নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার পাঁচবাড়িয়া দড়ি বাংলাট গ্রামে স্থানীয় করিমের রাইস মিলের সামনে বৈদ্যুতিক সেচপাম্প চুরির অভিযোগে জজ আলী বিশ্বাস নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশ হাকিম আলী মণ্ডল (৫০) ও করিম মণ্ডল (৬৪) নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে নিজ এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে। তাদেরকে বৃহস্পতিবার বিকেলেই আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত হাকিম মণ্ডল পাংশা উপজেলার কসবামাঝাই ইউনিয়নের নাবরাদহ গ্রামের মৃত শাহাদত মণ্ডলের ছেলে ও করিম মণ্ডল একই গ্রামের মৃত সমেশ মণ্ডল ওরফে ছামেদ মণ্ডলের ছেলে। এর আগে জজ আলী বিশ্বাস হত্যার ঘটনায় নিহতের মা আছিয়া খাতুন বাদী হয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগষ্ট) পাংশা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা (নং-১০) দায়ের করেন। মামলায় ৪৫ জনকে এজাহারভুক্ত এবং অজ্ঞাত আরও ১২ জনকে আসামী করা হয়। নিহত জজ আলী বিশ্বাস পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের উত্তর মাঝাইল গ্রামের শুকুর আলী বিশ্বাসের ছেলে।
মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, বৃধবার (১৯ আগষ্ট) ভোররাত চারটার দিকে তাঁকে কৌশলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে পাঁচবাড়িয়া দড়ি বাংলাট গ্রামের স্থানীয় করিম মণ্ডলের রাইস মিলের কাছে নিয়ে দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে গুরুতর জখম করে রাস্তায় ফেলে রাখে। পরবর্তীতে সকালে খবর পেয়ে পাংশা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মুমূর্ষ অবস্থায় জজ আলীকে উদ্ধার করে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত জজ আলীর ভাতিজা মিজান বিশ্বাস বলেন, তিনি (জজ আলী) বৈদ্যুতিক সেচপাম্প চুরির সঙ্গে জড়িত নয়। পাট্টা ও কসবামাঝাইল ইউনিয়নের তাদের দুটি গ্রামের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে একাধিকবার মারামারির ঘটনাও ঘটে। প্রায় দেড় মাস আগে কসবামাঝাইল ইউপির কসবামাঝাইল গ্রামের লোকজন জজ আলীর আপন চাচা জামিন বিশ্বাসকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। ওই মামলার অভিযুক্ত আসামীরা মঙ্গলবার উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে এলাকায় ফিরে আসেন।
মিজান বিশ্বাসের দাবি, কসবামাঝাইল গ্রামের আরিফ নামের একজন আমার চাচার (জজ আলীর) খুব ঘনিষ্ট ছিলেন। সেই সূত্র ধরে বুধবার ভোররাতের দিকে কৌশলে তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে বেধম মারপিট করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়। পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর সে মারা যান। আমার চাচা কৃষিকাজ করতেন এবং পরিবারে তিনটি সন্তান রয়েছে। আমার চাচা না থাকায় তাঁর পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছে।
পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, জজ আলী বিশ্বাস হত্যার ঘটনায় প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বুধবার রাতে হাকিম মণ্ডল ও করিম মণ্ডলকে থানায় আনা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে জজ আলীর মা বাদী হয়ে মামলা করলে এজাহারভুক্ত আসামী হিসেবে তাদের নাম দেন। পরে ওই মামলায় তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার পাঁচবাড়িয়া দড়ি বাংলাট গ্রামে স্থানীয় করিমের রাইস মিলের সামনে বৈদ্যুতিক সেচপাম্প চুরির অভিযোগে জজ আলী বিশ্বাস নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশ হাকিম আলী মণ্ডল (৫০) ও করিম মণ্ডল (৬৪) নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে নিজ এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে। তাদেরকে বৃহস্পতিবার বিকেলেই আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত হাকিম মণ্ডল পাংশা উপজেলার কসবামাঝাই ইউনিয়নের নাবরাদহ গ্রামের মৃত শাহাদত মণ্ডলের ছেলে ও করিম মণ্ডল একই গ্রামের মৃত সমেশ মণ্ডল ওরফে ছামেদ মণ্ডলের ছেলে। এর আগে জজ আলী বিশ্বাস হত্যার ঘটনায় নিহতের মা আছিয়া খাতুন বাদী হয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগষ্ট) পাংশা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা (নং-১০) দায়ের করেন। মামলায় ৪৫ জনকে এজাহারভুক্ত এবং অজ্ঞাত আরও ১২ জনকে আসামী করা হয়। নিহত জজ আলী বিশ্বাস পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের উত্তর মাঝাইল গ্রামের শুকুর আলী বিশ্বাসের ছেলে।
মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, বৃধবার (১৯ আগষ্ট) ভোররাত চারটার দিকে তাঁকে কৌশলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে পাঁচবাড়িয়া দড়ি বাংলাট গ্রামের স্থানীয় করিম মণ্ডলের রাইস মিলের কাছে নিয়ে দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে গুরুতর জখম করে রাস্তায় ফেলে রাখে। পরবর্তীতে সকালে খবর পেয়ে পাংশা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মুমূর্ষ অবস্থায় জজ আলীকে উদ্ধার করে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত জজ আলীর ভাতিজা মিজান বিশ্বাস বলেন, তিনি (জজ আলী) বৈদ্যুতিক সেচপাম্প চুরির সঙ্গে জড়িত নয়। পাট্টা ও কসবামাঝাইল ইউনিয়নের তাদের দুটি গ্রামের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে একাধিকবার মারামারির ঘটনাও ঘটে। প্রায় দেড় মাস আগে কসবামাঝাইল ইউপির কসবামাঝাইল গ্রামের লোকজন জজ আলীর আপন চাচা জামিন বিশ্বাসকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। ওই মামলার অভিযুক্ত আসামীরা মঙ্গলবার উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে এলাকায় ফিরে আসেন।
মিজান বিশ্বাসের দাবি, কসবামাঝাইল গ্রামের আরিফ নামের একজন আমার চাচার (জজ আলীর) খুব ঘনিষ্ট ছিলেন। সেই সূত্র ধরে বুধবার ভোররাতের দিকে কৌশলে তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে বেধম মারপিট করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়। পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর সে মারা যান। আমার চাচা কৃষিকাজ করতেন এবং পরিবারে তিনটি সন্তান রয়েছে। আমার চাচা না থাকায় তাঁর পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছে।
পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, জজ আলী বিশ্বাস হত্যার ঘটনায় প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বুধবার রাতে হাকিম মণ্ডল ও করিম মণ্ডলকে থানায় আনা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে জজ আলীর মা বাদী হয়ে মামলা করলে এজাহারভুক্ত আসামী হিসেবে তাদের নাম দেন। পরে ওই মামলায় তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আপনার মতামত লিখুন