রাজবাড়ী মেইল
প্রকাশ : শনিবার, ০৯ মে ২০২৬

রাজবাড়ীতে অনুষ্ঠিত হলো দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা; কালুখালীর খাগজানা উচ্চ বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন

রাজবাড়ীতে অনুষ্ঠিত হলো দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা; কালুখালীর খাগজানা উচ্চ বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন

গোয়ালন্দের গুণী শিক্ষক, সর্বজন শ্রদ্ধেয় সুলতান উদ্দিন আহমেদ আর নেই

গোয়ালন্দের গুণী শিক্ষক, সর্বজন শ্রদ্ধেয় সুলতান উদ্দিন আহমেদ আর নেই

গোয়ালন্দে মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভা অনুষ্ঠিত; সভাপতি রফিকুল, সম্পাদক কাশেম নির্বাচিত

গোয়ালন্দে মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভা অনুষ্ঠিত; সভাপতি রফিকুল, সম্পাদক কাশেম নির্বাচিত

রাজবাড়ীতে প্রবাসীর স্ত্রী হত্যার তিন বছর পর রায়, প্রধান আসামির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড

রাজবাড়ীতে প্রবাসীর স্ত্রী হত্যার তিন বছর পর রায়, প্রধান আসামির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড

রাজবাড়ীতে উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যাত্রা শুরু

রাজবাড়ীতে উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যাত্রা শুরু

দৌলতদিয়ায় বাসে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

দৌলতদিয়ায় বাসে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

দৌলতদিয়া টার্মিনালে রেখে গেলেন ভালো বাস, খবর পেয়ে এসে দেখলে আগুনে সব শেষ

দৌলতদিয়া টার্মিনালে রেখে গেলেন ভালো বাস, খবর পেয়ে এসে দেখলে আগুনে সব শেষ

রাজবাড়ীর কালুখালীতে সালেহা সামাদ হেলথ সার্ভিস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান, জরিমানা

রাজবাড়ীর কালুখালীতে সালেহা সামাদ হেলথ সার্ভিস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান, জরিমানা

সৌদি আরবে দুর্ঘটনায় নিহত মুরাদের মরদেহ ১৫ দিন পর দেশে

সৌদি আরবে দুর্ঘটনায় নিহত মুরাদের মরদেহ ১৫ দিন পর দেশে

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের জুবাইল এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশি শ্রমিক মুরাদ শেখের (৩৪) মরদেহ ১৫ দিন পর দেশে পৌঁছেছে। শনিবার সকাল সোয়া নয়টার দিকে তাঁর গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর উজানচর ইউনিয়নের দরাপের ডাঙ্গী মরদেহ পৌঁছায়। 

শনিবার ভোর ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মুরাদের মরদেহবাহী উড়োজাহাজ অবতরণ করে। সেখানে বড় ভাই গোলাম মোস্তফা মরদেহ গ্রহণ করেন। সকাল ৬টার দিকে বুঝে পাবার পর বিমানবন্দর থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে সোয়া নয়টার দিকে গ্রামের বাড়ি পৌঁছে। বেলা এগারটায় দুদুখানপাড়া হাফেজিয়া মাদরাসা মাঠে জানাযা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। মুরাদ অত্যন্ত বিনয়ী, ভালো খেলোয়ার এবং ভদ্র ছিল। তাঁর মরদেহ এলাকায় পৌঁছলে হাজারো মানুষের ঢল নামে। তাঁর অকাল মৃত্যুতে পরিবার সহ গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   

গত ২৩ এপ্রিল কাজ শেষে ফেরার পথে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের জুবাইল এলাকায় বহনকারী মাইক্রোবাস বিকল হলে রাস্তার পার হওয়ার সময় দ্রæতগামী যানের আঘাতে ঘটনাস্থলে মারা যান। পরে দাম্মাম শহরের জেনারেল হাসপাতালে মর্গে মুরাদের মরদেহ রাখা হয়। সে গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর দরাপেরডাঙ্গী গ্রামের আব্দুল খালেকের ছোট ছেলে। প্রায় ১৪ মাস আগে পরিবারের অভাব ঘোঁচাতে মুরাদ সৌদি আরব যান। 

শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দেখা যায়, মুরাদের মরদেহ আসার খবর পেয়ে দূর-দূরান্ত থেকে আত্মীয় স্বজন, শুভাকাঙ্খিসহ হাজারো মানুষ এসেছে এক নজর দেখতে। উঠানে বড় গোলাম মোস্তফাকে ঘিরে বসে আসেন লোকজন। ঘরের ভিতর শয্যাশায়ী স্ত্রী আঞ্জুয়ারা খাতুন। কোলে ১০ মাস বয়সী শিশু সন্তান রেজাউল ইসলাম রাফি, পাশে বসা ১৩ বছর বয়সী বড় মেয়ে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মাইশা খাতুন ও ৬ বছর বয়সী ছোট মেয়ে মেহেরিমা। আত্মীয় স্বজন তাদের শান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

স্ত্রী আঞ্জুয়ারা খাতুন বলেন, আকামা শেষ করে বাড়ি ফেরার কথা। ছোট মেয়েকে অনেক ভালোবেসে বলতো ‘আমার মায়ের মতো, ওকে দেখে রেখো’। ছেলেকে মাত্র ৬ মাস বয়সে পেটে রেখে সৌদি যান। ছেলের কথা বলতেই আহাজারি করে বলেন, মুরাদ বলতো ‘আমি আমার ছেলেকে কবে কোলে তুলে নিতে পারবো। ওকে দেখে যেতে পারেনি। ওরে দেখার জন্য পাগল হয়ে গেছি। শুধু বলতো তারাতারি বাড়ি আসবো, আমার বাবাকে কোলে তুলে নিবো।’ ছেলের জন্য তাড়াতাড়ি বাড়ি আসার কথা ছিল। 

বড় মেয়ে মাইশা বলে, দুর্ঘটনার প্রায় দুই ঘন্টা আগে আব্বুর সাথে ফোনে কথা হয়। নেটওয়ার্কের সমস্যার কারনে ভালোভাবে কথা শোনা যাচ্ছিলনা। শুধু বলছিল পরে ফোনে কথা বলবে। এরপর আব্বুকে আর পাইনি। 

মুরাদের বন্ধু স্কুল শিক্ষক ওহিদুল ইসলাম বলেন, মুরাদ ছোটবেলা থেকে খেলাধুলা এবং সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকতো। সামাজিক কাজে আমাদের আগে মুরাদ থাকতো। ওর মতো এমন বন্ধু আর পাবো না। তাই তো দূর-দূরান্ত থেকে সকলে ছুটে এসেছে।  

মুরাদের বড় ভাই গোলাম মোস্তফা বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মুরাদের মৃত্যুতে স্ত্রীসহ তিন সন্তান আজ এতিম হয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে। আমরা পাশে থাকলেও সরকারি এবং বেসরকারিভাবে সহযোগিতার হাত বাড়ালে তিন সন্তান নিয়ে মুরাদের স্ত্রী অন্তত বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা পেত। 

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
রাজবাড়ী মেইল

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সৌদি আরবে দুর্ঘটনায় নিহত মুরাদের মরদেহ ১৫ দিন পর দেশে

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬

featured Image

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের জুবাইল এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশি শ্রমিক মুরাদ শেখের (৩৪) মরদেহ ১৫ দিন পর দেশে পৌঁছেছে। শনিবার সকাল সোয়া নয়টার দিকে তাঁর গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর উজানচর ইউনিয়নের দরাপের ডাঙ্গী মরদেহ পৌঁছায়। 

শনিবার ভোর ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মুরাদের মরদেহবাহী উড়োজাহাজ অবতরণ করে। সেখানে বড় ভাই গোলাম মোস্তফা মরদেহ গ্রহণ করেন। সকাল ৬টার দিকে বুঝে পাবার পর বিমানবন্দর থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে সোয়া নয়টার দিকে গ্রামের বাড়ি পৌঁছে। বেলা এগারটায় দুদুখানপাড়া হাফেজিয়া মাদরাসা মাঠে জানাযা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। মুরাদ অত্যন্ত বিনয়ী, ভালো খেলোয়ার এবং ভদ্র ছিল। তাঁর মরদেহ এলাকায় পৌঁছলে হাজারো মানুষের ঢল নামে। তাঁর অকাল মৃত্যুতে পরিবার সহ গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   

