নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাট মাছবাজারে প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রি হয়েছে বিপন্ন প্রজাতির গাঙ্গেয় ডলফিন (শুশুক)। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল সাতটার দিকে গাউসিয়া মৎস্য আড়তে শুশুকটি ২ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে পদ্মা নদীতে মাছ ধরার সময় এক জেলের ফাঁসন জালে শুশুকটি ধরা পড়ে।
শুক্রবার সকালে দৌলতদিয়া ঘাট মাছবাজারে গিয়ে দেখা যায়, অন্যান্য মাছের সঙ্গে একটি মাঝারি আকারের শুশুকও বিক্রির জন্য আড়তে তোলা হয়েছে। নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে স্থানীয় এক মৎস্যশিকারি ২ হাজার ১০০ টাকায় শুশুকটি কিনে দ্রুত বাজার ছেড়ে যান। এ সময় বাজারে দুটি বাগাড় মাছও বিক্রির জন্য তোলা হয়েছিল। বাগাড় দুটিও দ্রুত কেনার পর এক ক্রেতা ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সাযোগে বাজার ত্যাগ করেন।
গাউসিয়া মৎস্য আড়তের স্বত্বাধিকারী রওশন মোল্লা বলেন, শরিফুল নামের এক জেলে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে ফাঁসন জালে শুশুকটি পান। এর ওজন আনুমানিক ১৫ থেকে ১৬ কেজি। নদীতে ঘাইরা ও বাছা মাছ শিকার করেন, এমন কয়েকজনের কাছে শুশুকটি বিক্রি করা হয়েছে। শুশুক দিয়ে ব্যথানাশক তেল তৈরি করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন। এ বছর জেলেদের জালে প্রথম শুশুক ধরা পড়েছে বলে দাবি তাঁর।
বাজারে উপস্থিত ছিলেন গোয়ালন্দ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম। প্রকাশ্যে শুশুক ও বাগাড় বিক্রির বিষয়টি তাঁর নজরে আনা হলে তিনি বলেন, এটি বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনের বিষয়। এ বিষয়ে মৎস্য বিভাগের কিছু করার নেই। বন বিভাগ বা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহাবুব-উল হক বলেন, শুশুক বা বাগাড় জাতীয় প্রাণী শিকারের ক্ষেত্রে বন্যপ্রাণী ও সংরক্ষণ আইনে বাধা রয়েছে। আমাদের মৎস্য বিভাগের কোনো বাধা না থাকায় করার কিছুই থাকে না। তবে চাইলে বনবিভাগ বা উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। তবে আমরা জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারি।
গোয়ালন্দ উপজেলা বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফরেস্টার আজিজুল ইসলাম বলেন, বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী শুশুক ও বাগাড় শিকার, হত্যা, পরিবহন ও বিক্রি নিষিদ্ধ। এসব প্রাণী শিকার ও বিক্রি বন্ধে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় সাইনবোর্ড টানিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনার খবর পেলে জেলা বন কর্মকর্তা বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়।
রাজবাড়ী জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা চিন্ময় মধু বলেন, শুশুক শিকার, হত্যা, পরিবহন ও বিক্রি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য খুলনায় বন্য প্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তর রয়েছে। তবে জনবলসংকটের কারণে তাঁদের পক্ষে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল হুদা বলেন, শুশুক বা বাগাড় শিকার, হত্যা ও বিক্রি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। শুক্রবার শুশুক বিক্রির বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। খবর পাওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাট মাছবাজারে প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রি হয়েছে বিপন্ন প্রজাতির গাঙ্গেয় ডলফিন (শুশুক)। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল সাতটার দিকে গাউসিয়া মৎস্য আড়তে শুশুকটি ২ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে পদ্মা নদীতে মাছ ধরার সময় এক জেলের ফাঁসন জালে শুশুকটি ধরা পড়ে।
শুক্রবার সকালে দৌলতদিয়া ঘাট মাছবাজারে গিয়ে দেখা যায়, অন্যান্য মাছের সঙ্গে একটি মাঝারি আকারের শুশুকও বিক্রির জন্য আড়তে তোলা হয়েছে। নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে স্থানীয় এক মৎস্যশিকারি ২ হাজার ১০০ টাকায় শুশুকটি কিনে দ্রুত বাজার ছেড়ে যান। এ সময় বাজারে দুটি বাগাড় মাছও বিক্রির জন্য তোলা হয়েছিল। বাগাড় দুটিও দ্রুত কেনার পর এক ক্রেতা ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সাযোগে বাজার ত্যাগ করেন।
গাউসিয়া মৎস্য আড়তের স্বত্বাধিকারী রওশন মোল্লা বলেন, শরিফুল নামের এক জেলে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে ফাঁসন জালে শুশুকটি পান। এর ওজন আনুমানিক ১৫ থেকে ১৬ কেজি। নদীতে ঘাইরা ও বাছা মাছ শিকার করেন, এমন কয়েকজনের কাছে শুশুকটি বিক্রি করা হয়েছে। শুশুক দিয়ে ব্যথানাশক তেল তৈরি করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন। এ বছর জেলেদের জালে প্রথম শুশুক ধরা পড়েছে বলে দাবি তাঁর।
বাজারে উপস্থিত ছিলেন গোয়ালন্দ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম। প্রকাশ্যে শুশুক ও বাগাড় বিক্রির বিষয়টি তাঁর নজরে আনা হলে তিনি বলেন, এটি বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনের বিষয়। এ বিষয়ে মৎস্য বিভাগের কিছু করার নেই। বন বিভাগ বা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহাবুব-উল হক বলেন, শুশুক বা বাগাড় জাতীয় প্রাণী শিকারের ক্ষেত্রে বন্যপ্রাণী ও সংরক্ষণ আইনে বাধা রয়েছে। আমাদের মৎস্য বিভাগের কোনো বাধা না থাকায় করার কিছুই থাকে না। তবে চাইলে বনবিভাগ বা উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। তবে আমরা জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারি।
গোয়ালন্দ উপজেলা বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফরেস্টার আজিজুল ইসলাম বলেন, বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী শুশুক ও বাগাড় শিকার, হত্যা, পরিবহন ও বিক্রি নিষিদ্ধ। এসব প্রাণী শিকার ও বিক্রি বন্ধে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় সাইনবোর্ড টানিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনার খবর পেলে জেলা বন কর্মকর্তা বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়।
রাজবাড়ী জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা চিন্ময় মধু বলেন, শুশুক শিকার, হত্যা, পরিবহন ও বিক্রি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য খুলনায় বন্য প্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তর রয়েছে। তবে জনবলসংকটের কারণে তাঁদের পক্ষে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল হুদা বলেন, শুশুক বা বাগাড় শিকার, হত্যা ও বিক্রি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। শুক্রবার শুশুক বিক্রির বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। খবর পাওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন