হেলাল মাহমুদ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ ৮ বছরের শিশু নুর আমিনের মরদেহ ২২ ঘন্টা পর আজ শনিবার বেলা এগারোটার দিকে ভেসে উঠে।
এর আগে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে উপজেলার দৌলতদিয়া ৬ ও ৭ নম্বর ফেরি ঘাটের মধ্যবর্তী এলাকা বাহির চর দৌলতদিয়া ছাত্তার মেম্বার পাড়া পদ্মা নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ হয় নুর আমিন।
এরপর শিশুটিকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালিয়েও নুর আমিনের সন্ধান পাননি। তারপরও স্বজনেরা ইঞ্জিন চালিত নৌকা দিয়ে দীর্ঘ সময় উদ্ধার তৎপরতা চালায়। তবে সবাই হতাশা নিয়ে বাড়ি ফেরেন।
এদিকে শনিবার সকাল থেকে পুনরায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্বজনরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। উদ্ধার তৎপরতার মাঝেই বেলা ১১টার দিকে হঠাৎ করে নুর আমিনের মরদেহ ডুবে যাওয়া স্হান হতেই ভেসে ওঠে। এরপর স্বজনরা মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় নদী পাড়ে স্বজন ও এলাকাবাসীর আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে।
নিখোঁজ নুর আমিন দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড শাহাদাৎ মেম্বার পাড়ার রেজাউল ফকিরের ছেলে।
শিশু নুর আমিনের দাদা আনোয়ার ফকির তার নাতির উদ্ধার প্রক্রিয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দৌলতদিয়া ৭ নং ফেরিঘাট এলাকায় শিশু নুর আমিনের বাবা রেজাউল ফকির মুদির দোকান করেন। যে কারনে নুর আমিন প্রায়ই সেখানে যেত। শুক্রবার দুপুরে গ্রামের চার বন্ধুর সঙ্গে সে ফেরিঘাট এলাকায় যায়। এ সময় তারা অভিভাবকদের চোখের আড়ালে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নামে। গোসলের একপর্যায়ে নুর আমিন স্রোতের টানে পানিতে তলিয়ে যায়।
এ সময় তার ফুফাতো ভাই ও সহপাঠী সাব্বি (৭) ও রায়হান নুর আমিনের হাত ধরে টেনে তোলার চেষ্টা করে। তবে তাকে উদ্ধার করতে না পেরে সাব্বির তীরে উঠে স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি জানায়।
খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করেন।
মানিকগঞ্জের আরিচা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা ডুবুরিদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। কিন্তু সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তারা শিশুটিকে উদ্ধার করতে পারেননি।
শনিবার সকাল থেকে পুনরায় তারা নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। এক পর্যায়ে বেলা ১১ টার দিকে শিশুটির মরদেহ ডুবে যাওয়া স্থানে ভেসে ওঠে।
দৌলতদিয়া হাফিজিয়া ফোরকানীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, নুর আমিন তার প্রতিষ্ঠানের প্রথম শ্রেনীর শিক্ষার্থী। সে অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও মেধাবী একটি শিশু ছিল। তার এ মৃত্যুতে এলাকার সকল মানুষ গভীরভাবে শোকাহত।
দৌলতদিয়া নৌ- পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ত্রিনাথ সাহা জানান, শিশু নুর আমিনের মৃত্যুর ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের জন্য পরিবারের পক্ষ হতে আবেদন করলে উর্ধতন কতৃপক্ষের নির্দেশে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬
হেলাল মাহমুদ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ ৮ বছরের শিশু নুর আমিনের মরদেহ ২২ ঘন্টা পর আজ শনিবার বেলা এগারোটার দিকে ভেসে উঠে।
এর আগে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে উপজেলার দৌলতদিয়া ৬ ও ৭ নম্বর ফেরি ঘাটের মধ্যবর্তী এলাকা বাহির চর দৌলতদিয়া ছাত্তার মেম্বার পাড়া পদ্মা নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ হয় নুর আমিন।
এরপর শিশুটিকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালিয়েও নুর আমিনের সন্ধান পাননি। তারপরও স্বজনেরা ইঞ্জিন চালিত নৌকা দিয়ে দীর্ঘ সময় উদ্ধার তৎপরতা চালায়। তবে সবাই হতাশা নিয়ে বাড়ি ফেরেন।
এদিকে শনিবার সকাল থেকে পুনরায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্বজনরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। উদ্ধার তৎপরতার মাঝেই বেলা ১১টার দিকে হঠাৎ করে নুর আমিনের মরদেহ ডুবে যাওয়া স্হান হতেই ভেসে ওঠে। এরপর স্বজনরা মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় নদী পাড়ে স্বজন ও এলাকাবাসীর আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে।
নিখোঁজ নুর আমিন দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড শাহাদাৎ মেম্বার পাড়ার রেজাউল ফকিরের ছেলে।
শিশু নুর আমিনের দাদা আনোয়ার ফকির তার নাতির উদ্ধার প্রক্রিয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দৌলতদিয়া ৭ নং ফেরিঘাট এলাকায় শিশু নুর আমিনের বাবা রেজাউল ফকির মুদির দোকান করেন। যে কারনে নুর আমিন প্রায়ই সেখানে যেত। শুক্রবার দুপুরে গ্রামের চার বন্ধুর সঙ্গে সে ফেরিঘাট এলাকায় যায়। এ সময় তারা অভিভাবকদের চোখের আড়ালে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নামে। গোসলের একপর্যায়ে নুর আমিন স্রোতের টানে পানিতে তলিয়ে যায়।
এ সময় তার ফুফাতো ভাই ও সহপাঠী সাব্বি (৭) ও রায়হান নুর আমিনের হাত ধরে টেনে তোলার চেষ্টা করে। তবে তাকে উদ্ধার করতে না পেরে সাব্বির তীরে উঠে স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি জানায়।
খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করেন।
মানিকগঞ্জের আরিচা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা ডুবুরিদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। কিন্তু সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তারা শিশুটিকে উদ্ধার করতে পারেননি।
শনিবার সকাল থেকে পুনরায় তারা নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। এক পর্যায়ে বেলা ১১ টার দিকে শিশুটির মরদেহ ডুবে যাওয়া স্থানে ভেসে ওঠে।
দৌলতদিয়া হাফিজিয়া ফোরকানীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, নুর আমিন তার প্রতিষ্ঠানের প্রথম শ্রেনীর শিক্ষার্থী। সে অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও মেধাবী একটি শিশু ছিল। তার এ মৃত্যুতে এলাকার সকল মানুষ গভীরভাবে শোকাহত।
দৌলতদিয়া নৌ- পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ত্রিনাথ সাহা জানান, শিশু নুর আমিনের মৃত্যুর ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের জন্য পরিবারের পক্ষ হতে আবেদন করলে উর্ধতন কতৃপক্ষের নির্দেশে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন