হেলাল মাহমুদ ও মঈনুল হক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা করেছে বিএনপি। সভায় জেলার সার ডিলার নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির নেতারা। তাঁরা নিয়োগপ্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের ডিলার নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে রাজবাড়ী সদর উপজেলার চর খানখানাপুর বড় ঈদগাহ কমপ্লেক্স চত্বরে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। রাজবাড়ী সদর ও পৌর বিএনপি এবং গোয়ালন্দ উপজেলা ও পৌর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ব্যানারে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।রাজবাড়ী সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন গাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি ও রাজবাড়ী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আসলাম মিয়া।অনুষ্ঠানে দোয়া পরিচালনা করেন চর খানখানাপুর বড় ঈদগাহ জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা দেলোয়ার হোসেন।আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন রাজবাড়ী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সভাপতি নিজাম উদ্দিন শেখ, পৌর বিএনপির সভাপতি আবুল কাসেম মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মোল্লা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল মালেক খান ও গোয়ালন্দ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আবু সাঈদ মণ্ডল প্রমূখ।সভায় বিএনপির নেতারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছর নানা অন্যায়-নির্যাতনের শিকার হওয়া দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা এখনো যথাযথ মূল্যায়ন পাননি।তাঁদের অভিযোগ, এর পরিবর্তে সুবিধাবাদী ও হাইব্রিড নেতাদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত বিএনপির নেতা-কর্মীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।সভাপতির বক্তব্যে আবুল হোসেন গাজী অভিযোগ করেন, রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মঞ্জুরুল আলম দুলালকে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভা এলাকায় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবিব ও জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নঈম আনসারীকেও ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের কেউই প্রকৃত ব্যবসায়ী নন বলে দাবি করেন তিনি।আবুল হোসেন গাজী বলেন, নতুন করে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের সার ডিলার নিয়োগ দিতে হবে।অভিযোগের বিষয়ে দাদশী ইউনিয়নের নিয়োগপ্রাপ্ত সার ডিলার ও জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মঞ্জুরুল আলম দুলাল বলেন, তিনি কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে জড়িত। ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রথমে উপজেলা পর্যায়ে এবং পরে জেলা পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। সব নিয়ম মেনেই তাঁকে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়নি।অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অ্যাডভোকেট আসলাম মিয়া বলেন, যাঁরা প্রকৃত অর্থে বিএনপি করেন, তাঁদের অবশ্যই মূল্যায়ন করা হবে। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি দেখবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
অনলাইন জরিপ
রাজনীতি
মইন মৃধা, রাজবাড়ীঃ ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও ফুটবল ম্যাচসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।শনিবার (৭ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. শাহাদাৎ হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. হাফিজুল হক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. প্রদীপ কান্তি পাল, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ফয়সাল জাহাঙ্গীর স্বপ্নীল এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আবু বকরসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।উপস্থিত ছিলেন সরকারি গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নজির হোসেন মোল্লা, গোয়ালন্দ রাবেয়া ইদ্রিস মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল কাদের শেখ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. নিজাম উদ্দিন শেখ, সাবেক সভাপতি সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু, সাধারণ সম্পাদক মোশারফ আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবলু, সাবেক সদস্যসচিব নাজিরুল ইসলাম তিতাস, সহসভাপতি আইয়ুব আলী খান, পৌর বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান মোল্লা, সহসভাপতি প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম শাহীন, উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব সানোয়ার আহমেদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আবু সাঈদ মন্ডল, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল হাসান মিঠুসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।এ সময় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আমিনুল ইসলাম শফি, অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধা, উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান এবং উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদা বলেন, ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। বাংলাদেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ জাতি যুগে যুগে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে। এ সময় তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম ও দেশের প্রতি তাঁর ভালোবাসার তাৎপর্য তুলে ধরেন।এদিকে দিবসটি উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ফুটবল ম্যাচেরও আয়োজন করা হয়।
হেলাল মাহমুদ ও মঈনুল হক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা করেছে বিএনপি। সভায় জেলার সার ডিলার নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির নেতারা। তাঁরা নিয়োগপ্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের ডিলার নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে রাজবাড়ী সদর উপজেলার চর খানখানাপুর বড় ঈদগাহ কমপ্লেক্স চত্বরে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। রাজবাড়ী সদর ও পৌর বিএনপি এবং গোয়ালন্দ উপজেলা ও পৌর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ব্যানারে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।রাজবাড়ী সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন গাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি ও রাজবাড়ী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আসলাম মিয়া।অনুষ্ঠানে দোয়া পরিচালনা করেন চর খানখানাপুর বড় ঈদগাহ জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা দেলোয়ার হোসেন।আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন রাজবাড়ী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সভাপতি নিজাম উদ্দিন শেখ, পৌর বিএনপির সভাপতি আবুল কাসেম মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মোল্লা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল মালেক খান ও গোয়ালন্দ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আবু সাঈদ মণ্ডল প্রমূখ।সভায় বিএনপির নেতারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছর নানা অন্যায়-নির্যাতনের শিকার হওয়া দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা এখনো যথাযথ মূল্যায়ন পাননি।তাঁদের অভিযোগ, এর পরিবর্তে সুবিধাবাদী ও হাইব্রিড নেতাদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত বিএনপির নেতা-কর্মীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।সভাপতির বক্তব্যে আবুল হোসেন গাজী অভিযোগ করেন, রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মঞ্জুরুল আলম দুলালকে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভা এলাকায় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবিব ও জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নঈম আনসারীকেও ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের কেউই প্রকৃত ব্যবসায়ী নন বলে দাবি করেন তিনি।আবুল হোসেন গাজী বলেন, নতুন করে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের সার ডিলার নিয়োগ দিতে হবে।অভিযোগের বিষয়ে দাদশী ইউনিয়নের নিয়োগপ্রাপ্ত সার ডিলার ও জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মঞ্জুরুল আলম দুলাল বলেন, তিনি কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে জড়িত। ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রথমে উপজেলা পর্যায়ে এবং পরে জেলা পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। সব নিয়ম মেনেই তাঁকে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়নি।অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অ্যাডভোকেট আসলাম মিয়া বলেন, যাঁরা প্রকৃত অর্থে বিএনপি করেন, তাঁদের অবশ্যই মূল্যায়ন করা হবে। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি দেখবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
সুমন বিশ্বাস, রাজবাড়ীঃ পিরোজপুরের নিহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা প্রদান এবং তাঁর প্রতি অসম্মানজনক আচরণের প্রতিবাদে রাজবাড়ীতে সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে বীর মুক্তিযোদ্ধারা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি পেশ করেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, রাজবাড়ী জেলা ইউনিট কমান্ডের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রায় ঘন্টাব্যাপী সমাবেশে জেলার প্রায় অর্ধশত বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করেন। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা হেলাল উদ্দিন, সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা বাঁকাউল আবুল হাসেম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তালেব, অ্যাডভোকেট আব্দুল গফুর, কমরেড আবুল কালাম সহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা।বক্তারা বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে বাধা প্রদান এবং তাঁর প্রতি অসম্মানজনক আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। তাঁরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মর্যাদা ও সম্মান রক্ষার দাবি জানান। মানববন্ধন শেষে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন।
ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলীকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগে করা আরও একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে করা পাঁচটি মামলার চারটিতে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো।বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজবাড়ী সদর আমলি আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হায়দার আলী এ আদেশ দেন।২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজবাড়ী শহরে উৎস সরকার নামের এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও পিটিয়ে আহত করার অভিযোগে করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজবাড়ী সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাব্বির হোসেন তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কাজী কেরামত আলীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আজ বুধবার রাজবাড়ী জেলা কারাগার থেকে তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক আবেদন মঞ্জুর করেন।মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী উৎস সরকার বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় ৪০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলাটি করেন।কাজী কেরামত আলীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলাম আশা জানান, ৩৩২/২৪ নম্বর মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন কাজী কেরামত আলী। পরে তিনি উচ্চ আদালত থেকে ওই মামলায় জামিন পান। এরপর ৩৩৪/২৪ নম্বর মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলাতেও তিনি জামিন পেয়েছেন।পরবর্তী সময়ে ৩৬৫/২৪ নম্বর মামলায় তাঁকে আবার গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত ১৫ অক্টোবর গোয়ালন্দ ঘাট থানার আরও একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সর্বশেষ আজ বুধবার রাজবাড়ী সদর থানার জিআর ৩২৮/২৪ নম্বর মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত।আইনজীবী আরও জানান, কাজী কেরামত আলীর বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে চারটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। দুটি মামলায় তিনি জামিন পেয়েছেন।২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল গ্রেপ্তারের পর থেকে কাজী কেরামত আলী কারাগারে রয়েছেন বলে জানান তাঁর আইনজীবী।
শামীম শেখ ও মঈন মৃধা, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে মাদক নিয়ে ফেসবুকে মন্তব্য করাকে কেন্দ্র করে এক নারীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় করা মামলার এক আসামিকে নিজের ছেলে হওয়া সত্ত্বেও পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন তাঁর বাবা।সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে গোয়ালন্দ পৌরসভার কুমড়াকান্দি গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ফরিদা বেগম (৪৩) পরদিন গতকাল মঙ্গলবার গোয়ালন্দ ঘাট থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৪ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। ফরিদা বেগম ওই গ্রামের সিদ্দিক মোল্লার স্ত্রী।মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন কুমড়াকান্দি গ্রামের বিপ্লব শেখের ছেলে রাকিব (২৩), কলেজ পাড়ার জামাল মুন্সির ছেলে বাঁধন মুন্সি (২০), কুমড়াকান্দি গ্রামের সিদ্দিক শেখের ছেলে ইমন (২৫) ও বাবলু শেখের ছেলে সাগর (২৫)।মামলার দ্বিতীয় আসামি বাঁধনকে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থানায় নিয়ে সোপর্দ করেন তাঁর বাবা জামাল মুন্সি। বুধবার সকালে পুলিশ তাঁকে আদালতে পাঠিয়েছে।ছেলেকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার আগে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিও বক্তব্য দেন জামাল মুন্সি। সেখানে তিনি বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ছেলেকে পুলিশের কাছে তুলে দিয়েছেন। একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় নিন্দা জানান।ছেলের সম্পৃক্ততার কথা শুনে তিনি নিজেই ভুক্তভোগী পরিবারের বাড়িতে যান এবং মামলা করতে তাঁদের সহায়তা করেন। ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।জামাল মুন্সি গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। আগামী গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।জামাল মুন্সি বলেন, ‘আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। তবে ঘটনার আগে স্থানীয় রাকিব নামের এক তরুণ আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে যায়। রাকিব ওই এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। ঘটনার পরও সে এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করছে না।’ মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশ, প্রশাসন, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি।মামলার বাদী ফরিদা বেগমের অভিযোগ, সোমবার সন্ধ্যার পর হামলাকারীরা লোহার রড ও স্টিলের পাইপ নিয়ে তাঁদের বাড়িতে ঢুকে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এতে তাঁর মেয়ে স্মৃতির (২৪) একটি হাত ভেঙে যায়। এ ছাড়া তাঁর ছেলের স্ত্রী সিনথিয়া (১৮), মেয়ের জামাতা নাজমুল (২৩) ও তিনি নিজেও আহত হন।ফরিদা বেগমের দাবি, হামলাকারীরা ঘরের আলমারিতে রাখা নগদ ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি সোনার চেইন নিয়ে যায়। তাঁদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা মাদক নিয়ে আর কোনো কথা বললে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়।ফরিদা বেগম আরও বলেন, রাকিব ও বাঁধন কুমড়াকান্দি এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী। তাঁদের সঙ্গে মিশে তাঁর ছেলে স্বাধীনও (২৩) মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে দুই মাস আগে তাঁরা স্বাধীনকে উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করেন। আদালত তাঁকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। এসব বিষয় নিয়ে ফেসবুকে কথা বলায় রাকিব, বাঁধন সহ তাঁদের সহযোগীরা পরিবারের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে তাঁর অভিযোগ।গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, মামলার দ্বিতীয় আসামি বাঁধনকে তাঁর বাবা মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থানায় সোপর্দ করেছেন। বুধবার সকালে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত আব্দুর রহিম মোল্লা (৩০) নামের এক কাতার প্রবাসী হত্যার ঘটনায় আদালত অভিযুক্ত যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। অপর আসামীদের খালাস প্রদান করেছেন। মঙ্গলবার বেলা পৌনে বারোটার দিকে রাজবাড়ীর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান এ রায় প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম মো. সাদ্দাম মিয়া। তিনি পাংশা পৌরসভার নারায়নপুর গ্রামের মৃত শহিদ মিয়ার ছেলে। এছাড়া মামলার অপর আসামী পাংশা পৌরসভার নারায়নপুর গ্রামের জলিল মণ্ডলের ছেলে পলাশ মণ্ডল ও রাসেল মণ্ডল এবং পাংশা কুড়াপাড়া গ্রামের নুরু মুন্সীর ছেলে শরীফ মুন্সীকে ঘটনার সাথে সন্দেহাতীতভাবে জড়িত থাকার কোনো প্রমান না হওয়ায় আদালত তাদেরকে আনীত অভিযোগের দায় হতে অব্যাহতি প্রদান পূর্বক খালাস প্রদান করেন। এ সময় আসামীরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। নিহত আব্দুর রহিম মোল্লা জেলার পাংশা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল মান্নান মোল্লার ছেলে। ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুর রহিম মোল্লা মারা যান। তার আগে ৫ নভেম্বর বিকেলে পাংশা সরকারি কলেজ এলাকার চাচার ক্যান্টিনের সামনে তাঁকে ডেকে নিয়ে যায়। এ সময় পাওনা টাকা নিয়ে তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে আব্দুর রহিমকে সাদ্দাম মিয়া ছুরিকাঘাত করেন। এ ঘটনায় ৮ নভেম্বর রাতে নিহত রহিম মোল্লার স্ত্রী ময়না বেগম বাদী হয়ে সাদ্দাম মিয়াকে (২৭) প্রধান আসামি করে পাংশা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। সাদ্দাম মিয়া পাংশা পৌরসভার নারায়নপুর গ্রামের মৃত শহিদ মিয়ার ছেলে।আদালত সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রহিম মোল্লা এ ঘটনার ছয় মাস আগে কুয়েত থেকে দেশে ফিরেন। দুর্ঘটনার প্রায় দুই মাস আগে রহিম মোল্লার ছোট ভাই রহমান মোল্লাকে চাকুরি দেওয়ার কথা বলে অভিযুক্ত সাদ্দাম মিয়া ১০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। টাকা গ্রহণের দুই মাস পরও চাকুরি না হওয়ায় ওই টাকা ফেরত চান। টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়। ২০১৬ সালের ৫ নভেম্বর বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে রহিম মোল্লাকে পাংশা সরকারি কলেজ সংলগ্ন চাচার ক্যান্টিনের কাছে ডেকে নেন সাদ্দাম মিয়া। ঘটনাস্থলে পৌছলে পাওনা টাকা নিয়ে সাদ্দাম মিয়া ও রহিম মোল্লার কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সাদ্দামের হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে রহিমের পেটে ও উরুতে আঘাত করেন। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে সাদ্দাম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় রহিমকে উদ্ধার করে প্রথমে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ নভেম্বর বিকেল পাঁচটার দিকে রহিম মোল্লা মারা যান। পরে রহিম মোল্লার স্ত্রী বাদী হয়ে সাদ্দামকে প্রধান আসামী করে পাংশা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌশুলী (পিপি) আব্দুর রাজ্জাক-২ বলেন, দীর্ঘ শুনানি ও তদন্ত শেষে আজ মঙ্গলবার বেলা পৌনে বারোটার দিকে বিজ্ঞ আদালত কাতার প্রবাসী আব্দুর রহিম মোল্লার হত্যায় অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় সাদ্দাম মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনদায়ে অতিরিক্ত এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। একই সঙ্গে মামলার অপর তিন আসামীর সম্পৃক্ততা সন্দেহাতীতভাবে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় তাঁদেরকে আদালত খালাস প্রদান করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে মামলার এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি।
বিনোদন
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ আবহমান বাংলার ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে রাজবাড়ীর কালুখালীতে শেষ হলো তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলা। কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের মহেন্দ্রপুর খেয়াঘাট সংলগ্ন পদ্মার শাখা নদীতে বুধবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। পাবনার আমিনপুর উপজেলার চর গোবিন্দপুর থেকে আসা নৌকাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় পাবনার সৈয়দপুরের নিউ শাপলা নৌকা। এছাড়া প্রতিযোগিতায় চর গোবিন্দপুরের নৌকা দ্বিতীয় এবং খয়রান একতা চ্যালেঞ্জার নামক নৌকা তৃতীয় স্থান অর্জন করে। প্রতিযোগিতায় মোট ৮টি নৌকা অংশ গ্রহণ করে। বিজয়ী নৌকাকে মোটরসাইকেল এবং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী নৌকাগুলোর মধ্যে রিফ্রেজারেটর প্রদান করা হয়।পদ্মার পাড়ে তিন দিনব্যাপী নৌকা বাইচ এবং গ্রামীণ মেলায় দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় পড়ে। মুখরোচক খাবার সহ নানা ধরনের পণ্যের পসরা বসে পদ্মার পাড়ে। মেলা ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ আর উদ্দীপনা দেখা দেয়। কালুখালীসহ আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে মহেন্দ্রপুর পদ্মার পাড়ে জড়ো হন।মহেন্দ্রপুর খেয়াঘাট মেলা কমিটির আয়োজনে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান তোতার সঞ্চালনায় নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় উপস্থিত ছিলেন, পাংশা উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ আলী খান, পাংশা পৌর বিএনপির সভাপতি বাহারাম হোসেন সরদার, কালুখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি লুৎফর রহমান খান, রাজবাড়ী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব তুহিনুর রহমান, কালুখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রকিবুল হাসান প্রমূখ। এছাড়াও অনুষ্ঠান উপভোগ করতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিন দিনব্যাপী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলার উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কালুখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোটেক রকিবুল হাসান, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহŸায়ক কে এম আইনুল হাবীব, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মনজুর হোসেন মঞ্জু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব তুহিনুর রহমান, কালুখালী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জামাল খান প্রমূখ। উদ্বোধনী দিনে চারটি নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে। প্রথম প্রতিযোগিতায় উলাট একতা এক্সপ্রেসকে হারিয়ে বিজয়ী হয় ‘নিউ শাপলা’ নামক নৌকা। দ্বিতীয় বাইচে ‘চর গোবিন্দপুরের নৌকা’কে হারিয়ে বিজয়ী হয় ‘নিউ জনতার সংগ্রাম’, তৃতীয় বাইচে হয় ‘দুলদুল এক্সপ্রেস’কে হারিয়ে বিজয়ী হয় ‘খয়রানা একতা চ্যালেঞ্জার’ এবং শেষ বাইচে ‘কুষ্টিয়ার লালন’কে হারিয়ে বিজয়ী হয় পাবনার সুজানগরের ‘শিমুল একতা এক্সপ্রেস’। আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব তুহিনুর রগমান বলেন, নৌকাবাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি আবহমান গ্রামবাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হারিয়ে যেতে বসা এ ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এমন আয়োজন করা হয়েছে।
সুমন বিশ্বাস, রাজবাড়ীঃ একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিমের ৭৬ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজবাড়ীতে নানা আয়োজনে স্মরণ করা হয়েছে এই গুণী শিল্পীকে। শনিবার রাজবাড়ী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মনসুর উল করিম স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং কেক কাটার মধ্য দিয়ে জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, "মনসুর উল করিম শুধু রাজবাড়ীর নন, তিনি বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। রাজবাড়ীর মাটিতে তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। তাঁর সৃষ্টিকর্ম আজও শিল্পপ্রেমীদের অনুপ্রাণিত করে। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর শিল্পকর্ম ও জীবনাদর্শ তুলে ধরতে আমাদের আরও উদ্যোগী হতে হবে।"প্রতিমন্ত্রী বলেন, "রাজবাড়ীর সাংস্কৃতিক বিকাশে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জেলার শিল্প-সংস্কৃতির প্রসারে একটি আধুনিক কালচারাল কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই এর নির্মাণকাজ শুরু হবে। এছাড়া রাজবাড়ীর অ্যাক্রোবেটিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে আরও আধুনিক ও কার্যকরভাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি ভবিষ্যতে জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।" মনসুর উল করিম স্মৃতি পরিষদের আহ্বায়ক কবি খোকন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল, চিত্রশিল্পী মনসুর করিম স্মৃতি সংসদের সদস্য সচিব আজিজা খানম, উপদেষ্টা চৌধুরী আহসানুল করিম হিটু, নূরুল হক আলম, জেলা কালচারাল অফিসার সুজিত কুমার সাহা, মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি সংসদের আহ্বায়ক কবি সালাম তাসির, রাজবাড়ী বাংলা একাডেমির সভাপতি সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমানসহ চিত্রশিল্পী মনসুর করিম স্মৃতি সংসদের অন্যান্য সদস্য, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।আলোচনা সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিম তাঁর সৃষ্টিশীলতা, নান্দনিক চিন্তা ও শিল্পকর্মের মাধ্যমে দেশের শিল্পাঙ্গনে অনন্য অবদান রেখে গেছেন। তাঁর স্মৃতি ও কর্ম নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।পরে অতিথিরা কেক কেটে মনসুর উল করিমের ৭৬ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করেন। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।উল্লেখ্য, চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিম ১৯৫০ সালের ১৪ জুলাই রাজবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ শিল্পজীবনে তিনি দেশ-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করেন এবং শিল্পকলায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে একুশে পদকে ভূষিত হন। ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর শিল্পকর্ম আজও বাংলাদেশের চারুকলার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
আব্দুল হালিম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে গান, নৃত্য ও ফলাহারের মধ্য দিয়ে উদীচীতে বর্ষা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী রাজবাড়ী জেলা কমিটির উদ্যোগে শহরের আজাদী ময়দান সংলগ্ন সংগঠনের মিলনায়তনে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়।আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা উদীচীর সহসভাপতি আজিজুল হাসান খোকা। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা উদীচীর সংগীত বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল জব্বার। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উদীচী কেন্দ্রীয় কমিটির সংগীত বিষয়ক সম্পাদক সুরাইয়া পারভীন, সদস্য শিখা কর্মকার। এতে স্মৃতিচারণ মূলক বক্তব্য দেন জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কমরেড আব্দুস সামাদ মিয়া, রাজবাড়ী নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফকীর শাহাদত হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা চিত্রশিল্পী মো. গোলাম আলী, রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক এম দেলোয়ার হোসেন, রাজবাড়ী বৈচিত্র্য সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি আজাদ সিদ্দিকী মিলন, জেলা উদীচীর সাংগঠনিক সম্পাদক ধীরেন্দ্র নাথ দাস প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক এজাজ আহম্মেদ। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ছয়টি ঋতুর মধ্যে বর্ষা ঋতু হলো মধুর ঋতু। এই ঋতু শুরু হলে প্রকৃতি হাঁসে। প্রকৃতি জীবন্ত হয়ে ওঠে। চারপাশ সবুজে ভরে যায়। প্রবীণ তার কৈশোরে ফিরে যায়। তবে মানুষ আজ প্রকৃতি ধ্বংস করে ফেলছে। নিয়মিত বনায়ন ধ্বংস করা হচ্ছে। একারণে বর্ষার প্রকৃত রূপ এখন আর দেখা যায় না। বর্ষাকে বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের বেশি বেশি গাছ রোপণ করতে হবে। প্রকৃতি সুন্দর হলে এই পৃথিবী আরও সুন্দর হবে।অনুষ্ঠানে উদীচী ও রাবেয়া কাদের স্মৃতি পাঠাগারের শিল্পীরা সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা করেন
মঈনুল হক, গোয়ালন্দ রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে ঘোষিত নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭ এর শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানের শুরুতে ভার্চ্যুয়ালি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ টেলিকাস্ট) উপভোগ করেন উপস্থিত অতিথি ও দর্শকরা। পরে স্থানীয়ভাবে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাসের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি (তদন্ত) মো. রাশিদুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার দাস, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু মোল্লা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবলু, নাজিরুল ইসলাম তিতাস, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মোল্লা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আবু সাঈদ মণ্ডল সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।উপজেলা প্রশাসন জানায়, তিন দিনব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে প্রথম দিনে আলোচনা সভা, উদ্ভোধনী সংগীত (চল চল), সমবেত সংগীত, সমবেত নৃত্য, আবৃত্তি, একক সংগীত ও নৃত্য, দ্বিতীয় দিনে নজরুলের উপর রচনা, আবৃত্তি, নজরুল সংগীত ও নৃত্য প্রতিযোগিতা, তৃতীয় দিনে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে লালন, দেশত্ববোধক, ভাটিয়ালি সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনা সভায় বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর জীবন, সাহিত্যকর্ম, দেশপ্রেম, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, বিদ্রোহ, সাম্য ও মানবতার কবি নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত আজও বাঙালির স্বাধীনতার চেতনা, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মূল্যবোধের অন্যতম প্রেরণার উৎস। নতুন প্রজন্মের মাঝে নজরুলের আদর্শ, সাহিত্য ও সংগীত ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা মন্তব্য করেন।আলোচনা সভা শেষে নজরুল সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, দর্শন ও সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।
ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে দেশব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’-এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি দেশের ৬৪ জেলা এবং নির্বাচিত ৭৪টি উপজেলায় একযোগে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’-এর স্মারক ও ডাক টিকিট অবমুক্ত, লোগো উন্মোচন ও নজরুল বর্ষের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে রাজবাড়ীতেও শুরু হলো ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭-এর কর্মসূচি। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে বছরব্যাপী নানা সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক আয়োজনের মাধ্যমে এ বর্ষ উদযাপন করা হবে।সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি বক্তব্য রাখেন।বিশেষ অতিথি হিসেবে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি; তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডাঃ জাহেদ উর রহমান ও মন্ত্রী পরিষদের সচিব ডঃ নাসিমুল গনি বক্তব্য।এদিকে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মিয়া, সিভিল সার্জন ডাঃ এস এম মাসুদ, স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক কল্যাণ চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ তারিফ-উল-হাসান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ্যাডঃ লিয়াকত আলী বাবু, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবীব, রাজবাড়ী সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজে অধ্যক্ষ প্রফেসর রেজভি জামান, রাজবাড়ী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর মোস্তফা কামাল সহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিসহ সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বছরব্যাপী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।উল্লেখ্য, গত ২৫ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে এ বছরের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত এক বছর নজরুল বর্ষ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।
সোহাগ মিয়া, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের হামিদ মৃধার হাট এলাকায় ব্যতিক্রমী ঘটনার জন্ম দিয়েছেন আলাল মোল্লা নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে সে এলাকায় আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের ঘোর সমর্থক হিসেবে পরিচিত থাকলেও এবার তিনি প্রকাশ্যে দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরান ফুটবল দলের সমর্থক হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এমন ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাত ৯টার দিকে হামিদ মৃধার হাট বাজারে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে আলাল মোল্লা তাঁর কর্মী সমর্থকদের জড়ো হন। এ সময় তিনি দুধ দিয়ে গোসল করে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নতুন ইসলামী রাষ্ট্র ইরানের পক্ষে অবস্থানের কথা ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণার পর মুহূর্তেই তাঁর কর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তোলে। একই সাথে বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। বাজারে উপস্থিত অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেন, আবার কেউ কেউ বিষয়টিকে ব্যক্তিগত পছন্দ ও মতামতের স্বাধীনতা হিসেবেও দেখেন।আলাল মোল্লা বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক ছিলাম। তবে ব্যক্তিগত চিন্তা-ভাবনা ও ধর্মীয় অনুভূতি থেকে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আজ থেকে আমি ইরান দলকে সমর্থন করব। আমি আর কখনো আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেব না। এজন্য দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরান ফুটবল দলের সমর্থক হয়েছি।তার এই ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয় যুবকদের মধ্যে কেউ বিষয়টিকে মজার ঘটনা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে একজন সমর্থকের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন।স্থানীয় হামিদ মৃধা হাট এরাকার আক্কাস সরদার, আব্বাস মোল্লা, জামাল হোসেন, হারুন ব্যাপারী সহ অনেকে জানান, সাধারণত ফুটবল দল পরিবর্তনের ঘটনা নতুন নয়। তবে প্রকাশ্যে দুধ দিয়ে গোসল করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে এক দলের সমর্থন ছেড়ে অন্য দলের প্রতি সমর্থন জানানোর ঘটনা এলাকায় খুব একটা দেখা যায় না। ফলে আলাল মোল্লার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।এ বিষয়ে স্থানীয় নুরুল ইসলাম, আহম্মদ আলী শেখ সহ অনেকের ভাষ্য, খেলাধুলা মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। যে কেউ নিজের পছন্দ অনুযায়ী যে কোনো দলকে সমর্থন করতে পারেন। আলাল মোল্লার এই ঘোষণাও তার ব্যক্তিগত মতামত ও পছন্দেরই বহিঃপ্রকাশ।ব্যতিক্রমী এই দলবদলের ঘটনা এখন গোয়ালন্দের হামিদ মৃধার হাট সহ আশপাশের এলাকায় আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলীকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগে করা আরও একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে করা পাঁচটি মামলার চারটিতে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো।বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজবাড়ী সদর আমলি আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হায়দার আলী এ আদেশ দেন।২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজবাড়ী শহরে উৎস সরকার নামের এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও পিটিয়ে আহত করার অভিযোগে করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজবাড়ী সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাব্বির হোসেন তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কাজী কেরামত আলীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আজ বুধবার রাজবাড়ী জেলা কারাগার থেকে তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক আবেদন মঞ্জুর করেন।মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী উৎস সরকার বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় ৪০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলাটি করেন।কাজী কেরামত আলীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলাম আশা জানান, ৩৩২/২৪ নম্বর মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন কাজী কেরামত আলী। পরে তিনি উচ্চ আদালত থেকে ওই মামলায় জামিন পান। এরপর ৩৩৪/২৪ নম্বর মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলাতেও তিনি জামিন পেয়েছেন।পরবর্তী সময়ে ৩৬৫/২৪ নম্বর মামলায় তাঁকে আবার গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত ১৫ অক্টোবর গোয়ালন্দ ঘাট থানার আরও একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সর্বশেষ আজ বুধবার রাজবাড়ী সদর থানার জিআর ৩২৮/২৪ নম্বর মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত।আইনজীবী আরও জানান, কাজী কেরামত আলীর বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে চারটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। দুটি মামলায় তিনি জামিন পেয়েছেন।২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল গ্রেপ্তারের পর থেকে কাজী কেরামত আলী কারাগারে রয়েছেন বলে জানান তাঁর আইনজীবী।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত আব্দুর রহিম মোল্লা (৩০) নামের এক কাতার প্রবাসী হত্যার ঘটনায় আদালত অভিযুক্ত যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। অপর আসামীদের খালাস প্রদান করেছেন। মঙ্গলবার বেলা পৌনে বারোটার দিকে রাজবাড়ীর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান এ রায় প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম মো. সাদ্দাম মিয়া। তিনি পাংশা পৌরসভার নারায়নপুর গ্রামের মৃত শহিদ মিয়ার ছেলে। এছাড়া মামলার অপর আসামী পাংশা পৌরসভার নারায়নপুর গ্রামের জলিল মণ্ডলের ছেলে পলাশ মণ্ডল ও রাসেল মণ্ডল এবং পাংশা কুড়াপাড়া গ্রামের নুরু মুন্সীর ছেলে শরীফ মুন্সীকে ঘটনার সাথে সন্দেহাতীতভাবে জড়িত থাকার কোনো প্রমান না হওয়ায় আদালত তাদেরকে আনীত অভিযোগের দায় হতে অব্যাহতি প্রদান পূর্বক খালাস প্রদান করেন। এ সময় আসামীরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। নিহত আব্দুর রহিম মোল্লা জেলার পাংশা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল মান্নান মোল্লার ছেলে। ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুর রহিম মোল্লা মারা যান। তার আগে ৫ নভেম্বর বিকেলে পাংশা সরকারি কলেজ এলাকার চাচার ক্যান্টিনের সামনে তাঁকে ডেকে নিয়ে যায়। এ সময় পাওনা টাকা নিয়ে তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে আব্দুর রহিমকে সাদ্দাম মিয়া ছুরিকাঘাত করেন। এ ঘটনায় ৮ নভেম্বর রাতে নিহত রহিম মোল্লার স্ত্রী ময়না বেগম বাদী হয়ে সাদ্দাম মিয়াকে (২৭) প্রধান আসামি করে পাংশা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। সাদ্দাম মিয়া পাংশা পৌরসভার নারায়নপুর গ্রামের মৃত শহিদ মিয়ার ছেলে।আদালত সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রহিম মোল্লা এ ঘটনার ছয় মাস আগে কুয়েত থেকে দেশে ফিরেন। দুর্ঘটনার প্রায় দুই মাস আগে রহিম মোল্লার ছোট ভাই রহমান মোল্লাকে চাকুরি দেওয়ার কথা বলে অভিযুক্ত সাদ্দাম মিয়া ১০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। টাকা গ্রহণের দুই মাস পরও চাকুরি না হওয়ায় ওই টাকা ফেরত চান। টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়। ২০১৬ সালের ৫ নভেম্বর বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে রহিম মোল্লাকে পাংশা সরকারি কলেজ সংলগ্ন চাচার ক্যান্টিনের কাছে ডেকে নেন সাদ্দাম মিয়া। ঘটনাস্থলে পৌছলে পাওনা টাকা নিয়ে সাদ্দাম মিয়া ও রহিম মোল্লার কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সাদ্দামের হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে রহিমের পেটে ও উরুতে আঘাত করেন। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে সাদ্দাম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় রহিমকে উদ্ধার করে প্রথমে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ নভেম্বর বিকেল পাঁচটার দিকে রহিম মোল্লা মারা যান। পরে রহিম মোল্লার স্ত্রী বাদী হয়ে সাদ্দামকে প্রধান আসামী করে পাংশা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌশুলী (পিপি) আব্দুর রাজ্জাক-২ বলেন, দীর্ঘ শুনানি ও তদন্ত শেষে আজ মঙ্গলবার বেলা পৌনে বারোটার দিকে বিজ্ঞ আদালত কাতার প্রবাসী আব্দুর রহিম মোল্লার হত্যায় অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় সাদ্দাম মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনদায়ে অতিরিক্ত এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। একই সঙ্গে মামলার অপর তিন আসামীর সম্পৃক্ততা সন্দেহাতীতভাবে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় তাঁদেরকে আদালত খালাস প্রদান করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে মামলার এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি।
সুমন বিশ্বাস, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর প্রথম নারী আইনজীবী ও নারী নেত্রী দেবাহুতি চক্রবর্তীকে শনিবার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শেষবিদায় জানিয়েছেন স্বজন, সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।এর আগে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল তিনটার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দেবাহুতি চক্রবর্তী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন।দেবাহুতি চক্রবর্তীর বাবা কুমারেশ চক্রবর্তী। রাজবাড়ী শহরের ঐতিহ্যবাহী আনন্দ কুটিরে তাঁর জন্ম।শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে তাঁর মরদেহ রাজবাড়ী শহরের আনন্দ কুটিরে নেওয়া হয়। সকাল ১০টার দিকে সেখান থেকে মরদেহ নেওয়া হয় রাজবাড়ী জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনে। সেখানে তাঁর সহকর্মী আইনজীবীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে মরদেহ নেওয়া হয় শহরের রেলওয়ে মাঠের শহীদ মিনারে। সেখানে জেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।শ্রদ্ধা নিবেদনকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে ছিল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির রাজবাড়ী জেলা শাখা, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, রাজবাড়ী জেলা ছাত্রদল, জেলা জাসাস, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, রাজবাড়ী সাহিত্য পরিষদ, ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদ, মহিলা পরিষদ, মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি সংসদ, গহন থিয়েটার, রাজবাড়ী আবৃত্তি পরিষদ ও রাজবাড়ী একাডেমিসহ বিভিন্ন সংগঠন।শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দুপুর দুইটার দিকে তাঁর মরদেহ ফরিদপুর ডায়াবেটিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মৃত্যুর আগে তিনি নিজের মরদেহ চিকিৎসা ও গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য দান করে গিয়েছিলেন।এ সময় ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, লেখক ও গবেষক মফিজ ইমাম মিলন বলেন, দেবাহুতি চক্রবর্তী ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি লেখক, শিশু সংগঠক ও নারী নেত্রী ছিলেন। একই সঙ্গে ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ। দেশের এই ক্রান্তিকালে তাঁকে হারানো সাহিত্য ও সংস্কৃতির জন্য অনেক বড় ক্ষতি।ফরিদপুর জেলা বারের সাবেক সম্পাদক ও গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মানিক মজুমদার বলেন, দেবাহুতি চক্রবর্তী ছিলেন অনেক বড় মাপের মানুষ। তিনি ছিলেন বহু গুণের অধিকারী।
মঈনুল হক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় একটি মাদ্রাসায় খাবার না পেয়ে কাঠের গুঁড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আহত নারী সহকারী সোনাবান বিবি (৬৫) মারা গেছেন। এর আগে একই হামলায় মাদ্রাসার বাবুর্চি ফজের আলী সরদার (৭০) নিহত হন। এ নিয়ে এ ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হলো।শনিবার (৩১ অক্টোবর) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোনাবান বিবির মৃত্যু হয়। শুক্রবার দুপুরে হামলার শিকার হওয়ার পর তাঁকে প্রথমে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাতে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেন। এর আগে শুক্রবার বেলা সোয়া দুইটার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া আঞ্জুমান-ই-কাদেরিয়া মাদ্রাসাতু সাবি-ইল-হাসান দাখিল মাদ্রাসায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই বাবুর্চি ফজের আলী সরদারের মৃত্যু হয়।নিহত ফজের আলী রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের মল্লিকপাড়া গ্রামের মৃত আহমদ আলী সরদারের ছেলে। সোনাবান বিবি গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বাহিরচর দৌলতদিয়া এলাকার সিদ্দিক কাজীপাড়ার মৃত সাইমুদ্দিন শেখের স্ত্রী।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে রান্না শেষে মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থীদের খাবার পরিবেশন করছিলেন ফজের আলী ও তাঁর সহকারী সোনাবান বিবি। এ সময় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি সেখানে এসে খাবার চান। খাবার না পেয়ে তিনি রান্নার কাজে ব্যবহৃত কাঠের গুঁড়ি দিয়ে ফজের আলীর মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।ফজের আলীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে ওই ব্যক্তি সোনাবান বিবিকেও মারধর করেন। তাঁদের চিৎকারে মসজিদের মুসল্লি ও আশপাশের লোকজন ছুটে এসে হামলাকারীকে আটক করেন। পরে দুজনকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কৌশিক হাসান ফজের আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সোনাবান বিবিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফজের আলীর মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়।গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম জানান, ফজের আলীর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আটক ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৪২ বছর। প্রথমে তাঁর পরিচয় জানা না গেলেও পরে রাতেই জানা যায়, তাঁর নাম মো. সেন্টু। তিনি নাটোর সদর উপজেলার একডালা দক্ষিণপাড়া এলাকার মো. আবুল হোসেনের ছেলে।ওসি আরও জানান, সেন্টুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা জানান, প্রায় ১০ বছর আগে তিনি বাড়ি ছেড়ে চলে যান। তাঁর মানসিক সমস্যা রয়েছে বলেও পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মাদ্রাসায় খাবার না পেয়ে তিনি বাবুর্চি ও তাঁর সহকারীর ওপর হামলা করেন।ওসি বলেন, সেন্টু গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসক তাঁকে ছাড়পত্র দিলে আদালতে পাঠানো হবে। এছাড়া এ ঘটনায় মাদ্রাসার সুপার বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় আটককৃত সেন্টু হোসেনকে আসামী করে আদালতে পাঠানো হচ্ছে। এদিকে দুইজনের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মঈন মৃধা, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে একটি মাদ্রাসার ছাত্রদের খাবার পরিবেশনের সময় এক ব্যক্তির হামলায় ফজের আলী সরদার (৭০) নামের এক বাবুর্চি নিহত হয়েছেন। এ সময় তাঁর নারী সহকারী সোনা বান বিবি (৬৫) গুরুতর আহত হয়েছেন। খাবার চেয়ে না পেয়ে ওই ব্যক্তি রান্নার কাজে ব্যবহৃত কাঠের গুঁড়ি (চলা) দিয়ে তাঁদের মাথা ও শরীরে আঘাত করেন বলে স্থানীয় ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। শুক্রবার বেলা সোয়া দুইটার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া আঞ্জুমান-ই-কাদেরিয়া মাদ্রাসাতু সাবি-ইল-হাসান দাখিল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন।নিহত ফজের আলী সরদার রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের মল্লিকপাড়া গ্রামের মৃত আহমদ আলী সরদারের ছেলে। আহত সোনা বান বিবি গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বাহির চর দৌলতদিয়া সিদ্দিক কাজীপাড়ার মৃত সাইমুদ্দিন শেখের স্ত্রী। তাঁকে প্রথমে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে রান্না শেষে মাদ্রাসার ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের খাবার পরিবেশন করছিলেন ফজের আলী ও তাঁর সহকারী সোনা বান বিবি। এ সময় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি সেখানে গিয়ে খাবার চান। খাবার চেয়ে না পেয়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে পাশেই থাকা রান্নার কাঠের গুঁড়ি নিয়ে ফজের আলীর মাথা ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে সোনা বান বিবিকেও মারধর করেন ওই ব্যক্তি।তাঁদের চিৎকার শুনে মসজিদের মুসল্লি ও আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে তাঁরা ওই ব্যক্তিকে আটক করেন। আহত দুজনকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কৌশিক হাসান ফজের আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সোনা বান বিবিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক ব্যক্তিকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে অটককৃত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ। আটককৃত ব্যক্তির নাম মো. সেন্টু হোসেন (৪০)। তিনি নাটোর সদর উপজেলার তেবাড়িয়া ইউনিয়নের ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন একডালা গ্রামের মৃত আবুল হোসেন এর ছেলে। প্রায় ১৫ বছর আগে ভবঘুরে জীবনে অভ্যস্ত হয়ে বাড়ি ত্যাগ করেন।মাদ্রাসার পরিচালনাসংশ্লিষ্ট সংগঠন আঞ্জুমান কাদেরিয়ার সভাপতি মোক্তার হোসেন বলেন, ‘জুমার নামাজ শেষে আমরা কয়েকজন মুসল্লি মসজিদের বারান্দায় বসে কথা বলছিলাম। এ সময় রান্নাঘর থেকে চিৎকার শুনে দ্রুত গিয়ে দেখি, বাবুর্চি ও তাঁর সহকারী রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছেন। স্থানীয় লোকজন ওই ব্যক্তিকে আটক করার চেষ্টা করছিলেন। পরে আমরা পুলিশকে খবর দিই এবং আহত দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।’মোক্তার হোসেন আরও বলেন, ছাত্রাবাস চালুর পর প্রায় আট বছর ধরে ফজের আলী মাদ্রাসাটিতে বাবুর্চির কাজ করছিলেন। তাঁর সহকারী হিসেবে কয়েক বছর ধরে কাজ করছেন সোনা বান বিবি। হামলাকারীকে স্থানীয় লোকজন মানসিক ভারসাম্যহীন বলে জানেন। এ ঘটনার পর মাদ্রাসায় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আটক ব্যক্তি খাবার চেয়ে না পেয়ে বাবুর্চি ও তার সহকারীর ওপর হামলা করে এবং সে একজন মানসিক প্রতিবন্ধী বলে জানা গেছে। তাঁকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুলিশের তত্ত্বাবধানে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা শাখার সম্পাদক ও জেলা কমিটির সদস্য কমরেড সুকুমার মন্ডল (৬০) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে ফরিদপুর ডায়াবেটিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। ওইদিন বিকেলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পারিবারিক শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সমাহিত করা হয়।সুকুমার মন্ডল গোয়ালন্দ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নগর রায়েরপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন মেয়ে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।সুকুমার মন্ডলের মরদেহে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য কমরেড জ্যোতি শংকর ঝন্টু, রাজবাড়ী জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক অরুণ কুমারসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।এ ছাড়া বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্টসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা তাঁর মরদেহে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।সুকুমার মন্ডলের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ আহমেদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।