নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার পাঁচবাড়িয়া দড়ি বাংলাট গ্রামে স্থানীয় করিমের রাইস মিলের সামনে বৈদ্যুতিক সেচপাম্প চুরির অভিযোগে জজ আলী বিশ্বাস নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশ হাকিম আলী মণ্ডল (৫০) ও করিম মণ্ডল (৬৪) নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে নিজ এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে। তাদেরকে বৃহস্পতিবার বিকেলেই আদালতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত হাকিম মণ্ডল পাংশা উপজেলার কসবামাঝাই ইউনিয়নের নাবরাদহ গ্রামের মৃত শাহাদত মণ্ডলের ছেলে ও করিম মণ্ডল একই গ্রামের মৃত সমেশ মণ্ডল ওরফে ছামেদ মণ্ডলের ছেলে। এর আগে জজ আলী বিশ্বাস হত্যার ঘটনায় নিহতের মা আছিয়া খাতুন বাদী হয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগষ্ট) পাংশা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা (নং-১০) দায়ের করেন। মামলায় ৪৫ জনকে এজাহারভুক্ত এবং অজ্ঞাত আরও ১২ জনকে আসামী করা হয়। নিহত জজ আলী বিশ্বাস পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের উত্তর মাঝাইল গ্রামের শুকুর আলী বিশ্বাসের ছেলে।মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, বৃধবার (১৯ আগষ্ট) ভোররাত চারটার দিকে তাঁকে কৌশলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে পাঁচবাড়িয়া দড়ি বাংলাট গ্রামের স্থানীয় করিম মণ্ডলের রাইস মিলের কাছে নিয়ে দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে গুরুতর জখম করে রাস্তায় ফেলে রাখে। পরবর্তীতে সকালে খবর পেয়ে পাংশা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মুমূর্ষ অবস্থায় জজ আলীকে উদ্ধার করে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত জজ আলীর ভাতিজা মিজান বিশ্বাস বলেন, তিনি (জজ আলী) বৈদ্যুতিক সেচপাম্প চুরির সঙ্গে জড়িত নয়। পাট্টা ও কসবামাঝাইল ইউনিয়নের তাদের দুটি গ্রামের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে একাধিকবার মারামারির ঘটনাও ঘটে। প্রায় দেড় মাস আগে কসবামাঝাইল ইউপির কসবামাঝাইল গ্রামের লোকজন জজ আলীর আপন চাচা জামিন বিশ্বাসকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। ওই মামলার অভিযুক্ত আসামীরা মঙ্গলবার উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে এলাকায় ফিরে আসেন।মিজান বিশ্বাসের দাবি, কসবামাঝাইল গ্রামের আরিফ নামের একজন আমার চাচার (জজ আলীর) খুব ঘনিষ্ট ছিলেন। সেই সূত্র ধরে বুধবার ভোররাতের দিকে কৌশলে তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে বেধম মারপিট করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়। পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর সে মারা যান। আমার চাচা কৃষিকাজ করতেন এবং পরিবারে তিনটি সন্তান রয়েছে। আমার চাচা না থাকায় তাঁর পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছে। পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, জজ আলী বিশ্বাস হত্যার ঘটনায় প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বুধবার রাতে হাকিম মণ্ডল ও করিম মণ্ডলকে থানায় আনা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে জজ আলীর মা বাদী হয়ে মামলা করলে এজাহারভুক্ত আসামী হিসেবে তাদের নাম দেন। পরে ওই মামলায় তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
অনলাইন জরিপ
রাজনীতি
সুমন বিশ্বাস, রাজবাড়ীঃ ফরিদপুরের গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাস রাজবাড়ীর ওপর দিয়ে চলাচলে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দুপুর থেকে রাজবাড়ী-ফরিদপুর রুটে সকল প্রকার বাস চলাচল বন্ধ ছিল। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী সাধারণ। পরে জেলা প্রশাসন ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদের হস্তক্ষেপে ৪৬ ঘন্টা পর বৃহস্পতিবার সকাল দশটা থেকে সকল বাস চালু হয়েছে। তার আগে সকাল সাতটার পর লোকাল বাস চালু হয়। পরিবহন সংশ্লিস্টরা জানায়, মঙ্গলবার (১৮ আগষ্ট) সকাল ১০টার দিকে রাজবাড়ী শহরের শ্রীপুর বাস টার্মিনালে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাস চলাচলে বাধা দেন স্থানীয় শ্রমিকেরা। এর জেরে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের লোকজন ফরিদপুর বাস টার্মিনালে অবস্থিত রাজবাড়ীর একটি লোকাল বাস আটকে দেন। এতে করে দুই জেলার পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। প্রতিবাদে ওইদিন দুপুর ১২টার পর থেকে দুই জেলার মধ্যে গোল্ডেন লাইনের পরিবহনসহ দূরপাল্লার বাস বচলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন এই দুই জেলার চলাচলরত যাত্রী সাধারণ।রাজবাড়ী পূবালী ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা শওকত জাহান বলেন, প্রতিদিন সকাল ৮টার দিকে ফরিদপুর থেকে রাজবাড়ীতে গিয়ে অফিস করি। আকষ্মিকভাবে পরিবহন বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে মাহেন্দ্র ও অটোরিক্সায় গন্তব্যে যেতে হয়। আজ বৃহস্পতিবার সকালেও টার্মিনালে অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর সকাল সোয়া ৮টার দিকে একটি লোকাল বাস আসলে রাজবাড়ী রওয়ানা করি। রাজবাড়ী পরিবহন মালিক গ্রুপের নেতৃবৃন্দ জানায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজবাড়ীর ওপর দিয়ে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাস চলাচল নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ওই সময় ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে পরিবহন মালিক সংগঠনের নেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে রাজবাড়ীর ওপর দিয়ে দিনের বেলায় গোল্ডেন লাইন পরিবহনের চারটি ট্রিপ চলবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। এ সিদ্ধান্ত তখন আমরা সকলে মেনে নেই। রাজবাড়ী পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার ভৌমিক বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর গোল্ডেন লাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষ ওই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ধীরে ধীরে তাদের যানবাহনের ট্রিপের সংখ্যা বাড়াতে থাকে। কোনো কোনো দিন রাজবাড়ীর ওপর দিয়ে তারা ২৮টি ট্রিপ পর্যন্ত চালাতে থাকেন। তারা কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে তাদের ইচ্ছে মতো ট্রিপ মারতে থাকেন। এ নিয়ে আমাদের শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ তৈরি হয়। সুকুমার ভৌমিক বলেন, মঙ্গলবার সকালে রাজবাড়ীর শ্রীপুর বাসটার্মিনালে স্থানীয় শ্রমিকেরা ফরিদপুরের গোল্ডেন লাইন পরিবহনের চারটি বাস চলার পর তাদের কোম্পানির অন্যান্য বাস চলাচলে বাধা দেন। এর জেরে ফরিদপুর বাস মালিক সমিতির লোকজন ফরিদপুরে বাসটার্মিনালে থাকা রাজবাড়ীর বাস আটকে দেন। মঙ্গলবার সকালে রাজবাড়ী থেকে দর্শনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ‘রেখা’ পরিবহনের একটি বাস রাজবাড়ী ফেরার পথে রাত আটটার দিকে ফরিদপুর বাস টার্মিনালে পৌঁছলে স্থানীয় শ্রমিকরা বাসের চালক-সহকারীকে মারধর করে প্রায় ১৭ হাজার টাকা কেড়ে নেন বলে অভিযোগ উঠে। এর প্রতিবাদে সমস্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। বিষয় নিয়ে রাজবাড়ী ও ফরিদপুরের জেলা প্রশাসনের মধ্যে আলোচনা সাপেক্ষে প্রায় ৪৩ ঘন্টা পর আজ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে লোকাল বাস চালু হলেও দূরপাল্লার পরিবহন বন্ধ ছিল। রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের হস্তক্ষেপে সকাল ১০টার পর থেকে গোল্ডেন লাইনসহ সকল দূরপাল্লার পরিবহন আগের মতো চালু হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আগামী ৭ থেকে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উভয় জেলার পরিবহন মালিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বসে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
শামীম হোসাইন, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার পাঁচবাড়িয়া গ্রামে বৈদ্যুতির মোটরপাম্প চুরির অভিযোগে জজ আলী বিশ্বাস (৩৫) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সকালে তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত জজ আলী বিশ্বাস পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের উত্তর মাঝাইল গ্রামের শুকুর আলী বিশ্বাসের ছেলে। জজ আলী বিশ্বাস পেশায় কৃষি কাজ করতেন এবং ব্যক্তিগতভাবে তিনি তিন সন্তানের জনক ছিলেন। আজ বুধবার ভোরের দিকে কাজের জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে যান বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। বাড়ি থেকে দুর্ঘটনাস্থলের দূরত্ব প্রায় প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বুধবার ভোর পাঁচটার দিকে পাংশা উপজেলার কসবামাঝাইল ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া গ্রামের করিম মণ্ডলের রাইস মিলের বৈদ্যুতিক মোটরপাম্প চুরি করতে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের হাতে ধরা পড়ে। স্থানীয় লোকজন তাকে হাতেনাতে ধরে বেদম মারধর করলে গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে পাংশা মডেল থানা পুলিশ সকাল সাতটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জজ আলী বিশ্বাস মারা যান। জজ আলী বিশ্বাস মোটরপাম্প চুরির সঙ্গে জড়িত নয় দাবি করে নিহতের ভাতিজা মিজান বিশ্বাস বলেন, পাট্টা ও কসবামাঝাইল ইউনিয়নের দুটি গ্রামের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে একাধিকবার মারামারির ঘটনাও ঘটে। প্রায় দেড় মাস আগে কসবামাঝাই ইউপির কসবামাঝাইল গ্রামের লোকজন আমাদের আপন চাচা জামিন বিশ্বাসকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। ওই মামলার অভিযুক্ত আসামীরা মঙ্গলবার উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে এলাকায় ফিরে আসেন। মিজান বিশ্বাসের দাবি, কসবামাঝাইল গ্রামের আরিফ নামের একজন আমার চাচার খুব পরিচিত ঘনিষ্ট একজন ছিলেন। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে আজ বুধবার ভোরের দিকে কৌশলে তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে বেধম মারপিট করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়। পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর সে মারা যান। আমার চাচা কৃষিকাজ করতেন এবং পরিবারে তিনটি সন্তান রয়েছে। এখন তাঁর পরিবারের কি অবস্থা হবে? পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, ভোর পাঁচটার দিকে মোটরপাম্প চুরির ঘটনায় ফোন আসে। এ ঘটনায় যিনি আমাকে ফোন করেন তাঁকে বলেছিলাম ‘আপনারা মারধর করবেন না, আমরা আসছি’। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল আটটার দিকে তিনি মারা যান। ওসি আরও জানান, নিহতের জজ আলী বিশ্বাসের মরদেহ পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং কারা এ ঘটনায় জড়িত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বাড়তি নিরাপত্তায় এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার মামলায় রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ যুবলীগ নেতা, জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মো. ইউনুস মোল্লাকে (৫৫) গ্রেপ্তারের পর সোমবার কারাগারে পাঠিয়েছে। এর আগে রোববার দিবাগত গভীর রাতে গোয়ালন্দ পৌরসভার জুড়ান মোল্লার পাড়ার নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। সোমবার দুপুরে তাঁকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুলিশ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। মো. ইউনুস মোল্লা গোয়ালন্দ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ২ নং জুড়ান মোল্লার পাড়ার মৃত অলিউদ্দিন মোল্লার ছেলে। এছাড়া তিনি রাজবাড়ী জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ছিলেন এবং বর্তমানে গত চার বছর ধরে গোয়ালন্দ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের ৪ আগষ্ট সারা দেশের ন্যায় রাজবাড়ী সরকারি কলেজ এবং ডা. আবুল হোসেন কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ফুসে উঠে। তারা ৪ আগষ্ট শান্তিপূর্ণ কার্যক্রমে অংশ গ্রহণের জন্য রাজবাড়ী শহরের টিএনটি এলাকায় রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে অবস্থান গ্রহণ করে। এ সময় তাঁদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি বানচাল করতে ওই সময়কার আওয়ামী লীগ সরকার দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা করে। তারা এলোপাথারী লাঠিপেটা, ককটেল বিষ্ফোরণ এবং গুলি বর্ষণ করে আন্দোলনে থাকা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জখম করে গুরুতর আহত করে। উল্লেখিত ঘটনার কয়েকদিন পর রাজবাড়ী সদর থানায় কলেজ শিক্ষার্থী উৎস্য সরকার বাদী হয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ওপর হামলার ঘটনায় ২৬ আগষ্ট মামলা করেন। এতে ৪৪ জনের নাম এজাহারভুক্ত এবং শতাধিক অজ্ঞাতানামা ব্যক্তিকে আসামী করা হয়। উল্লেখিত মামলার তদন্তকালে ঘটনার উল্লেখিত তারিখ এবং সময়ে ইউনুস মোল্লার উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়ায় তাঁকে ওই মামলার আসামী হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়। রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ওপর হামলার মামলায় তাকে রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে আজ সোমবার দুপুরে তাঁকে রাজবাড়ীর আদালতে সোপর্দ করা হয়। বিজ্ঞ আদালত তাঁকে রাজবাড়ী জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিলে পুলিশ জেল খানায় পাঠিয়ে দেয়। এর আগে গোয়ালন্দ উপজেলা যুবলীগের সহ প্রচার সম্পাদক ও উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ড রাসেল মাহমুকে (৪০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত শনিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে উজানচর ফৈজদ্দিন মাতুব্বর পাড়ার নিজ বাড়ি থেকে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। সে স্থানীয় ছলিম শেখ ওরফে ছলিম মাতুব্বরের ছেলে। ২০২৪ সালের ৪ আগষ্ট ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দের রেলগেট এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে হামলা চালায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার প্রায় চার মাস পর ১০ ডিসেম্বর গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি মামলা করেন উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের শাহজাহান শেখের ছেলে রাজবাড়ী টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম। মামলায় ৫৯ জনকে চিহিৃত ও আরও ৪০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামী হিসেবে রাসেল আহমেদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ রোববার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
মঈনুল হক, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ীঃ জাতীয় যুব শক্তি রাজবাড়ী জেলা শাখার আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলামকে আহবায়ক ও এস এম শাহিনকে সদস্য সচিব হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।গত শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে কেন্দ্রীয় জাতীয় যুব শক্তি ক্লাবের অফিসিয়াল প্যাডে কেন্দ্রীয় জাতীয় যুব শক্তি সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত রশিদের সুপারিশ ক্রমে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ তারিকুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সোহেল স্বাক্ষরিত ১১ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি অনুমোদন দেন।কমিটির অন্যান্যরা হলেন, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আব্দুস সাত্তার মিজি, যুগ্ম আহবায়ক ইমদাদুল শেক, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মোঃ নজরুল ইসলাম, যুগ্ম সদস্য সচিব জামিরুল ইসলাম, যুগ্ম সংগঠক মীর্জা মোঃ আকরাম, সিনিয়র সংগঠক শিমুল মন্ডল, সংগঠক হাসিবুল ইসলাম, শাওন শেখ, জাকারিয়া রায়হান প্রমুখ।নবগঠিত কমিটির আহবায়ক নাজমুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ আমাকে রাজবাড়ী জেলা কমিটির আহবায়ক হিসেবে নির্বাচিত করায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আশাকরি তাদের দেয়া দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করে রাজবাড়ী জেলায় খুব শীঘ্রই একটি চমৎকার কমিটি উপহার দিতে পারব।
ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি, যে বাংলাদেশের যুব সমাজের চল্লিশ শতাংশ কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নাই, কোন প্রশিক্ষণে নাই, কোন কর্মসংস্থানেও নাই। এই রকম যাদের মেরিটোরিয়াস, আপনারা তাালিকা দেখেন, দেখবেন যে একটা পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের নীতির ধারাবাহিকতা। এটা মৌলিক প্রশ্ন, কারণ আমাদের দেশে হওয়ার দরকার ছিল ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট’ অর্থাৎ জনমিতিক লভ্যাংশ। গতকাল শুক্রবার (৭ আগষ্ট) সন্ধ্যায় রাজবাড়ী পৌরসভার রজনীগন্ধ্যা মিলনায়তনে ২০২৫ সালের এসএসসি ও এইচএসসি এবং সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রাজবাড়ী জেলা পরিষদের অর্থায়নে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা পরিষদ। অনুষ্ঠানে মোট ৯১ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে বিভিন্ন অংকে মোট ১৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকার বৃত্তি প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, যে কোন দেশে পৃথিবীতে এগিয়ে যায় তখনই, যার যুব সমাজ অর্থনীতিকভাবে ক্রীয়াশীল হয়। এই এটা সবগুলো দেশে একবার আসে এবং এটা সর্বোচ্চ। অর্থাৎ বিটশীল ২০২০ সাল থেকে ২০২২ সাল। আর এটা শেষ হবে ২০৩৫ সাল থেকে ২০৪০ সাল। তার নামে ইতিমধ্যেই ৬০ শতাংশ আমাদের দেশ থেকে, জাতি থেকে হারিয়ে গেছে। জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। সামাজিক বিরোধ সৃষ্টি করতে উগ্র মৌলবাদের একটি পদচারণা দেখতে পাচ্ছেন জানিয়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, এই সমস্যা প্রত্যেকটি পরতে পরতে সরকারকে ফেস করতে হচ্ছে। এই সমস্ত বিষয় মোকাবেলা করেই সরকারের প্রতিশ্রæতি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক কল্যান চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির প্রমূখ। এর আগে শুক্রবার বিকেলে রাজবাড়ী সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এডিপির বিশেষ বরাদ্দের আওতায় সদর উপজেলার ১৯৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী, বাদ্যযন্ত্র (হারমোনিয়াম ও তবলা) এবং স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করা হয়। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।এই অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি রাজবাড়ী থেকে ২৫ জন শিশুকে অ্যাক্রোবেটিকের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য চীনে পাঠানো হয়েছে। তারা প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে এলে বাংলাদেশের সার্কাসকে বিশ্বমানের আধুনিক অ্যাক্রোবেটিক সার্কাসে রুপান্তরের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।এছাড়া আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে দেশব্যাপী প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও কর্মময় জীবন নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হবে। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এ প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় থেকে আঞ্চলিক উৎসব ও জাতীয় পর্যায়ে আয়োজন করা হবে। সারাদেশ থেকে বাছাইকৃত শিল্পীরা ঢাকায় যাবেন। সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত জবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করা হবে। যাত্রা শিল্পকেও চীনের অপেরার আদলে আমরা আনবো।রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ সহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকাল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, পতিত সরকার শিক্ষাকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। সংস্কৃতি বলে কিছুই নাই, ক্রীড়ার ক্ষেত্রেও আমরা পিছনে। আমরা অন্য দেশের উত্তেজনায় খুশি হই। কিন্তু আমরাও বিশ্ব দরবারে আমাদের ক্রীড়া, সংস্কৃতি এবং শিক্ষা তথা দক্ষ জনগোষ্ঠির মাধ্যমে নিজের অবস্থানকে নিশ্চিত করতে পারি। আমাদের সরকার সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।শুক্রবার (৭ আগষ্ট) দুপুরে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের এডিপি (বিশেষ) বরাদ্দের আওতায় গোয়ালন্দ উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে ক্রীড়া সামগ্রী, সাউন্ড সিস্টেম ও হারমোনিয়াম বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা তিতুমীর বলেন, জাতি গঠনের সবচেয়ে বড় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ হচ্ছে শিশু, কিশোর এবং যুবকদের মধ্যে সংস্কৃতি, ক্রীড়া এবং বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা। তারই অংশ হিসেবে অর্থাৎ আমরা সুনাগরিকের অংশ হিসেবে বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী, সংস্কৃতি সামগ্রী বিতরণ করলাম। লক্ষ্য হচ্ছে আগামী জানুয়ারী মাসে যখন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে, তখন অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ এবং মাদরাসাগুলো তিনটা ক্যালেন্ডার দিবেন। একটি হলো বার্ষিক শিক্ষা কর্মসূচি, দ্বিতীয় বার্ষিক সংস্কৃতিক কর্মসূচি ও তৃতীয়তো বার্ষিক ক্রীড়া কর্মসূচি। যাতে করে, আমরা আমাদের হৃত যে গৌরব সেই গৌরবের পথে যেতে পারি। অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে দেশের সবগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বার্ষিক পরিকল্পনাকৃত ক্যালেন্ডার তৈরি করে দিবেন। যার মাধ্যমে মানুষ সৃষ্টি করার বড় রকমের পরিবর্তন আসতে পারে। শিক্ষা, দক্ষতা এবং কর্মসংস্থানের ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। যাতে আমরা সবাই মিলে বড় রকমের পরিবর্তন আনতে পারি। রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, আমরা বাংলাদেশে সুষ্ঠু, সুস্থ্য এবং স্বাবলিল সংস্কৃতি দেখতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সেটাই আহ্বান এবং আমাদের সেটাই কর্মসূচি। সুস্থ্য, স্বাবলিল সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সংস্কৃতিতে পৃষ্ঠপোষকতা না থাকার কারনে মারাত্মকভাবে এটার অধপতন হয়েছে। যার কারনে আমাদের দেশে যুব সমাজের মধ্যে নানা রকম প্রবণতা লক্ষ্য করি। আমাদের যুব সমাজ হচ্ছে আগামী দিনের ভবিষ্যত। তাদেরকে সামেন রেখে একটা সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সংস্কৃতির একটা বিড়াট ভূমিকা আছে। আমরা আশা করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমাদের সংস্কৃতি সহ সমস্ত ক্ষেত্রে উল্লেখ্যযোগ্য অগ্রগতি সাধন করবো। তিনি আরও বলেন, রাজবাড়ীর আর্থ সামজিক উন্নয়নে আমরা অনেক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আমাদের পরিকল্পনার প্রস্তুতির কাজ চলছে। সমস্ত ক্ষেত্রে শিক্ষা, সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক অবকাঠামো, আইনশৃঙ্খলা, স্বাস্থ্য সমস্ত ক্ষেত্রে কাজ করছি। চলতি অর্থ বছরে আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে বলে আশা করছি। অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম, পুলিশ সুপার মনজুর মোরশেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শংকর চন্দ্র বৈদ্য, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল হুদা, গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সভাপতি নিজাম উদ্দিন শেখ, সাবেক সভাপতি সুলতান-নূর ইসলাম মুন্নু, সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সহিদুল ইসলাম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।গোয়ালন্দ উপজেলার ৫১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে খেলার সামগ্রী এবং হারমোনিয়াম প্রদান করা হয়। এছাড়া ৬টি মাদরাসার মাঝে সাউন্ড সিস্টেম প্রদান করা হয়। এডিপির অর্থায়নে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৫ লাখ টাকার সামগ্রী প্রদান করা হয়। পরে তাঁরা বিকেলে রাজবাড়ী জেলা সদরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
বিনোদন
সুমন বিশ্বাস, রাজবাড়ীঃ একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিমের ৭৬ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজবাড়ীতে নানা আয়োজনে স্মরণ করা হয়েছে এই গুণী শিল্পীকে। শনিবার রাজবাড়ী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মনসুর উল করিম স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং কেক কাটার মধ্য দিয়ে জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, "মনসুর উল করিম শুধু রাজবাড়ীর নন, তিনি বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। রাজবাড়ীর মাটিতে তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। তাঁর সৃষ্টিকর্ম আজও শিল্পপ্রেমীদের অনুপ্রাণিত করে। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর শিল্পকর্ম ও জীবনাদর্শ তুলে ধরতে আমাদের আরও উদ্যোগী হতে হবে।"প্রতিমন্ত্রী বলেন, "রাজবাড়ীর সাংস্কৃতিক বিকাশে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জেলার শিল্প-সংস্কৃতির প্রসারে একটি আধুনিক কালচারাল কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই এর নির্মাণকাজ শুরু হবে। এছাড়া রাজবাড়ীর অ্যাক্রোবেটিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে আরও আধুনিক ও কার্যকরভাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি ভবিষ্যতে জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।" মনসুর উল করিম স্মৃতি পরিষদের আহ্বায়ক কবি খোকন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল, চিত্রশিল্পী মনসুর করিম স্মৃতি সংসদের সদস্য সচিব আজিজা খানম, উপদেষ্টা চৌধুরী আহসানুল করিম হিটু, নূরুল হক আলম, জেলা কালচারাল অফিসার সুজিত কুমার সাহা, মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি সংসদের আহ্বায়ক কবি সালাম তাসির, রাজবাড়ী বাংলা একাডেমির সভাপতি সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমানসহ চিত্রশিল্পী মনসুর করিম স্মৃতি সংসদের অন্যান্য সদস্য, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।আলোচনা সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিম তাঁর সৃষ্টিশীলতা, নান্দনিক চিন্তা ও শিল্পকর্মের মাধ্যমে দেশের শিল্পাঙ্গনে অনন্য অবদান রেখে গেছেন। তাঁর স্মৃতি ও কর্ম নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।পরে অতিথিরা কেক কেটে মনসুর উল করিমের ৭৬ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করেন। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।উল্লেখ্য, চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিম ১৯৫০ সালের ১৪ জুলাই রাজবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ শিল্পজীবনে তিনি দেশ-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করেন এবং শিল্পকলায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে একুশে পদকে ভূষিত হন। ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর শিল্পকর্ম আজও বাংলাদেশের চারুকলার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
আব্দুল হালিম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে গান, নৃত্য ও ফলাহারের মধ্য দিয়ে উদীচীতে বর্ষা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী রাজবাড়ী জেলা কমিটির উদ্যোগে শহরের আজাদী ময়দান সংলগ্ন সংগঠনের মিলনায়তনে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়।আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা উদীচীর সহসভাপতি আজিজুল হাসান খোকা। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা উদীচীর সংগীত বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল জব্বার। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উদীচী কেন্দ্রীয় কমিটির সংগীত বিষয়ক সম্পাদক সুরাইয়া পারভীন, সদস্য শিখা কর্মকার। এতে স্মৃতিচারণ মূলক বক্তব্য দেন জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কমরেড আব্দুস সামাদ মিয়া, রাজবাড়ী নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফকীর শাহাদত হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা চিত্রশিল্পী মো. গোলাম আলী, রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক এম দেলোয়ার হোসেন, রাজবাড়ী বৈচিত্র্য সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি আজাদ সিদ্দিকী মিলন, জেলা উদীচীর সাংগঠনিক সম্পাদক ধীরেন্দ্র নাথ দাস প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক এজাজ আহম্মেদ। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ছয়টি ঋতুর মধ্যে বর্ষা ঋতু হলো মধুর ঋতু। এই ঋতু শুরু হলে প্রকৃতি হাঁসে। প্রকৃতি জীবন্ত হয়ে ওঠে। চারপাশ সবুজে ভরে যায়। প্রবীণ তার কৈশোরে ফিরে যায়। তবে মানুষ আজ প্রকৃতি ধ্বংস করে ফেলছে। নিয়মিত বনায়ন ধ্বংস করা হচ্ছে। একারণে বর্ষার প্রকৃত রূপ এখন আর দেখা যায় না। বর্ষাকে বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের বেশি বেশি গাছ রোপণ করতে হবে। প্রকৃতি সুন্দর হলে এই পৃথিবী আরও সুন্দর হবে।অনুষ্ঠানে উদীচী ও রাবেয়া কাদের স্মৃতি পাঠাগারের শিল্পীরা সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা করেন
মঈনুল হক, গোয়ালন্দ রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে ঘোষিত নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭ এর শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানের শুরুতে ভার্চ্যুয়ালি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ টেলিকাস্ট) উপভোগ করেন উপস্থিত অতিথি ও দর্শকরা। পরে স্থানীয়ভাবে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাসের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি (তদন্ত) মো. রাশিদুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার দাস, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু মোল্লা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবলু, নাজিরুল ইসলাম তিতাস, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মোল্লা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আবু সাঈদ মণ্ডল সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।উপজেলা প্রশাসন জানায়, তিন দিনব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে প্রথম দিনে আলোচনা সভা, উদ্ভোধনী সংগীত (চল চল), সমবেত সংগীত, সমবেত নৃত্য, আবৃত্তি, একক সংগীত ও নৃত্য, দ্বিতীয় দিনে নজরুলের উপর রচনা, আবৃত্তি, নজরুল সংগীত ও নৃত্য প্রতিযোগিতা, তৃতীয় দিনে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে লালন, দেশত্ববোধক, ভাটিয়ালি সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনা সভায় বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর জীবন, সাহিত্যকর্ম, দেশপ্রেম, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, বিদ্রোহ, সাম্য ও মানবতার কবি নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত আজও বাঙালির স্বাধীনতার চেতনা, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মূল্যবোধের অন্যতম প্রেরণার উৎস। নতুন প্রজন্মের মাঝে নজরুলের আদর্শ, সাহিত্য ও সংগীত ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা মন্তব্য করেন।আলোচনা সভা শেষে নজরুল সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, দর্শন ও সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।
ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে দেশব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’-এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি দেশের ৬৪ জেলা এবং নির্বাচিত ৭৪টি উপজেলায় একযোগে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’-এর স্মারক ও ডাক টিকিট অবমুক্ত, লোগো উন্মোচন ও নজরুল বর্ষের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে রাজবাড়ীতেও শুরু হলো ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭-এর কর্মসূচি। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে বছরব্যাপী নানা সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক আয়োজনের মাধ্যমে এ বর্ষ উদযাপন করা হবে।সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি বক্তব্য রাখেন।বিশেষ অতিথি হিসেবে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি; তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডাঃ জাহেদ উর রহমান ও মন্ত্রী পরিষদের সচিব ডঃ নাসিমুল গনি বক্তব্য।এদিকে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মিয়া, সিভিল সার্জন ডাঃ এস এম মাসুদ, স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক কল্যাণ চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ তারিফ-উল-হাসান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ্যাডঃ লিয়াকত আলী বাবু, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবীব, রাজবাড়ী সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজে অধ্যক্ষ প্রফেসর রেজভি জামান, রাজবাড়ী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর মোস্তফা কামাল সহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিসহ সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বছরব্যাপী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।উল্লেখ্য, গত ২৫ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে এ বছরের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত এক বছর নজরুল বর্ষ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।
সোহাগ মিয়া, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের হামিদ মৃধার হাট এলাকায় ব্যতিক্রমী ঘটনার জন্ম দিয়েছেন আলাল মোল্লা নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে সে এলাকায় আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের ঘোর সমর্থক হিসেবে পরিচিত থাকলেও এবার তিনি প্রকাশ্যে দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরান ফুটবল দলের সমর্থক হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এমন ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাত ৯টার দিকে হামিদ মৃধার হাট বাজারে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে আলাল মোল্লা তাঁর কর্মী সমর্থকদের জড়ো হন। এ সময় তিনি দুধ দিয়ে গোসল করে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নতুন ইসলামী রাষ্ট্র ইরানের পক্ষে অবস্থানের কথা ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণার পর মুহূর্তেই তাঁর কর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তোলে। একই সাথে বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। বাজারে উপস্থিত অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেন, আবার কেউ কেউ বিষয়টিকে ব্যক্তিগত পছন্দ ও মতামতের স্বাধীনতা হিসেবেও দেখেন।আলাল মোল্লা বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক ছিলাম। তবে ব্যক্তিগত চিন্তা-ভাবনা ও ধর্মীয় অনুভূতি থেকে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আজ থেকে আমি ইরান দলকে সমর্থন করব। আমি আর কখনো আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেব না। এজন্য দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরান ফুটবল দলের সমর্থক হয়েছি।তার এই ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয় যুবকদের মধ্যে কেউ বিষয়টিকে মজার ঘটনা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে একজন সমর্থকের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন।স্থানীয় হামিদ মৃধা হাট এরাকার আক্কাস সরদার, আব্বাস মোল্লা, জামাল হোসেন, হারুন ব্যাপারী সহ অনেকে জানান, সাধারণত ফুটবল দল পরিবর্তনের ঘটনা নতুন নয়। তবে প্রকাশ্যে দুধ দিয়ে গোসল করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে এক দলের সমর্থন ছেড়ে অন্য দলের প্রতি সমর্থন জানানোর ঘটনা এলাকায় খুব একটা দেখা যায় না। ফলে আলাল মোল্লার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।এ বিষয়ে স্থানীয় নুরুল ইসলাম, আহম্মদ আলী শেখ সহ অনেকের ভাষ্য, খেলাধুলা মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। যে কেউ নিজের পছন্দ অনুযায়ী যে কোনো দলকে সমর্থন করতে পারেন। আলাল মোল্লার এই ঘোষণাও তার ব্যক্তিগত মতামত ও পছন্দেরই বহিঃপ্রকাশ।ব্যতিক্রমী এই দলবদলের ঘটনা এখন গোয়ালন্দের হামিদ মৃধার হাট সহ আশপাশের এলাকায় আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।
মাঈনুল হক, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ীঃ “নারীর সম্মান, সমাজের উন্নয়ন”এ স্লোগানে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের সংগঠন স্বপ্ন কুঁড়ি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে “শ্রেষ্ঠ পুত্রবধূ সম্মাননা স্মারক-২০২৬” প্রদান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভিন্নধর্মী এ অনুষ্ঠানে তিনজন সংগ্রামী নারীকে শ্রেষ্ঠ তিন পুত্রবধূকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। ব্যাতিক্রমধর্মী এমন আয়োজনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত এবং আমন্ত্রিত অতিথিগন সবাই মুগ্ধ হন। সোমবার (৮ জুন) বেলা ১১টায় গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ভিন্নধর্মী এ আয়োজনে অনুষ্ঠানে সমাজে পারিবারিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। “স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন দেখাই”স্লোগানধারী সংগঠন আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান।অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, গোয়ালন্দ রাবেয়া ইদ্রিস মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল কাদের শেখ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম, গোয়ালন্দ সরকারি কামরুল ইসলাম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও সংগঠনটির উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুহিত হিরা, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সালমা বেগম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার দাস, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. হাফিজুল হক, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ও স্বপ্ন কুঁড়ি সামাজিক সংগঠনের উপদেষ্টা সানোয়ার আহমেদ সহ সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মণ্ডল, সদস্য নাহিদুল ইসলাম, নাজমুল ইসলাম, আকিব সরদার, ফাহিম আশরাফ হিমেলম সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।গোয়ালন্দ উপজেলার ৪৭ জন সংগ্রামী নারীর মধ্যে সম্মাননা প্রাপ্ত তিন নারী হলেন, গোয়ালন্দ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড গোয়ালন্দ বাজার রেলওয়ে ষ্টেশন এলাকার বাসিন্দা প্রয়াত ছাত্তার শেখ এর স্ত্রী মোছাঃ সহিতুন নেছা, গোয়ালন্দ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বীপেন রায় পাড়ার প্রয়াত ইকবাল হোসেন বাবলুর স্ত্রী নাসিমা আখতার ডলি ও পৌরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ড বদিউজ্জামান বেপারী পাড়ার মো. সেলিম মিয়ার স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম।বক্তারা বলেন, একটি পরিবার ও সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে এবং শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি সম্মান, দায়িত্ববোধ ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। এ ধরনের আয়োজন সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।অনুষ্ঠানে উপস্থিত নারীদের উদ্দেশ্যে পারিবারিক সম্পর্ক উন্নয়ন, বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং সামাজিক মূল্যবোধ চর্চার বিষয়ে বিভিন্ন দিক নির্দেশনামূলক আলোচনা করা হয়। পরে নির্বাচিত তিন জন নারীর মাঝে “শ্রেষ্ঠ পুত্রবধূ সম্মাননা স্মারক-২০২৬”হিসেবে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।আয়োজকরা জানান, সমাজে ইতিবাচক মূল্যবোধ ও পারিবারিক সম্প্রীতি জোরদারের লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর পাংশায় নিখোঁজের দুই দিন পর নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে নিজ এলাকা থেকে পুলিশ জামাল মণ্ডল (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তিনি পাংশা উপজেলার রুপিয়াট গ্রামের কাওছার মণ্ডলের ছেলে। এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে নিহত রাবেয়া বেগমের বড় বোন রহিমা বেগম (৪৯) বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামী হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুপুরে তাকে রাজবাড়ীর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নিহত রাবেয়া বেগম পাংশা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড নারায়নপুর রেলষ্টেশন সংলগ্ন পানির পাম্পের পূর্ব পাশে এলাকার মৃত হোসেন আলীর মেয়ে। নিহতের বাড়ি থেকে ঘটনাস্থল কয়েক কিলোমিটার দূরে। পরে পুলিশ বুধবার সন্ধ্যায় লাশ উদ্ধারের পর আজ বৃহস্পতিবার সকালে ময়না তদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠায়।মামলার এজাহারে নিহত রাবেয়ার বড় বোন রহিমা বেগম উল্লেখ করেন, বুধবার (১৯ আগষ্ট) বিকেল পাঁচটার দিকে তারা স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারেন, পাংশা উপজেলার মৌরাট ইউনিয়নের স্বর্ণপড়া গ্রামের স্থানীয় আনসার মাষ্টারের মেহগুনির বাগানের ভিতর এক নারীর লাশ পড়ে আছে। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা আগের দিন থেকে নিখোঁজ রাবেয়া বেগমের লাশ শনক্তা করে। পরে বিষয়টি পাংশা মডেল থানা পুলিশকে অবগত করলে পুলিশ সন্ধ্যায় রাবেয়ার লাশ উদ্ধার করে। এ সময় তার চোখে মুখে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি মারিয়া রক্তাত্ব জখম করে বাম চোখের ওপর মারাত্মক জখম অবস্থায় রক্ত বের হতে দেখা যায়। নাক ও কান দিয়ে কাটা রক্তাত্ব জখম অবস্থায় দেখা যায়। এছাড়া আসামীরা রাবেয়ার গলায় ওড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। এ ঘটনায় তাঁদের দূর সম্পর্কের আত্মীয় গ্রেপ্তারকৃত জামাল মণ্ডলসহ কয়েকজন জড়িত। পরে জামাল মণ্ডল সহ চারজনকে এজাহারভুক্ত আসামী করে আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগষ্ট) দুপুরের দিকে থানায় হত্যা মামলা (নং-৯) দায়ের করেন। পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, নিহত রাবেয়ার বড় বোন রহিমা বেগম বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে থানায় গ্রেপ্তারকৃত জামাল মণ্ডল সহ চারজনকে অভিযুক্ত করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তার আগেই সকালে জামাল মণ্ডলকে সন্দেহভাজন আসামী হিসেবে এলাকা থেকে আটক করে। পরে ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিকেলেই রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হয়। তবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা এখনও সে স্বীকার করেনি। অপর আসামীদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার পাঁচবাড়িয়া দড়ি বাংলাট গ্রামে স্থানীয় করিমের রাইস মিলের সামনে বৈদ্যুতিক সেচপাম্প চুরির অভিযোগে জজ আলী বিশ্বাস নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশ হাকিম আলী মণ্ডল (৫০) ও করিম মণ্ডল (৬৪) নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে নিজ এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে। তাদেরকে বৃহস্পতিবার বিকেলেই আদালতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত হাকিম মণ্ডল পাংশা উপজেলার কসবামাঝাই ইউনিয়নের নাবরাদহ গ্রামের মৃত শাহাদত মণ্ডলের ছেলে ও করিম মণ্ডল একই গ্রামের মৃত সমেশ মণ্ডল ওরফে ছামেদ মণ্ডলের ছেলে। এর আগে জজ আলী বিশ্বাস হত্যার ঘটনায় নিহতের মা আছিয়া খাতুন বাদী হয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগষ্ট) পাংশা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা (নং-১০) দায়ের করেন। মামলায় ৪৫ জনকে এজাহারভুক্ত এবং অজ্ঞাত আরও ১২ জনকে আসামী করা হয়। নিহত জজ আলী বিশ্বাস পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের উত্তর মাঝাইল গ্রামের শুকুর আলী বিশ্বাসের ছেলে।মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, বৃধবার (১৯ আগষ্ট) ভোররাত চারটার দিকে তাঁকে কৌশলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে পাঁচবাড়িয়া দড়ি বাংলাট গ্রামের স্থানীয় করিম মণ্ডলের রাইস মিলের কাছে নিয়ে দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে গুরুতর জখম করে রাস্তায় ফেলে রাখে। পরবর্তীতে সকালে খবর পেয়ে পাংশা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মুমূর্ষ অবস্থায় জজ আলীকে উদ্ধার করে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত জজ আলীর ভাতিজা মিজান বিশ্বাস বলেন, তিনি (জজ আলী) বৈদ্যুতিক সেচপাম্প চুরির সঙ্গে জড়িত নয়। পাট্টা ও কসবামাঝাইল ইউনিয়নের তাদের দুটি গ্রামের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে একাধিকবার মারামারির ঘটনাও ঘটে। প্রায় দেড় মাস আগে কসবামাঝাইল ইউপির কসবামাঝাইল গ্রামের লোকজন জজ আলীর আপন চাচা জামিন বিশ্বাসকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। ওই মামলার অভিযুক্ত আসামীরা মঙ্গলবার উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে এলাকায় ফিরে আসেন।মিজান বিশ্বাসের দাবি, কসবামাঝাইল গ্রামের আরিফ নামের একজন আমার চাচার (জজ আলীর) খুব ঘনিষ্ট ছিলেন। সেই সূত্র ধরে বুধবার ভোররাতের দিকে কৌশলে তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে বেধম মারপিট করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়। পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর সে মারা যান। আমার চাচা কৃষিকাজ করতেন এবং পরিবারে তিনটি সন্তান রয়েছে। আমার চাচা না থাকায় তাঁর পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছে। পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, জজ আলী বিশ্বাস হত্যার ঘটনায় প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বুধবার রাতে হাকিম মণ্ডল ও করিম মণ্ডলকে থানায় আনা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে জজ আলীর মা বাদী হয়ে মামলা করলে এজাহারভুক্ত আসামী হিসেবে তাদের নাম দেন। পরে ওই মামলায় তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সুমন বিশ্বাস, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর পাংশায় নিখোঁজের দুই দিন পর উপজেলার মৌরাট ইউনিয়নের স্বর্ণগড়া ঠাকুরের বাগান এলাকা থেকে রাবেয়া বেগম (৩৫) নামের যুবতীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।বুধবার বিকেলে স্বর্ণগড়া ঠাকুরের বাগান এলাকায় স্থানীয় লোকজন একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠায়। নিহত রাবেয়া বেগম পাংশা উপজেলার নারায়নপুর রেলষ্টেশন সংলগ্ন পানির পাম্পের পূর্ব পাশে এলাকার মৃত হোসেন আলীর মেয়ে। তার আগে মঙ্গলবার (১৮ আগষ্ট) সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর আরে ফিরে আসেনি। পরদিন বুধবার সন্ধ্যার দিকে ওই বাগান থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত রাবেয়া বেগমের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। স্বামী রমজান আলীর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো না থাকায় অনেক আগেই বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর থেকে রাবেয়া সন্তানসহ বাবার বাড়ি থাকতেন। পুলিশ জানায়, বুধবার (১৯ আগষ্ট) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলার মৌরাট ইউনিয়নের স্বর্ণগড়া স্থানীয় ঠাকুরের বাগান নামক এলাকায় স্থানীয় লোকজন একটি নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ সন্ধ্যার দিকে তাঁর বাড়ি থেকে প্রায় ১২ থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরবর্তী ঠাকুরের ওই বাগান থেকে যুবতীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তাঁর মুখমণ্ডল সহ গলায় শ্বাসরোধের আঘাতের চিহৃ রয়েছে। এ ছাড়া তার একটি চোখ ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। যুবতীর শরীরের কিছু অংশে পচনও ধরেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাঁকে অন্তত একদিন আগেই শ্বাসরোধ করে শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। নিহতের পরিবারের দাবি, মঙ্গলবার সকাল থেকে রাবেয়াকে কোথায় খোঁজ করে পাওয়া যাচ্ছিল না। ধারণা করা হচ্ছে, পাশবিক (ধর্ষণ) নির্যাতনের পর তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। তার একটি চোখও উপড়ে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় তারা হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে রাত হওয়ায় লাশ থানা চত্বরে রাখা হয়। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ময়না তদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বা ধর্ষণের মতো কিছু ঘটলে উদঘাটন করা সম্ভব। তার আগে মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা সম্ভব হচ্ছে না। পুলিশ ইতোমধ্যে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে কাজ শুরু করেছে।
শামীম হোসাইন, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার পাঁচবাড়িয়া গ্রামে বৈদ্যুতির মোটরপাম্প চুরির অভিযোগে জজ আলী বিশ্বাস (৩৫) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সকালে তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত জজ আলী বিশ্বাস পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের উত্তর মাঝাইল গ্রামের শুকুর আলী বিশ্বাসের ছেলে। জজ আলী বিশ্বাস পেশায় কৃষি কাজ করতেন এবং ব্যক্তিগতভাবে তিনি তিন সন্তানের জনক ছিলেন। আজ বুধবার ভোরের দিকে কাজের জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে যান বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। বাড়ি থেকে দুর্ঘটনাস্থলের দূরত্ব প্রায় প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বুধবার ভোর পাঁচটার দিকে পাংশা উপজেলার কসবামাঝাইল ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া গ্রামের করিম মণ্ডলের রাইস মিলের বৈদ্যুতিক মোটরপাম্প চুরি করতে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের হাতে ধরা পড়ে। স্থানীয় লোকজন তাকে হাতেনাতে ধরে বেদম মারধর করলে গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে পাংশা মডেল থানা পুলিশ সকাল সাতটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জজ আলী বিশ্বাস মারা যান। জজ আলী বিশ্বাস মোটরপাম্প চুরির সঙ্গে জড়িত নয় দাবি করে নিহতের ভাতিজা মিজান বিশ্বাস বলেন, পাট্টা ও কসবামাঝাইল ইউনিয়নের দুটি গ্রামের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে একাধিকবার মারামারির ঘটনাও ঘটে। প্রায় দেড় মাস আগে কসবামাঝাই ইউপির কসবামাঝাইল গ্রামের লোকজন আমাদের আপন চাচা জামিন বিশ্বাসকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। ওই মামলার অভিযুক্ত আসামীরা মঙ্গলবার উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে এলাকায় ফিরে আসেন। মিজান বিশ্বাসের দাবি, কসবামাঝাইল গ্রামের আরিফ নামের একজন আমার চাচার খুব পরিচিত ঘনিষ্ট একজন ছিলেন। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে আজ বুধবার ভোরের দিকে কৌশলে তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে বেধম মারপিট করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়। পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর সে মারা যান। আমার চাচা কৃষিকাজ করতেন এবং পরিবারে তিনটি সন্তান রয়েছে। এখন তাঁর পরিবারের কি অবস্থা হবে? পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, ভোর পাঁচটার দিকে মোটরপাম্প চুরির ঘটনায় ফোন আসে। এ ঘটনায় যিনি আমাকে ফোন করেন তাঁকে বলেছিলাম ‘আপনারা মারধর করবেন না, আমরা আসছি’। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল আটটার দিকে তিনি মারা যান। ওসি আরও জানান, নিহতের জজ আলী বিশ্বাসের মরদেহ পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং কারা এ ঘটনায় জড়িত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বাড়তি নিরাপত্তায় এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
