নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যাত্রা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রাজবাড়ী প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের এ যাত্রার শুভ উদ্বোধন করেন সংগঠনটির সভাপতি নতুন প্রজন্ম উদ্যোক্তা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাগুফতা সুলতানা। সংবাদ সম্মেলনে যাত্রা শুরুর উদ্বোধনী দিনে উইমেন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সাগুফতা সুলতানা বলেন, রাজবাড়ীর চেম্বার নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক তৈরীর পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন মেন্টরশিপ, ব্যবসায়ী পরামর্শ, বাজার সংযোগ বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে চায়। তিনি আরো বলেন, রাজবাড়ীর উৎপাদিত পণ্য স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, সঠিক মান প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং, বাজার সংযোগের মাধ্যমে ও আন্তর্জাতিক বাজারেও জায়গা করে নেবে। সাগুফতা সুলতানা বলেন, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে কোন দয়া বা অনুগ্রহের বিষয় নয়, এটি নারীর অধিকার। একটি দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংশ হিসেবে কাজ করতে চায় রাজবাড়ী উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। তিনি আরো জানান, চলতি বছরের গত ৩ সেপ্টেম্বর গঠিত ১৩ সদস্য বিশিষ্ট দ্বি-বার্ষিক কমিটিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে কার্যক্রম চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে রাজবাড়ী উইমেন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতিকে চিঠি প্রদান করেন। চেম্বার এর মূল প্রত্যয় উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁদের সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস বিকাশের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী নারী উদ্যোক্তাসমাজ গড়ে তোলার কথা বলা হয়। নতুন প্রজন্ম উদ্যোক্তা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও উইমেন চেম্বারের সভাপতি সাগুফতা সুলতানা ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মেহেরবা নিগার পারভীন, ফরিদা খাতুন, শামীমা খাতুন, ইয়াসমিন আক্তার, তাহমিনা বাড়ি বনানী, মমতাজ বেগম, আমিনা খাতুন, তাহামিনা খন্দকার, ফরিদা খাতুন প্রমুখ।
অনলাইন জরিপ
রাজনীতি
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যাত্রা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রাজবাড়ী প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের এ যাত্রার শুভ উদ্বোধন করেন সংগঠনটির সভাপতি নতুন প্রজন্ম উদ্যোক্তা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাগুফতা সুলতানা। সংবাদ সম্মেলনে যাত্রা শুরুর উদ্বোধনী দিনে উইমেন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সাগুফতা সুলতানা বলেন, রাজবাড়ীর চেম্বার নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক তৈরীর পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন মেন্টরশিপ, ব্যবসায়ী পরামর্শ, বাজার সংযোগ বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে চায়। তিনি আরো বলেন, রাজবাড়ীর উৎপাদিত পণ্য স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, সঠিক মান প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং, বাজার সংযোগের মাধ্যমে ও আন্তর্জাতিক বাজারেও জায়গা করে নেবে। সাগুফতা সুলতানা বলেন, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে কোন দয়া বা অনুগ্রহের বিষয় নয়, এটি নারীর অধিকার। একটি দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংশ হিসেবে কাজ করতে চায় রাজবাড়ী উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। তিনি আরো জানান, চলতি বছরের গত ৩ সেপ্টেম্বর গঠিত ১৩ সদস্য বিশিষ্ট দ্বি-বার্ষিক কমিটিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে কার্যক্রম চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে রাজবাড়ী উইমেন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতিকে চিঠি প্রদান করেন। চেম্বার এর মূল প্রত্যয় উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁদের সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস বিকাশের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী নারী উদ্যোক্তাসমাজ গড়ে তোলার কথা বলা হয়। নতুন প্রজন্ম উদ্যোক্তা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও উইমেন চেম্বারের সভাপতি সাগুফতা সুলতানা ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মেহেরবা নিগার পারভীন, ফরিদা খাতুন, শামীমা খাতুন, ইয়াসমিন আক্তার, তাহমিনা বাড়ি বনানী, মমতাজ বেগম, আমিনা খাতুন, তাহামিনা খন্দকার, ফরিদা খাতুন প্রমুখ।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা একটি লোকাল বাস আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে মুক্তার হোসেন মোল্লা (৩২) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত যুবকের নাম মুক্তার হোসেন মোল্লা গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ফৈজুদ্দিন মাতুব্বর পাড়ার আরজান মোল্লার ছেলে। এছাড়া সে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরের দিকে মুক্তারের নিজ বাড়ি হতে তাকে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ। এর আগে গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিনবাগত রাত ১ টার দিকে মা ক্লাসিক্যাল নামের ওই লোকাল বাসটিতে অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি ঘটে। আগুনে বাসটির অনেকাংশ পুড়ে গেছে। তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।এ ঘটনায় বাস মালিক এসএম সুলতান আহমদ বাদী হয়ে পরদিন রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অজ্ঞাতনামা ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিকে ঘিরে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য বাসে এ অগ্নিসংযোগ করা হতে পারে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম জাানান, সন্ধিগ্ধ আসামী হিসেবে মুক্তার হোসেন মোল্লাকে বাস পোড়ানোর ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর সোমবার দুপুরে রাজবাড়ীর বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। সে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সম্পাদক বলে জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় মামলার তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া বাস টার্মিনালে পার্কিং করা ‘মা ক্লাসিক্যাল’ নামক লোকাল বাসে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দিবাগত রাত একটার দিকে বাসটিতে আগুন দেখা দেয়। এ সময় বাসটিতে চালক-সহকারী কেউ ছিলেন না। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের কর্মীরা আগুন নেভায়। বাস শ্রমিকদের ধারণা, দুর্বৃত্তরা গান পাউডার জাতীয় কোনো পদার্থ ব্যবহার করে আগুন দিয়েছে। টার্মিনালে থাকা শ্রমিকেরা জানান, রাজবাড়ী জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের আওতাধীন ‘মা ক্লাসিক্যাল’ নামক বাস দৌলতদিয়া-কুষ্টিয়া রুটে চলাচল করে। শনিবার রাতে ট্রিপ দেয়া শেষে দৌলতদিয়া টার্মিনালে বাসটি পার্কিং করে রাখা হয়। রাত একটার দিকে হঠাৎ করে বাসটির পিছন থেকে আগুন জ¦লতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। তারা দ্রুত গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনে খবর দেয়। খবর পেয়ে পায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নেভায়। অগ্নিকাÐের প্রাথমিক কারন বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ‘মা ক্লাসিক্যাল’ বাস চালক উজ্জল মণ্ডল বলেন, কুষ্টিয়া থেকে যাত্রীর ট্রিপ মারা শেষে শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে দৌলতদিয়া টার্মিনালে রেখে হেলপারকে সবকিছু দেখে তালা মারার কথা বলে সাড়ে ৬টার দিকে তিনি রাজবাড়ীর বানিবহ বাড়ি চলে যান। রাত দেড়টার দিকে তাঁর কাছে স্থানীয়রা ফোন করে বাসে আগুন লাগার বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে ঘাটে এসে দেখেন বাসটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। বাসের ভিতর কেউ ছিলেন না, এমনকি দরজাও তালাবদ্ধ ছিল? তার ধারণা দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে। বাসটির তত্বাবধায়ক (সুপার ভাইজার) সিরাজুল ইসলাম বলেন, শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাসটি টার্মিনালে রেখে তিনিসহ চালক ও সহকারী সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে যার যার বাড়ি চলে যান। এ সময় বাসটির সকল জানালা ভালো করে লাগিয়ে এবং দরজা তালাবদ্ধ করে ভালো বাস রেখে যান। রাত একটার দিকে অন্য পরিবহনের সুপারভাইজারের কাছ থেকে ফোন পেয়ে টার্মিনালে এসে দেখেন বাসটি সম্পূর্ণ পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, বাসটির পিছন থেকে স্থানীয়রা হঠাৎ আগুন দেখতে পান। মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে সম্পূর্ণ বাসটি পুড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন গাড়ির দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে। স্বাভাবিকভাবে আগুন লাগলে এত দ্রæত বাসটি পোড়ার কথা না। তাঁদের ধারণা, দুর্বৃত্তরা গান পাউডার জাতীয় ধাতব পদার্থ ব্যবহার করায় দ্রæত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ বাসটি পুড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে অন্তত ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ বিষয়ে তারা পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নিবেন। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, রাত একটার কিছুক্ষণ পরই আমরা খবর পাই। এ সময় বাস থেকে কয়েক গজ দূরে স্থানীয় কাঁচাবাজারের সামনে আমাদের টহলরত পুলিশ ছিল। দ্রæত তারা ঘটনাস্থলে পৌছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অন্যান্য বাস সরিয়ে ফেলা হয়। বাসটিতে আগুন লাগার প্রাথমিক কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী সদর উপজেলার ৫ নং বরাট ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয় অন্যত্র স্থানান্তর প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার পাচুরিয়া রেলওয়ে ষ্টেশন প্লাটফর্মে ৫ নং বরাট ইউনিয়ন স্থানান্তর প্রতিরোধ কমিটির ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। মরডাঙ্গা সেকেন্দারিয়া ফাজিল ডিগ্রী মাদারাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষক আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বরাট নবগ্রাম বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুস সাত্তার, বরাট ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নং ওয়ার্ড সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম, রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতাল নার্সিং কর্মকর্তা, স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল প্রামানিক, বরাট নবগ্রাম বাজারের পল্লী চিকিৎসক আব্দুল মালেক, বরাট ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল হালিম মিয়া, স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি আব্দুস সাত্তার বেপারী প্রমূখ।বক্তারা বরাট ইউনিয়ন পরিষদ ভবন স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও স্থানীয় জনগণের সুবিধার কথা বিবেচনা করে বর্তমান স্থানেই ইউপি ভবন রাখা প্রয়োজন। ভবনটি অন্যত্র স্থানান্তর করা হলে স্থানীয়দের ভোগান্তি বাড়বে বলে জানান।তারা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান ভবন ও জমির সঙ্গে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এ কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ জোন গড়ে উঠেছে। এখানে ঐতিহ্যবাহী পাচুরিয়া রেলস্টেশন, ব্যাংক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ প্রায় ৭০০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ইউপি ভবন স্থানান্তর করলে ব্যবসায়ীসহ স্থানীয়দের চরম ভোগান্তি ও নানা সংকটে পড়তে হবে।