রাজবাড়ী মেইল
আপডেট : বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

আগামী ছয় মাসের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজের কাজ শুরু হবে, বদলে যাবে ২৪ জেলার অর্থনীতি -পানিসম্পদমন্ত্রী

আগামী ছয় মাসের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজের কাজ শুরু হবে, বদলে যাবে ২৪ জেলার অর্থনীতি -পানিসম্পদমন্ত্রী

গোয়ালন্দের স্বজ্জন ব্যাক্তি কোবাদ হোসেনের দাফন সম্পন্ন

গোয়ালন্দের স্বজ্জন ব্যাক্তি কোবাদ হোসেনের দাফন সম্পন্ন

রাজবাড়ীতে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে রাজবাড়ীতে র্যালি ও আলোচনা সভা

রাজবাড়ীতে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে রাজবাড়ীতে র্যালি ও আলোচনা সভা

 কৃষিপণ্যে ধলতা বাতিল, সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার বিতরণসহ ১০ দফা দাবীতে বিক্ষোভ

কৃষিপণ্যে ধলতা বাতিল, সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার বিতরণসহ ১০ দফা দাবীতে বিক্ষোভ

তীব্র স্রোতে চারদিন ধরে বন্ধ ফেরি, ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ নৌরুটে ভোগান্তি

তীব্র স্রোতে চারদিন ধরে বন্ধ ফেরি, ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ নৌরুটে ভোগান্তি

রাজবাড়ীতে নারী উদ্যোক্তাকে মারধরে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি

রাজবাড়ীতে নারী উদ্যোক্তাকে মারধরে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলার ৯দিন পর হাসপাতালে যৌনকর্মীর মৃত্যু

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলার ৯দিন পর হাসপাতালে যৌনকর্মীর মৃত্যু

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ

১৭ দিন নিখোঁজের পর রাজবাড়ী সদর থানা ওসির সহযোগিতায় মাকে ফিরে পেলো পরিবার

১৭ দিন নিখোঁজের পর রাজবাড়ী সদর থানা ওসির সহযোগিতায় মাকে ফিরে পেলো পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ নিখোঁজের ১৭ দিন পর মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন বৃদ্ধা জোবেদা খাতুনকে (৬৬) ফিরে পেলো তাঁর পরিবার। শনিবার রাতে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিবারের সদস্যদের কাছে বৃদ্ধা জোবেদা খাতুনকে বুঝিয়ে দেন। এ সময় রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষসহ বৃদ্ধার ছেলে ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

বৃদ্ধা জোবেদা খাতুন নীলফামারী সদর উপজেলার নীলফামারী বাজার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়ারেছিপাড়ার জিয়ার উদ্দিন রহমানের স্ত্রী। মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন বৃদ্ধা জোবেদা খাতুন গত ১৭দিন আগে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরেনি। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও না পাওয়ায় স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়রী করেন। 

পুলিশ ও পরিবার জানায়, বৃহস্পতিবার (৬ আগষ্ট) বিকেলে রাজবাড়ী পৌরসভা কার্যালয়ে সামনে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় একটি ব্যাটারি চালিত ইজিবাইকের সাথে ধাক্কায় রাস্তায় পড়ে আহত হন বৃদ্ধ জোবেদা খাতুন। এ সময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় ইজিবাইক চালক ও পাশেই অবস্থিত সদর থানা পুলিশ তাঁকে দ্রæত সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে ঠোটে সেলাইসহ চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় মহিলা সার্জারী ওয়ার্ডে ভর্তি রাখে। কিন্তু তিনি কথা বলতে না পারায় পরিচয় শনাক্ত করা যাচ্ছিল না। পরে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মনজুর মোরশেদের নির্দেশে শনিবার (৮ আগষ্ট) সকালে ফরিদপুর থেকে সিআইডির একটি টিম তাঁর আঙ্গুলের ছাপ গ্রহণের পর জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বের করে।  

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ জানান, ইজিবাইক চালকের সহযোগিতায় আহত বৃদ্ধাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ সময় ইজিবাইক চালক এবং আমরা যাবতীয় ওষুধপত্রের ব্যবস্থা করি। কিন্তু বৃদ্ধা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলায় এবং কথা বলতে না পারায় পরিচয় জানতে পারছিলাম না। পুলিশ সুপারের নির্দেশে ফরিদপুর থেকে সিআইডির টিম শনিবার সকালে বৃদ্ধার আঙ্গুলের ছাপ গ্রহণ করে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য বের করলে জানতে পারি তাঁর বাড়ি নীলফামারী জেলায়। এ সময় আমরা প্রযুুক্তিগত সহায়তায় জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে নিবন্ধিত মুঠোফোন নাম্বার সংগ্রহ করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারি তাঁর এক ছেলে নীলফামারী পুলিশ লাইনে ম্যাসে কাজ এবং আরেক ছেলে চাকুরি করেন। পরে সাভারে থাকা ছেলে রাতেই রাজবাড়ী পৌঁছলে রাত ৯টার দিকে বৃদ্ধাকে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। 

ইজিবাইক চালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ইজিবাইক নিয়ে রাজবাড়ী শহরের যাওয়ার সময় এক বৃদ্ধা থাক্কা খেয়ে সড়কে পড়ে যান। এ সময় পাশে উপস্থিত সদর থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করি এবং যাবতীয় ওষুধপত্র কিনে দেই। কিন্তু তিনি কথা বলতে না পারায় আমরা দুশ্চিন্তায় ছিলাম। পরে ওসি স্যারের চেষ্টায় পরিবারকে খুঁজে বের করে তাদের হাতে দিতে পারায় স্বস্তি ফিরছে।  

