নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ জুলাই ছাত্র আন্দোলনে গুলিতে নিহত রাজবাড়ী সদর উপজেলার শহীদ আব্দুল গণির দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকী রোববার (১৯ জুলাই)। এ উপলক্ষ্যে শুক্রবার দোয়া অনুষ্ঠান এবং শহীদ আব্দুল গণির কবরে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়। উপজেলা প্রশাসন ও জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ অংশ গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে আব্দুল গণি হত্যার বিচার চাইলেন তাঁর স্ত্রী, সন্তান, বাবা সহ বিএনপি নেতৃবৃন্দ। শহীদ আব্দুল গণি রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকার আব্দুল মজিদ শেখের ছেলে। তিনি ঢাকার শুলশান-২-এর সিক্সসিজন নামের একটি আবাসিক হোটেলের কারিগরি বিভাগে কাজ করতেন। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই সকালে ঢাকার উত্তর বাড্ডার গুপীপাড়ার বাসা থেকে গুলশান-২-এ কর্মস্থলের দিকে রওনা হন আব্দুল গণি (৪৫)। পথিমধ্যে শাহজাহানপুর বাঁশতলা এলাকায় সংঘর্ষ চলাকালে তাঁর মাথার ডান পাশে গুলি লেগে আরেক পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন হাসপাতালে নিয়ে গেলে তিনি মারা যান। ২১ জুলাই বিকেলে তাঁর লাশ গ্রামের বাড়ি খানখানাপুর আনা হয়। ওইদিন রাত সাড়ে আটটার দিকে খানখানাপুর দারুস সুন্নাহ হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়। আব্দুল গণির স্ত্রী লাকি আক্তার, ছেলে আলামিন শেখ ও আট বছর বয়সী মেয়ে জান্নাত রয়েছে। আব্দুল গণির মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার বাদ জুম্মা ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক সংলগ্ন সদর উপজেলার খানখানাপুর মোস্তফার ইটভাটা চত্বরে ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসভাপতি, জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আসলাম মিয়া, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন গাজী, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র তোফাজ্জেল হোসেন মিয়াসহ সদর ও গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিরুপমা রায় আব্দুল গণির পরিবারের খোঁজ খবর নিতে আসেন। পরে বিএনপি নেতৃবৃন্দ শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আব্দুল গণির কবরে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় দোয়া পরিচালনা করেন খানখানাপুর দারুস সুন্নাহ হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিম খানার প্রধান শিক্ষক হাফেজ মাওলানা আতিকুর রহমান। আব্দুল গণির ছেলে আলামিন শেখ বলেন, দুই বছর ধরে বাবা নেই। জুলাই ছাত্র আন্দোলনের সময় আমার বাবাকেও পুলিশ গুলি করে মারে। বর্তমান তারেক জিয়া সরকার ক্ষমতায় রয়েছেন। আমরা আমার বাবা হত্যার বিচার চাই। আর এ জন্য শেখ হাসিনার ফাঁসি চাই আমরা। আব্দুল গণির বাবা আব্দুল মজিদ শেখ বলেন, দুই বছর ধরে আমার ছেলেকে দেখিনা। ছেলেকে হারিয়েছি, এখন হারানোর আর কিছুই নাই। তাই এই জঘন্য হত্যার সাথে জড়িত শেখ হাসিনার ফাঁসি চাই। বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আসলাম মিয়া বলেন, জুলাই ছাত্র আন্দোলনে প্রায় ১৪০০ মানুষ শহীদ হন। তারমধ্যে রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর আমার এলাকার শহীদ আব্দুল গণি আছেন। আব্দুল গণি শহীদ হওয়ার পর থেকে তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি। আজকে তাঁর দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকীতে সরকারের কাছে দাবি একটাই শহীদদের হত্যার বিচার করতে হবে। শহীদ গণি হত্যার বিচার ব্যবস্থার নিয়ে জানতে চাইলে ইউএনও নিরুপমা রায় বলেন, বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে বিস্তারিত খোঁজ খবর নিয়ে বলতে হবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
অনলাইন জরিপ
রাজনীতি
সুমন বিশ্বাস, রাজবাড়ীঃ একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিমের ৭৬ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজবাড়ীতে নানা আয়োজনে স্মরণ করা হয়েছে এই গুণী শিল্পীকে। শনিবার রাজবাড়ী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মনসুর উল করিম স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং কেক কাটার মধ্য দিয়ে জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, "মনসুর উল করিম শুধু রাজবাড়ীর নন, তিনি বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। রাজবাড়ীর মাটিতে তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। তাঁর সৃষ্টিকর্ম আজও শিল্পপ্রেমীদের অনুপ্রাণিত করে। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর শিল্পকর্ম ও জীবনাদর্শ তুলে ধরতে আমাদের আরও উদ্যোগী হতে হবে।"প্রতিমন্ত্রী বলেন, "রাজবাড়ীর সাংস্কৃতিক বিকাশে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জেলার শিল্প-সংস্কৃতির প্রসারে একটি আধুনিক কালচারাল কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই এর নির্মাণকাজ শুরু হবে। এছাড়া রাজবাড়ীর অ্যাক্রোবেটিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে আরও আধুনিক ও কার্যকরভাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি ভবিষ্যতে জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।" মনসুর উল করিম স্মৃতি পরিষদের আহ্বায়ক কবি খোকন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল, চিত্রশিল্পী মনসুর করিম স্মৃতি সংসদের সদস্য সচিব আজিজা খানম, উপদেষ্টা চৌধুরী আহসানুল করিম হিটু, নূরুল হক আলম, জেলা কালচারাল অফিসার সুজিত কুমার সাহা, মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি সংসদের আহ্বায়ক কবি সালাম তাসির, রাজবাড়ী বাংলা একাডেমির সভাপতি সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমানসহ চিত্রশিল্পী মনসুর করিম স্মৃতি সংসদের অন্যান্য সদস্য, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।আলোচনা সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিম তাঁর সৃষ্টিশীলতা, নান্দনিক চিন্তা ও শিল্পকর্মের মাধ্যমে দেশের শিল্পাঙ্গনে অনন্য অবদান রেখে গেছেন। তাঁর স্মৃতি ও কর্ম নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।পরে অতিথিরা কেক কেটে মনসুর উল করিমের ৭৬ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করেন। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।উল্লেখ্য, চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিম ১৯৫০ সালের ১৪ জুলাই রাজবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ শিল্পজীবনে তিনি দেশ-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করেন এবং শিল্পকলায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে একুশে পদকে ভূষিত হন। ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর শিল্পকর্ম আজও বাংলাদেশের চারুকলার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
হেলাল মাহমুদ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীপুর এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে জোরপূর্বক জমি দখল, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি এবং অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ফিরোজ আহমেদ মোল্লা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা।বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পৌর শহরের শ্রীপুর এলাকায় অবস্থিত পলাশ পাম্পের পেছনে বিরোধপূর্ণ জমিতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফিরোজ আহমেদ মোল্লা। তিনি দাবি করেন, পরিবারের সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক জমি নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ওই মামলাগুলো পরিচালনার বিনিময়ে তাঁর চাচা এবং ফুফুরা তাঁকে জমি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পরবর্তীতে ২০২০ সালে একটি হেবা দলিলের মাধ্যমে তাঁকে পাঁচ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। সেখান থেকে নিজ ইচ্ছায় তিনি তিন শতাংশ জমি রিপা নামে এক নিকট আত্মীয়কে দেন।তিনি অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে ওই একই জমি একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি ও বায়না করা হয়। এতে জমির মালিকানা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়।তাঁর দাবি, একই জমি নিয়ে করা একাধিক দলিল জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে এবং বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।ফিরোজ আহমেদ আরও অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার পর তাঁকে অপহরণ করে প্রায় ১২০ দিন ফরিদপুরের একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে আটকে রাখা হয়। এ ঘটনার জন্য তিনি প্রতিপক্ষকে দায়ী করেন।তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ বিভিন্ন সময়ে তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতে একাধিক দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। এছাড়া জমির প্রকৃত সীমানার বাইরে গিয়ে নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, জালিয়াতির অভিযোগ তদন্ত এবং মিথ্যা মামলা থেকে পরিত্রাণের দাবি জানান।এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জিয়া সৈনিক দলের সহ-সভাপতি আবির হোসেন রাজ্জাক, পলাশ পাম্পের ম্যানেজার লোকমান হোসেন, প্রতিবেশী শুকুর আলী মোল্লা সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।এর আগে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) একই জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রতিপক্ষের অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান। এ সময় সেখানে রাকিবুল হাসান অভিযোগ করেন, বৈধভাবে জমি ক্রয়ের পরও প্রতিপক্ষ প্রভাব খাটিয়ে তাঁর জমি দখলের চেষ্টা করছেন। তিনি হামলা, ভাঙচুর, প্রাণনাশের হুমকি এবং পরিবারের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অন্যদিকে বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে রাকিবুল হাসানের অভিযোগ অস্বীকার করে ফিরোজ আহমেদ মোল্লা বলেন, প্রকৃত ঘটনা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এর সুরাহা হওয়া উচিত। তিনি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম হরিণবাড়িয়া এলাকার চারদিকে কৃষি ক্ষেত ও জঙ্গলের ভিতর তৈরী করা হচ্ছিল নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে খবর পেয়ে সোমবার বিকেল থেকে গভীররাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে উপজেলা প্রশাসন বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি ও দুয়ারি তৈরীর সরঞ্জমাদি জব্দ করে। অভিযানের নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেজবাহ উদ্দীন। কালুখালী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মেজবাহ উদ্দীন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁরা জানতে পারেন পশ্চিম রতনদিয়া এলাকায় জঙ্গলের ভিতর নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী তৈরী করা হচ্ছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশের সহযোগিতায় উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম রতনদিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় চারদিকে কৃষি ফসলি ক্ষেত এবং জঙ্গলে ভরপুর। এমন পরিবেশে ওই কারখানার সন্ধান পান। সেখানে কারখানা থেকে আনুমানিক ৭ বস্তা ৪৫০ মিটার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল, ১০০ মিটারের মতো জাল তৈরির লোহার এঙ্গেল এবং ১৫০টির মতো জালের রিং জব্দ করা হয়। তবে অভিযানকালে জালের মালিক বা সংশ্লিস্ট কাউকে পাওয়া যায়নি। ইউএনও মেজবাহ উদ্দীন আজ মঙ্গলবার দুপুরে আরও বলেন, সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার পর থেকে অভিযান শুরু করে রাত প্রায় ১১টা পর্যন্ত অভিযানের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। অভিযান শেষে জব্দকৃত চায়না দুয়ারী, জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এছাড়া জব্দকৃত জাল তৈরির লোহার এঙ্গেল ও আনুসাঙ্গিক সরঞ্জাম বিধিমোতাবেক নিলাম করে সরকারী কোষাগারে জমা প্রদানের জন্য মৎস্য অফিসারকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। অভিযানকালে তিনি ছাড়াও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামস্ সাদাত মাহমুদ উল্লাহ ও কালুখালী থানা পুলিশের একটি দল সঙ্গে ছিলেন।
হেলাল মাহমুদ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার দুটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দারিদ্র বিমোচন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভিজিডিএফ (ভিজিএফ) কর্মসূচির আওতায় খাদ্যশস্য (চাল) বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে বহিস্কার করা হয়। গত রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন উপজেলা প্রশাসনের হাতে এসে পৌঁছে। সাময়িকভাবে বরখাস্তকৃত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ হলেন, কালুখালী উপজেলা সদর রতনদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মেহেদি হাচিনা পারভীন এবং মদাপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মদন কুমার প্রামাণিক। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. আব্দুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দারিদ্র বিমোচন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় খাদ্যশস্য (চাল) বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়। বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদ ও জনস্বার্থের পরিপন্থী বিবেচনায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪(খ) ও (ঘ) অনুযায়ী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় একই আইনের ৩৪(১) ধারার ক্ষমতাবলে তাঁদেরকে সাময়িকভাবে স্বীয় পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। জানা যায়, গত ঈদুল ফিতর ১৬, ১৭ ও ১৮ মার্চ ভিজিএফের চাল বিতরণে পরিমাণে কম দেয়ার অভিযোগ পান। কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেজবাহ উদ্দিন দুই ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করে পরিমাণে কম দেয়াসহ অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে চাল বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ করে দুই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে অবহিত করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শেষে প্রমাণিত হওয়ায় তাদেরকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করা হয়। অভিযোগ প্রসঙ্গে রতনদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাচিনা পারভীন বলেন, গোডাউন থেকে ১ হাজার ৮৯৭ জনের চাল উত্তোলনের পর সংশ্লিস্ট দায়িত্বরত তদারকি কর্মকর্তা (ট্যাগ অফিসার) ও ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের কাছে বুঝিয়ে দেই। এরপর আমি আমার দাপ্তরিক কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। পরবর্তীতে ইউএনও মহোদয় এসে চাল বিতরণে অনিয়ম পান। আমি এ ধরনের অনিয়মের সাথে কোনভাবেই জড়িত নই। এ বিষয়ে আমি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। মদাপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মদন কুমার প্রামাণিক অনিয়মের সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, সুবিধাভোগী ১ হাজার ২১৫ জনের চাল উত্তোলনের পর ইউনিয়ন পরিষদের সচিবসহ তদারকি কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে তিনি চাল বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে তারাই চাউল বিতরণ কার্যক্রম চালান। কিন্তু এ সময় সুবিধাভোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে যাওয়ায় পরিমাণে কিছুটা কমিয়ে সবাইকে দেওয়া হয়। এখানে এক কেজি কেন এক ছটাক চাল বিতরণে যদি অনিয়ম করে থাকি তাহলে এর জন্য আমি জেল খাটতে প্রস্তুত আছি। কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেজবাহ উদ্দীন বলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. আব্দুর রহমান স্বাক্ষরিত বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন রোববার বিকেলে আমাদের হাতে পৌঁছে। পরবর্তীতে তাৎক্ষনিক তাঁদেরকে জানিয়ে দেওয়া হয়। সোমবার থেকে তাঁরা দাপ্তরিক কোন কাজ করছেন না। ইউএনও আরও বলেন, বর্তমানে দুই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ শূন্য রয়েছে। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুযায়ী বিধি মোতাবেক ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, এ জন্য দ্রæত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
হেলাল মাহমুদ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর পাংশায় শরিকানা জমি নিয়ে পূর্বের বিরোধের জের ধরে প্রকাশ্য দিনের বেলায় হামলা চালিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একটি পরিবারের বসত ঘরসহ চারটি ঘর ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার পাংশা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড ঢেঁকিপাড়া গ্রামে ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলামের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পৌরসভার ঢেঁকিপাড়া গ্রামের জুম্বর মণ্ডলের ছেলে ভুক্তভোগী আমিরুল ইসলাম ও তাঁর পরিবার গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় পাংশা মডেল নিরাপত্তা চেয়ে আশ্রয় নেয়। রাতেই তাঁরা ৭ জনকে চিহিৃত এবং অজ্ঞাত আরও পাঁচ থেকে সাতজনকে অভিযুক্ত করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে অন্তত ১২ লক্ষাধিক টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অভিযুক্তরা হলেন, পৌরসভার ঢেঁকিপাড়া গ্রামের মৃত নিমাই শেখের ছেলে মো. মাজেদ শেখ (৬০), মাজেদ শেখের ছেলে মো. নজু শেখ (৪০), মো. সাঈদ শেখ (৩২), মো. মিলন শেখ (২৭) একই এলাকার মৃত জাহাঙ্গীর প্রামানিকের ছেলে রনি প্রামানিক (৩৫), মো. গণি মোল্লার ছেলে মো. গরো মোল্লা (২৮) ও স্থানীয় মো. আব্দুল শেখ (৩০)। সোমবার রাত ১০টার দিকে থানায় অবস্থানকালে আমিরুল ইসলাম বলেন, মা সুন্দরী বেগমের বাবার বাড়ির শরিকানা প্রায় ১৪ শতাংশ জমি নিয়ে তাঁর চাচাতো ভাইদের সাথে বিরোধ চলছে। জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। সোমবার সকাল ১০টার দিকে আমাদের চাচাতো নানা মাজেদ শেখের নেতৃত্বে তাঁর ছেলেরাসহ ভাড়াটিয়া লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়িতে চড়াও হয়। ব্যবসায়িক আমি কাজে বাইরে ছিলাম। আমার স্ত্রী সন্তান নিয়ে স্কুলে যায়। বাড়িতে শুধুমাত্র আমার বৃদ্ধা মা ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। এ সময় তারা বাড়িতে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এক পর্যায়ে আমাদের আধাপাকা সহ তিনটি টিনের ঘর ও টয়লেট ভাঙচুর করে। তারা ঘর থেকে তিনটি স্বর্নের চেইন, নগদ প্রায় ২০ হাজার টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে। প্রাথমিকভাবে অন্তত ১২ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে আমিরুল ইসলাম আরও বলেন, শরিকানা জমির মধ্যে আমরা তাদের বাড়িতে জমি পাবো। তারাও কিছু জমি আমাদের বাড়ির মধ্যে পাবেন। সেই জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে তাদের পক্ষে একটি এবং আমাদের পক্ষে একটি মামলার রায় হয়েছে। অথচ তারা কোন কিছুর কর্ণপাত না করে পরিকল্পিতভাবে বাড়িতে হামলা চালায়। নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচারের আশায় পাংশা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। সোমবার মধ্যরাতে আমাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তখন পর্যন্ত পুলিশ কোন মামলা রেকর্ড করেনি। এমনকি এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার বা আটকও করেনি। বর্তমানে আমি এবং আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি।পাংশা মডেল থানার ওসি শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, সোমবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে শহরের ঢেঁকিপাড়া গ্রামে হামলা ও ভাঙচুরের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবার থেকে রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শামীম শেখ ও মঈনুল হক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বালুর চাতালের সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় বাহির চর ছাত্তার মেম্বার পাড়ার অর্ধশত পরিবার ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশাল আকারের বালুর স্তুপ থেকে বের হওয়া পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এবং কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টিতে দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। উপজেলা শ্রমিক দল নেতাসহ সরকারী দলের স্থানীয় কয়েকজন বালুর ব্যবসা পরিচালনা করছেন। প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী এসব পরিবার রোববার (১২ জুলাই) সকাল দশটা থেকে সাড়ে দশটা পর্যন্ত বৃষ্টির মধ্যে দৌলতদিয়া বাইপাস সড়ক আটকে বিক্ষোভ করে। এ সময় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল গামী বিভিন্ন যানবাহন ফেরি থেকে নামার পর অবরোধে আটকে বাড়তি ভোগান্তিতে পড়েন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা। জলাবদ্ধতার কারনে বাড়িঘর ও গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শিশু, নারীসহ বয়স্কদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দৌলতদিয়া বাইপাস সড়ক থেকে ৭ নম্বর ফেরিঘাট পর্যন্ত ছাত্তার মেম্বার পাড়ার অর্ধশত পরিবার বসবাস করে। বাইপাস সড়ক এবং ৭ নম্বর ফেরিঘাট সড়ক ঘেঁেষ গড়ে উঠেছে একাধিক অবৈধ বালুর চাতাল। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আনা বালু বোঝাই বাল্কহেড ৬ নম্বর ফেরি ঘাটে রেখে পাইপের মাধ্যমে আনলোড করা হয়। আনলোডকৃত বালু বাইপাস ও ৭ নম্বর ফেরিঘাট সড়কের পাশে স্তুপ করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হয়। বালু আনলোডের সময় ৪০ ভাগ পানি জলাবদ্ধতা তৈরী করছে। উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সরোয়ার মোল্লাসহ স্থানীয় আব্বাস, জগো, সালাম, জামাল, আলিম মোল্লা, নুরুল ইসলামসহ অনেকে বালু ব্যবসায় জড়িত রয়েছে। ভুক্তভোগী স্থানীয় নিয়ামত আলী সরদার বলেন, ১২ বছর ধইরা এহানে বাড়ি করছি, কোন সমস্যা হয়নাই। বৃষ্টির পানি মাইটালে (ছোট ডোবা) চইলা যাইতো। দুই বছর ধইরা বালির চাতাল হওয়ার পর থেকে সারা বছর পানি থাকছে। আমরা গরিব মানুষ কিছু বললেও কেউ শুনে না। সরো মোল্লার চাতালের পানিতে বাড়ি-ঘর তলাইয়া গেছে। স্থানীয় নিয়ামত সরদার বলেন, চাতালের কারনে বারো মাস পানিতে থাকতে হচ্ছে। তাদেরকে পানি নিষ্কাশনের কথা বললেও কথা শুনেনা। উপায় না পেয়ে আজ আমরা রাস্তায় নেমেছিলাম। পরে থানার ওসি সাহেব এসে পানি বের করার ব্যবস্থার কথা বললে আমরা অবরোধ তুলে নেই। মাসুদা বেগম নামের গৃহবধু বলেন, তিন-চার মাস ধরে সরোয়ার মোল্লার চাতালের পানিতে সব শেষ কইরা দিচ্ছে। এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ি যাইতে পারি না। সবখানে পানি আর পানি। বৃষ্টির পানিতে আরও সমস্যা হচ্ছে। আমরা এই চাতাল বন্ধ চাই। উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সরোয়ার মোল্লা বলেন, বাল্কহেড থেকে পাইপে বালু আনলোডের সময় ৪০ ভাগ পানি থাকে। চাতালের পাশে বড় গর্তে পানি জমিয়ে সেচপাম্পের সাহায্যে অপসারণ করা হয়। মূলত বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা তৈরী হয়েছে। সেচপাম্প দিয়ে দ্রæত পানি অপসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির মধ্যে সড়ক অবরোধ করায় বাড়তি ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে বৃষ্টির মধ্যে ঘটনাস্থলে তাদেরকে পানি অপসারণের আশ্বাস দিলে স্থানীয় অবরোধ তুলে নেন। চাতালের পানির সাথে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা হওয়ায় ভোগান্তি হচ্ছে।গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, খবর পেয়ে রোববার বিকেলে সরেজমিন পরিদর্শন করে ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে কথা বলেছি। এ সময় বালুর চাতাল বন্ধ রাখার পাশাপাশি দ্রæত পানি নিষ্কাশনে বালু ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিনোদন
সুমন বিশ্বাস, রাজবাড়ীঃ একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিমের ৭৬ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজবাড়ীতে নানা আয়োজনে স্মরণ করা হয়েছে এই গুণী শিল্পীকে। শনিবার রাজবাড়ী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মনসুর উল করিম স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং কেক কাটার মধ্য দিয়ে জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, "মনসুর উল করিম শুধু রাজবাড়ীর নন, তিনি বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। রাজবাড়ীর মাটিতে তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। তাঁর সৃষ্টিকর্ম আজও শিল্পপ্রেমীদের অনুপ্রাণিত করে। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর শিল্পকর্ম ও জীবনাদর্শ তুলে ধরতে আমাদের আরও উদ্যোগী হতে হবে।"প্রতিমন্ত্রী বলেন, "রাজবাড়ীর সাংস্কৃতিক বিকাশে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জেলার শিল্প-সংস্কৃতির প্রসারে একটি আধুনিক কালচারাল কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই এর নির্মাণকাজ শুরু হবে। এছাড়া রাজবাড়ীর অ্যাক্রোবেটিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে আরও আধুনিক ও কার্যকরভাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি ভবিষ্যতে জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।" মনসুর উল করিম স্মৃতি পরিষদের আহ্বায়ক কবি খোকন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল, চিত্রশিল্পী মনসুর করিম স্মৃতি সংসদের সদস্য সচিব আজিজা খানম, উপদেষ্টা চৌধুরী আহসানুল করিম হিটু, নূরুল হক আলম, জেলা কালচারাল অফিসার সুজিত কুমার সাহা, মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি সংসদের আহ্বায়ক কবি সালাম তাসির, রাজবাড়ী বাংলা একাডেমির সভাপতি সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমানসহ চিত্রশিল্পী মনসুর করিম স্মৃতি সংসদের অন্যান্য সদস্য, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।আলোচনা সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিম তাঁর সৃষ্টিশীলতা, নান্দনিক চিন্তা ও শিল্পকর্মের মাধ্যমে দেশের শিল্পাঙ্গনে অনন্য অবদান রেখে গেছেন। তাঁর স্মৃতি ও কর্ম নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।পরে অতিথিরা কেক কেটে মনসুর উল করিমের ৭৬ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করেন। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।উল্লেখ্য, চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিম ১৯৫০ সালের ১৪ জুলাই রাজবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ শিল্পজীবনে তিনি দেশ-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করেন এবং শিল্পকলায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে একুশে পদকে ভূষিত হন। ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর শিল্পকর্ম আজও বাংলাদেশের চারুকলার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
আব্দুল হালিম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে গান, নৃত্য ও ফলাহারের মধ্য দিয়ে উদীচীতে বর্ষা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী রাজবাড়ী জেলা কমিটির উদ্যোগে শহরের আজাদী ময়দান সংলগ্ন সংগঠনের মিলনায়তনে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়।আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা উদীচীর সহসভাপতি আজিজুল হাসান খোকা। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা উদীচীর সংগীত বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল জব্বার। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উদীচী কেন্দ্রীয় কমিটির সংগীত বিষয়ক সম্পাদক সুরাইয়া পারভীন, সদস্য শিখা কর্মকার। এতে স্মৃতিচারণ মূলক বক্তব্য দেন জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কমরেড আব্দুস সামাদ মিয়া, রাজবাড়ী নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফকীর শাহাদত হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা চিত্রশিল্পী মো. গোলাম আলী, রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক এম দেলোয়ার হোসেন, রাজবাড়ী বৈচিত্র্য সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি আজাদ সিদ্দিকী মিলন, জেলা উদীচীর সাংগঠনিক সম্পাদক ধীরেন্দ্র নাথ দাস প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক এজাজ আহম্মেদ। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ছয়টি ঋতুর মধ্যে বর্ষা ঋতু হলো মধুর ঋতু। এই ঋতু শুরু হলে প্রকৃতি হাঁসে। প্রকৃতি জীবন্ত হয়ে ওঠে। চারপাশ সবুজে ভরে যায়। প্রবীণ তার কৈশোরে ফিরে যায়। তবে মানুষ আজ প্রকৃতি ধ্বংস করে ফেলছে। নিয়মিত বনায়ন ধ্বংস করা হচ্ছে। একারণে বর্ষার প্রকৃত রূপ এখন আর দেখা যায় না। বর্ষাকে বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের বেশি বেশি গাছ রোপণ করতে হবে। প্রকৃতি সুন্দর হলে এই পৃথিবী আরও সুন্দর হবে।অনুষ্ঠানে উদীচী ও রাবেয়া কাদের স্মৃতি পাঠাগারের শিল্পীরা সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা করেন
মঈনুল হক, গোয়ালন্দ রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে ঘোষিত নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭ এর শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানের শুরুতে ভার্চ্যুয়ালি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ টেলিকাস্ট) উপভোগ করেন উপস্থিত অতিথি ও দর্শকরা। পরে স্থানীয়ভাবে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাসের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি (তদন্ত) মো. রাশিদুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার দাস, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু মোল্লা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবলু, নাজিরুল ইসলাম তিতাস, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মোল্লা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আবু সাঈদ মণ্ডল সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।উপজেলা প্রশাসন জানায়, তিন দিনব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে প্রথম দিনে আলোচনা সভা, উদ্ভোধনী সংগীত (চল চল), সমবেত সংগীত, সমবেত নৃত্য, আবৃত্তি, একক সংগীত ও নৃত্য, দ্বিতীয় দিনে নজরুলের উপর রচনা, আবৃত্তি, নজরুল সংগীত ও নৃত্য প্রতিযোগিতা, তৃতীয় দিনে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে লালন, দেশত্ববোধক, ভাটিয়ালি সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনা সভায় বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর জীবন, সাহিত্যকর্ম, দেশপ্রেম, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, বিদ্রোহ, সাম্য ও মানবতার কবি নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত আজও বাঙালির স্বাধীনতার চেতনা, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মূল্যবোধের অন্যতম প্রেরণার উৎস। নতুন প্রজন্মের মাঝে নজরুলের আদর্শ, সাহিত্য ও সংগীত ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা মন্তব্য করেন।আলোচনা সভা শেষে নজরুল সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, দর্শন ও সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।
ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে দেশব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’-এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি দেশের ৬৪ জেলা এবং নির্বাচিত ৭৪টি উপজেলায় একযোগে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’-এর স্মারক ও ডাক টিকিট অবমুক্ত, লোগো উন্মোচন ও নজরুল বর্ষের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে রাজবাড়ীতেও শুরু হলো ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭-এর কর্মসূচি। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে বছরব্যাপী নানা সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক আয়োজনের মাধ্যমে এ বর্ষ উদযাপন করা হবে।সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি বক্তব্য রাখেন।বিশেষ অতিথি হিসেবে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি; তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডাঃ জাহেদ উর রহমান ও মন্ত্রী পরিষদের সচিব ডঃ নাসিমুল গনি বক্তব্য।এদিকে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মিয়া, সিভিল সার্জন ডাঃ এস এম মাসুদ, স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক কল্যাণ চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ তারিফ-উল-হাসান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ্যাডঃ লিয়াকত আলী বাবু, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবীব, রাজবাড়ী সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজে অধ্যক্ষ প্রফেসর রেজভি জামান, রাজবাড়ী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর মোস্তফা কামাল সহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিসহ সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বছরব্যাপী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।উল্লেখ্য, গত ২৫ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে এ বছরের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত এক বছর নজরুল বর্ষ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।
সোহাগ মিয়া, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের হামিদ মৃধার হাট এলাকায় ব্যতিক্রমী ঘটনার জন্ম দিয়েছেন আলাল মোল্লা নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে সে এলাকায় আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের ঘোর সমর্থক হিসেবে পরিচিত থাকলেও এবার তিনি প্রকাশ্যে দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরান ফুটবল দলের সমর্থক হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এমন ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাত ৯টার দিকে হামিদ মৃধার হাট বাজারে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে আলাল মোল্লা তাঁর কর্মী সমর্থকদের জড়ো হন। এ সময় তিনি দুধ দিয়ে গোসল করে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নতুন ইসলামী রাষ্ট্র ইরানের পক্ষে অবস্থানের কথা ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণার পর মুহূর্তেই তাঁর কর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তোলে। একই সাথে বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। বাজারে উপস্থিত অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেন, আবার কেউ কেউ বিষয়টিকে ব্যক্তিগত পছন্দ ও মতামতের স্বাধীনতা হিসেবেও দেখেন।আলাল মোল্লা বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক ছিলাম। তবে ব্যক্তিগত চিন্তা-ভাবনা ও ধর্মীয় অনুভূতি থেকে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আজ থেকে আমি ইরান দলকে সমর্থন করব। আমি আর কখনো আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেব না। এজন্য দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরান ফুটবল দলের সমর্থক হয়েছি।তার এই ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয় যুবকদের মধ্যে কেউ বিষয়টিকে মজার ঘটনা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে একজন সমর্থকের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন।স্থানীয় হামিদ মৃধা হাট এরাকার আক্কাস সরদার, আব্বাস মোল্লা, জামাল হোসেন, হারুন ব্যাপারী সহ অনেকে জানান, সাধারণত ফুটবল দল পরিবর্তনের ঘটনা নতুন নয়। তবে প্রকাশ্যে দুধ দিয়ে গোসল করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে এক দলের সমর্থন ছেড়ে অন্য দলের প্রতি সমর্থন জানানোর ঘটনা এলাকায় খুব একটা দেখা যায় না। ফলে আলাল মোল্লার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।এ বিষয়ে স্থানীয় নুরুল ইসলাম, আহম্মদ আলী শেখ সহ অনেকের ভাষ্য, খেলাধুলা মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। যে কেউ নিজের পছন্দ অনুযায়ী যে কোনো দলকে সমর্থন করতে পারেন। আলাল মোল্লার এই ঘোষণাও তার ব্যক্তিগত মতামত ও পছন্দেরই বহিঃপ্রকাশ।ব্যতিক্রমী এই দলবদলের ঘটনা এখন গোয়ালন্দের হামিদ মৃধার হাট সহ আশপাশের এলাকায় আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।
মাঈনুল হক, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ীঃ “নারীর সম্মান, সমাজের উন্নয়ন”এ স্লোগানে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের সংগঠন স্বপ্ন কুঁড়ি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে “শ্রেষ্ঠ পুত্রবধূ সম্মাননা স্মারক-২০২৬” প্রদান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভিন্নধর্মী এ অনুষ্ঠানে তিনজন সংগ্রামী নারীকে শ্রেষ্ঠ তিন পুত্রবধূকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। ব্যাতিক্রমধর্মী এমন আয়োজনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত এবং আমন্ত্রিত অতিথিগন সবাই মুগ্ধ হন। সোমবার (৮ জুন) বেলা ১১টায় গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ভিন্নধর্মী এ আয়োজনে অনুষ্ঠানে সমাজে পারিবারিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। “স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন দেখাই”স্লোগানধারী সংগঠন আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান।অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, গোয়ালন্দ রাবেয়া ইদ্রিস মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল কাদের শেখ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম, গোয়ালন্দ সরকারি কামরুল ইসলাম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও সংগঠনটির উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুহিত হিরা, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সালমা বেগম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার দাস, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. হাফিজুল হক, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ও স্বপ্ন কুঁড়ি সামাজিক সংগঠনের উপদেষ্টা সানোয়ার আহমেদ সহ সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মণ্ডল, সদস্য নাহিদুল ইসলাম, নাজমুল ইসলাম, আকিব সরদার, ফাহিম আশরাফ হিমেলম সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।গোয়ালন্দ উপজেলার ৪৭ জন সংগ্রামী নারীর মধ্যে সম্মাননা প্রাপ্ত তিন নারী হলেন, গোয়ালন্দ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড গোয়ালন্দ বাজার রেলওয়ে ষ্টেশন এলাকার বাসিন্দা প্রয়াত ছাত্তার শেখ এর স্ত্রী মোছাঃ সহিতুন নেছা, গোয়ালন্দ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বীপেন রায় পাড়ার প্রয়াত ইকবাল হোসেন বাবলুর স্ত্রী নাসিমা আখতার ডলি ও পৌরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ড বদিউজ্জামান বেপারী পাড়ার মো. সেলিম মিয়ার স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম।বক্তারা বলেন, একটি পরিবার ও সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে এবং শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি সম্মান, দায়িত্ববোধ ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। এ ধরনের আয়োজন সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।অনুষ্ঠানে উপস্থিত নারীদের উদ্দেশ্যে পারিবারিক সম্পর্ক উন্নয়ন, বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং সামাজিক মূল্যবোধ চর্চার বিষয়ে বিভিন্ন দিক নির্দেশনামূলক আলোচনা করা হয়। পরে নির্বাচিত তিন জন নারীর মাঝে “শ্রেষ্ঠ পুত্রবধূ সম্মাননা স্মারক-২০২৬”হিসেবে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।আয়োজকরা জানান, সমাজে ইতিবাচক মূল্যবোধ ও পারিবারিক সম্প্রীতি জোরদারের লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার একটি পোল্ট্রি খামার থেকে জসিম শেখ (২৮) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত জসিম শেখ উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের গঙ্গানন্দপুর গ্রামের মৃত বিশু শেখের ছেলে।রোববার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের গঙ্গানন্দপুর গ্রামের রেললাইনের পাশে স্থানীয় কাদের বিশ্বাস ও মো. সুমন বিশ্বাসের মালিকানাধীন একটি পোল্ট্রি খামার থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পোল্ট্রি ফিড চুরির উদ্দেশ্যে খামারে প্রবেশের পর ভারী ফিডের বস্তার নিচে চাপা পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাতে খামার ঘেরা নেট কেটে ভেতরে প্রবেশ করেন জসিম শেখ। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি প্রায় ৫০ কেজি ওজনের একটি পোল্ট্রি ফিডের বস্তা সরানোর চেষ্টা করছিলেন। এ সময় ভারী বস্তাটি তার শরীরের ওপর পড়ে যায়। দীর্ঘ সময় চাপা পড়ে থাকায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। সকালে স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে থানা পুলিশ এসে জসিমের মরদেহটি উদ্ধার করে।কালুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল বলেন, রোববার সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।ওসি আরও বলেন, "ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
শামীম শেখ, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে দেশের সর্ববৃহৎ দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর নারী ও তাদের সন্তানদের সুরক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রকল্পটির নাম `Ensuring Safety and Well being for Brothel Based Sex Worker's Children and Mothers in Bangladesh (Projonmo Sopan)’ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলা সম্মেলন কক্ষে যৌনকর্মীদের কল্যাণে কাজ করা সংগঠন 'শাপলা মহিলা সংস্থা'র উদ্যোগে এ উপলক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সভায় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস। সভাপতিত্ব করেন শাপলা মহিলা সংস্থার উপ-নির্বাহী পরিচালক শ্যামল প্রকাশ অধিকারী। স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, দৌলতদিয়া পূর্বপাড়ার যৌনপল্লীর নারী ও শিশুদের সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও আইনি সহায়তা প্রদান, মর্যাদাপূর্ণ জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি, শিক্ষা ও শিশু বিকাশ নিশ্চিত করা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রকল্পটি কাজ করবে। পাশাপাশি পাচারের শিকার অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যা শিশুদের উদ্ধার এবং উদ্ধারকৃত শিশুদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুনর্বাসনের উদ্যোগও নেওয়া হবে।তিনি আরও জানান, শাপলা মহিলা সংস্থার নিজস্ব একটি সেফ হোম রয়েছে, যেখানে একসঙ্গে ১০০ জন শিশুকে আশ্রয় দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। এক বছর মেয়াদি পাইলট প্রকল্প হিসেবে এটি গোয়ালন্দের দৌলতদিয়ায় বাস্তবায়ন করা হবে।প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও সাথী দাস বলেন, শাপলা মহিলা সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর নারী ও তাদের সন্তানদের নিয়ে কাজ করে আসছে। নতুন এই প্রকল্পের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং বিশেষ করে পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে আমি আশা করি। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা থাকবে।সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সালমা বেগম এবং গোয়ালন্দ ঘাট থানার প্রতিনিধি নাসির উদ্দিন। সভাটি সঞ্চালনা করেন প্রকল্পের প্রোগ্রাম ইমপ্লেমেন্টিং অফিসার মো. খোরশেদ আলম।
মঈনুল হক মৃধা, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট এলাকায় অবস্থিত বড় বড় মাছ বিক্রেতা চান্দু মোল্লা মৎস্য আড়তে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। প্রতিপক্ষের হামলায় চান্দু মোল্লার দুই ঘনষ্ঠি ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হয়ে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হামলাকারীরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় পৌনে তিন লাখ টাকাও লুট করে। শুক্রবার দুপুরের দিকে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শুক্রবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যায় মৎস্য আড়তের সত্ত্বাধিকারী চান্দু মোল্লা বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বাহির চর দৌলতদিয়া শাহাদৎ মেম্বার পাড়ার মাইনুদ্দিন শেখের ছেলে রমজান শেখ (৪০) ও জয়নাল শেখ (৩৭), একই এলাকার নোয়াই মণ্ডলের ছেলে আমিন মণ্ডলকে (৩৭) চিহিৃত এবং অজ্ঞাত আরও তিন থেকে চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত হামলকারীদের কাউকে গ্রেপ্তার বা আটক করতে পারেনি। এতে করে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দৌলতদিয়ার ৫ নম্বর ফেরি ঘাট এলাকায় অবস্থিত চান্দু মোল্লা মৎস্য আড়তের সত্ত¡াধিকারী মো. চান্দু মোল্লা বলেন, অভিযুক্ত রমজান শেখ পেশায় একজন জেলে। আমি যেহেতু আমার আড়ত ঘরে প্রতিনিয়ত মাছ বেচাকেনা করে থাকি। শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে রমজান শেখ আমার আড়তে মাছ বিক্রি করতে আসেন। এ সময় মাছের দরদাম নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। পরে তিনি চলে গেলে আমিও বাড়ি চলে যাই। আমার সঙ্গে খালাতো ভাই মমিন মণ্ডল (৩৬) ও ভাগ্নে শাহাদৎ বেপারী (৩৬) ব্যবসা দেখাশোনা করে। দুপুর দেড়টার দিকে রমজান তার ছোট ভাই জয়নাল শেখ ও স্থানীয় আমিন মণ্ডল সহ অজ্ঞাত কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আড়তে হামলা চালিয়ে মমিন মণ্ডলকে মারধর শুরু করে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় কোপ দিয়ে রক্তাত্ব জখম করে। ঠেকাতে গেলে ভাগ্নে শাহাদৎকেও মারধর করে আহত করে। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে তারা দ্রæত সরে যায়। খবর পেয়ে আমরা এসে মমিন ও শাহাদৎকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। চান্দু মোল্লা আরও বলেন, একটি পক্ষ আমার ব্যবসায়ীক সুনাম নষ্ট করতে এবং প্রতিহিংসা বশত হয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আড়ত ঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর লুটপাট করেছে। হামলাকারীরা যাওয়ার সময় আড়তের ককসিট বাক্সে রাখা ব্যবসার প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা লুট করে নেয়। এ ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত হামলাকারীদের কাউকে গ্রেপ্তার বা আটকও করেনি।স্থানীয় ব্যবসায়ী মাসুদ মোল্লা, সোহেল মোল্লা, লালন গাছি সহ আরও কয়েকজন বলেন, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে এভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যদি হামলার ঘটনা ঘটে তাহলে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সহ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি। অভিযোগের বিষয়ে রমজান শেখ বা তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি। বিধায় তাদের কারো কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় অভিযোগ পাওয়ার পর রাতেই অভিযোগটি মামলা হিসেবে রুজু করা হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
শামীম শেখ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে চালককে হত্যা করে তার ব্যবহৃত রিক্সাটি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হতভাগ্য রিক্সা চালকের নাম জাহিদ বিশ্বাস (৩২)। তিনি গোয়ালন্দ পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের জবানি পাড়া গ্রামের জামাল বিশ্বাসের ছেলে।শুক্রবার (১৭ জুলাই) বেলা তিনটার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের চামেলী পার্ক নামক এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ। পরিবারে জাহিদের বয়স্ক বাবা, মা, স্ত্রী এবং একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। তার মৃত্যুতে পরিবারটি চরম দুর্দশার মধ্যে পড়ে গেল। তার মৃত্যুতে পরিবার, এলাকাবাসী এবং অন্যান্য রিক্সা চালকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ এবং আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবার ও পুলিশ জানায়, জাহিদ বিশ্বাস সাধারণত রাতের বেলায় রিক্সা চালাতেন। রিক্সার ব্যাটারি নষ্ট হয়ে ৩-৪ দিন উপার্জনহীন অবস্থায় বাড়িতে বসে ছিলেন। পরবর্তীতে ধারদেনা করে বুধবার নতুন ব্যাটারি লাগিয়ে পরদিন বৃহস্পতিবার বিকেল ৫ টার দিকে রিক্সা নিয়ে বাড়ি হতে বের হন। কিন্তু বৃহস্পতিবার সারারাত এমনকি আজ শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে আত্মায় স্বজনসহ নানা জায়গায় তাঁর খোঁজ করতে থাকেন।শুক্রবার দুপুর দুইটার দিকে স্থানীয় লোকজন চামেলি পার্কের রাস্তার ঢালে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে থানা পুলিশে খবর দেয়। এমনকি স্থানীয়দের কেউ কেউ লোকজন ফেসবুকেও মরদেহের ছবি শেয়ার করেন। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজনও সেখানে ছুটে গিয়ে জাহিদ বিশ্বাসের লাশ হিসেবে পরিচয় সনাক্ত করেন। সংবাদ পেয়ে বিকেলে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ শহিদুল ইসলাম এবং গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।জাহিদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের বারান্দায় বসে বয়স্ক মা আহাজারি করছেন আর বিলাপ করছেন। এ সময় বৃদ্ধা মা আহাজারি করে বলছিলেন, কাইল (বৃহস্পতিবার) বিহেলে রিক্সা নিয়ে বাড়ি থেকে ব্যাটা আমার বাইর হয়েছে। সহালে বাড়ি আছে, কোনদিন রাইতেও আসে। আজ বেলা হইলেও বাড়ি না আসায় ওর বাপরে বলছিলাম, আমার ব্যাটা গেল কহানে। নিহতের স্ত্রী ঝরনা বেগম বলেন, ব্যাটারির কারনে দুই-তিনদিন রিক্সা বন্ধ ছিল। ধারদেনা করে ব্যাটার লাগানোর পর বৃহস্পতিবার বিকেলে রিক্সা নিয়ে বের হয়। আজ অনেক বেলা হলেও বাড়ি না আসায় দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই। এদিকে ফোনে টাকা না থাকায় পরে টাকা লোড দিয়ে ফোন দিয়ে দেখি বন্ধ। বেলা তিনটার দিকে ফেসবুকে লাশের ছবি দেখে থানায় আসি। আমার কারা এভাবে মারলো। আমি স্বামী হত্যার বিচার চাই। এ বিষয়ে ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার এবং সুরতাল প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে এ হত্যাকান্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। ধারনা করা হচ্ছে তার ব্যবহৃত রিক্সাটি ছিনিয়ে নিতে দূর্বৃত্তরা তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে থাকতে পারে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে নিহত ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি সাদিক হোসেন শুভর বাড়ি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড কুমড়াকান্দি গ্রামে। সাদিকের মৃত্যুর সংবাদে পরিবারসহ গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অকালে ছেলেকে হারিয়ে সাদিকের মা ছেলের পদক বুকে নিয়ে আহাজারি করছেন। তাঁদের আহাজারিতে গোটা পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে। সাদিক হোসেন শুভ স্থানীয় আশরাফ আলীর দ্বিতীয় ছেলে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বেলা এগারটার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ ফায়ার ঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে জেটির সামনে কচুরিপানা পরিষ্কার করতে গিয়ে নিখোঁজ হয় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি সাদিক হোসেন শুভ। প্রায় আট ঘন্টা চেষ্টার পর সন্ধ্যা সাতটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি মেরাজ আলী নদী থেকে সাদিকের লাশ উদ্ধার করেন। পরিবার জানিয়েছে, ময়না তদন্ত শেষে প্রধান কার্যালয়ে জানাযা শেষে গোয়ালন্দে আসে। বিকেল সাড়ে পাঁচটায় কুমড়াকান্দি ঈদগা মাঠে দ্বিতীয় জানাযা শেষে পৌরসভার কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। গোয়ালন্দ শহরের কুমড়াকান্দি নিহত সাদিক হোসেন শুভর বাড়িতে দেখা যায়, পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে। দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন এক নজর দেখতে সাদিকের বাড়ি এসে ভিড় করছেন। ভিড় ঠেলে বাড়ির ভিতর প্রবেশ করতেই দেখা যায়, ঘরের ভিতর উচুঁ স্বরে সাদিকের মা সহ স্বজনরা আহাজারি করছেন। সাদিকের সাহসী কার্যক্রমের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রাপ্ত পদক বুকে নিয়ে মা লিলি বেগম আহাজারি করছেন। এ সময় তিনি বিলাপ করে বলছিলেন, ‘আমার সাদিককে দুই বছর আগে বিয়ে দিয়েছি। বৌর নাম সাদিয়া খাতুন। সাদিক আর সাদিয়া মিলেমিশে কত সুন্দর একটি সংসার ছিল করছিল। আমার ব্যাটার মতো এমন ব্যাটা পৃথিবীতে আর একটাও নাই। এত ভালো ব্যাটা আমার কিভাবে মরলো? ওরে কি মাথায় বাড়ি দিয়ে (আঘাত করে) মারলো? নাকি ধাক্কা দিয়ে ফেলাইয়া মারলো? আমি সরকারের কাছে এর সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার চাই।’ এ সময় এক স্বজন আহাজারি করে বলেন, ‘কিভাবে ওর (সাদিক) মৃত্যু মরলো, আমরা বিচার চাই। কাজে গিয়ে কিভাবে কি ঘটছিল, কিভাবে ওর মৃত্যু হলো। আমরা এর সঠিক তদন্ত করে বিচার চাই। আমরা যেন সঠিক বিচার পাই।’ প্রতিবেশী চাচা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ফজলুল হক বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে শীতলক্ষ্যা নদীতে পড়ে সাদিকের নিখোঁজের সংবাদ পাই। খবর পেয়ে ওর বড় ভাই, বাবাকে সাথে করে নারায়ণগঞ্জ যায়। আজ সকালে ময়না তদন্ত শেষে বেলা সাড়ে এগারটায় ফায়ার সার্ভিসের প্রধান কার্যালয়ে জানাযা শেষে গোয়ালন্দে আনা হয়। বিকেল সাড়ে পাঁচটায় স্থানীয় ঈদগা ময়দানে দ্বিতীয় জানাযা শেষে পৌরসভার কেন্দ্রীয় কবর স্থানে দাফনের প্রস্তুতি চলছে। জানা যায়, ২০২১ সালের ২৪ অক্টোবর ফায়ার সার্ভিসে যোগ দেন সাদিক। তিনি ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি হিসেবে বিভিন্ন উদ্ধার অভিযানে নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতেন। গত ১৯ মে আয়োজিত পাসিং আউট প্যারেড ও পদক অনুষ্ঠানে ঝুঁকিপূর্ণ, সাহসিকতা ও সেবামূলক কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ সাদিককে প্রেসিডেন্ট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স (সেবা) পদক প্রদান করা হয়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামালের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপি।
সুমন বিশ্বাস, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে মাছের ঘেরে বিদ্যুতের লাইন ঠিক করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত মো. মোশারফ খান (৪০) উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের দবির খানের ছেলে৷স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে খাবার খেয়ে মোশারফ খান তাঁর মাছের ঘেরে যান। রাতে আর বাসায় ফেরেনা তিনি। পরদিন বৃহষ্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে এক অজ্ঞাত পথচারী ঘেরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পানির মধ্যে তাকে পড়ে থাকতে দেখে দুর্গাপুর স্ট্যান্ডে থাকা স্থানীয় লোকজনকে খবর দেয়।পরে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিস ও কালুখালী থানা পুলিশকে সংবাদ দিলে ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পানির মধ্যে থেকে মোশারফ খানের মরদেহ উদ্ধার করে।প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাছের ঘেরে থাকা বৈদ্যুতিক বাল্বের লাইন ঠিক করার সময় তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পানিতে পড়ে মারা যান।কালুখালী থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের জন্য মরদেহ ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।