রাজবাড়ী মেইল
সর্বশেষ

 সারাদেশ সারাদেশ

মতামতমতামত

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সোয়া কোটি টাকার সড়ক নির্মাণের দুই মাসেই ধস

মঈনুল হক, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার প্রায় সোয়া কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় ধসে পড়তে শুরু করেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ এইচবিবি (হেরিং বোন বন্ড) সড়ক। দৌলতদিয়া ইউনিয়নের প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের অন্তত ১৫টি স্থানে ধস দেখা দেওয়ায় নির্মাণ কাজের মান এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া আক্কাস আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে আশ্রয়ণ প্রকল্প হয়ে স্থানীয় রিকাতের দোকান পর্যন্ত সড়কটির দেড় কিলোমিটার এলাকা বিধ্বস্ত। চলতি বছরের ১২ মার্চ কাজ শুরু ১০ জুন কাজ শেষ হওয়ার পর এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে বলে আশা জাগলেও বৃষ্টিতে সেই আশা হতাশা ও ক্ষোভে রূপ নিয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে গ্রামীণ রাস্তা টেকসইকরণের লক্ষ্যে রাজবাড়ীর মেসার্স লাকী এন্টারপ্রাইজ নামক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এইচবিবিকরণ প্রকল্পের আওতায় সড়কের নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন হয়। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যায় ধরা হয় প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। যার চুক্তিমূল্য ছিল প্রায় ১ কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে উপজেলা প্রশাসন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। সরেজমিন দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধস সৃষ্টি হয়ে কোথাও ইটের গাইডওয়ালে ফাটল হয়ে নিচের অংশ দেবে গেছে। কয়েক স্থানে ইট উঠে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এছাড়া পুরোনো ও ছিদ্রযুক্ত বিটুমিনের ড্রাম শিট জোড়াতালি দিয়ে ব্যবহার করায় অনেক স্থানে খুলে পড়ছে। এ সময় দুইজন পুরুষ এবং দুইজন নারী শ্রমিককে ধসে পড়া স্থানগুলোতে সংস্কার কাজ করতে দেখা যায়। এ সময় আলাউদ্দিন নামের নির্মাণ শ্রমিক বলেন, বৃষ্টির পর গত চারদিন ধরে তারা রাস্তার ধসে পড়া স্থানগুলোতে বাইরে থেকে মাটি এনে মেরামতের কাজ করছেন। একপাশে গাইডওয়াল রয়েছে, অপর পাশে নেই। এক্ষেত্রে ঠিকাদার আমাদের যেভাবে কাজ করতে বলছেন আমরাও সেভাবেই করছি। তবে ভারি বৃষ্টি হলে নতুন রাস্তা হওয়ায় আবারও ধসে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।  স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজ চলাকালেই তারা নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদ করায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজের ইচ্ছামতো সামগ্রী ব্যবহার করেই কাজ শেষ করেন।আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, “সরকার মানুষের সুবিধার জন্য কোটি টাকা খরচ করেছে। কিন্তু কাজের মান ভালো না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। এখনই যদি এমন হয়, সামনে আরও বৃষ্টি হলে রাস্তার কী অবস্থা হবে?”স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল মোল্লার অভিযোগ, “সঠিক তদারকির অভাবেই সরকারের কোটি কোটি টাকার প্রকল্প ঝুঁকিতে পড়ছে। কাজের সময় অভিযোগ করার পরও শেষ পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”স্থানীয় আলতাফ শেখ বলেন, “রাস্তাটি হওয়াতে আমরা খুশি হয়েছিলাম। কাজের শুরুতে ভালোভাবে কাজ করার অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু ঠিকাদার আমাদের কথা গুরুত্ব দেননি। যেভাবে কাজ হওয়ার কথা ছিল, সেভাবে হয়নি।”নিম্নমানের নির্মাণকাজের অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সত্বাধিকারী আহসান হাবিব বলেন, “অতিরিক্ত বৃষ্টির কারনে রাস্তার কয়েক স্থানে ধসে পড়ে। মাটির স্বল্পতা থাকায় মেরামত কাজ করতে দেরি হয়। কয়েকদিন কাজ করে বুধবার শেষ করা হয়েছে। আবার কোথাও ধসে পড়লে প্রয়োজনে ঠিক করা হবে। আগামী এক বছর তো আমার দায়িত্বে থাকবে। তবে আমি শতভাগ কাজ সম্পন্ন করেছি। এমন কাজ সাধারণত কোন ঠিকদার করে না। এছাড়া গাইডওয়াল যেখানে যেখানে ধরা আছে আমরা সেখানেই করেছি। কোনো পাশে যদি ধরা না থাকে, তাহলে আমরা কিভাবে করবো। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আবু বকর বলেন, অভিযোগ পাওয়ার ঠিকাদারকে কাজের মান নিশ্চিত করতে বলা হয়েছিল। বৃষ্টির কারনে কয়েক স্থানে ধস দেখা দিলে ঠিকাদারকে দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়। ঠিকাদার সে মোতাবেক গত তিন-চারদিন কাজও করেছেন। এছাড়া ঠিকাদার বিল তুলে নিলেও জামানত, পে-অর্ডার ও পারফরমেন্সের ৩ শতাংশ টাকা এখনও আমাদের কাছে রয়েছে।

রাজবাড়ীতে গ্রাম পুলিশ সদস্য ও নারীকে বেঁধে ও গলায় জুতা পরিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

হেলাল মাহমুদ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাচুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের এক গ্রাম পুলিশ সদস্য ও এক নারীকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগে স্থানীয় লোকজন কোমড়ে রশি দিয়ে বেধে ও গলায় জুতা পরিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এমন একাধিক ভিডিও তিন দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঘুরপাক খাচ্ছে। নির্যাতনের শিকার গ্রাম পুলিশ বর্তমানে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি পাচুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে কাজ করতেন। তাঁদের এমন নির্যাতনের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় নির্যাতনের শিকার ওই নারী বর্তমানে এলাকা ছাড়া রয়েছেন।  ভিডিওতে দেখা যায়, ঘরের মধ্যে ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তির সঙ্গে একজন নারী এবং গ্রামপুলিশ কথা বলছেন। ওই নারীর সাথে কোনো অনৈতিক কাজ হয়নি দাবি করে ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তির সঙ্গে তর্ক করছেন। গ্রাম পুলিশ সদস্যও কলা বিক্রির টাকা নিতে এসে ফাসানো হয়েছে বলে দাবি করছেন। আরেক ভিডিওতে তাদের দুজনের গলায় জুতা এবং কোমড়ে রশি দিয়ে টেনে ঘোরাতে দেখা যায়। এ সময় উৎসুক অনেক নারী-পুরুষ এমনকি শিশু বাচ্চাদের দেখা যায়।  গ্রাম পুলিশ সদস্য দাবি করেন, তিনি রাজবাড়ীর শ্রীপুর বাজারে স্থানীয় দোকানগুলোতে কলা বিক্রি করতেন। রোববার (৯ আগষ্ট) সকাল সাতটার দিকে শ্রীপুর বাজারে কলা বিক্রি করছিলেন। এ সময় পাশের আলীপুর ইউনিয়নের কল্যাণপুর এলাকার পূর্ব পরিচিত এক নারী তাঁর কাছ থেকে কলা নেন। এক হাজার টাকার নোট ভাঙতি না থাকায় ওই নারী পরে দিচ্ছেন বলে চলে যান। সকাল ৮টার দিকে দিকে তিনি কল্যাণপুর বাজার ইটভাটার কাছে গিয়ে নারীকে ফোন করেন। বাড়ির কাছে যাওয়া মাত্র স্থানীয় আব্দুল কাদের বেপারীর ছেলে অটোরিকশা চালক লাভলু বেপারী (২৫) তাকে জোর করে ঘরের ভিতর নিয়ে পড়নের প্যান্ট খুলতে বলে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করে নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক আছে বলে চিৎকার করতে থাকে। এ সময় তার কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর শুরু করে। আশপাশের লোকজন ডেকে এনে তাঁদের মারধর করে। গলায় জুতার মালা, কোমড়ে রশি দিয়ে বেধে এবং নারীর চুল কেটে এলাকা ঘোরানো হয়।গ্রাম পুলিশ সদস্য বলেন, স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পরে তিনি মুক্ত হন। বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান দেখছেন। আমাদের সাথে চরম অন্যায় করা হয়েছে। ঘরে বয়স্ক ছেলে থাকা অবস্থায় কোন নারী অনৈতিক কাজ করতে পারেন না। এছাড়া ঘরের দরজা খোলা ছিল। লাভলুর সঙ্গে ওই নারীর সম্পর্ক ভালো না থাকায় নির্যাতন করে আমার দুটি দাঁত ভেঙে ফেলেছে। এ ঘটনার পর লজ্জায় আমার স্ত্রী ও সন্তান এখন পর্যন্ত আমাকে দেখতে আসেনি। পাচুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবর রহমান বলেন, ভিডিওটি ফেসবুকে দেখেছি। ঘটনার দিন কয়েকজন গ্রাম পুলিশকে মোটরসাইকেলে করে আমার ইউনিয়ন পরিষদে দিয়ে এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের কারনে মারধরা করা হয়েছে বলে জানিয়ে যায়। আমরা ঘটনার প্রকৃত কারন খতিয়ে দেখছি। তিনি অপরাধ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধ না করলে করণীয় নিয়ে ভাববো। তবে আইনগত পদক্ষেপ তিনি এবং তার পরিবার সিদ্ধান্ত নিবেন। এ ধরনের ভিডিও নজরে এসেছে জানিয়ে রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, এখন পর্যন্ত নির্যাতনের শিকার কেউ অভিযোগ দেয়নি। ভিডিওতে যা দেখেছি খুবই দুঃখজনক। এভাবে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নৌযান শুমারি উপলক্ষে নৌ মহড়া

মঈন মৃধা, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নৌযান শুমারি ২০২৬ উপলক্ষে নৌ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ২০ থেকে ২৯ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত নৌযান শুমারি কার্যক্রমকে সামনে রেখে এ মহড়ার আয়োজন করা হয়।সোমবার (১০ আগস্ট) বিকালে দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট থেকে লঞ্চযোগে নৌ মহড়া শুরু হয়ে উড়াকান্দা এলাকায় গিয়ে মহড়াটি শেষ হয়। মহড়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। নৌপথে শুমারি কার্যক্রম সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে পরিচালনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক  আফরোজা পারভীন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. তারিফ-উল-হাসান, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল হুদা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ শাহিদুল ইসলাম, জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপপরিচালক মোঃ রেজাউল করিম, গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সফিকুল ইসলাম সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।নৌযান শুমারি ২০২৬-এর মূল লক্ষ্য দেশের নৌযান সম্পর্কিত সঠিক ও হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করা। শুমারির মাধ্যমে নৌযানের সংখ্যা, ধরনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এ তথ্য দেশের নৌপরিবহন খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।এসময় সংশ্লিষ্টরা বলেন, নৌযান শুমারি সফল করতে শুমারিকর্মীদের সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি নৌপথে শুমারি কার্যক্রম পরিচালনার সময় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ নৌযান শুমারি আগামী ২০–২৯ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। শুমারি কার্যক্রম সফল করতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

১৭ দিন নিখোঁজের পর রাজবাড়ী সদর থানা ওসির সহযোগিতায় মাকে ফিরে পেলো পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ নিখোঁজের ১৭ দিন পর মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন বৃদ্ধা জোবেদা খাতুনকে (৬৬) ফিরে পেলো তাঁর পরিবার। শনিবার রাতে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিবারের সদস্যদের কাছে বৃদ্ধা জোবেদা খাতুনকে বুঝিয়ে দেন। এ সময় রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষসহ বৃদ্ধার ছেলে ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৃদ্ধা জোবেদা খাতুন নীলফামারী সদর উপজেলার নীলফামারী বাজার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়ারেছিপাড়ার জিয়ার উদ্দিন রহমানের স্ত্রী। মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন বৃদ্ধা জোবেদা খাতুন গত ১৭দিন আগে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরেনি। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও না পাওয়ায় স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়রী করেন। পুলিশ ও পরিবার জানায়, বৃহস্পতিবার (৬ আগষ্ট) বিকেলে রাজবাড়ী পৌরসভা কার্যালয়ে সামনে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় একটি ব্যাটারি চালিত ইজিবাইকের সাথে ধাক্কায় রাস্তায় পড়ে আহত হন বৃদ্ধ জোবেদা খাতুন। এ সময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় ইজিবাইক চালক ও পাশেই অবস্থিত সদর থানা পুলিশ তাঁকে দ্রæত সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে ঠোটে সেলাইসহ চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় মহিলা সার্জারী ওয়ার্ডে ভর্তি রাখে। কিন্তু তিনি কথা বলতে না পারায় পরিচয় শনাক্ত করা যাচ্ছিল না। পরে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মনজুর মোরশেদের নির্দেশে শনিবার (৮ আগষ্ট) সকালে ফরিদপুর থেকে সিআইডির একটি টিম তাঁর আঙ্গুলের ছাপ গ্রহণের পর জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বের করে।  সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ জানান, ইজিবাইক চালকের সহযোগিতায় আহত বৃদ্ধাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ সময় ইজিবাইক চালক এবং আমরা যাবতীয় ওষুধপত্রের ব্যবস্থা করি। কিন্তু বৃদ্ধা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলায় এবং কথা বলতে না পারায় পরিচয় জানতে পারছিলাম না। পুলিশ সুপারের নির্দেশে ফরিদপুর থেকে সিআইডির টিম শনিবার সকালে বৃদ্ধার আঙ্গুলের ছাপ গ্রহণ করে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য বের করলে জানতে পারি তাঁর বাড়ি নীলফামারী জেলায়। এ সময় আমরা প্রযুুক্তিগত সহায়তায় জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে নিবন্ধিত মুঠোফোন নাম্বার সংগ্রহ করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারি তাঁর এক ছেলে নীলফামারী পুলিশ লাইনে ম্যাসে কাজ এবং আরেক ছেলে চাকুরি করেন। পরে সাভারে থাকা ছেলে রাতেই রাজবাড়ী পৌঁছলে রাত ৯টার দিকে বৃদ্ধাকে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ইজিবাইক চালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ইজিবাইক নিয়ে রাজবাড়ী শহরের যাওয়ার সময় এক বৃদ্ধা থাক্কা খেয়ে সড়কে পড়ে যান। এ সময় পাশে উপস্থিত সদর থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করি এবং যাবতীয় ওষুধপত্র কিনে দেই। কিন্তু তিনি কথা বলতে না পারায় আমরা দুশ্চিন্তায় ছিলাম। পরে ওসি স্যারের চেষ্টায় পরিবারকে খুঁজে বের করে তাদের হাতে দিতে পারায় স্বস্তি ফিরছে।  জোবেদা খাতুনের ছেলে শাহিনুর রহমান বলেন, কয়েক মাস আগে মা স্ট্রোক করলে শরীরের একপাশ অবস হয়ে পড়ায় অনেকটা মানসিকভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। ১৭দিন আগে মা বাড়ি থেকে সবার অজান্তে বের হওয়ার পর অনেক খোঁজ করে না পাওয়ায় থানায় জিডি করি। এরপর মাকে অনেক খুঁজেছি কিন্তু কোথাও পায়নি। শনিবার দুপুরে রাজবাড়ী সদর থানার ওসি স্যার ফোন করে জানালে আমরা চলে আসি। অনেকদিন পর মাকে খুঁজে পেয়েছি, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। সদর থানা ওসি স্যারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

রাজবাড়ীঃ মাদকের পাওনা টাকার জেরে যুবককে হত্যা; অসহায় পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে মাদকের বিনিময়ে অন্যের পাওনা টাকা উঠানো নিয়ে বিরোধের জেরে শরিফুল ইসলাম ওরফে হিরাকে হত্যা করা হয় বলে গ্রেপ্তার কামরুল ফকির আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। গত শনিবার বিকেলে রাজবাড়ীর বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট, সিজেএম রাজবাড়ী আদালতের বিচারক আরিফ হোসাইন আসামীর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে দুই সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন শরিফুল ইসলাম হিরার পরিবার। শনিবার (৮ আগষ্ট) সকাল ১০টার দিকে গোয়ালন্দ বাজারের তোড়াইয়ের মোড়সংলগ্ন রেললাইনের পাশে পথরোধ করে তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে শরিফুল ইসলাম হিরার (৪০) বুকে ধারালো চাকু বিদ্ধ করে কামরুল ইসলাম ফকির (৩৫)। চিৎকারের আওয়াজ শুনে স্ত্রীসহ স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে শরিফুল তার বুক থেকে চাকুটি টেনে বের করার আকুতি জানায়। স্থানীয় লোকজন প্লাস দিয়ে চাকুটি টেনে বের করে দ্রুত গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।   নিহত শরিফুল ইসলাম হিরা গোয়ালন্দ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাজী পাড়া এলাকার মৃত জাবেদ শেখের ছেলে। সে কার্যক্রম নিষিদ্ধ গোয়ালন্দ পৌর যুবলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করেন গোয়ালন্দ পৌর যুবলীগের সভাপতি শেখ মো. সোহেল। শরিফুল ইসলাম হিরা পৌরসভার অটোরিকশা পার্কিংয়ের টাকা তোলার কাজ করতেন।  গ্রেপ্তারকৃত কামরুল ফকির গোয়ালন্দ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড কুমড়াকান্দি গ্রামের মৃত সিদ্দিক ফকিরের ছেলে। সে পেশায় পিকআপ গাড়ির চালক ছিলেন। এ ঘটনার পর সে বাড়ি থেকে ব্যাগে কাপড় নিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। পরে শনিবার দুপুরে পৌরসভার কুমড়াকান্দি রেলব্রিজ এলাকা থেকে পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করে। পুলিশ হত্যাকাÐে ব্যবহৃত ধারালো চাকুটিও জব্দ করেছে।  স্থানীয়দের অভিযোগ, গোয়ালন্দ বাজারের তোড়াইয়ের মোড় থেকে কুমড়াকান্দি রেলেরব্রিজ পর্যন্ত নিয়মিত মাদকের কারবার চলে। গ্রেপ্তারকৃত কামরুল ফকির একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। নিহত শরিফুল ইসলাম হিরাও মাদক কারবারে জড়িত। মাদক কারবারের টাকার ভাগাভাগি নিয়ে হত্যাকাÐটি ঘটেছে। শনিবার গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্ত কামরুল সাংবাদিকদের জানায়, শরিফুল ইসলাম হিরা ইয়াবা ব্যবসা করে। তার আবদারে পৌরসভার আড়কাটি পাড়ার চন্দন বিশ্বাসের কাছ থেকে কিছুদিন আগে ৯ হাজার টাকার ইয়াবা এনে দেন। সেই টাকা পরিশোধ না করায় চন্দন আমার মোবাইলফোন আটকে রাখে। আমার ফোন ছাড়াতে শরিফুলকে দ্রুত টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিলে কিছু টাকা দেন। এরপর শরিফুলের পায়ে পর্যন্ত ধরেছি কিন্তু টাকা দেয়নি।  আদালতে কামরুলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম জানান, নিহত শরিফুল ও কামরুল ঘনিষ্ট বন্ধু ছিল। কিছুদিন আগে কামরুলের কাছ থেকে শরিফুল ৬ হাজার টাকা ধার নেন। ওই টাকা পরিশোধের কথা বললে শরিফুল তালবাহানা করতে থাকে। কিছুদিন আগে ৩ হাজার টাকা দিলেও বাকি টাকা পরিশোধ না করায় তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। শুক্রবার (৭ আগষ্ট) রাতে শরিফুলের বাড়িতে টাকা চাইতে গেলে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ক্ষিপ্ত হয়ে কামরুল পরদিন শনিবার সকালে সঙ্গে চাকু নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শরিফুল বাড়ি থেকে বের হয়ে বাজারে যাওয়ার সময় পথরোধ করলে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতে থাকা চাকু শরিফুলের বুকের বিদ্ধ করে। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে শনিবার রাতেই আসামীকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।  শরিফুল ইসলাম হিরার ছেলে সাজ্জাদ হোসেন হিমেল জানায়, শনিবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে জানাজা শেষে পৌরসভার কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। আমার বাবার সাথে কামরুলের কি সম্পর্ক ছিল জানা নেই। তবে আমি আমার বাবা হত্যার বিচার চাই। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবাকে হারিয়ে আমরা এখন অসহায় হয়ে পড়েছি। 

উত্তরাধিকার সূত্রে দেশের চল্লিশ শতাংশ যুব সমাজ কোন শিক্ষায় নেই - প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা তিুতমীর

ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি, যে বাংলাদেশের যুব সমাজের চল্লিশ শতাংশ কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নাই, কোন প্রশিক্ষণে নাই, কোন কর্মসংস্থানেও নাই। এই রকম যাদের মেরিটোরিয়াস, আপনারা তাালিকা দেখেন, দেখবেন যে একটা পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের নীতির ধারাবাহিকতা। এটা মৌলিক প্রশ্ন, কারণ আমাদের দেশে হওয়ার দরকার ছিল ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট’ অর্থাৎ জনমিতিক লভ্যাংশ।  গতকাল শুক্রবার (৭ আগষ্ট) সন্ধ্যায় রাজবাড়ী পৌরসভার রজনীগন্ধ্যা মিলনায়তনে ২০২৫ সালের এসএসসি ও এইচএসসি এবং সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রাজবাড়ী জেলা পরিষদের অর্থায়নে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা পরিষদ। অনুষ্ঠানে মোট ৯১ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে বিভিন্ন অংকে মোট ১৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকার বৃত্তি প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, যে কোন দেশে পৃথিবীতে এগিয়ে যায় তখনই, যার যুব সমাজ অর্থনীতিকভাবে ক্রীয়াশীল হয়। এই এটা সবগুলো দেশে একবার আসে এবং এটা সর্বোচ্চ। অর্থাৎ বিটশীল ২০২০ সাল থেকে ২০২২ সাল। আর এটা শেষ হবে ২০৩৫ সাল থেকে ২০৪০ সাল। তার নামে ইতিমধ্যেই ৬০ শতাংশ আমাদের দেশ থেকে, জাতি থেকে হারিয়ে গেছে। জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। সামাজিক বিরোধ সৃষ্টি করতে উগ্র মৌলবাদের একটি পদচারণা দেখতে পাচ্ছেন জানিয়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, এই সমস্যা প্রত্যেকটি পরতে পরতে সরকারকে ফেস করতে হচ্ছে। এই সমস্ত বিষয় মোকাবেলা করেই সরকারের প্রতিশ্রæতি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক কল্যান চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির প্রমূখ। এর আগে শুক্রবার বিকেলে রাজবাড়ী সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এডিপির বিশেষ বরাদ্দের আওতায় সদর উপজেলার ১৯৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী, বাদ্যযন্ত্র (হারমোনিয়াম ও তবলা) এবং স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করা হয়। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।এই অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি রাজবাড়ী থেকে ২৫ জন শিশুকে অ্যাক্রোবেটিকের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য চীনে পাঠানো হয়েছে। তারা প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে এলে বাংলাদেশের সার্কাসকে বিশ্বমানের আধুনিক অ্যাক্রোবেটিক সার্কাসে রুপান্তরের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।এছাড়া আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে দেশব্যাপী প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও কর্মময় জীবন নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হবে। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এ প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় থেকে আঞ্চলিক উৎসব ও জাতীয় পর্যায়ে আয়োজন করা হবে। সারাদেশ থেকে বাছাইকৃত শিল্পীরা ঢাকায় যাবেন। সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত জবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করা হবে। যাত্রা শিল্পকেও চীনের অপেরার আদলে আমরা আনবো।রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ সহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পতিত সরকার শিক্ষা, সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে - রাজবাড়ীতে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা তিতুমীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকাল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, পতিত সরকার শিক্ষাকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। সংস্কৃতি বলে কিছুই নাই, ক্রীড়ার ক্ষেত্রেও আমরা পিছনে। আমরা অন্য দেশের উত্তেজনায় খুশি হই। কিন্তু আমরাও বিশ্ব দরবারে আমাদের ক্রীড়া, সংস্কৃতি এবং শিক্ষা তথা দক্ষ জনগোষ্ঠির মাধ্যমে নিজের অবস্থানকে নিশ্চিত করতে পারি। আমাদের সরকার সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।শুক্রবার (৭ আগষ্ট) দুপুরে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের এডিপি (বিশেষ) বরাদ্দের আওতায় গোয়ালন্দ উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে ক্রীড়া সামগ্রী, সাউন্ড সিস্টেম ও হারমোনিয়াম বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা তিতুমীর বলেন, জাতি গঠনের সবচেয়ে বড় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ হচ্ছে শিশু, কিশোর এবং যুবকদের মধ্যে সংস্কৃতি, ক্রীড়া এবং বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা। তারই অংশ হিসেবে অর্থাৎ আমরা সুনাগরিকের অংশ হিসেবে বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী, সংস্কৃতি সামগ্রী বিতরণ করলাম। লক্ষ্য হচ্ছে আগামী জানুয়ারী মাসে যখন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে, তখন অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ এবং মাদরাসাগুলো তিনটা ক্যালেন্ডার দিবেন। একটি হলো বার্ষিক শিক্ষা কর্মসূচি, দ্বিতীয় বার্ষিক সংস্কৃতিক কর্মসূচি ও তৃতীয়তো বার্ষিক ক্রীড়া কর্মসূচি। যাতে করে, আমরা আমাদের হৃত যে গৌরব সেই গৌরবের পথে যেতে পারি। অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে দেশের সবগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বার্ষিক পরিকল্পনাকৃত ক্যালেন্ডার তৈরি করে দিবেন। যার মাধ্যমে মানুষ সৃষ্টি করার বড় রকমের পরিবর্তন আসতে পারে। শিক্ষা, দক্ষতা এবং কর্মসংস্থানের ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। যাতে আমরা সবাই মিলে বড় রকমের পরিবর্তন আনতে পারি।     রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।  সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, আমরা বাংলাদেশে সুষ্ঠু, সুস্থ্য এবং স্বাবলিল সংস্কৃতি দেখতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সেটাই আহ্বান এবং আমাদের সেটাই কর্মসূচি। সুস্থ্য, স্বাবলিল সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সংস্কৃতিতে পৃষ্ঠপোষকতা না থাকার কারনে মারাত্মকভাবে এটার অধপতন হয়েছে। যার কারনে আমাদের দেশে যুব সমাজের মধ্যে নানা রকম প্রবণতা লক্ষ্য করি। আমাদের যুব সমাজ হচ্ছে আগামী দিনের ভবিষ্যত। তাদেরকে সামেন রেখে একটা সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সংস্কৃতির একটা বিড়াট ভূমিকা আছে। আমরা আশা করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমাদের সংস্কৃতি সহ সমস্ত ক্ষেত্রে উল্লেখ্যযোগ্য অগ্রগতি সাধন করবো। তিনি আরও বলেন, রাজবাড়ীর আর্থ সামজিক উন্নয়নে আমরা অনেক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আমাদের পরিকল্পনার প্রস্তুতির কাজ চলছে। সমস্ত ক্ষেত্রে শিক্ষা, সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক অবকাঠামো, আইনশৃঙ্খলা, স্বাস্থ্য সমস্ত ক্ষেত্রে কাজ করছি। চলতি অর্থ বছরে আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে বলে আশা করছি।      অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম, পুলিশ সুপার মনজুর মোরশেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শংকর চন্দ্র বৈদ্য, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল হুদা, গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সভাপতি নিজাম উদ্দিন শেখ, সাবেক সভাপতি সুলতান-নূর ইসলাম মুন্নু, সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সহিদুল ইসলাম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।গোয়ালন্দ উপজেলার ৫১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে খেলার সামগ্রী এবং হারমোনিয়াম প্রদান করা হয়। এছাড়া ৬টি মাদরাসার মাঝে সাউন্ড সিস্টেম প্রদান করা হয়। এডিপির অর্থায়নে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৫ লাখ টাকার সামগ্রী প্রদান করা হয়। পরে তাঁরা বিকেলে রাজবাড়ী জেলা সদরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

রাজবাড়ীতে র‌্যাবের হাতে সাব-মেশিনগান ও বিদেশী পিস্তল, গুলি সহ গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের দল অভিযান চালিয়ে রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাচুরিয়া মহিষখোলা মোল্লাবাড়ী এবং গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা জলিল মেম্বার ব্রীজ এলাকা থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার (৫ আগষ্ট) রাতে তাদের কাছ থেকে একটি সাব-মেশিনগান, দুটি ম্যাগাজিন ও ২৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং একটি বিদেশী পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও ৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজসহ কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক (পরিচালক) অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগষ্ট) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তারকৃতদের গুলি সহ আগ্নেয়াস্ত্র সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করা হচ্ছে বলে জানান।   জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি চৌকস অভিযানিক দল বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাচুরিয়া ইউনিয়নের মহিষখোলা মোল্লাবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোমিন মোল্লা (৪০) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে। সে স্থানীয় মহিষখোলা গ্রামের আফজাল মোল্লার ছেলে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি বিদেশী তৈরি স্টার্লিং সাব-মেশিনগান, দুটি ম্যাগাজিন ও ২৮ রাউন্ড তাজা কাতুর্জ সহ দুটি মুঠোফোন জব্দ করে র‌্যাব। অপর এক অভিযান র‌্যাব সদস্যরা বুধবার রাত সাড়ে দশটার দিকে জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের জলিল মেম্বার ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাসান আলী বিশ্বাস (৩৬) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে। সে স্থানীয় ছোটভাকলা গ্রামের মো. বাবু বিশ্বাসের ছেলে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, ৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারসহ জব্দ করে। এ ছাড়া তাঁর কাছ থেকে চারটি মুঠোফোন ও নগদ ২৫ হাজার টাকাও উদ্ধার করে র‌্যাব।   রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, বেলা তিনটার দিকে র‌্যাব আগ্নেয়াস্ত্রসহ আসামীকে থানায় সোপর্দ করেছে। এ ঘটনায় র‌্যাব বাদী হয়ে থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেছে। সময় স্বল্পতার কারনে আগামীকাল শুক্রবার আসামীকে আদালতে পাঠানো হবে। এদিকে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, বেলা আড়াইটার দিকে র‌্যাব আগ্নেয়াস্ত্রসহ আসামীকে থানায় দিয়ে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে। পরে তাৎক্ষনিকভাবে দেরি না করে আসামীকে রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হয়েছে।র‌্যাব আরও জানায়, নিরবচ্ছিন্ন গোয়েন্দা তৎপরতা, দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও পেশাদারিত্বের একটি উদারহরণ ছিল এই সকল অভিযান। অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের উৎস ও ব্যবহারকারীদের চিহিৃত করে আইনের আওতায় আনতে র‌্যাবের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত ইউএনওর মতবিনিময়

ফিরোজ আহম্মেদ, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল হুদার সঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে গোয়ালন্দ সাংবাদিক ফোরামের সদস্যদের সাথে তিনি পরিচিতিপর্ব এবং মতবিনিমিয় সভা করেন।সভায় নবাগত ইউএনও সাইফুল হুদা ছাড়ার অনুষ্ঠানের উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান, গোয়ালন্দ সাংবাদিক ফোরামের আহ্বায়ক ও দৈনিক যুগান্তর রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি হেলাল মাহমুদ, সংগঠনের সদস্য সচিব ও দৈনিক ইনকিলাবের গোয়ালন্দ সংবাদদাতা মোজাম্মেল হক লাল্টু, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক প্রথম আলো রাজবাড়ী প্রতিনিধি এম রাশেদুল হক, গোয়ালন্দ সাংবাদিক ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক ও দৈনিক যুগান্তরের গোয়ালন্দ প্রতিনিধি শামীম শেখ, জাতীয় অর্থনীতির ষ্টাফ রিপোর্টার সফিকুল ইসলাম শামীম, গোয়ালন্দ ফোরামের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও বাংলা ট্রিউবিউন এর রাজবাড়ী প্রতিনিধি মঈনুল হক, সাংবাদিক ফোরামের যুগ্ম সদস্য সচিব সাজ্জাদ হোসেন, ফোরামের সদস্য মজিবুর রহমান জুয়েল, এসএ টিভির প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম প্রমূখ বক্তব্য রাখেন। এ সময় গোয়ালন্দ সাংবাদিক ফোরামের সদস্য ছাড়াও অন্যান্য সংগঠনের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় নবাগত ইউএনও সাইফুল হুদা, গোয়ালন্দ উপজেলার মাদক নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, শিক্ষা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করণসহ সার্বিক উন্নয়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। সকলের সহযোগিতা পেলে গোয়ালন্দ উপজেলার জন্য ভালো কিছু করে যেতে চান তিনি।

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

রাজবাড়ীতে ৩২ বছর পর আ.লীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যানের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

স্মৃতি-গান আর আড্ডায় খানখানাপুর তমিজুদ্দিন খান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান

পুরোনো রাউটারকে বানিয়ে ফেলুন ওয়াই-ফাই এক্সটেন্ডার

চামড়া সংরক্ষণে বিনামূল্যে ৩০ হাজার টন লবণ দেবে সরকার

গোয়ালন্দে ছয় মামলার আসামি, ডাকাত দলের সদস্য গ্রেপ্তার

অন্য কেউ আপনার জিমেইল ব্যবহার করছে? এখনই ব্যবস্থা না নিলে হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি!

দৌলতদিয়ায় যৌনপল্লীর নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় ‘প্রজন্ম সোপান’প্রকল্পের উদ্বোধন

দৌলতদিয়া ঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও চাঁদাবাজি চলবে না - সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী মাহমুদ

রাজবাড়ীতে দুই বন্ধু মিলে প্রেমিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ, তরুণকে আটক করে পুলিশে দিল এলাকাবাসী

১০

বাজেটে কৃষি খাতে ৪০ শতাংশ উন্নয়ন বরাদ্দের দাবি

জনপ্রিয় সব খবর

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সোয়া কোটি টাকার সড়ক নির্মাণের দুই মাসেই ধস

রাজবাড়ীতে গ্রাম পুলিশ সদস্য ও নারীকে বেঁধে ও গলায় জুতা পরিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নৌযান শুমারি উপলক্ষে নৌ মহড়া

গোয়ালন্দের দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র একজন করে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেছে

১৭ দিন নিখোঁজের পর রাজবাড়ী সদর থানা ওসির সহযোগিতায় মাকে ফিরে পেলো পরিবার

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের উজানচর ভূমি অফিসে চার মাসের ব্যবধানে দুইবার চুরি

রাজবাড়ীঃ মাদকের পাওনা টাকার জেরে যুবককে হত্যা; অসহায় পরিবার

উত্তরাধিকার সূত্রে দেশের চল্লিশ শতাংশ যুব সমাজ কোন শিক্ষায় নেই - প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা তিুতমীর

পতিত সরকার শিক্ষা, সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে - রাজবাড়ীতে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা তিতুমীর

১০

রাজবাড়ীতে র‌্যাবের হাতে সাব-মেশিনগান ও বিদেশী পিস্তল, গুলি সহ গ্রেপ্তার ২

সর্বশেষ সব খবর

 বানিজ্য বানিজ্য

রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের পোষ্টমাষ্টার সহ ১৩ জনকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ

রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের পোষ্টমাষ্টার সহ ১৩ জনকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে সঞ্চয় হিসাব খোলার নামে প্রতারণা ও জালিয়াতারি মাধ্যমে সাদা কাগজে দাপ্তরিক সিল ব্যবহার করে গ্রাহকের প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় পোষ্টামাষ্টর সহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। তাঁদেরকে আগামী ৩ নভেম্বর আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভূক্তভোগী নাছরিন আক্তারের করা মামলায় রাজবাড়ীর অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ও সদর আমলি আদালতের বিচারক হায়দার আলী এ আদেশ দেন।  মামলার বাদী নাছরিন আক্তার রাজবাড়ী সদর উপজেলার চর লক্ষ্মীপুর গ্রামের সেলিম মিয়ার স্ত্রী। তিনি দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় মামলাটি করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে সমন জারির নির্দেশ দেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট অশোক কুমার ঘোষ-২, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম লাভলু ও অ্যাডভোকেট খান মো. জহুরুল হক। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজবাড়ী সদর আমলী আদালতে ভূক্তভোগী গ্রাহকদের পক্ষে নাছরিন আক্তার নামের এক গ্রাহক দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের পোষ্টামাষ্টার বিকাশ চন্দ্র বিশ^াস, লেটার রাইটার শিহাব মৃধা, পিএলআই এজেন্ট মাহবুব মৃধা, লেটার রাইটার মাহবুবুর রহমান, পোষ্টাল অপারেটর নাজমুল হাছান, ট্রেজারার পবিত্র কুমার সরকার, এম.এল.এস.এস মো. রেজাউল আলম, পোষ্টাল অপারেটর মো. গোলাম মোস্তফা বাচ্চু, পোষ্টাল অপারেটর এস এম নুরুজ্জামান, পোষ্টাল অপারেটর আসমা আক্তার, প্যাকার কাম মেইল ক্যারিয়ার বিউটি রানী দাস, পোষ্টাল কর্মচারী নুরুল মাসুদ ও রোকসানা আক্তার। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে সকলের বিরুদ্ধে সমন ইস্যুর আদেশ দেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট অশোক কুমার ঘোষ-২, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম লাভলু ও অ্যাডভোকেট খান মো. জহুরুল হক। অভিযোগে বলা হয়, সঞ্চয় হিসাব খোলার নামে সাদা কাগজে দাপ্তরিক সিল ব্যবহার করে ৬১ জন গ্রাহকের কাছ থেকে ৯২ লাখ টাকা নেওয়া হয়। রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের পোষ্ট মাষ্টার বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাসসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহায়তায় এটি করেন লেটার রাইটার শিহাব মৃধা। তবে ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়। ডাক বিভাগের তথ্যমতে, ‘লেটার রাইটার’ স্থায়ী বা রাজস্বভুক্ত কোনো পদ নয়। তবে কিছু ডাকঘরে কাজের সুবিধার জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে এ ধরনের লেটার রাইটার হিসেবে কোনো ব্যক্তিকে নিয়োগ করা হয়। অভিযুক্ত শিহাব মৃধা রাজবাড়ী সদর উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নের রশোড়া বাঘিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। জানা গেছে, গত ১৩ জুলাই কুষ্টিয়া বিভাগীয় ডাক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে যান। সে সময় লেটার রাইটার শিহাবকে ডাকঘরে পাওয়া গেলেও তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। পরে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান। এরপর থেকেই তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি।অন্যদিকে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা ডাকঘরে এসে তাদের অর্থ ফেরতের দাবি জানাচ্ছেন। বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করছেন। এ অভিযোগের মধ্যে ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে পোষ্টামাষ্টার বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাসকে সম্প্রতি কুষ্টিয়ায় বদলী করা হয়েছে।গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে ১৬ জুলাই খুলনা দক্ষিণাঞ্চলের পোস্টমাস্টার জেনারেল (চলতি দায়িত্ব) কবির আহমেদ স্বাক্ষরিত এক পত্রে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটিতে খুলনা দক্ষিণাঞ্চলের অতিরিক্ত পোস্টমাস্টার জেনারলকে সভাপতি, খুলনা সার্কেল অফিসের সুপারিনটেনডেন্টকে সদস্য সচিব, ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল (তদন্ত) দক্ষিণাঞ্চল খুলনা ও কুষ্টিয়া বিভাগের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেলকে সদস্য করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রæত তদন্ত শেষ করে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিধি-বিধানের অপর্যাপ্ততা বা পদ্ধতিগত কোনো ত্রæটির কারণে সরকারি ক্ষতি সংঘটিত হয়ে থাকলে তা সংশোধন, নিরসন ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষে যুক্তসংগত প্রস্তাব বা সুপারিশসমূত তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া কুষ্টিয়া বিভাগীয় কার্যালয় থেকেও চার সদস্যের পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের সদ্য যোগ দেওয়া পোষ্টমাষ্টার শামীম আহমেদ বলেন, শিহাব মৃধা ২০২১ সাল থেকে ‘হেল্পিং হ্যান্ডস’ হিসেবে লেটার রাইটারের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি সরকারি রাজস্বভুক্ত কর্মচারী নন। গত বছর সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছর জুন পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনা ঘটে। তিনি রাজবাড়ীতে যোগদানের পর ৬ জুলাই এক গ্রাহকের কাছে সাদা কাগজের স্লিপ পাওয়ার পর একে একে প্রকাশ্যে আসে। বিষয়টি জানতে পেরে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাঁদের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে। 

ফরিদপুরে যাত্রা শুরু করল ‘পেয়ালা ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’

ফরিদপুরে যাত্রা শুরু করল ‘পেয়ালা ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’

মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুরঃ ফরিদপুর শহরের নীলটুলীস্থ্ মসজিদ বাড়ি সড়ক এলাকায় ডায়াবেটিক হাসপাতালের অপজিটে আধুনিক ও মনোরম পরিবেশে যাত্রা শুরু করেছে ‘পেয়ালা ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে ফিতা ও কেক কেটে প্রতিষ্ঠানটির শুভ উদ্বোধন করেন ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল।উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলুর রহমান মিলন, পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ আলাউল হোসেন তনু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মোজাম্মেল হোসেন মিঠু, মোল্লা খিচুড়ির পরিচালক মো. সোহানুর রহমান সোহান, ফরিদপুর ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলের পরিচালক মো. রাজন সরদার, পেয়ালা ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের পরিচালক মো. রাকিবুল হাসান, মো. কাউসার সহ অন্যান্য অতিথিরা।এ উপলক্ষে মিরাদ, দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ফরিদপুর চৌরঙ্গী জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মো. মোশাররফ হোসেন।পেয়ালা ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের কর্তৃপক্ষ জানায়, শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে আগামী তিন দিন সকল খাবারে ২০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে। আধুনিক পরিবেশে মানসম্মত খাবার ও সেবার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ফরিদপুরবাসীর কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজবাড়ীতে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস বাংলাদেশ উদযাপনে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা

রাজবাড়ীতে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস বাংলাদেশ উদযাপনে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ গ্রাহকদের ডিজিটাল ব্যাংকিং ও বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক আর্থিক লেনদেনে উৎসাহিত করতে রাজবাড়ীতে পূবালী ব্যাংব পিএলসি এর উদ্যোগে সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজবাড়ী শহরের কাপড়বাজার সংলগ্ন কাজী মোনাক্কা টাওয়ারে রাজবাড়ী শাখা পূবালী ব্যাংকের আয়োজনে মঙ্গলবার বিকেলে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। “এক দেশে এক কিউআর, লেনদেনে বাংলা কিউআর’ এবং লেনদেন হচ্ছে ক্যাশলেস, এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ”-এই দুটি স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিঞা। পূবালী ব্যাংক পিএলসি রাজবাড়ী শাখার এজিএম ও শাখা প্রধান মো. হাসানুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল, ডা. আবুল হোসেন কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ চৌধুরী আহসানুল করিম হিটু, রাজবাড়ী ব্যবসায়ী ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক কাজী বেনজীর আহমেদ, সদস্য সচিব মোবাইদুল ইসলাম মিরাজ, মো. নাসির মিঞা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সাগর শপ এর সত্ত¡াধিকারী মো. ইব্রাহিম হোসেন সাগর প্রমূখ। রাজবাড়ী শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. শওকত জাহানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তারা সর্বস্তরের মানুষের কাছে বাংলা কিউআর সার্ভিস পৌঁছে দেওয়া এবং ক্যাশলেস লেনদেনকে আরও জনপ্রিয় ও সহজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনা সভা শেষে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আমন্ত্রিত অতিথি এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণে বাদ্যযন্ত্র, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড সহ শহরের প্রধান সড়কে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করেন।

পদ্মা নদীর প্রায় ১১ কেজি ও ৩ কেজি ওজনের দুটি ঢাই মাছ ৬৯ হাজার টাকায় বিক্রি

পদ্মা নদীর প্রায় ১১ কেজি ও ৩ কেজি ওজনের দুটি ঢাই মাছ ৬৯ হাজার টাকায় বিক্রি

মঈনুল হক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে জেলের জালে বিপন্ন প্রজাতির প্রায় ১১ কেজি ওজনের একটি বড় আকৃতির এবং তিন কেজি ওজনের ঢাই মাছ ধরা পড়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে বাহির চর দৌলতদিয়া এলাকায় জেলেদের জালে মাছ দুটি ধরা পড়ে। মাছ দুটি ৬৯ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানান, প্রতিদিনের মতো আজ মঙ্গলবার সকালে মাছ শিকারে বের হন স্থানীয় জেলেরা। সকাল ১০টার দিকে বাহির চর দৌলতদিয়া কলাবাগান এলাকা স্থানীয় এক জেলের জালে প্রায় ১০ কেজি ৮০০ গ্রাম ওজনের মাছটি ধরা পড়ে। এ ছাড়া প্রায় একই সময় মানিকগঞ্জের বাল্লা মালোচি এলাকার জেলে পরান হালদারের জালে ৩ কেজি ওজনের আরেকটি ঢাই মাছ ধরা পড়ে। পরে এরমধ্যে ১০ কেজি ৮০০ গ্রাম ওজনের মাছটি ৫ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে প্রায় ৫৮ হাজার ৩২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া ৩ কেজি ওজনের মাছটি ৩ হাজার ৬৫০ টাকা কেজি দরে প্রায় ১১ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। মাছ দুটি কিনে নিয়েছেন সৌদি আরব প্রবাসী চট্রগ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর চৌধুরী নামের এক ব্যাক্তি।দৌলতদিয়ার মাছ ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আজ মঙ্গলবার সকাল ১০ টার দিকে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের কয়েক কিলোমিটার ভাটিতে বাহির চর দৌলতদিয়া কলাবাগান এলাকায় এক জেলের জালে বড় আকৃতির ঢাই মাছটি ধরা পড়ে। এ ছাড়া মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার বাল্লা মালোচি এলাকায় জাফরগঞ্জের জেলে পরান হালদারের জালে ৩ কেজি ওজনের মাছটি ধরা পড়ে। বড় মাছটি বিক্রির জন্য দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট বাজারের ইউনুস মন্ডলের আড়তে তোলা হয়। সেখানে নিলামের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে ৫৭ হাজার ২৪০ টাকা দিয়ে তিনি কিনে নেন। ছোট মাছটি আনু খার আড়তে তোলা হলে ৩ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে ১০ হাজার ৫০০ টাকায় কিনেন। পরে মাছ দুটি বিক্রির জন্য তার ফেসবুক পেজে মাছটির ছবি শেয়ার দেন। এছাড়া পরিচিত বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকেন। এরপর সৌদি আরব প্রবাসী জাহাঙ্গীর চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে কেজি প্রতি ১০০ টাকা লাভে বড় ঢাই মাছটি ৫৮ হাজার ৩২০ টাকায় মাছটি তার কাছে বিক্রি করে দেন। একই ব্যক্তি ছোট ঢাই মাছটিও কেজি প্রতি ১৫০ টাকা দরে প্রায় ১১ হাজার টাকায় কিনেন। পরবর্তীতে বিশেষ ব্যবস্থায় মাছ দুটি চট্রগ্রামে তাঁর দেওয়া ঠিকানায় মঙ্গলবার দুপুরে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।শাহজাহান শেখ আরো বলেন, ঢাঁই মাছ অত্যন্ত সুস্বাদু এবং বিপন্ন প্রজাতির একটি মাছ। এটা মূলত সামুদ্রিক মাছ। তবে বর্ষাকালে এই অঞ্চলের পদ্মা নদীতে মাঝে মধ্যে এ ধরণের মাছ দু'একটি ধরা পড়ে। এই মাছের দাম অত্যন্ত চড়া বলে স্থানীয় কারো পক্ষে কেনার সুযোগ থাকে না বলে মন্তব্য করেন।

জাতীয়

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সোয়া কোটি টাকার সড়ক নির্মাণের দুই মাসেই ধস

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সোয়া কোটি টাকার সড়ক নির্মাণের দুই মাসেই ধস

মঈনুল হক, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার প্রায় সোয়া কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় ধসে পড়তে শুরু করেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ এইচবিবি (হেরিং বোন বন্ড) সড়ক। দৌলতদিয়া ইউনিয়নের প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের অন্তত ১৫টি স্থানে ধস দেখা দেওয়ায় নির্মাণ কাজের মান এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া আক্কাস আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে আশ্রয়ণ প্রকল্প হয়ে স্থানীয় রিকাতের দোকান পর্যন্ত সড়কটির দেড় কিলোমিটার এলাকা বিধ্বস্ত। চলতি বছরের ১২ মার্চ কাজ শুরু ১০ জুন কাজ শেষ হওয়ার পর এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে বলে আশা জাগলেও বৃষ্টিতে সেই আশা হতাশা ও ক্ষোভে রূপ নিয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে গ্রামীণ রাস্তা টেকসইকরণের লক্ষ্যে রাজবাড়ীর মেসার্স লাকী এন্টারপ্রাইজ নামক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এইচবিবিকরণ প্রকল্পের আওতায় সড়কের নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন হয়। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যায় ধরা হয় প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। যার চুক্তিমূল্য ছিল প্রায় ১ কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে উপজেলা প্রশাসন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। সরেজমিন দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধস সৃষ্টি হয়ে কোথাও ইটের গাইডওয়ালে ফাটল হয়ে নিচের অংশ দেবে গেছে। কয়েক স্থানে ইট উঠে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এছাড়া পুরোনো ও ছিদ্রযুক্ত বিটুমিনের ড্রাম শিট জোড়াতালি দিয়ে ব্যবহার করায় অনেক স্থানে খুলে পড়ছে। এ সময় দুইজন পুরুষ এবং দুইজন নারী শ্রমিককে ধসে পড়া স্থানগুলোতে সংস্কার কাজ করতে দেখা যায়। এ সময় আলাউদ্দিন নামের নির্মাণ শ্রমিক বলেন, বৃষ্টির পর গত চারদিন ধরে তারা রাস্তার ধসে পড়া স্থানগুলোতে বাইরে থেকে মাটি এনে মেরামতের কাজ করছেন। একপাশে গাইডওয়াল রয়েছে, অপর পাশে নেই। এক্ষেত্রে ঠিকাদার আমাদের যেভাবে কাজ করতে বলছেন আমরাও সেভাবেই করছি। তবে ভারি বৃষ্টি হলে নতুন রাস্তা হওয়ায় আবারও ধসে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।  স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজ চলাকালেই তারা নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদ করায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজের ইচ্ছামতো সামগ্রী ব্যবহার করেই কাজ শেষ করেন।আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, “সরকার মানুষের সুবিধার জন্য কোটি টাকা খরচ করেছে। কিন্তু কাজের মান ভালো না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। এখনই যদি এমন হয়, সামনে আরও বৃষ্টি হলে রাস্তার কী অবস্থা হবে?”স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল মোল্লার অভিযোগ, “সঠিক তদারকির অভাবেই সরকারের কোটি কোটি টাকার প্রকল্প ঝুঁকিতে পড়ছে। কাজের সময় অভিযোগ করার পরও শেষ পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”স্থানীয় আলতাফ শেখ বলেন, “রাস্তাটি হওয়াতে আমরা খুশি হয়েছিলাম। কাজের শুরুতে ভালোভাবে কাজ করার অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু ঠিকাদার আমাদের কথা গুরুত্ব দেননি। যেভাবে কাজ হওয়ার কথা ছিল, সেভাবে হয়নি।”নিম্নমানের নির্মাণকাজের অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সত্বাধিকারী আহসান হাবিব বলেন, “অতিরিক্ত বৃষ্টির কারনে রাস্তার কয়েক স্থানে ধসে পড়ে। মাটির স্বল্পতা থাকায় মেরামত কাজ করতে দেরি হয়। কয়েকদিন কাজ করে বুধবার শেষ করা হয়েছে। আবার কোথাও ধসে পড়লে প্রয়োজনে ঠিক করা হবে। আগামী এক বছর তো আমার দায়িত্বে থাকবে। তবে আমি শতভাগ কাজ সম্পন্ন করেছি। এমন কাজ সাধারণত কোন ঠিকদার করে না। এছাড়া গাইডওয়াল যেখানে যেখানে ধরা আছে আমরা সেখানেই করেছি। কোনো পাশে যদি ধরা না থাকে, তাহলে আমরা কিভাবে করবো। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আবু বকর বলেন, অভিযোগ পাওয়ার ঠিকাদারকে কাজের মান নিশ্চিত করতে বলা হয়েছিল। বৃষ্টির কারনে কয়েক স্থানে ধস দেখা দিলে ঠিকাদারকে দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়। ঠিকাদার সে মোতাবেক গত তিন-চারদিন কাজও করেছেন। এছাড়া ঠিকাদার বিল তুলে নিলেও জামানত, পে-অর্ডার ও পারফরমেন্সের ৩ শতাংশ টাকা এখনও আমাদের কাছে রয়েছে।

১২ মিনিট আগে

 বিশ্ব বিশ্ব

কোম্পানি চাকুরির কথা বলে রাজবাড়ীর যুবক রাশিয়ায় যুদ্ধে, দেড়মাস পর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে বাঁচার আকুতি

কোম্পানি চাকুরির কথা বলে রাজবাড়ীর যুবক রাশিয়ায় যুদ্ধে, দেড়মাস পর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে বাঁচার আকুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ ভালো বেতনে কোম্পানির চাকুরির কথা বলে দালালের খপ্পরে পড়ে পাচার হয়ে রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে মানবতের জীবন যাপন করছেন আলী হাসান সোহেল (৪২) সহ কয়েক যুবক। প্রায় দেড় মাস পর পরিবারের সাথে যোগাযোগ হলে তাঁর কষ্টের কথা জানতে পারেন পরিবার। ড্রোনের আঘাতে আহত হয়ে একটি চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে বাঁচার আকুতি জানিয়েছেন তারা। আলী হাসান সোহেল রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার জুড়ান মোল্লার পাড়ার (কুমড়াকান্দি) আবদুল হকের ছেলে। পরিবারের পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবার বড় আলী হাসানকে দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানিয়েছেন। সাথে দালালের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। আলী হাসান সোহেলসহ আরও তিনটি পরিবার গত ১৯ মে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।  অভিযোগ থেকে জানা যায়, আলী হাসান সোহেল সহ গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উত্তর পাড়া ঘোসেরচর গ্রামের পলাশ শেখ, দারুলি কুরআন ফকিরবাড়ীর রনি ও বলাকইর এলাকার সৌরভ মোল্লা রাশিয়া যাওয়ার জন্য ঢাকার মালিবাগ এলাকার জাবেল-ই-নূর ইন্টারন্যাশনার লিমিটেড এজেন্সির মাধ্যমে গ্রæপের এই ৪ জনের কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা করে ২৮ লাখ টাকা, পাসপোর্টসহ যাবতীয় কাগজপত্র জমা নেয়। পরে রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে ৭ মে বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স নিয়ে রাশিয়া পাঠায়। রাশিয়ার একজন নারী প্রতিনিধি তাদরেকে বিমানবন্দর থেকে রাশিয়া নিয়ে যায়। রাশিয়া বিমাবন্দরে পৌঁছানোর পর রিক্রুটিং এজেন্সির পাঠানো ৩০ জনের দলকে হোটেলে রেখে তিনদিন পর সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে। চুলকাটা, পোশাক পরিধানসহ সেনাবাহিনীর যাবতীয় কার্যক্রম করে। তাদের চারজনকেও সেনাবাহিনীর বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করে ভারি অস্ত্র (একে-৪৭) হস্তান্তর করেন। কয়েকদিন পর একটু সুযোগ পেয়ে পরিবারের কাছে মুঠোফোনে এসএমএস ও ভয়েসের মাধ্যমে জানায়, তাদের ৩০ জনের প্রত্যেককে রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে ৩০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করে বিক্রি করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে গোপালগঞ্জ পলাশ শেখের বাবা জামিল শেখ বলেন, বিষয়টি জানার পর জাবেল-ই-নূর এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করে কেন প্রতারণা করা হয়েছে জানতে চাইলে কোন কর্ণপাত করেনি। আমাদের সন্তানদের রাশিয়ান সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণসহ পোশাক পরিহিত ছবি দেখালেও এজেন্সি কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করে এ বিষয়ে যোগাযোগ না করতে ভয়ভীতি দেখায়। এজেন্সির সাথে চুক্তিপত্র অনুযায়ী চারজনের কোম্পানির কাজের কথা বলে নেয়া হয়েছিল, সে কাজ দিতে না পারলে দেশে ফেরত পাঠানোর কথা। তাই আমাদের ২৮ লাখ টাকা, ক্ষতিপূরণসহ স্বশরীরে দেশে ফেরত পাঠাতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন জানাচ্ছি। আলী হাসান সোহেলের বৃদ্ধ আবদুল হক বলেন, সোহেল এলাকায় অটোরিক্সা চালিয়ে সংসার সামলাতো। এক বছর আগে ভাতিজা আকাশের মাধ্যমে তাঁর নিকট আত্মীয় ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর এলাকার ইমরান হোসেন ভালো বেতনে রাশিয়ায় কোম্পানীর চাকুরির প্রস্তাব দেন। ইমরানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ৮ লাখ টাকায় রাশিয়া পাঠানোর কথা বললেও সাত লাখ টাকায় পাঠাতে রাজি হয়। ৬০ হাজার টাকা দিয়ে চুক্তি করে চার মাসে চার লাখ টাকা পরিশোধ করেন। সর্বশেষ গত ১ মে বাকি তিন লাখ টাকা পরিশোধ করলে ৭ মে তাকে রাশিয়ায় পাঠায়। সমস্ত টাকাই ধারদেনা করে তাদেরকে দেওয়া হয়।  আবদুল হক বলেন, সোহেলের সাথে ভাতিজা আকাশসহ বোয়ালমারীর আরও কয়েকজনের যাওয়ার কথা ছিল। অথচ তারা কেউ না গিয়ে ৭ মে ৩০ জনের দলের সঙ্গে আমার ছেলেকে কোম্পানির চাকুরীর কথা বলে পাঠায়। দুই বছরের কাজ শেষে আবার দেশে ফিরবে। এমনকি বিমানবন্দের আমাদের যেতে দেওয়া হয়নি। রাশিয়ায় যাওয়ার দেড় মাস পর একদিন ফোন করলে জানতে পারি, তাদের যুদ্ধ করতে রাশিয়া থেকে ইউক্রেন পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে একটি অস্থাীয় চিকিৎসা ক্যাম্পে আহত অবস্থায় পড়ে আছে। আমার ছেলেকে ফেরত চাই। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন, আমার সন্তানদের বাঁচান।আলী হাসান সোহেলের স্ত্রী আকলিমা খাতুন বলেন, “আমার স্বামী রাশিয়া যাবার পর যোগাযোগ করতে পারিনি, খোঁজও নিতে পারিনি। কয়েকদিন পর একদিন ফোন করে জানায়, তাদেরকে যুদ্ধক্ষেত্রে ভাড়া করা সেনাবাহিনীর সাথে পাঠানো হচ্ছে। এরপর আর যোগাযোগ হয়নি। প্রায় দেড় মাস পর হঠাৎ একদিন ফোন করলে দেখি তার চেহারা আর আগের মতো নেই। চুল-দাঁড়ি বড়, হাত ব্যাÐেজ করা, কানে তুলা পড়া। একটি তাবুর ভিতর থেকে কান্না করছেন আর বাঁচানোর আকুতি জানাচ্ছেন।” আকলিমা বলেন, আমরা সমস্ত টাকা ধার দেনা হয়ে দালাল ইমরানের মাধ্যমে এজেন্সি জাবেল-ই-নূর ইন্টারন্যাশনালকে দিয়েছি। অথচ এ পর্যন্ত এক টাকা পাঠাতে পারেনি। বৃদ্ধ অসুস্থ্য শ্বশুর-শ্বাশুড়ি, তিন সন্তান, দাদি শ্বাশুড়িসহ ৭-৮ জনের সংসার। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি সে ছিলেন। কিভাবে পরিবারটি চলবে কোন কুল কিনারা খুঁজে পাচ্ছিনা। আমার স্বামীকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটাই দাবি, আমার স্বামীকে বাঁচান। আলী হাসান সোহেলের বৃদ্ধ মা আনজিলা বেগম আহাজারি করে বলেন, “আমি কিচ্ছুই চায়না, শুধু আমার ছেলেকে চাই। সেখানে ওদের ওপর অনেক নির্যাতন করা হচ্ছে। তিনবেলা খাবার দেয়না। আমার সোহেলের তিনটা বাচ্চা এতিম হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন, আমার ছেলেকে আমার কাছে এনে দিন।”স্থানীয় কুমড়াকান্দি গ্রামের শামসুল হক, আলাউদ্দিন খান, ইবাদ আলী শিকদার সহ কয়েকজন জানান, দালালের খপ্পড়ে পড়ে সোহেলের পরিবার এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন সোহেল। তাদেরকে সুস্থ্য শরীরে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।  ইউক্রেনের একটি চিকিৎসা শিবির থেকে আহত আলী হাসান সোহেল দেশে ফেরার আকুতি জানিয়ে বলেন, “আমাদের রাশিয়ার ৬০ হাজার রুবল (বাংলাদেশী ৯০ হাজারের বেশি) বেতনে কোম্পানীর কাজের কথা বলে নেয়ার কথা। কিন্তু রাশিয়া বিমানবন্দরে নামার পরই আমাদের সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। কয়েকদিন প্রশিক্ষণ দিয়ে হাতে অস্ত্র ধরিয়ে তাদের গাড়িতে করে যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়ে যাওয়া হয়। ইউক্রেনের দখলকৃত চারটি অঞ্চলে আমাদের নামানো হয়। ৩০ জনকে আনা হলেও ১৬ জন এবং ১৪ জনের দুটি দলে ভাগ করে আমাকে ১৬ জনের দলে পাঠায়। রাশিয়ান সেনাসদস্যরা ক্যাম্পে অবস্থান করে আমাদের ভাড়া করা সেনাদের অগ্রভাগে পাঠিয়ে রাস্তার কোথায় মাইন পোতা বা ড্রোন আছে কি না দেখতে হতো। আর রাশিয়ান সেনারা ক্যাম্পে বসে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি করতো। ড্রোন ও মাইনের আঘাতে অনেক হতাহত হচ্ছে আমাদের সাথে থাকা ১২জনের কোন খোঁজ পাচ্ছি না, সম্ভবত বেঁচে নেই। আমরা চারজনের মধ্যে ১৩ জুন আমিসহ গোপালগঞ্জের রাসেল শেখ আহত হয়ে চিকিৎসাশিবিরে আসি। ১৫ জুন অন্যের থেকে মোবাইলফোন নিয়ে বাড়িতে তাদের দুর্দাশার কথা জানায়। তিনদিন আগে ঝিনাইদহর রাজন নামের আরেকজন এসেছে। কেউ এককানে শুনতে পাচ্ছি না, হাত জখম হয়েছে। আমাদের যে খাবার দেয় তা খাওয়া যায়না। অধিকাংশ সময় না খেয়ে থাকতে হয়। আবারও যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়ে যাবে বলে তাগিত দিচ্ছে। আমাদের বাঁচান, আমরা বাঁচতে চাই। দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন, এখান থেকে উদ্ধার করে দেশে নেয়ার ব্যবস্থা করুন।”এ ব্যাপারে গোয়ালন্দ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ভুক্তভোগী পরিবার আইনগত ব্যবস্থা নিলে তাদের সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

৩০ জুন ২০২৬

 রাজনীতি রাজনীতি

উত্তরাধিকার সূত্রে দেশের চল্লিশ শতাংশ যুব সমাজ কোন শিক্ষায় নেই - প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা তিুতমীর

উত্তরাধিকার সূত্রে দেশের চল্লিশ শতাংশ যুব সমাজ কোন শিক্ষায় নেই - প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা তিুতমীর

ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি, যে বাংলাদেশের যুব সমাজের চল্লিশ শতাংশ কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নাই, কোন প্রশিক্ষণে নাই, কোন কর্মসংস্থানেও নাই। এই রকম যাদের মেরিটোরিয়াস, আপনারা তাালিকা দেখেন, দেখবেন যে একটা পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের নীতির ধারাবাহিকতা। এটা মৌলিক প্রশ্ন, কারণ আমাদের দেশে হওয়ার দরকার ছিল ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট’ অর্থাৎ জনমিতিক লভ্যাংশ।  গতকাল শুক্রবার (৭ আগষ্ট) সন্ধ্যায় রাজবাড়ী পৌরসভার রজনীগন্ধ্যা মিলনায়তনে ২০২৫ সালের এসএসসি ও এইচএসসি এবং সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রাজবাড়ী জেলা পরিষদের অর্থায়নে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা পরিষদ। অনুষ্ঠানে মোট ৯১ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে বিভিন্ন অংকে মোট ১৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকার বৃত্তি প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, যে কোন দেশে পৃথিবীতে এগিয়ে যায় তখনই, যার যুব সমাজ অর্থনীতিকভাবে ক্রীয়াশীল হয়। এই এটা সবগুলো দেশে একবার আসে এবং এটা সর্বোচ্চ। অর্থাৎ বিটশীল ২০২০ সাল থেকে ২০২২ সাল। আর এটা শেষ হবে ২০৩৫ সাল থেকে ২০৪০ সাল। তার নামে ইতিমধ্যেই ৬০ শতাংশ আমাদের দেশ থেকে, জাতি থেকে হারিয়ে গেছে। জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। সামাজিক বিরোধ সৃষ্টি করতে উগ্র মৌলবাদের একটি পদচারণা দেখতে পাচ্ছেন জানিয়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, এই সমস্যা প্রত্যেকটি পরতে পরতে সরকারকে ফেস করতে হচ্ছে। এই সমস্ত বিষয় মোকাবেলা করেই সরকারের প্রতিশ্রæতি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক কল্যান চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির প্রমূখ। এর আগে শুক্রবার বিকেলে রাজবাড়ী সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এডিপির বিশেষ বরাদ্দের আওতায় সদর উপজেলার ১৯৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী, বাদ্যযন্ত্র (হারমোনিয়াম ও তবলা) এবং স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করা হয়। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।এই অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি রাজবাড়ী থেকে ২৫ জন শিশুকে অ্যাক্রোবেটিকের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য চীনে পাঠানো হয়েছে। তারা প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে এলে বাংলাদেশের সার্কাসকে বিশ্বমানের আধুনিক অ্যাক্রোবেটিক সার্কাসে রুপান্তরের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।এছাড়া আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে দেশব্যাপী প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও কর্মময় জীবন নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হবে। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এ প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় থেকে আঞ্চলিক উৎসব ও জাতীয় পর্যায়ে আয়োজন করা হবে। সারাদেশ থেকে বাছাইকৃত শিল্পীরা ঢাকায় যাবেন। সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত জবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করা হবে। যাত্রা শিল্পকেও চীনের অপেরার আদলে আমরা আনবো।রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ সহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পতিত সরকার শিক্ষা, সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে - রাজবাড়ীতে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা তিতুমীর