জোবেদা খাতুনের ছেলে শাহিনুর রহমান বলেন, কয়েক মাস আগে মা স্ট্রোক করলে শরীরের একপাশ অবস হয়ে পড়ায় অনেকটা মানসিকভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। ১৭দিন আগে মা বাড়ি থেকে সবার অজান্তে বের হওয়ার পর অনেক খোঁজ করে না পাওয়ায় থানায় জিডি করি। এরপর মাকে অনেক খুঁজেছি কিন্তু কোথাও পায়নি। শনিবার দুপুরে রাজবাড়ী সদর থানার ওসি স্যার ফোন করে জানালে আমরা চলে আসি। অনেকদিন পর মাকে খুঁজে পেয়েছি, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। সদর থানা ওসি স্যারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
রাজবাড়ী মেইল

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


১৭ দিন নিখোঁজের পর রাজবাড়ী সদর থানা ওসির সহযোগিতায় মাকে ফিরে পেলো পরিবার

প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ নিখোঁজের ১৭ দিন পর মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন বৃদ্ধা জোবেদা খাতুনকে (৬৬) ফিরে পেলো তাঁর পরিবার। শনিবার রাতে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিবারের সদস্যদের কাছে বৃদ্ধা জোবেদা খাতুনকে বুঝিয়ে দেন। এ সময় রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষসহ বৃদ্ধার ছেলে ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

বৃদ্ধা জোবেদা খাতুন নীলফামারী সদর উপজেলার নীলফামারী বাজার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়ারেছিপাড়ার জিয়ার উদ্দিন রহমানের স্ত্রী। মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন বৃদ্ধা জোবেদা খাতুন গত ১৭দিন আগে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরেনি। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও না পাওয়ায় স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়রী করেন। 

পুলিশ ও পরিবার জানায়, বৃহস্পতিবার (৬ আগষ্ট) বিকেলে রাজবাড়ী পৌরসভা কার্যালয়ে সামনে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় একটি ব্যাটারি চালিত ইজিবাইকের সাথে ধাক্কায় রাস্তায় পড়ে আহত হন বৃদ্ধ জোবেদা খাতুন। এ সময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় ইজিবাইক চালক ও পাশেই অবস্থিত সদর থানা পুলিশ তাঁকে দ্রæত সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে ঠোটে সেলাইসহ চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় মহিলা সার্জারী ওয়ার্ডে ভর্তি রাখে। কিন্তু তিনি কথা বলতে না পারায় পরিচয় শনাক্ত করা যাচ্ছিল না। পরে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মনজুর মোরশেদের নির্দেশে শনিবার (৮ আগষ্ট) সকালে ফরিদপুর থেকে সিআইডির একটি টিম তাঁর আঙ্গুলের ছাপ গ্রহণের পর জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বের করে।  

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ জানান, ইজিবাইক চালকের সহযোগিতায় আহত বৃদ্ধাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ সময় ইজিবাইক চালক এবং আমরা যাবতীয় ওষুধপত্রের ব্যবস্থা করি। কিন্তু বৃদ্ধা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলায় এবং কথা বলতে না পারায় পরিচয় জানতে পারছিলাম না। পুলিশ সুপারের নির্দেশে ফরিদপুর থেকে সিআইডির টিম শনিবার সকালে বৃদ্ধার আঙ্গুলের ছাপ গ্রহণ করে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য বের করলে জানতে পারি তাঁর বাড়ি নীলফামারী জেলায়। এ সময় আমরা প্রযুুক্তিগত সহায়তায় জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে নিবন্ধিত মুঠোফোন নাম্বার সংগ্রহ করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারি তাঁর এক ছেলে নীলফামারী পুলিশ লাইনে ম্যাসে কাজ এবং আরেক ছেলে চাকুরি করেন। পরে সাভারে থাকা ছেলে রাতেই রাজবাড়ী পৌঁছলে রাত ৯টার দিকে বৃদ্ধাকে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। 

ইজিবাইক চালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ইজিবাইক নিয়ে রাজবাড়ী শহরের যাওয়ার সময় এক বৃদ্ধা থাক্কা খেয়ে সড়কে পড়ে যান। এ সময় পাশে উপস্থিত সদর থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করি এবং যাবতীয় ওষুধপত্র কিনে দেই। কিন্তু তিনি কথা বলতে না পারায় আমরা দুশ্চিন্তায় ছিলাম। পরে ওসি স্যারের চেষ্টায় পরিবারকে খুঁজে বের করে তাদের হাতে দিতে পারায় স্বস্তি ফিরছে।  

জোবেদা খাতুনের ছেলে শাহিনুর রহমান বলেন, কয়েক মাস আগে মা স্ট্রোক করলে শরীরের একপাশ অবস হয়ে পড়ায় অনেকটা মানসিকভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। ১৭দিন আগে মা বাড়ি থেকে সবার অজান্তে বের হওয়ার পর অনেক খোঁজ করে না পাওয়ায় থানায় জিডি করি। এরপর মাকে অনেক খুঁজেছি কিন্তু কোথাও পায়নি। শনিবার দুপুরে রাজবাড়ী সদর থানার ওসি স্যার ফোন করে জানালে আমরা চলে আসি। অনেকদিন পর মাকে খুঁজে পেয়েছি, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। সদর থানা ওসি স্যারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।


রাজবাড়ী মেইল

সম্পাদক: রাশেদ ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৫ । সর্বস্ব সংরক্ষিত রাজবাড়ী মেইল