মঈনুল হক ও ফিরোজ আহম্মেদ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় ফ্যামিলিকার্ড শুমারি-২০২৬ এর জরিপকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে বিক্ষোভ ও পুনরায় পরীক্ষার দাবি জানিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে গোয়ালন্দ বাসষ্ট্যান্ড থেকে মিছিল সহকারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে সামনে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভকারীরা পরীক্ষার ফলাফল বাতিলের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি পেশ করেন।
এদিকে ফ্যামিলিকার্ড শুমারিতে জরিপকারী এবং সুপারভাইজার নিয়োগের জন্য গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সাবেক নেতাদের স্বাক্ষরিত সুপারিশের তালিকা ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরপাক খাচ্ছে। তাঁদের সুপারিশ না রাখায় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনের বিষয়ে জানা নেই, ফেসবুক থেকে জেনেছেন বলে দাবি করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সুলতান-নূর ইসলাম মুন্নু।
জানা যায়, প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা প্রদানের নিমিত্তে সরকার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধিন “ফ্যামিলি কার্ড শুমারি নির্দেশিকা-২০২৬” অনুসারে দেশব্যাপী ফ্যামিলিকার্ড শুমারি কার্যক্রম শুরু করে। এ লক্ষ্যে অস্থায়ীভাবে ৪৭ জন তথ্য সংগ্রহকারী (জরিপকারী) এবং ৪ জন সুপারভাইজার নিয়োগের জন্য ইউএনও’র কার্যালয় থেকে ২১ জুলাই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তির আলোকে আগ্রহীদের যোগ্যতার ভিত্তিতে ২৮ জুলাই দুপুর ১২টা পর্যন্ত আবেদনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। ওইদিন রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রার্থীদের ভাইবা এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। উত্তীর্ণদের তালিকা সোমবার (৩ আগষ্ট) উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেইজে পোস্ট করাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে টানানো হয়।
তালিকা প্রকাশের পর থেকে বাদ পড়া এবং সুপারিশকারীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। প্রকাশিত তালিকা নিয়ে অনিয়ম, দূর্ণীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে নিন্দা জানায়। মঙ্গলবার (৪ আগষ্ট) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ বাসষ্ট্যান্ডে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে। মিছিল নিয়ে ইউএনও’র কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। তারা ইউএনও সাথী দাসসহ নিয়োগ কমিটিতে থাকা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন, উপজেলা আইসিটি অফিসার মো. নিজাম উদ্দিন ও তথ্য সেবা কর্মকর্তা তাহমিনা খাতুনকে দায়ি করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। অভিযোগ করেন, ২৮ জুলাই রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পরীক্ষা শেষে ওইদিন ফলাফল চূড়ান্ত হয়। ২৮ জুলাই স্বাক্ষরিত তালিকা ৩ আগষ্ট প্রকাশের কারন কি। বিক্ষোভকারীরা আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের দোষর আখ্যা দিয়ে পরীক্ষার ফলাফল বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষার দাবি জানান। না হলে আরো জোরালো আন্দোলনের হুশিয়ারি করেন। পরে বিক্ষোভকারীরা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি পেশ করেন।
বিক্ষোভকালে মো. সুমন নামের আন্দোলনকারীদের একজন অভিযোগে বলেন, ভাইবা পরীক্ষায় আমাকে ১৫টি প্রশ্ন করলে ১৪টির উত্তর দেই। আমাকে উত্তীর্ণ করা হয়নি এমনকি অপেক্ষমান তালিকায়ও নাম রাখা হয়নি। অথচ আবির হাসান নামের আমার সম্পর্কের এক ভাতিজাকে ব্যক্তিগত প্রশ্ন করে উত্তীর্ণ করেছে।
সোমবার (৩ আগষ্ট) গোয়ালন্দ থেকে অন্যত্র বদলী হওয়া ইউএনও সাথী দাস বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ প্রতিহত করতে না পারলে নিয়োগ কমিটির সভাপতি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সদস্য সচিব হিসেবে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন। এর আলোকে রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশকৃত তালিকা পেলেও কিছুই করার ছিলনা।
অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন, তথ্যসংগ্রহকারী এবং সুপারভাইজার নিয়োগের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে অনিয়মের কোন সুযোগ নেই বলে আমি চ্যালেঞ্জ করতে পারি। যদি মনে হয়, অনিয়ম হয়েছে, আমার উর্দ্বোতন কর্তৃপক্ষ আছেন, তাঁরা দেখবেন।

বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬
মঈনুল হক ও ফিরোজ আহম্মেদ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় ফ্যামিলিকার্ড শুমারি-২০২৬ এর জরিপকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে বিক্ষোভ ও পুনরায় পরীক্ষার দাবি জানিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে গোয়ালন্দ বাসষ্ট্যান্ড থেকে মিছিল সহকারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে সামনে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভকারীরা পরীক্ষার ফলাফল বাতিলের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি পেশ করেন।
এদিকে ফ্যামিলিকার্ড শুমারিতে জরিপকারী এবং সুপারভাইজার নিয়োগের জন্য গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সাবেক নেতাদের স্বাক্ষরিত সুপারিশের তালিকা ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরপাক খাচ্ছে। তাঁদের সুপারিশ না রাখায় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনের বিষয়ে জানা নেই, ফেসবুক থেকে জেনেছেন বলে দাবি করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সুলতান-নূর ইসলাম মুন্নু।
জানা যায়, প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা প্রদানের নিমিত্তে সরকার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধিন “ফ্যামিলি কার্ড শুমারি নির্দেশিকা-২০২৬” অনুসারে দেশব্যাপী ফ্যামিলিকার্ড শুমারি কার্যক্রম শুরু করে। এ লক্ষ্যে অস্থায়ীভাবে ৪৭ জন তথ্য সংগ্রহকারী (জরিপকারী) এবং ৪ জন সুপারভাইজার নিয়োগের জন্য ইউএনও’র কার্যালয় থেকে ২১ জুলাই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তির আলোকে আগ্রহীদের যোগ্যতার ভিত্তিতে ২৮ জুলাই দুপুর ১২টা পর্যন্ত আবেদনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। ওইদিন রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রার্থীদের ভাইবা এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। উত্তীর্ণদের তালিকা সোমবার (৩ আগষ্ট) উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেইজে পোস্ট করাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে টানানো হয়।
তালিকা প্রকাশের পর থেকে বাদ পড়া এবং সুপারিশকারীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। প্রকাশিত তালিকা নিয়ে অনিয়ম, দূর্ণীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে নিন্দা জানায়। মঙ্গলবার (৪ আগষ্ট) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ বাসষ্ট্যান্ডে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে। মিছিল নিয়ে ইউএনও’র কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। তারা ইউএনও সাথী দাসসহ নিয়োগ কমিটিতে থাকা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন, উপজেলা আইসিটি অফিসার মো. নিজাম উদ্দিন ও তথ্য সেবা কর্মকর্তা তাহমিনা খাতুনকে দায়ি করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। অভিযোগ করেন, ২৮ জুলাই রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পরীক্ষা শেষে ওইদিন ফলাফল চূড়ান্ত হয়। ২৮ জুলাই স্বাক্ষরিত তালিকা ৩ আগষ্ট প্রকাশের কারন কি। বিক্ষোভকারীরা আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের দোষর আখ্যা দিয়ে পরীক্ষার ফলাফল বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষার দাবি জানান। না হলে আরো জোরালো আন্দোলনের হুশিয়ারি করেন। পরে বিক্ষোভকারীরা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি পেশ করেন।
বিক্ষোভকালে মো. সুমন নামের আন্দোলনকারীদের একজন অভিযোগে বলেন, ভাইবা পরীক্ষায় আমাকে ১৫টি প্রশ্ন করলে ১৪টির উত্তর দেই। আমাকে উত্তীর্ণ করা হয়নি এমনকি অপেক্ষমান তালিকায়ও নাম রাখা হয়নি। অথচ আবির হাসান নামের আমার সম্পর্কের এক ভাতিজাকে ব্যক্তিগত প্রশ্ন করে উত্তীর্ণ করেছে।
সোমবার (৩ আগষ্ট) গোয়ালন্দ থেকে অন্যত্র বদলী হওয়া ইউএনও সাথী দাস বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ প্রতিহত করতে না পারলে নিয়োগ কমিটির সভাপতি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সদস্য সচিব হিসেবে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন। এর আলোকে রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশকৃত তালিকা পেলেও কিছুই করার ছিলনা।
অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন, তথ্যসংগ্রহকারী এবং সুপারভাইজার নিয়োগের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে অনিয়মের কোন সুযোগ নেই বলে আমি চ্যালেঞ্জ করতে পারি। যদি মনে হয়, অনিয়ম হয়েছে, আমার উর্দ্বোতন কর্তৃপক্ষ আছেন, তাঁরা দেখবেন।

আপনার মতামত লিখুন