শামীম হোসাইন, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের রাজবাড়ী সদর উপজেলার চন্দনী ও কালুখালী উপজেলার পাইকারমোড় এলাকায় ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত মাত্র আট ঘন্টার ব্যবধানে তিনটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে নজরুল ইসলাম (২৮) নামের দাঁড়িয়ে থাকা বিকল ট্রাক চালকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চালক ও সহকারীসহ অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোর পাঁচটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত এই আট ঘন্টার মধ্যে বৃষ্টির কারণে সড়ক অতিরিক্ত পিচ্ছিল ও দ্রæতগতির কারনে দুর্ঘটনা তিনটি ঘটে। নিহত ট্রাক চালক নজরুল ইসলাম বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল গ্রামের আব্দুল মালেক মিয়ার ছেলে। নিহত ট্রাক চালক নজরুল ইসলামের সহকারী (হেলপার) জোবায়ের হোসেন বলেন, সোমবার দিবাগত মধ্যরাতের দিকে বরিশালের গৌরনদী এলাকা থেকে তুলার গাছ বোঝাই করে তাঁদের ট্রাক (খুলনা মেট্রো ট-১১-২২১৬) কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার পাইকার মোড় এলাকায় পৌঁছলে ট্রাকটির একটি চাকা বাস্ট হয়ে যায়। চালক নজরুল ইসলামসহ তিনি সড়কের পাশে দাঁড় করিয়ে চাকা মেরামতের কাজ করছিলেন। এ সময় পিছন থেকে দ্রুত গতিতে আসা অজ্ঞাত একটি ট্রাক পিছনে এসে স্বজোড়ে আঘাত করলে চালক নজরুল ইসলাম ট্রাকের সামনের চাকার এক্সেলের নিচে চাপা পড়েন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে রেকারের সাহায্যে নজরুল ইসলামকে উদ্ধার করে কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে একই সড়কে রাজবাড়ী সদর উপজেলার চাঁদপুর মোড় এলাকায় কুষ্টিয়া থেকে আসা ঢাকাগামী গরু বোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে বিপরিত দিক আসা অপর এক ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রাকে থাকা প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের একটি গরু ঘটনাস্থলেই মার যায়। এছাড়া দুর্ঘটনায় এক গরু বেপারীসহ ট্রাকটির চালক ও সহকারী আহত হন। এ দুর্ঘটনার প্রায় এক ঘন্টা পর দুপুর একটার দিকে একই সড়কের কালুখালী উপজেলার পাইকার মোড় এলাকায় ফলের ঝুড়িবাহী ট্রাকের সঙ্গে কুষ্টিয়া থেকে আসা রাজবাড়ীগামী গোল্ডেন লাইন নামক একটি দূর পাল্লার যাত্রীবাহি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসের অন্তত ৮জন যাত্রী গুরুতর আহত হন। আহতরা হলেন, কুষ্টিয়া সদরের সৈকত হাসান (৪০), জান্নাতুল ফেরদৌস (৫০), কুমারখালীর বিপ্লব (২৯), শামীম হোসেন (৩৫), হরিপুরের উজ্জল মাহমুদ (৩২), জুলিয়ার আলমগীর (৪৪), পাংশা উপজেলার হাবাসপুরের আব্দুস সাত্তার (৫৪) ও ঝিনাইদাহর শৈলকুপার মাসুদ রানা (৪০)। আহতদেরকে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। পাংশা হাইওয়ে মডেল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্জেন্ট নীল উৎফল মণ্ডল বলেন, দ্রুত গতিতে গাড়ি চালানো ও বৃষ্টির কারনে সড়ক পিচ্ছিল হওয়ায় মাত্র আট ঘন্টার ব্যবধানে জেলার কালুখালী উপজেলার পাইকার মোড় এলাকার কাছাকাটি স্থানে দুটি এবং জেলা সদরের চন্দনী চাঁদপুর মোড় এলাকায় অপর একটি দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় নিহত ট্রাক চালক নজরুল ইসলামের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িগুলোকে জব্দ করে হাইওয়ে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্নের কাজ চলছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, বালিয়াকান্দি, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত পাঁচটি দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়েছে। রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে বহরপুর বাজার বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে পাটের গুদাম, ফার্মেসী, মুদি দোকান, রাইস মিলসহ পাঁচটি দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় ছয় ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিভে। খবর পেয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান, বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রব তালুকদার সহ রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা উপস্থিত ছিলেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানায়, রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর বাাজরের পাট ব্যবসায়ী আফতাবুজ্জামানের পাটের গুদাম ঘর থেকে প্রথম আগুন দেখা দেয়। বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন। খবর পেয়ে বালিয়াকান্দি ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরে তাদের সাথে রাজবাড়ী ও কালুখালী ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট আগুন নেভানোর জন্য আসলেও তাদের ব্যবহার করা লাগেনি। রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানার তত্বাবধানে বালিয়াকান্দি ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের কর্মীরা প্রায় তিন ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে আজ সোমবার সকাল ৯টার দিকে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। বালিয়াকান্দি ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন লস্কর বলেন, রাত তিনটার দিকে খবর পেয়ে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে সোয়া তিনটা থেকে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় তিন ঘন্টা চেষ্টার পর আজ সকাল ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। এ ছাড়া সকাল ৯টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নেভাতে সক্ষম হন। প্রথম দিকে আগুনের লেলিহান দেখে কালুখালী ও রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতা চাওয়া হলেও আগুন চারদিকে আর বেশি না ছড়ানোয় তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরে আমরা বালিয়াকান্দি ষ্টেশনের কর্মীরাই আগুন নেভাতে সক্ষম হই। তিনি আরও বলেন, বাজারের বড় ব্যবসায়ী আফতাবুজ্জামানের পাটের গুদাম ঘর থেকে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারনে আগুন লাগতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আফতাবুজ্জামানের পাটের ব্যবসাটি যৌথ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হতো। আব্দুল জলিলের রাইস ও তেলের মিলসহ তাঁর ছেলে জাহিদুল ইসলামের ওষুধের দোকান, স্থানীয় ইমরুল হাসান সুমনের ওষুধের দোকান, মিরাজুল হকের মুদি দোকানসহ পাঁচটি দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া কিছু প্রতিষ্ঠান আগুন থেকে রক্ষার চেষ্টায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রাথমকিভাবে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।