রাজবাড়ী মেইল
প্রকাশ : সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬

রাজবাড়ীতে ঋনের দায়ে জর্জরীত কৃষকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

রাজবাড়ীতে ঋনের দায়ে জর্জরীত কৃষকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

ইমরান হোসেন মনিম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের খলিশা সোনাপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল শেখ (৫৮) এর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সকালে স্থানীয়দের সহায়তায় বাড়ির পিছনের বাঁশ বাগানের একটি সজনে গাছের ডালে গলায় গামছ দিয়ে ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। সে ওই গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুস শেখ এর ছেলে। 

নিহতের পরিবার ও গ্রামের লোকজন ধারণা করছেন, দেনার দায়ে জর্জরিত হয়ে মানসিক কষ্ট থেকে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য আজ রোববার দুপুরের দিকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। 

নিহতের পরিবারের লোকজন জানায়, জলিল শেখ শনিবার (২৯ আগষ্ট) দিবাগত রাতে নিজের বসত ঘরে স্ত্রীর সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত শেষে আজ রোববার ভোরের দিকে ঘরে থাকা স্ত্রীর ঘুম ভেঙে গেলে দেখেন বিছানায় তিনি নেই। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন হয়তো কোন কাজে বাড়ির বাইরে আছেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কৃষকরা মাঠে যাওয়ার সময় বাড়ির অদূরে একটি সজনে গাছের ডালের সঙ্গে জলিল শেখকে ঝুলতে দেখে দ্রুত বাড়িতে খবর দেন। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় গলায় পেঁচানো গামছা কেটে লাশ মাটিতে নামায়। খবর পেয়ে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ এসে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী করে। 

স্থানীয় কয়েকজন জানান, জলিল শেখ সংসার চালাতে গিয়ে নানা সময় বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋন নিয়ে পরিশোধ করতে পারছিলেন না। দেনার দায়ে তিনি জর্জরিত হয়ে পড়েন। ঋনের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় তিনি বেশিরভাগ সময় বিমর্ষ থাকতেন। এ কারণে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে সকলে ধারণা করছেন। জলিল শেখের একটি মাত্র কন্যা সন্তান থাকলেও কয়েক বছর আগে আত্মহত্যা করায় পরিবারে স্ত্রী ছাড়া আর কেউ ছিলেন না।  

রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ জানান, খবর পেয়ে বেলা সাড়ে এগারটার দিকে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী শেষে দুুপুরে ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, নিহত জলিল শেখ অনেক টাকা ঋনগ্রস্থ হয়ে পড়েন। দেনার দায়ে জর্জরিত হয়ে পড়ায় ঋন পরিশোধ করতে পারছিলেন না। যে কারনে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারপরও আমরা ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছি। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন হাতে আসার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
রাজবাড়ী মেইল

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬


রাজবাড়ীতে ঋনের দায়ে জর্জরীত কৃষকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ইমরান হোসেন মনিম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের খলিশা সোনাপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল শেখ (৫৮) এর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সকালে স্থানীয়দের সহায়তায় বাড়ির পিছনের বাঁশ বাগানের একটি সজনে গাছের ডালে গলায় গামছ দিয়ে ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। সে ওই গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুস শেখ এর ছেলে। 

নিহতের পরিবার ও গ্রামের লোকজন ধারণা করছেন, দেনার দায়ে জর্জরিত হয়ে মানসিক কষ্ট থেকে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য আজ রোববার দুপুরের দিকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। 

নিহতের পরিবারের লোকজন জানায়, জলিল শেখ শনিবার (২৯ আগষ্ট) দিবাগত রাতে নিজের বসত ঘরে স্ত্রীর সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত শেষে আজ রোববার ভোরের দিকে ঘরে থাকা স্ত্রীর ঘুম ভেঙে গেলে দেখেন বিছানায় তিনি নেই। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন হয়তো কোন কাজে বাড়ির বাইরে আছেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কৃষকরা মাঠে যাওয়ার সময় বাড়ির অদূরে একটি সজনে গাছের ডালের সঙ্গে জলিল শেখকে ঝুলতে দেখে দ্রুত বাড়িতে খবর দেন। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় গলায় পেঁচানো গামছা কেটে লাশ মাটিতে নামায়। খবর পেয়ে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ এসে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী করে। 

স্থানীয় কয়েকজন জানান, জলিল শেখ সংসার চালাতে গিয়ে নানা সময় বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋন নিয়ে পরিশোধ করতে পারছিলেন না। দেনার দায়ে তিনি জর্জরিত হয়ে পড়েন। ঋনের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় তিনি বেশিরভাগ সময় বিমর্ষ থাকতেন। এ কারণে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে সকলে ধারণা করছেন। জলিল শেখের একটি মাত্র কন্যা সন্তান থাকলেও কয়েক বছর আগে আত্মহত্যা করায় পরিবারে স্ত্রী ছাড়া আর কেউ ছিলেন না।  

রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ জানান, খবর পেয়ে বেলা সাড়ে এগারটার দিকে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী শেষে দুুপুরে ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, নিহত জলিল শেখ অনেক টাকা ঋনগ্রস্থ হয়ে পড়েন। দেনার দায়ে জর্জরিত হয়ে পড়ায় ঋন পরিশোধ করতে পারছিলেন না। যে কারনে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারপরও আমরা ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছি। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন হাতে আসার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।


রাজবাড়ী মেইল

সম্পাদক: রাশেদ ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৫ । সর্বস্ব সংরক্ষিত রাজবাড়ী মেইল