রাজবাড়ী মেইল
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধার প্রতিবাদে রাজবাড়ীতে মানববন্ধন

বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধার প্রতিবাদে রাজবাড়ীতে মানববন্ধন

সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীকে আরও এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীকে আরও এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

রাজবাড়ীতে মাদক নিয়ে মন্তব্য করায় বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ; ছেলেকে থানায় দিলেন বাবা

রাজবাড়ীতে মাদক নিয়ে মন্তব্য করায় বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ; ছেলেকে থানায় দিলেন বাবা

রাজবাড়ীর পাংশায় ছুরিকাঘাতে প্রবাসী হত্যার ঘটনায় একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

রাজবাড়ীর পাংশায় ছুরিকাঘাতে প্রবাসী হত্যার ঘটনায় একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

রাজবাড়ীতে স্বামীর করা অর্থ আত্মসাতের মামলায় নার্স স্ত্রী কারাগারে

রাজবাড়ীতে স্বামীর করা অর্থ আত্মসাতের মামলায় নার্স স্ত্রী কারাগারে

রাজবাড়ীর পদ্মায় জেলের জালে ৭২ কেজির তিন বড় মাছ, বিক্রি হলো ১ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকায়

রাজবাড়ীর পদ্মায় জেলের জালে ৭২ কেজির তিন বড় মাছ, বিক্রি হলো ১ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকায়

শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় রাজবাড়ীর প্রথম নারী আইনজীবী দেবাহুতি চক্রবর্তীকে শেষবিদায়

শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় রাজবাড়ীর প্রথম নারী আইনজীবী দেবাহুতি চক্রবর্তীকে শেষবিদায়

রাজবাড়ীতে খাবার না পেয়ে মারধরের ঘটনায় বাবুর্চির পর এবার নারী সহকারীর মৃত্যু

রাজবাড়ীতে খাবার না পেয়ে মারধরের ঘটনায় বাবুর্চির পর এবার নারী সহকারীর মৃত্যু

ঈদযাত্রায় দৌলতদিয়া ঘাটে ধুলা বালিতে বাড়তি ভোগান্তির আশঙ্কা

ঈদযাত্রায় দৌলতদিয়া ঘাটে ধুলা বালিতে বাড়তি ভোগান্তির আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ এবারের ঈদযাত্রায় রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটের ধুলাবালুর কারনে বাড়তি ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ফেরি ঘাট সড়কের পাশে স্থাপিত বালুর স্তুপ থেকে প্রতি নিয়ত গাড়িতে বালি আনা নেয়ার কাজ চলায় পথচারীসহ যানবাহন চালক ও যাত্রীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। এতে ঈদ যাত্রায় বাড়তি ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া রাজবাড়ী সড়ক ও জনপথ অথিদপ্তরের অধিগ্রহণকৃত জমিতে অবৈধভাবে বালু মহাল স্থাপন করে ব্যবসা করায় সরোয়ার মোল্লা নামক একজনকে চিঠি দিয়ে দ্রæত অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে। বিষয়টি নির্বাহী প্রকৌশলীসহ গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) চিঠি দিয়ে অবগত করা হয়েছে।

রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া ক্যানাল ঘাট এলাকায় মহাসড়ক ঘেঁষে পশ্চিমে তিনটি স্থানে বিশাল জায়গা জুড়ে বালুর স্তুপ রয়েছে। ক্যানাল ঘাট থেকে এক কিলোমিটার দূরে ফেরিঘাট বাইপাস (বিকল্প) সড়ক থেকে ৫ নম্বর ঘাট পর্যন্ত সড়কের পাশে তিনটি বিশাল আকারে বালুর চাতাল রয়েছে। বাইপাস সড়ক থেকে ৭ নম্বর ফেরি ঘাট সড়কের পাশেও আরও দুটি বালুর চাতাল রয়েছে। এস্কেভেটরের সাহায্যে এসব চাতাল থেকে প্রতিনিয়ত ট্রাকে বিভিন্ন স্থানে বহন করা হয়। তখন বাতাসে বালুকণা উড়ে গিয়ে পথচারীসহ যানবাহন চালক ও যাত্রীদের দুর্ভোগে ফেলছে।  

বাইপাস সড়ক ও ৭ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় সড়কের পাশের দোকানীরা নিজে পাইপের সাহায্যে পানি ছিটিয়ে ধুলা বালুকণা নিবারণ করছে। ৭ নম্বর ঘাটের পন্টুনের আগে বিআইডবিøউটিসির কর্মচারীদের বালতিতে করে পানি ছিটাতে দেখা যায়।  

