রাজবাড়ী মেইল

শিক্ষাঙ্গন

মাদরাসায় যাওয়ার পথে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্তকে মারপিট দিয়ে পুলিশে

শামীম হোসেন, পাংশা, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর পাংশায় ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে মাদরাসায় যাওয়ার পথে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে জিল্লু মণ্ডল (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চরঝিকরি মকবুল হোসেন দাখিল মাদরাসা ময়দানে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত জিল্লু মণ্ডল উপজেলার যশাই ইউনিয়নের চরলক্ষ্মীপুর গ্রামের জোনায়েত মÐলের ছেলে। তাঁকে মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ আদালতে পাঠিয়েছে।  জানা যায়, সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চরঝিকরি গ্রামের বাড়ি থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী মাদরাসায় যাচ্ছিল। পথিমধ্যে গ্রামের জনৈক লোকমান হোসেনের বাড়ির কাছে কাঁচা রাস্তায় পৌঁছলে জিল্লু মণ্ডল তাঁর পথরোধ করে মুখ চেপে ধরে রাস্তার পাশে আখ ক্ষেতের ভিতর নিয়ে যায়। এ সময় আত্মরক্ষার্থে কিশোরী অভিযুক্ত জিল্লু মণ্ডলের হাতে কামড় বসিয়ে চিৎকার করলে স্থানীয় আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে অভিযুক্ত ব্যক্তি বেগতিক দেখে দ্রæত পালিয়ে যায়। পরে ওই কিশোরী বাড়ি ফিরে এসে বিষয়টি পরিবারকে জানায়।ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় একটি মহল বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগে নেয়। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে চরঝিকরি মকবুল হোসেন দাখিল মাদরাসায় একত্রিত হন স্থানীয় অনেকে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্ত জিল্লু মণ্ডল সেখানে উপস্থিত হলে স্থানীয় কিছু উত্তেজিত লোকজন তাকে ধরে মারধর শুরু করে। মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় অনেকে বিক্ষোভ করতে থাকে। অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় কিছু লোক অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মাদরাসার একটি কক্ষে আটকে রেখে থানা পুলিশকে খবর দেয়। পরে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পাংশা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী লোকমান হোসেন নামের স্থানীয় একজন বলেন, শিশুটির চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় কয়েকজন অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িতে গেলে প্রথমে সে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে ঘটনার বিষয়ে স্বীকার করে। ভুক্তভোগী মাদরাসা শিক্ষার্থী জানায়, ‘আমি পরিক্ষার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলাম। এ সময় পথিমধ্যে ওই ব্যক্তি আমাকে টাকার লোভ দেখিয়ে পিছন থেকে মুখ চেপে ধরে খারাপ কাজের জন্য আখক্ষেতে নেওয়ার চেষ্টা করে। উপায় না পেয়ে আমি তার হাতে কামড় দিয়ে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেই এবং চিৎকার করি। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসায় সে পালিয়ে যায়।’    চরঝিকরি মকবুল হোসেন দাখিল মাদসার সুপার কাজী মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, মেয়েটির বাড়ি মাদরাসা থেকে অনেক দূরে। মাঠের মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। মেয়েটি জানতো না সোমবার পরিক্ষা ছিল না। সে পরিক্ষার জন্য মাদরাসায় আসছিল। এ ঘটনায় স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে আজ মাদরাসায় বসার উদ্যোগ নেয়। এ সময় অনেকে উপস্থিত হলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে অভিযুক্তকে ধরে নিয়ে যায়।  এ ঘটনায় মাদরাসা ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে থানায় ধর্ষণচেষ্টা মামলা করেছে জানিয়ে পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে। পরে দুুপুরেই তাঁকে রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মাদরাসায় যাওয়ার পথে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্তকে মারপিট দিয়ে পুলিশে