নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে সঞ্চয় হিসাব খোলার নামে প্রতারণা ও জালিয়াতারি মাধ্যমে সাদা কাগজে দাপ্তরিক সিল ব্যবহার করে গ্রাহকের প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় পোষ্টামাষ্টর সহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। তাঁদেরকে আগামী ৩ নভেম্বর আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভূক্তভোগী নাছরিন আক্তারের করা মামলায় রাজবাড়ীর অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ও সদর আমলি আদালতের বিচারক হায়দার আলী এ আদেশ দেন।
মামলার বাদী নাছরিন আক্তার রাজবাড়ী সদর উপজেলার চর লক্ষ্মীপুর গ্রামের সেলিম মিয়ার স্ত্রী। তিনি দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় মামলাটি করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে সমন জারির নির্দেশ দেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট অশোক কুমার ঘোষ-২, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম লাভলু ও অ্যাডভোকেট খান মো. জহুরুল হক।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজবাড়ী সদর আমলী আদালতে ভূক্তভোগী গ্রাহকদের পক্ষে নাছরিন আক্তার নামের এক গ্রাহক দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের পোষ্টামাষ্টার বিকাশ চন্দ্র বিশ^াস, লেটার রাইটার শিহাব মৃধা, পিএলআই এজেন্ট মাহবুব মৃধা, লেটার রাইটার মাহবুবুর রহমান, পোষ্টাল অপারেটর নাজমুল হাছান, ট্রেজারার পবিত্র কুমার সরকার, এম.এল.এস.এস মো. রেজাউল আলম, পোষ্টাল অপারেটর মো. গোলাম মোস্তফা বাচ্চু, পোষ্টাল অপারেটর এস এম নুরুজ্জামান, পোষ্টাল অপারেটর আসমা আক্তার, প্যাকার কাম মেইল ক্যারিয়ার বিউটি রানী দাস, পোষ্টাল কর্মচারী নুরুল মাসুদ ও রোকসানা আক্তার। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে সকলের বিরুদ্ধে সমন ইস্যুর আদেশ দেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট অশোক কুমার ঘোষ-২, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম লাভলু ও অ্যাডভোকেট খান মো. জহুরুল হক।
অভিযোগে বলা হয়, সঞ্চয় হিসাব খোলার নামে সাদা কাগজে দাপ্তরিক সিল ব্যবহার করে ৬১ জন গ্রাহকের কাছ থেকে ৯২ লাখ টাকা নেওয়া হয়। রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের পোষ্ট মাষ্টার বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাসসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহায়তায় এটি করেন লেটার রাইটার শিহাব মৃধা। তবে ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়।
ডাক বিভাগের তথ্যমতে, ‘লেটার রাইটার’ স্থায়ী বা রাজস্বভুক্ত কোনো পদ নয়। তবে কিছু ডাকঘরে কাজের সুবিধার জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে এ ধরনের লেটার রাইটার হিসেবে কোনো ব্যক্তিকে নিয়োগ করা হয়। অভিযুক্ত শিহাব মৃধা রাজবাড়ী সদর উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নের রশোড়া বাঘিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
জানা গেছে, গত ১৩ জুলাই কুষ্টিয়া বিভাগীয় ডাক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে যান। সে সময় লেটার রাইটার শিহাবকে ডাকঘরে পাওয়া গেলেও তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। পরে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান। এরপর থেকেই তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা ডাকঘরে এসে তাদের অর্থ ফেরতের দাবি জানাচ্ছেন। বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করছেন। এ অভিযোগের মধ্যে ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে পোষ্টামাষ্টার বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাসকে সম্প্রতি কুষ্টিয়ায় বদলী করা হয়েছে।
গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে ১৬ জুলাই খুলনা দক্ষিণাঞ্চলের পোস্টমাস্টার জেনারেল (চলতি দায়িত্ব) কবির আহমেদ স্বাক্ষরিত এক পত্রে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটিতে খুলনা দক্ষিণাঞ্চলের অতিরিক্ত পোস্টমাস্টার জেনারলকে সভাপতি, খুলনা সার্কেল অফিসের সুপারিনটেনডেন্টকে সদস্য সচিব, ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল (তদন্ত) দক্ষিণাঞ্চল খুলনা ও কুষ্টিয়া বিভাগের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেলকে সদস্য করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রæত তদন্ত শেষ করে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিধি-বিধানের অপর্যাপ্ততা বা পদ্ধতিগত কোনো ত্রæটির কারণে সরকারি ক্ষতি সংঘটিত হয়ে থাকলে তা সংশোধন, নিরসন ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষে যুক্তসংগত প্রস্তাব বা সুপারিশসমূত তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া কুষ্টিয়া বিভাগীয় কার্যালয় থেকেও চার সদস্যের পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের সদ্য যোগ দেওয়া পোষ্টমাষ্টার শামীম আহমেদ বলেন, শিহাব মৃধা ২০২১ সাল থেকে ‘হেল্পিং হ্যান্ডস’ হিসেবে লেটার রাইটারের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি সরকারি রাজস্বভুক্ত কর্মচারী নন। গত বছর সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছর জুন পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনা ঘটে। তিনি রাজবাড়ীতে যোগদানের পর ৬ জুলাই এক গ্রাহকের কাছে সাদা কাগজের স্লিপ পাওয়ার পর একে একে প্রকাশ্যে আসে। বিষয়টি জানতে পেরে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাঁদের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে।

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে সঞ্চয় হিসাব খোলার নামে প্রতারণা ও জালিয়াতারি মাধ্যমে সাদা কাগজে দাপ্তরিক সিল ব্যবহার করে গ্রাহকের প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় পোষ্টামাষ্টর সহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। তাঁদেরকে আগামী ৩ নভেম্বর আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভূক্তভোগী নাছরিন আক্তারের করা মামলায় রাজবাড়ীর অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ও সদর আমলি আদালতের বিচারক হায়দার আলী এ আদেশ দেন।
মামলার বাদী নাছরিন আক্তার রাজবাড়ী সদর উপজেলার চর লক্ষ্মীপুর গ্রামের সেলিম মিয়ার স্ত্রী। তিনি দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় মামলাটি করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে সমন জারির নির্দেশ দেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট অশোক কুমার ঘোষ-২, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম লাভলু ও অ্যাডভোকেট খান মো. জহুরুল হক।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজবাড়ী সদর আমলী আদালতে ভূক্তভোগী গ্রাহকদের পক্ষে নাছরিন আক্তার নামের এক গ্রাহক দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের পোষ্টামাষ্টার বিকাশ চন্দ্র বিশ^াস, লেটার রাইটার শিহাব মৃধা, পিএলআই এজেন্ট মাহবুব মৃধা, লেটার রাইটার মাহবুবুর রহমান, পোষ্টাল অপারেটর নাজমুল হাছান, ট্রেজারার পবিত্র কুমার সরকার, এম.এল.এস.এস মো. রেজাউল আলম, পোষ্টাল অপারেটর মো. গোলাম মোস্তফা বাচ্চু, পোষ্টাল অপারেটর এস এম নুরুজ্জামান, পোষ্টাল অপারেটর আসমা আক্তার, প্যাকার কাম মেইল ক্যারিয়ার বিউটি রানী দাস, পোষ্টাল কর্মচারী নুরুল মাসুদ ও রোকসানা আক্তার। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে সকলের বিরুদ্ধে সমন ইস্যুর আদেশ দেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট অশোক কুমার ঘোষ-২, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম লাভলু ও অ্যাডভোকেট খান মো. জহুরুল হক।
অভিযোগে বলা হয়, সঞ্চয় হিসাব খোলার নামে সাদা কাগজে দাপ্তরিক সিল ব্যবহার করে ৬১ জন গ্রাহকের কাছ থেকে ৯২ লাখ টাকা নেওয়া হয়। রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের পোষ্ট মাষ্টার বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাসসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহায়তায় এটি করেন লেটার রাইটার শিহাব মৃধা। তবে ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়।
ডাক বিভাগের তথ্যমতে, ‘লেটার রাইটার’ স্থায়ী বা রাজস্বভুক্ত কোনো পদ নয়। তবে কিছু ডাকঘরে কাজের সুবিধার জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে এ ধরনের লেটার রাইটার হিসেবে কোনো ব্যক্তিকে নিয়োগ করা হয়। অভিযুক্ত শিহাব মৃধা রাজবাড়ী সদর উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নের রশোড়া বাঘিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
জানা গেছে, গত ১৩ জুলাই কুষ্টিয়া বিভাগীয় ডাক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে যান। সে সময় লেটার রাইটার শিহাবকে ডাকঘরে পাওয়া গেলেও তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। পরে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান। এরপর থেকেই তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা ডাকঘরে এসে তাদের অর্থ ফেরতের দাবি জানাচ্ছেন। বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করছেন। এ অভিযোগের মধ্যে ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে পোষ্টামাষ্টার বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাসকে সম্প্রতি কুষ্টিয়ায় বদলী করা হয়েছে।
গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে ১৬ জুলাই খুলনা দক্ষিণাঞ্চলের পোস্টমাস্টার জেনারেল (চলতি দায়িত্ব) কবির আহমেদ স্বাক্ষরিত এক পত্রে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটিতে খুলনা দক্ষিণাঞ্চলের অতিরিক্ত পোস্টমাস্টার জেনারলকে সভাপতি, খুলনা সার্কেল অফিসের সুপারিনটেনডেন্টকে সদস্য সচিব, ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল (তদন্ত) দক্ষিণাঞ্চল খুলনা ও কুষ্টিয়া বিভাগের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেলকে সদস্য করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রæত তদন্ত শেষ করে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিধি-বিধানের অপর্যাপ্ততা বা পদ্ধতিগত কোনো ত্রæটির কারণে সরকারি ক্ষতি সংঘটিত হয়ে থাকলে তা সংশোধন, নিরসন ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষে যুক্তসংগত প্রস্তাব বা সুপারিশসমূত তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া কুষ্টিয়া বিভাগীয় কার্যালয় থেকেও চার সদস্যের পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের সদ্য যোগ দেওয়া পোষ্টমাষ্টার শামীম আহমেদ বলেন, শিহাব মৃধা ২০২১ সাল থেকে ‘হেল্পিং হ্যান্ডস’ হিসেবে লেটার রাইটারের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি সরকারি রাজস্বভুক্ত কর্মচারী নন। গত বছর সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছর জুন পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনা ঘটে। তিনি রাজবাড়ীতে যোগদানের পর ৬ জুলাই এক গ্রাহকের কাছে সাদা কাগজের স্লিপ পাওয়ার পর একে একে প্রকাশ্যে আসে। বিষয়টি জানতে পেরে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাঁদের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে।

আপনার মতামত লিখুন