নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকাল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, পতিত সরকার শিক্ষাকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। সংস্কৃতি বলে কিছুই নাই, ক্রীড়ার ক্ষেত্রেও আমরা পিছনে। আমরা অন্য দেশের উত্তেজনায় খুশি হই। কিন্তু আমরাও বিশ্ব দরবারে আমাদের ক্রীড়া, সংস্কৃতি এবং শিক্ষা তথা দক্ষ জনগোষ্ঠির মাধ্যমে নিজের অবস্থানকে নিশ্চিত করতে পারি। আমাদের সরকার সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।
শুক্রবার (৭ আগষ্ট) দুপুরে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের এডিপি (বিশেষ) বরাদ্দের আওতায় গোয়ালন্দ উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে ক্রীড়া সামগ্রী, সাউন্ড সিস্টেম ও হারমোনিয়াম বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা তিতুমীর বলেন, জাতি গঠনের সবচেয়ে বড় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ হচ্ছে শিশু, কিশোর এবং যুবকদের মধ্যে সংস্কৃতি, ক্রীড়া এবং বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা। তারই অংশ হিসেবে অর্থাৎ আমরা সুনাগরিকের অংশ হিসেবে বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী, সংস্কৃতি সামগ্রী বিতরণ করলাম। লক্ষ্য হচ্ছে আগামী জানুয়ারী মাসে যখন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে, তখন অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ এবং মাদরাসাগুলো তিনটা ক্যালেন্ডার দিবেন। একটি হলো বার্ষিক শিক্ষা কর্মসূচি, দ্বিতীয় বার্ষিক সংস্কৃতিক কর্মসূচি ও তৃতীয়তো বার্ষিক ক্রীড়া কর্মসূচি। যাতে করে, আমরা আমাদের হৃত যে গৌরব সেই গৌরবের পথে যেতে পারি।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে দেশের সবগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বার্ষিক পরিকল্পনাকৃত ক্যালেন্ডার তৈরি করে দিবেন। যার মাধ্যমে মানুষ সৃষ্টি করার বড় রকমের পরিবর্তন আসতে পারে। শিক্ষা, দক্ষতা এবং কর্মসংস্থানের ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। যাতে আমরা সবাই মিলে বড় রকমের পরিবর্তন আনতে পারি।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, আমরা বাংলাদেশে সুষ্ঠু, সুস্থ্য এবং স্বাবলিল সংস্কৃতি দেখতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সেটাই আহ্বান এবং আমাদের সেটাই কর্মসূচি। সুস্থ্য, স্বাবলিল সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সংস্কৃতিতে পৃষ্ঠপোষকতা না থাকার কারনে মারাত্মকভাবে এটার অধপতন হয়েছে। যার কারনে আমাদের দেশে যুব সমাজের মধ্যে নানা রকম প্রবণতা লক্ষ্য করি। আমাদের যুব সমাজ হচ্ছে আগামী দিনের ভবিষ্যত। তাদেরকে সামেন রেখে একটা সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সংস্কৃতির একটা বিড়াট ভূমিকা আছে। আমরা আশা করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমাদের সংস্কৃতি সহ সমস্ত ক্ষেত্রে উল্লেখ্যযোগ্য অগ্রগতি সাধন করবো।
তিনি আরও বলেন, রাজবাড়ীর আর্থ সামজিক উন্নয়নে আমরা অনেক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আমাদের পরিকল্পনার প্রস্তুতির কাজ চলছে। সমস্ত ক্ষেত্রে শিক্ষা, সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক অবকাঠামো, আইনশৃঙ্খলা, স্বাস্থ্য সমস্ত ক্ষেত্রে কাজ করছি। চলতি অর্থ বছরে আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে বলে আশা করছি।
অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম, পুলিশ সুপার মনজুর মোরশেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শংকর চন্দ্র বৈদ্য, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল হুদা, গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সভাপতি নিজাম উদ্দিন শেখ, সাবেক সভাপতি সুলতান-নূর ইসলাম মুন্নু, সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সহিদুল ইসলাম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