বরাট নবগ্রাম বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুস সাত্তার বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা তৎকালীন মাখন লাল পোদ্দারের কাছ থেকে ১৯৬১ সালে প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান খোন্দকার অলিয়ার রহমান নিজে প্রায় ৫৪ শতাংশ জমি ইউনিয়ন পরিষদের নামে ক্রয় করেন। এরপর থেকে ওই জায়গায় বরাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) কার্যক্রম চলতে থাকে। দীর্ঘ সময় এখানে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চলায় এখানে বাজার সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেছে। অথচ পরিষদের জন্য নতুন ভবন নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ আসায় একটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। শিক্ষক আলতাফ হোসেন বলেন, বরাট ইউনিয়ন পরিষদকে কেন্দ্র করে প্রায় ৭০০ পরিবার বসবাস করছেন। এখানে বাজার, নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন আর্থিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। উড়াকান্দার যেখানে ইউনিয়ন পরিষদ স্থাপন করতে চান, তার থেকে মাত্র ১৫০ মিটার দূরেই পদ্মা নদী। অথচ বর্তমান সরকার তরুণদের মাদকের হাত থেকে রক্ষায় খেলাধুলার প্রতি বেশি মনোযোগী হচ্ছেন। অথচ একটি মহল খেলাধুলার মাঠ বন্ধ করে সেখানে ইউনিয়ন পরিষদ স্থাপন করতে চায়। আমরা তা হতে দিবনা। প্রয়োজন রেলপথ, সড়ক পথ অবরোধ করে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। অন্যান্য বক্তারা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন কোথায় থাকবে, সে বিষয়ে স্থানীয় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, জনগণের সুবিধা এবং ইউনিয়ন পরিষদের নামে ক্রয় করা জমির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান স্থানেই পরিষদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি জানান তারা।উড়াকান্দা এলাকার কয়েকজন জানান, ১৯৯৪ সালে স্থানীয় দানশীল ব্যক্তি আলহাজ্ব আব্দুল করিম মোল্লা বরাট ইউনিয়ন পরিষদের নামে ৩৩ শতাংশ জমি দান করেন। এছাড়া পরবর্তীতো আরও কিছু জমি দান করেন। জমিটি পরিত্যক্ত থাকায় স্থানীয় যব সমাজ খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করেন। এছাড়া উড়াকান্দা বরাট ইউনিয়নের মধ্যবর্তী এলাকা হওয়ায় ওই এলাকার বাসিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদ স্থানান্তের জন্য কয়েক মাস আগে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি পেশ করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ ‘মেধা, সততা, দেশপ্রেমে গড়ি ইনসাফের বাংলাদেশ’ এই স্লোগানে রাজবাড়ীতে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৪ শতাধিক শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রাজবাড়ী জেলা শাখার উদ্যোগে শহরের রাজবাড়ী কনভেনশন সেন্টারে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি আবু তাহের এম তানভীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা। এ সময় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজবাড়ী জেলা আমীর অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম ও ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ তাহকিক।অনুষ্ঠানের শুরুতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ফুল ও ইসলামী বই দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে তাদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়।প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, শুধু ভালো ফলাফল অর্জন কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়াই জীবনের সফলতা নয়। শিক্ষার্থীদের সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। মাদক ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে থেকে সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।রাজবাড়ী জেলা জামায়াতের আমীর ও কেন্দ্রীয় কমিটির সূরা সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যৎ। ভালো ফলাফলের পাশাপাশি তাদের নৈতিকতা, সততা ও দেশপ্রেমের চেতনায় নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। জ্ঞান ও মেধাকে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ছেলেকে মাদক সহ আটকের কথা বলে পরিবারের থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ পেয়ে সদর থানা পুলিশ বিকাশ প্রতারণা চক্রের দুই সদস্যকে ফরিদপুর ও মুন্সিগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মটরা গ্রামের মৃত এরফান মাতুব্বরের ছেলে চাঁন মিয়া (৫৪) এবং একই গ্রামের রোকন মাতুব্বরের ছেলে হাফিজুল মাতুব্বর (৩০)।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন রাজবাড়ী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ।পুলিশ জানায়, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও মুন্সীগঞ্জের পদ্মা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ২ লাখ ২২ হাজার ৫০ টাকা, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ছয়টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, দুটি বাটন ফোন এবং বিভিন্ন অপারেটরের ১২টি মুঠোফোনের সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলাদিপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মোন্নাফ শেখ জানান, তাঁর ছেলে হুসাইন শেখ (২২) ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজে পড়াশোনা করেন। প্রতিদিন তিনি রাজবাড়ী থেকে ফরিদপুরে যাতায়াত করেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে মোন্নাফ শেখ রাজবাড়ী সদর থানাধীন মাটিপাড়া বাজারের চার রাস্তার মোড়ে অবস্থানকালে ০১৩৫০৭৯৯৯০৮ নম্বর থেকে তাঁর মোবাইল ফোনে কল আসে। কলদাতারা নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে জানান, তাঁর ছেলে হুসাইন শেখ ও তাঁর দুই বন্ধুকে মাদকদ্রব্যসহ আটক করা হয়েছে। এ সময় কলদাতারা তাঁর কাছে ৭০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে মাদক মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানোর হুমকি দেন। মোন্নাফ শেখ ছেলের কথা চিন্তা করে তিনি কথিত ওই ব্যক্তিদের দাবিতে সম্মত হন। টাকা পাঠানোর জন্য তাঁকে ০১৮৩৪২৭৫২১৩ নম্বরের একটি পার্সোনাল বিকাশ অ্যাকাউন্ট নম্বর দেওয়া হয়। পরে মোন্নাফ শেখ, আলাদিপুর বাজারের বিভিন্ন দোকান থেকে বিকাশের মাধ্যমে সব মিলিয়ে তিন দফায় ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন। টাকা পাঠানোর পর ওই ব্যক্তিদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে ফোন করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বাড়িতে ফিরে মোন্নাফ শেখ দেখতে পান, তাঁর ছেলে হুসাইন বাড়িতেই রয়েছেন। তখন তিনি বুঝতে পারেন, প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে তিনি ৫০ হাজার টাকা খুইয়েছেন। পরে তিনি সদর থানায় এসে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে ওই টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এজাহার দায়ের করেন। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।সাধারণ মানুষকে এ ধরনের প্রতারণার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে কেউ ফোন করে গ্রেপ্তার, মামলা বা ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা চাইলে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনোভাবেই টাকা পাঠানো উচিত নয়। এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।
বিনোদন
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ আবহমান বাংলার ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে রাজবাড়ীর কালুখালীতে শেষ হলো তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলা। কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের মহেন্দ্রপুর খেয়াঘাট সংলগ্ন পদ্মার শাখা নদীতে বুধবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। পাবনার আমিনপুর উপজেলার চর গোবিন্দপুর থেকে আসা নৌকাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় পাবনার সৈয়দপুরের নিউ শাপলা নৌকা। এছাড়া প্রতিযোগিতায় চর গোবিন্দপুরের নৌকা দ্বিতীয় এবং খয়রান একতা চ্যালেঞ্জার নামক নৌকা তৃতীয় স্থান অর্জন করে। প্রতিযোগিতায় মোট ৮টি নৌকা অংশ গ্রহণ করে। বিজয়ী নৌকাকে মোটরসাইকেল এবং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী নৌকাগুলোর মধ্যে রিফ্রেজারেটর প্রদান করা হয়।পদ্মার পাড়ে তিন দিনব্যাপী নৌকা বাইচ এবং গ্রামীণ মেলায় দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় পড়ে। মুখরোচক খাবার সহ নানা ধরনের পণ্যের পসরা বসে পদ্মার পাড়ে। মেলা ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ আর উদ্দীপনা দেখা দেয়। কালুখালীসহ আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে মহেন্দ্রপুর পদ্মার পাড়ে জড়ো হন।মহেন্দ্রপুর খেয়াঘাট মেলা কমিটির আয়োজনে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান তোতার সঞ্চালনায় নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় উপস্থিত ছিলেন, পাংশা উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ আলী খান, পাংশা পৌর বিএনপির সভাপতি বাহারাম হোসেন সরদার, কালুখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি লুৎফর রহমান খান, রাজবাড়ী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব তুহিনুর রহমান, কালুখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রকিবুল হাসান প্রমূখ। এছাড়াও অনুষ্ঠান উপভোগ করতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিন দিনব্যাপী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলার উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কালুখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোটেক রকিবুল হাসান, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহŸায়ক কে এম আইনুল হাবীব, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মনজুর হোসেন মঞ্জু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব তুহিনুর রহমান, কালুখালী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জামাল খান প্রমূখ। উদ্বোধনী দিনে চারটি নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে। প্রথম প্রতিযোগিতায় উলাট একতা এক্সপ্রেসকে হারিয়ে বিজয়ী হয় ‘নিউ শাপলা’ নামক নৌকা। দ্বিতীয় বাইচে ‘চর গোবিন্দপুরের নৌকা’কে হারিয়ে বিজয়ী হয় ‘নিউ জনতার সংগ্রাম’, তৃতীয় বাইচে হয় ‘দুলদুল এক্সপ্রেস’কে হারিয়ে বিজয়ী হয় ‘খয়রানা একতা চ্যালেঞ্জার’ এবং শেষ বাইচে ‘কুষ্টিয়ার লালন’কে হারিয়ে বিজয়ী হয় পাবনার সুজানগরের ‘শিমুল একতা এক্সপ্রেস’। আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব তুহিনুর রগমান বলেন, নৌকাবাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি আবহমান গ্রামবাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হারিয়ে যেতে বসা এ ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এমন আয়োজন করা হয়েছে।
সুমন বিশ্বাস, রাজবাড়ীঃ একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিমের ৭৬ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজবাড়ীতে নানা আয়োজনে স্মরণ করা হয়েছে এই গুণী শিল্পীকে। শনিবার রাজবাড়ী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মনসুর উল করিম স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং কেক কাটার মধ্য দিয়ে জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, "মনসুর উল করিম শুধু রাজবাড়ীর নন, তিনি বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। রাজবাড়ীর মাটিতে তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। তাঁর সৃষ্টিকর্ম আজও শিল্পপ্রেমীদের অনুপ্রাণিত করে। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর শিল্পকর্ম ও জীবনাদর্শ তুলে ধরতে আমাদের আরও উদ্যোগী হতে হবে।"প্রতিমন্ত্রী বলেন, "রাজবাড়ীর সাংস্কৃতিক বিকাশে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জেলার শিল্প-সংস্কৃতির প্রসারে একটি আধুনিক কালচারাল কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই এর নির্মাণকাজ শুরু হবে। এছাড়া রাজবাড়ীর অ্যাক্রোবেটিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে আরও আধুনিক ও কার্যকরভাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি ভবিষ্যতে জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।" মনসুর উল করিম স্মৃতি পরিষদের আহ্বায়ক কবি খোকন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল, চিত্রশিল্পী মনসুর করিম স্মৃতি সংসদের সদস্য সচিব আজিজা খানম, উপদেষ্টা চৌধুরী আহসানুল করিম হিটু, নূরুল হক আলম, জেলা কালচারাল অফিসার সুজিত কুমার সাহা, মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি সংসদের আহ্বায়ক কবি সালাম তাসির, রাজবাড়ী বাংলা একাডেমির সভাপতি সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমানসহ চিত্রশিল্পী মনসুর করিম স্মৃতি সংসদের অন্যান্য সদস্য, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।আলোচনা সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিম তাঁর সৃষ্টিশীলতা, নান্দনিক চিন্তা ও শিল্পকর্মের মাধ্যমে দেশের শিল্পাঙ্গনে অনন্য অবদান রেখে গেছেন। তাঁর স্মৃতি ও কর্ম নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।পরে অতিথিরা কেক কেটে মনসুর উল করিমের ৭৬ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করেন। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।উল্লেখ্য, চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিম ১৯৫০ সালের ১৪ জুলাই রাজবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ শিল্পজীবনে তিনি দেশ-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করেন এবং শিল্পকলায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে একুশে পদকে ভূষিত হন। ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর শিল্পকর্ম আজও বাংলাদেশের চারুকলার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
আব্দুল হালিম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে গান, নৃত্য ও ফলাহারের মধ্য দিয়ে উদীচীতে বর্ষা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী রাজবাড়ী জেলা কমিটির উদ্যোগে শহরের আজাদী ময়দান সংলগ্ন সংগঠনের মিলনায়তনে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়।আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা উদীচীর সহসভাপতি আজিজুল হাসান খোকা। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা উদীচীর সংগীত বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল জব্বার। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উদীচী কেন্দ্রীয় কমিটির সংগীত বিষয়ক সম্পাদক সুরাইয়া পারভীন, সদস্য শিখা কর্মকার। এতে স্মৃতিচারণ মূলক বক্তব্য দেন জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কমরেড আব্দুস সামাদ মিয়া, রাজবাড়ী নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফকীর শাহাদত হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা চিত্রশিল্পী মো. গোলাম আলী, রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক এম দেলোয়ার হোসেন, রাজবাড়ী বৈচিত্র্য সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি আজাদ সিদ্দিকী মিলন, জেলা উদীচীর সাংগঠনিক সম্পাদক ধীরেন্দ্র নাথ দাস প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক এজাজ আহম্মেদ। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ছয়টি ঋতুর মধ্যে বর্ষা ঋতু হলো মধুর ঋতু। এই ঋতু শুরু হলে প্রকৃতি হাঁসে। প্রকৃতি জীবন্ত হয়ে ওঠে। চারপাশ সবুজে ভরে যায়। প্রবীণ তার কৈশোরে ফিরে যায়। তবে মানুষ আজ প্রকৃতি ধ্বংস করে ফেলছে। নিয়মিত বনায়ন ধ্বংস করা হচ্ছে। একারণে বর্ষার প্রকৃত রূপ এখন আর দেখা যায় না। বর্ষাকে বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের বেশি বেশি গাছ রোপণ করতে হবে। প্রকৃতি সুন্দর হলে এই পৃথিবী আরও সুন্দর হবে।অনুষ্ঠানে উদীচী ও রাবেয়া কাদের স্মৃতি পাঠাগারের শিল্পীরা সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা করেন
মঈনুল হক, গোয়ালন্দ রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে ঘোষিত নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭ এর শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানের শুরুতে ভার্চ্যুয়ালি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ টেলিকাস্ট) উপভোগ করেন উপস্থিত অতিথি ও দর্শকরা। পরে স্থানীয়ভাবে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাসের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি (তদন্ত) মো. রাশিদুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার দাস, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু মোল্লা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবলু, নাজিরুল ইসলাম তিতাস, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মোল্লা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আবু সাঈদ মণ্ডল সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।উপজেলা প্রশাসন জানায়, তিন দিনব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে প্রথম দিনে আলোচনা সভা, উদ্ভোধনী সংগীত (চল চল), সমবেত সংগীত, সমবেত নৃত্য, আবৃত্তি, একক সংগীত ও নৃত্য, দ্বিতীয় দিনে নজরুলের উপর রচনা, আবৃত্তি, নজরুল সংগীত ও নৃত্য প্রতিযোগিতা, তৃতীয় দিনে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে লালন, দেশত্ববোধক, ভাটিয়ালি সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনা সভায় বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর জীবন, সাহিত্যকর্ম, দেশপ্রেম, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, বিদ্রোহ, সাম্য ও মানবতার কবি নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত আজও বাঙালির স্বাধীনতার চেতনা, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মূল্যবোধের অন্যতম প্রেরণার উৎস। নতুন প্রজন্মের মাঝে নজরুলের আদর্শ, সাহিত্য ও সংগীত ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা মন্তব্য করেন।আলোচনা সভা শেষে নজরুল সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, দর্শন ও সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।
ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে দেশব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’-এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি দেশের ৬৪ জেলা এবং নির্বাচিত ৭৪টি উপজেলায় একযোগে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’-এর স্মারক ও ডাক টিকিট অবমুক্ত, লোগো উন্মোচন ও নজরুল বর্ষের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে রাজবাড়ীতেও শুরু হলো ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭-এর কর্মসূচি। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে বছরব্যাপী নানা সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক আয়োজনের মাধ্যমে এ বর্ষ উদযাপন করা হবে।সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি বক্তব্য রাখেন।বিশেষ অতিথি হিসেবে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি; তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডাঃ জাহেদ উর রহমান ও মন্ত্রী পরিষদের সচিব ডঃ নাসিমুল গনি বক্তব্য।এদিকে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মিয়া, সিভিল সার্জন ডাঃ এস এম মাসুদ, স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক কল্যাণ চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ তারিফ-উল-হাসান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ্যাডঃ লিয়াকত আলী বাবু, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবীব, রাজবাড়ী সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজে অধ্যক্ষ প্রফেসর রেজভি জামান, রাজবাড়ী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর মোস্তফা কামাল সহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিসহ সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বছরব্যাপী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।উল্লেখ্য, গত ২৫ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে এ বছরের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত এক বছর নজরুল বর্ষ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।
সোহাগ মিয়া, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের হামিদ মৃধার হাট এলাকায় ব্যতিক্রমী ঘটনার জন্ম দিয়েছেন আলাল মোল্লা নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে সে এলাকায় আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের ঘোর সমর্থক হিসেবে পরিচিত থাকলেও এবার তিনি প্রকাশ্যে দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরান ফুটবল দলের সমর্থক হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এমন ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাত ৯টার দিকে হামিদ মৃধার হাট বাজারে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে আলাল মোল্লা তাঁর কর্মী সমর্থকদের জড়ো হন। এ সময় তিনি দুধ দিয়ে গোসল করে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নতুন ইসলামী রাষ্ট্র ইরানের পক্ষে অবস্থানের কথা ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণার পর মুহূর্তেই তাঁর কর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তোলে। একই সাথে বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। বাজারে উপস্থিত অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেন, আবার কেউ কেউ বিষয়টিকে ব্যক্তিগত পছন্দ ও মতামতের স্বাধীনতা হিসেবেও দেখেন।আলাল মোল্লা বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক ছিলাম। তবে ব্যক্তিগত চিন্তা-ভাবনা ও ধর্মীয় অনুভূতি থেকে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আজ থেকে আমি ইরান দলকে সমর্থন করব। আমি আর কখনো আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেব না। এজন্য দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরান ফুটবল দলের সমর্থক হয়েছি।তার এই ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয় যুবকদের মধ্যে কেউ বিষয়টিকে মজার ঘটনা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে একজন সমর্থকের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন।স্থানীয় হামিদ মৃধা হাট এরাকার আক্কাস সরদার, আব্বাস মোল্লা, জামাল হোসেন, হারুন ব্যাপারী সহ অনেকে জানান, সাধারণত ফুটবল দল পরিবর্তনের ঘটনা নতুন নয়। তবে প্রকাশ্যে দুধ দিয়ে গোসল করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে এক দলের সমর্থন ছেড়ে অন্য দলের প্রতি সমর্থন জানানোর ঘটনা এলাকায় খুব একটা দেখা যায় না। ফলে আলাল মোল্লার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।এ বিষয়ে স্থানীয় নুরুল ইসলাম, আহম্মদ আলী শেখ সহ অনেকের ভাষ্য, খেলাধুলা মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। যে কেউ নিজের পছন্দ অনুযায়ী যে কোনো দলকে সমর্থন করতে পারেন। আলাল মোল্লার এই ঘোষণাও তার ব্যক্তিগত মতামত ও পছন্দেরই বহিঃপ্রকাশ।ব্যতিক্রমী এই দলবদলের ঘটনা এখন গোয়ালন্দের হামিদ মৃধার হাট সহ আশপাশের এলাকায় আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।
মতামত
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যাত্রা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রাজবাড়ী প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের এ যাত্রার শুভ উদ্বোধন করেন সংগঠনটির সভাপতি নতুন প্রজন্ম উদ্যোক্তা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাগুফতা সুলতানা। সংবাদ সম্মেলনে যাত্রা শুরুর উদ্বোধনী দিনে উইমেন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সাগুফতা সুলতানা বলেন, রাজবাড়ীর চেম্বার নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক তৈরীর পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন মেন্টরশিপ, ব্যবসায়ী পরামর্শ, বাজার সংযোগ বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে চায়। তিনি আরো বলেন, রাজবাড়ীর উৎপাদিত পণ্য স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, সঠিক মান প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং, বাজার সংযোগের মাধ্যমে ও আন্তর্জাতিক বাজারেও জায়গা করে নেবে। সাগুফতা সুলতানা বলেন, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে কোন দয়া বা অনুগ্রহের বিষয় নয়, এটি নারীর অধিকার। একটি দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংশ হিসেবে কাজ করতে চায় রাজবাড়ী উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। তিনি আরো জানান, চলতি বছরের গত ৩ সেপ্টেম্বর গঠিত ১৩ সদস্য বিশিষ্ট দ্বি-বার্ষিক কমিটিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে কার্যক্রম চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে রাজবাড়ী উইমেন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতিকে চিঠি প্রদান করেন। চেম্বার এর মূল প্রত্যয় উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁদের সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস বিকাশের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী নারী উদ্যোক্তাসমাজ গড়ে তোলার কথা বলা হয়। নতুন প্রজন্ম উদ্যোক্তা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও উইমেন চেম্বারের সভাপতি সাগুফতা সুলতানা ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মেহেরবা নিগার পারভীন, ফরিদা খাতুন, শামীমা খাতুন, ইয়াসমিন আক্তার, তাহমিনা বাড়ি বনানী, মমতাজ বেগম, আমিনা খাতুন, তাহামিনা খন্দকার, ফরিদা খাতুন প্রমুখ।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা একটি লোকাল বাস আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে মুক্তার হোসেন মোল্লা (৩২) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত যুবকের নাম মুক্তার হোসেন মোল্লা গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ফৈজুদ্দিন মাতুব্বর পাড়ার আরজান মোল্লার ছেলে। এছাড়া সে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরের দিকে মুক্তারের নিজ বাড়ি হতে তাকে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ। এর আগে গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিনবাগত রাত ১ টার দিকে মা ক্লাসিক্যাল নামের ওই লোকাল বাসটিতে অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি ঘটে। আগুনে বাসটির অনেকাংশ পুড়ে গেছে। তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।