রাজবাড়ী মেইল
আপডেট : রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

রাজবাড়ীতে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে রাজবাড়ীতে র্যালি ও আলোচনা সভা

রাজবাড়ীতে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে রাজবাড়ীতে র্যালি ও আলোচনা সভা

 কৃষিপণ্যে ধলতা বাতিল, সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার বিতরণসহ ১০ দফা দাবীতে বিক্ষোভ

কৃষিপণ্যে ধলতা বাতিল, সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার বিতরণসহ ১০ দফা দাবীতে বিক্ষোভ

তীব্র স্রোতে চারদিন ধরে বন্ধ ফেরি, ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ নৌরুটে ভোগান্তি

তীব্র স্রোতে চারদিন ধরে বন্ধ ফেরি, ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ নৌরুটে ভোগান্তি

রাজবাড়ীতে নারী উদ্যোক্তাকে মারধরে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি

রাজবাড়ীতে নারী উদ্যোক্তাকে মারধরে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলার ৯দিন পর হাসপাতালে যৌনকর্মীর মৃত্যু

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলার ৯দিন পর হাসপাতালে যৌনকর্মীর মৃত্যু

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ

যান্ত্রিক ত্রুটিতে প্রবল স্রোতে ভেসে গেল ১৮টি যানবাহন বোঝাই ফেরি, সাড়ে চার ঘন্টা পর উদ্ধার

যান্ত্রিক ত্রুটিতে প্রবল স্রোতে ভেসে গেল ১৮টি যানবাহন বোঝাই ফেরি, সাড়ে চার ঘন্টা পর উদ্ধার

রাজবাড়ীতে দিনব্যাপী আবৃত্তি ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

রাজবাড়ীতে দিনব্যাপী আবৃত্তি ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

তেল না পেয়ে ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবী, কৃষকদের লাইনে দীর্ঘ অপেক্ষা

তেল না পেয়ে ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবী, কৃষকদের লাইনে দীর্ঘ অপেক্ষা

মইনুল হক, রাজবাড়ী: রাজবাড়ী সদর উপজেলার নিমতলা এলাকার কৃষক সফি বিশ্বাস। শনিবার ভোর থেকে তেলের জন্য লাইনে অপেক্ষা করছেন সদর উপজেলা সপ্তবর্ণা ফিলিং ষ্টেশনে। বৃহস্পতিবার রাতে তেল আসার খবর পেয়ে তিনি ভোরেই আসেন পাম্পে। প্রায় পাঁচ ঘন্টা অপেক্ষার পর মাত্র ৩০০ টাকার ডিজেল নিতে পারেন। সফি বিশ্বাসের মতো তেল নিতে আসা কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবী সকলের একই অবস্থা। 

শনিবার বেলা এগারটার দিকে আলাপকালে সফি বিশ্বাস বলেন, ‘ডিজেলের অভাবে ধান খেত পুড়ে যাচ্ছে। প্রায় পাঁচ ঘন্টা অপেক্ষার পর যে তেল পেয়েছি, তাতে আমাদের কি হয়? এই তেল দিয়ে ফোলা (ধানের শীষ বের হওয়ার উপক্রম) ধান খেতে পানি দিব নাকী জমি চাষবাদ করবো। কোন কিছু বুনতেও পারছি না।”

সদর উপজেলার খানখানাপুর থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে আসা ব্যবসায়ী আমির আলী মোল্লা বলেন, আজ সকালে পাম্প থেকে তেল দেওয়া হবে। সকাল ৭টার দিকে এসেই দেখি বিশাল লম্বা লাইন। তিন ঘন্টার বেশি রৌদ্রের মধ্যে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কখন তেল পাবো বা কতটুকো পাবো তাও বলতে পারছিনা। 

খানখানাপুর কাজীপাড়া থেকে তেল নিতে আসা জাকির খান বলেন, রৌদ্রের মধ্যে কয়েক ঘন্টা ধরে মোটরসাইকেলের লাইনে অপেক্ষা করছি। কখন তেল পাবো বলতে পারছিনা। এমনও হতে পারে ২০০ মোটরসাইকেলের তেল দেয়ার পর বলে দিল তেল নেই। ৫০টি মোটরসাইকেল থাকা অবস্থায় তেল নেই বলে দিয়েছে, তখন কি হবে? ব্যবসা-বাণিজ্য করি বলে মোটরসাইকেল নিয়ে দৌড়ঝাপ করতে হয়। তেলের অভাবে আমাদের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। 

গোয়ালন্দ থেকে তেল নিতে আসা রেন্টএ কার ব্যবসায়ী সোহান মোল্লা বলেন, তেলের অভাবে চারটি গাড়ি বসিয়ে রাখা হয়েছে। কোথাও কোন যাত্রী পরিবহন করতে পারছি না। এমন অবস্থা হয়েছে, তেল নিতে না পারলে গাড়ি চালুর পরিস্থিতি নেই। তাই ঢোপ নিয়ে আইছি তেল নিতে।  তেলের ব্যবস্থা না হলে অনেকের গাড়ি বন্ধ করে ফেলে রাখা ছাড়া কোন উপায় নাই।

প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে থেকে তেল নিতে আসা মইনুল হক নামের একজন বলেন, ঝামেলা ছাড়াই যাতে তেল নিতে পারি এ জন্য সকাল সাড়ে ৬টার দিকেও পাম্পে এসে দেখি লম্বা লাইন। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, ট্যাগ অফিসার আসার পর বেলা ১১টা থেকে তেল দিবে। কি আর করার না খেয়ে লাইনে বসে আছি। পৌনে ১০টার দিকে ট্যাগ অফিসার সদর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুমন মিয়া আসার পর সাড়ে ১০টা থেকে তেলা দেয়া শুরু হয়।

