নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার জামতলা বাজার এলাকার নিজ বসত ঘরে ব্যবসায়ী ফারুক শেখকে (৪০) দুর্বৃত্তরা দুই হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন করে ও জবাই করে হত্যা করেছে। শনিবার দুপুর দুইটার দিকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা হত্যাকাণ্ড ঘটায়। এ সময় বাড়িতে এক ভাড়াটিয়া ছাড়া কেউ ছিলনা। নিহত ফারুক স্থানীয় আব্দুল খালেক শেখের ছেলে। সে দৌলতদিয়া যৌনপল্লির ভিতর চায়ের দোকান করতেন।
খবর পেয়ে শনিবার বেলা তিনটার দিকে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ ও ফরিদপুর থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) দল ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে। রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সহ উর্দ্বোতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন। ঘরের মেঝেতে ফারুকের বাম হাতের কব্জি ও ডান হাতের কুনই থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়ে দেখতে দেখেন। গলা থেকে জবাই করে প্রায় বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। মুখ ও বুকের বাম পাশেও একাধিক ধারালো অস্ত্রের জখমের চিহৃ রয়েছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, নিহত ফারুকসহ তারা তিন ভাই দৌলতদিয়া পূর্ব পাড়ায় (যৌনপল্লি) চায়ের দোকান করেন। রাতভর দোকান করা শেষে শনিবার (২২ আগষ্ট) সকাল ৬টার দিকে বাড়ি ফিরে ফারুক। বাড়ি ফিরে নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে মেঝতে ঘুমিয়ে পড়েন। বাড়িতে এক ভাড়াটিয়া ও ছোট ভাই আরিফুল ইসলামের স্ত্রী জোসনা খাতুন ছাড়া কেউ ছিল না।
বিকেল চারটার দিকে নিহত্র্র ফারুকের বাড়িতে দেখা যায়, বাড়িভর্তি মানুষজন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভিড় করছেন। বাড়ির ভিতর একটি টিনের ঘর ঘিরে রেখে থানা পুলিশ ও সিআইডির সদস্যরা কাজ করছেন। বাড়ির উঠানে ফারুকের বৃদ্ধ বাবা বাক প্রতিবন্ধী খালেক শেখ হাউমাউ করে চিৎকার করছেন। ছেলের শোকে অনেকটা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। আরেক ঘরে ফারুকের ছোট ভাই আরিফুল ইসলামের স্ত্রী জোসনা খাতুন আহাজারি করছে। বাড়ির ভাড়াটিয়া নারী অচেতন অবস্থায় ঘরের মেঝতে পড়ে আছে।
এ সময় জোসখান খাতুন বলেন, দুপুর একটার দিকে তিনি জরুরি কাজে বাড়ির বাইরে যান। এর ঘন্টা খানেক পর বেলা দুইটার পর পর বড় ভাশুরের ছেলে ফোন করে তার মৃত্যুর খবর জানায়। দ্রত বাড়ি এসে দেখেন ঘরের মেঝেতে রক্তাত্ব মরদেহ পড়ে আছে। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে আছেন।
তিনি বলেন, ব্যাক্তিগতভাবে ফারুক ৬টি বিয়ে করলেও একে একে সবাই তাকে ছেড়ে চলে যায়। পরিবারের লোকজন আনুষ্ঠানিকভাবে তিনটি বিয়ের কথা জানে। তৃতীয় স্ত্রী শানুর সাথে স্থানীয় এক যুবকের পরকীয় ছিল। এ কারনে প্রায় ছয়-সাত মাস আগে ফারুকের ওপর একবার বাড়িতে হামলা হয়। ওই স্ত্রী তখন প্রতারণা করে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে তাকে ছেড়ে চলে যায় বলে জানতে পারেন।
ফারুকের বড় ভাই বারেক শেখ বলেন, তৃতীয় স্ত্রী শানুর সাথে স্থানীয় রাশেদ নামের এক যুবকের পরকীয়ার সম্পর্ক তৈরী হয়। ধারণা করা হচ্ছে তৃতীয় স্ত্রীর পরকীয়ার জের ধরে ফারুককে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। তবে আমরা খুনিদের কাউকে দেখিনি। আমরা চাই, পুলিশ অবলিম্বে খুনিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করুক।
স্থানীয় বাসন্দিা শহিদ শেখ বলেন, ফারুকের ওপর এর আগেও একাধিকবার হামলা হয়েছিল। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয় বলে থানায় দুইবার সাধারণ ডায়রী (জিডি) করে ফারুক। কিন্তু পুলিশ তেমন কোন পদক্ষেপ নেননি বলে আজ ফারুককে দুর্বৃত্তদের হাতে প্রাণ দিতে হয়েছে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, বেলা দ্টুার পর হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে ছুটে আসি। আমরা নানাভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। হত্যাকাণ্ডের কারণ কি বা কারা জড়িত থাকতে পারে, সব বিষয়ে পুলিশ এবং সিআইডি কাজ করছেন। আশা করি দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হবো। এছাড়া লাশের সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার জামতলা বাজার এলাকার নিজ বসত ঘরে ব্যবসায়ী ফারুক শেখকে (৪০) দুর্বৃত্তরা দুই হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন করে ও জবাই করে হত্যা করেছে। শনিবার দুপুর দুইটার দিকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা হত্যাকাণ্ড ঘটায়। এ সময় বাড়িতে এক ভাড়াটিয়া ছাড়া কেউ ছিলনা। নিহত ফারুক স্থানীয় আব্দুল খালেক শেখের ছেলে। সে দৌলতদিয়া যৌনপল্লির ভিতর চায়ের দোকান করতেন।
খবর পেয়ে শনিবার বেলা তিনটার দিকে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ ও ফরিদপুর থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) দল ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে। রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সহ উর্দ্বোতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন। ঘরের মেঝেতে ফারুকের বাম হাতের কব্জি ও ডান হাতের কুনই থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়ে দেখতে দেখেন। গলা থেকে জবাই করে প্রায় বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। মুখ ও বুকের বাম পাশেও একাধিক ধারালো অস্ত্রের জখমের চিহৃ রয়েছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, নিহত ফারুকসহ তারা তিন ভাই দৌলতদিয়া পূর্ব পাড়ায় (যৌনপল্লি) চায়ের দোকান করেন। রাতভর দোকান করা শেষে শনিবার (২২ আগষ্ট) সকাল ৬টার দিকে বাড়ি ফিরে ফারুক। বাড়ি ফিরে নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে মেঝতে ঘুমিয়ে পড়েন। বাড়িতে এক ভাড়াটিয়া ও ছোট ভাই আরিফুল ইসলামের স্ত্রী জোসনা খাতুন ছাড়া কেউ ছিল না।
বিকেল চারটার দিকে নিহত্র্র ফারুকের বাড়িতে দেখা যায়, বাড়িভর্তি মানুষজন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভিড় করছেন। বাড়ির ভিতর একটি টিনের ঘর ঘিরে রেখে থানা পুলিশ ও সিআইডির সদস্যরা কাজ করছেন। বাড়ির উঠানে ফারুকের বৃদ্ধ বাবা বাক প্রতিবন্ধী খালেক শেখ হাউমাউ করে চিৎকার করছেন। ছেলের শোকে অনেকটা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। আরেক ঘরে ফারুকের ছোট ভাই আরিফুল ইসলামের স্ত্রী জোসনা খাতুন আহাজারি করছে। বাড়ির ভাড়াটিয়া নারী অচেতন অবস্থায় ঘরের মেঝতে পড়ে আছে।
এ সময় জোসখান খাতুন বলেন, দুপুর একটার দিকে তিনি জরুরি কাজে বাড়ির বাইরে যান। এর ঘন্টা খানেক পর বেলা দুইটার পর পর বড় ভাশুরের ছেলে ফোন করে তার মৃত্যুর খবর জানায়। দ্রত বাড়ি এসে দেখেন ঘরের মেঝেতে রক্তাত্ব মরদেহ পড়ে আছে। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে আছেন।
তিনি বলেন, ব্যাক্তিগতভাবে ফারুক ৬টি বিয়ে করলেও একে একে সবাই তাকে ছেড়ে চলে যায়। পরিবারের লোকজন আনুষ্ঠানিকভাবে তিনটি বিয়ের কথা জানে। তৃতীয় স্ত্রী শানুর সাথে স্থানীয় এক যুবকের পরকীয় ছিল। এ কারনে প্রায় ছয়-সাত মাস আগে ফারুকের ওপর একবার বাড়িতে হামলা হয়। ওই স্ত্রী তখন প্রতারণা করে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে তাকে ছেড়ে চলে যায় বলে জানতে পারেন।
ফারুকের বড় ভাই বারেক শেখ বলেন, তৃতীয় স্ত্রী শানুর সাথে স্থানীয় রাশেদ নামের এক যুবকের পরকীয়ার সম্পর্ক তৈরী হয়। ধারণা করা হচ্ছে তৃতীয় স্ত্রীর পরকীয়ার জের ধরে ফারুককে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। তবে আমরা খুনিদের কাউকে দেখিনি। আমরা চাই, পুলিশ অবলিম্বে খুনিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করুক।
স্থানীয় বাসন্দিা শহিদ শেখ বলেন, ফারুকের ওপর এর আগেও একাধিকবার হামলা হয়েছিল। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয় বলে থানায় দুইবার সাধারণ ডায়রী (জিডি) করে ফারুক। কিন্তু পুলিশ তেমন কোন পদক্ষেপ নেননি বলে আজ ফারুককে দুর্বৃত্তদের হাতে প্রাণ দিতে হয়েছে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, বেলা দ্টুার পর হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে ছুটে আসি। আমরা নানাভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। হত্যাকাণ্ডের কারণ কি বা কারা জড়িত থাকতে পারে, সব বিষয়ে পুলিশ এবং সিআইডি কাজ করছেন। আশা করি দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হবো। এছাড়া লাশের সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন