ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী সদর উপজেলার ৫ নং বরাট ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয় অন্যত্র স্থানান্তর প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার পাচুরিয়া রেলওয়ে ষ্টেশন প্লাটফর্মে ৫ নং বরাট ইউনিয়ন স্থানান্তর প্রতিরোধ কমিটির ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
মরডাঙ্গা সেকেন্দারিয়া ফাজিল ডিগ্রী মাদারাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষক আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বরাট নবগ্রাম বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুস সাত্তার, বরাট ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নং ওয়ার্ড সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম, রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতাল নার্সিং কর্মকর্তা, স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল প্রামানিক, বরাট নবগ্রাম বাজারের পল্লী চিকিৎসক আব্দুল মালেক, বরাট ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল হালিম মিয়া, স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি আব্দুস সাত্তার বেপারী প্রমূখ।
বক্তারা বরাট ইউনিয়ন পরিষদ ভবন স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও স্থানীয় জনগণের সুবিধার কথা বিবেচনা করে বর্তমান স্থানেই ইউপি ভবন রাখা প্রয়োজন। ভবনটি অন্যত্র স্থানান্তর করা হলে স্থানীয়দের ভোগান্তি বাড়বে বলে জানান।
তারা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান ভবন ও জমির সঙ্গে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এ কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ জোন গড়ে উঠেছে। এখানে ঐতিহ্যবাহী পাচুরিয়া রেলস্টেশন, ব্যাংক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ প্রায় ৭০০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ইউপি ভবন স্থানান্তর করলে ব্যবসায়ীসহ স্থানীয়দের চরম ভোগান্তি ও নানা সংকটে পড়তে হবে।
বরাট নবগ্রাম বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুস সাত্তার বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা তৎকালীন মাখন লাল পোদ্দারের কাছ থেকে ১৯৬১ সালে প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান খোন্দকার অলিয়ার রহমান নিজে প্রায় ৫৪ শতাংশ জমি ইউনিয়ন পরিষদের নামে ক্রয় করেন। এরপর থেকে ওই জায়গায় বরাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) কার্যক্রম চলতে থাকে। দীর্ঘ সময় এখানে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চলায় এখানে বাজার সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেছে। অথচ পরিষদের জন্য নতুন ভবন নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ আসায় একটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।
শিক্ষক আলতাফ হোসেন বলেন, বরাট ইউনিয়ন পরিষদকে কেন্দ্র করে প্রায় ৭০০ পরিবার বসবাস করছেন। এখানে বাজার, নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন আর্থিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। উড়াকান্দার যেখানে ইউনিয়ন পরিষদ স্থাপন করতে চান, তার থেকে মাত্র ১৫০ মিটার দূরেই পদ্মা নদী। অথচ বর্তমান সরকার তরুণদের মাদকের হাত থেকে রক্ষায় খেলাধুলার প্রতি বেশি মনোযোগী হচ্ছেন। অথচ একটি মহল খেলাধুলার মাঠ বন্ধ করে সেখানে ইউনিয়ন পরিষদ স্থাপন করতে চায়। আমরা তা হতে দিবনা। প্রয়োজন রেলপথ, সড়ক পথ অবরোধ করে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন কোথায় থাকবে, সে বিষয়ে স্থানীয় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, জনগণের সুবিধা এবং ইউনিয়ন পরিষদের নামে ক্রয় করা জমির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান স্থানেই পরিষদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি জানান তারা।
উড়াকান্দা এলাকার কয়েকজন জানান, ১৯৯৪ সালে স্থানীয় দানশীল ব্যক্তি আলহাজ্ব আব্দুল করিম মোল্লা বরাট ইউনিয়ন পরিষদের নামে ৩৩ শতাংশ জমি দান করেন। এছাড়া পরবর্তীতো আরও কিছু জমি দান করেন। জমিটি পরিত্যক্ত থাকায় স্থানীয় যব সমাজ খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করেন। এছাড়া উড়াকান্দা বরাট ইউনিয়নের মধ্যবর্তী এলাকা হওয়ায় ওই এলাকার বাসিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদ স্থানান্তের জন্য কয়েক মাস আগে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি পেশ করেন।

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী সদর উপজেলার ৫ নং বরাট ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয় অন্যত্র স্থানান্তর প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার পাচুরিয়া রেলওয়ে ষ্টেশন প্লাটফর্মে ৫ নং বরাট ইউনিয়ন স্থানান্তর প্রতিরোধ কমিটির ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
মরডাঙ্গা সেকেন্দারিয়া ফাজিল ডিগ্রী মাদারাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষক আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বরাট নবগ্রাম বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুস সাত্তার, বরাট ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নং ওয়ার্ড সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম, রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতাল নার্সিং কর্মকর্তা, স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল প্রামানিক, বরাট নবগ্রাম বাজারের পল্লী চিকিৎসক আব্দুল মালেক, বরাট ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল হালিম মিয়া, স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি আব্দুস সাত্তার বেপারী প্রমূখ।
বক্তারা বরাট ইউনিয়ন পরিষদ ভবন স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও স্থানীয় জনগণের সুবিধার কথা বিবেচনা করে বর্তমান স্থানেই ইউপি ভবন রাখা প্রয়োজন। ভবনটি অন্যত্র স্থানান্তর করা হলে স্থানীয়দের ভোগান্তি বাড়বে বলে জানান।
তারা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান ভবন ও জমির সঙ্গে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এ কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ জোন গড়ে উঠেছে। এখানে ঐতিহ্যবাহী পাচুরিয়া রেলস্টেশন, ব্যাংক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ প্রায় ৭০০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ইউপি ভবন স্থানান্তর করলে ব্যবসায়ীসহ স্থানীয়দের চরম ভোগান্তি ও নানা সংকটে পড়তে হবে।
বরাট নবগ্রাম বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুস সাত্তার বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা তৎকালীন মাখন লাল পোদ্দারের কাছ থেকে ১৯৬১ সালে প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান খোন্দকার অলিয়ার রহমান নিজে প্রায় ৫৪ শতাংশ জমি ইউনিয়ন পরিষদের নামে ক্রয় করেন। এরপর থেকে ওই জায়গায় বরাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) কার্যক্রম চলতে থাকে। দীর্ঘ সময় এখানে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চলায় এখানে বাজার সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেছে। অথচ পরিষদের জন্য নতুন ভবন নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ আসায় একটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।
শিক্ষক আলতাফ হোসেন বলেন, বরাট ইউনিয়ন পরিষদকে কেন্দ্র করে প্রায় ৭০০ পরিবার বসবাস করছেন। এখানে বাজার, নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন আর্থিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। উড়াকান্দার যেখানে ইউনিয়ন পরিষদ স্থাপন করতে চান, তার থেকে মাত্র ১৫০ মিটার দূরেই পদ্মা নদী। অথচ বর্তমান সরকার তরুণদের মাদকের হাত থেকে রক্ষায় খেলাধুলার প্রতি বেশি মনোযোগী হচ্ছেন। অথচ একটি মহল খেলাধুলার মাঠ বন্ধ করে সেখানে ইউনিয়ন পরিষদ স্থাপন করতে চায়। আমরা তা হতে দিবনা। প্রয়োজন রেলপথ, সড়ক পথ অবরোধ করে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন কোথায় থাকবে, সে বিষয়ে স্থানীয় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, জনগণের সুবিধা এবং ইউনিয়ন পরিষদের নামে ক্রয় করা জমির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান স্থানেই পরিষদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি জানান তারা।
উড়াকান্দা এলাকার কয়েকজন জানান, ১৯৯৪ সালে স্থানীয় দানশীল ব্যক্তি আলহাজ্ব আব্দুল করিম মোল্লা বরাট ইউনিয়ন পরিষদের নামে ৩৩ শতাংশ জমি দান করেন। এছাড়া পরবর্তীতো আরও কিছু জমি দান করেন। জমিটি পরিত্যক্ত থাকায় স্থানীয় যব সমাজ খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করেন। এছাড়া উড়াকান্দা বরাট ইউনিয়নের মধ্যবর্তী এলাকা হওয়ায় ওই এলাকার বাসিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদ স্থানান্তের জন্য কয়েক মাস আগে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি পেশ করেন।

আপনার মতামত লিখুন