নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ ঘড়ির কাটায় তখন ১২টা ৫ মিনিট। অনুষ্ঠান শেষে সবাই যখন বের হয়ে যাচ্ছিল ঠিক তখনই এসে হাজির রাকিবুর জাহান রিয়াদ নামের এক কৃতি শিক্ষার্থী। বাবার সাথে তরিঘড়ি করে অনুষ্ঠানস্থলে এসে আয়োজকদের খুঁজতে থাকে। এক হাতে অনুষ্ঠানের নিবন্ধনপত্র, অন্যহাতে ব্যাগ। রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সে এ বছর এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে।
রাকিবুর জাহান রিয়াদ জানায়, ছোটবেলা থেকে প্রথম আলো কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন দেখে আসছি। স্বপ্ন দেখতাম আমিও একদিন এমন অনুষ্ঠানে থাকবো। সকালে সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠানস্থলে এসে দেখি নিবন্ধনপত্র ও মোবাইলফোন নেই। উপায় না পেয়ে আবার বাড়ি বালিয়াকান্দি ছুটে যাই। অনুষ্ঠানস্থল থেকে বাড়ির দূরত্ব প্রায় ১৬ কিলোমিটার। যেতে হয় অটোরিক্সা বা সিএনজি করে। বাড়ি থেকে নিবন্ধনপত্র নিয়ে বাবার সহযোগিতায় দ্রুত এসে দেখি অনুষ্ঠান শেষ।
বাবা শাহজাহান হোসেন বলেন, শিখো-প্রথম আলোর জিপিএ-৫ অনুষ্ঠানে আসবে বলে রাকিবুর জাহান রিয়াদ আজ ঘুম থেকে উঠে প্রস্তুতি নেই। ভুলক্রমে নিবন্ধনপত্র বাড়ি রেখে আসায় আবার সে বাড়ি ফিরে যায়। পরে মোটরসাইকেলে সঙ্গে করে নিয়ে এসে দেখি অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেছে। আয়োজকদের সঙ্গে কথা বললে তারা শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত উপহার সামগ্রী তুলে দেয়।
এর আগে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা বাজতেই রাজবাড়ী সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে একে একে হাজির হতে থাকে শিক্ষার্থীরা। সঙ্গে মা, কারো বাবা বা বড় ভাই এসেছেন। মিলনায়তনে প্রবেশের আগেই নির্ধারিত বুথ থেকে নিবন্ধনপত্র দেখিয়ে বরাদ্দকৃত উপহার সামগ্রী নিয়ে প্রবেশ করছে। কারো হাতে পত্রিকা, কারো হাতে ক্রেস্ট। আবার কেউ বন্ধু বা বান্ধবীর সঙ্গে মুঠোফোনে সেলফি তোলা বা ফটো ফ্রেমে ছবি তোলায় ব্যাস্ত হয়ে পড়ে। অনুষ্ঠানস্থলে আসতে থাকেন আমন্ত্রিত অতিথিগন। সকাল ১০টা না বাজতেই মিলনায়তনে কৃতি শিক্ষার্থী এবং অতিথিদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠে।
বন্ধুদের কাছে পেয়ে সেলফি তুলছিলেন সানজিনা ইসলাম। সে গোয়ালন্দ শহীদ স্মৃতি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। সানজিনা ইসলাম জানায়, বাবা ছিলেন বাজারের একজন সামান্য আদায়কারী। তাও দুই বছর ধরে বেকার জীবন কাটাচ্ছেন। মা বাড়িতে কিছু হাঁস-মুরগি লালন পালন করে কোনোভাবে সংসার চালিয়ে যাচ্ছে। অভাব আর কষ্ট দূর করতে নিজে অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রাইভেট পড়তে পারেনি বলে ফ্রি অনলাইনে ক্লাস করে পড়াশোনা করতাম। অর্থ সঙ্কটে দূরে কোথাও ভর্তি হতে না পেয়ে গোয়ালন্দ সরকারি কামরুল ইসলাম কলেজে ভর্তি হয়েছে।
একেকজন কৃতি শিক্ষার্থীদের গল্প একেক ধরনের খুঁজে পাওয়া যায়। গত বছর জিপিএ-৫ সংবর্ধনা পাওয়ার পর এবারও অনুষ্ঠানে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আরাফ সারজিন স্নেহা। সে জানায়, বাবা ছাড়া সংসার চালাতে যখন মাকে অনেক সংগ্রাম করতে হচ্ছে, তখনই পাশে দাঁড়িয়েছে প্রথম আলো। প্রথম আলোর বৃত্তি পাওয়ার পর পড়াশোনা চালিয়ে নিতে তেমন বেগ পোহাতে হচ্ছে না। তবে মাও ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে জীবন মরণ সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। মায়ের চিকিৎসার পাশাপাশি নিজের পড়াশোনা ও পরিবার মিলে অনেক বেগ পোহাতে হচ্ছে। তারপরও প্রথম আলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি পাশে থাকার জন্য।
১০টা বেজে ১ মিনিটে সমবেত কণ্ঠে গায়তে শুরু করেন জাতীয় সঙ্গীত। মঞ্চে আমন্ত্রিত শিল্পী এবং বন্ধুসভার সদস্যদের তেজদীপ্ত ভরাট কণ্ঠে সবাই গায়তে থাকেন জাতীয় সঙ্গীত। জাতীয় সঙ্গীত শেষে শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রথম আলো রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি এম রাশেদুল হক।
বন্ধুসভার বন্ধু সহকারী অধ্যাপক রাজ্জাকুল আলম ও মাহফুজুর রহমান মিলনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, রাজবাড়ী সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর রেজভী জামান, প্রথম আলোর বিজনেস এডিটর সুজয় মহাজন, রাজবাড়ী একাডেমীর সভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান, সাবেক মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজিজা খানম, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রাজবাড়ীর সহসভাপতি শাহিনা সুলতানা, কৃতি শিক্ষার্থী হামদুল্লাহ ফুয়াদ, ইশরাত জাহান নিশি, আরাফ সারজিন স্নেহা, অভিভাবক মাইনুল হাসান চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।
অধ্যাপক রেজভী জামান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রেখে বলেন, প্রথম আলোর ভালো কাজ থেকে আমি অনুপ্রাণিত হই তারা যখন গণিত অলিম্পিয়াড করে। আমি উদ্ধুদ্ধ হই যখন তারা ইয়াং লিডারদের বেছে নিয়ে তাদের দিয়ে ফোরাম তৈরী করে। প্রথম আলো সেই পত্রিকা অবজেকটিভ জার্নালিজমের পথ দেখায় এবং আমাদের উম্মুক্ত সত্যকে পথ দেখতে শেখায়। তাঁদের অজস্র সফলতা আছে, অজস্র গৌরব গাঁথা আছে। তাঁর মধ্যে অন্যতম আয়োজন হচ্ছে আজকের এই মেধার মিলন মেলা।
রাজবাড়ী একাডেমীর সভাপতি সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, প্রথম আলো প্রকাশের পর থেকে আমি পড়ে আসছি। তাঁদের কর্মকা- সবকিছুই আমি অনুসরণ করি। প্রথম আলোর প্রতিদিনের পত্রিকাসহ নিয়মিত ঈদ সংখ্যা এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সংখ্যা গত ২৮ বছর ধরে আমি সংগ্রহ করে আসছি। এখনও আমার বাসায় তা সংরক্ষণ করা আছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদের এই সাফল্যে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। কেউ এ সাফল্যকে বিরাট করে দেখার সুযোগ নেই, কারণ এটা শুরু মাত্র। আমরা কেউ জিপিএ-৫ না পেয়ে অনেকে ব্যার্থ হয়ে যাই। এটা ভাবা যাবে না। একটা ফলাফলই জীবনের অনেক কিছু পরিবর্তন করে দেয়। তাই এখন থেকে আমরা জীবনকে সেভাবে গড়ে তুলবো।
শিক্ষাবীদ আজিজা খানম বলেন, তোমাদের প্রথম আলো সংবর্ধনা দিচ্ছে এর কারণ তোমরা জীবনের প্রথম ধাপে সফল হয়েছো। তোমাদের স্বীকৃতি দিচ্ছে এর একটাই কারন তোমরা ভালো। কিন্তু এখনও অনেক আলোকিত মূখ বাইরে রয়েছে। তোমাদের এই সফলতা ধরে রাখতে হবে। জীবনে অনেক বড় হতে হলে তার জন্য তোমরা অবশ্যই আগামীর জন্য প্রস্তুত করবে।
অনুষ্ঠানে আব্দুস সাত্তার কালুর নির্দেশনায় ‘কি অপরুপ হেরেনি পল্লী জননী’, ‘যে দেশের মাটির গান বাংলা ভাষা একুশের উপরে’ নামক দুটি গানের নৃত্য পরিবেশিত হয়। এছাড়া স্থানীয় বাউল শিল্পী দোতরা বাবু, শারমীন লালনী, সুমনা বাউল, আউয়াল বাউল ও রিপন বাউল। পরে কুইজ বিজয়ীদের মাঝে পুরুষ্কার তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে বেলা পৌনে ১২টায় অনুষ্ঠান শেষ হয়।

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ ঘড়ির কাটায় তখন ১২টা ৫ মিনিট। অনুষ্ঠান শেষে সবাই যখন বের হয়ে যাচ্ছিল ঠিক তখনই এসে হাজির রাকিবুর জাহান রিয়াদ নামের এক কৃতি শিক্ষার্থী। বাবার সাথে তরিঘড়ি করে অনুষ্ঠানস্থলে এসে আয়োজকদের খুঁজতে থাকে। এক হাতে অনুষ্ঠানের নিবন্ধনপত্র, অন্যহাতে ব্যাগ। রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সে এ বছর এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে।
রাকিবুর জাহান রিয়াদ জানায়, ছোটবেলা থেকে প্রথম আলো কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন দেখে আসছি। স্বপ্ন দেখতাম আমিও একদিন এমন অনুষ্ঠানে থাকবো। সকালে সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠানস্থলে এসে দেখি নিবন্ধনপত্র ও মোবাইলফোন নেই। উপায় না পেয়ে আবার বাড়ি বালিয়াকান্দি ছুটে যাই। অনুষ্ঠানস্থল থেকে বাড়ির দূরত্ব প্রায় ১৬ কিলোমিটার। যেতে হয় অটোরিক্সা বা সিএনজি করে। বাড়ি থেকে নিবন্ধনপত্র নিয়ে বাবার সহযোগিতায় দ্রুত এসে দেখি অনুষ্ঠান শেষ।
বাবা শাহজাহান হোসেন বলেন, শিখো-প্রথম আলোর জিপিএ-৫ অনুষ্ঠানে আসবে বলে রাকিবুর জাহান রিয়াদ আজ ঘুম থেকে উঠে প্রস্তুতি নেই। ভুলক্রমে নিবন্ধনপত্র বাড়ি রেখে আসায় আবার সে বাড়ি ফিরে যায়। পরে মোটরসাইকেলে সঙ্গে করে নিয়ে এসে দেখি অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেছে। আয়োজকদের সঙ্গে কথা বললে তারা শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত উপহার সামগ্রী তুলে দেয়।
এর আগে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা বাজতেই রাজবাড়ী সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে একে একে হাজির হতে থাকে শিক্ষার্থীরা। সঙ্গে মা, কারো বাবা বা বড় ভাই এসেছেন। মিলনায়তনে প্রবেশের আগেই নির্ধারিত বুথ থেকে নিবন্ধনপত্র দেখিয়ে বরাদ্দকৃত উপহার সামগ্রী নিয়ে প্রবেশ করছে। কারো হাতে পত্রিকা, কারো হাতে ক্রেস্ট। আবার কেউ বন্ধু বা বান্ধবীর সঙ্গে মুঠোফোনে সেলফি তোলা বা ফটো ফ্রেমে ছবি তোলায় ব্যাস্ত হয়ে পড়ে। অনুষ্ঠানস্থলে আসতে থাকেন আমন্ত্রিত অতিথিগন। সকাল ১০টা না বাজতেই মিলনায়তনে কৃতি শিক্ষার্থী এবং অতিথিদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠে।
বন্ধুদের কাছে পেয়ে সেলফি তুলছিলেন সানজিনা ইসলাম। সে গোয়ালন্দ শহীদ স্মৃতি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। সানজিনা ইসলাম জানায়, বাবা ছিলেন বাজারের একজন সামান্য আদায়কারী। তাও দুই বছর ধরে বেকার জীবন কাটাচ্ছেন। মা বাড়িতে কিছু হাঁস-মুরগি লালন পালন করে কোনোভাবে সংসার চালিয়ে যাচ্ছে। অভাব আর কষ্ট দূর করতে নিজে অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রাইভেট পড়তে পারেনি বলে ফ্রি অনলাইনে ক্লাস করে পড়াশোনা করতাম। অর্থ সঙ্কটে দূরে কোথাও ভর্তি হতে না পেয়ে গোয়ালন্দ সরকারি কামরুল ইসলাম কলেজে ভর্তি হয়েছে।
একেকজন কৃতি শিক্ষার্থীদের গল্প একেক ধরনের খুঁজে পাওয়া যায়। গত বছর জিপিএ-৫ সংবর্ধনা পাওয়ার পর এবারও অনুষ্ঠানে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আরাফ সারজিন স্নেহা। সে জানায়, বাবা ছাড়া সংসার চালাতে যখন মাকে অনেক সংগ্রাম করতে হচ্ছে, তখনই পাশে দাঁড়িয়েছে প্রথম আলো। প্রথম আলোর বৃত্তি পাওয়ার পর পড়াশোনা চালিয়ে নিতে তেমন বেগ পোহাতে হচ্ছে না। তবে মাও ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে জীবন মরণ সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। মায়ের চিকিৎসার পাশাপাশি নিজের পড়াশোনা ও পরিবার মিলে অনেক বেগ পোহাতে হচ্ছে। তারপরও প্রথম আলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি পাশে থাকার জন্য।
