মঈনুল হক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় একটি মাদ্রাসায় খাবার না পেয়ে কাঠের গুঁড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আহত নারী সহকারী সোনাবান বিবি (৬৫) মারা গেছেন। এর আগে একই হামলায় মাদ্রাসার বাবুর্চি ফজের আলী সরদার (৭০) নিহত হন। এ নিয়ে এ ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হলো।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোনাবান বিবির মৃত্যু হয়। শুক্রবার দুপুরে হামলার শিকার হওয়ার পর তাঁকে প্রথমে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাতে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
এর আগে শুক্রবার বেলা সোয়া দুইটার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া আঞ্জুমান-ই-কাদেরিয়া মাদ্রাসাতু সাবি-ইল-হাসান দাখিল মাদ্রাসায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই বাবুর্চি ফজের আলী সরদারের মৃত্যু হয়।
নিহত ফজের আলী রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের মল্লিকপাড়া গ্রামের মৃত আহমদ আলী সরদারের ছেলে। সোনাবান বিবি গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বাহিরচর দৌলতদিয়া এলাকার সিদ্দিক কাজীপাড়ার মৃত সাইমুদ্দিন শেখের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে রান্না শেষে মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থীদের খাবার পরিবেশন করছিলেন ফজের আলী ও তাঁর সহকারী সোনাবান বিবি। এ সময় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি সেখানে এসে খাবার চান। খাবার না পেয়ে তিনি রান্নার কাজে ব্যবহৃত কাঠের গুঁড়ি দিয়ে ফজের আলীর মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ফজের আলীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে ওই ব্যক্তি সোনাবান বিবিকেও মারধর করেন। তাঁদের চিৎকারে মসজিদের মুসল্লি ও আশপাশের লোকজন ছুটে এসে হামলাকারীকে আটক করেন। পরে দুজনকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কৌশিক হাসান ফজের আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সোনাবান বিবিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফজের আলীর মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম জানান, ফজের আলীর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আটক ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৪২ বছর। প্রথমে তাঁর পরিচয় জানা না গেলেও পরে রাতেই জানা যায়, তাঁর নাম মো. সেন্টু। তিনি নাটোর সদর উপজেলার একডালা দক্ষিণপাড়া এলাকার মো. আবুল হোসেনের ছেলে।
ওসি আরও জানান, সেন্টুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা জানান, প্রায় ১০ বছর আগে তিনি বাড়ি ছেড়ে চলে যান। তাঁর মানসিক সমস্যা রয়েছে বলেও পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মাদ্রাসায় খাবার না পেয়ে তিনি বাবুর্চি ও তাঁর সহকারীর ওপর হামলা করেন।
ওসি বলেন, সেন্টু গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসক তাঁকে ছাড়পত্র দিলে আদালতে পাঠানো হবে। এছাড়া এ ঘটনায় মাদ্রাসার সুপার বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় আটককৃত সেন্টু হোসেনকে আসামী করে আদালতে পাঠানো হচ্ছে।
এদিকে দুইজনের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
মঈনুল হক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় একটি মাদ্রাসায় খাবার না পেয়ে কাঠের গুঁড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আহত নারী সহকারী সোনাবান বিবি (৬৫) মারা গেছেন। এর আগে একই হামলায় মাদ্রাসার বাবুর্চি ফজের আলী সরদার (৭০) নিহত হন। এ নিয়ে এ ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হলো।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোনাবান বিবির মৃত্যু হয়। শুক্রবার দুপুরে হামলার শিকার হওয়ার পর তাঁকে প্রথমে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাতে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
এর আগে শুক্রবার বেলা সোয়া দুইটার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া আঞ্জুমান-ই-কাদেরিয়া মাদ্রাসাতু সাবি-ইল-হাসান দাখিল মাদ্রাসায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই বাবুর্চি ফজের আলী সরদারের মৃত্যু হয়।
নিহত ফজের আলী রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের মল্লিকপাড়া গ্রামের মৃত আহমদ আলী সরদারের ছেলে। সোনাবান বিবি গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বাহিরচর দৌলতদিয়া এলাকার সিদ্দিক কাজীপাড়ার মৃত সাইমুদ্দিন শেখের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে রান্না শেষে মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থীদের খাবার পরিবেশন করছিলেন ফজের আলী ও তাঁর সহকারী সোনাবান বিবি। এ সময় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি সেখানে এসে খাবার চান। খাবার না পেয়ে তিনি রান্নার কাজে ব্যবহৃত কাঠের গুঁড়ি দিয়ে ফজের আলীর মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ফজের আলীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে ওই ব্যক্তি সোনাবান বিবিকেও মারধর করেন। তাঁদের চিৎকারে মসজিদের মুসল্লি ও আশপাশের লোকজন ছুটে এসে হামলাকারীকে আটক করেন। পরে দুজনকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কৌশিক হাসান ফজের আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সোনাবান বিবিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফজের আলীর মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম জানান, ফজের আলীর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আটক ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৪২ বছর। প্রথমে তাঁর পরিচয় জানা না গেলেও পরে রাতেই জানা যায়, তাঁর নাম মো. সেন্টু। তিনি নাটোর সদর উপজেলার একডালা দক্ষিণপাড়া এলাকার মো. আবুল হোসেনের ছেলে।
ওসি আরও জানান, সেন্টুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা জানান, প্রায় ১০ বছর আগে তিনি বাড়ি ছেড়ে চলে যান। তাঁর মানসিক সমস্যা রয়েছে বলেও পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মাদ্রাসায় খাবার না পেয়ে তিনি বাবুর্চি ও তাঁর সহকারীর ওপর হামলা করেন।
ওসি বলেন, সেন্টু গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসক তাঁকে ছাড়পত্র দিলে আদালতে পাঠানো হবে। এছাড়া এ ঘটনায় মাদ্রাসার সুপার বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় আটককৃত সেন্টু হোসেনকে আসামী করে আদালতে পাঠানো হচ্ছে।
এদিকে দুইজনের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন