রাজবাড়ী মেইল
প্রকাশ : বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

রাজবাড়ীতে পোশাকশ্রমিক হত্যা মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন

রাজবাড়ীতে পোশাকশ্রমিক হত্যা মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পোশাকশ্রমিক হাছিনা বেগম (৩৬) হত্যা মামলায় মো. আলমাস বেপারী নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আনিসুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি পলাতক রয়েছেন।

আদালতের রায়ে বলা হয়, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আলমাস বেপারীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার বা আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণের তারিখ থেকে তাঁর সাজার মেয়াদ গণনা শুরু হবে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত হাছিনা বেগম রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার খালিশা হাজিপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের স্ত্রী। জীবিকার তাগিদে মিজানুর রহমান স্ত্রী, ছেলে হাসান আলী ও দুই মেয়েকে নিয়ে ঢাকার সাভার থানার আড়পাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। হাছিনা স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।

২০১৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পোশাক কারখানায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন হাছিনা। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের কাছে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর সকালে গোয়ালন্দ ঘাট থানা-পুলিশের মাধ্যমে তাঁরা জানতে পারেন, গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের হাবিল মণ্ডলপাড়ার দক্ষিণ পাশে একটি কালভার্টসংলগ্ন পাকা সড়কের ঢালে এক নারীর লাশ পড়ে আছে। পরে পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে হাছিনার লাশ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে হাসান আলী বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মামলার বাদী ও তাঁর পরিবার দরিদ্র হওয়ায় এবং দূরবর্তী এলাকায় বসবাস করায় তাঁরা নিয়মিত আদালতে আসতে পারতেন না। পরে রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি পরিচালনা করে। আসামি গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবীর ভাষ্য, পরকীয়া সম্পর্কের একপর্যায়ে হাছিনা বিয়ের জন্য আলমাসকে চাপ দেন। এরপর আলমাস কৌশলে তাঁকে গোয়ালন্দে নিয়ে এসে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। আদালতের রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট বলে জানান আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
রাজবাড়ী মেইল

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


রাজবাড়ীতে পোশাকশ্রমিক হত্যা মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন

প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পোশাকশ্রমিক হাছিনা বেগম (৩৬) হত্যা মামলায় মো. আলমাস বেপারী নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আনিসুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি পলাতক রয়েছেন।

আদালতের রায়ে বলা হয়, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আলমাস বেপারীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার বা আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণের তারিখ থেকে তাঁর সাজার মেয়াদ গণনা শুরু হবে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত হাছিনা বেগম রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার খালিশা হাজিপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের স্ত্রী। জীবিকার তাগিদে মিজানুর রহমান স্ত্রী, ছেলে হাসান আলী ও দুই মেয়েকে নিয়ে ঢাকার সাভার থানার আড়পাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। হাছিনা স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।

২০১৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পোশাক কারখানায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন হাছিনা। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের কাছে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর সকালে গোয়ালন্দ ঘাট থানা-পুলিশের মাধ্যমে তাঁরা জানতে পারেন, গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের হাবিল মণ্ডলপাড়ার দক্ষিণ পাশে একটি কালভার্টসংলগ্ন পাকা সড়কের ঢালে এক নারীর লাশ পড়ে আছে। পরে পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে হাছিনার লাশ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে হাসান আলী বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মামলার বাদী ও তাঁর পরিবার দরিদ্র হওয়ায় এবং দূরবর্তী এলাকায় বসবাস করায় তাঁরা নিয়মিত আদালতে আসতে পারতেন না। পরে রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি পরিচালনা করে। আসামি গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবীর ভাষ্য, পরকীয়া সম্পর্কের একপর্যায়ে হাছিনা বিয়ের জন্য আলমাসকে চাপ দেন। এরপর আলমাস কৌশলে তাঁকে গোয়ালন্দে নিয়ে এসে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। আদালতের রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট বলে জানান আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক।


রাজবাড়ী মেইল

সম্পাদক: রাশেদ ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৫ । সর্বস্ব সংরক্ষিত রাজবাড়ী মেইল