনিধিরা মৈশালা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ইজিবাইক চালকদের সাথে কথা বলতে যায়। কথা বলাকে কেন্দ্র করে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে ইজিবাইক চালকরা সংঘটিত হয়ে ছাত্র প্রতিনিধিদের ওপর হামলা করে। ঘটনাটি আমি মোবাইলফোনে ভিডিও ধারণ করতে গেলে আমার ওপর হামলা তারা করে। তারা আমার ফোন থেকে ভিডিও ডিলিট করে আবারও আক্রমণ করে। পরে আমি দৌড়ে কোনভাবে প্রাণে রক্ষা পাই। আহত সাগর শিকদার জানান, মৈলাশা-লাঙ্গলবাধ সড়কে ইজিবাইকদের একটি সিন্ডকেট রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার অটোরিক্সার ভাড়া নিয়ে এইচএসসি পরিক্ষার্থীদের সাথে অটোরিকশা (ইজিবাইক) চালকদের একটি চক্র খারাপ ব্যবহার করে। এমন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। সে বিষয়ে বিকালে আমরা মৈশালা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ইজিবাইক চালকদের সাথে কথা বলতে যায়। উত্তেজনার এক পর্যোয়ে ইজিবাইক চালকরা লাঠি-সোঁটা নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে। এ হামলায় একজন সাংবাদিক সহ আমাদের প্রায় ১০ জন আহত হয়েছে। আহতরা হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে। পাংশা মডেল থানার ওসি শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার নাদুরিয়া ঘাটে এক নারী যাত্রীর সঙ্গে ভাড়া নিয়ে অটোরিক্সা চালকের বাগবিতণ্ডা হয়। এ ঘটনার জের ধরে শনিবার বিকেলে কলেজ শিক্ষার্থী সাগর শিকদারসহ বেশ কয়েকজন মোটরসাইকেলে করে মৈশালা বাসষ্ট্যান্ডে এসে যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে অটোরিক্সা বন্ধ করে। এ নিয়ে চালকদের সাথে তাদের উত্তেজনার এক পর্যায়ে মারামারি বেধে যায়। এ বিষয়টি ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিক আকাশ মাহমুদ ছবি তুলতে গেলে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওসি বলেন, নারী যাত্রীর সঙ্গে খারাপ আচরণের বিষয়ে আমরা অটোরিক্সা চালককে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। কিছুক্ষণ পর সাগরসহ প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন তরুণ মৈশালা বাসষ্ট্যান্ডে গিয়ে অটোরক্সিা চালকদের সাথে ঝগড়া বাধিয়ে দেয়। মারামারির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠায়। এছাড়া রাতেই হাসপাতালে সাংবাদিক আকাশ মাহমুদের খোঁজ খবর নিয়েছি। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া এবং রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া নৌপথে চলাচলরত ‘কুমিল্লা’ নামক কে-টাইপ (মাঝারি) ফেরি থেকে পদ্মা নদীতে লাফ দেওয়া মধ্য বয়স্ক এক নারী প্রায় পৌনে চার ঘন্টা পর ফরিদপুরের কবিরপুর চর থেকে জীবিত উদ্ধার হয়েছে।শনিবার দিবাগত রাত এগারটার দিকে স্থানীয় মৎস্য শিকারীরা ওই নারীকে উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া নারী মোসা. লাইজু (৩৯) ঢাকার কামরাঙ্গীর চর থানার আশ্রাফাবাদ ঝাউচর এলাকার ফোরকান মিয়ার স্ত্রী। তাঁকে আজ রোববার ভোরে কবিরপুর চর থেকে উদ্ধার করে সকালে পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে। জানা যায়, শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা সাতটার দিকে পাটুরিয়া ফেরি ঘাট থেকে ‘কুমিল্লা’ নামক কে-টাইপ ফেরিটি দৌলতদিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। ফেরিটি মাঝ নদীতে পৌঁছলে ফেরির ডেক (নিচ তলা) থেকে বোরকা পরিহিত একজন মধ্য বয়স্ক নারী নদীতে ঝাঁপ দেন। ফেরি মাস্টার জানা মাত্র দৌলতদিয়া এবং পাটুরিয়া ঘাটের দায়িত্বরত বিআইডবিøউটিসির কর্মকর্তাদের অবগত করেন। একই সঙ্গে উভয় ঘাটের নৌ পুলিশ ফাঁড়িকে অবগত করেন। খবর পেয়ে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া নৌপুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ওই নারীর সন্ধানে নদীতে অভিযান চালায়। কিন্তু গভীররাত পর্যন্ত ওই নারীর কোন হদিস পাননি। দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক ত্রিনাথ সাহা বলেন, শনিবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে বিআইডবিøউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয় থেকে খবরটি জানার পর তিনি ‘কুমিল্লা’ ফেরির মাষ্টার সহ ঝালমুড়ি বিক্রেতার সহায়তায় ওই নারীর ভেনিটি ব্যাগ উদ্ধার করেন। ব্যাগের ভিতর থেকে নারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) মাধ্যমে পরিচিয় জানতে পারেন তিনি বরগুনা সদর উপজেলার উরবুনিয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক গাজীর মেয়ে। পরে তাঁর অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মাধ্যমে পরিবারের সাথে কথা বলে পরিচয় নিশ্চিত হন। পরে রাত সাড়ে এগারটার দিকে তাঁকে জানানো হয়, ওই নারী দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ভাটিতে ফরিদপুরের কোতয়ালী থানার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের কবিরপুর চর এলাকায় উদ্ধার হয়েছে। নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সরোয়ার হোসেন জানান, নদীতে মাছ শিকারকালে চার যুবক রাত সাড়ে দশটার দিকে কচুরিপানা ধরে এক নারী ভাসতে দেখে তাকে উদ্ধার করে তাদের কাছে নিয়ে আসে। পরে নিরাপদে রেখে কোতয়ালী নৌ পুলিশ ফাঁড়িকে জানায়। কোতয়ালী নৌপুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) তপন নন্দী জানান, খবর পেয়ে কবিরপুর চর থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে আজ রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আলেয়া বেগমের (৫০) মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুর পর পরীক্ষা নীরিক্ষার রিপোর্টে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন।আলেয়া বেগমের বাড়ি রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামে। তার বাবার নাম খোরশেদ আলী মিয়া। তিনি ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে এই প্রথম ডেঙ্গু পজিটিভ হিসেবে কেউ মারা গেলেন।হাসপাতাল ও স্থানীয়রা জানায়, আলেয়া বেগম জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বুধবার (২২ জুলাই) সকালে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালে চিকিৎসাকালে তিনি ডেঙ্গু পজিটিভ কি না নিশ্চিত হতে চিকিৎসকরা পরীক্ষা নীরিক্ষা করেন। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবার আজ সকালে পরীক্ষার রিপোর্টে ডেঙ্গু পজিটিভ হিসেবে জানতে পারেন।এদিকে আলেয়া বেগমের এই অনাকাঙ্খিত মৃত্যুতে পরিবার এবং এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন, বুধবার সকালে আলেয়া বেগম জ্বর নিশে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। এ সময় ডেঙ্গু সহ তাঁর কিছু প্যাথলজি পরীক্ষা দেওয়া হয়েছিল। এমন অবস্থায় আজ বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে তিনি মারা যান। মারা যাওয়ার পরে ডেঙ্গু পরীক্ষার রিপোর্ট আমাদের হাতে আসে। এতে তাঁর ডেঙ্গু পজিটিভ এসেছে। এর আগে আমরা তাঁকে অন্যত্র স্থানান্তরের সুযোগ পায়নি। কারণ আমরা রিপোর্টে কি আসে সেই অপেক্ষায় ছিলাম।
হেলাল মাহমুদ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সাবেক উপ পরিচালক গোলাম মো. আজমের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রকাশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার (২২ জুলাই) বিকালে রাজবাড়ী জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মচারীবৃন্দের আয়োজনে জেলার সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সামনে এই প্রতিবাদ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।মানববন্ধনে বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা মাঠ কর্মচারী সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সহ সম্পাদক কে এম কাউছার আহমেদ, সংগঠনটির রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি তারিকুল রহমান তারু, সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা নুপুর হাবীব, পরিবার কল্যাণ সহকারি আরিফুন্নেছা পলি, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক উজ্জল ভৌমিক বক্তব্য রাখেন।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা গোলাম মো. আজম একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান অফিসার ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন রাজবাড়ীতে সুনামের সাথে কাজ করেছেন। এরপর তিনি নওগাঁ জেলার উপ-পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এটা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মচারীবৃন্দের জন্য দুঃখজনক।উল্লেখ্য, নওগাঁয় দুই বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র। এতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রত্যন্ত ওই ইউনিয়নের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বন্ধের কারণ এবং কবে নাগাদ এটি চালু হতে পারে এমন প্রশ্ন করায় নওগাঁর সাংবাদিকের ওপর চটে যান জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক গোলাম মো. আজম।