ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ছেলেকে মাদক সহ আটকের কথা বলে পরিবারের থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ পেয়ে সদর থানা পুলিশ বিকাশ প্রতারণা চক্রের দুই সদস্যকে ফরিদপুর ও মুন্সিগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মটরা গ্রামের মৃত এরফান মাতুব্বরের ছেলে চাঁন মিয়া (৫৪) এবং একই গ্রামের রোকন মাতুব্বরের ছেলে হাফিজুল মাতুব্বর (৩০)।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন রাজবাড়ী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ।
পুলিশ জানায়, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও মুন্সীগঞ্জের পদ্মা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ২ লাখ ২২ হাজার ৫০ টাকা, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ছয়টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, দুটি বাটন ফোন এবং বিভিন্ন অপারেটরের ১২টি মুঠোফোনের সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলাদিপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মোন্নাফ শেখ জানান, তাঁর ছেলে হুসাইন শেখ (২২) ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজে পড়াশোনা করেন। প্রতিদিন তিনি রাজবাড়ী থেকে ফরিদপুরে যাতায়াত করেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে মোন্নাফ শেখ রাজবাড়ী সদর থানাধীন মাটিপাড়া বাজারের চার রাস্তার মোড়ে অবস্থানকালে ০১৩৫০৭৯৯৯০৮ নম্বর থেকে তাঁর মোবাইল ফোনে কল আসে। কলদাতারা নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে জানান, তাঁর ছেলে হুসাইন শেখ ও তাঁর দুই বন্ধুকে মাদকদ্রব্যসহ আটক করা হয়েছে। এ সময় কলদাতারা তাঁর কাছে ৭০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে মাদক মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানোর হুমকি দেন। মোন্নাফ শেখ ছেলের কথা চিন্তা করে তিনি কথিত ওই ব্যক্তিদের দাবিতে সম্মত হন। টাকা পাঠানোর জন্য তাঁকে ০১৮৩৪২৭৫২১৩ নম্বরের একটি পার্সোনাল বিকাশ অ্যাকাউন্ট নম্বর দেওয়া হয়। পরে মোন্নাফ শেখ, আলাদিপুর বাজারের বিভিন্ন দোকান থেকে বিকাশের মাধ্যমে সব মিলিয়ে তিন দফায় ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন। টাকা পাঠানোর পর ওই ব্যক্তিদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে ফোন করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বাড়িতে ফিরে মোন্নাফ শেখ দেখতে পান, তাঁর ছেলে হুসাইন বাড়িতেই রয়েছেন। তখন তিনি বুঝতে পারেন, প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে তিনি ৫০ হাজার টাকা খুইয়েছেন। পরে তিনি সদর থানায় এসে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে ওই টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এজাহার দায়ের করেন। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
সাধারণ মানুষকে এ ধরনের প্রতারণার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে কেউ ফোন করে গ্রেপ্তার, মামলা বা ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা চাইলে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনোভাবেই টাকা পাঠানো উচিত নয়। এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ছেলেকে মাদক সহ আটকের কথা বলে পরিবারের থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ পেয়ে সদর থানা পুলিশ বিকাশ প্রতারণা চক্রের দুই সদস্যকে ফরিদপুর ও মুন্সিগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মটরা গ্রামের মৃত এরফান মাতুব্বরের ছেলে চাঁন মিয়া (৫৪) এবং একই গ্রামের রোকন মাতুব্বরের ছেলে হাফিজুল মাতুব্বর (৩০)।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন রাজবাড়ী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ।
পুলিশ জানায়, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও মুন্সীগঞ্জের পদ্মা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ২ লাখ ২২ হাজার ৫০ টাকা, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ছয়টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, দুটি বাটন ফোন এবং বিভিন্ন অপারেটরের ১২টি মুঠোফোনের সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলাদিপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মোন্নাফ শেখ জানান, তাঁর ছেলে হুসাইন শেখ (২২) ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজে পড়াশোনা করেন। প্রতিদিন তিনি রাজবাড়ী থেকে ফরিদপুরে যাতায়াত করেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে মোন্নাফ শেখ রাজবাড়ী সদর থানাধীন মাটিপাড়া বাজারের চার রাস্তার মোড়ে অবস্থানকালে ০১৩৫০৭৯৯৯০৮ নম্বর থেকে তাঁর মোবাইল ফোনে কল আসে। কলদাতারা নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে জানান, তাঁর ছেলে হুসাইন শেখ ও তাঁর দুই বন্ধুকে মাদকদ্রব্যসহ আটক করা হয়েছে। এ সময় কলদাতারা তাঁর কাছে ৭০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে মাদক মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানোর হুমকি দেন। মোন্নাফ শেখ ছেলের কথা চিন্তা করে তিনি কথিত ওই ব্যক্তিদের দাবিতে সম্মত হন। টাকা পাঠানোর জন্য তাঁকে ০১৮৩৪২৭৫২১৩ নম্বরের একটি পার্সোনাল বিকাশ অ্যাকাউন্ট নম্বর দেওয়া হয়। পরে মোন্নাফ শেখ, আলাদিপুর বাজারের বিভিন্ন দোকান থেকে বিকাশের মাধ্যমে সব মিলিয়ে তিন দফায় ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন। টাকা পাঠানোর পর ওই ব্যক্তিদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে ফোন করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বাড়িতে ফিরে মোন্নাফ শেখ দেখতে পান, তাঁর ছেলে হুসাইন বাড়িতেই রয়েছেন। তখন তিনি বুঝতে পারেন, প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে তিনি ৫০ হাজার টাকা খুইয়েছেন। পরে তিনি সদর থানায় এসে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে ওই টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এজাহার দায়ের করেন। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
সাধারণ মানুষকে এ ধরনের প্রতারণার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে কেউ ফোন করে গ্রেপ্তার, মামলা বা ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা চাইলে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনোভাবেই টাকা পাঠানো উচিত নয়। এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন