রাজবাড়ী মেইল

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি

রাজবাড়ীতে কামড় খেয়ে জ্যান্ত গোখরা সাপ নিয়ে হাসপাতালে কৃষক

শামীম হোসেন, পাংশা, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর পাংশায় বিষধর সাপের কামড় খেয়ে পরে ওই জ্যান্ত সাপ নিয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন মো. শহমান মোল্লা (৪৫) নামের এক কৃষক। সোমবার দুপুরে তাঁকে সাপে কাটার পর তিনি নিজে ছুটে আসেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সন্ধ্যায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। শহমান মোল্লা উপজেলার মাছপাড়া ইউনিয়নের রামকোল গ্রামের মজিবর মোল্লার ছেলে।  জানা যায়, সোমবার (২২ জুন) দুপুরে বাড়ির উঠানে খড়ের পালায় কাজ করছিলেন কৃষক শহমান মোল্লা। এ সময় হঠাৎ করে বড় আকারের একটি বিষধর গোখরা সাপ শহমান মোল্লার ডান হাতে ছোবল দেয়। এ সময় তিনি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এতে তাকে উদ্ধার করে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় শহমান মোল্লা নিজেই অনেক চেষ্টার পর বিষধর সাপটি আটক করে একটি প্লাস্টিকের পাত্রে ভরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে আসেন। এ সময় জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সন্ধ্যায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) কুতুব আহমেদ মঙ্গলবার সকালে বলেন, সোমবার বেলা দুইটার দিকে বিষধর গোখরার কামড় খেয়ে ওই রোগী হাসপাতালে ছুটে আসেন। এ সময় সঙ্গে একটি প্লাস্টিকের বড় জারে (পাত্র) করে প্রায় পাঁচ ফুট লম্বা বিষধর গোখরা সাপটি নিয়ে আসেন। বিষয়টি অনেক ভয়ঙ্কর এবং অবাকের ব্যাপার। অবাক হলেও সাপটি দেখে তাৎক্ষনিকভাবে তাঁকে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম (ভ্যাকসিন) দেওয়ার পর আনুসাঙ্গিক প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।  তিনি বলেন, যেহেতু উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম থাকে না। একজন রোগীকে যদি সকল ভ্যাকসিন দেওয়া হয় তাহলে এমন আরও রোগী আসলে তখন ভ্যাকসিন সঙ্কটে পড়ার শঙ্কা থাকে। এছাড়া এ ধরনের রোগীকে পরবর্তীতে আরও ভালো চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে। তাই আমরা তাকে প্রাথমিক পর্যায়ে যতটুকো ভ্যাকসিন দেয়ার প্রয়োজন তা দিয়ে সন্ধ্যার আগেই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছি। সেখানে তাঁর শরীরে আরও অ্যান্টিভেনম ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা লাগতে পারে। সেই সাথে আনুষাঙ্গিক চিকিৎসারও প্রয়োজন আছে। তাই ফরিদপুর পাঠানো হয়েছে।

রাজবাড়ীতে কামড় খেয়ে জ্যান্ত গোখরা সাপ নিয়ে হাসপাতালে কৃষক