সুমন বিশ্বাস, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে কলেজছাত্র চৌধুরী ফুয়াদ হাসান রোহানকে (১৯) শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন এসব তথ্য জানান। এদিকে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছেন বিক্ষুব্ধ লোকজন। হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে ধারণাকারী ব্যক্তির বাড়িতেও আগুন দেয় বিক্ষুদ্ধ লোকজন। পরে খবর পেয়ে রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নেভায়। এছাড়া সদর থানা সহ জেলা পুলিশ লাইনস থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এখনও এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামের দুলাল সরদারের ছেলে ফিরোজ সরদার ওরফে বাবু (৩৪), গণি সরদারের ছেলে রিয়াজ সরদার (২৩), একই উপজেলার সমেশপুর গ্রামের সিদ্দিক মণ্ডলের ছেলে মো. শরীফ মণ্ডল (২৭) ও বদের সদারের ছেলে আলাল সরদার (৬০) । শনিবার ভোররাতে নিজ নিজ এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সুপার বলেন, জমিজমা নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে চৌধুরী ফুয়াদ হাসান রোহানকে ডেকে নিয়ে গামছা ও টি-শার্ট দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ পানিতে ভেসে ওঠা ঠেকাতে পেট কেটে বস্তাবন্দী করে ডোবায় ফেলে রাখা হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত টি-শার্ট, গামছা ও ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মাদকাসক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি। তবে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।পুলিশ জানায়, গত ৫ অক্টোবর বিকেলে ফোনকল পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন রোহান। এরপর তিনি আর ফেরেননি। পরদিন ৬ অক্টোবর তাঁর পরিবার রাজবাড়ী সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। ৮ অক্টোবর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।এ ঘটনায় রোহানের বাবা ফরহাদ চৌধুরী বাদী হয়ে ওইদিন রাতেই রাজবাড়ী সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির তদন্তে সদর থানা-পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও কাজ করে। এর ধারাবাহিকতায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. শামসুল হক, রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ, গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি মফিজুল ইসলামসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে শনিবার দুপুরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন বিক্ষুব্ধ লোকজন। হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী বলে ধারণা করা হচ্ছে, এমন এক ব্যক্তির বাড়িতেও আগুন দেওয়া হয়। খবর পেয়ে রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভান। সদর থানা-পুলিশ ও জেলা পুলিশ লাইনস থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাজবাড়ী সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফয়জুর রহমান বলেন, দুপুর দেড়টার দিকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে চলে আসি। এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত পুলিশ সহ আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছি। প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টার মতো সময় লেগেছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে। স্থানীয় বিক্ষুদ্ধ লোকজন গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামী এবং ইন্ধনদাতার চারটি বাড়ি ভাঙচুর ও আগুন দিয়েছে। এছাড়া আসামীদের দুই আত্মীয় স্বজনের বাড়ি ভাঙচুর করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
অনলাইন জরিপ
রাজনীতি
হেলাল মাহমুদ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোদারবাজার এলাকায় পদ্মা নদীতে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার শেষ পর্যায়ে দুই নৌকার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে একটি নৌকা ডুবে যায়। এ সময় নৌকাডুবি ও হামলায় অন্তত ২০ জন মাঝি আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত ৯ জনকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার লালগোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও আয়োজক কমিটির সদস্যরা সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তিন দিনব্যাপী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলার শনিবার ছিল শেষ দিন। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে প্রতিযোগিতার শেষ পর্যায়ে পাবনার আমিনপুর থানার ‘নিউ শাড়িরভিটা’ ও কুষ্টিয়ার ‘নিউ জনতা সংগ্রাম’ নামের দুটি নৌকার মধ্যে সংঘর্ষ হয়। গোদারবাজার থেকে ভাটির দিকে উড়াকান্দা এলাকায় যাওয়ার পথে স্বল্প আলোয় নৌকা দুটি ভালোভাবে দেখা যাচ্ছিল না। এ সময় প্রতিযোগিতায় তুমুল লড়াই চলছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য, লালগোলা এলাকায় একপর্যায়ে নিউ শাড়িরভিটা নৌকাটি কিছুটা এগিয়ে গেলে নিউ জনতা সংগ্রাম নৌকাটি সেটির ডান পাশে ধাক্কা দেয়। এতে নিউ শাড়িরভিটা নৌকাটি ডুবে যায়। এ সময় দুই নৌকার মাঝিদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, নিউ জনতা সংগ্রাম নৌকার মাঝিরা বাঁশ, লাঠি ও বৈঠা দিয়ে নিউ শাড়িরভিটা নৌকার মাঝিদের মারধর করেন। এতে অন্তত ২০ জন আহত হন।রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নিউ শাড়িরভিটা নৌকার মাঝি রওশন সরকার ও লতিফ সরকারসহ কয়েকজন বলেন, তাঁদের নৌকায় ৭৫ থেকে ৮০ জন মাঝি ছিলেন। প্রতিযোগিতায় তাঁরা এগিয়ে ছিলেন। এ সময় নিউ জনতা সংগ্রাম নৌকাটি ডান পাশ থেকে তাঁদের নৌকায় ধাক্কা দেয়। এতে তাঁদের নৌকাটি ডুবে যায়। পরে অপর নৌকার মাঝিরা বাঁশ, লাঠি ও বৈঠা দিয়ে তাঁদের মারধর করেন।নৌকাবাইচ আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব মঞ্জুরুল আলম দুলাল বলেন, প্রতিযোগিতার সময় কুষ্টিয়ার নিউ জনতা সংগ্রাম নৌকাটি পাবনার নিউ শাড়িরভিটা নৌকার চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে ছিল। এ সময় ডান পাশ থেকে ধাক্কা দিলে নিউ শাড়িরভিটা নৌকাটি ডুবে যায়। পরে নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। আমরা এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার নিউ জনতা নৌকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের জরুরি ও দুর্ঘটনা বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ও সুপারভাইজার রাজীব দে সরকার বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার পর একে একে আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত ৯ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ত্রিনাথ সাহা বলেন, সন্ধ্যায় স্বল্প আলোয় প্রতিযোগিতা চলার সময় নিরাপত্তার জন্য তাঁরা স্পিডবোট নিয়ে নৌকার পিছনে অবস্থান করছিলেন। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে দুই নৌকার সংঘর্ষে নিউ শাড়িরভিটা নামের নৌকাটি ডুবে যায়। ফায়ার সার্ভিস ও আয়োজক কমিটির সহযোগিতায় দ্রুত নৌকাটির ৭৫ থেকে ৮০ জন মাঝিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোদারবাজার এলাকায় পদ্মা নদীর পাড়ে তিন দিনব্যাপী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। নৌকাবাইচ ও গ্রামীণ সংস্কৃতি উদ্যাপন পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেনসহ বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সুমন বিশ্বাস, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে কলেজছাত্র চৌধুরী ফুয়াদ হাসান রোহানকে (১৯) শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন এসব তথ্য জানান। এদিকে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছেন বিক্ষুব্ধ লোকজন। হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে ধারণাকারী ব্যক্তির বাড়িতেও আগুন দেয় বিক্ষুদ্ধ লোকজন। পরে খবর পেয়ে রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নেভায়। এছাড়া সদর থানা সহ জেলা পুলিশ লাইনস থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এখনও এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামের দুলাল সরদারের ছেলে ফিরোজ সরদার ওরফে বাবু (৩৪), গণি সরদারের ছেলে রিয়াজ সরদার (২৩), একই উপজেলার সমেশপুর গ্রামের সিদ্দিক মণ্ডলের ছেলে মো. শরীফ মণ্ডল (২৭) ও বদের সদারের ছেলে আলাল সরদার (৬০) । শনিবার ভোররাতে নিজ নিজ এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সুপার বলেন, জমিজমা নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে চৌধুরী ফুয়াদ হাসান রোহানকে ডেকে নিয়ে গামছা ও টি-শার্ট দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ পানিতে ভেসে ওঠা ঠেকাতে পেট কেটে বস্তাবন্দী করে ডোবায় ফেলে রাখা হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত টি-শার্ট, গামছা ও ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মাদকাসক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি। তবে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।পুলিশ জানায়, গত ৫ অক্টোবর বিকেলে ফোনকল পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন রোহান। এরপর তিনি আর ফেরেননি। পরদিন ৬ অক্টোবর তাঁর পরিবার রাজবাড়ী সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। ৮ অক্টোবর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।এ ঘটনায় রোহানের বাবা ফরহাদ চৌধুরী বাদী হয়ে ওইদিন রাতেই রাজবাড়ী সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির তদন্তে সদর থানা-পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও কাজ করে। এর ধারাবাহিকতায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. শামসুল হক, রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ, গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি মফিজুল ইসলামসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে শনিবার দুপুরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন বিক্ষুব্ধ লোকজন। হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী বলে ধারণা করা হচ্ছে, এমন এক ব্যক্তির বাড়িতেও আগুন দেওয়া হয়। খবর পেয়ে রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভান। সদর থানা-পুলিশ ও জেলা পুলিশ লাইনস থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাজবাড়ী সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফয়জুর রহমান বলেন, দুপুর দেড়টার দিকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে চলে আসি। এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত পুলিশ সহ আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছি। প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টার মতো সময় লেগেছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে। স্থানীয় বিক্ষুদ্ধ লোকজন গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামী এবং ইন্ধনদাতার চারটি বাড়ি ভাঙচুর ও আগুন দিয়েছে। এছাড়া আসামীদের দুই আত্মীয় স্বজনের বাড়ি ভাঙচুর করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সুমন বিশ্বাস, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে নিখোঁজের তিন দিন পর চৌধুরী ফুয়াদ হাসান ওরফে রোহান (১৯) নামের এক কলেজছাত্রের বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদসী ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের বাড়ির কাছের একটি ডোবা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।নিহত রোহান রঘুনাথপুর গ্রামের ফরহাদ চৌধুরীর ছেলে। তিনি রাজবাড়ী শহরের একটি বেসরকারি টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে খাবারের সময় রোহানের মুঠোফোনে একটি ফোনকল আসে। খাবার খেয়ে তিনি দ্রুত বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। বিকেল চারটা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাঁর মুঠোফোনে কল করেন। তবে তাঁর দুটি ফোনই বন্ধ পাওয়া যায়। রোহান একটি অ্যান্ড্রয়েড ও একটি বাটন ফোন ব্যবহার করতেন।আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতদের কাছে খোঁজ করেও সন্ধান না পাওয়ায় পরদিন মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পরিবারের পক্ষ থেকে রাজবাড়ী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরের একটি ডোবায় স্থানীয় লোকজন একটি বস্তা ভাসতে দেখেন। বস্তা থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় সন্দেহ হলে তাঁরা লাঠি দিয়ে বস্তাটিতে ধাক্কা দেন। এ সময় বস্তার ভেতর থেকে মানুষের একটি পা বেরিয়ে আসে। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তাবন্দী মরদেহটি উদ্ধার করে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি রোহানের বলে শনাক্ত করেন। পরে রাত ৮টার দিকে পুলিশ চৌধুরী ফুয়াদ হাসান ওরফে রোহানের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মীর মুনির হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, মরদেহটি একটি বস্তার ভেতরে রাখা হয়েছিল। আরেকটি বস্তায় মাটি ভরে মরদেহের বস্তার সঙ্গে বেঁধে সেটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। মরদেহ ফুলে ওঠার পর বস্তাটি পানিতে ভেসে উঠলে স্থানীয় লোকজন সেটি দেখতে পান।পুলিশ সুপার বলেন, গত ৫ অক্টোবর থেকে কলেজছাত্র রোহান নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের পর থেকেই পুলিশ বিভিন্ন বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করছে। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনের তথ্য, পারিবারিক বিরোধ, প্রেমঘটিত কোনো বিষয় ছিল কি না এবং বন্ধুদের মধ্যে কোনো বিরোধ ছিল কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।