১০টা বেজে ১ মিনিটে সমবেত কণ্ঠে গায়তে শুরু করেন জাতীয় সঙ্গীত। মঞ্চে আমন্ত্রিত শিল্পী এবং বন্ধুসভার সদস্যদের তেজদীপ্ত ভরাট কণ্ঠে সবাই গায়তে থাকেন জাতীয় সঙ্গীত। জাতীয় সঙ্গীত শেষে শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রথম আলো রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি এম রাশেদুল হক।
বন্ধুসভার বন্ধু সহকারী অধ্যাপক রাজ্জাকুল আলম ও মাহফুজুর রহমান মিলনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, রাজবাড়ী সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর রেজভী জামান, প্রথম আলোর বিজনেস এডিটর সুজয় মহাজন, রাজবাড়ী একাডেমীর সভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান, সাবেক মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজিজা খানম, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রাজবাড়ীর সহসভাপতি শাহিনা সুলতানা, কৃতি শিক্ষার্থী হামদুল্লাহ ফুয়াদ, ইশরাত জাহান নিশি, আরাফ সারজিন স্নেহা, অভিভাবক মাইনুল হাসান চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।
অধ্যাপক রেজভী জামান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রেখে বলেন, প্রথম আলোর ভালো কাজ থেকে আমি অনুপ্রাণিত হই তারা যখন গণিত অলিম্পিয়াড করে। আমি উদ্ধুদ্ধ হই যখন তারা ইয়াং লিডারদের বেছে নিয়ে তাদের দিয়ে ফোরাম তৈরী করে। প্রথম আলো সেই পত্রিকা অবজেকটিভ জার্নালিজমের পথ দেখায় এবং আমাদের উম্মুক্ত সত্যকে পথ দেখতে শেখায়। তাঁদের অজস্র সফলতা আছে, অজস্র গৌরব গাঁথা আছে। তাঁর মধ্যে অন্যতম আয়োজন হচ্ছে আজকের এই মেধার মিলন মেলা।
রাজবাড়ী একাডেমীর সভাপতি সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, প্রথম আলো প্রকাশের পর থেকে আমি পড়ে আসছি। তাঁদের কর্মকা- সবকিছুই আমি অনুসরণ করি। প্রথম আলোর প্রতিদিনের পত্রিকাসহ নিয়মিত ঈদ সংখ্যা এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সংখ্যা গত ২৮ বছর ধরে আমি সংগ্রহ করে আসছি। এখনও আমার বাসায় তা সংরক্ষণ করা আছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদের এই সাফল্যে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। কেউ এ সাফল্যকে বিরাট করে দেখার সুযোগ নেই, কারণ এটা শুরু মাত্র। আমরা কেউ জিপিএ-৫ না পেয়ে অনেকে ব্যার্থ হয়ে যাই। এটা ভাবা যাবে না। একটা ফলাফলই জীবনের অনেক কিছু পরিবর্তন করে দেয়। তাই এখন থেকে আমরা জীবনকে সেভাবে গড়ে তুলবো।
শিক্ষাবীদ আজিজা খানম বলেন, তোমাদের প্রথম আলো সংবর্ধনা দিচ্ছে এর কারণ তোমরা জীবনের প্রথম ধাপে সফল হয়েছো। তোমাদের স্বীকৃতি দিচ্ছে এর একটাই কারন তোমরা ভালো। কিন্তু এখনও অনেক আলোকিত মূখ বাইরে রয়েছে। তোমাদের এই সফলতা ধরে রাখতে হবে। জীবনে অনেক বড় হতে হলে তার জন্য তোমরা অবশ্যই আগামীর জন্য প্রস্তুত করবে।
অনুষ্ঠানে আব্দুস সাত্তার কালুর নির্দেশনায় ‘কি অপরুপ হেরেনি পল্লী জননী’, ‘যে দেশের মাটির গান বাংলা ভাষা একুশের উপরে’ নামক দুটি গানের নৃত্য পরিবেশিত হয়। এছাড়া স্থানীয় বাউল শিল্পী দোতরা বাবু, শারমীন লালনী, সুমনা বাউল, আউয়াল বাউল ও রিপন বাউল। পরে কুইজ বিজয়ীদের মাঝে পুরুষ্কার তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে বেলা পৌনে ১২টায় অনুষ্ঠান শেষ হয়।

আপনার মতামত লিখুন