সপ্তবর্ণা ফিলিং ষ্টেশনের ব্যবস্থাপক উজ্জল কুমার চোহান বলেন, ৯ এপ্রিল ২ হাজার লিটার অকটেন ও ৬ হাজার লিটার ডিজেল বরাদ্দ পাই। মাঝে ডিজেল পেলেও এক সপ্তাহ পর শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে মাত্র ২ হাজার লিটার অকটেন পেয়েছি। এতে ২০০ যানবাহনে অকটেন দেওয়া যাবে কিন্তু পাম্পে গাড়ি এসেছে হাজার খানেক। এত গাড়ির তেল আমরা কিভাবে সামাল দিবো। যে কারনে মারামারি হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন নিজের মোটরসাইকেলের জন্য ২ লিটার তেল নেয়ার সাহস পাচ্ছিনা।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
রাজবাড়ী মেইল

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


তেল না পেয়ে ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবী, কৃষকদের লাইনে দীর্ঘ অপেক্ষা

প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মইনুল হক, রাজবাড়ী: রাজবাড়ী সদর উপজেলার নিমতলা এলাকার কৃষক সফি বিশ্বাস। শনিবার ভোর থেকে তেলের জন্য লাইনে অপেক্ষা করছেন সদর উপজেলা সপ্তবর্ণা ফিলিং ষ্টেশনে। বৃহস্পতিবার রাতে তেল আসার খবর পেয়ে তিনি ভোরেই আসেন পাম্পে। প্রায় পাঁচ ঘন্টা অপেক্ষার পর মাত্র ৩০০ টাকার ডিজেল নিতে পারেন। সফি বিশ্বাসের মতো তেল নিতে আসা কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবী সকলের একই অবস্থা। 

শনিবার বেলা এগারটার দিকে আলাপকালে সফি বিশ্বাস বলেন, ‘ডিজেলের অভাবে ধান খেত পুড়ে যাচ্ছে। প্রায় পাঁচ ঘন্টা অপেক্ষার পর যে তেল পেয়েছি, তাতে আমাদের কি হয়? এই তেল দিয়ে ফোলা (ধানের শীষ বের হওয়ার উপক্রম) ধান খেতে পানি দিব নাকী জমি চাষবাদ করবো। কোন কিছু বুনতেও পারছি না।”

সদর উপজেলার খানখানাপুর থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে আসা ব্যবসায়ী আমির আলী মোল্লা বলেন, আজ সকালে পাম্প থেকে তেল দেওয়া হবে। সকাল ৭টার দিকে এসেই দেখি বিশাল লম্বা লাইন। তিন ঘন্টার বেশি রৌদ্রের মধ্যে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কখন তেল পাবো বা কতটুকো পাবো তাও বলতে পারছিনা। 

খানখানাপুর কাজীপাড়া থেকে তেল নিতে আসা জাকির খান বলেন, রৌদ্রের মধ্যে কয়েক ঘন্টা ধরে মোটরসাইকেলের লাইনে অপেক্ষা করছি। কখন তেল পাবো বলতে পারছিনা। এমনও হতে পারে ২০০ মোটরসাইকেলের তেল দেয়ার পর বলে দিল তেল নেই। ৫০টি মোটরসাইকেল থাকা অবস্থায় তেল নেই বলে দিয়েছে, তখন কি হবে? ব্যবসা-বাণিজ্য করি বলে মোটরসাইকেল নিয়ে দৌড়ঝাপ করতে হয়। তেলের অভাবে আমাদের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। 

গোয়ালন্দ থেকে তেল নিতে আসা রেন্টএ কার ব্যবসায়ী সোহান মোল্লা বলেন, তেলের অভাবে চারটি গাড়ি বসিয়ে রাখা হয়েছে। কোথাও কোন যাত্রী পরিবহন করতে পারছি না। এমন অবস্থা হয়েছে, তেল নিতে না পারলে গাড়ি চালুর পরিস্থিতি নেই। তাই ঢোপ নিয়ে আইছি তেল নিতে।  তেলের ব্যবস্থা না হলে অনেকের গাড়ি বন্ধ করে ফেলে রাখা ছাড়া কোন উপায় নাই।

প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে থেকে তেল নিতে আসা মইনুল হক নামের একজন বলেন, ঝামেলা ছাড়াই যাতে তেল নিতে পারি এ জন্য সকাল সাড়ে ৬টার দিকেও পাম্পে এসে দেখি লম্বা লাইন। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, ট্যাগ অফিসার আসার পর বেলা ১১টা থেকে তেল দিবে। কি আর করার না খেয়ে লাইনে বসে আছি। পৌনে ১০টার দিকে ট্যাগ অফিসার সদর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুমন মিয়া আসার পর সাড়ে ১০টা থেকে তেলা দেয়া শুরু হয়।

সপ্তবর্ণা ফিলিং ষ্টেশনের ব্যবস্থাপক উজ্জল কুমার চোহান বলেন, ৯ এপ্রিল ২ হাজার লিটার অকটেন ও ৬ হাজার লিটার ডিজেল বরাদ্দ পাই। মাঝে ডিজেল পেলেও এক সপ্তাহ পর শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে মাত্র ২ হাজার লিটার অকটেন পেয়েছি। এতে ২০০ যানবাহনে অকটেন দেওয়া যাবে কিন্তু পাম্পে গাড়ি এসেছে হাজার খানেক। এত গাড়ির তেল আমরা কিভাবে সামাল দিবো। যে কারনে মারামারি হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন নিজের মোটরসাইকেলের জন্য ২ লিটার তেল নেয়ার সাহস পাচ্ছিনা।


রাজবাড়ী মেইল

সম্পাদক: রাশেদ ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৫ । সর্বস্ব সংরক্ষিত রাজবাড়ী মেইল