নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার মুচিদাহ খামারডাঙ্গী গ্রামের কাতার প্রবাসী আনিছুর রহমানের স্ত্রী রুনা খাতুনকে (৩০) শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে তিন বছর পর মামলার প্রধান আসামি প্রতিবেশী যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে রাজবাড়ীর বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ইউসুফ হোসেন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামির নাম মিলন শেখ (৩০)। তিনি নিহত গৃহবধু রুনা খাতুনের প্রতিবেশী খলিল শেখের ছেলে।
রায় ঘোষণার পর আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটার (এপিপি) মো. আইয়ুব আলী খান বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো ন্যায় বিচার এখনও আছে এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতা অক্ষুন্নু থাকবে। এ মামলার অপর দুই আসামি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় তাদের নারী ও শিশু আদালতে পাঠানো হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর আসামিকে আদালত থেকে বের করে রাজবাড়ী জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। এ সময় মিলন শেখকে বিমর্ষ ও কান্নারত অবস্থায় দেখা যায়। কারাগারে মিলন শেখকে পাঠানোর সময় পিছনে হাঁঠতে ছিলেন স্ত্রী চম্পা খাতুন এবং তাঁর দুই শিশু সন্তান।
মিলনের স্ত্রী চম্পা খাতুন রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে কান্নারত অবস্থায় বলেন, “বাবা ছাড়া ইসরাফিল শেখ (১২) ও মিরা খাতুন (৫) নামের দুই শিশু সন্তান নিয়ে আমি এখন কোথায় যাবো। আমাদের প্রতি অবিচার করা হয়েছে। আমরা এ রায়ের ব্যাপারে উচ্চ আদালতে আপিল করার মতোও আমার সামর্থ্য নেই। আমাদের আল্লাহ ছাড়া এখন দেখার কেউ নেই।”
রায়ের পর নিহত রুনা খাতুনের বড় ভাই ও মামলার বাদী রায়হান বিশ্বাস বলেন, তিনি আসামির মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করেছিলেন। তিনি বলেন, আসামি আমার ছোট বোনের বাড়ি দেখাশোনা করতো। তার অ্যান্ড্রয়েট ফোনে থাকা বিকাশের টাকা এবং স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিতে বোনকে হত্যা করা হয়েছে। মিলনের সাথে অভিযুক্ত দুইজনের বয়স কম হওয়ায় শিশু কিশোর আদালতে কি হয় সে অপেক্ষায় আছি।
জানা যায়, পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের মুচিদাহ খামারডাঙ্গী গ্রামের প্রবাসী আনিছুর রহমান খামারডাঙ্গী গ্রামের নতুন বাড়ি করেন। স্ত্রী রুনা খাতুন, কন্যা সিনহা আক্তার (৯) ও হুসাইন নামের দেড় বছরের ছেলে রেখে আনিছুর রহমান কাতার পাড়ি দেন। প্রতিবেশী মিলন তাদের বাড়ি দেখভাল করতেন। ২০২৩ সালের ১৯ আগষ্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুই সন্তান নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। দেড়টার দিকে শিশু সন্তান হুসাইন কান্না করলে পাশে থাকা সিনহার ঘুম ভেঙে যায়। বিছানায় মাকে না পেয়ে বারান্দায় মিলনকে এবং উঠানে দুই পা বাধা মায়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে সিনহা চিৎকার দিলে মিলনসহ অজ্ঞাত দুইজন পালিয়ে যায়। আশপাশের লোকজন এসে রুনার মরদেহ দেখতে পায়। পরদিন সকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। নিহতের বড় ভাই রায়হান বিশ^াস বাদী হয়ে ২০ আগষ্ট মিলনকে প্রধান অভিযুক্ত এবং অজ্ঞাত দুইজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।
পুলিশ অভিযুক্ত মিলন (২৮) সহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার একই গ্রামের আলম হোসেনের ছেলে তেছেম সরদার (১৬) ও কাজেম জোয়াদ্দারের ছেলে রিয়াজ জোয়াদ্দারকে (১৫) গ্রেপ্তার করে। ২১ আগষ্ট দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তৎকালিন পুলিশ সুপার জি. এম. আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রবাসীর স্ত্রী রুনা খাতুনকে বিকাশের টাকা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে হত্যা করা হয়। হত্যার ১২ ঘন্টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত মিলন শেখসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার মুচিদাহ খামারডাঙ্গী গ্রামের কাতার প্রবাসী আনিছুর রহমানের স্ত্রী রুনা খাতুনকে (৩০) শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে তিন বছর পর মামলার প্রধান আসামি প্রতিবেশী যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে রাজবাড়ীর বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ইউসুফ হোসেন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামির নাম মিলন শেখ (৩০)। তিনি নিহত গৃহবধু রুনা খাতুনের প্রতিবেশী খলিল শেখের ছেলে।
