হেলাল মাহমুদ ও মঈনুল হক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর আলোচিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম রিপন হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জামাল পত্তনদারকে নড়াইল থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১০ এর সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি রোববার বিকেলে নড়াইল সদর থানার কালিয়া রোডের ভবানীপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। জামাল পত্তনদার জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার উত্তর দৌলতদিয়া ফেলু মোল্লার পাড়ার হোসেন পত্তনদারের ছেলে।
সোমবার (৩১ আগষ্ট) দুপুরে র্যাব-১০ এর সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্প কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করে জামাল পত্তনদারের গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন কোম্পানি কমাÐার মেজর এমডি ফারহান মাহমুদ মোক্তাদা।
র্যাব ও পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত জামাল পত্তনদারের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম রিপন হত্যা মামলা ছাড়াও দুটি অস্ত্র, দুটি মাদক, একটি ডাকাতির প্রস্তুতি এবং একটি চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। তাকে সোমবার দুপুরে র্যাব গোয়ালন্দ ঘাট থানায় হস্তান্তর করলে বিকেলেই আদালতের মাধ্যমে রাজবাড়ী জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
র্যাব ও পুলিশ জানায়, ২০১৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া পূর্বপাড়া যৌনপল্লি এলাকায় ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম রিপনকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও তদন্তে জামাল পত্তনদারের সম্পৃক্ততা পায়। দীর্ঘ শুনানিসহ বিচারকার্য সম্পন্ন শেষে ২০২৩ সালের ৬ আগষ্ট রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালত জামাল পত্তনদারকে মৃত্যুদন্ড প্রদান ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এছাড়া আদালত অন্যান্য আসামীদের খালাস প্রদান করেন।
গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ জানায়, সাইফুল ইসলাম রিপন হত্যা মামলার রায়ের পর থেকে গ্রেপ্তার এড়াতে জামাল পত্তনদার দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যায়। ভারতে বসেই তাঁর বাহিনী দিয়ে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে থাকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সক্রিয় ছিল। পরবর্তীতে ভারতের ক্রাইম ব্রাঞ্চের সদস্যরা ২০২৫ সালের ১০ আগষ্ট ভারতের মুম্বাইয়ের কামাঠিপুরা এলাকা থেকে জামাল পত্তনদারকে গ্রেপ্তার করে। কয়েক মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে প্রায় দুই মাস আগে কৌশলে পুশব্যাকের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বাংলাদেশে প্রবেশের পর থেকে তার ওপর বিশেষ নজরদারি চালিয়ে আসছিল র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগ।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে, জামাল পত্তনদার ফের কন্ট্রাক্ট কিলিং মিশনের মাধ্যমে জড়িত হয়ে হত্যাকাণ্ড শেষে পুনরায় ভারতে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরই প্রেক্ষিতে র্যাব তথ্যপ্রযুক্তিগত সহায়তায় তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর গত রোববার (৩০ আগষ্ট) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে নড়াইল সদর উপজেলার কালিয়া রোড ভবানীপুর এলাকায় র্যাব-৬ এর সহযোগিতা নিয়ে বিশেষ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও একটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম জানান, সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে জামাল পত্তনদারকে র্যাব সদস্যরা থানায় হস্তান্তর করলে তার পরই তাঁকে রাজবাড়ীর আদালতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আদালত থেকে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। জামাল পত্তনদারের বিরুদ্ধে অন্যান্য মামলাও বিচারাধীন রয়েছে।

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হেলাল মাহমুদ ও মঈনুল হক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর আলোচিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম রিপন হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জামাল পত্তনদারকে নড়াইল থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১০ এর সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি রোববার বিকেলে নড়াইল সদর থানার কালিয়া রোডের ভবানীপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। জামাল পত্তনদার জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার উত্তর দৌলতদিয়া ফেলু মোল্লার পাড়ার হোসেন পত্তনদারের ছেলে।
সোমবার (৩১ আগষ্ট) দুপুরে র্যাব-১০ এর সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্প কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করে জামাল পত্তনদারের গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন কোম্পানি কমাÐার মেজর এমডি ফারহান মাহমুদ মোক্তাদা।
র্যাব ও পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত জামাল পত্তনদারের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম রিপন হত্যা মামলা ছাড়াও দুটি অস্ত্র, দুটি মাদক, একটি ডাকাতির প্রস্তুতি এবং একটি চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। তাকে সোমবার দুপুরে র্যাব গোয়ালন্দ ঘাট থানায় হস্তান্তর করলে বিকেলেই আদালতের মাধ্যমে রাজবাড়ী জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
র্যাব ও পুলিশ জানায়, ২০১৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া পূর্বপাড়া যৌনপল্লি এলাকায় ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম রিপনকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও তদন্তে জামাল পত্তনদারের সম্পৃক্ততা পায়। দীর্ঘ শুনানিসহ বিচারকার্য সম্পন্ন শেষে ২০২৩ সালের ৬ আগষ্ট রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালত জামাল পত্তনদারকে মৃত্যুদন্ড প্রদান ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এছাড়া আদালত অন্যান্য আসামীদের খালাস প্রদান করেন।
গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ জানায়, সাইফুল ইসলাম রিপন হত্যা মামলার রায়ের পর থেকে গ্রেপ্তার এড়াতে জামাল পত্তনদার দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যায়। ভারতে বসেই তাঁর বাহিনী দিয়ে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে থাকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সক্রিয় ছিল। পরবর্তীতে ভারতের ক্রাইম ব্রাঞ্চের সদস্যরা ২০২৫ সালের ১০ আগষ্ট ভারতের মুম্বাইয়ের কামাঠিপুরা এলাকা থেকে জামাল পত্তনদারকে গ্রেপ্তার করে। কয়েক মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে প্রায় দুই মাস আগে কৌশলে পুশব্যাকের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বাংলাদেশে প্রবেশের পর থেকে তার ওপর বিশেষ নজরদারি চালিয়ে আসছিল র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগ।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে, জামাল পত্তনদার ফের কন্ট্রাক্ট কিলিং মিশনের মাধ্যমে জড়িত হয়ে হত্যাকাণ্ড শেষে পুনরায় ভারতে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরই প্রেক্ষিতে র্যাব তথ্যপ্রযুক্তিগত সহায়তায় তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর গত রোববার (৩০ আগষ্ট) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে নড়াইল সদর উপজেলার কালিয়া রোড ভবানীপুর এলাকায় র্যাব-৬ এর সহযোগিতা নিয়ে বিশেষ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও একটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম জানান, সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে জামাল পত্তনদারকে র্যাব সদস্যরা থানায় হস্তান্তর করলে তার পরই তাঁকে রাজবাড়ীর আদালতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আদালত থেকে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। জামাল পত্তনদারের বিরুদ্ধে অন্যান্য মামলাও বিচারাধীন রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন