রাজবাড়ী মেইল
আপডেট : বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নৌযান শুমারি উপলক্ষে নৌ মহড়া

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নৌযান শুমারি উপলক্ষে নৌ মহড়া

গোয়ালন্দের দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র একজন করে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেছে

গোয়ালন্দের দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র একজন করে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেছে

১৭ দিন নিখোঁজের পর রাজবাড়ী সদর থানা ওসির সহযোগিতায় মাকে ফিরে পেলো পরিবার

১৭ দিন নিখোঁজের পর রাজবাড়ী সদর থানা ওসির সহযোগিতায় মাকে ফিরে পেলো পরিবার

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের উজানচর ভূমি অফিসে চার মাসের ব্যবধানে দুইবার চুরি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের উজানচর ভূমি অফিসে চার মাসের ব্যবধানে দুইবার চুরি

রাজবাড়ীঃ মাদকের পাওনা টাকার জেরে যুবককে হত্যা; অসহায় পরিবার

রাজবাড়ীঃ মাদকের পাওনা টাকার জেরে যুবককে হত্যা; অসহায় পরিবার

উত্তরাধিকার সূত্রে দেশের চল্লিশ শতাংশ যুব সমাজ কোন শিক্ষায় নেই - প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা তিুতমীর

উত্তরাধিকার সূত্রে দেশের চল্লিশ শতাংশ যুব সমাজ কোন শিক্ষায় নেই - প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা তিুতমীর

পতিত সরকার শিক্ষা, সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে - রাজবাড়ীতে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা তিতুমীর

পতিত সরকার শিক্ষা, সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে - রাজবাড়ীতে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা তিতুমীর

রাজবাড়ীতে র‌্যাবের হাতে সাব-মেশিনগান ও বিদেশী পিস্তল, গুলি সহ গ্রেপ্তার ২

রাজবাড়ীতে র‌্যাবের হাতে সাব-মেশিনগান ও বিদেশী পিস্তল, গুলি সহ গ্রেপ্তার ২

গোয়ালন্দের দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র একজন করে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেছে

গোয়ালন্দের দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র একজন করে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেছে

মঈনুল হক, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ১০ জন শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত দৌলতদিয়া আক্কাস আলী হাই স্কুল থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র একজন শিক্ষার্থী। এই বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৩৩জন শিক্ষার্থী। এ ফলাফল নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এর আগে এই একই বিদ্যালয় থেকে গত বছর (২০২৫ সাল) এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছির ৩৩ জন শিক্ষার্থী। ওই বছর পাস করেছিল ১৮ জন শিক্ষার্থী। পাসের গড় হার ছিল ৫৩ শতাংশ। ফলাফল খারাপের জন্য শিক্ষার্থীদের অনিয়মত বিদ্যালয় গমন এবং মোবাইল আসক্তিকে বেশি দায়ী করছেন প্রধান শিক্ষক। 

জানা যায়, এ বছর দৌলতদিয়া আক্কাস আলী হাই স্কুল থেকে মানবিক বিভাগের মোট ৩৩ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। সেখান থেকে ইমন শেখ নামের একমাত্র শিক্ষার্থী জিপিএ ২.৬৭ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। বাকি ৩২ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় বিদ্যালয়টির ফলাফল নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। 

এছাড়া উপজেলার আরেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফলাফলও প্রায় একই রকমের বিপর্যয় হয়েছে। উপজেলার জামতলা দাখিল মাদ্রাসায় ১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র একজন শিক্ষার্থী। 

স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এত বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের মান, নিয়মিত ক্লাস, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতি, অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নসহ সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

দৌলতদিয়া আক্কাস আলী হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, ‘বিগত দিনে আমাদের বিদ্যালয়ের ফলাফল মোটামুটি ভালোই ছিল। গত বছরও ৩৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১৮ জন পাস করেন। কিন্তু এবার ফলাফলের পরিস্থিতি অনেক খারাপ হয়েছে। যদিও সারা দেশের ফলাফল খারাপ হয়েছে। তবে তাঁর বিদ্যালয়ে খারাপ ফলাফলের জন্য অনিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি এবং মোবাইলফোনের প্রতি আসক্তির কারণকে প্রধানতম দায়ী করছেন। পাশাপাশি ব্যার্থতার দায় শিক্ষকদেরও আছে বলে মনে করেন। 

জামতলা দাখিল মাদরাসার সুপার আফজাল হোসেন বলেন, গত বছরও ১৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১২ জন পাস করেছে। এ বছর ১৫ জনের মধ্যে মাত্র আব্দুল আলিম নামের একজন জিপিএ ২.৭৫ নিয়ে পাস করায় আমরাও হতাস। তবে এ জন্য শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ ব্যবস্থাই অনেকটা দায়ী। কারণ গোয়ালন্দ থেকে রাজবাড়ী জেলা শহরের আবুল হোসেন কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা দেওয়ায় বাড়তি হয়রানীর শিকার হতে হয়েছে। 

গোয়ালন্দ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার দাস বলেন, উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশের হার মোটামুটি ভালো। গত বছর কিন্তু এমন ফলাফল হয়নি। ফলাফল বিপর্যয়কৃত দুটি প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে বলেন, আক্কাস আলী হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা মূলত ইংরেজীতে অকৃতকার্য হয়েছে। আর জামতলা দাখিল মাদরাসার শিক্ষার্থীরা গণিত বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। এমন ফলাফলের জন্য বুধবার সকালে ইউএনও স্যার প্রতিষ্ঠান দুটির প্রধানদের ডেকেছেন। 

গোয়ালন্দ উপজেলা মোট পাশের হার এসএসসি পরীক্ষায় ৫৪.৮ %, দাক্ষিল পরীক্ষায় ৫৩.১২ % এবং ভোকেশনাল পরীক্ষায় ৩৫.০০%।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
রাজবাড়ী মেইল

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬


গোয়ালন্দের দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র একজন করে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেছে

প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মঈনুল হক, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ১০ জন শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত দৌলতদিয়া আক্কাস আলী হাই স্কুল থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র একজন শিক্ষার্থী। এই বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৩৩জন শিক্ষার্থী। এ ফলাফল নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এর আগে এই একই বিদ্যালয় থেকে গত বছর (২০২৫ সাল) এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছির ৩৩ জন শিক্ষার্থী। ওই বছর পাস করেছিল ১৮ জন শিক্ষার্থী। পাসের গড় হার ছিল ৫৩ শতাংশ। ফলাফল খারাপের জন্য শিক্ষার্থীদের অনিয়মত বিদ্যালয় গমন এবং মোবাইল আসক্তিকে বেশি দায়ী করছেন প্রধান শিক্ষক। 

জানা যায়, এ বছর দৌলতদিয়া আক্কাস আলী হাই স্কুল থেকে মানবিক বিভাগের মোট ৩৩ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। সেখান থেকে ইমন শেখ নামের একমাত্র শিক্ষার্থী জিপিএ ২.৬৭ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। বাকি ৩২ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় বিদ্যালয়টির ফলাফল নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। 

এছাড়া উপজেলার আরেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফলাফলও প্রায় একই রকমের বিপর্যয় হয়েছে। উপজেলার জামতলা দাখিল মাদ্রাসায় ১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র একজন শিক্ষার্থী। 

স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এত বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের মান, নিয়মিত ক্লাস, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতি, অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নসহ সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

দৌলতদিয়া আক্কাস আলী হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, ‘বিগত দিনে আমাদের বিদ্যালয়ের ফলাফল মোটামুটি ভালোই ছিল। গত বছরও ৩৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১৮ জন পাস করেন। কিন্তু এবার ফলাফলের পরিস্থিতি অনেক খারাপ হয়েছে। যদিও সারা দেশের ফলাফল খারাপ হয়েছে। তবে তাঁর বিদ্যালয়ে খারাপ ফলাফলের জন্য অনিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি এবং মোবাইলফোনের প্রতি আসক্তির কারণকে প্রধানতম দায়ী করছেন। পাশাপাশি ব্যার্থতার দায় শিক্ষকদেরও আছে বলে মনে করেন। 

জামতলা দাখিল মাদরাসার সুপার আফজাল হোসেন বলেন, গত বছরও ১৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১২ জন পাস করেছে। এ বছর ১৫ জনের মধ্যে মাত্র আব্দুল আলিম নামের একজন জিপিএ ২.৭৫ নিয়ে পাস করায় আমরাও হতাস। তবে এ জন্য শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ ব্যবস্থাই অনেকটা দায়ী। কারণ গোয়ালন্দ থেকে রাজবাড়ী জেলা শহরের আবুল হোসেন কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা দেওয়ায় বাড়তি হয়রানীর শিকার হতে হয়েছে। 

গোয়ালন্দ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার দাস বলেন, উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশের হার মোটামুটি ভালো। গত বছর কিন্তু এমন ফলাফল হয়নি। ফলাফল বিপর্যয়কৃত দুটি প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে বলেন, আক্কাস আলী হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা মূলত ইংরেজীতে অকৃতকার্য হয়েছে। আর জামতলা দাখিল মাদরাসার শিক্ষার্থীরা গণিত বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। এমন ফলাফলের জন্য বুধবার সকালে ইউএনও স্যার প্রতিষ্ঠান দুটির প্রধানদের ডেকেছেন। 

গোয়ালন্দ উপজেলা মোট পাশের হার এসএসসি পরীক্ষায় ৫৪.৮ %, দাক্ষিল পরীক্ষায় ৫৩.১২ % এবং ভোকেশনাল পরীক্ষায় ৩৫.০০%।


রাজবাড়ী মেইল

সম্পাদক: রাশেদ ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৫ । সর্বস্ব সংরক্ষিত রাজবাড়ী মেইল