রাজবাড়ী মেইল
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

উত্তরাধিকার সূত্রে দেশের চল্লিশ শতাংশ যুব সমাজ কোন শিক্ষায় নেই - প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা তিুতমীর

উত্তরাধিকার সূত্রে দেশের চল্লিশ শতাংশ যুব সমাজ কোন শিক্ষায় নেই - প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা তিুতমীর

পতিত সরকার শিক্ষা, সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে - রাজবাড়ীতে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা তিতুমীর

পতিত সরকার শিক্ষা, সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে - রাজবাড়ীতে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা তিতুমীর

রাজবাড়ীতে র‌্যাবের হাতে সাব-মেশিনগান ও বিদেশী পিস্তল, গুলি সহ গ্রেপ্তার ২

রাজবাড়ীতে র‌্যাবের হাতে সাব-মেশিনগান ও বিদেশী পিস্তল, গুলি সহ গ্রেপ্তার ২

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত ইউএনওর মতবিনিময়

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত ইউএনওর মতবিনিময়

রাজবাড়ীর পাংশায় সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১

রাজবাড়ীর পাংশায় সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আট মাদক মামলার আসামী হেরোইনসহ গ্রেপ্তার

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আট মাদক মামলার আসামী হেরোইনসহ গ্রেপ্তার

গোয়ালন্দে ইউএনও হিসেবে যোগদান করলেন সাইফুল হুদা

গোয়ালন্দে ইউএনও হিসেবে যোগদান করলেন সাইফুল হুদা

রাজবাড়ীতে ফ্যামিলিকার্ড শুমারির জরিপকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে বিক্ষোভ

রাজবাড়ীতে ফ্যামিলিকার্ড শুমারির জরিপকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে বিক্ষোভ

স্কুল ফাঁকি দেওয়ায় চার শিক্ষার্থীকে ৭দিনে ২০০টি করে চারাগাছ রোপনের শাস্তি দিলেন ইউএনও

স্কুল ফাঁকি দেওয়ায় চার শিক্ষার্থীকে ৭দিনে ২০০টি করে চারাগাছ রোপনের শাস্তি দিলেন ইউএনও

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাংশা, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী পাংশা সরকারি জর্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী স্কুল ফাঁকি দিয়ে পুকুর পাড়ে বসে আড্ডা দেওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাদেরকে শাস্তি হিসেবে আগামী ৭ দিনে প্রত্যেককে অভিভাবকসহ ২০০টি করে গাছের চারা রোপনের নির্দেশ দেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনাটি ঘটার পর বিকেলে ইউএনও নিজে তাঁর ফেসবুকে এই শাস্তির বিষয়টি ছবিসহ পোস্ট করেন। 

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর পৌনে দুইটার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত বিআরডিবি কার্যালয় থেকে বৃক্ষ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠান শেষে নিজ কার্যালয়ে ফিরছিলেন পাংশা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল হক। এ সময় তিনি দেখতে পান, উপজেলা পরিষদের ভেতর পূর্ব পাশের পুকুর ঘাটে স্কুল ইউনিফর্ম পরিহিতি চারজন ছাত্র দাঁড়িয়ে আছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলে তারা জানায়, পাংশা সরকারি জর্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। টিফিন সময়ে ছুটি নিয়ে পুকুরে সাঁতার কাটতে এসেছে। এ সময় তিনি (ইউএনও) বিদ্যালয়ে ফোন করে জানতে পারেন, চার শিক্ষার্থীর কেউ ছুটি নেয়নি বা বিদ্যালয় থেকে কাউকে ছুটি দেওয়া হয়নি। এরপর তাদেরকে সাথে করে তিনি নিজ কার্যালয়ে এনে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তাদের একজন জানায়, তাদের এক খালাতো বোনের বিয়ে দেখে তারা স্কুল থেকে ছুটি নিয়ে এসে পুকুরে গোসল করে বিয়ের দাওয়াত খেতে যাচ্ছিল। এ সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের জিম্মায় তাদেরকে ছেড়ে দেন ইউএনও। একই সঙ্গে এ সময় চার শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তির আওতায় আনতে বলেন।

ইউএনও জানান, পরে বিকেলের দিকে ওই শিক্ষার্থীরা অভিভাবকসহ তাঁর কার্যালয়ে আসেন। এ সময় তারা স্বীকার করেন, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে ছুটির দরখাস্ত অনুমোদনের কপি নিয়ে বের হয়েছে। পরে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগন প্রতিশ্রæতি দেন, এবারের মতো তাদেরকে ছেড়ে দিলে ভবিষ্যতে তারা আর এরকম করবে না। ইউএনও তাদেরকে এবারের মতো শাস্তি হিসেবে আগামী ৭দিনের মধ্যে প্রত্যেকে অভিভাবকসহ ২০০টি করে গাছের চারা রোপন করার শর্তে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পাংশা সরকারি জর্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাশেদা খাতুন বলেন, বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ওই চার শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি টপকে পালিয়ে বাইরে ঘুরতে ছিল। ইউএনও মহোদয়ের চোখে ধরা পড়লে পরবর্তীতে ওই চার শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ডেকে আনা হয়। পরে ইউএনও স্যার ওই শাস্তি আরোপ করেন। 

তিনি আরও বলেন, আমরা নিজেরাও এখন অনেকটা অসহায় হয়ে পড়ছি। শিক্ষার্থীদের বেশি শাসন করতে গেলে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হয়। তবে আমরা সার্বক্ষনিক চেষ্টা করছি তাদেরকে সঠিক পথে রাখতে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল হক বলেন, ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাস ফাঁকি দেওয়ার এমন অনেক নজির আছে। গত ২১ জুন বিদ্যালয় পরিদর্শনে গেলে ১৩১ জনের মতো শিক্ষার্থীর অনুপস্থিত পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে ২৩ জুন অভিভাবকদের ডেকে সমাবেশ করা হয়। এরপর আজ আবারও এমন দৃশ্য ধরা পড়লো। প্রথমবার হওয়ায় সামান্য এই শাস্তি দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে এ ধরনের অপরাধ করে ধরা পড়লে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
রাজবাড়ী মেইল

সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬


স্কুল ফাঁকি দেওয়ায় চার শিক্ষার্থীকে ৭দিনে ২০০টি করে চারাগাছ রোপনের শাস্তি দিলেন ইউএনও

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬

featured Image

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাংশা, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী পাংশা সরকারি জর্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী স্কুল ফাঁকি দিয়ে পুকুর পাড়ে বসে আড্ডা দেওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাদেরকে শাস্তি হিসেবে আগামী ৭ দিনে প্রত্যেককে অভিভাবকসহ ২০০টি করে গাছের চারা রোপনের নির্দেশ দেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনাটি ঘটার পর বিকেলে ইউএনও নিজে তাঁর ফেসবুকে এই শাস্তির বিষয়টি ছবিসহ পোস্ট করেন। 

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর পৌনে দুইটার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত বিআরডিবি কার্যালয় থেকে বৃক্ষ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠান শেষে নিজ কার্যালয়ে ফিরছিলেন পাংশা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল হক। এ সময় তিনি দেখতে পান, উপজেলা পরিষদের ভেতর পূর্ব পাশের পুকুর ঘাটে স্কুল ইউনিফর্ম পরিহিতি চারজন ছাত্র দাঁড়িয়ে আছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলে তারা জানায়, পাংশা সরকারি জর্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। টিফিন সময়ে ছুটি নিয়ে পুকুরে সাঁতার কাটতে এসেছে। এ সময় তিনি (ইউএনও) বিদ্যালয়ে ফোন করে জানতে পারেন, চার শিক্ষার্থীর কেউ ছুটি নেয়নি বা বিদ্যালয় থেকে কাউকে ছুটি দেওয়া হয়নি। এরপর তাদেরকে সাথে করে তিনি নিজ কার্যালয়ে এনে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তাদের একজন জানায়, তাদের এক খালাতো বোনের বিয়ে দেখে তারা স্কুল থেকে ছুটি নিয়ে এসে পুকুরে গোসল করে বিয়ের দাওয়াত খেতে যাচ্ছিল। এ সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের জিম্মায় তাদেরকে ছেড়ে দেন ইউএনও। একই সঙ্গে এ সময় চার শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তির আওতায় আনতে বলেন।

ইউএনও জানান, পরে বিকেলের দিকে ওই শিক্ষার্থীরা অভিভাবকসহ তাঁর কার্যালয়ে আসেন। এ সময় তারা স্বীকার করেন, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে ছুটির দরখাস্ত অনুমোদনের কপি নিয়ে বের হয়েছে। পরে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগন প্রতিশ্রæতি দেন, এবারের মতো তাদেরকে ছেড়ে দিলে ভবিষ্যতে তারা আর এরকম করবে না। ইউএনও তাদেরকে এবারের মতো শাস্তি হিসেবে আগামী ৭দিনের মধ্যে প্রত্যেকে অভিভাবকসহ ২০০টি করে গাছের চারা রোপন করার শর্তে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পাংশা সরকারি জর্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাশেদা খাতুন বলেন, বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ওই চার শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি টপকে পালিয়ে বাইরে ঘুরতে ছিল। ইউএনও মহোদয়ের চোখে ধরা পড়লে পরবর্তীতে ওই চার শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ডেকে আনা হয়। পরে ইউএনও স্যার ওই শাস্তি আরোপ করেন। 

তিনি আরও বলেন, আমরা নিজেরাও এখন অনেকটা অসহায় হয়ে পড়ছি। শিক্ষার্থীদের বেশি শাসন করতে গেলে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হয়। তবে আমরা সার্বক্ষনিক চেষ্টা করছি তাদেরকে সঠিক পথে রাখতে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল হক বলেন, ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাস ফাঁকি দেওয়ার এমন অনেক নজির আছে। গত ২১ জুন বিদ্যালয় পরিদর্শনে গেলে ১৩১ জনের মতো শিক্ষার্থীর অনুপস্থিত পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে ২৩ জুন অভিভাবকদের ডেকে সমাবেশ করা হয়। এরপর আজ আবারও এমন দৃশ্য ধরা পড়লো। প্রথমবার হওয়ায় সামান্য এই শাস্তি দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে এ ধরনের অপরাধ করে ধরা পড়লে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।


রাজবাড়ী মেইল

সম্পাদক: রাশেদ ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৫ । সর্বস্ব সংরক্ষিত রাজবাড়ী মেইল