মীর মুনির হোসেন বলেন, ‘এখনও হত্যার কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে বিষয়টি নিয়ে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।’নিহত রোহানের দাদা প্রয়াত রোকন উদ্দিন চৌধুরী রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাঁর ফুফাতো ভাই আরিফুল ইসলাম রোমান বর্তমানে রাজবাড়ী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শামীম হোসাইন, পাংশা, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর পাংশায় জমিসংক্রান্ত বিরোধ ও চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক প্রবাসীর মাছের পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে কয়েক লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তাঁর মাছের প্রকল্পে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ আজ বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে কালাম মন্ডল নামের এক বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাংশা উপজেলার যশাই ইউনিয়নের নিভাকেষ্টপুর গ্রামে সিঙ্গাপুরপ্রবাসী মো. আসাদ মন্ডলের মাছের পুকুরে মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতের কোন এক সময় বিষ প্রয়োগ করা হয়। এতে পুকুরে থাকা প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার মাছ মারা যায় বলে দাবি করেছেন তিনি। আসাদ মন্ডল অভিযোগ করেন, প্রায় ১৬-১৭ বছর ধরে সিঙ্গাপুরে উপার্জন করা অর্থ দিয়ে তিনি এলাকায় মাছের প্রকল্প গড়ে তুলেছেন। সম্প্রতি যশাই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান প্রামাণিক এবং সাধারণ সম্পাদক কালাম মন্ডল তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।আসাদের ভাষ্য, এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বহিরাগত লোকজন নিয়ে তাঁর প্রকল্পে হামলা চালানো হয়। এ সময় সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করা হয় এবং পুকুরপাড়ের প্রায় ৫০ কাঁদি কলাগাছ কেটে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। হামলাকারীরা যাওয়ার সময় তাঁকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতের কোন এক সময় তাঁর পুকুরে বিষ প্রয়োগ করা হয় বলে জানান আসাদ মন্ডল। এতে পুকুরের অন্তত ৪৫ মণ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মারা যায়। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা। পাংশা মডেল থানার ওসি শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, বুধবার ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। পরবর্তীতে মামলার প্রধান আসামী বিএনপি নেতা কালাম মন্ডলকে বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরেই তাকে রাজবাড়ীর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী জেলা বিএনপি কার্যালয়ে প্রবেসের কলাপসিবল গেটে কেরোসিনের বোতলে রাতের অন্ধকারে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় কলাপসিবল গেটের কিছু অংশ পুড়ে গেছে। তবে কার্যালয়ের ভেতরে তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) দিবাগত মধ্য রাতের কোন এক সময় এ ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।জেলা বিএনপি কার্যালয়টি রাজবাড়ী শহরের গুরুত্বপূর্ণ আজাদী ময়দান সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। সেখানে আশপাশে আরো বেশ কয়েকটি অন্যান্য কার্যালয় ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। টিনশেড দলীয় কার্যালয়টির সামনে রয়েছে কলাপসিবল গেট। তবে রাতে কার্যালয়ে কেউ থাকেন না বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানান।শনিবার (৩ অক্টোবর) ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, কার্যালয়ের সামনে কয়েকজন নেতাকর্মী অবস্থান করছেন। কলাপসিবল গেটে তালা ঝুলছিল। আগুনে গেটটির সামনের অংশ পুড়ে কালো হয়ে গেছে। তবে কার্যালয়ের ভেতরে আগুন ছড়িয়ে পড়ার কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি।রাজবাড়ী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আসলাম মিয়া বলেন, জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে আগুনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। এ ঘটনায় ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।রাজবাড়ী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম রোমান বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার অংশ হিসেবে দুর্বৃত্তরা জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী বলেন, রাজবাড়ীতে বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক সহিংসতা নেই। আগুন দেওয়ার ধরণ দেখে এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঘটনা বলে মনে হচ্ছে না। রাজনৈতিক পরিবেশ অশান্ত করা এবং ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করার হীন উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। আপাতত থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের না করলেও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে নবাগত পুলিশ সুপারের সঙ্গে আজ রোববার সাক্ষাৎ করবেন বলে জানান। রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আগুনে তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কেরোসিন জাতীয় দাহ্য পদার্থ দিয়ে কলাপসিবল গেটে আগুন দেওয়া হয়েছিল। আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা নিভে যায়।তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। ইতিমধ্যে আশপাশের বেশ কয়েকটি সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সে সব নিয়ে কাজ করছেন। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের শনাক্ত শেষে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
মঈনুল হক, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পরিচিত মুখ প্রবীন রাজনীতিবীদ, দৌলতদিয়া বাজার ব্যবসায়ী পরিষদের সভাপতি ও দৌলতদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহন মন্ডলের (৭০) জানাজা ও দাফন সম্পর্ণ হয়েছে।জানাজার শেষ বিদায়ে কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে দৌলতদিয়া। প্রিয় মানুষটিকে শেষবারের মতো দেখতে ও তাঁর জানাজায় অংশ নিতে সকাল থেকেই ছুটে আসেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসলমানের উপস্থিতিতে জানাজায় সৃষ্টি হয় এক শোকাবহ পরিবেশ।বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফরিদপুর ডায়াবেটিকস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মোহন মন্ডল। তাঁর মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে দৌলতদিয়া বাজারসহ গোটা এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজন, সহকর্মী, ব্যবসায়ী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে দেখা দেয় গভীর শোক ও বেদনা।বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দৌলতদিয়া আঞ্জুমানে কাদেরিয়া মাদ্রাসা মাঠে তাঁর জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে দৌলতদিয়া আঞ্জুমানে কাদেরীয়া গোরস্থানে তাকে দাফন সম্পন্ন করা হয়। জানাজায় এসময় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েক হাজার মানুষ।জানাজার আগে ও পরে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ আরও ভারী হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিনের পরিচিত এই মানুষটির চলে যাওয়ায় দৌলতদিয়া হারাল তাদের আপনজনদের একজনকে। শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে বিদায় জানাতে এসে অনেকের চোখেই ছিল শুধু অশ্রু।মৃত্যুকালে মোহন মন্ডল স্ত্রী, এক ছেলে ও সাত মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, সহকর্মী, ব্যবসায়ী মহল ও স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। শোকাহত স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন স্থানীয়রা।জানাজা নামাজে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, মোহন মন্ডল ও আমি একসাথে পড়াশোনা করতাম। মোহন খুবই বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ লোক ছিলেন। রাজনীতিতে তার অনেক অবদান রয়েছে। দৌলতদিয়া জমি সংক্রান্ত বা যেকোন সমস্যা নিয়ে মানুষ তার কাছে গেলে তিনি সঠিক সমাধান করে দিতেন। আজ দৌলতদিয়াবাসী একজন আপন মানুষকে হারিয়ে ফেললেন। এই অপূর্ণতা কখনো পূরণ হবে কি না জানিনা। আমরা সকলে মোহন মন্ডলের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।
বিনোদন
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ আবহমান বাংলার ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে রাজবাড়ীর কালুখালীতে শেষ হলো তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলা। কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের মহেন্দ্রপুর খেয়াঘাট সংলগ্ন পদ্মার শাখা নদীতে বুধবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। পাবনার আমিনপুর উপজেলার চর গোবিন্দপুর থেকে আসা নৌকাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় পাবনার সৈয়দপুরের নিউ শাপলা নৌকা। এছাড়া প্রতিযোগিতায় চর গোবিন্দপুরের নৌকা দ্বিতীয় এবং খয়রান একতা চ্যালেঞ্জার নামক নৌকা তৃতীয় স্থান অর্জন করে। প্রতিযোগিতায় মোট ৮টি নৌকা অংশ গ্রহণ করে। বিজয়ী নৌকাকে মোটরসাইকেল এবং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী নৌকাগুলোর মধ্যে রিফ্রেজারেটর প্রদান করা হয়।পদ্মার পাড়ে তিন দিনব্যাপী নৌকা বাইচ এবং গ্রামীণ মেলায় দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় পড়ে। মুখরোচক খাবার সহ নানা ধরনের পণ্যের পসরা বসে পদ্মার পাড়ে। মেলা ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ আর উদ্দীপনা দেখা দেয়। কালুখালীসহ আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে মহেন্দ্রপুর পদ্মার পাড়ে জড়ো হন।মহেন্দ্রপুর খেয়াঘাট মেলা কমিটির আয়োজনে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান তোতার সঞ্চালনায় নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় উপস্থিত ছিলেন, পাংশা উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ আলী খান, পাংশা পৌর বিএনপির সভাপতি বাহারাম হোসেন সরদার, কালুখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি লুৎফর রহমান খান, রাজবাড়ী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব তুহিনুর রহমান, কালুখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রকিবুল হাসান প্রমূখ। এছাড়াও অনুষ্ঠান উপভোগ করতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিন দিনব্যাপী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলার উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কালুখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোটেক রকিবুল হাসান, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহŸায়ক কে এম আইনুল হাবীব, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মনজুর হোসেন মঞ্জু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব তুহিনুর রহমান, কালুখালী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জামাল খান প্রমূখ। উদ্বোধনী দিনে চারটি নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে। প্রথম প্রতিযোগিতায় উলাট একতা এক্সপ্রেসকে হারিয়ে বিজয়ী হয় ‘নিউ শাপলা’ নামক নৌকা। দ্বিতীয় বাইচে ‘চর গোবিন্দপুরের নৌকা’কে হারিয়ে বিজয়ী হয় ‘নিউ জনতার সংগ্রাম’, তৃতীয় বাইচে হয় ‘দুলদুল এক্সপ্রেস’কে হারিয়ে বিজয়ী হয় ‘খয়রানা একতা চ্যালেঞ্জার’ এবং শেষ বাইচে ‘কুষ্টিয়ার লালন’কে হারিয়ে বিজয়ী হয় পাবনার সুজানগরের ‘শিমুল একতা এক্সপ্রেস’। আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব তুহিনুর রগমান বলেন, নৌকাবাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি আবহমান গ্রামবাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হারিয়ে যেতে বসা এ ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এমন আয়োজন করা হয়েছে।
সুমন বিশ্বাস, রাজবাড়ীঃ একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিমের ৭৬ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজবাড়ীতে নানা আয়োজনে স্মরণ করা হয়েছে এই গুণী শিল্পীকে। শনিবার রাজবাড়ী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মনসুর উল করিম স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং কেক কাটার মধ্য দিয়ে জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, "মনসুর উল করিম শুধু রাজবাড়ীর নন, তিনি বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। রাজবাড়ীর মাটিতে তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। তাঁর সৃষ্টিকর্ম আজও শিল্পপ্রেমীদের অনুপ্রাণিত করে। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর শিল্পকর্ম ও জীবনাদর্শ তুলে ধরতে আমাদের আরও উদ্যোগী হতে হবে।"প্রতিমন্ত্রী বলেন, "রাজবাড়ীর সাংস্কৃতিক বিকাশে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জেলার শিল্প-সংস্কৃতির প্রসারে একটি আধুনিক কালচারাল কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই এর নির্মাণকাজ শুরু হবে। এছাড়া রাজবাড়ীর অ্যাক্রোবেটিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে আরও আধুনিক ও কার্যকরভাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি ভবিষ্যতে জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।" মনসুর উল করিম স্মৃতি পরিষদের আহ্বায়ক কবি খোকন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল, চিত্রশিল্পী মনসুর করিম স্মৃতি সংসদের সদস্য সচিব আজিজা খানম, উপদেষ্টা চৌধুরী আহসানুল করিম হিটু, নূরুল হক আলম, জেলা কালচারাল অফিসার সুজিত কুমার সাহা, মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি সংসদের আহ্বায়ক কবি সালাম তাসির, রাজবাড়ী বাংলা একাডেমির সভাপতি সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমানসহ চিত্রশিল্পী মনসুর করিম স্মৃতি সংসদের অন্যান্য সদস্য, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।আলোচনা সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিম তাঁর সৃষ্টিশীলতা, নান্দনিক চিন্তা ও শিল্পকর্মের মাধ্যমে দেশের শিল্পাঙ্গনে অনন্য অবদান রেখে গেছেন। তাঁর স্মৃতি ও কর্ম নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।পরে অতিথিরা কেক কেটে মনসুর উল করিমের ৭৬ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করেন। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।উল্লেখ্য, চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিম ১৯৫০ সালের ১৪ জুলাই রাজবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ শিল্পজীবনে তিনি দেশ-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করেন এবং শিল্পকলায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে একুশে পদকে ভূষিত হন। ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর শিল্পকর্ম আজও বাংলাদেশের চারুকলার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
আব্দুল হালিম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে গান, নৃত্য ও ফলাহারের মধ্য দিয়ে উদীচীতে বর্ষা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী রাজবাড়ী জেলা কমিটির উদ্যোগে শহরের আজাদী ময়দান সংলগ্ন সংগঠনের মিলনায়তনে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়।আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা উদীচীর সহসভাপতি আজিজুল হাসান খোকা। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা উদীচীর সংগীত বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল জব্বার। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উদীচী কেন্দ্রীয় কমিটির সংগীত বিষয়ক সম্পাদক সুরাইয়া পারভীন, সদস্য শিখা কর্মকার। এতে স্মৃতিচারণ মূলক বক্তব্য দেন জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কমরেড আব্দুস সামাদ মিয়া, রাজবাড়ী নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফকীর শাহাদত হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা চিত্রশিল্পী মো. গোলাম আলী, রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক এম দেলোয়ার হোসেন, রাজবাড়ী বৈচিত্র্য সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি আজাদ সিদ্দিকী মিলন, জেলা উদীচীর সাংগঠনিক সম্পাদক ধীরেন্দ্র নাথ দাস প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক এজাজ আহম্মেদ। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ছয়টি ঋতুর মধ্যে বর্ষা ঋতু হলো মধুর ঋতু। এই ঋতু শুরু হলে প্রকৃতি হাঁসে। প্রকৃতি জীবন্ত হয়ে ওঠে। চারপাশ সবুজে ভরে যায়। প্রবীণ তার কৈশোরে ফিরে যায়। তবে মানুষ আজ প্রকৃতি ধ্বংস করে ফেলছে। নিয়মিত বনায়ন ধ্বংস করা হচ্ছে। একারণে বর্ষার প্রকৃত রূপ এখন আর দেখা যায় না। বর্ষাকে বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের বেশি বেশি গাছ রোপণ করতে হবে। প্রকৃতি সুন্দর হলে এই পৃথিবী আরও সুন্দর হবে।অনুষ্ঠানে উদীচী ও রাবেয়া কাদের স্মৃতি পাঠাগারের শিল্পীরা সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা করেন
মঈনুল হক, গোয়ালন্দ রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে ঘোষিত নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭ এর শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানের শুরুতে ভার্চ্যুয়ালি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ টেলিকাস্ট) উপভোগ করেন উপস্থিত অতিথি ও দর্শকরা। পরে স্থানীয়ভাবে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাসের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি (তদন্ত) মো. রাশিদুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার দাস, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু মোল্লা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবলু, নাজিরুল ইসলাম তিতাস, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মোল্লা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আবু সাঈদ মণ্ডল সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।উপজেলা প্রশাসন জানায়, তিন দিনব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে প্রথম দিনে আলোচনা সভা, উদ্ভোধনী সংগীত (চল চল), সমবেত সংগীত, সমবেত নৃত্য, আবৃত্তি, একক সংগীত ও নৃত্য, দ্বিতীয় দিনে নজরুলের উপর রচনা, আবৃত্তি, নজরুল সংগীত ও নৃত্য প্রতিযোগিতা, তৃতীয় দিনে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে লালন, দেশত্ববোধক, ভাটিয়ালি সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনা সভায় বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর জীবন, সাহিত্যকর্ম, দেশপ্রেম, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, বিদ্রোহ, সাম্য ও মানবতার কবি নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত আজও বাঙালির স্বাধীনতার চেতনা, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মূল্যবোধের অন্যতম প্রেরণার উৎস। নতুন প্রজন্মের মাঝে নজরুলের আদর্শ, সাহিত্য ও সংগীত ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা মন্তব্য করেন।আলোচনা সভা শেষে নজরুল সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, দর্শন ও সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।
ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে দেশব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’-এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি দেশের ৬৪ জেলা এবং নির্বাচিত ৭৪টি উপজেলায় একযোগে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’-এর স্মারক ও ডাক টিকিট অবমুক্ত, লোগো উন্মোচন ও নজরুল বর্ষের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে রাজবাড়ীতেও শুরু হলো ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭-এর কর্মসূচি। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে বছরব্যাপী নানা সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক আয়োজনের মাধ্যমে এ বর্ষ উদযাপন করা হবে।সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি বক্তব্য রাখেন।বিশেষ অতিথি হিসেবে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি; তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডাঃ জাহেদ উর রহমান ও মন্ত্রী পরিষদের সচিব ডঃ নাসিমুল গনি বক্তব্য।এদিকে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মিয়া, সিভিল সার্জন ডাঃ এস এম মাসুদ, স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক কল্যাণ চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ তারিফ-উল-হাসান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ্যাডঃ লিয়াকত আলী বাবু, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবীব, রাজবাড়ী সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজে অধ্যক্ষ প্রফেসর রেজভি জামান, রাজবাড়ী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর মোস্তফা কামাল সহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিসহ সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বছরব্যাপী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।উল্লেখ্য, গত ২৫ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে এ বছরের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত এক বছর নজরুল বর্ষ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।
সোহাগ মিয়া, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের হামিদ মৃধার হাট এলাকায় ব্যতিক্রমী ঘটনার জন্ম দিয়েছেন আলাল মোল্লা নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে সে এলাকায় আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের ঘোর সমর্থক হিসেবে পরিচিত থাকলেও এবার তিনি প্রকাশ্যে দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরান ফুটবল দলের সমর্থক হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এমন ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাত ৯টার দিকে হামিদ মৃধার হাট বাজারে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে আলাল মোল্লা তাঁর কর্মী সমর্থকদের জড়ো হন। এ সময় তিনি দুধ দিয়ে গোসল করে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নতুন ইসলামী রাষ্ট্র ইরানের পক্ষে অবস্থানের কথা ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণার পর মুহূর্তেই তাঁর কর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তোলে। একই সাথে বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। বাজারে উপস্থিত অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেন, আবার কেউ কেউ বিষয়টিকে ব্যক্তিগত পছন্দ ও মতামতের স্বাধীনতা হিসেবেও দেখেন।আলাল মোল্লা বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক ছিলাম। তবে ব্যক্তিগত চিন্তা-ভাবনা ও ধর্মীয় অনুভূতি থেকে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আজ থেকে আমি ইরান দলকে সমর্থন করব। আমি আর কখনো আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেব না। এজন্য দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরান ফুটবল দলের সমর্থক হয়েছি।তার এই ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয় যুবকদের মধ্যে কেউ বিষয়টিকে মজার ঘটনা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে একজন সমর্থকের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন।স্থানীয় হামিদ মৃধা হাট এরাকার আক্কাস সরদার, আব্বাস মোল্লা, জামাল হোসেন, হারুন ব্যাপারী সহ অনেকে জানান, সাধারণত ফুটবল দল পরিবর্তনের ঘটনা নতুন নয়। তবে প্রকাশ্যে দুধ দিয়ে গোসল করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে এক দলের সমর্থন ছেড়ে অন্য দলের প্রতি সমর্থন জানানোর ঘটনা এলাকায় খুব একটা দেখা যায় না। ফলে আলাল মোল্লার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।এ বিষয়ে স্থানীয় নুরুল ইসলাম, আহম্মদ আলী শেখ সহ অনেকের ভাষ্য, খেলাধুলা মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। যে কেউ নিজের পছন্দ অনুযায়ী যে কোনো দলকে সমর্থন করতে পারেন। আলাল মোল্লার এই ঘোষণাও তার ব্যক্তিগত মতামত ও পছন্দেরই বহিঃপ্রকাশ।ব্যতিক্রমী এই দলবদলের ঘটনা এখন গোয়ালন্দের হামিদ মৃধার হাট সহ আশপাশের এলাকায় আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর পাংশায় বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের মামলায় মো. ফারুক হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী নারীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ওই নারীর সন্তান ২১ বছর বয়সে পৌঁছানো পর্যন্ত তার ভরণপোষণের ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।রোববার (১১ অক্টোবর) রাজবাড়ী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. তহিদুল ইসলাম এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। দণ্ডপ্রাপ্ত ফারুক হোসেন পাংশা উপজেলার বাবুপাড়া ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আহম্মদ খার ছেলে।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩০ মে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তালাকপ্রাপ্ত এক নারীকে খোকসা রেলস্টেশনসংলগ্ন এক আত্মীয়ের বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করেন ফারুক। পরে বিয়ের কাগজপত্র তৈরির কথা বলে ওই নারীকে ঢাকায় নিয়ে যান তিনি। সেখানে দুই মাস অবস্থানকালে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এক পর্যায়ে ওই নারী গর্ভবতী হলে ফারুক তাঁকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনও করা হয়।পরে ওই নারী বাড়িতে ফিরে রাজবাড়ীর আদালতে নালিশি দরখাস্ত করেন। আদালতের নির্দেশে পাংশা মডেল থানায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। পরে ওই নারী একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। শিশুটির নাম রাখা হয় রাফিউল হোসেন।আদালত রায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় ফারুকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেন। পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী নারীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসামির বর্তমান সম্পদ থেকে অর্থ আদায় সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে অর্জিত সম্পদ থেকে তা আদায় করা যাবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।রায়ে শিশু রাফিউলকে ফারুকের জৈবিক সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তার আইনানুগ অধিকার নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে। সন্তানের ভরণপোষণের অর্থ নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে রাজবাড়ীর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জাহিদ উদ্দিন মোল্লা বলেন, “আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ এবং সন্তানের ভরণপোষণ নিশ্চিত করার নির্দেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। এ রায় নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে।”