রায় ঘোষণার পর আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটার (এপিপি) মো. আইয়ুব আলী খান বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো ন্যায় বিচার এখনও আছে এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতা অক্ষুন্নু থাকবে। এ মামলার অপর দুই আসামি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় তাদের নারী ও শিশু আদালতে পাঠানো হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর আসামিকে আদালত থেকে বের করে রাজবাড়ী জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। এ সময় মিলন শেখকে বিমর্ষ ও কান্নারত অবস্থায় দেখা যায়। কারাগারে মিলন শেখকে পাঠানোর সময় পিছনে হাঁঠতে ছিলেন স্ত্রী চম্পা খাতুন এবং তাঁর দুই শিশু সন্তান।
মিলনের স্ত্রী চম্পা খাতুন রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে কান্নারত অবস্থায় বলেন, “বাবা ছাড়া ইসরাফিল শেখ (১২) ও মিরা খাতুন (৫) নামের দুই শিশু সন্তান নিয়ে আমি এখন কোথায় যাবো। আমাদের প্রতি অবিচার করা হয়েছে। আমরা এ রায়ের ব্যাপারে উচ্চ আদালতে আপিল করার মতোও আমার সামর্থ্য নেই। আমাদের আল্লাহ ছাড়া এখন দেখার কেউ নেই।”
রায়ের পর নিহত রুনা খাতুনের বড় ভাই ও মামলার বাদী রায়হান বিশ্বাস বলেন, তিনি আসামির মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করেছিলেন। তিনি বলেন, আসামি আমার ছোট বোনের বাড়ি দেখাশোনা করতো। তার অ্যান্ড্রয়েট ফোনে থাকা বিকাশের টাকা এবং স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিতে বোনকে হত্যা করা হয়েছে। মিলনের সাথে অভিযুক্ত দুইজনের বয়স কম হওয়ায় শিশু কিশোর আদালতে কি হয় সে অপেক্ষায় আছি।
জানা যায়, পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের মুচিদাহ খামারডাঙ্গী গ্রামের প্রবাসী আনিছুর রহমান খামারডাঙ্গী গ্রামের নতুন বাড়ি করেন। স্ত্রী রুনা খাতুন, কন্যা সিনহা আক্তার (৯) ও হুসাইন নামের দেড় বছরের ছেলে রেখে আনিছুর রহমান কাতার পাড়ি দেন। প্রতিবেশী মিলন তাদের বাড়ি দেখভাল করতেন। ২০২৩ সালের ১৯ আগষ্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুই সন্তান নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। দেড়টার দিকে শিশু সন্তান হুসাইন কান্না করলে পাশে থাকা সিনহার ঘুম ভেঙে যায়। বিছানায় মাকে না পেয়ে বারান্দায় মিলনকে এবং উঠানে দুই পা বাধা মায়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে সিনহা চিৎকার দিলে মিলনসহ অজ্ঞাত দুইজন পালিয়ে যায়। আশপাশের লোকজন এসে রুনার মরদেহ দেখতে পায়। পরদিন সকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। নিহতের বড় ভাই রায়হান বিশ^াস বাদী হয়ে ২০ আগষ্ট মিলনকে প্রধান অভিযুক্ত এবং অজ্ঞাত দুইজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।
পুলিশ অভিযুক্ত মিলন (২৮) সহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার একই গ্রামের আলম হোসেনের ছেলে তেছেম সরদার (১৬) ও কাজেম জোয়াদ্দারের ছেলে রিয়াজ জোয়াদ্দারকে (১৫) গ্রেপ্তার করে। ২১ আগষ্ট দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তৎকালিন পুলিশ সুপার জি. এম. আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রবাসীর স্ত্রী রুনা খাতুনকে বিকাশের টাকা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে হত্যা করা হয়। হত্যার ১২ ঘন্টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত মিলন শেখসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

আপনার মতামত লিখুন