রাজবাড়ী মেইল
প্রকাশ : বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নৌযান শুমারি উপলক্ষে নৌ মহড়া

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নৌযান শুমারি উপলক্ষে নৌ মহড়া

গোয়ালন্দের দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র একজন করে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেছে

গোয়ালন্দের দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র একজন করে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেছে

১৭ দিন নিখোঁজের পর রাজবাড়ী সদর থানা ওসির সহযোগিতায় মাকে ফিরে পেলো পরিবার

১৭ দিন নিখোঁজের পর রাজবাড়ী সদর থানা ওসির সহযোগিতায় মাকে ফিরে পেলো পরিবার

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের উজানচর ভূমি অফিসে চার মাসের ব্যবধানে দুইবার চুরি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের উজানচর ভূমি অফিসে চার মাসের ব্যবধানে দুইবার চুরি

রাজবাড়ীঃ মাদকের পাওনা টাকার জেরে যুবককে হত্যা; অসহায় পরিবার

রাজবাড়ীঃ মাদকের পাওনা টাকার জেরে যুবককে হত্যা; অসহায় পরিবার

উত্তরাধিকার সূত্রে দেশের চল্লিশ শতাংশ যুব সমাজ কোন শিক্ষায় নেই - প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা তিুতমীর

উত্তরাধিকার সূত্রে দেশের চল্লিশ শতাংশ যুব সমাজ কোন শিক্ষায় নেই - প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা তিুতমীর

পতিত সরকার শিক্ষা, সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে - রাজবাড়ীতে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা তিতুমীর

পতিত সরকার শিক্ষা, সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে - রাজবাড়ীতে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা তিতুমীর

রাজবাড়ীতে র‌্যাবের হাতে সাব-মেশিনগান ও বিদেশী পিস্তল, গুলি সহ গ্রেপ্তার ২

রাজবাড়ীতে র‌্যাবের হাতে সাব-মেশিনগান ও বিদেশী পিস্তল, গুলি সহ গ্রেপ্তার ২

পড়া না পারায় শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত করে জখমের অভিযোগ, শিক্ষককে অব্যহতির দাবি

পড়া না পারায় শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত করে জখমের অভিযোগ, শিক্ষককে অব্যহতির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর পাংশায় শ্রেণিকক্ষে পড়া না পারায় তাছিন মুন্সী (১৩) নামের ৮ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত করে জখমের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। 

বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রায় দুই ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। ভুক্তভোগীর পরিবারসহ এলাকাবাসী শিক্ষকের অব্যহতি দাবি করেছেন। ঘটনাটি মঙ্গলবার উপজেলার মৌরাট ইউনিয়নের বাগদুলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালিন।

অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল আহাদ খান বিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ক শিক্ষক ও মৃগী ইউনিয়নের খরখরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। এনটিআরসির মাধ্যমে ২০১৯ সালে বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। আহত শিক্ষার্থী স্থানীয় মালঞ্চি গ্রামের মুন্সী জাহিদুল ইসলামের ছেলে। তাঁকে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর পাঠানো হয়েছে।

জানা যায়, মঙ্গলবার শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক আব্দুল আহাদ খান শিক্ষার্থীদের পড়া ধরেন। পড়া না পাড়ায় অনেক শিক্ষার্থীর সাথে তাছিনকে বেত্রাঘাত করে। এ সময় শিক্ষকের সঙ্গে অসাদচারণ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাছিনকে ক্লাসের মেঝেতে ফেলেও লাথি মারেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় ও পরিবারের লোকজন বিদ্যালয়ে জড়ো হন। তারা শিক্ষকের শাস্তির দাবি জানালে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রধান শিক্ষক ওই শিক্ষককে লাইব্রেরিতে আটকে রাখেন। তাৎক্ষনিক শিক্ষককে ঘটনার উপযুক্ত কারণ দর্শানোসহ শাস্তির আশ্বাস দিলে প্রায় দুই ঘন্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। 