গত ২৩ এপ্রিল কাজ শেষে ফেরার পথে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের জুবাইল এলাকায় বহনকারী মাইক্রোবাস বিকল হলে রাস্তার পার হওয়ার সময় দ্রæতগামী যানের আঘাতে ঘটনাস্থলে মারা যান। পরে দাম্মাম শহরের জেনারেল হাসপাতালে মর্গে মুরাদের মরদেহ রাখা হয়। সে গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর দরাপেরডাঙ্গী গ্রামের আব্দুল খালেকের ছোট ছেলে। প্রায় ১৪ মাস আগে পরিবারের অভাব ঘোঁচাতে মুরাদ সৌদি আরব যান। 

শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দেখা যায়, মুরাদের মরদেহ আসার খবর পেয়ে দূর-দূরান্ত থেকে আত্মীয় স্বজন, শুভাকাঙ্খিসহ হাজারো মানুষ এসেছে এক নজর দেখতে। উঠানে বড় গোলাম মোস্তফাকে ঘিরে বসে আসেন লোকজন। ঘরের ভিতর শয্যাশায়ী স্ত্রী আঞ্জুয়ারা খাতুন। কোলে ১০ মাস বয়সী শিশু সন্তান রেজাউল ইসলাম রাফি, পাশে বসা ১৩ বছর বয়সী বড় মেয়ে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মাইশা খাতুন ও ৬ বছর বয়সী ছোট মেয়ে মেহেরিমা। আত্মীয় স্বজন তাদের শান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

স্ত্রী আঞ্জুয়ারা খাতুন বলেন, আকামা শেষ করে বাড়ি ফেরার কথা। ছোট মেয়েকে অনেক ভালোবেসে বলতো ‘আমার মায়ের মতো, ওকে দেখে রেখো’। ছেলেকে মাত্র ৬ মাস বয়সে পেটে রেখে সৌদি যান। ছেলের কথা বলতেই আহাজারি করে বলেন, মুরাদ বলতো ‘আমি আমার ছেলেকে কবে কোলে তুলে নিতে পারবো। ওকে দেখে যেতে পারেনি। ওরে দেখার জন্য পাগল হয়ে গেছি। শুধু বলতো তারাতারি বাড়ি আসবো, আমার বাবাকে কোলে তুলে নিবো।’ ছেলের জন্য তাড়াতাড়ি বাড়ি আসার কথা ছিল। 

বড় মেয়ে মাইশা বলে, দুর্ঘটনার প্রায় দুই ঘন্টা আগে আব্বুর সাথে ফোনে কথা হয়। নেটওয়ার্কের সমস্যার কারনে ভালোভাবে কথা শোনা যাচ্ছিলনা। শুধু বলছিল পরে ফোনে কথা বলবে। এরপর আব্বুকে আর পাইনি। 

মুরাদের বন্ধু স্কুল শিক্ষক ওহিদুল ইসলাম বলেন, মুরাদ ছোটবেলা থেকে খেলাধুলা এবং সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকতো। সামাজিক কাজে আমাদের আগে মুরাদ থাকতো। ওর মতো এমন বন্ধু আর পাবো না। তাই তো দূর-দূরান্ত থেকে সকলে ছুটে এসেছে।  

মুরাদের বড় ভাই গোলাম মোস্তফা বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মুরাদের মৃত্যুতে স্ত্রীসহ তিন সন্তান আজ এতিম হয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে। আমরা পাশে থাকলেও সরকারি এবং বেসরকারিভাবে সহযোগিতার হাত বাড়ালে তিন সন্তান নিয়ে মুরাদের স্ত্রী অন্তত বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা পেত। 


রাজবাড়ী মেইল

সম্পাদক: রাশেদ ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৫ । সর্বস্ব সংরক্ষিত রাজবাড়ী মেইল