সুমন বিশ্বাস, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে নিখোঁজের তিন দিন পর চৌধুরী ফুয়াদ হাসান ওরফে রোহান (১৯) নামের এক কলেজছাত্রের বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদসী ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের বাড়ির কাছের একটি ডোবা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।নিহত রোহান রঘুনাথপুর গ্রামের ফরহাদ চৌধুরীর ছেলে। তিনি রাজবাড়ী শহরের একটি বেসরকারি টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে খাবারের সময় রোহানের মুঠোফোনে একটি ফোনকল আসে। খাবার খেয়ে তিনি দ্রুত বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। বিকেল চারটা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাঁর মুঠোফোনে কল করেন। তবে তাঁর দুটি ফোনই বন্ধ পাওয়া যায়। রোহান একটি অ্যান্ড্রয়েড ও একটি বাটন ফোন ব্যবহার করতেন।আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতদের কাছে খোঁজ করেও সন্ধান না পাওয়ায় পরদিন মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পরিবারের পক্ষ থেকে রাজবাড়ী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরের একটি ডোবায় স্থানীয় লোকজন একটি বস্তা ভাসতে দেখেন। বস্তা থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় সন্দেহ হলে তাঁরা লাঠি দিয়ে বস্তাটিতে ধাক্কা দেন। এ সময় বস্তার ভেতর থেকে মানুষের একটি পা বেরিয়ে আসে। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তাবন্দী মরদেহটি উদ্ধার করে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি রোহানের বলে শনাক্ত করেন। পরে রাত ৮টার দিকে পুলিশ চৌধুরী ফুয়াদ হাসান ওরফে রোহানের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মীর মুনির হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, মরদেহটি একটি বস্তার ভেতরে রাখা হয়েছিল। আরেকটি বস্তায় মাটি ভরে মরদেহের বস্তার সঙ্গে বেঁধে সেটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। মরদেহ ফুলে ওঠার পর বস্তাটি পানিতে ভেসে উঠলে স্থানীয় লোকজন সেটি দেখতে পান।পুলিশ সুপার বলেন, গত ৫ অক্টোবর থেকে কলেজছাত্র রোহান নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের পর থেকেই পুলিশ বিভিন্ন বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করছে। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনের তথ্য, পারিবারিক বিরোধ, প্রেমঘটিত কোনো বিষয় ছিল কি না এবং বন্ধুদের মধ্যে কোনো বিরোধ ছিল কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।মীর মুনির হোসেন বলেন, ‘এখনও হত্যার কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে বিষয়টি নিয়ে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।’নিহত রোহানের দাদা প্রয়াত রোকন উদ্দিন চৌধুরী রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাঁর ফুফাতো ভাই আরিফুল ইসলাম রোমান বর্তমানে রাজবাড়ী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর পেটে গজ রেখেই সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠা বিথী আক্তার (২৩) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাদীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর পাঁচ মাস বয়সী সন্তানকে রেখে মারা গেলেন তিনি। বিথী রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের জ্যোতিন বোদ্দির পাড়ার রাকিবুল ইসলাম মোল্লার স্ত্রী। বিথী ফরিদপুর ইন্টারন্যাশনাল নার্সিং কলেজ থেকে ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স (সেবিকা) সম্পন্ন করে ইন্টার্নিং করছিলেন। এর আগে বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিথীর স্বামীর বাড়িতে তাঁর পাঁচ মাস বয়সী সন্তানকে দেখতে যান রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন। এ সময় গোয়ালন্দ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল হুদা তাঁর সঙ্গে ছিলেন। জেলা প্রশাসক পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে বিথীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং চিকিৎসার বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় বিথীর স্বামী রাকিবুল ইসলামও সেখানে ছিলেন। এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুর একটার দিকে বিথীর লাশ তাঁর স্বামীর বাড়িতে আনা হলে সেখানে রিদায় বিদারক পরিবেশ তৈরী হয়। এ সময় বিথীর বাবা সোবহান মণ্ডল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার পরিবারের আলো নিভে গেছে। আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। আমি অপারেশন করা চিকিৎসকের বিচার শাস্তি চাই। জানা যায়, ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগে সিজারিয়ান অস্ত্রপচারের মাধ্যমে পুত্র সন্তান জন্ম দেন বিথী আক্তার। অস্ত্রপচার করেন হাসপাতালের চিকিৎসক তামান্না আক্তার ও ইন্টার্ন চিকিৎসক অরবিন্দু। অস্ত্রপচারের পাঁচদিন পর হাসপাতাল ছেড়ে স্বামীর বাড়ি যাওয়ার পর থেকে পেটে ব্যাথাসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। নানা জটিলতার এক পর্যায়ে গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে অস্ত্রপচারকারী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসক ‘গুরুতর’ কোনো সমস্যা নেই বলে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। দিন দিন অবস্থার অবনতি হলে দেড় মাস পর ফরিদপুর শহরের একাধিক বেসরকারি হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাম করে দেখেন তাঁর পেটে ‘গজ’ রয়েছে। ১৫ জুলাই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফজলুল হক শোভন ও সঞ্জয় সাহা অস্ত্রপচার করে গজ বের করেন। কিন্তু ততদিনে তার পেটের নাড়িতে পচন ধরে সংক্রমণ সৃষ্টি হয়। বিথীর স্বামী রাকিবুল ইসলামের অভিযোগ, অস্ত্রপচারকারী চিকিৎসক তামান্না আক্তার ডেকে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করেন। আমাদের হাতে ৫৫ হাজার টাকা তুলে দিয়ে আইনি ব্যবস্থা যাতে না নেওয়া হয় এ জন্য এক প্রকার জোরপূর্বক চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর নেয়। কিছুদিন আবার পেটের ব্যাথাসহ সংক্রমণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বিথীকে ২০ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে হাসপাতালেই মৃত্যুর সাথে লড়ে যাচ্ছিলেন বিথী। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় ৬১ কেজি ওজনের বিথীর শারীরিক ওজন কমে দাঁড়ায় মাত্র ৩৮ কেজিতে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকলেও কেউ কোনো খোঁজ নেয়নি। উপায় না পেয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে বিথীকে ফরিদপুর থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মারা যায়। এখন আমার পাঁচ মাস বয়সী সন্তানের কি হবে। যদি চিকিৎসকরা যোগাযোগ না করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিব। বুধবার সন্ধ্যায় বিথীর বাড়িতে আসার পর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, বিষয়টি জানার পর বাচ্চা ও তাদের বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করে ইউএনওকে পাঠানো হয়। সাথে কিছু উপহার সামগ্রী ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। আজকে আমি নিজে এসেছি। আমরা চেষ্টা করছি তাঁকে কিভাবে সহযোগিতা করা যায়। তবে এ ধরনের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করছি। পরবতীতে যাতে এরকম ঘটনা না ঘটে এবং সকলকে সচেতন থাকার আহŸান করছি।
মঈন মৃধা, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অসহায় ও দরিদ্রসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। বিশেষায়িত চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন এমন রোগীদেরও বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে গোয়ালন্দ রাবেয়া ইদ্রিস মহিলা কলেজ মাঠে এ ক্যাম্প শুরু হয়। গোয়ালন্দ হ্যাচারিজ লিমিটেড ও গোয়ালন্দ রাবেয়া ইদ্রিস মহিলা কলেজের আয়োজনে এবং ফরিদপুর আনোয়ারা হামিদ চক্ষু হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. মহসিন বেগের তত্ত্বাবধানে এ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। বেলা দুইটা পর্যন্ত চলে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম। ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদা।রাবেয়া ইদ্রিস মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুল কাদের শেখের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. নিজাম উদ্দিন শেখ, সাবেক সভাপতি সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ আহমেদ, সাবেক সদস্যসচিব মো. নাজিরুল ইসলাম তিতাস, গোয়ালন্দ হ্যাচারিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবু সায়েম খানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউএনও মো. সাইফুল হুদা বলেন, ‘দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা দেওয়া অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এ ধরনের ভালো কাজকে সবসময় উৎসাহিত করা উচিত। এতে অন্যরাও মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত হবেন।’আয়োজকেরা জানান, ক্যাম্পে সাত শতাধিক রোগীর চোখের প্রাথমিক পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২৭০ জন রোগীর বিশেষায়িত চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হওয়ায় ফরিদপুর আনোয়ারা হামিদ চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার বিনামূল্যে করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়া হয়।স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ করে দেওয়ায় উদ্যোগটি তাঁদের জন্য উপকারী হয়েছে।
ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুরে আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে শিশুটির বাবা থানায় মামলা করার পর সোমবার দিবাগত মধ্যরাতেই নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বসন্তপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের মৃত মালু খাঁর ছেলে।পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে শিশুটির বাবা রাজবাড়ী সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন। পরে সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশের একটি দল সাইফুল খাঁকে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে এসআই শিহাব আহমেদ, এসআই সাব্বির আহমেদসহ পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে সাইফুল খাঁকে গ্রেপ্তার করে।মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১ অক্টোবর সকাল ছয়টার দিকে শিশুটি বাড়ি থেকে প্রায় ১৫০ গজ দূরে একটি বাড়ির পেছনে আমড়া কুড়াতে যায়। এ সময় সাইফুল খাঁ তাকে একা পেয়ে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে একটি বাঁশবাগানে নিয়ে যান। সেখানে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।এজাহারে আরও বলা হয়, শিশুটির চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে সাইফুল খাঁ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে শিশুটিকে রক্তক্ষরণ ও অসুস্থ অবস্থায় স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ জানান, ১ অক্টোবর ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও স্থানীয়ভাবে উভয় পরিবার মীমাংসার চেষ্টা করছিল। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে আমাদের থানা পর্যন্ত সংবাদ চলে আসে। পরে সোমবার রাতেই শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলেও ওইদিন মধ্যরাতেই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত সাইফুল খাঁকে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাঁকে আজ মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে পাঠানোর পর বিজ্ঞ আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে নিজ মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে শহিদুল ইসলাম (৩৩) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।আজ সোমবার দুপুর সোয়া একটার দিকে রাজবাড়ী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তহিদুল ইসলাম এ রায় দেন।দণ্ডপ্রাপ্ত শহিদুল ইসলাম বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের পাকালিয়া গ্রামের মৃত মকছেদ ফকিরের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি এখনও পলাতক রয়েছেন।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১২ জানুয়ারি শহিদুল ইসলামের স্ত্রী বাদী হয়ে জেলার বালিয়াকান্দি থানায় তাঁর স্বামী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এজাহারে বলা হয়, ২০২১ সালের ২৮ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে শহিদুল ইসলাম তাঁর মেয়ের শয়নকক্ষে ঢুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এর আগে ওই বছর ২৫ নভেম্বর রাত একটার দিকে এবং একই বছরের এর আগেও প্রায় এক বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছে বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়।এজাহারে আরও বলা হয়, স্বামীকে এসব কাজে বাধা দিলে বাদী ও তাঁর মেয়েকে মারধর এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হতো। পরে বাদী নিজে তাঁর বাবার বাড়ির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে বালিয়াকান্দি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।রায়ের ব্যাপারে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে মামলার বাদী ভিকটিমের মা বলেন, মামলা দায়েরের পর থেকে আসামী তার স্বামী পলাতক রয়েছেন। এ রায়ে তিনি সন্তুষ্টু রয়েছেন। তবে আসামীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান।মামলার আইনজীবী জাহিদ উদ্দিন মোল্লা বলেন, ধর্ষণের মামলায় আদালত শহিদুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। রাজবাড়ীর কালেক্টরকে আসামীর স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ নিলামে বিক্রয় করে ওই অর্থ এই ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। ক্ষতিপূরণের অর্থ এই ট্রাইব্যুনালে জমা হওয়া সাপেক্ষে তা ভিকটিমকে প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়। রায়ে বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট। তবে আসামি পলাতক রয়েছেন। আসামীর আত্মসমর্পন বা গ্রেপ্তারকাল থেকে রা কার্যকর হবে।