রাজবাড়ী মেইল
আপডেট : সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন

রাজবাড়ীতে ১৮ শিল্পী গভীররাত পর্যন্ত গাইলেন বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিমের গান

রাজবাড়ীতে ১৮ শিল্পী গভীররাত পর্যন্ত গাইলেন বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিমের গান

বর্তমান সরকার টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার পুরো পরিকল্পনা করেছে -রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

বর্তমান সরকার টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার পুরো পরিকল্পনা করেছে -রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

আগামী ছয় মাসের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজের কাজ শুরু হবে, বদলে যাবে ২৪ জেলার অর্থনীতি -পানিসম্পদমন্ত্রী

আগামী ছয় মাসের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজের কাজ শুরু হবে, বদলে যাবে ২৪ জেলার অর্থনীতি -পানিসম্পদমন্ত্রী

গোয়ালন্দের স্বজ্জন ব্যাক্তি কোবাদ হোসেনের দাফন সম্পন্ন

গোয়ালন্দের স্বজ্জন ব্যাক্তি কোবাদ হোসেনের দাফন সম্পন্ন

রাজবাড়ীতে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে রাজবাড়ীতে র্যালি ও আলোচনা সভা

রাজবাড়ীতে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে রাজবাড়ীতে র্যালি ও আলোচনা সভা

 কৃষিপণ্যে ধলতা বাতিল, সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার বিতরণসহ ১০ দফা দাবীতে বিক্ষোভ

কৃষিপণ্যে ধলতা বাতিল, সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার বিতরণসহ ১০ দফা দাবীতে বিক্ষোভ

তীব্র স্রোতে চারদিন ধরে বন্ধ ফেরি, ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ নৌরুটে ভোগান্তি

তীব্র স্রোতে চারদিন ধরে বন্ধ ফেরি, ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ নৌরুটে ভোগান্তি

নতুন করে ভাঙনে ফেরি ঘাটের ৪০০ মিটার এলাকা ঝুঁকিতে, আতঙ্কে শতাধিক পরিবার

নতুন করে ভাঙনে ফেরি ঘাটের ৪০০ মিটার এলাকা ঝুঁকিতে, আতঙ্কে শতাধিক পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিন দিনে সাবেক ১ নম্বর ফেরি ঘাটের প্রায় ৫০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ৩ ও ৪ নম্বর ফেরি ঘাটসহ প্রায় ৪০০ মিটার এলাকা ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। পদ্মা নদীর পাড় এলাকার দুটি গ্রামের শতাধিক পরিবার ভাঙন আতঙ্কে দিন পার করছেন। 

রোববার সরেজমিন দেখা যায়, দৌলতদিয়ায় ৭টির মধ্যে বর্তমানে ৩, ৪ এবং ৭ নম্বর এই তিনটি ঘাট সচল রয়েছে। ঈদের আগে নতুন করে ৫ নম্বর ঘাট তৈরি করলেও মিডওয়াটার লেভেলে হওয়ায় চালু করা হয়নি। ৬নম্বর ঘাটটি হাইওয়াটার লেভেলের হওয়ায় সেটিও চালু করা যাচ্ছে না। ১ ও ২ নম্বর ঘাট কয়েক বছর আগে ভাঙনে বিলীন হওয়ায় সেটি আর চালু করা হয়নি।

লঞ্চ ঘাটের পাশে অবস্থিত সাবেক (বন্ধ) ১ নম্বর ফেরি ঘাট মজিদ শেখের পাড়া ও সিদ্দিক কাজী পাড়া এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিন দিনে প্রায় ৫০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। তার অদূরে ৩ এবং ৪ নম্বর ঘাটের মাঝ বরাবার এলাকায় অল্প করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। যে কারনে ৩ ও ৪ নম্বর ফেরি ঘাটসহ ফেরি ঘাট এলাকা ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে পদ্মা পাড়ের বাসিন্দাদের চোখে মুখে ভাঙন আতঙ্ক বিরাজ করছে।   

১ নম্বর ফেরি ঘাট সড়কে স্ত্রী সাথে নিয়ে কৃষিপণ্য (মৌরি ধনে) রোদ্রে শুকাচ্ছিলেন মজিদ শেখের পাড়ার টোকন মণ্ডল। অনেকটা ক্ষোভ আর আতঙ্ক নিয়ে তিনি বলেন, পদ্মা নদীতে হালকা পানি বাড়ার সঙ্গে পাড়ও ভাঙতে শুরু করে। তিন-চার দিন ধরে এই এলাকায় ভাঙনে প্রায় ৫০ মিটার বিলীন হয়েছে। ভাঙন এখন আমাদের ঘরের কাছে এসেছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে ফেরি ঘাট এলাকার মজিদ শেখের পাড়া ও সিদ্দিক কাজী পাড়ার ১০০ পরিবার ঝুঁকিতে পড়বে। 

স্থানীয় বাসিন্দা ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা বলেন, আমরা সব সময় ভাঙন আতঙ্কে দিন পার করছি। ভাঙনে যখন বাড়িঘর নদীতে যায়, কর্তৃপক্ষ তখন আসে বালুর বস্তা ফেলতে, সরকারি কর্মকর্তারা আসেন ঘাট পরিদর্শনে। অথচ আগে থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। আমরা এভাবে আর কতদিন থাকবো। মজিদ শেখের পাড়া ও সিদ্দিক কাজী পাড়ার অধিকাংশ পরিবার দুই থেকে তিনবার ভাঙনের শিকার হয়ে এখানে বসতি গড়েছিল। আবারও যদি ভাঙনের শিকার হন তাহলে এসব পরিবার যাবেনকোথায়? 

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, দৌলতদিয়া ঘাট ভাঙন প্রবণিত এলাকা। বর্ষা আসলেই ভাঙন দেখা দেয়। সাবেক ১ নম্বর ঘাট এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঘাটটি সচল না থাকায় তেমন সমস্যা হচ্ছেনা। সচল ৩ ও ৪ নম্বর ঘাটের মাঝামাঝি এলাকায় অল্প করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে আমরা মেরিন বিভাগের মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, নতুন করে ভাঙনে ফেরি ঘাট সহ স্থানীয় পরিবারগুলো ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসক ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে উর্দ্বোতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছেন। আমরা দ্রæত ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবগত করেছি। আশা করছি দ্রুত সময়ে কাজ শুরু হবে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রাজবাড়ী সদরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সুব্রত কুমার রাজবাড়ীমেইলকে বলেন, দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরি ঘাট এলাকার প্রায় ৪০০ মিটার অংশ নতুন করে ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কিছু প্রস্তাবনা উর্দ্বোতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন মিললে দ্রæত কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। 

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
রাজবাড়ী মেইল

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নতুন করে ভাঙনে ফেরি ঘাটের ৪০০ মিটার এলাকা ঝুঁকিতে, আতঙ্কে শতাধিক পরিবার

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

featured Image

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিন দিনে সাবেক ১ নম্বর ফেরি ঘাটের প্রায় ৫০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ৩ ও ৪ নম্বর ফেরি ঘাটসহ প্রায় ৪০০ মিটার এলাকা ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। পদ্মা নদীর পাড় এলাকার দুটি গ্রামের শতাধিক পরিবার ভাঙন আতঙ্কে দিন পার করছেন। 

রোববার সরেজমিন দেখা যায়, দৌলতদিয়ায় ৭টির মধ্যে বর্তমানে ৩, ৪ এবং ৭ নম্বর এই তিনটি ঘাট সচল রয়েছে। ঈদের আগে নতুন করে ৫ নম্বর ঘাট তৈরি করলেও মিডওয়াটার লেভেলে হওয়ায় চালু করা হয়নি। ৬নম্বর ঘাটটি হাইওয়াটার লেভেলের হওয়ায় সেটিও চালু করা যাচ্ছে না। ১ ও ২ নম্বর ঘাট কয়েক বছর আগে ভাঙনে বিলীন হওয়ায় সেটি আর চালু করা হয়নি।

লঞ্চ ঘাটের পাশে অবস্থিত সাবেক (বন্ধ) ১ নম্বর ফেরি ঘাট মজিদ শেখের পাড়া ও সিদ্দিক কাজী পাড়া এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিন দিনে প্রায় ৫০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। তার অদূরে ৩ এবং ৪ নম্বর ঘাটের মাঝ বরাবার এলাকায় অল্প করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। যে কারনে ৩ ও ৪ নম্বর ফেরি ঘাটসহ ফেরি ঘাট এলাকা ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে পদ্মা পাড়ের বাসিন্দাদের চোখে মুখে ভাঙন আতঙ্ক বিরাজ করছে।   

১ নম্বর ফেরি ঘাট সড়কে স্ত্রী সাথে নিয়ে কৃষিপণ্য (মৌরি ধনে) রোদ্রে শুকাচ্ছিলেন মজিদ শেখের পাড়ার টোকন মণ্ডল। অনেকটা ক্ষোভ আর আতঙ্ক নিয়ে তিনি বলেন, পদ্মা নদীতে হালকা পানি বাড়ার সঙ্গে পাড়ও ভাঙতে শুরু করে। তিন-চার দিন ধরে এই এলাকায় ভাঙনে প্রায় ৫০ মিটার বিলীন হয়েছে। ভাঙন এখন আমাদের ঘরের কাছে এসেছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে ফেরি ঘাট এলাকার মজিদ শেখের পাড়া ও সিদ্দিক কাজী পাড়ার ১০০ পরিবার ঝুঁকিতে পড়বে। 

স্থানীয় বাসিন্দা ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা বলেন, আমরা সব সময় ভাঙন আতঙ্কে দিন পার করছি। ভাঙনে যখন বাড়িঘর নদীতে যায়, কর্তৃপক্ষ তখন আসে বালুর বস্তা ফেলতে, সরকারি কর্মকর্তারা আসেন ঘাট পরিদর্শনে। অথচ আগে থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। আমরা এভাবে আর কতদিন থাকবো। মজিদ শেখের পাড়া ও সিদ্দিক কাজী পাড়ার অধিকাংশ পরিবার দুই থেকে তিনবার ভাঙনের শিকার হয়ে এখানে বসতি গড়েছিল। আবারও যদি ভাঙনের শিকার হন তাহলে এসব পরিবার যাবেনকোথায়? 

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, দৌলতদিয়া ঘাট ভাঙন প্রবণিত এলাকা। বর্ষা আসলেই ভাঙন দেখা দেয়। সাবেক ১ নম্বর ঘাট এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঘাটটি সচল না থাকায় তেমন সমস্যা হচ্ছেনা। সচল ৩ ও ৪ নম্বর ঘাটের মাঝামাঝি এলাকায় অল্প করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে আমরা মেরিন বিভাগের মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, নতুন করে ভাঙনে ফেরি ঘাট সহ স্থানীয় পরিবারগুলো ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসক ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে উর্দ্বোতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছেন। আমরা দ্রæত ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবগত করেছি। আশা করছি দ্রুত সময়ে কাজ শুরু হবে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রাজবাড়ী সদরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সুব্রত কুমার রাজবাড়ীমেইলকে বলেন, দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরি ঘাট এলাকার প্রায় ৪০০ মিটার অংশ নতুন করে ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কিছু প্রস্তাবনা উর্দ্বোতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন মিললে দ্রæত কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। 


রাজবাড়ী মেইল

সম্পাদক: রাশেদ ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৫ । সর্বস্ব সংরক্ষিত রাজবাড়ী মেইল