রাজবাড়ী মেইল
প্রকাশ : শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

পেটে গজ রেখেই সেলাই, দেড় মাস পর মৃত্যুর ঘটনায় রাজবাড়ীর কনিকার বাড়িতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

পেটে গজ রেখেই সেলাই, দেড় মাস পর মৃত্যুর ঘটনায় রাজবাড়ীর কনিকার বাড়িতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রাজবাড়ীর পাংশায় নিখোঁজের দুই দিন পর নারীর লাশ উদ্ধার ঘটনায় একজন গ্রেপ্তার

রাজবাড়ীর পাংশায় নিখোঁজের দুই দিন পর নারীর লাশ উদ্ধার ঘটনায় একজন গ্রেপ্তার

রাজবাড়ীর পাংশায় বৈদ্যুতিক পাম্প চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুইজন গ্রেপ্তার

রাজবাড়ীর পাংশায় বৈদ্যুতিক পাম্প চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুইজন গ্রেপ্তার

গোল্ডেন লাইন পরিবহন নিয়ে বিরোধ; রাজবাড়ী-ফরিদপুর রুটে প্রায় ৪৬ ঘন্টা পর বাস চলাচল শুরু

গোল্ডেন লাইন পরিবহন নিয়ে বিরোধ; রাজবাড়ী-ফরিদপুর রুটে প্রায় ৪৬ ঘন্টা পর বাস চলাচল শুরু

রাজবাড়ীতে নিখোঁজের দুই দিন পর প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে পড়ে ছিল নারীর মরদেহ

রাজবাড়ীতে নিখোঁজের দুই দিন পর প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে পড়ে ছিল নারীর মরদেহ

রাজবাড়ীর পাংশায় বৈদ্যুতিক মোটরপাম্প চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

রাজবাড়ীর পাংশায় বৈদ্যুতিক মোটরপাম্প চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

রাজবাড়ীতে পাচারকালে ৪০ বস্তা সার জব্দ ও ডিলারকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

রাজবাড়ীতে পাচারকালে ৪০ বস্তা সার জব্দ ও ডিলারকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

পেটে গজ রেখেই সেলাই, দেড় মাস পর মৃত্যুর ঘটনায় রাজবাড়ীর কনিকার বাড়িতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

পেটে গজ রেখেই সেলাই, দেড় মাস পর মৃত্যুর ঘটনায় রাজবাড়ীর কনিকার বাড়িতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ সিজারিয়ান অপারেশনের পর পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া কনিকা মণ্ডলের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রদান এবং কনিকার পরিবারকে ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

শুক্রবার (২১ আগষ্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের বাড়িতে কনিকার পরিবারের খবর নিতে ছুটে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের সান্ত্বনা দেন। কনিকার চিকিৎসা ও মৃত্যুর বিষয়ে তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত শোনেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন অনিয়মের কারনে ডাক্তার বরখাস্তসহ ক্লিনিকগুলোকে জরিমানা করা হচ্ছে। ডিসি ও সিভিল সার্জনরা তৎপর রয়েছেন। যেসব ক্লিনিকে লেবার রুম নেই, লাইসেন্স ও পরিবেশ সার্টিফিকেট নেই, সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গত ১৭ বছরে ব্যাঙয়ের ছাতার মত হাসপাতালের সামনে ক্লিনিক গজে উঠেছে। এক-দুই মাসে এগুলো সমাধান সম্ভব না। চিকিৎসায় অবহেলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। কেউ জড়িত থাকলে বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

তিনি বলেন, কনিকার মৃত্যুর ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২০ আগষ্ট) রাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো আধুনিকায়নের জন্যও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমাদের অবহেলার কারণে একজন মায়ের মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাতেই আমি এখানে এসেছি। সরকার এই পরিবারের পাশে থাকবে। এ সময় তিনি ব্যক্তিগতভাবে কনিকার পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন।

কনিকার স্বামী অশান্ত মণ্ডল জানান, গত ২৯ জুন আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্ত পরীক্ষা করে দ্রুত সিজারিয়ান অপারেশন করার পরামর্শ দেন। ওই দিনই তার সিজার করা হয় এবং একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। 

সন্তান জন্মের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, নবজাতকের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়, সিসিইউতে রাখতে হবে। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন। পরদিন কনিকার পেট ফুলে যায়। হাসপাতাল থেকে তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে তারা ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে কনিকাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অশান্ত মণ্ডলের দাবি, সেখানে সিটি স্ক্যান করার পর চিকিৎসকরা কনিকার পেটের ভেতরে কিছু বস্তু থাকার কথা জানান। পরে অপারেশন করে তার পেট থেকে গজ-ব্যান্ডেজ বের করা হয়। তার শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি হতে থাকে। বেশ কয়েকদিন তাঁকে আইসিইউতে রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, চিকিৎসা করাতে গিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। স্ত্রী চলে যাওয়ায় আমাদের সংসারটাই শেষ হয়ে গেছে। এখন তিন সন্তানকে কীভাবে মানুষ করব, সেটাই বুঝতে পারছি না। কনিকার বড় ছেলে নবম শ্রেণিতে এবং ছোট ছেলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। 

পরিবার জানায়, গত ২৯ জুন ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্তের মাধ্যমে সিজারিয়ান অপারেশনে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন বালিয়াকান্দির বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী কনিকা মণ্ডল (৩৫)। পরদিন তার পেট ফুলে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ৩ জুলাই ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ৭ জুলাই কনিকার পেটে গজ থাকার বিষয়টি শনাক্ত হলে ওই দিনই অস্ত্রোপচার করে গজ বের করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে মারা যান কনিকা। তাঁর মৃত্যুতে স্বামী অশান্ত মণ্ডল ও তিন সন্তানসহ পুরো পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কনিকার বাড়িতে অবস্থানকালে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, সিভিল সার্জন এস এম মাসুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সামসুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তারিফ উল হাসান, বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেন, বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুর রব তালুকদার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম শওকত সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরওয়ার ভূইয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
রাজবাড়ী মেইল

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬


পেটে গজ রেখেই সেলাই, দেড় মাস পর মৃত্যুর ঘটনায় রাজবাড়ীর কনিকার বাড়িতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ সিজারিয়ান অপারেশনের পর পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া কনিকা মণ্ডলের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রদান এবং কনিকার পরিবারকে ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

শুক্রবার (২১ আগষ্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের বাড়িতে কনিকার পরিবারের খবর নিতে ছুটে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের সান্ত্বনা দেন। কনিকার চিকিৎসা ও মৃত্যুর বিষয়ে তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত শোনেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন অনিয়মের কারনে ডাক্তার বরখাস্তসহ ক্লিনিকগুলোকে জরিমানা করা হচ্ছে। ডিসি ও সিভিল সার্জনরা তৎপর রয়েছেন। যেসব ক্লিনিকে লেবার রুম নেই, লাইসেন্স ও পরিবেশ সার্টিফিকেট নেই, সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গত ১৭ বছরে ব্যাঙয়ের ছাতার মত হাসপাতালের সামনে ক্লিনিক গজে উঠেছে। এক-দুই মাসে এগুলো সমাধান সম্ভব না। চিকিৎসায় অবহেলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। কেউ জড়িত থাকলে বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

তিনি বলেন, কনিকার মৃত্যুর ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২০ আগষ্ট) রাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো আধুনিকায়নের জন্যও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমাদের অবহেলার কারণে একজন মায়ের মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাতেই আমি এখানে এসেছি। সরকার এই পরিবারের পাশে থাকবে। এ সময় তিনি ব্যক্তিগতভাবে কনিকার পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন।

কনিকার স্বামী অশান্ত মণ্ডল জানান, গত ২৯ জুন আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্ত পরীক্ষা করে দ্রুত সিজারিয়ান অপারেশন করার পরামর্শ দেন। ওই দিনই তার সিজার করা হয় এবং একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। 

সন্তান জন্মের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, নবজাতকের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়, সিসিইউতে রাখতে হবে। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন। পরদিন কনিকার পেট ফুলে যায়। হাসপাতাল থেকে তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে তারা ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে কনিকাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অশান্ত মণ্ডলের দাবি, সেখানে সিটি স্ক্যান করার পর চিকিৎসকরা কনিকার পেটের ভেতরে কিছু বস্তু থাকার কথা জানান। পরে অপারেশন করে তার পেট থেকে গজ-ব্যান্ডেজ বের করা হয়। তার শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি হতে থাকে। বেশ কয়েকদিন তাঁকে আইসিইউতে রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, চিকিৎসা করাতে গিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। স্ত্রী চলে যাওয়ায় আমাদের সংসারটাই শেষ হয়ে গেছে। এখন তিন সন্তানকে কীভাবে মানুষ করব, সেটাই বুঝতে পারছি না। কনিকার বড় ছেলে নবম শ্রেণিতে এবং ছোট ছেলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। 

পরিবার জানায়, গত ২৯ জুন ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্তের মাধ্যমে সিজারিয়ান অপারেশনে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন বালিয়াকান্দির বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী কনিকা মণ্ডল (৩৫)। পরদিন তার পেট ফুলে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ৩ জুলাই ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ৭ জুলাই কনিকার পেটে গজ থাকার বিষয়টি শনাক্ত হলে ওই দিনই অস্ত্রোপচার করে গজ বের করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে মারা যান কনিকা। তাঁর মৃত্যুতে স্বামী অশান্ত মণ্ডল ও তিন সন্তানসহ পুরো পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কনিকার বাড়িতে অবস্থানকালে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, সিভিল সার্জন এস এম মাসুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সামসুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তারিফ উল হাসান, বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেন, বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুর রব তালুকদার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম শওকত সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরওয়ার ভূইয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।


রাজবাড়ী মেইল

সম্পাদক: রাশেদ ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৫ । সর্বস্ব সংরক্ষিত রাজবাড়ী মেইল