এ ঘটনায় বাস মালিক এসএম সুলতান আহমদ বাদী হয়ে পরদিন রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অজ্ঞাতনামা ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিকে ঘিরে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য বাসে এ অগ্নিসংযোগ করা হতে পারে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম জাানান, সন্ধিগ্ধ আসামী হিসেবে মুক্তার হোসেন মোল্লাকে বাস পোড়ানোর ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর সোমবার দুপুরে রাজবাড়ীর বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। সে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সম্পাদক বলে জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় মামলার তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর কালুখালীতে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান পরিচালনা করে নানা অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে। শুক্রবার বিকেলে অভিযানের নেতৃত্ব দেন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামস সাদাত মাহমুদ উল্লাহ। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির মালিককে তিন হাজার জরিমানা প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে চিহিৃত অনিয়ম দূর করে লাইসেন্স হালনাগাদ করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। ভ্রাম্যমান আদালত সূত্র জানায়, কালুখালী উপজেলার ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন সংলগ্ন সালেহা সামাদ হেলথ সার্ভিস নামক ডায়াগনস্টিক সেন্টারটির মালিক চিকিৎসক না হয়েও নিজেই নিয়মবহির্ভূতভাবে আলট্রাসনোগ্রাফি করছিলেন অভিযোগ উঠে। এ ছাড়া নিজের নামের ডা. ব্যবহার, অচল ফ্রিজ ব্যবহার এবং মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট রাখারও অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে অভিযান চালিয়ে প্রাথমিক সত্যতার প্রমাণ মিলে।ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানকালে ডায়াগনস্টিক নিজেই নিয়মবহির্ভূতভাবে আলট্রাসনোগ্রাফি করছিলেন এমন প্রমাণ পায়। একই সঙ্গে তিনি নিজের নামের আগে চিকিৎসক না হয়েই চিকিৎসক শব্দটি ব্যবহার করছিলেন। এছাড়া অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পায় অভিযানিক দল। এসব অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শামস সাদাত মাহমুদ উল্লাহ প্রতিষ্ঠানটির মালিক আবু হোসেনকে তিন হাজার টাকা জরিমানা করেন। এ সময় কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ইসরাত জাহান উম্মন উপুস্থত ছিলেন। এ সময় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে চিহিৃত সব ধরনের অনিয়ম ও সমস্যা সমাধান করে লাইসেন্স হালনাগাদ করার নিদের্শনা প্রদান করেন। একই সঙ্গে এমবিবিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসক ছাড়া অন্য কাউকে দিয়ে কোনোভাবেই আলট্রাসনোগ্রাফি না করানোর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের দুদুখান পাড়ার বাসিন্দা, উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত ডাক্তার মহোসিন মিয়ার একমাত্র পুত্র মো. কোবাদ হোসেন (৭৬) ওরফে কোবাদ ডাক্তার বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ফরিদপুর ডায়াবেটিকস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি লিভার, কিডনি, হার্টসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। ডাক্তার কোবাদ হোসেন দীর্ঘদিন রাজবাড়ী পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির গোয়ালন্দের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি উজানচর জামতলা বাজারে গ্রামাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দিতেন। এছাড়া তিনি উজানচর জামতলা হাই স্কুল ও দুদুখানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিন পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জামতলা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হিসেবেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। তিনি গোয়ালন্দের একজন আলোকিত এবং স্বজ্জন মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর জানাজা নামাজে গোয়ালন্দ সহ রাজবাড়ী এবং ফরিদপুর অঞ্চলের অসংখ্য মানুষ অংশ গ্রহণ করেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বাদ জুম্মা উজানচর দুদুখান পাড়া জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা মাঠে প্রথম এবং পাশ্ববর্তী জামতলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাজা নামাজ শেষে তাকে চেয়ারম্যান বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, তিন মেয়ে সহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে যান। তাঁর বড় ছেলে সোয়েব ওরফে সবুজ হাসান দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান আকিজ গ্রুপের একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কোবাদ হোসেন, দুদুখানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক, প্রথম আলো গোয়ালন্দ বন্ধুসভার সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসরিন আক্তার ইতির স্বামী। তাঁর মৃত্যুতে গোয়ালন্দ ও রাজবাড়ী বন্ধুসভা গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
মঈনুল হক, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ইউনিয়নের পূর্বপাড়ায় (যৌনপল্লি) দুর্বৃত্তদের হামলার ৯ দিন পর যৌনকর্মী সোনিয়া আক্তারের (৩০) মৃত্যু হয়েছে। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউতে) চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে মারা যান। ময়না তদন্ত শেষে মঙ্গলবার তাঁর লাশ গ্রামের বাড়ি বরিশাল নেয়া হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম। এর আগে ২৯ আগষ্ট ভোর চারটার দিকে দৌলতদিয়া যৌনপল্লির তোফাজ্জল হোসেন তপুর বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে রক্তাত্ব অবস্থায় সোনিয়াকে উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। হামলার ঘটনায় রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বাড়ি মালিক তোফাজ্জল হোসেন তপু বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের অভিযুক্ত করে একটি মামলা করেন। তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ২৯ আগষ্ট ভোর পাঁচটার দিকে যৌনপল্লির বাড়ির আরেক ভাড়াটিয়া আইরিন (২৬) তাঁকে ফোন করে জানান, ভোররাত সাড়ে তিনটা থেকে চারটার দিকে দ্বিতীয় তলা থেকে অনেক শব্দ হয়। বাড়ির কেয়ারটেকার মঞ্জু শেখকে সঙ্গে নিয়ে আইরিন দ্বিতীয় তলার সোনিয়ার কক্ষ খোলা দেখতে পেয়ে ভিতরে প্রবেশ করে মেঝতে রক্তাত্ব অচেতন অবস্থায় সোনিয়াকে পড়ে থাকেত দেখেন। তাৎক্ষনিকভাবে বিষয়টি অবগত করে তারা সোনিয়াকে দ্রæত গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে আমিও হাসপাতালে যাই। এ সময় সোনিয়ার মাথায় ধারালো অস্ত্র ও শক্ত কোন বস্তু দিয়ে আঘাতের কাটা স্থান দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ দেখতে পান। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চিকিৎসক দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসায় বিলম্ব হওয়ায় ধানমণ্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মাথায় অস্ত্রপচার শেষে আইসিইউতে ভর্তি রাখা হয়। পরবর্তীতে টানা ৯দিন চিকিৎসা শেষে সোনিয়া সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে মারা যান। তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সোনিয়া সব সময় গলায় ও কানে স্বর্ণালংকার পড়তেন। ধারণা, স্বর্ণালংকার লুট করতেই হত্যার উদ্দেশ্যে জখম করেছে। অন্য কোনো কারনও থাকতে পারে। এ ছাড়া সোনিয়ার ঘর থেকে আরও কিছু খোয়া গেছে কি না এখনও জানতে পারিনি। সোনিয়ার বরিশালের হিজলা থানার গ্রামের বাড়ি থেকে পরিবারের লোকজন সাথে আছেন। তারা অতিশয় দরিদ্র পরিবার হওয়ায় সোনিয়ার চিকিৎসার ব্যায় ভারও বহন করতে পারিনি। সোনিয়ার ভাই আরিফ হোসেন বলেন, এতদিন জানতাম আমার বোন ঢাকায় চাকরি করেন। আমাদের পরিবার অনেকটাই বোনের আয়ের ওপর নির্ভর করতো। আমি আমার বোনের হত্যার বিচার চাই। পুলিশ অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে। মঙ্গলবার ময়না তদন্ত শেষে লাশ গ্রামের বাড়ি নেয়া হবে। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম বলেন, সোনিয়া হত্যায় স্বর্ণলংকার লুটই মূখ্য কারণ নয়, অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। আমরা সব বিষয় মাথায় নিয়ে তদন্ত কাজ অব্যাহত রেখেছি। মাথায় পাঁচ থেকে ছয়টি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহৃ রয়েছে। সোনিয়ার লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে লাশ গ্রামের বাড়ি নেয়া হবে। অপরাধীদের ধরতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।
রবিউল ইসলাম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে আবৃত্তি ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ফরিদপুর মনোজগৎ সেন্টার ও রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস এর সহযোগিতায় শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কর্মশালার আয়োজন করে বেসকারি স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠন ঢাকার তূর্যশিকড় ও রাজবাড়ী সুহৃদ সমাবেশ। উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ী সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ রেজভী জামান। মূখ্য আলোচক ছিলেন শিশু, কিশোর ও পরিবার মনোরোগবিদ্যা বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, রাজবাড়ী একাডেমির সভাপতি সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান, সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আজিজা খানম, রাজবাড়ী আবৃত্তি পরিষদের সভাপতি নুরুল হক আলম, রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস এর সিনিয়র জোনাল ম্যানেজার একেএম মিজানুর রহমান, রাবেয়া কাদের স্মৃতি পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা নজরুল ইসলাম, রাজবাড়ী সুহৃদ সমাবেশের সাধারণ সম্পাদক মানিক হোসেন প্রমূখ। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সভাপতিত্ব করেন রাজবাড়ী সুহৃদ সমাবেশের উপদেষ্টা কমল কান্তি সরকার এবং দ্বিতীয় পর্বে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সহসভাপতি ডা. রাজীব দে সরকার। দিনব্যাপী কর্মশালায় রাজবাড়ীর সাতটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী আবৃত্তি চর্চার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য, মানিসক চাপ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং সুস্থ্য মানসিক বিকাশের নানা দিক সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন। মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মশালা পরিচালনা করেন শিশু, কিশোর ও পরিবার মনোরোগবিদ্যা বিশেষজ্ঞ প্রফেসার ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. মেজবাউল খান ফরহাদ। তাঁরা অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন এবং মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরেন। শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশ, পারিবারিক পরিবেশের প্রভাব, শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক চাপ মোকাবিলা, আবেগ ও আচরণগত পরিবর্তন এবং প্রয়োজনের সময় মানসিক সহায়তা নেওয়ার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। আবৃত্তি কর্মশালায় কবিতা নির্বাচন, উচ্চারণের শুদ্ধতা, বাচনভঙ্গি, স্বরক্ষেপণ, ছন্দ, আবেগ ও অভিব্যক্তির যথাযথ প্রয়োগ নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কবিতার বক্তব্য ও অনুভূতি শ্রোতার কাছে সাবলীল ও প্রাণবন্তভাবে তুলে ধরার কৌশলও শেখানো হয়। আবৃত্তি কর্মশালা পরিচালনা করেন আবৃত্তিশিল্পী সুমনা শিল্পী। প্রশিক্ষাণার্থীরা বিভিন্ন কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে হাতে-কলমে অনুশীলনে অংশ নেন। আয়োজকরা বলেন, আবৃত্তি শুধু সাংস্কৃতিক চর্চাই নয়, এটি আত্মবিশ্বাস, মনোযোগ, প্রকাশভঙ্গি ও সৃজনশীলতা বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা তৈরি হলে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী মানুষের জীবনযাপন আরও ইতিবাচক ও ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারে। এ দুটি বিষয়কে একই কর্মশালায় যুক্ত করার উদ্দেশ্য ছিল সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে মানসিক সুস্থতার গুরুত্ব তুলে ধরা। পরে কর্মশালায় অংশ নেওয়া প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।