শামীম শেখ, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ীঃ নংরসিংদীর একটি কোচিং সেন্টারের ভূল রুটিন দেখে পরীক্ষা দিতে না পেরে চরম বিপাকে পড়েছেন আবির হাসান রুদ্র নামের রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী। নরসিংদী জেলার বালুচর এলাকার "অল রাইট একাডেমি"র প্যাডে প্রকাশিত ওই রুটিনটি অনলাইন হতে তিনি সংগ্রহ করেছিলেন।
আবির হাসান রুদ্র সরকারি গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে নিয়মিত পরিক্ষার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে আইসিটি এবং অর্থনীতি বিষয়ে অকৃতকার্য হন। কৃতকার্য বিষয়গুলোতে তার প্রাপ্ত জিপিএ ছিল ৪.০৭।
এদিকে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরিক্ষার রুটিন এবং ওই কোচিং সেন্টারের রুটিন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অর্থনীতি ১ম পত্রের পরিক্ষা প্রকৃতপক্ষে ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার এবং অর্থনীতি ২য় পত্রের পরিক্ষা ২৫ জুলাই শনিবার। কিন্তু কোচিং সেন্টারের রুটিনে অর্থনীতি ১ম পত্রের তারিখ দেওয়া আছে ২৫ জুলাই এবং ২য় পত্রের তারিখ ২৯ জুলাই। আবির ১ম পত্রের প্রস্তুতি নিয়ে ২৫ জুলাই পরিক্ষা দিতে গিয়ে জানতে পারেন ওইদিন আসলে অর্থনীতি ২য় পত্রের পরিক্ষা। এতে তিনি চরমভাবে হতাশ হন এবং নিজের ভুল বুঝতে পারেন। সেই সাথে জানতে পারেন ইতিমধ্যে ২৩ জুলাই অর্থনীতি ১ম পত্রের পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে।
আবির হাসান রুদ্র জানায়, নরসিংদীর অলরাইট একাডেমী নামক কোচিং সেন্টারের ইউটিউবে মাঝেমধ্যে ফ্রি কোচিং করতেন। সেখান থেকে তিনি এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন সংগ্রহ করেন। আসিটি পরীক্ষা পর্যন্ত সব ঠিক ছিল। গতকাল শনিবার পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে হাতে প্রশ্ন পাওয়ার দেখতে পান অর্থনীতি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) অর্থনীতির প্রথম পত্র পরীক্ষা হয়ে গেছে। অথচ রুটিনে শনিবার ছিল অর্থনীতির প্রথমপত্রের পরীক্ষা। পরে উপায় না পেয়ে দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষা কোনভাবে দিয়ে কেন্দ্র সচিবকে বিষয়টি জানিয়ে চলে আসেন। আমার তো যা হবার সেই ক্ষতি হয়ে গেল।
আবিরের মা একটি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রুবিয়া বেগম বলেন, তার ছেলে ছাত্র হিসেবে একেবারে মন্দ নয়। এসএসসিতে জিপিএ ৪.৮৯ পেয়েছিল। কিছু সমস্যার কারনে এইচএসসি প্রথমবারের পরিক্ষায় দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল। ওই দুই বিষয়ে এবার তার ভালো পরীক্ষার প্রস্তুতি ছিল। আইসিটি পরিক্ষা অনেকটাই ভালো দিয়েছে। কিন্তু কোচিং সেন্টারের ভুল রুটিন এবং নিজেদের অসতর্কতার কারনে আবিরের শিক্ষা জীবন থেকে আরো একটি বছর নষ্ট হয়ে গেল। এতে সে খুবই হতাশ হয়ে পড়েছে। তবে আমরা তাকে সান্ত্বনা দিয়েছি। আগামীতে সে আবারো পরিক্ষা দেবে বলে বোঝানোর চেষ্টা করছি।
এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র সচিব ও গোয়ালন্দ রাবেয়া ইদ্রিস মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল কাদের শেখ বলেন, শনিবার পরীক্ষা কেন্দ্রে এসে এমনটি দেখে আবির হাসান রুদ্রু হতবাক হয়ে পড়ে। পরে তার কাছ থেকে বিষয়টি আমরা জানতে পারি। শিক্ষার্থীদের পরিক্ষার ক্ষেত্রে সব সময় বোর্ডের রুটিন অনুসরন করা উচিত। তাদের ইউটিউব, ফেসবুক এবং কোচিং নির্ভরতা কমিয়ে দেওয়া দরকার। কোচিং সেন্টারের ভুল রুটিন অনুসরন করায় আবির হাসান রুদ্র আরো একটা বছর পিছিয়ে গেল।
এ বিষয়ে নরসিংদীর অল রাইট একাডেমির পরিচালক আলমগীর হোসেন মুঠোফোনে বলেন, ২৩ জুলাই সকালে বিষয়টি স্থানীয় এক সহকর্মী অবগত করলে ভূলটি চোখে পড়ে। সাথে সাথে ফেসবুক থেকে রুটিনটি সরিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া রুটিনটি এআই এর মাধ্যমে প্রস্তুত করে ফেসবুকে প্রকাশ করা হয়েছিল। সে সময় ভুলটি কারো নজরেই আসেনি। অনাকাঙ্খিত এই ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত এবং লজ্জিত।

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬
শামীম শেখ, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ীঃ নংরসিংদীর একটি কোচিং সেন্টারের ভূল রুটিন দেখে পরীক্ষা দিতে না পেরে চরম বিপাকে পড়েছেন আবির হাসান রুদ্র নামের রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী। নরসিংদী জেলার বালুচর এলাকার "অল রাইট একাডেমি"র প্যাডে প্রকাশিত ওই রুটিনটি অনলাইন হতে তিনি সংগ্রহ করেছিলেন।
আবির হাসান রুদ্র সরকারি গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে নিয়মিত পরিক্ষার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে আইসিটি এবং অর্থনীতি বিষয়ে অকৃতকার্য হন। কৃতকার্য বিষয়গুলোতে তার প্রাপ্ত জিপিএ ছিল ৪.০৭।
এদিকে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরিক্ষার রুটিন এবং ওই কোচিং সেন্টারের রুটিন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অর্থনীতি ১ম পত্রের পরিক্ষা প্রকৃতপক্ষে ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার এবং অর্থনীতি ২য় পত্রের পরিক্ষা ২৫ জুলাই শনিবার। কিন্তু কোচিং সেন্টারের রুটিনে অর্থনীতি ১ম পত্রের তারিখ দেওয়া আছে ২৫ জুলাই এবং ২য় পত্রের তারিখ ২৯ জুলাই। আবির ১ম পত্রের প্রস্তুতি নিয়ে ২৫ জুলাই পরিক্ষা দিতে গিয়ে জানতে পারেন ওইদিন আসলে অর্থনীতি ২য় পত্রের পরিক্ষা। এতে তিনি চরমভাবে হতাশ হন এবং নিজের ভুল বুঝতে পারেন। সেই সাথে জানতে পারেন ইতিমধ্যে ২৩ জুলাই অর্থনীতি ১ম পত্রের পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে।
আবির হাসান রুদ্র জানায়, নরসিংদীর অলরাইট একাডেমী নামক কোচিং সেন্টারের ইউটিউবে মাঝেমধ্যে ফ্রি কোচিং করতেন। সেখান থেকে তিনি এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন সংগ্রহ করেন। আসিটি পরীক্ষা পর্যন্ত সব ঠিক ছিল। গতকাল শনিবার পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে হাতে প্রশ্ন পাওয়ার দেখতে পান অর্থনীতি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) অর্থনীতির প্রথম পত্র পরীক্ষা হয়ে গেছে। অথচ রুটিনে শনিবার ছিল অর্থনীতির প্রথমপত্রের পরীক্ষা। পরে উপায় না পেয়ে দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষা কোনভাবে দিয়ে কেন্দ্র সচিবকে বিষয়টি জানিয়ে চলে আসেন। আমার তো যা হবার সেই ক্ষতি হয়ে গেল।
আবিরের মা একটি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রুবিয়া বেগম বলেন, তার ছেলে ছাত্র হিসেবে একেবারে মন্দ নয়। এসএসসিতে জিপিএ ৪.৮৯ পেয়েছিল। কিছু সমস্যার কারনে এইচএসসি প্রথমবারের পরিক্ষায় দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল। ওই দুই বিষয়ে এবার তার ভালো পরীক্ষার প্রস্তুতি ছিল। আইসিটি পরিক্ষা অনেকটাই ভালো দিয়েছে। কিন্তু কোচিং সেন্টারের ভুল রুটিন এবং নিজেদের অসতর্কতার কারনে আবিরের শিক্ষা জীবন থেকে আরো একটি বছর নষ্ট হয়ে গেল। এতে সে খুবই হতাশ হয়ে পড়েছে। তবে আমরা তাকে সান্ত্বনা দিয়েছি। আগামীতে সে আবারো পরিক্ষা দেবে বলে বোঝানোর চেষ্টা করছি।
এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র সচিব ও গোয়ালন্দ রাবেয়া ইদ্রিস মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল কাদের শেখ বলেন, শনিবার পরীক্ষা কেন্দ্রে এসে এমনটি দেখে আবির হাসান রুদ্রু হতবাক হয়ে পড়ে। পরে তার কাছ থেকে বিষয়টি আমরা জানতে পারি। শিক্ষার্থীদের পরিক্ষার ক্ষেত্রে সব সময় বোর্ডের রুটিন অনুসরন করা উচিত। তাদের ইউটিউব, ফেসবুক এবং কোচিং নির্ভরতা কমিয়ে দেওয়া দরকার। কোচিং সেন্টারের ভুল রুটিন অনুসরন করায় আবির হাসান রুদ্র আরো একটা বছর পিছিয়ে গেল।
এ বিষয়ে নরসিংদীর অল রাইট একাডেমির পরিচালক আলমগীর হোসেন মুঠোফোনে বলেন, ২৩ জুলাই সকালে বিষয়টি স্থানীয় এক সহকর্মী অবগত করলে ভূলটি চোখে পড়ে। সাথে সাথে ফেসবুক থেকে রুটিনটি সরিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া রুটিনটি এআই এর মাধ্যমে প্রস্তুত করে ফেসবুকে প্রকাশ করা হয়েছিল। সে সময় ভুলটি কারো নজরেই আসেনি। অনাকাঙ্খিত এই ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত এবং লজ্জিত।

আপনার মতামত লিখুন