গোয়ালন্দ উপজেলার ৫১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে খেলার সামগ্রী এবং হারমোনিয়াম প্রদান করা হয়। এছাড়া ৬টি মাদরাসার মাঝে সাউন্ড সিস্টেম প্রদান করা হয়। এডিপির অর্থায়নে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৫ লাখ টাকার সামগ্রী প্রদান করা হয়। পরে তাঁরা বিকেলে রাজবাড়ী জেলা সদরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকাল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, পতিত সরকার শিক্ষাকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। সংস্কৃতি বলে কিছুই নাই, ক্রীড়ার ক্ষেত্রেও আমরা পিছনে। আমরা অন্য দেশের উত্তেজনায় খুশি হই। কিন্তু আমরাও বিশ্ব দরবারে আমাদের ক্রীড়া, সংস্কৃতি এবং শিক্ষা তথা দক্ষ জনগোষ্ঠির মাধ্যমে নিজের অবস্থানকে নিশ্চিত করতে পারি। আমাদের সরকার সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।
শুক্রবার (৭ আগষ্ট) দুপুরে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের এডিপি (বিশেষ) বরাদ্দের আওতায় গোয়ালন্দ উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে ক্রীড়া সামগ্রী, সাউন্ড সিস্টেম ও হারমোনিয়াম বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা তিতুমীর বলেন, জাতি গঠনের সবচেয়ে বড় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ হচ্ছে শিশু, কিশোর এবং যুবকদের মধ্যে সংস্কৃতি, ক্রীড়া এবং বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা। তারই অংশ হিসেবে অর্থাৎ আমরা সুনাগরিকের অংশ হিসেবে বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী, সংস্কৃতি সামগ্রী বিতরণ করলাম। লক্ষ্য হচ্ছে আগামী জানুয়ারী মাসে যখন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে, তখন অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ এবং মাদরাসাগুলো তিনটা ক্যালেন্ডার দিবেন। একটি হলো বার্ষিক শিক্ষা কর্মসূচি, দ্বিতীয় বার্ষিক সংস্কৃতিক কর্মসূচি ও তৃতীয়তো বার্ষিক ক্রীড়া কর্মসূচি। যাতে করে, আমরা আমাদের হৃত যে গৌরব সেই গৌরবের পথে যেতে পারি।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে দেশের সবগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বার্ষিক পরিকল্পনাকৃত ক্যালেন্ডার তৈরি করে দিবেন। যার মাধ্যমে মানুষ সৃষ্টি করার বড় রকমের পরিবর্তন আসতে পারে। শিক্ষা, দক্ষতা এবং কর্মসংস্থানের ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। যাতে আমরা সবাই মিলে বড় রকমের পরিবর্তন আনতে পারি।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, আমরা বাংলাদেশে সুষ্ঠু, সুস্থ্য এবং স্বাবলিল সংস্কৃতি দেখতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সেটাই আহ্বান এবং আমাদের সেটাই কর্মসূচি। সুস্থ্য, স্বাবলিল সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সংস্কৃতিতে পৃষ্ঠপোষকতা না থাকার কারনে মারাত্মকভাবে এটার অধপতন হয়েছে। যার কারনে আমাদের দেশে যুব সমাজের মধ্যে নানা রকম প্রবণতা লক্ষ্য করি। আমাদের যুব সমাজ হচ্ছে আগামী দিনের ভবিষ্যত। তাদেরকে সামেন রেখে একটা সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সংস্কৃতির একটা বিড়াট ভূমিকা আছে। আমরা আশা করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমাদের সংস্কৃতি সহ সমস্ত ক্ষেত্রে উল্লেখ্যযোগ্য অগ্রগতি সাধন করবো।
তিনি আরও বলেন, রাজবাড়ীর আর্থ সামজিক উন্নয়নে আমরা অনেক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আমাদের পরিকল্পনার প্রস্তুতির কাজ চলছে। সমস্ত ক্ষেত্রে শিক্ষা, সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক অবকাঠামো, আইনশৃঙ্খলা, স্বাস্থ্য সমস্ত ক্ষেত্রে কাজ করছি। চলতি অর্থ বছরে আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে বলে আশা করছি।
অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম, পুলিশ সুপার মনজুর মোরশেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শংকর চন্দ্র বৈদ্য, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল হুদা, গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সভাপতি নিজাম উদ্দিন শেখ, সাবেক সভাপতি সুলতান-নূর ইসলাম মুন্নু, সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সহিদুল ইসলাম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
গোয়ালন্দ উপজেলার ৫১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে খেলার সামগ্রী এবং হারমোনিয়াম প্রদান করা হয়। এছাড়া ৬টি মাদরাসার মাঝে সাউন্ড সিস্টেম প্রদান করা হয়। এডিপির অর্থায়নে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৫ লাখ টাকার সামগ্রী প্রদান করা হয়। পরে তাঁরা বিকেলে রাজবাড়ী জেলা সদরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

আপনার মতামত লিখুন