সুমন বিশ্বাস, রাজবাড়ীঃ ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে রাজবাড়ীতে এক নারী উদ্যোক্তাকে লাঞ্ছিতের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুরে শহরের প্রধান কাপড় বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ওই নারীকে কাপড় বাজার থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় পুলিশের উপস্থিতিতে নারীকে লাঞ্ছিত করা হয়। এমন একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
নির্যাতনের শিকার ওই নারী উদ্যোক্তার নাম জাকিয়া সুলতানা। তিনি রাজবাড়ীর প্রধান কাপড় বাজার কাদেরিয়া মার্কেটের তৃতীয় তলায় ‘আস্থা পোশাক শিল্প’ নামক প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী এবং শহরের বড়পুল এলাকার বাসিন্দা। শনিবার (২৯ আগষ্ট) রাত থেকে এমন ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া তাঁর প্রতিষ্ঠানের নামে জেলায় আরও একাধিক সাব সেন্টার রয়েছে।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একজন নারী পুলিশ সদস্যের সঙ্গে হেঁটে যাচ্ছেন জাকিয়া সুলতানা। তাঁর সাথে আরও পুলিশ সদস্য রয়েছে। তাঁদের পিছনে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি বিক্ষোভ করছেন। এ সময় পাশ থেকে প্রথমে এক যুবক লাথি মারার চেষ্টা করেন। আরেক পাশ থেকে আরেক যুবক লাথি মারেন। একই সময় পিছন থেকে আরেক ব্যক্তি তাকে একটি থাপ্পর মারেন।
জাকিয়া সুলতানা বলেন, তিনি ২০১২ সাল থেকে শহরের কাদেরিয়া সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় ‘আস্থা পোশাক শিল্প’ নামক প্রতিষ্ঠান দিয়ে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেন। তিনি হাতে তৈরী নারীদের যাবতীয় পোষাক বিক্রি শুরু করেন। এছাড়া জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে তাঁর প্রতিষ্ঠানের নামে আরও কয়েকটি শাখা রয়েছে।
জাকিয়া সুলতানার অভিযোগ, তাঁর প্রতিষ্ঠানে দুইজন নারী কর্মচারী কাজ করতেন। এরমধ্যে শাহনাজ পারভীন বৃষ্টি নামের একজন কয়েক মাস আগে যোগ দেন। সম্প্রতি শাহনাজ পারভীন বৃষ্টি তাঁর প্রতিষ্ঠানে কাজ করবেন না বলে জানিয়ে দেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলে তিনি চলতি মাসের ৩০আগষ্ট পর্যন্ত কাজ শেষ করে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর বেতন নিতে বলেন। ২২ আগষ্ট ফের বেতন নিয়ে তাঁদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। পরদিন ২৩ আগষ্ট রাত ৮টার দিকে শাহনাজ পারভীন বহিরাগত লোক নিয়ে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তাঁর ওপর চড়াও হয়ে একদিনের মধ্যে বেতন পরিশোধের দাবি জানান। উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে তাঁর প্রতিষ্ঠানে হামলা করে। পরদিন ২৪ আগষ্ট বিচার দাবি করে তিনি মার্কেটের নেতৃবৃন্দের কাছে অভিযোগ করেন। নেতৃবৃন্দ আইনগতভাবে মোকাবেলা করার পরামর্শ দেন।
জাকিয়া সুলতানা বলেন, শনিবার (২৯ আগষ্ট) দুপুর বারোটার দিকে তাঁর প্রতিষ্ঠানে হামলার প্রতিবাদে তিনি মানববন্ধন ও মিছিল করেন। এ সময় ব্যবসায়ীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁকে উদ্ধার করে আনার সময় স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ীসহ বহিরাগত তাঁকে লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ না দিলেও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অভিযোগের বিষয়ে রাজবাড়ী বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক বেনজির আহমেদ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি কাপড় বাজারে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে উভয় পক্ষ বসে সমাধান হয়েছে। এছাড়া ওই নারীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ শুনে আসছি। শাহনাজ পারভীন বৃষ্টি নামের তাঁর দোকানের এক কর্মচারী পৃথক ব্যবসা করার উদ্যোগ নেওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বিরোধ তৈরী হয়।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, রাজবাড়ী কাপড় বাজারে ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিরোধ দেখা দেওয়ায় উত্তেজনা তৈরী হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে ওই নারীকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে আসেন। পরে উভয় পক্ষ বসে সমাধান করেছে বলে জানতে পেরেছি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোন পক্ষ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬
সুমন বিশ্বাস, রাজবাড়ীঃ ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে রাজবাড়ীতে এক নারী উদ্যোক্তাকে লাঞ্ছিতের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুরে শহরের প্রধান কাপড় বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ওই নারীকে কাপড় বাজার থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় পুলিশের উপস্থিতিতে নারীকে লাঞ্ছিত করা হয়। এমন একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
নির্যাতনের শিকার ওই নারী উদ্যোক্তার নাম জাকিয়া সুলতানা। তিনি রাজবাড়ীর প্রধান কাপড় বাজার কাদেরিয়া মার্কেটের তৃতীয় তলায় ‘আস্থা পোশাক শিল্প’ নামক প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী এবং শহরের বড়পুল এলাকার বাসিন্দা। শনিবার (২৯ আগষ্ট) রাত থেকে এমন ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া তাঁর প্রতিষ্ঠানের নামে জেলায় আরও একাধিক সাব সেন্টার রয়েছে।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একজন নারী পুলিশ সদস্যের সঙ্গে হেঁটে যাচ্ছেন জাকিয়া সুলতানা। তাঁর সাথে আরও পুলিশ সদস্য রয়েছে। তাঁদের পিছনে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি বিক্ষোভ করছেন। এ সময় পাশ থেকে প্রথমে এক যুবক লাথি মারার চেষ্টা করেন। আরেক পাশ থেকে আরেক যুবক লাথি মারেন। একই সময় পিছন থেকে আরেক ব্যক্তি তাকে একটি থাপ্পর মারেন।
জাকিয়া সুলতানা বলেন, তিনি ২০১২ সাল থেকে শহরের কাদেরিয়া সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় ‘আস্থা পোশাক শিল্প’ নামক প্রতিষ্ঠান দিয়ে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেন। তিনি হাতে তৈরী নারীদের যাবতীয় পোষাক বিক্রি শুরু করেন। এছাড়া জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে তাঁর প্রতিষ্ঠানের নামে আরও কয়েকটি শাখা রয়েছে।
জাকিয়া সুলতানার অভিযোগ, তাঁর প্রতিষ্ঠানে দুইজন নারী কর্মচারী কাজ করতেন। এরমধ্যে শাহনাজ পারভীন বৃষ্টি নামের একজন কয়েক মাস আগে যোগ দেন। সম্প্রতি শাহনাজ পারভীন বৃষ্টি তাঁর প্রতিষ্ঠানে কাজ করবেন না বলে জানিয়ে দেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলে তিনি চলতি মাসের ৩০আগষ্ট পর্যন্ত কাজ শেষ করে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর বেতন নিতে বলেন। ২২ আগষ্ট ফের বেতন নিয়ে তাঁদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। পরদিন ২৩ আগষ্ট রাত ৮টার দিকে শাহনাজ পারভীন বহিরাগত লোক নিয়ে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তাঁর ওপর চড়াও হয়ে একদিনের মধ্যে বেতন পরিশোধের দাবি জানান। উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে তাঁর প্রতিষ্ঠানে হামলা করে। পরদিন ২৪ আগষ্ট বিচার দাবি করে তিনি মার্কেটের নেতৃবৃন্দের কাছে অভিযোগ করেন। নেতৃবৃন্দ আইনগতভাবে মোকাবেলা করার পরামর্শ দেন।
জাকিয়া সুলতানা বলেন, শনিবার (২৯ আগষ্ট) দুপুর বারোটার দিকে তাঁর প্রতিষ্ঠানে হামলার প্রতিবাদে তিনি মানববন্ধন ও মিছিল করেন। এ সময় ব্যবসায়ীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁকে উদ্ধার করে আনার সময় স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ীসহ বহিরাগত তাঁকে লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ না দিলেও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অভিযোগের বিষয়ে রাজবাড়ী বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক বেনজির আহমেদ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি কাপড় বাজারে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে উভয় পক্ষ বসে সমাধান হয়েছে। এছাড়া ওই নারীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ শুনে আসছি। শাহনাজ পারভীন বৃষ্টি নামের তাঁর দোকানের এক কর্মচারী পৃথক ব্যবসা করার উদ্যোগ নেওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বিরোধ তৈরী হয়।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, রাজবাড়ী কাপড় বাজারে ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিরোধ দেখা দেওয়ায় উত্তেজনা তৈরী হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে ওই নারীকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে আসেন। পরে উভয় পক্ষ বসে সমাধান করেছে বলে জানতে পেরেছি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোন পক্ষ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন