নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ পড়াশোনায় অমনোযোগী ছোট ছেলে হিরোন ওরফে রিয়ন (১১)। বাবা আনোয়ার হোসেন সোমবার সকালে খেত থেকে এক বস্তা বেগুন আর কিছু মরিচ একটি অটোরিক্সায় বাজারের আড়তে পাঠান। সবজি বিক্রির পর অটোরিক্সায় বস্তা ফেরত পাঠালেও হিরোন ফিরে না আসায় দুশ্চিন্তায় পড়েন সবাই। তখন থেকে খোঁজ করতে থাকলে বিকেলে খবর আছে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে পুলিশের হাতে উদ্ধারের খবর।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশের দল ছোট্ট হিরোনসহ এমন পাঁচজন শিশুকে দৌলতদিয়া ঘাটে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করার সময় সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা দুইটার দিকে উদ্ধার করে রাতেই পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে কথা হয় শিশুদের পরিবার ও উদ্ধারকারী পুলিশের সঙ্গে।
পুলিশ জানায়, সোমবার বেলা দুইটার দিকে দৌলতদিয়া ঘাট বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরার সময় ১০ থেকে ১৩ বছর বয়সী পাঁচজন শিশুকে উদ্ধার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে পরিবারের ঠিকানা ও মুঠোফোন নাম্বার সংগ্রহের পর খবর দেওয়া হয় পরিবারকে। খবর পেয়ে সোমবার সন্ধ্যার আগেই হাজির হন উদ্ধারকৃত শিশুদের অভিভাবক সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
উদ্ধার হওয়া শিশুরা হলো মাগুরা সদর উপজেলার ছোটকাদিরাবাদ গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. হিরোন ওরফে রিয়ন ছাড়াও একই এলাকার সাগর বিশ্বাসের ছেলে জিসান বিশ্বাস (১৩), মো. আবুজার (১৩), লতিফা বেগমের ছেলে মো. আব্দুল্লাহ (১৩) ও আলমগীর বিশ্বাসের ছেলে খালিদ বিশ্বাস (১৩)।
শিশু হিরোনের বাবা আনোয়ার হোসেন বলেন, সোমবার সকাল ৮টার দিকে খেত থেকে বেগুন ও কাঁচা মরিচ তুলে বাজারে আড়তে বিক্রির জন্য অটোরিক্সায় পাঠায়। কিছুক্ষণ পর অটোরিক্সায় খালি বস্তা ফেরত পাঠালেও হিরোন ফিরেনি। অটোরিক্সাওয়ালার কাছে পরে বাড়ি আসছি বলে জানায়। ফিরে না আসায় মাগুরা শহরে খোঁজ করতে থাকি। বেলা দুইটার দিকে গোয়ালন্দ ঘাট থানা থেকে হিরোনসহ পাঁচ শিশু উদ্ধারের কথা জানালে সন্ধ্যার আগেই গোয়ালন্দে পৌঁছি।
আনোয়ার হোসেন বলেন, পরিবারের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে হিরোন ছোট। পড়াশোনায় মনোযোগী না হওয়ায় মাদরাসায় দেই। কিছুদিন পড়ে ফিরে আসলে আবার স্কুলে ভর্তি করি। বর্তমানে পঞ্চম শ্রেণিতে উঠলেও পড়াশোনা ঠিক মতো করে না। পুলিশের হাতে উদ্ধারের পর জানতে পারি, মাগুরা শহর থেকে সিএনজি ভাড়া করে ওরা পাঁচজন অজানার উদ্দেশ্যে বের হয়। আমি আমার সন্তানকে ফিরে পেয়ে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছি।
শিশু আব্দুল্লাহর মা লতিফা বেগম বলেন, আমি আমার সন্তানকে ভালো মতো ফিরে পেয়েছি, এটাই চিরন্তন সত্য কথা। যদি আমি আমার এই সন্তানকে ফিরে না পেতাম তাহলে কাকে নিয়ে আমি বাঁচতাম। বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে আমার ছেলেটি আজ কোথায় চলে যাচ্ছিল একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম বলেন, শিশুরা পরষ্পরের বন্ধু। কৈশোরের কৌতূহল ও দূরন্তপনায় তারা একসঙ্গে ঢাকার উদ্দেশ্যে বের হয়। মাগুরা থেকে সিএনজি ভাড়া করে দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করতে থাকে। টহল পুলিশের নজরে পড়লে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সঠিক উত্তর না পাওয়ায় তাদের থেকে ঠিকানা ও ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে পরিবারকে জানায়। সন্তানদের হারিয়ে পাগল প্রায় মা-বাবা হন্য হয়ে খুঁজতে ছিল। সোমবার রাতেই পরিবারের কাছে পাঁচ শিশুকে তুলে দিতে পেরে মানষিকভাবে তৃপ্তি লাগছে।

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ পড়াশোনায় অমনোযোগী ছোট ছেলে হিরোন ওরফে রিয়ন (১১)। বাবা আনোয়ার হোসেন সোমবার সকালে খেত থেকে এক বস্তা বেগুন আর কিছু মরিচ একটি অটোরিক্সায় বাজারের আড়তে পাঠান। সবজি বিক্রির পর অটোরিক্সায় বস্তা ফেরত পাঠালেও হিরোন ফিরে না আসায় দুশ্চিন্তায় পড়েন সবাই। তখন থেকে খোঁজ করতে থাকলে বিকেলে খবর আছে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে পুলিশের হাতে উদ্ধারের খবর।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশের দল ছোট্ট হিরোনসহ এমন পাঁচজন শিশুকে দৌলতদিয়া ঘাটে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করার সময় সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা দুইটার দিকে উদ্ধার করে রাতেই পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে কথা হয় শিশুদের পরিবার ও উদ্ধারকারী পুলিশের সঙ্গে।
পুলিশ জানায়, সোমবার বেলা দুইটার দিকে দৌলতদিয়া ঘাট বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরার সময় ১০ থেকে ১৩ বছর বয়সী পাঁচজন শিশুকে উদ্ধার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে পরিবারের ঠিকানা ও মুঠোফোন নাম্বার সংগ্রহের পর খবর দেওয়া হয় পরিবারকে। খবর পেয়ে সোমবার সন্ধ্যার আগেই হাজির হন উদ্ধারকৃত শিশুদের অভিভাবক সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
উদ্ধার হওয়া শিশুরা হলো মাগুরা সদর উপজেলার ছোটকাদিরাবাদ গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. হিরোন ওরফে রিয়ন ছাড়াও একই এলাকার সাগর বিশ্বাসের ছেলে জিসান বিশ্বাস (১৩), মো. আবুজার (১৩), লতিফা বেগমের ছেলে মো. আব্দুল্লাহ (১৩) ও আলমগীর বিশ্বাসের ছেলে খালিদ বিশ্বাস (১৩)।
শিশু হিরোনের বাবা আনোয়ার হোসেন বলেন, সোমবার সকাল ৮টার দিকে খেত থেকে বেগুন ও কাঁচা মরিচ তুলে বাজারে আড়তে বিক্রির জন্য অটোরিক্সায় পাঠায়। কিছুক্ষণ পর অটোরিক্সায় খালি বস্তা ফেরত পাঠালেও হিরোন ফিরেনি। অটোরিক্সাওয়ালার কাছে পরে বাড়ি আসছি বলে জানায়। ফিরে না আসায় মাগুরা শহরে খোঁজ করতে থাকি। বেলা দুইটার দিকে গোয়ালন্দ ঘাট থানা থেকে হিরোনসহ পাঁচ শিশু উদ্ধারের কথা জানালে সন্ধ্যার আগেই গোয়ালন্দে পৌঁছি।
আনোয়ার হোসেন বলেন, পরিবারের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে হিরোন ছোট। পড়াশোনায় মনোযোগী না হওয়ায় মাদরাসায় দেই। কিছুদিন পড়ে ফিরে আসলে আবার স্কুলে ভর্তি করি। বর্তমানে পঞ্চম শ্রেণিতে উঠলেও পড়াশোনা ঠিক মতো করে না। পুলিশের হাতে উদ্ধারের পর জানতে পারি, মাগুরা শহর থেকে সিএনজি ভাড়া করে ওরা পাঁচজন অজানার উদ্দেশ্যে বের হয়। আমি আমার সন্তানকে ফিরে পেয়ে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছি।
শিশু আব্দুল্লাহর মা লতিফা বেগম বলেন, আমি আমার সন্তানকে ভালো মতো ফিরে পেয়েছি, এটাই চিরন্তন সত্য কথা। যদি আমি আমার এই সন্তানকে ফিরে না পেতাম তাহলে কাকে নিয়ে আমি বাঁচতাম। বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে আমার ছেলেটি আজ কোথায় চলে যাচ্ছিল একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম বলেন, শিশুরা পরষ্পরের বন্ধু। কৈশোরের কৌতূহল ও দূরন্তপনায় তারা একসঙ্গে ঢাকার উদ্দেশ্যে বের হয়। মাগুরা থেকে সিএনজি ভাড়া করে দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করতে থাকে। টহল পুলিশের নজরে পড়লে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সঠিক উত্তর না পাওয়ায় তাদের থেকে ঠিকানা ও ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে পরিবারকে জানায়। সন্তানদের হারিয়ে পাগল প্রায় মা-বাবা হন্য হয়ে খুঁজতে ছিল। সোমবার রাতেই পরিবারের কাছে পাঁচ শিশুকে তুলে দিতে পেরে মানষিকভাবে তৃপ্তি লাগছে।

আপনার মতামত লিখুন