তাছিনের বাবা মুন্সী জাহিদুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখি আমার ছেলের পিঠে যতগুলো আঘাত করা হয়েছে প্রতিটি আঘাতের স্থান ফেটে রক্ত বের হচ্ছে। কোন অন্যায় করলে আমাকে ডেকে আনতে পারতেন, অভিযোগ দিতে পারতেন। প্রয়োজনে বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র দিয়ে বের করে দিতেন। ছেলেকে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা স্কিন বিশেষজ্ঞ দেখাতে পরামর্শ দিলে সন্ধ্যায় ফরিদপুর পাঠানো হয়েছে। 

তিনি বলেন, সাবেক অভিভাবক কমিটির সদস্য হওয়ায় তাঁদের সাথে সম্পর্ক ভালো। পড়া না পারার অযুহাতে আমার ছেলের ওপর এভাবে নির্যাতন করা হবে মেনে নিতে পারছিনা। এটাকে কি শাসন বলে নাকি শিক্ষকের নৈতিক অবক্ষয়। যেখানে অন্যান্য শিক্ষার্থীকে দুইটা করে বেতের বাড়ি দেন। তাছিনকে বেত্রাঘাত করে ফ্লোরে ফেলে উপর্যপুরি লাথি মারতে থাকেন। তিনি শিক্ষকতা করার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন। তাঁর অব্যহতি দাবি করছি। 

অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল আহাদ খানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে তিনি বলেন, তাছিনকে পড়া ধরলে না পারার অপরাধে শাসন করেছি। এ সময় আমার সঙ্গে বেয়াদবি করে মা-বাপ তুলে গালি দিলে মেজাজ হারিয়ে আবার মেরেছি। তবে আমি অনুতপ্ত। আমার এমন কাজ ঠিক হয়নি।  

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক বলেন, শুনেছি পড়া না পারায় কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে তাছিনকে আঘাতের সময় শিক্ষকের হাত থেকে বেত ধরে মা-বাপ তুলে গালমন্দ করে। এতে উত্তেজিত হয়ে শিক্ষক আরও বেশি আঘাত করেন। তবে এভাবে আঘাত করা ঠিক হয়নি। ওই শিক্ষককে উপযুক্ত কারণ দর্শাতে সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও ইউএনওকে অবগত করা হয়েছে।

পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে জেনেছি ক্লাসে পড়াশোনা না পাড়ায় শিক্ষার্থীদের বকাঝকা করছিলেন ওই শিক্ষক। এ সময় তাছিন নামের শিক্ষার্থী শিক্ষকের মা-বাপ তুলে গালি দেওয়ায় মাথা ঠিক রাখতে না পেরে শিক্ষার্থীকে বেদম প্রহার করেন। বুধবার বিকেলে অভিভাবকসহ শিক্ষার্থী, অভিযুক্ত শিক্ষক, প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীকে ডেকেছি। এ বিষয়ে শুনানি শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
রাজবাড়ী মেইল

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬


পড়া না পারায় শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত করে জখমের অভিযোগ, শিক্ষককে অব্যহতির দাবি

প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬

featured Image

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর পাংশায় শ্রেণিকক্ষে পড়া না পারায় তাছিন মুন্সী (১৩) নামের ৮ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত করে জখমের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। 

বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রায় দুই ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। ভুক্তভোগীর পরিবারসহ এলাকাবাসী শিক্ষকের অব্যহতি দাবি করেছেন। ঘটনাটি মঙ্গলবার উপজেলার মৌরাট ইউনিয়নের বাগদুলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালিন।

অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল আহাদ খান বিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ক শিক্ষক ও মৃগী ইউনিয়নের খরখরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। এনটিআরসির মাধ্যমে ২০১৯ সালে বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। আহত শিক্ষার্থী স্থানীয় মালঞ্চি গ্রামের মুন্সী জাহিদুল ইসলামের ছেলে। তাঁকে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর পাঠানো হয়েছে।

জানা যায়, মঙ্গলবার শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক আব্দুল আহাদ খান শিক্ষার্থীদের পড়া ধরেন। পড়া না পাড়ায় অনেক শিক্ষার্থীর সাথে তাছিনকে বেত্রাঘাত করে। এ সময় শিক্ষকের সঙ্গে অসাদচারণ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাছিনকে ক্লাসের মেঝেতে ফেলেও লাথি মারেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় ও পরিবারের লোকজন বিদ্যালয়ে জড়ো হন। তারা শিক্ষকের শাস্তির দাবি জানালে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রধান শিক্ষক ওই শিক্ষককে লাইব্রেরিতে আটকে রাখেন। তাৎক্ষনিক শিক্ষককে ঘটনার উপযুক্ত কারণ দর্শানোসহ শাস্তির আশ্বাস দিলে প্রায় দুই ঘন্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। 

তাছিনের বাবা মুন্সী জাহিদুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখি আমার ছেলের পিঠে যতগুলো আঘাত করা হয়েছে প্রতিটি আঘাতের স্থান ফেটে রক্ত বের হচ্ছে। কোন অন্যায় করলে আমাকে ডেকে আনতে পারতেন, অভিযোগ দিতে পারতেন। প্রয়োজনে বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র দিয়ে বের করে দিতেন। ছেলেকে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা স্কিন বিশেষজ্ঞ দেখাতে পরামর্শ দিলে সন্ধ্যায় ফরিদপুর পাঠানো হয়েছে। 

তিনি বলেন, সাবেক অভিভাবক কমিটির সদস্য হওয়ায় তাঁদের সাথে সম্পর্ক ভালো। পড়া না পারার অযুহাতে আমার ছেলের ওপর এভাবে নির্যাতন করা হবে মেনে নিতে পারছিনা। এটাকে কি শাসন বলে নাকি শিক্ষকের নৈতিক অবক্ষয়। যেখানে অন্যান্য শিক্ষার্থীকে দুইটা করে বেতের বাড়ি দেন। তাছিনকে বেত্রাঘাত করে ফ্লোরে ফেলে উপর্যপুরি লাথি মারতে থাকেন। তিনি শিক্ষকতা করার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন। তাঁর অব্যহতি দাবি করছি। 

অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল আহাদ খানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে তিনি বলেন, তাছিনকে পড়া ধরলে না পারার অপরাধে শাসন করেছি। এ সময় আমার সঙ্গে বেয়াদবি করে মা-বাপ তুলে গালি দিলে মেজাজ হারিয়ে আবার মেরেছি। তবে আমি অনুতপ্ত। আমার এমন কাজ ঠিক হয়নি।  

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক বলেন, শুনেছি পড়া না পারায় কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে তাছিনকে আঘাতের সময় শিক্ষকের হাত থেকে বেত ধরে মা-বাপ তুলে গালমন্দ করে। এতে উত্তেজিত হয়ে শিক্ষক আরও বেশি আঘাত করেন। তবে এভাবে আঘাত করা ঠিক হয়নি। ওই শিক্ষককে উপযুক্ত কারণ দর্শাতে সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও ইউএনওকে অবগত করা হয়েছে।

পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে জেনেছি ক্লাসে পড়াশোনা না পাড়ায় শিক্ষার্থীদের বকাঝকা করছিলেন ওই শিক্ষক। এ সময় তাছিন নামের শিক্ষার্থী শিক্ষকের মা-বাপ তুলে গালি দেওয়ায় মাথা ঠিক রাখতে না পেরে শিক্ষার্থীকে বেদম প্রহার করেন। বুধবার বিকেলে অভিভাবকসহ শিক্ষার্থী, অভিযুক্ত শিক্ষক, প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীকে ডেকেছি। এ বিষয়ে শুনানি শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


রাজবাড়ী মেইল

সম্পাদক: রাশেদ ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৫ । সর্বস্ব সংরক্ষিত রাজবাড়ী মেইল