পতিত সরকার শিক্ষা, সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে - রাজবাড়ীতে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা তিতুমীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকাল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, পতিত সরকার শিক্ষাকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। সংস্কৃতি বলে কিছুই নাই, ক্রীড়ার ক্ষেত্রেও আমরা পিছনে। আমরা অন্য দেশের উত্তেজনায় খুশি হই। কিন্তু আমরাও বিশ্ব দরবারে আমাদের ক্রীড়া, সংস্কৃতি এবং শিক্ষা তথা দক্ষ জনগোষ্ঠির মাধ্যমে নিজের অবস্থানকে নিশ্চিত করতে পারি। আমাদের সরকার সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।শুক্রবার (৭ আগষ্ট) দুপুরে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের এডিপি (বিশেষ) বরাদ্দের আওতায় গোয়ালন্দ উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে ক্রীড়া সামগ্রী, সাউন্ড সিস্টেম ও হারমোনিয়াম বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা তিতুমীর বলেন, জাতি গঠনের সবচেয়ে বড় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ হচ্ছে শিশু, কিশোর এবং যুবকদের মধ্যে সংস্কৃতি, ক্রীড়া এবং বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা। তারই অংশ হিসেবে অর্থাৎ আমরা সুনাগরিকের অংশ হিসেবে বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী, সংস্কৃতি সামগ্রী বিতরণ করলাম। লক্ষ্য হচ্ছে আগামী জানুয়ারী মাসে যখন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে, তখন অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ এবং মাদরাসাগুলো তিনটা ক্যালেন্ডার দিবেন। একটি হলো বার্ষিক শিক্ষা কর্মসূচি, দ্বিতীয় বার্ষিক সংস্কৃতিক কর্মসূচি ও তৃতীয়তো বার্ষিক ক্রীড়া কর্মসূচি। যাতে করে, আমরা আমাদের হৃত যে গৌরব সেই গৌরবের পথে যেতে পারি। অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে দেশের সবগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বার্ষিক পরিকল্পনাকৃত ক্যালেন্ডার তৈরি করে দিবেন। যার মাধ্যমে মানুষ সৃষ্টি করার বড় রকমের পরিবর্তন আসতে পারে। শিক্ষা, দক্ষতা এবং কর্মসংস্থানের ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। যাতে আমরা সবাই মিলে বড় রকমের পরিবর্তন আনতে পারি।     রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।  সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, আমরা বাংলাদেশে সুষ্ঠু, সুস্থ্য এবং স্বাবলিল সংস্কৃতি দেখতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সেটাই আহ্বান এবং আমাদের সেটাই কর্মসূচি। সুস্থ্য, স্বাবলিল সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সংস্কৃতিতে পৃষ্ঠপোষকতা না থাকার কারনে মারাত্মকভাবে এটার অধপতন হয়েছে। যার কারনে আমাদের দেশে যুব সমাজের মধ্যে নানা রকম প্রবণতা লক্ষ্য করি। আমাদের যুব সমাজ হচ্ছে আগামী দিনের ভবিষ্যত। তাদেরকে সামেন রেখে একটা সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সংস্কৃতির একটা বিড়াট ভূমিকা আছে। আমরা আশা করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমাদের সংস্কৃতি সহ সমস্ত ক্ষেত্রে উল্লেখ্যযোগ্য অগ্রগতি সাধন করবো। তিনি আরও বলেন, রাজবাড়ীর আর্থ সামজিক উন্নয়নে আমরা অনেক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আমাদের পরিকল্পনার প্রস্তুতির কাজ চলছে। সমস্ত ক্ষেত্রে শিক্ষা, সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক অবকাঠামো, আইনশৃঙ্খলা, স্বাস্থ্য সমস্ত ক্ষেত্রে কাজ করছি। চলতি অর্থ বছরে আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে বলে আশা করছি।      অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম, পুলিশ সুপার মনজুর মোরশেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শংকর চন্দ্র বৈদ্য, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল হুদা, গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সভাপতি নিজাম উদ্দিন শেখ, সাবেক সভাপতি সুলতান-নূর ইসলাম মুন্নু, সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সহিদুল ইসলাম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।গোয়ালন্দ উপজেলার ৫১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে খেলার সামগ্রী এবং হারমোনিয়াম প্রদান করা হয়। এছাড়া ৬টি মাদরাসার মাঝে সাউন্ড সিস্টেম প্রদান করা হয়। এডিপির অর্থায়নে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৫ লাখ টাকার সামগ্রী প্রদান করা হয়। পরে তাঁরা বিকেলে রাজবাড়ী জেলা সদরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

রাজবাড়ীতে ফ্যামিলিকার্ড শুমারির জরিপকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে বিক্ষোভ

মঈনুল হক ও ফিরোজ আহম্মেদ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় ফ্যামিলিকার্ড শুমারি-২০২৬ এর জরিপকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে বিক্ষোভ ও পুনরায় পরীক্ষার দাবি জানিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে গোয়ালন্দ বাসষ্ট্যান্ড থেকে মিছিল সহকারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে সামনে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভকারীরা পরীক্ষার ফলাফল বাতিলের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি পেশ করেন। এদিকে ফ্যামিলিকার্ড শুমারিতে জরিপকারী এবং সুপারভাইজার নিয়োগের জন্য গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সাবেক নেতাদের স্বাক্ষরিত সুপারিশের তালিকা ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরপাক খাচ্ছে। তাঁদের সুপারিশ না রাখায় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনের বিষয়ে জানা নেই, ফেসবুক থেকে জেনেছেন বলে দাবি করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সুলতান-নূর ইসলাম মুন্নু। জানা যায়, প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা প্রদানের নিমিত্তে সরকার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধিন “ফ্যামিলি কার্ড শুমারি নির্দেশিকা-২০২৬” অনুসারে দেশব্যাপী ফ্যামিলিকার্ড শুমারি কার্যক্রম শুরু করে। এ লক্ষ্যে অস্থায়ীভাবে ৪৭ জন তথ্য সংগ্রহকারী (জরিপকারী) এবং ৪ জন সুপারভাইজার নিয়োগের জন্য ইউএনও’র কার্যালয় থেকে ২১ জুলাই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তির আলোকে আগ্রহীদের যোগ্যতার ভিত্তিতে ২৮ জুলাই দুপুর ১২টা পর্যন্ত আবেদনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। ওইদিন রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রার্থীদের ভাইবা এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। উত্তীর্ণদের তালিকা সোমবার (৩ আগষ্ট) উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেইজে পোস্ট করাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে টানানো হয়। তালিকা প্রকাশের পর থেকে বাদ পড়া এবং সুপারিশকারীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। প্রকাশিত তালিকা নিয়ে অনিয়ম, দূর্ণীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে নিন্দা জানায়। মঙ্গলবার (৪ আগষ্ট) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ বাসষ্ট্যান্ডে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে। মিছিল নিয়ে ইউএনও’র কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। তারা ইউএনও সাথী দাসসহ নিয়োগ কমিটিতে থাকা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন, উপজেলা আইসিটি অফিসার মো. নিজাম উদ্দিন ও তথ্য সেবা কর্মকর্তা তাহমিনা খাতুনকে দায়ি করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। অভিযোগ করেন, ২৮ জুলাই রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পরীক্ষা শেষে ওইদিন ফলাফল চূড়ান্ত হয়। ২৮ জুলাই স্বাক্ষরিত তালিকা ৩ আগষ্ট প্রকাশের কারন কি। বিক্ষোভকারীরা আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের দোষর আখ্যা দিয়ে পরীক্ষার ফলাফল বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষার দাবি জানান। না হলে আরো জোরালো আন্দোলনের হুশিয়ারি করেন। পরে বিক্ষোভকারীরা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি পেশ করেন। বিক্ষোভকালে মো. সুমন নামের আন্দোলনকারীদের একজন অভিযোগে বলেন, ভাইবা পরীক্ষায় আমাকে ১৫টি প্রশ্ন করলে ১৪টির উত্তর দেই। আমাকে উত্তীর্ণ করা হয়নি এমনকি অপেক্ষমান তালিকায়ও নাম রাখা হয়নি। অথচ আবির হাসান নামের আমার সম্পর্কের এক ভাতিজাকে ব্যক্তিগত প্রশ্ন করে উত্তীর্ণ করেছে।   সোমবার (৩ আগষ্ট) গোয়ালন্দ থেকে অন্যত্র বদলী হওয়া ইউএনও সাথী দাস বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ প্রতিহত করতে না পারলে নিয়োগ কমিটির সভাপতি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সদস্য সচিব হিসেবে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন। এর আলোকে রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশকৃত তালিকা পেলেও কিছুই করার ছিলনা। অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন, তথ্যসংগ্রহকারী এবং সুপারভাইজার নিয়োগের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে অনিয়মের কোন সুযোগ নেই বলে আমি চ্যালেঞ্জ করতে পারি। যদি মনে হয়, অনিয়ম হয়েছে, আমার উর্দ্বোতন কর্তৃপক্ষ আছেন, তাঁরা দেখবেন।

রাজবাড়ীতে ফ্যামিলিকার্ড শুমারির জরিপকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে বিক্ষোভ

রাজবাড়ীতে পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার কালিকাপুর গ্রামে রাতে পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে নগদ দুই লাখ টাকা এবং প্রায় পাঁচ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার গভীররাতে উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার নুরু শেখ (৬৫), তাঁর স্ত্রী হামিদা বেগম (৫৫) ও তাঁদের প্রবাস ফেরত ছেলে জুয়েল শেখ (২৭)। বর্তমানে আহতরা কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে চিহিৃত এবং অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনকে অভিযুক্ত করে শনিবার কালুখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নুরু শেখের স্ত্রী হামিদা বেগম।অভিযোগে জানান, গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত আনুমানিক পৌনে এগারটার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের বাড়ির টিনের চালে ঢিল ছুড়ে। পরে তাদের মধ্যে একজন বাবলু শেখ পরিচয়ে গেট খুলতে বললে পরিবারের সদস্যরা গেট খুলে দেন। গেট খোলার সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্তরা পিস্তল সহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে নুরু শেখ, স্ত্রী হামিদা বেগম ও তার ছেলে জুয়েল শেখকে জিম্মি করে ঘরের ভেতরে নিয়ে যায়। এ সময় দুর্বৃত্তদের মধ্যে স্থানীয় বাবলু শেখ সহ কয়েকজনকে তারা চিনতে পারেন। কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন সৌদি প্রবাস ফেরত জুয়েল শেখ জানান, দুর্বৃত্তরা বাড়ির ভিতর প্রবেশ করে আমাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এ সময় তারা অস্ত্রের বাট দিয়ে আমাকে প্রচণ্ড মারধর করে। এ সময় তারা আলমারি ও বাক্স খুলে দিতে বাধ্য করে। পরে আলমারি থেকে নগদ প্রায় দুই লাখ টাকা এবং একটি গলার হার, একটি চেইন, এক জোড়া হাতের বালা ও দুই জোড়া কানের দুলসহ প্রায় পাঁচ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। বাধা দিলে তারা আমাকে, আমার বাবাকে এবং মাকে মারধর করে আহত করেন। দুর্বৃত্তরা চলে যাওয়ার সময় মামলা করলে পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকিও দেয়।পরে তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে শনিবার (১ আগষ্ট) বিকেলে কালুখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্থানীয় বাবলুর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন না ধরায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।  কালুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মোস্তফা কামাল বলেন, স্থানীয় আধিপত্যের বিস্তারকে কেন্দ্র দুটি পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ ঘটনার তারই একটা অংশ। খবর পেয়ে তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এ ঘটনায় শনিবার বিকেলে থানায় অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।

রাজবাড়ীতে পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ

রাজবাড়ীতে সাড়ে ১১ কেজি গাঁজাসহ দুইজন গ্রেপ্তার, জব্দ সিএনজিচালিত অটোরিকশা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের উড়াকান্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ সাড়ে ১১ কেজি গাঁজাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়।শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের উড়াকান্দা এলাকার ‘গল্প গৃহ-রিসোর্ট’ এর সামনে সন্দেহজনকভাবে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্থানীয় লোকজন আটক করে থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশের একটি দল বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অটোরিকশাটিতে তল্লাশি চালিয়ে সাড়ে ১১ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে। এ সময় অটোরিকশায় থাকা দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার পশ্চিম-দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের মো. রহম মালিথার ছেলে মো. ফারুক ইসলাম (৪২) এবং একই উপজেলার সিরাজনগর গ্রামের মো. উজির মালিথার ছেলে সিএনজিচালক মো. আজমত আলী (৩৫)।রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ জানান, স্থানীয়দের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সাড়ে ১১ কেজি গাঁজা সহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়েছে।তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছেন যে, বেড়িবাঁধ সড়ক ব্যবহার করে গাঁজাগুলো দৌলতদিয়া ঘাট হয়ে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া এলাকায় নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

রাজবাড়ীতে সাড়ে ১১ কেজি গাঁজাসহ দুইজন গ্রেপ্তার, জব্দ সিএনজিচালিত অটোরিকশা

হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলার প্রতিবাদে রাজবাড়ীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’য় বিএনপি ও ছাত্রদলের সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগে প্রতিবাদ জানিয়ে রাজবাড়ীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল ৬টার দিকে জাতীয় ছাত্রশক্তি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাজবাড়ী জেলা শাখার আয়োজনে রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের পান্না চত্বর এলাকা প্রদক্ষিণ করে রেলগেট শহীদ স্মৃতি চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়ক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাজবাড়ী জেলা শাখার সাবেক আহ্বায়ক মীর মাহমুদ সুজন, জেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়ক সাঈদুজ্জামান সাকিব, জেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়ক ও বালিয়াকান্দি উপজেলার প্রধান সমন্বয়ক পলাশ খান আব্দুল্লাহ, যুগ্ম সমন্বয়ক মো. জহিরুল ইসলাম, জেলা সদস্য মারুফ আহমেদ, গোয়ালন্দ উপজেলা এনসিপির সদস্য আবির হাসান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাজবাড়ী জেলা শাখার আহ্বায়ক রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, জাতীয় ছাত্রশক্তি রাজবাড়ী জেলা শাখার আহ্বায়ক নয়ন মুন্সি, কালুখালী উপজেলা এনসিপির যুগ্ম সম্পাদক জিহাদুল ইসলাম, বালিয়াকান্দি উপজেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়ক মনির মিয়া, সদর উপজেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়ক সাত্তার মিজি এবং সদর উপজেলা এনসিপির সদস্য মির্জা আকরাম।বক্তারা হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রায় হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সহিংসতা পরিহার করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলার প্রতিবাদে রাজবাড়ীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

 খেলা খেলা

সকল জেলার খবর

 সাহিত্য সাহিত্য

আর্কাইভ

কৃষকের জানালা

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সোয়া কোটি টাকার সড়ক নির্মাণের দুই মাসেই ধস

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সোয়া কোটি টাকার সড়ক নির্মাণের দুই মাসেই ধস

মঈনুল হক, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার প্রায় সোয়া কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় ধসে পড়তে শুরু করেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ এইচবিবি (হেরিং বোন বন্ড) সড়ক। দৌলতদিয়া ইউনিয়নের প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের অন্তত ১৫টি স্থানে ধস দেখা দেওয়ায় নির্মাণ কাজের মান এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া আক্কাস আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে আশ্রয়ণ প্রকল্প হয়ে স্থানীয় রিকাতের দোকান পর্যন্ত সড়কটির দেড় কিলোমিটার এলাকা বিধ্বস্ত। চলতি বছরের ১২ মার্চ কাজ শুরু ১০ জুন কাজ শেষ হওয়ার পর এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে বলে আশা জাগলেও বৃষ্টিতে সেই আশা হতাশা ও ক্ষোভে রূপ নিয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে গ্রামীণ রাস্তা টেকসইকরণের লক্ষ্যে রাজবাড়ীর মেসার্স লাকী এন্টারপ্রাইজ নামক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এইচবিবিকরণ প্রকল্পের আওতায় সড়কের নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন হয়। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যায় ধরা হয় প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। যার চুক্তিমূল্য ছিল প্রায় ১ কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে উপজেলা প্রশাসন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। সরেজমিন দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধস সৃষ্টি হয়ে কোথাও ইটের গাইডওয়ালে ফাটল হয়ে নিচের অংশ দেবে গেছে। কয়েক স্থানে ইট উঠে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এছাড়া পুরোনো ও ছিদ্রযুক্ত বিটুমিনের ড্রাম শিট জোড়াতালি দিয়ে ব্যবহার করায় অনেক স্থানে খুলে পড়ছে। এ সময় দুইজন পুরুষ এবং দুইজন নারী শ্রমিককে ধসে পড়া স্থানগুলোতে সংস্কার কাজ করতে দেখা যায়। এ সময় আলাউদ্দিন নামের নির্মাণ শ্রমিক বলেন, বৃষ্টির পর গত চারদিন ধরে তারা রাস্তার ধসে পড়া স্থানগুলোতে বাইরে থেকে মাটি এনে মেরামতের কাজ করছেন। একপাশে গাইডওয়াল রয়েছে, অপর পাশে নেই। এক্ষেত্রে ঠিকাদার আমাদের যেভাবে কাজ করতে বলছেন আমরাও সেভাবেই করছি। তবে ভারি বৃষ্টি হলে নতুন রাস্তা হওয়ায় আবারও ধসে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।  স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজ চলাকালেই তারা নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদ করায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজের ইচ্ছামতো সামগ্রী ব্যবহার করেই কাজ শেষ করেন।আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, “সরকার মানুষের সুবিধার জন্য কোটি টাকা খরচ করেছে। কিন্তু কাজের মান ভালো না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। এখনই যদি এমন হয়, সামনে আরও বৃষ্টি হলে রাস্তার কী অবস্থা হবে?”স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল মোল্লার অভিযোগ, “সঠিক তদারকির অভাবেই সরকারের কোটি কোটি টাকার প্রকল্প ঝুঁকিতে পড়ছে। কাজের সময় অভিযোগ করার পরও শেষ পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”স্থানীয় আলতাফ শেখ বলেন, “রাস্তাটি হওয়াতে আমরা খুশি হয়েছিলাম। কাজের শুরুতে ভালোভাবে কাজ করার অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু ঠিকাদার আমাদের কথা গুরুত্ব দেননি। যেভাবে কাজ হওয়ার কথা ছিল, সেভাবে হয়নি।”নিম্নমানের নির্মাণকাজের অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সত্বাধিকারী আহসান হাবিব বলেন, “অতিরিক্ত বৃষ্টির কারনে রাস্তার কয়েক স্থানে ধসে পড়ে। মাটির স্বল্পতা থাকায় মেরামত কাজ করতে দেরি হয়। কয়েকদিন কাজ করে বুধবার শেষ করা হয়েছে। আবার কোথাও ধসে পড়লে প্রয়োজনে ঠিক করা হবে। আগামী এক বছর তো আমার দায়িত্বে থাকবে। তবে আমি শতভাগ কাজ সম্পন্ন করেছি। এমন কাজ সাধারণত কোন ঠিকদার করে না। এছাড়া গাইডওয়াল যেখানে যেখানে ধরা আছে আমরা সেখানেই করেছি। কোনো পাশে যদি ধরা না থাকে, তাহলে আমরা কিভাবে করবো। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আবু বকর বলেন, অভিযোগ পাওয়ার ঠিকাদারকে কাজের মান নিশ্চিত করতে বলা হয়েছিল। বৃষ্টির কারনে কয়েক স্থানে ধস দেখা দিলে ঠিকাদারকে দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়। ঠিকাদার সে মোতাবেক গত তিন-চারদিন কাজও করেছেন। এছাড়া ঠিকাদার বিল তুলে নিলেও জামানত, পে-অর্ডার ও পারফরমেন্সের ৩ শতাংশ টাকা এখনও আমাদের কাছে রয়েছে।

আইন-কানুন

রাজবাড়ীতে গ্রাম পুলিশ সদস্য ও নারীকে বেঁধে ও গলায় জুতা পরিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

রাজবাড়ীতে গ্রাম পুলিশ সদস্য ও নারীকে বেঁধে ও গলায় জুতা পরিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

হেলাল মাহমুদ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাচুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের এক গ্রাম পুলিশ সদস্য ও এক নারীকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগে স্থানীয় লোকজন কোমড়ে রশি দিয়ে বেধে ও গলায় জুতা পরিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এমন একাধিক ভিডিও তিন দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঘুরপাক খাচ্ছে। নির্যাতনের শিকার গ্রাম পুলিশ বর্তমানে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি পাচুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে কাজ করতেন। তাঁদের এমন নির্যাতনের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় নির্যাতনের শিকার ওই নারী বর্তমানে এলাকা ছাড়া রয়েছেন।  ভিডিওতে দেখা যায়, ঘরের মধ্যে ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তির সঙ্গে একজন নারী এবং গ্রামপুলিশ কথা বলছেন। ওই নারীর সাথে কোনো অনৈতিক কাজ হয়নি দাবি করে ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তির সঙ্গে তর্ক করছেন। গ্রাম পুলিশ সদস্যও কলা বিক্রির টাকা নিতে এসে ফাসানো হয়েছে বলে দাবি করছেন। আরেক ভিডিওতে তাদের দুজনের গলায় জুতা এবং কোমড়ে রশি দিয়ে টেনে ঘোরাতে দেখা যায়। এ সময় উৎসুক অনেক নারী-পুরুষ এমনকি শিশু বাচ্চাদের দেখা যায়।  গ্রাম পুলিশ সদস্য দাবি করেন, তিনি রাজবাড়ীর শ্রীপুর বাজারে স্থানীয় দোকানগুলোতে কলা বিক্রি করতেন। রোববার (৯ আগষ্ট) সকাল সাতটার দিকে শ্রীপুর বাজারে কলা বিক্রি করছিলেন। এ সময় পাশের আলীপুর ইউনিয়নের কল্যাণপুর এলাকার পূর্ব পরিচিত এক নারী তাঁর কাছ থেকে কলা নেন। এক হাজার টাকার নোট ভাঙতি না থাকায় ওই নারী পরে দিচ্ছেন বলে চলে যান। সকাল ৮টার দিকে দিকে তিনি কল্যাণপুর বাজার ইটভাটার কাছে গিয়ে নারীকে ফোন করেন। বাড়ির কাছে যাওয়া মাত্র স্থানীয় আব্দুল কাদের বেপারীর ছেলে অটোরিকশা চালক লাভলু বেপারী (২৫) তাকে জোর করে ঘরের ভিতর নিয়ে পড়নের প্যান্ট খুলতে বলে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করে নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক আছে বলে চিৎকার করতে থাকে। এ সময় তার কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর শুরু করে। আশপাশের লোকজন ডেকে এনে তাঁদের মারধর করে। গলায় জুতার মালা, কোমড়ে রশি দিয়ে বেধে এবং নারীর চুল কেটে এলাকা ঘোরানো হয়।গ্রাম পুলিশ সদস্য বলেন, স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পরে তিনি মুক্ত হন। বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান দেখছেন। আমাদের সাথে চরম অন্যায় করা হয়েছে। ঘরে বয়স্ক ছেলে থাকা অবস্থায় কোন নারী অনৈতিক কাজ করতে পারেন না। এছাড়া ঘরের দরজা খোলা ছিল। লাভলুর সঙ্গে ওই নারীর সম্পর্ক ভালো না থাকায় নির্যাতন করে আমার দুটি দাঁত ভেঙে ফেলেছে। এ ঘটনার পর লজ্জায় আমার স্ত্রী ও সন্তান এখন পর্যন্ত আমাকে দেখতে আসেনি। পাচুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবর রহমান বলেন, ভিডিওটি ফেসবুকে দেখেছি। ঘটনার দিন কয়েকজন গ্রাম পুলিশকে মোটরসাইকেলে করে আমার ইউনিয়ন পরিষদে দিয়ে এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের কারনে মারধরা করা হয়েছে বলে জানিয়ে যায়। আমরা ঘটনার প্রকৃত কারন খতিয়ে দেখছি। তিনি অপরাধ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধ না করলে করণীয় নিয়ে ভাববো। তবে আইনগত পদক্ষেপ তিনি এবং তার পরিবার সিদ্ধান্ত নিবেন। এ ধরনের ভিডিও নজরে এসেছে জানিয়ে রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, এখন পর্যন্ত নির্যাতনের শিকার কেউ অভিযোগ দেয়নি। ভিডিওতে যা দেখেছি খুবই দুঃখজনক। এভাবে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

৩৪ মিনিট আগে

 বিনোদন বিনোদন

মনসুর উল করিম বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনের উজ্জল নক্ষত্র - সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

মনসুর উল করিম বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনের উজ্জল নক্ষত্র - সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

সুমন বিশ্বাস, রাজবাড়ীঃ একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিমের ৭৬ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজবাড়ীতে নানা আয়োজনে স্মরণ করা হয়েছে এই গুণী শিল্পীকে। শনিবার রাজবাড়ী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মনসুর উল করিম স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং কেক কাটার মধ্য দিয়ে জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, "মনসুর উল করিম শুধু রাজবাড়ীর নন, তিনি বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। রাজবাড়ীর মাটিতে তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। তাঁর সৃষ্টিকর্ম আজও শিল্পপ্রেমীদের অনুপ্রাণিত করে। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর শিল্পকর্ম ও জীবনাদর্শ তুলে ধরতে আমাদের আরও উদ্যোগী হতে হবে।"প্রতিমন্ত্রী বলেন, "রাজবাড়ীর সাংস্কৃতিক বিকাশে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জেলার শিল্প-সংস্কৃতির প্রসারে একটি আধুনিক কালচারাল কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই এর নির্মাণকাজ শুরু হবে। এছাড়া রাজবাড়ীর অ্যাক্রোবেটিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে আরও আধুনিক ও কার্যকরভাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি ভবিষ্যতে জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।" মনসুর উল করিম স্মৃতি পরিষদের আহ্বায়ক কবি খোকন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল, চিত্রশিল্পী মনসুর করিম স্মৃতি সংসদের সদস্য সচিব আজিজা খানম, উপদেষ্টা চৌধুরী আহসানুল করিম হিটু, নূরুল হক আলম, জেলা কালচারাল অফিসার সুজিত কুমার সাহা, মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি সংসদের আহ্বায়ক কবি সালাম তাসির, রাজবাড়ী বাংলা একাডেমির সভাপতি সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমানসহ চিত্রশিল্পী মনসুর করিম স্মৃতি সংসদের অন্যান্য সদস্য, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।আলোচনা সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিম তাঁর সৃষ্টিশীলতা, নান্দনিক চিন্তা ও শিল্পকর্মের মাধ্যমে দেশের শিল্পাঙ্গনে অনন্য অবদান রেখে গেছেন। তাঁর স্মৃতি ও কর্ম নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।পরে অতিথিরা কেক কেটে মনসুর উল করিমের ৭৬ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করেন। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।উল্লেখ্য, চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিম ১৯৫০ সালের ১৪ জুলাই রাজবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ শিল্পজীবনে তিনি দেশ-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করেন এবং শিল্পকলায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে একুশে পদকে ভূষিত হন। ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর শিল্পকর্ম আজও বাংলাদেশের চারুকলার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।

রাজবাড়ীতে উদীচীর গান, নৃত্য ও ফলাহারে বর্ষা উৎসব অনুষ্ঠিত

রাজবাড়ীতে উদীচীর গান, নৃত্য ও ফলাহারে বর্ষা উৎসব অনুষ্ঠিত

আব্দুল হালিম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে গান, নৃত্য ও ফলাহারের মধ্য দিয়ে উদীচীতে বর্ষা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী রাজবাড়ী জেলা কমিটির উদ্যোগে শহরের আজাদী ময়দান সংলগ্ন সংগঠনের মিলনায়তনে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়।আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা উদীচীর সহসভাপতি আজিজুল হাসান খোকা। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা উদীচীর সংগীত বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল জব্বার। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উদীচী কেন্দ্রীয় কমিটির সংগীত বিষয়ক সম্পাদক সুরাইয়া পারভীন, সদস্য শিখা কর্মকার। এতে স্মৃতিচারণ মূলক বক্তব্য দেন জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কমরেড আব্দুস সামাদ মিয়া, রাজবাড়ী নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফকীর শাহাদত হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা চিত্রশিল্পী মো. গোলাম আলী, রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক এম দেলোয়ার হোসেন, রাজবাড়ী বৈচিত্র্য সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি আজাদ সিদ্দিকী মিলন, জেলা উদীচীর সাংগঠনিক সম্পাদক ধীরেন্দ্র নাথ দাস প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক এজাজ আহম্মেদ।  বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ছয়টি ঋতুর মধ্যে বর্ষা ঋতু হলো মধুর ঋতু। এই ঋতু শুরু হলে প্রকৃতি হাঁসে। প্রকৃতি জীবন্ত হয়ে ওঠে। চারপাশ সবুজে ভরে যায়। প্রবীণ তার কৈশোরে ফিরে যায়। তবে মানুষ আজ প্রকৃতি ধ্বংস করে ফেলছে। নিয়মিত বনায়ন ধ্বংস করা হচ্ছে। একারণে বর্ষার প্রকৃত রূপ এখন আর দেখা যায় না। বর্ষাকে বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের বেশি বেশি গাছ রোপণ করতে হবে। প্রকৃতি সুন্দর হলে এই পৃথিবী আরও সুন্দর হবে।অনুষ্ঠানে উদীচী ও রাবেয়া কাদের স্মৃতি পাঠাগারের শিল্পীরা সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা করেন

গোয়ালন্দে নজরুল বর্ষের শুভ উদ্বোধন

মঈনুল হক, গোয়ালন্দ রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে ঘোষিত নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭ এর শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানের শুরুতে ভার্চ্যুয়ালি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ টেলিকাস্ট) উপভোগ করেন উপস্থিত অতিথি ও দর্শকরা। পরে স্থানীয়ভাবে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাসের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি (তদন্ত) মো. রাশিদুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার দাস, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু মোল্লা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবলু, নাজিরুল ইসলাম তিতাস, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মোল্লা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আবু সাঈদ মণ্ডল সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।উপজেলা প্রশাসন জানায়, তিন দিনব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে প্রথম দিনে আলোচনা সভা, উদ্ভোধনী সংগীত (চল চল), সমবেত সংগীত, সমবেত নৃত্য, আবৃত্তি, একক সংগীত ও নৃত্য, দ্বিতীয় দিনে নজরুলের উপর রচনা, আবৃত্তি, নজরুল সংগীত ও নৃত্য প্রতিযোগিতা, তৃতীয় দিনে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে লালন, দেশত্ববোধক, ভাটিয়ালি সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনা সভায় বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর জীবন, সাহিত্যকর্ম, দেশপ্রেম, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, বিদ্রোহ, সাম্য ও মানবতার কবি নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত আজও বাঙালির স্বাধীনতার চেতনা, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মূল্যবোধের অন্যতম প্রেরণার উৎস। নতুন প্রজন্মের মাঝে নজরুলের আদর্শ, সাহিত্য ও সংগীত ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা মন্তব্য করেন।আলোচনা সভা শেষে নজরুল সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, দর্শন ও সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।

গোয়ালন্দে নজরুল বর্ষের শুভ উদ্বোধন

রাজবাড়ীতে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে দেশব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’-এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি দেশের ৬৪ জেলা এবং নির্বাচিত ৭৪টি উপজেলায় একযোগে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’-এর স্মারক ও ডাক টিকিট অবমুক্ত, লোগো উন্মোচন ও নজরুল বর্ষের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে রাজবাড়ীতেও শুরু হলো ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭-এর কর্মসূচি। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে বছরব্যাপী নানা সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক আয়োজনের মাধ্যমে এ বর্ষ উদযাপন করা হবে।সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি বক্তব্য রাখেন।বিশেষ অতিথি হিসেবে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি; তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডাঃ জাহেদ উর রহমান ও মন্ত্রী পরিষদের সচিব ডঃ নাসিমুল গনি বক্তব্য।এদিকে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মিয়া, সিভিল সার্জন ডাঃ এস এম মাসুদ, স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক কল্যাণ চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ তারিফ-উল-হাসান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ্যাডঃ লিয়াকত আলী বাবু, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবীব, রাজবাড়ী সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজে অধ্যক্ষ প্রফেসর রেজভি জামান, রাজবাড়ী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর মোস্তফা কামাল সহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিসহ সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বছরব্যাপী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।উল্লেখ্য, গত ২৫ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে এ বছরের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত এক বছর নজরুল বর্ষ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।

রাজবাড়ীতে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরান দলকে সমর্থন

সোহাগ মিয়া, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের হামিদ মৃধার হাট এলাকায় ব্যতিক্রমী ঘটনার জন্ম দিয়েছেন আলাল মোল্লা নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে সে এলাকায় আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের ঘোর সমর্থক হিসেবে পরিচিত থাকলেও এবার তিনি প্রকাশ্যে দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরান ফুটবল দলের সমর্থক হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এমন ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাত ৯টার দিকে হামিদ মৃধার হাট বাজারে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে আলাল মোল্লা তাঁর কর্মী সমর্থকদের জড়ো হন। এ সময় তিনি দুধ দিয়ে গোসল করে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নতুন ইসলামী রাষ্ট্র ইরানের পক্ষে অবস্থানের কথা ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণার পর মুহূর্তেই তাঁর কর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তোলে। একই সাথে বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। বাজারে উপস্থিত অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেন, আবার কেউ কেউ বিষয়টিকে ব্যক্তিগত পছন্দ ও মতামতের স্বাধীনতা হিসেবেও দেখেন।আলাল মোল্লা বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক ছিলাম। তবে ব্যক্তিগত চিন্তা-ভাবনা ও ধর্মীয় অনুভূতি থেকে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আজ থেকে আমি ইরান দলকে সমর্থন করব। আমি আর কখনো আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেব না। এজন্য দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরান ফুটবল দলের সমর্থক হয়েছি।তার এই ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয় যুবকদের মধ্যে কেউ বিষয়টিকে মজার ঘটনা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে একজন সমর্থকের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন।স্থানীয় হামিদ মৃধা হাট এরাকার আক্কাস সরদার, আব্বাস মোল্লা, জামাল হোসেন, হারুন ব্যাপারী সহ অনেকে জানান, সাধারণত ফুটবল দল পরিবর্তনের ঘটনা নতুন নয়। তবে প্রকাশ্যে দুধ দিয়ে গোসল করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে এক দলের সমর্থন ছেড়ে অন্য দলের প্রতি সমর্থন জানানোর ঘটনা এলাকায় খুব একটা দেখা যায় না। ফলে আলাল মোল্লার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।এ বিষয়ে স্থানীয় নুরুল ইসলাম, আহম্মদ আলী শেখ সহ অনেকের ভাষ্য, খেলাধুলা মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। যে কেউ নিজের পছন্দ অনুযায়ী যে কোনো দলকে সমর্থন করতে পারেন। আলাল মোল্লার এই ঘোষণাও তার ব্যক্তিগত মতামত ও পছন্দেরই বহিঃপ্রকাশ।ব্যতিক্রমী এই দলবদলের ঘটনা এখন গোয়ালন্দের হামিদ মৃধার হাট সহ আশপাশের এলাকায় আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।

দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরান দলকে সমর্থন

গোয়ালন্দের তিন সংগ্রামী নারী পেলেন স্বপ্নকুঁড়ির সেরা পুত্রবধূ সম্মাননা স্মারক

মাঈনুল হক, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ীঃ “নারীর সম্মান, সমাজের উন্নয়ন”এ স্লোগানে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের সংগঠন স্বপ্ন কুঁড়ি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে “শ্রেষ্ঠ পুত্রবধূ সম্মাননা স্মারক-২০২৬” প্রদান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভিন্নধর্মী এ অনুষ্ঠানে তিনজন সংগ্রামী নারীকে শ্রেষ্ঠ তিন পুত্রবধূকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। ব্যাতিক্রমধর্মী এমন আয়োজনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত এবং আমন্ত্রিত অতিথিগন সবাই মুগ্ধ হন। সোমবার (৮ জুন) বেলা ১১টায় গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ভিন্নধর্মী এ আয়োজনে অনুষ্ঠানে সমাজে পারিবারিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। “স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন দেখাই”স্লোগানধারী সংগঠন আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান।অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, গোয়ালন্দ রাবেয়া ইদ্রিস মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল কাদের শেখ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম, গোয়ালন্দ সরকারি কামরুল ইসলাম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও সংগঠনটির উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুহিত হিরা, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সালমা বেগম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার দাস, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. হাফিজুল হক, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ও স্বপ্ন কুঁড়ি সামাজিক সংগঠনের উপদেষ্টা সানোয়ার আহমেদ সহ সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মণ্ডল, সদস্য নাহিদুল ইসলাম, নাজমুল ইসলাম, আকিব সরদার, ফাহিম আশরাফ হিমেলম সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।গোয়ালন্দ উপজেলার ৪৭ জন সংগ্রামী নারীর মধ্যে সম্মাননা প্রাপ্ত তিন নারী হলেন, গোয়ালন্দ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড গোয়ালন্দ বাজার রেলওয়ে ষ্টেশন এলাকার বাসিন্দা প্রয়াত ছাত্তার শেখ এর স্ত্রী মোছাঃ সহিতুন নেছা, গোয়ালন্দ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বীপেন রায় পাড়ার প্রয়াত ইকবাল হোসেন বাবলুর স্ত্রী নাসিমা আখতার ডলি ও পৌরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ড বদিউজ্জামান বেপারী পাড়ার মো. সেলিম মিয়ার স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম।বক্তারা বলেন, একটি পরিবার ও সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে এবং শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি সম্মান, দায়িত্ববোধ ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। এ ধরনের আয়োজন সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।অনুষ্ঠানে উপস্থিত নারীদের উদ্দেশ্যে পারিবারিক সম্পর্ক উন্নয়ন, বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং সামাজিক মূল্যবোধ চর্চার বিষয়ে বিভিন্ন দিক নির্দেশনামূলক আলোচনা করা হয়। পরে নির্বাচিত তিন জন নারীর মাঝে “শ্রেষ্ঠ পুত্রবধূ সম্মাননা স্মারক-২০২৬”হিসেবে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।আয়োজকরা জানান, সমাজে ইতিবাচক মূল্যবোধ ও পারিবারিক সম্প্রীতি জোরদারের লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

গোয়ালন্দের তিন সংগ্রামী নারী পেলেন স্বপ্নকুঁড়ির সেরা পুত্রবধূ সম্মাননা স্মারক

 মতামত মতামত

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সোয়া কোটি টাকার সড়ক নির্মাণের দুই মাসেই ধস

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সোয়া কোটি টাকার সড়ক নির্মাণের দুই মাসেই ধস

মঈনুল হক, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার প্রায় সোয়া কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় ধসে পড়তে শুরু করেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ এইচবিবি (হেরিং বোন বন্ড) সড়ক। দৌলতদিয়া ইউনিয়নের প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের অন্তত ১৫টি স্থানে ধস দেখা দেওয়ায় নির্মাণ কাজের মান এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া আক্কাস আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে আশ্রয়ণ প্রকল্প হয়ে স্থানীয় রিকাতের দোকান পর্যন্ত সড়কটির দেড় কিলোমিটার এলাকা বিধ্বস্ত। চলতি বছরের ১২ মার্চ কাজ শুরু ১০ জুন কাজ শেষ হওয়ার পর এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে বলে আশা জাগলেও বৃষ্টিতে সেই আশা হতাশা ও ক্ষোভে রূপ নিয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে গ্রামীণ রাস্তা টেকসইকরণের লক্ষ্যে রাজবাড়ীর মেসার্স লাকী এন্টারপ্রাইজ নামক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এইচবিবিকরণ প্রকল্পের আওতায় সড়কের নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন হয়। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যায় ধরা হয় প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। যার চুক্তিমূল্য ছিল প্রায় ১ কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে উপজেলা প্রশাসন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। সরেজমিন দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধস সৃষ্টি হয়ে কোথাও ইটের গাইডওয়ালে ফাটল হয়ে নিচের অংশ দেবে গেছে। কয়েক স্থানে ইট উঠে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এছাড়া পুরোনো ও ছিদ্রযুক্ত বিটুমিনের ড্রাম শিট জোড়াতালি দিয়ে ব্যবহার করায় অনেক স্থানে খুলে পড়ছে। এ সময় দুইজন পুরুষ এবং দুইজন নারী শ্রমিককে ধসে পড়া স্থানগুলোতে সংস্কার কাজ করতে দেখা যায়। এ সময় আলাউদ্দিন নামের নির্মাণ শ্রমিক বলেন, বৃষ্টির পর গত চারদিন ধরে তারা রাস্তার ধসে পড়া স্থানগুলোতে বাইরে থেকে মাটি এনে মেরামতের কাজ করছেন। একপাশে গাইডওয়াল রয়েছে, অপর পাশে নেই। এক্ষেত্রে ঠিকাদার আমাদের যেভাবে কাজ করতে বলছেন আমরাও সেভাবেই করছি। তবে ভারি বৃষ্টি হলে নতুন রাস্তা হওয়ায় আবারও ধসে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।  স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজ চলাকালেই তারা নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদ করায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজের ইচ্ছামতো সামগ্রী ব্যবহার করেই কাজ শেষ করেন।আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, “সরকার মানুষের সুবিধার জন্য কোটি টাকা খরচ করেছে। কিন্তু কাজের মান ভালো না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। এখনই যদি এমন হয়, সামনে আরও বৃষ্টি হলে রাস্তার কী অবস্থা হবে?”স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল মোল্লার অভিযোগ, “সঠিক তদারকির অভাবেই সরকারের কোটি কোটি টাকার প্রকল্প ঝুঁকিতে পড়ছে। কাজের সময় অভিযোগ করার পরও শেষ পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”স্থানীয় আলতাফ শেখ বলেন, “রাস্তাটি হওয়াতে আমরা খুশি হয়েছিলাম। কাজের শুরুতে ভালোভাবে কাজ করার অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু ঠিকাদার আমাদের কথা গুরুত্ব দেননি। যেভাবে কাজ হওয়ার কথা ছিল, সেভাবে হয়নি।”নিম্নমানের নির্মাণকাজের অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সত্বাধিকারী আহসান হাবিব বলেন, “অতিরিক্ত বৃষ্টির কারনে রাস্তার কয়েক স্থানে ধসে পড়ে। মাটির স্বল্পতা থাকায় মেরামত কাজ করতে দেরি হয়। কয়েকদিন কাজ করে বুধবার শেষ করা হয়েছে। আবার কোথাও ধসে পড়লে প্রয়োজনে ঠিক করা হবে। আগামী এক বছর তো আমার দায়িত্বে থাকবে। তবে আমি শতভাগ কাজ সম্পন্ন করেছি। এমন কাজ সাধারণত কোন ঠিকদার করে না। এছাড়া গাইডওয়াল যেখানে যেখানে ধরা আছে আমরা সেখানেই করেছি। কোনো পাশে যদি ধরা না থাকে, তাহলে আমরা কিভাবে করবো। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আবু বকর বলেন, অভিযোগ পাওয়ার ঠিকাদারকে কাজের মান নিশ্চিত করতে বলা হয়েছিল। বৃষ্টির কারনে কয়েক স্থানে ধস দেখা দিলে ঠিকাদারকে দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়। ঠিকাদার সে মোতাবেক গত তিন-চারদিন কাজও করেছেন। এছাড়া ঠিকাদার বিল তুলে নিলেও জামানত, পে-অর্ডার ও পারফরমেন্সের ৩ শতাংশ টাকা এখনও আমাদের কাছে রয়েছে।

১২ মিনিট আগে

 স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

১৭ দিন নিখোঁজের পর রাজবাড়ী সদর থানা ওসির সহযোগিতায় মাকে ফিরে পেলো পরিবার

১৭ দিন নিখোঁজের পর রাজবাড়ী সদর থানা ওসির সহযোগিতায় মাকে ফিরে পেলো পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ নিখোঁজের ১৭ দিন পর মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন বৃদ্ধা জোবেদা খাতুনকে (৬৬) ফিরে পেলো তাঁর পরিবার। শনিবার রাতে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিবারের সদস্যদের কাছে বৃদ্ধা জোবেদা খাতুনকে বুঝিয়ে দেন। এ সময় রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষসহ বৃদ্ধার ছেলে ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৃদ্ধা জোবেদা খাতুন নীলফামারী সদর উপজেলার নীলফামারী বাজার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়ারেছিপাড়ার জিয়ার উদ্দিন রহমানের স্ত্রী। মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন বৃদ্ধা জোবেদা খাতুন গত ১৭দিন আগে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরেনি। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও না পাওয়ায় স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়রী করেন। পুলিশ ও পরিবার জানায়, বৃহস্পতিবার (৬ আগষ্ট) বিকেলে রাজবাড়ী পৌরসভা কার্যালয়ে সামনে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় একটি ব্যাটারি চালিত ইজিবাইকের সাথে ধাক্কায় রাস্তায় পড়ে আহত হন বৃদ্ধ জোবেদা খাতুন। এ সময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় ইজিবাইক চালক ও পাশেই অবস্থিত সদর থানা পুলিশ তাঁকে দ্রæত সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে ঠোটে সেলাইসহ চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় মহিলা সার্জারী ওয়ার্ডে ভর্তি রাখে। কিন্তু তিনি কথা বলতে না পারায় পরিচয় শনাক্ত করা যাচ্ছিল না। পরে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মনজুর মোরশেদের নির্দেশে শনিবার (৮ আগষ্ট) সকালে ফরিদপুর থেকে সিআইডির একটি টিম তাঁর আঙ্গুলের ছাপ গ্রহণের পর জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বের করে।  সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ জানান, ইজিবাইক চালকের সহযোগিতায় আহত বৃদ্ধাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ সময় ইজিবাইক চালক এবং আমরা যাবতীয় ওষুধপত্রের ব্যবস্থা করি। কিন্তু বৃদ্ধা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলায় এবং কথা বলতে না পারায় পরিচয় জানতে পারছিলাম না। পুলিশ সুপারের নির্দেশে ফরিদপুর থেকে সিআইডির টিম শনিবার সকালে বৃদ্ধার আঙ্গুলের ছাপ গ্রহণ করে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য বের করলে জানতে পারি তাঁর বাড়ি নীলফামারী জেলায়। এ সময় আমরা প্রযুুক্তিগত সহায়তায় জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে নিবন্ধিত মুঠোফোন নাম্বার সংগ্রহ করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারি তাঁর এক ছেলে নীলফামারী পুলিশ লাইনে ম্যাসে কাজ এবং আরেক ছেলে চাকুরি করেন। পরে সাভারে থাকা ছেলে রাতেই রাজবাড়ী পৌঁছলে রাত ৯টার দিকে বৃদ্ধাকে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ইজিবাইক চালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ইজিবাইক নিয়ে রাজবাড়ী শহরের যাওয়ার সময় এক বৃদ্ধা থাক্কা খেয়ে সড়কে পড়ে যান। এ সময় পাশে উপস্থিত সদর থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করি এবং যাবতীয় ওষুধপত্র কিনে দেই। কিন্তু তিনি কথা বলতে না পারায় আমরা দুশ্চিন্তায় ছিলাম। পরে ওসি স্যারের চেষ্টায় পরিবারকে খুঁজে বের করে তাদের হাতে দিতে পারায় স্বস্তি ফিরছে।  জোবেদা খাতুনের ছেলে শাহিনুর রহমান বলেন, কয়েক মাস আগে মা স্ট্রোক করলে শরীরের একপাশ অবস হয়ে পড়ায় অনেকটা মানসিকভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। ১৭দিন আগে মা বাড়ি থেকে সবার অজান্তে বের হওয়ার পর অনেক খোঁজ করে না পাওয়ায় থানায় জিডি করি। এরপর মাকে অনেক খুঁজেছি কিন্তু কোথাও পায়নি। শনিবার দুপুরে রাজবাড়ী সদর থানার ওসি স্যার ফোন করে জানালে আমরা চলে আসি। অনেকদিন পর মাকে খুঁজে পেয়েছি, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। সদর থানা ওসি স্যারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

পতিত সরকার শিক্ষা, সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে - রাজবাড়ীতে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা তিতুমীর

পতিত সরকার শিক্ষা, সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে - রাজবাড়ীতে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা তিতুমীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকাল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, পতিত সরকার শিক্ষাকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। সংস্কৃতি বলে কিছুই নাই, ক্রীড়ার ক্ষেত্রেও আমরা পিছনে। আমরা অন্য দেশের উত্তেজনায় খুশি হই। কিন্তু আমরাও বিশ্ব দরবারে আমাদের ক্রীড়া, সংস্কৃতি এবং শিক্ষা তথা দক্ষ জনগোষ্ঠির মাধ্যমে নিজের অবস্থানকে নিশ্চিত করতে পারি। আমাদের সরকার সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।শুক্রবার (৭ আগষ্ট) দুপুরে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের এডিপি (বিশেষ) বরাদ্দের আওতায় গোয়ালন্দ উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে ক্রীড়া সামগ্রী, সাউন্ড সিস্টেম ও হারমোনিয়াম বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা তিতুমীর বলেন, জাতি গঠনের সবচেয়ে বড় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ হচ্ছে শিশু, কিশোর এবং যুবকদের মধ্যে সংস্কৃতি, ক্রীড়া এবং বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা। তারই অংশ হিসেবে অর্থাৎ আমরা সুনাগরিকের অংশ হিসেবে বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী, সংস্কৃতি সামগ্রী বিতরণ করলাম। লক্ষ্য হচ্ছে আগামী জানুয়ারী মাসে যখন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে, তখন অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ এবং মাদরাসাগুলো তিনটা ক্যালেন্ডার দিবেন। একটি হলো বার্ষিক শিক্ষা কর্মসূচি, দ্বিতীয় বার্ষিক সংস্কৃতিক কর্মসূচি ও তৃতীয়তো বার্ষিক ক্রীড়া কর্মসূচি। যাতে করে, আমরা আমাদের হৃত যে গৌরব সেই গৌরবের পথে যেতে পারি। অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে দেশের সবগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বার্ষিক পরিকল্পনাকৃত ক্যালেন্ডার তৈরি করে দিবেন। যার মাধ্যমে মানুষ সৃষ্টি করার বড় রকমের পরিবর্তন আসতে পারে। শিক্ষা, দক্ষতা এবং কর্মসংস্থানের ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। যাতে আমরা সবাই মিলে বড় রকমের পরিবর্তন আনতে পারি।     রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।  সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, আমরা বাংলাদেশে সুষ্ঠু, সুস্থ্য এবং স্বাবলিল সংস্কৃতি দেখতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সেটাই আহ্বান এবং আমাদের সেটাই কর্মসূচি। সুস্থ্য, স্বাবলিল সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সংস্কৃতিতে পৃষ্ঠপোষকতা না থাকার কারনে মারাত্মকভাবে এটার অধপতন হয়েছে। যার কারনে আমাদের দেশে যুব সমাজের মধ্যে নানা রকম প্রবণতা লক্ষ্য করি। আমাদের যুব সমাজ হচ্ছে আগামী দিনের ভবিষ্যত। তাদেরকে সামেন রেখে একটা সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সংস্কৃতির একটা বিড়াট ভূমিকা আছে। আমরা আশা করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমাদের সংস্কৃতি সহ সমস্ত ক্ষেত্রে উল্লেখ্যযোগ্য অগ্রগতি সাধন করবো। তিনি আরও বলেন, রাজবাড়ীর আর্থ সামজিক উন্নয়নে আমরা অনেক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আমাদের পরিকল্পনার প্রস্তুতির কাজ চলছে। সমস্ত ক্ষেত্রে শিক্ষা, সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক অবকাঠামো, আইনশৃঙ্খলা, স্বাস্থ্য সমস্ত ক্ষেত্রে কাজ করছি। চলতি অর্থ বছরে আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে বলে আশা করছি।      অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম, পুলিশ সুপার মনজুর মোরশেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শংকর চন্দ্র বৈদ্য, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল হুদা, গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সভাপতি নিজাম উদ্দিন শেখ, সাবেক সভাপতি সুলতান-নূর ইসলাম মুন্নু, সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সহিদুল ইসলাম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।গোয়ালন্দ উপজেলার ৫১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে খেলার সামগ্রী এবং হারমোনিয়াম প্রদান করা হয়। এছাড়া ৬টি মাদরাসার মাঝে সাউন্ড সিস্টেম প্রদান করা হয়। এডিপির অর্থায়নে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৫ লাখ টাকার সামগ্রী প্রদান করা হয়। পরে তাঁরা বিকেলে রাজবাড়ী জেলা সদরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

রাজবাড়ীর পাংশায় সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১

শামীম হোসেন, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর পাংশায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কালের কণ্ঠের মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি মো. আকাশ মাহমুদকে (২৫) মারধরের ঘটনায় জড়িত মো. বিশু সরদার (৩৫) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পাংশা মডেল থানা পুলিশ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পাংশা উপজেলার মৈশালা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত বিশু সরদার পাংশা উপজেলার কুলটিয়া গ্রামের আব্দুল খালেক সরদারের ছেলে। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে পাংশা উপজেলার মৈশালা বাসস্ট্যান্ডের দক্ষিণ পাশে নাদুরিয়া ঘাটগামী ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা স্ট্যান্ডে স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কয়েকজন সদস্যের সংঙ্গে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে অটোরিকশা চালকদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে গেলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত দৈনিক কালের কণ্ঠের রাজবাড়ী জেলার মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি আকাশ মাহমুদ পেশাগত কাজের জন্য মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করতে থাকেন। বিষয়টি দেখে ফেলায় কয়েকজন অটোরিক্সা চালক লাঠিসোটা নিয়ে সাংবাদিক আকাশ মাহমুদের ওপর হামলা চালায়। নিজেকের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পরও হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থান গুরুতর জখম হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে তিনি কোনভাবে প্রাণে রক্ষা পান। পরে সাংবাদিক আকাশ মাহমুদকে উদ্ধার করে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। হামলাকারীদের দ্রæত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানান।   পরবর্তীতে এ ঘটনায় আহত সাংবাদিক আকাশ মাহমুদ বাদী হয়ে হামলার পরদিন ২৬ জুলাই পাংশা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তের আলোকে পুলিশ হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে আজ বুধবার (৫ আগষ্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মৈশালা বাসস্ট্যান্ড থেকে বিশু সরদারকে গ্রেপ্তার করে। পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘মামলা দায়েরের পর তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার সাথে বিশু সরদারের সম্পৃক্ততা খুঁজে পান। তদন্তে প্রাপ্ত আসামী হিসেবে বুধবার সকালে বিশু সরদারকে গ্রেপ্তারের পর দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়। হামলার সাথে জড়িত অপর আসামীদেরও গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

রাজবাড়ীর পাংশায় সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১

দৌলতদিয়ার মাদক সম্রাজ্ঞী ১২ মামলার আসামী রোজী সহ গ্রেপ্তার ৩

মঈনুল হক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া পোড়াভিটা এলাকায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও গোয়ালন্দঘাট থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে ২০ গ্রাম হেরোইন সহ মাদকদ্রব্য আইনে দায়েরকৃত ১২ মামলার আসামি রোজি বেগমসহ তাঁর দুই বিক্রয়কর্মী মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে।সোমবার (৩ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের উত্তর দৌলতদিয়া পোড়াভিটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২০০ পুরিয়া (প্রায় ২০ গ্রাম) হেরোইন উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, গোয়ালন্দ উপজেলার উত্তর দৌলতদিয়া পোড়াভিটা এলাকার বাসিন্দা আরিফ কাজীর স্ত্রী চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী রোজি বেগমকে (৫০) গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় একই এলাকার বাসিন্দা রোজি বেগমের দুই মাদক বিক্রেতা নিশি আক্তার (৪২) এবং উত্তর দৌলতদিয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা আখের আলীকে (৩২) পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় গোয়ালন্দঘাট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৮(ক), ৮(খ) ও ৪১ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরের দিকে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত রোজি বেগম দীর্ঘদিন ধরে দৌলতদিয়া পোড়াভিটা এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য রয়েছে। এর আগেও মাদক সহ একাধিকবার তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে ১২টি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে দায়েরকৃত মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

দৌলতদিয়ার মাদক সম্রাজ্ঞী ১২ মামলার আসামী রোজী সহ গ্রেপ্তার ৩

রাজবাড়ীতে পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার কালিকাপুর গ্রামে রাতে পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে নগদ দুই লাখ টাকা এবং প্রায় পাঁচ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার গভীররাতে উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার নুরু শেখ (৬৫), তাঁর স্ত্রী হামিদা বেগম (৫৫) ও তাঁদের প্রবাস ফেরত ছেলে জুয়েল শেখ (২৭)। বর্তমানে আহতরা কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে চিহিৃত এবং অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনকে অভিযুক্ত করে শনিবার কালুখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নুরু শেখের স্ত্রী হামিদা বেগম।অভিযোগে জানান, গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত আনুমানিক পৌনে এগারটার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের বাড়ির টিনের চালে ঢিল ছুড়ে। পরে তাদের মধ্যে একজন বাবলু শেখ পরিচয়ে গেট খুলতে বললে পরিবারের সদস্যরা গেট খুলে দেন। গেট খোলার সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্তরা পিস্তল সহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে নুরু শেখ, স্ত্রী হামিদা বেগম ও তার ছেলে জুয়েল শেখকে জিম্মি করে ঘরের ভেতরে নিয়ে যায়। এ সময় দুর্বৃত্তদের মধ্যে স্থানীয় বাবলু শেখ সহ কয়েকজনকে তারা চিনতে পারেন। কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন সৌদি প্রবাস ফেরত জুয়েল শেখ জানান, দুর্বৃত্তরা বাড়ির ভিতর প্রবেশ করে আমাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এ সময় তারা অস্ত্রের বাট দিয়ে আমাকে প্রচণ্ড মারধর করে। এ সময় তারা আলমারি ও বাক্স খুলে দিতে বাধ্য করে। পরে আলমারি থেকে নগদ প্রায় দুই লাখ টাকা এবং একটি গলার হার, একটি চেইন, এক জোড়া হাতের বালা ও দুই জোড়া কানের দুলসহ প্রায় পাঁচ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। বাধা দিলে তারা আমাকে, আমার বাবাকে এবং মাকে মারধর করে আহত করেন। দুর্বৃত্তরা চলে যাওয়ার সময় মামলা করলে পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকিও দেয়।পরে তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে শনিবার (১ আগষ্ট) বিকেলে কালুখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্থানীয় বাবলুর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন না ধরায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।  কালুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মোস্তফা কামাল বলেন, স্থানীয় আধিপত্যের বিস্তারকে কেন্দ্র দুটি পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ ঘটনার তারই একটা অংশ। খবর পেয়ে তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এ ঘটনায় শনিবার বিকেলে থানায় অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।

রাজবাড়ীতে পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ

রাজবাড়ীতে ট্রেন-বাস-মাহিন্দ্র-ইজিবাইকের চতুর্মুখী সংঘর্ষ, নিহত ২

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর খানখানাপুর রেলগেট এলাকায় রোববার রাতে তেলবাহী ট্রেনের বগির সাথে যাত্রীবাহি বাস, মাহিন্দ্র ও ইজিবাইকের চতুর্মুখী সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১০ জন যাত্রী গুরুতর আহত হন। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পর দুই জনের মৃত্যু হয়। রোববার রাত পৌনে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন, ইজিবাইকের যাত্রী রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর ইউনিয়নের ব্র্যাক পাড়ার মনোয়ার হোসেন (৫০) ও মাহিন্দ্র যাত্রী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের শামুকখোলা গ্রামের আব্দুল মালেক (৪৫)। এছাড়া আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। জানা যায়, রোববার (২৬ জুলাই) রাতে ফরিদপুর পাওয়ার প্লান্ট সদর উপজেলার ধুলদি থেকে তেল নামিয়ে ইঞ্জিনসহ ৩০টি বগি রাজবাড়ীর দিকে যাচ্ছিল। রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে ট্রেনটি সদর উপজেলার খানখানাপুর রেলগেট অতিক্রম করার আগে পিছনের পাঁচটি বগির কাপলিং (সংযুক্ত ক্লিপ) খুলে যায়। ইঞ্জিনসহ ২৫টি ওয়াগন রেলক্রসিং পার হওয়ার পর রেলগেটের দায়িত্বে থাকা গেটম্যান ব্যারিয়ার তুলে দিলে ফরিদপুর থেকে আসা দৌলতদিয়াগামী অপর্ণা পরিবহনের যাত্রীবাহি লোকাল বাস, যাত্রীবাহি মাহিন্দ্র, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় রেলের বিচ্ছিন্ন বগিগুলো সজোরে আঘাত করলে দুমড়ে মুচড়ে যায় মাহিন্দ্রা ও ইজিবাইক। যাত্রীবাহি বাসটির সামনের অংশ ভেঙে মহাসড়ক থেকে ছিটকে রেললাইনের পাশে আটকা পড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উভয় যানবাহনের অন্তত ১০জন যাত্রী গুরুতর আহত হন। মাহিন্দ্র ও ইজিবাইকের আটকা পড়া চারজন যাত্রীর হাত, পা সহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয়দের পাশাপাশি পাশেই অবস্থিত খানখানাপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ উদ্ধার কাজ শুরু করে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্য, হাইওয়ে পুলিশ ও সদর থানা পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় একজন বলেন, রেললাইনের ব্যারিয়ার তুলে দেওয়ার পর বাসটি পার হওয়ার জন্য রেললাইনের ওপর আসে। বিপরিত পাশ থেকে মাহেন্দ্র ও একটি ইজিবাইকও আসে। এক মিনিটও লাগেনি, মুহুর্তের মধ্যে রেলের বগিগুলো এসে সজোড়ে আঘাত করে টেনে নিয়ে যায়। এক মিনিট পর ব্যারিয়াটি তুললে হয়তো এ দুর্ঘটনা ঘটতো না। মো. মমিন নামের একজন বলেন, রেলগেটের ব্যারিয়ার তুলে দেওয়ার পরই বাস, মাহিন্দ্র, ইজিবাইকসহ আমরা রেললাইন পার হচ্ছিলাম। গেটের দায়িত্বরত গেটম্যান কি খেয়াল করলো না পিছনে আরও চার-পাঁচটি বগি রয়েছে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বগিগুলো এসে আঘাত করে সব দুমড়ে মুচড়ে নিয়ে যায়।  রাজবাড়ী রেলওয়ের জ্যেষ্ঠ উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মাহাবুব হাসান বলেন, ফরিদপুরের পাওয়ার প্লান্টে তেল নামিয়ে দিয়ে ৩০টি বগি নিয়ে রাজবাড়ী আসছিল। পথিমধ্যে বগির কাপলিং খুলে যাওয়ায় পিছনের পাঁচটি বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রায় ৮৫ কিলোমিটার গতিতে ইঞ্জিনসহ বগিগুলো খানখানাপুর রেলক্রসিং পার হওয়ার পর গেটম্যান ব্যারিয়ার তুলে দেন। পিছনে বিচ্ছিন্ন আরও পাঁচটি বগি রয়েছে যা দেখতে পাননি। ব্যারিয়ার উঠানোর পর রেললাইন পার হওয়ার সময় যানবাহনগুলোকে পিছনের বগিগুলো এসে আঘাত করে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে বগিগুলোকে ফরিদপুর আমিরাবাদ স্টেশনে রাখা হয়েছে।  রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ জানান, ব্যারিয়ার খুলে দেওয়ার পর রেললাইনে চলে আসা যাত্রীবাহি বাস, মাহিন্দ্র, অটোরিক্সা সাথে বগির চতুর্মুখী সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পাঁচজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে রাতেই দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

রাজবাড়ীতে ট্রেন-বাস-মাহিন্দ্র-ইজিবাইকের চতুর্মুখী সংঘর্ষ, নিহত ২