রাজবাড়ী মেইল
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

ফরিদপুরে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল

ফরিদপুরে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে গোয়ালন্দে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে গোয়ালন্দে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

রাজবাড়ীর পাংশায় ট্রেনের নীচে ঝাঁপ দিয়ে কিশোরীর আত্মহত্যা

রাজবাড়ীর পাংশায় ট্রেনের নীচে ঝাঁপ দিয়ে কিশোরীর আত্মহত্যা

রাজবাড়ীতে ইয়াবাসহ কালুখালী উপজেলার সংরক্ষিত দুই নারী ইউপি সদস্য কারাগারে

রাজবাড়ীতে ইয়াবাসহ কালুখালী উপজেলার সংরক্ষিত দুই নারী ইউপি সদস্য কারাগারে

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথঃ মাঝ নদীতে যানবাহন বোঝাই ফেরির ইঞ্জিন বিকল, তিন ঘন্টা পর উদ্ধার

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথঃ মাঝ নদীতে যানবাহন বোঝাই ফেরির ইঞ্জিন বিকল, তিন ঘন্টা পর উদ্ধার

রাজবাড়ীতে স্বামীর যৌতুক মামলায় সেবিকা স্ত্রী কারাগারে

রাজবাড়ীতে স্বামীর যৌতুক মামলায় সেবিকা স্ত্রী কারাগারে

রাজবাড়ীতে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার কয়েক ঘন্টায় রহস্য উদঘাটন, নিহতের ভাইসহ দুই কর্মচারী গ্রেপ্তার

রাজবাড়ীতে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার কয়েক ঘন্টায় রহস্য উদঘাটন, নিহতের ভাইসহ দুই কর্মচারী গ্রেপ্তার

রাজবাড়ীতে দিনের বেলায় ঘরের ভিতর ব্যবসায়ীর দুই হাত বিচ্ছিন্ন ও জবাই করে হত্যা

রাজবাড়ীতে দিনের বেলায় ঘরের ভিতর ব্যবসায়ীর দুই হাত বিচ্ছিন্ন ও জবাই করে হত্যা

বালুর চাতালের পানি আটকে জলাবদ্ধতা, ভোগান্তির শিকার অর্ধশত পরিবার

বালুর চাতালের পানি আটকে জলাবদ্ধতা, ভোগান্তির শিকার অর্ধশত পরিবার

শামীম শেখ ও মঈনুল হক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বালুর চাতালের সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় বাহির চর ছাত্তার মেম্বার পাড়ার অর্ধশত পরিবার ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশাল আকারের বালুর স্তুপ থেকে বের হওয়া পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এবং কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টিতে দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। উপজেলা শ্রমিক দল নেতাসহ সরকারী দলের স্থানীয় কয়েকজন বালুর ব্যবসা পরিচালনা করছেন। 

প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী এসব পরিবার রোববার (১২ জুলাই) সকাল দশটা থেকে সাড়ে দশটা পর্যন্ত বৃষ্টির মধ্যে দৌলতদিয়া বাইপাস সড়ক আটকে বিক্ষোভ করে। এ সময় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল গামী বিভিন্ন যানবাহন ফেরি থেকে নামার পর অবরোধে আটকে বাড়তি ভোগান্তিতে পড়েন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা। জলাবদ্ধতার কারনে বাড়িঘর ও গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শিশু, নারীসহ বয়স্কদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী।  

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দৌলতদিয়া বাইপাস সড়ক থেকে ৭ নম্বর ফেরিঘাট পর্যন্ত ছাত্তার মেম্বার পাড়ার অর্ধশত পরিবার বসবাস করে। বাইপাস সড়ক এবং ৭ নম্বর ফেরিঘাট সড়ক ঘেঁেষ গড়ে উঠেছে একাধিক অবৈধ বালুর চাতাল। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আনা বালু বোঝাই বাল্কহেড ৬ নম্বর ফেরি ঘাটে রেখে পাইপের মাধ্যমে আনলোড করা হয়। আনলোডকৃত বালু বাইপাস ও ৭ নম্বর ফেরিঘাট সড়কের পাশে স্তুপ করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হয়। বালু আনলোডের সময় ৪০ ভাগ পানি জলাবদ্ধতা তৈরী করছে। উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সরোয়ার মোল্লাসহ স্থানীয় আব্বাস, জগো, সালাম, জামাল, আলিম মোল্লা, নুরুল ইসলামসহ অনেকে বালু ব্যবসায় জড়িত রয়েছে। 

ভুক্তভোগী স্থানীয় নিয়ামত আলী সরদার বলেন, ১২ বছর ধইরা এহানে বাড়ি করছি, কোন সমস্যা হয়নাই। বৃষ্টির পানি মাইটালে (ছোট ডোবা) চইলা যাইতো। দুই বছর ধইরা বালির চাতাল হওয়ার পর থেকে সারা বছর পানি থাকছে। আমরা গরিব মানুষ কিছু বললেও কেউ শুনে না। সরো মোল্লার চাতালের পানিতে বাড়ি-ঘর তলাইয়া গেছে। 

স্থানীয় নিয়ামত সরদার বলেন, চাতালের কারনে বারো মাস পানিতে থাকতে হচ্ছে। তাদেরকে পানি নিষ্কাশনের কথা বললেও কথা শুনেনা। উপায় না পেয়ে আজ আমরা রাস্তায় নেমেছিলাম। পরে থানার ওসি সাহেব এসে পানি বের করার ব্যবস্থার কথা বললে আমরা অবরোধ তুলে নেই।  

মাসুদা বেগম নামের গৃহবধু বলেন, তিন-চার মাস ধরে সরোয়ার মোল্লার চাতালের পানিতে সব শেষ কইরা দিচ্ছে। এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ি যাইতে পারি না। সবখানে পানি আর পানি। বৃষ্টির পানিতে আরও সমস্যা হচ্ছে। আমরা এই চাতাল বন্ধ চাই।    

উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সরোয়ার মোল্লা বলেন, বাল্কহেড থেকে পাইপে বালু আনলোডের সময় ৪০ ভাগ পানি থাকে। চাতালের পাশে বড় গর্তে পানি জমিয়ে সেচপাম্পের সাহায্যে অপসারণ করা হয়। মূলত বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা তৈরী হয়েছে। সেচপাম্প দিয়ে দ্রæত পানি অপসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। 

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির মধ্যে সড়ক অবরোধ করায় বাড়তি ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে বৃষ্টির মধ্যে ঘটনাস্থলে তাদেরকে পানি অপসারণের আশ্বাস দিলে স্থানীয় অবরোধ তুলে নেন। চাতালের পানির সাথে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা হওয়ায় ভোগান্তি হচ্ছে।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, খবর পেয়ে রোববার বিকেলে সরেজমিন পরিদর্শন করে ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে কথা বলেছি। এ সময় বালুর চাতাল বন্ধ রাখার পাশাপাশি দ্রæত পানি নিষ্কাশনে বালু ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
রাজবাড়ী মেইল

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


বালুর চাতালের পানি আটকে জলাবদ্ধতা, ভোগান্তির শিকার অর্ধশত পরিবার

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

শামীম শেখ ও মঈনুল হক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বালুর চাতালের সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় বাহির চর ছাত্তার মেম্বার পাড়ার অর্ধশত পরিবার ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশাল আকারের বালুর স্তুপ থেকে বের হওয়া পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এবং কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টিতে দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। উপজেলা শ্রমিক দল নেতাসহ সরকারী দলের স্থানীয় কয়েকজন বালুর ব্যবসা পরিচালনা করছেন। 

প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী এসব পরিবার রোববার (১২ জুলাই) সকাল দশটা থেকে সাড়ে দশটা পর্যন্ত বৃষ্টির মধ্যে দৌলতদিয়া বাইপাস সড়ক আটকে বিক্ষোভ করে। এ সময় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল গামী বিভিন্ন যানবাহন ফেরি থেকে নামার পর অবরোধে আটকে বাড়তি ভোগান্তিতে পড়েন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা। জলাবদ্ধতার কারনে বাড়িঘর ও গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শিশু, নারীসহ বয়স্কদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী।  

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দৌলতদিয়া বাইপাস সড়ক থেকে ৭ নম্বর ফেরিঘাট পর্যন্ত ছাত্তার মেম্বার পাড়ার অর্ধশত পরিবার বসবাস করে। বাইপাস সড়ক এবং ৭ নম্বর ফেরিঘাট সড়ক ঘেঁেষ গড়ে উঠেছে একাধিক অবৈধ বালুর চাতাল। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আনা বালু বোঝাই বাল্কহেড ৬ নম্বর ফেরি ঘাটে রেখে পাইপের মাধ্যমে আনলোড করা হয়। আনলোডকৃত বালু বাইপাস ও ৭ নম্বর ফেরিঘাট সড়কের পাশে স্তুপ করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হয়। বালু আনলোডের সময় ৪০ ভাগ পানি জলাবদ্ধতা তৈরী করছে। উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সরোয়ার মোল্লাসহ স্থানীয় আব্বাস, জগো, সালাম, জামাল, আলিম মোল্লা, নুরুল ইসলামসহ অনেকে বালু ব্যবসায় জড়িত রয়েছে। 

ভুক্তভোগী স্থানীয় নিয়ামত আলী সরদার বলেন, ১২ বছর ধইরা এহানে বাড়ি করছি, কোন সমস্যা হয়নাই। বৃষ্টির পানি মাইটালে (ছোট ডোবা) চইলা যাইতো। দুই বছর ধইরা বালির চাতাল হওয়ার পর থেকে সারা বছর পানি থাকছে। আমরা গরিব মানুষ কিছু বললেও কেউ শুনে না। সরো মোল্লার চাতালের পানিতে বাড়ি-ঘর তলাইয়া গেছে। 

স্থানীয় নিয়ামত সরদার বলেন, চাতালের কারনে বারো মাস পানিতে থাকতে হচ্ছে। তাদেরকে পানি নিষ্কাশনের কথা বললেও কথা শুনেনা। উপায় না পেয়ে আজ আমরা রাস্তায় নেমেছিলাম। পরে থানার ওসি সাহেব এসে পানি বের করার ব্যবস্থার কথা বললে আমরা অবরোধ তুলে নেই।  

মাসুদা বেগম নামের গৃহবধু বলেন, তিন-চার মাস ধরে সরোয়ার মোল্লার চাতালের পানিতে সব শেষ কইরা দিচ্ছে। এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ি যাইতে পারি না। সবখানে পানি আর পানি। বৃষ্টির পানিতে আরও সমস্যা হচ্ছে। আমরা এই চাতাল বন্ধ চাই।    

উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সরোয়ার মোল্লা বলেন, বাল্কহেড থেকে পাইপে বালু আনলোডের সময় ৪০ ভাগ পানি থাকে। চাতালের পাশে বড় গর্তে পানি জমিয়ে সেচপাম্পের সাহায্যে অপসারণ করা হয়। মূলত বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা তৈরী হয়েছে। সেচপাম্প দিয়ে দ্রæত পানি অপসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। 

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির মধ্যে সড়ক অবরোধ করায় বাড়তি ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে বৃষ্টির মধ্যে ঘটনাস্থলে তাদেরকে পানি অপসারণের আশ্বাস দিলে স্থানীয় অবরোধ তুলে নেন। চাতালের পানির সাথে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা হওয়ায় ভোগান্তি হচ্ছে।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, খবর পেয়ে রোববার বিকেলে সরেজমিন পরিদর্শন করে ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে কথা বলেছি। এ সময় বালুর চাতাল বন্ধ রাখার পাশাপাশি দ্রæত পানি নিষ্কাশনে বালু ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


রাজবাড়ী মেইল

সম্পাদক: রাশেদ ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৫ । সর্বস্ব সংরক্ষিত রাজবাড়ী মেইল