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাইপাস সড়কের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, ৫ আগষ্টের পর এখানে বড় বড় চাতাল গড়ে ওঠে। প্রতিনিয়ত এক্সেভেটরের সাহায্যে বালু ট্রাকে করে আনা নেয়ায় ধুলাবালু উড়তে থাকে। নদীতে বসানো বাল্ডহেড থেকে পাইপের সাহায্যে এসব চাতালে ফেলার সময় বালুর পানিতে স্থানীয় জমিতে জলাবদ্ধতা হয়ে সাধারণ বসতিদের চলাচলে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় অনেকে জড়িত থাকায় কেউ কিছু বলতে সাহস পায়না।     

৭ নম্বর ঘাটের বাতেন নামের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, ধুলাবালির কারনে দোকানে ঠিকমতো বসা যায়না। বাতাস ছুটলে গোটা এলাকা ধুলা বালুতে একাকার হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে নিজেদের নিয়মিত পানি ছিটাতে হয়। মাঝেমধ্যে বিআইডবিøউটিএর লোকজন পানি ছিটায়।

বিআইডবিøউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, ফেরিঘাট সড়কের ধুলা বালির কারনে পথচারীসহ যাত্রীদের বাড়তি ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা ঈদযাত্রায় অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় বিআইডবিøউটিএকে নিয়মিত পানি দিয়ে ধুলা বালি নিবারণের অনুরোধ জানিয়েছি।

রাজবাড়ী সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী তুষার আহমেদ বলেন, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট বাইপাস সড়কের পাশে অধিগ্রহণকৃত জমিতে অবৈধভাবে বালি মহাল স্থাপন করে সরোয়ার মোল্লাসহ কয়েকজন বিক্রি করছেন। এতে যানবাহন চলাচল বিঘœ হচ্ছে বলে যেকোন সময় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিন দিনের মধ্যে বালু মহাল অপসারণের জন্য চূড়ান্তভাবে অনুরোধ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ১০ মার্চ চিঠি দেওয়া হয়েছে। দ্রæত না সরালে তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সরোয়ার মোল্লা বলেন, ক্যানালঘাট এলাকা ও বাইপাস সড়কের পাশে এমন ৮টি চাতাল রয়েছে। ক্যানালঘাট এলাকায় চাতালের কারনে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। আমার বালুর চাতাল বাইপাস সড়কের পাশে। সওজ’র কোন জমিতে বালুর চাতাল করিনি। অন্যদের বাদ রেখে শুধুমাত্র আমাকে দোষারপ করা হলো ক্যান বুঝলাম না। তারপরও ইউএনওর নির্দেশে আমরা সড়ক থেকে বালু সরিয়ে ফেলেছি।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, সওজ’র চিঠি পেয়েছি এছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ রয়েছে। সেই মোতাবেক বালু ব্যবসায়ীদের ডেকে সড়কের পাশ থেকে দ্রæত বালু সরাতে বলেছি। আজকের মধ্যে সরাতে আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে। তারা বালু সরানোর কাজ শুরু করেছে। এরপরও কেউ না সরালে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
রাজবাড়ী মেইল

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬


ঈদযাত্রায় দৌলতদিয়া ঘাটে ধুলা বালিতে বাড়তি ভোগান্তির আশঙ্কা

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মার্চ ২০২৬

featured Image

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ এবারের ঈদযাত্রায় রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটের ধুলাবালুর কারনে বাড়তি ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ফেরি ঘাট সড়কের পাশে স্থাপিত বালুর স্তুপ থেকে প্রতি নিয়ত গাড়িতে বালি আনা নেয়ার কাজ চলায় পথচারীসহ যানবাহন চালক ও যাত্রীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। এতে ঈদ যাত্রায় বাড়তি ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া রাজবাড়ী সড়ক ও জনপথ অথিদপ্তরের অধিগ্রহণকৃত জমিতে অবৈধভাবে বালু মহাল স্থাপন করে ব্যবসা করায় সরোয়ার মোল্লা নামক একজনকে চিঠি দিয়ে দ্রæত অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে। বিষয়টি নির্বাহী প্রকৌশলীসহ গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) চিঠি দিয়ে অবগত করা হয়েছে।

রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া ক্যানাল ঘাট এলাকায় মহাসড়ক ঘেঁষে পশ্চিমে তিনটি স্থানে বিশাল জায়গা জুড়ে বালুর স্তুপ রয়েছে। ক্যানাল ঘাট থেকে এক কিলোমিটার দূরে ফেরিঘাট বাইপাস (বিকল্প) সড়ক থেকে ৫ নম্বর ঘাট পর্যন্ত সড়কের পাশে তিনটি বিশাল আকারে বালুর চাতাল রয়েছে। বাইপাস সড়ক থেকে ৭ নম্বর ফেরি ঘাট সড়কের পাশেও আরও দুটি বালুর চাতাল রয়েছে। এস্কেভেটরের সাহায্যে এসব চাতাল থেকে প্রতিনিয়ত ট্রাকে বিভিন্ন স্থানে বহন করা হয়। তখন বাতাসে বালুকণা উড়ে গিয়ে পথচারীসহ যানবাহন চালক ও যাত্রীদের দুর্ভোগে ফেলছে।  

বাইপাস সড়ক ও ৭ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় সড়কের পাশের দোকানীরা নিজে পাইপের সাহায্যে পানি ছিটিয়ে ধুলা বালুকণা নিবারণ করছে। ৭ নম্বর ঘাটের পন্টুনের আগে বিআইডবিøউটিসির কর্মচারীদের বালতিতে করে পানি ছিটাতে দেখা যায়।  

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাইপাস সড়কের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, ৫ আগষ্টের পর এখানে বড় বড় চাতাল গড়ে ওঠে। প্রতিনিয়ত এক্সেভেটরের সাহায্যে বালু ট্রাকে করে আনা নেয়ায় ধুলাবালু উড়তে থাকে। নদীতে বসানো বাল্ডহেড থেকে পাইপের সাহায্যে এসব চাতালে ফেলার সময় বালুর পানিতে স্থানীয় জমিতে জলাবদ্ধতা হয়ে সাধারণ বসতিদের চলাচলে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় অনেকে জড়িত থাকায় কেউ কিছু বলতে সাহস পায়না।     

৭ নম্বর ঘাটের বাতেন নামের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, ধুলাবালির কারনে দোকানে ঠিকমতো বসা যায়না। বাতাস ছুটলে গোটা এলাকা ধুলা বালুতে একাকার হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে নিজেদের নিয়মিত পানি ছিটাতে হয়। মাঝেমধ্যে বিআইডবিøউটিএর লোকজন পানি ছিটায়।

বিআইডবিøউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, ফেরিঘাট সড়কের ধুলা বালির কারনে পথচারীসহ যাত্রীদের বাড়তি ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা ঈদযাত্রায় অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় বিআইডবিøউটিএকে নিয়মিত পানি দিয়ে ধুলা বালি নিবারণের অনুরোধ জানিয়েছি।

রাজবাড়ী সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী তুষার আহমেদ বলেন, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট বাইপাস সড়কের পাশে অধিগ্রহণকৃত জমিতে অবৈধভাবে বালি মহাল স্থাপন করে সরোয়ার মোল্লাসহ কয়েকজন বিক্রি করছেন। এতে যানবাহন চলাচল বিঘœ হচ্ছে বলে যেকোন সময় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিন দিনের মধ্যে বালু মহাল অপসারণের জন্য চূড়ান্তভাবে অনুরোধ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ১০ মার্চ চিঠি দেওয়া হয়েছে। দ্রæত না সরালে তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সরোয়ার মোল্লা বলেন, ক্যানালঘাট এলাকা ও বাইপাস সড়কের পাশে এমন ৮টি চাতাল রয়েছে। ক্যানালঘাট এলাকায় চাতালের কারনে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। আমার বালুর চাতাল বাইপাস সড়কের পাশে। সওজ’র কোন জমিতে বালুর চাতাল করিনি। অন্যদের বাদ রেখে শুধুমাত্র আমাকে দোষারপ করা হলো ক্যান বুঝলাম না। তারপরও ইউএনওর নির্দেশে আমরা সড়ক থেকে বালু সরিয়ে ফেলেছি।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, সওজ’র চিঠি পেয়েছি এছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ রয়েছে। সেই মোতাবেক বালু ব্যবসায়ীদের ডেকে সড়কের পাশ থেকে দ্রæত বালু সরাতে বলেছি। আজকের মধ্যে সরাতে আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে। তারা বালু সরানোর কাজ শুরু করেছে। এরপরও কেউ না সরালে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


রাজবাড়ী মেইল

সম্পাদক: রাশেদ ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৫ । সর্বস্ব সংরক্ষিত রাজবাড়ী মেইল