রাজবাড়ী মেইল
প্রকাশ : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিজারের পর পেটে গজ রেখেই নার্সের সেলাই; অসুস্থ বিথীর গোয়ালন্দের বাড়িতে ইউএনও, দিলেন সু-চিকিৎসার আশ্বাস

সিজারের পর পেটে গজ রেখেই নার্সের সেলাই; অসুস্থ বিথীর গোয়ালন্দের বাড়িতে ইউএনও, দিলেন সু-চিকিৎসার আশ্বাস

রাজবাড়ীতে ঋষি পরিবারে হামলা, আতঙ্কে কাটছে দিন

রাজবাড়ীতে ঋষি পরিবারে হামলা, আতঙ্কে কাটছে দিন

রাজবাড়ীতে জিপিএ-৫ সংবর্ধনা; স্বপ্ন পূরণের জন্য আবারও প্রথম আলো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ছুটে আসে

রাজবাড়ীতে জিপিএ-৫ সংবর্ধনা; স্বপ্ন পূরণের জন্য আবারও প্রথম আলো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ছুটে আসে

রাজবাড়ীতে অনুষ্ঠিত হলো দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা; কালুখালীর খাগজানা উচ্চ বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন

রাজবাড়ীতে অনুষ্ঠিত হলো দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা; কালুখালীর খাগজানা উচ্চ বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন

গোয়ালন্দের গুণী শিক্ষক, সর্বজন শ্রদ্ধেয় সুলতান উদ্দিন আহমেদ আর নেই

গোয়ালন্দের গুণী শিক্ষক, সর্বজন শ্রদ্ধেয় সুলতান উদ্দিন আহমেদ আর নেই

গোয়ালন্দে মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভা অনুষ্ঠিত; সভাপতি রফিকুল, সম্পাদক কাশেম নির্বাচিত

গোয়ালন্দে মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভা অনুষ্ঠিত; সভাপতি রফিকুল, সম্পাদক কাশেম নির্বাচিত

রাজবাড়ীতে প্রবাসীর স্ত্রী হত্যার তিন বছর পর রায়, প্রধান আসামির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড

রাজবাড়ীতে প্রবাসীর স্ত্রী হত্যার তিন বছর পর রায়, প্রধান আসামির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড

রাজবাড়ীতে উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যাত্রা শুরু

রাজবাড়ীতে উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যাত্রা শুরু

সিজারের পর পেটে গজ রেখেই নার্সের সেলাই; অসুস্থ বিথীর গোয়ালন্দের বাড়িতে ইউএনও, দিলেন সু-চিকিৎসার আশ্বাস

সিজারের পর পেটে গজ রেখেই নার্সের সেলাই; অসুস্থ বিথীর গোয়ালন্দের বাড়িতে ইউএনও, দিলেন সু-চিকিৎসার আশ্বাস

মঈনুল হক মৃধা, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ীঃ সিজারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই করা ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স সেই বিথীর বাড়িতে ছুটে গেলেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদা। তিনি অসুস্থ বিথীর চার মাসের ছোট্ট শিশুকে কোলে নিয়ে সু-চিকিৎসার আশ্বাস প্রদান করেন। 

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তমিজ উদ্দিন মৃধা পাড়া গ্রামে বিথীর স্বামীর বাড়িতে ছুটে যান তিনি। 

এ সময় তিনি পরিবারের কাছ থেকে অসুস্থ বিথীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নেন এবং চিকিৎসার বিষয়ে জানতে চান। পাশাপাশি সরকারি পর্যায় থেকে সম্ভবপর সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।

ইউএনওর এ উদ্যোগে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিথীর স্বামী রাকিবুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা। ভুল চিকিৎসায় সিসিইউ ও সার্জারি বিভাগে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা একজন অসহায় বোনের পাশে প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার এগিয়ে আসায় স্থানীয়রাও বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান। 

পরিবার জানায়, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় চিকিৎসক তামান্না এবং ইন্টার্ন চিকিৎসক অরবিন্দের মাধ্যমে বিথীর পেটে গজ রেখেই সেলাই দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকেই শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগতে থাকেন বিথী। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউতে (কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিট) চিকিৎসাধীন আছেন এবং জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।

চার মাস ধরে নিজের নবজাতক সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরা তো দূরের কথা, সন্তানকে কোলে নেওয়া কিংবা দুধ খাওয়ানোর মতো অবস্থাতেও নেই তিনি। মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তার ছোট্ট সন্তান।

পরিবারের অভিযোগ, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিথী আক্তারের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়। অস্ত্রোপচারের সময় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে তার পেটের ভেতর গজ থেকে যায়। এরপর থেকেই তার শরীরে তীব্র যন্ত্রণা ও দীর্ঘ জটিলতা শুরু হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথম অস্ত্রোপচারের প্রায় দুই মাস পর তাকে আবারও বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করাতে হয়। পরবর্তীতে পেটের নাড়িতে জটিলতা দেখা দেওয়ায় তাকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকতে হয় এবং বাইপাস সার্জারিসহ একাধিক জটিল চিকিৎসা নিতে হয়। দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় এক সময়ের ৬১ কেজি ওজনের বিথীর শারীরিক ওজন কমে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৩৯ কেজিতে।

মঙ্গলবার দুপুরে বিথীর বাড়ি ঘুরে এসে ইউএনও সাইফুল হুদা বলেন, বিথীর অসুস্থতার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ফেসবুকের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পরই তার চার মাসের ছোট্ট শিশু ও পরিবারের খোঁজ খবর নিতে এসেছি। 

তিনি বলেন, বিথীর মতো একজন নার্সের সাথে যদি ভুল চিকিৎসা ঘটে, তাহলে সাধারণ মানুষের কি হবে। আমরা বিষয়টি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে উদ্ধর্তন কতৃপক্ষকে জানিয়েছি, আশা করছি এ বিষয়ে কতৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন। 

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসন থেকে নগদ অর্থ ও তার শিশুর জন্য কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রী সহযোগিতা করা হয়েছে। বিথীর পরিবারের পাশে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সর্বক্ষণ থাকবে এবং খোঁজ খবর রাখবে। সরকারি পর্যায় থেকে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।

স্থানীয়রা মনে করছেন, একজন মিডওয়াইফ নার্স বিথীর সাথে এমন ভুল চিকিৎসা ঘটলে সাধারণ মানুষের কি অবস্থা করে এ সমস্ত ভুয়া চিকিৎসকেরা। তারা সরকারের নিকট বিথীর সু-চিকিৎসা সহ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
রাজবাড়ী মেইল

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


সিজারের পর পেটে গজ রেখেই নার্সের সেলাই; অসুস্থ বিথীর গোয়ালন্দের বাড়িতে ইউএনও, দিলেন সু-চিকিৎসার আশ্বাস

প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

মঈনুল হক মৃধা, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ীঃ সিজারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই করা ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স সেই বিথীর বাড়িতে ছুটে গেলেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদা। তিনি অসুস্থ বিথীর চার মাসের ছোট্ট শিশুকে কোলে নিয়ে সু-চিকিৎসার আশ্বাস প্রদান করেন। 

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তমিজ উদ্দিন মৃধা পাড়া গ্রামে বিথীর স্বামীর বাড়িতে ছুটে যান তিনি। 

এ সময় তিনি পরিবারের কাছ থেকে অসুস্থ বিথীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নেন এবং চিকিৎসার বিষয়ে জানতে চান। পাশাপাশি সরকারি পর্যায় থেকে সম্ভবপর সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।

ইউএনওর এ উদ্যোগে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিথীর স্বামী রাকিবুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা। ভুল চিকিৎসায় সিসিইউ ও সার্জারি বিভাগে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা একজন অসহায় বোনের পাশে প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার এগিয়ে আসায় স্থানীয়রাও বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান। 

পরিবার জানায়, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় চিকিৎসক তামান্না এবং ইন্টার্ন চিকিৎসক অরবিন্দের মাধ্যমে বিথীর পেটে গজ রেখেই সেলাই দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকেই শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগতে থাকেন বিথী। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউতে (কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিট) চিকিৎসাধীন আছেন এবং জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।

চার মাস ধরে নিজের নবজাতক সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরা তো দূরের কথা, সন্তানকে কোলে নেওয়া কিংবা দুধ খাওয়ানোর মতো অবস্থাতেও নেই তিনি। মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তার ছোট্ট সন্তান।

পরিবারের অভিযোগ, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিথী আক্তারের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়। অস্ত্রোপচারের সময় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে তার পেটের ভেতর গজ থেকে যায়। এরপর থেকেই তার শরীরে তীব্র যন্ত্রণা ও দীর্ঘ জটিলতা শুরু হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথম অস্ত্রোপচারের প্রায় দুই মাস পর তাকে আবারও বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করাতে হয়। পরবর্তীতে পেটের নাড়িতে জটিলতা দেখা দেওয়ায় তাকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকতে হয় এবং বাইপাস সার্জারিসহ একাধিক জটিল চিকিৎসা নিতে হয়। দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় এক সময়ের ৬১ কেজি ওজনের বিথীর শারীরিক ওজন কমে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৩৯ কেজিতে।

মঙ্গলবার দুপুরে বিথীর বাড়ি ঘুরে এসে ইউএনও সাইফুল হুদা বলেন, বিথীর অসুস্থতার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ফেসবুকের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পরই তার চার মাসের ছোট্ট শিশু ও পরিবারের খোঁজ খবর নিতে এসেছি। 

তিনি বলেন, বিথীর মতো একজন নার্সের সাথে যদি ভুল চিকিৎসা ঘটে, তাহলে সাধারণ মানুষের কি হবে। আমরা বিষয়টি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে উদ্ধর্তন কতৃপক্ষকে জানিয়েছি, আশা করছি এ বিষয়ে কতৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন। 

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসন থেকে নগদ অর্থ ও তার শিশুর জন্য কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রী সহযোগিতা করা হয়েছে। বিথীর পরিবারের পাশে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সর্বক্ষণ থাকবে এবং খোঁজ খবর রাখবে। সরকারি পর্যায় থেকে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।

স্থানীয়রা মনে করছেন, একজন মিডওয়াইফ নার্স বিথীর সাথে এমন ভুল চিকিৎসা ঘটলে সাধারণ মানুষের কি অবস্থা করে এ সমস্ত ভুয়া চিকিৎসকেরা। তারা সরকারের নিকট বিথীর সু-চিকিৎসা সহ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।


রাজবাড়ী মেইল

সম্পাদক: রাশেদ ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৫ । সর্বস্ব সংরক্ষিত রাজবাড়ী মেইল