রাজবাড়ী মেইল
সর্বশেষ

 সারাদেশ সারাদেশ

মতামতমতামত

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন

মঈনুল হক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মোছা. আফরোজা পারভীন। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে তিনি গোয়ালন্দ ঘাট থানায় পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করেন। এ সময় তাঁকে গার্ড অব অনার সম্মান করা হয়।শেষে উপজেলায় পৌঁছলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদা, জেলা প্রশাসক মোছা. আফরোজা পারভীনকে ফুল ও বৃক্ষ দিয়ে স্বাগত জানান।পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক গোয়ালন্দ ঘাট থানা, ভূমি অফিস, গোয়ালন্দ বাজারের নির্মাণাধীন পৌর মার্কেট, দৌলতদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস, পৌরসভা সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও বিভিন্ন স্কুলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যক্রম, সেবার মান, চলমান উন্নয়নকাজ এবং বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। যেসব ক্ষেত্রে সমস্যা বা জটিলতা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে সরকারি সেবা সাধারণ মানুষের কাছে সহজে ও দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।এ সময় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ছিলেন, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদা, উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান, গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সফিকুল ইসলাম সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী। জেলা প্রশাসকের পরিদর্শনে উপজেলার সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম আরও গতিশীল এবং জনসেবামুখী হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

রাজবাড়ীতে ১৮ শিল্পী গভীররাত পর্যন্ত গাইলেন বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিমের গান

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ মানুষের জীবন, প্রেম, বিরহ, সমাজ ও দর্শনের কথা বলে যাওয়া বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিমকে গান ও আলোচনায় স্মরণ করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত রাজবাড়ী পৌর শহরের আজাদী ময়দান মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠানটি হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল সামাজিক ও সাংষ্কৃতিক সংগঠন  ‘মুক্ত আনন্দ, রাজবাড়ী’।আয়োজকেরা জানান, বাউলসাধক শাহ আবদুল করিম ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর দেহত্যাগ করেন। ১৯১৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণকারী এই সাধকের গতকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ছিল ১৮তম মৃত্যুদিবস। মহান এই শিল্পী 'আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম', 'বন্দে মায়া লাগাইছে', 'আমি ফুল বন্ধু ফুলের ভ্রমরা'-সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের রচয়িতা।সন্ধ্যায় বাউলগানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। মাঝখানে ছিল আলোচনা পর্ব। এরপর আবারও বাউলগান শুরু হয়ে রাত ১১টায় পরিবেশনা শেষ হয়।আলোচনা পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজ পারভীন। মুখ্য আলোচকের বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমি পদকপ্রাপ্ত লোকসংস্কৃতি গবেষক ও শাহ আব্দুল করিম-জীবনীকার সাংবাদিক সুমনকুমার দাশ।প্রধান অতিথি আফরোজা পারভীন বক্তব্যে বলেন, 'আমরা শাহ আবদুল করিমের গান শুনি। গানগুলো কিন্তু আমাদের অভিভূত করে। বন্দে মায়া লাগাইছে, আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম, এ গানগুলো শুধুমাত্র গান নয়, এগুলো কালজয়ী স্মৃতি। এ গানগুলো আমাদের হৃদয়কে ছুঁয়ে যায়। গানগুলো মানুষে মানুষে সম্প্রীতি, মানুষে মানুষে ভালোবাসা এবং সমতা-মানবতার কথা বলে। এ গান থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি। যেটা মানুষ হিসেবে আমাদের মানবিক বৈশিষ্টগুলোকে উন্নত করবে এবং আমরা কিভাবে সমাজে সম্প্রীতি বজায় রাখতে পারবো দীক্ষা নেই।'আলোচনা পর্বের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন আয়োজক সংগঠন ‘মুক্ত আনন্দ’র সাধারণ সম্পাদক অজয় দাস তালুকদার। কবি পারভীন হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. তারিফ-উল হাসান এবং রাজবাড়ী জেলা সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি এম বাচ্চু রহমান। এ ছাড়া বক্তব্য দেন অধ্যক্ষ মো. আজিজুল হক, সাংস্কৃতিক সংগঠক কাজী মিজানুর রহমান পলাশ প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মীর মশাররফ হোসেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক রাজ্জাকুল আলম। এ সময় জেলার নানা শ্রেণি পেশার মানুষ অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন। অনুষ্ঠানের মুখ্য আলোচক হিসেবে সুমনকুমার দাশ শাহ আবদুল করিমের জীবন ও কর্মের পাশাপাশি প্রয়াত বাউলের শেষ দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেছেন। করিমের জীবন ও দর্শনের এই গবেষক বক্তব্যে বলেন, 'শাহ আবদুল করিম নিজে যা বিশ্বাস করতেন, সেটা তাঁর গানেও প্রকাশ করতেন। মনুষ্যত্ববোধ, সততা, নির্লোভ মনোভাব ছিল তাঁর চরিত্রের বৈশিষ্ট্য। সহজ ও সাবলীল ভাষায় লেখার কারণেও তাঁর গান বাংলা ভাষাভাষীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।'আলোচনা পর্বের পর অনুষ্ঠানের মুখ্য আলোচক শাহ আবদুল করিমের প্রথম জীবনীকার সুমনকুমার দাশকে সম্মাননা-ক্রেস্ট ও রাজবাড়ীর ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে রচিত বই উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়। পরে আবারও গানের পরিবেশনা শুরু হয়। অনুষ্ঠানে নবীন-প্রবীণ ১৮ জন শিল্পী শাহ আবদুল করিমের প্রচলিত ও অপ্রচলিত গান পরিবেশন করেন। শিল্পীদের মধ্যে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. তারিফ-উল হাসান--‘গান গাই আমার মনকে বুঝাই, মন থাকে পাগল পাড়া’, শিল্পী কাজী মিজানুর রহমান পলাশ-‘কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু-ছাইড়া যাইবা যদি’, জান্নাতুল ফেরদৌস মিমি-‘বন্ধে মাইয়া লাগাইছে-পিরিতি শিখাইছে’- এমন জনপ্রিয় গান সহ সুমন আহম্মেদ, আশরাফুল আলম, সুমনা বাউল, দুলাল দেওয়ান, সাহিদা নাছরিন যুথি, শ্যামা রানী দে, শারমীন লালনী, শাহানা পারভীন শানু, আওয়াল বাউল ও সোহেল ভেঁড়ো সহ ১৮ জন শিল্পী রাত এগারটা পর্যন্ত জনপ্রিয় সব গান পরিবেশন করেন।  অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, শাহ আবদুল করিম তাঁর গানে বলতে চেয়েছেন ভাগ্য-বিড়ম্বিত মানুষের গল্প। এর বাইরে বাউলসাধনা, নিগূঢ়তত্ত্ব, দেহতত্ত্ব, মনঃশিক্ষা, মানুষ-ভজনা, ভক্তিগীতি এবং বিচ্ছেদ গানও রচনা করেছেন। বাউল গান আর গণসংগীতের পাশাপাশি তাঁর রচিত বিচ্ছেদ গানগুলো হালের তরুণদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামের এই বাউলশিল্পী প্রায় ৫০০ গান রচনা করেন।

বর্তমান সরকার টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার পুরো পরিকল্পনা করেছে -রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, বর্তমান সরকার টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার পুরো পরিকল্পনা যেমন করেছে, একই সঙ্গে সেই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে বলেই আমরা আশা করছি কিছু দিনের মধ্যে আমরা স্বস্তি পাবো। গ্রীষ্মকালে পুরোটাই স্বস্তি পাবো এবং আমাদের ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির জন্যে যে জ্বালানি কাঠামো দরকার, সেটাও নিশ্চিত করা হবে। রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের নিজ বাসভবনে অবস্থানকালে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে শুক্রবার দুপুরে অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা পদ্মা ব্যারাজের প্রস্তাবিত স্থান উপজেলার হাবাসপুর এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন-অর রশিদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি আসলাম মিয়া, জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে হাবাসপুর কে রাজ উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনসভা শেষে কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিদর্শন করেন। কুষ্টিয়া থেকে ফিরে সন্ধ্যায় নিজ বাসভবনে অবস্থান করেন। রাতে বাসভবনে অবস্থানকালে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাথে মতবিনিময়কালে উপদেষ্টা সৌর বিদ্যুৎ নিয়ে বলেন, সৌর বিদ্যুৎ আমরা যে কোন গ্রাহক থেকে উৎপাদন করতে পারি। কিন্তু অতিতের সরকার, পতিত সরকার যেহেতু আমদানী নির্ভরতা চেয়েছে, যেহেতু তার গোষ্ঠীর স্বার্থ নিশ্চিত করতে চেয়েছে। অলিগারকির শাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চেয়েছে, সেই জন্য কোনো উদ্যোগ নেয়নি। যাতে করে সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে যে সমস্ত উপকরণ লাগে, ইতিমধ্যেই সেই উপকরণগুলোর ক্ষেত্রে শুল্কো ব্যবস্থায় বড় রকমের পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে। একই সঙ্গে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে করে দেশের মধ্যেও সৌরবিদ্যুতের জন্যে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো তারা উৎপাদন করতে পারে। পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের মৌলিক সমস্যা পানির ক্ষেত্রে, অনেক সময় অনেক বেশি পানি থাকে, আবার কিছুদিন কোনো পানি থাকে না। অর্থাৎ টু মাস ওয়াটার, টু লিটেল ওয়াটার। যার কারনে আমাদের উৎপাদন কৃষি, প্রকৃতি, পরিবেশ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। আমাদের যেহেতু গঙ্গা, ব্রম্ম্রপুত্র, মেঘনা অববাহিকার ভাটির দেশ। উজানের পানির হিস্যা দরকার। এরকম পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের পানি সম্পদের মৌলিক পরিকল্পনা দরকার। নিশ্চিত করা দরকার কৃষক, প্রকৃতি, মৎস্যসহ সকল সম্পদ যাতে থাকে। সে কারনে দরকার নদীতে সঠিক পরিমান পানি থাকা এবং নদী থেকে যে শাখা নদী বা খাল আছে সেখানেও পানি থাকা দরকার। যাতে কৃষি উৎপাদন হোক, মৎস্য উৎপাদন হোক বা প্রকৃতির ভারসাম্যই হোক তা বজায় থাকা দরকার। এ জন্যই বর্তমান সরকার নির্বাচনে ইশতেহারে সার্বিক, সামগ্রিক, দেশব্যাপী পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক পানি থেকে ন্যায্য হিস্যার কথা বলেছে। তারই পদক্ষেপ হিসেবে পদ্মা ব্যারাজ একনেক অনুমোদন করেছে। 

আগামী ছয় মাসের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজের কাজ শুরু হবে, বদলে যাবে ২৪ জেলার অর্থনীতি -পানিসম্পদমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, আগামী জানুয়ারী থেকে মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজের কাজ শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে পাংশার হাবাসপুরে প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন। পদ্মা ব্যারাজ হলে শুধু রাজবাড়ী নয়, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলসহ ২৪টি জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষ সুফল পাবেন। মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদী ভাঙন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য, নৌযোগাযোগ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে বদলে যাবে এ অঞ্চলের অর্থনীতি। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর কে রাজ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এসব কথা বলেন। হাবাসপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান প্রামানিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন-অর-রশিদ হারুন, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আসলাম মিয়া বক্তব্য রাখেন। এর আগে বেলা ১২টার দিকে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন-অর-রশিদ হারুন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব এ কে এম শাহাবুদ্দিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া, কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহসভাপতি আব্দুস আসলাম মিয়া, জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার হাবাসপুর পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেন। জনসভায় পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারাজ বাংলাদেশের আকেটি মাস্টারমাইন্ড মেগা প্রকল্প। পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যায় হবে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এই পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ২৪টি জেলার অর্থনৈতিক রুপান্তর ঘটবে। কৃষিতে বিপ্লব হবে, বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে, মাছের উৎপাদন বাড়বে। শুধু রাজবাড়ীর মানুষই নয়, উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৪ জেলরা মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পানি সংকট ও নদীভাঙনের ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের পাশাপাশি নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।মন্ত্রী আরও বলেন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ দীর্ঘদিনের। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি পানি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে কারিগরি সমীক্ষা ও সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ২০০৪ সাল থেকে কারিগরি সমীক্ষা নিযে আমরা এগিয়ে এসেছি। আজ ২০২৬ সালে এসে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এখনন বাস্তবে রুপ দেওয়ার সময় এসেছে।  সরকারের পক্ষ থেকে পদ্মা ব্যারাজকে অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আগামী বছরের জানুয়ারী, ফেব্রæয়ারি অথবা মার্চ মাসের মধ্যে যে কোন সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই হাবাসপুর এসে প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন। একই সঙ্গে তিনি পাবনার সুজানগর এলাকায় গিয়েও এমন অনুষ্ঠানের মাধ্যমের সভা করবেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলে কৃষি বিপ্লব ঘটবে। আধুনিক প্রযুক্তির নানা সুযোগ-সুবিধা যুক্ত হবে। এর মধ্য দিয়ে ২৪টি জেলার অর্থনৈতিক রুপান্তর ঘটানো সম্ভব হবে। প্রকল্পের আওতায় নেভিগেশন লক, বিভিন্ন ধরনের গেট ও পানি নিয়ন্ত্রণের অবকাঠামো থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সংরক্ষন ও সরবরাহের ব্যবস্থাও থাকবে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল ব্যারাজের ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডারসুলইস, দুটি ফিশ পাস, নেভিগেশন লক ও পাইড বাঁধ থাকবে। প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের মাধ্যমে দুই ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনারও কথাও জানান পানিসম্পদমন্ত্রী। প্রকল্পের সঙ্গে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পে দুটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে মোট প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, এই পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইন কিন্তু আগের ডিজাইনে নয়। বর্তমান বাস্তবতার আঙ্গিকে ডিজাইন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইন করছেন। আপনারা পানামা খালের কথা শুনেছেন, পানামা খালের চেয়েও বড় কায়দায় স্বয়ং সম্পন্ন পদ্মা ব্যারাজ নির্মিত হবে।উপদেষ্টা বলেন, গঙ্গাচুক্তি একমাত্র গ্যারান্টি ক্রস প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান করেছিলেম। জাতিসংঘেও পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনিই তুলেছেন। বাংলাদেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বৈপল্পিক পরিকল্পনা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া করেছিলেন। তার ধারাবাহিকতায় উত্তরে তিস্তা ব্যারাজ পরিকল্পনা, পদ্মা ব্যারাজ পরিকল্পনাসহ একই কায়দার মহাপরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রী করছেন। বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলো মিটার খাল খনন করা হয়েছে। বাংলাদেশের পানি, প্রাণ, প্রকৃতি সব কিছুই নিয়ে পরিকল্পনা করে কাজ করছেন। পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বড় রকমের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমরা ফ্যাসিস্ট আমলে জনগণের তেমান কোন কাজ দেখিনাই। বাংলাদেশে ম্যাগা প্রজেক্ট হয়েছে, গিগা দুর্নীতি হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য আপনারা আবার একটা সুযোগ আপনারা করে দিয়েছে। সবার আগে বাংলাদেশ। অর্থাৎ সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ। তিনি বলেন, আজকের যে গ্যাস, বিদ্যুৎ সমস্যা হয়েছে। তিনি কিন্তু আপনাদের সাথে ব্যাথিত হয়েছেন। আজকে সারাদেশে একটা বড় সমস্যা অর্থাৎ বেকার সমস্যা। সারা বাংলাদেশে অবহেলিত অঞ্চলের জন্য তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। আজকে আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা বলছি, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে, হাওর অঞ্চলের উন্নয়নের কথা ভাবছি। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার আমল পরিবর্তনের জন্য জানুয়ারী মাসে দেখবেন একটা বড় রকমের পরিবর্তন দেখতে পারবেন। যার মাধ্যমে কর্মসংস্থান যোগ্য শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হবে।

গোয়ালন্দের স্বজ্জন ব্যাক্তি কোবাদ হোসেনের দাফন সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের দুদুখান পাড়ার বাসিন্দা, উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত ডাক্তার মহোসিন মিয়ার একমাত্র পুত্র মো. কোবাদ হোসেন (৭৬) ওরফে কোবাদ ডাক্তার বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ফরিদপুর ডায়াবেটিকস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি লিভার, কিডনি, হার্টসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। ডাক্তার কোবাদ হোসেন দীর্ঘদিন রাজবাড়ী পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির গোয়ালন্দের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি উজানচর জামতলা বাজারে গ্রামাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দিতেন। এছাড়া তিনি উজানচর জামতলা হাই স্কুল ও দুদুখানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিন পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জামতলা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হিসেবেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। তিনি গোয়ালন্দের একজন আলোকিত এবং স্বজ্জন মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর জানাজা নামাজে গোয়ালন্দ সহ রাজবাড়ী এবং ফরিদপুর অঞ্চলের অসংখ্য মানুষ অংশ গ্রহণ করেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বাদ জুম্মা উজানচর দুদুখান পাড়া জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা মাঠে প্রথম এবং পাশ্ববর্তী জামতলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাজা নামাজ শেষে তাকে চেয়ারম্যান বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, তিন মেয়ে সহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে যান। তাঁর বড় ছেলে সোয়েব ওরফে সবুজ হাসান দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান আকিজ গ্রুপের একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কোবাদ হোসেন, দুদুখানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক, প্রথম আলো গোয়ালন্দ বন্ধুসভার সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসরিন আক্তার ইতির স্বামী। তাঁর মৃত্যুতে গোয়ালন্দ ও রাজবাড়ী বন্ধুসভা গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

কৃষিপণ্যে ধলতা বাতিল, সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার বিতরণসহ ১০ দফা দাবীতে বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে কৃষিপণ্যে ধলতা বাতিল, সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিতরণ সহ ১০ দফা দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি পেশ করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষক সমিতির ব্যানারে কয়েকশ কৃষক বিক্ষোভ মিছিল সহকারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে যায়। পরে ইউএনওর কাছে এ সংক্রান্তে স্মারকলিপি পেশ করেন নেতৃবৃন্দ। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গোয়ালন্দ বাজার শহীদ মহিউদ্দিন আনসার ক্লাব চত্ত¡রে উপজেলা কৃষক সমিতির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। এ সময় কৃষকদের দাবী দাওয়া নিয়ে ব্যানার হাতে পাঁচ শতাধিক কৃষক মানববন্ধনে অংশ নেন। পরবর্তীতে বিক্ষোভ মিছিল সহকারে কৃষকরা গোয়ালন্দ বাজার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে যান। এর আগে আনসার ক্লাব চত্বরে আয়োজিত সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষক সমিতির সংগঠক মো. মজিবর রহমান। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রাবেয়া ইদ্রিস মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল কাদের শেখ, উপজেলা কৃষক সমিতির সংগঠন মো. হাবিবুর রহমান, সংগঠক শাহজাহান বিশ^াস, সংগঠক রতুন কুমার প্রমূখ।   সমাবেশ থেকে অবিলম্বে কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে ধলতা/তোলাবাজি বাতিল করা, সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষককে সার সরবরাহ, মান সম্পন্ন বীজ ও কীটনাশক স্বল্পমূল্যে সরবরাহ, জমির খাজনা, খারিজ ও ক্রয়-বিক্রয়ে সরকার নির্ধারিত ফি গ্রহণ, সেচ কাজে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ¦ালানী সরবরাহ নিশ্চিত করন, বাজারে অব্যবস্থাপনা (ময়লা ও রাস্তা দখল) দূর করতে হবে এবং কৃষি পণ্য ক্রয় বিক্রয়ে খাজনার হার র্নির্ধারণ করে দৃশ্যমান স্থানে তালিকা টানানোর দাবী জানান।এছাড়াও প্রত্যেক ইউনিয়নে সরকারীভাবে কৃষিপণ্য ক্রয়কেন্দ্র চালু করা, প্রতি উপজেলায় হিমাগার স্থাপন করে মৌসুমী ফসল সংরক্ষণ করা, গোয়ালন্দ থেকে কামারডাঙ্গী পর্যন্ত মরা পদ্মার কচুরিপানা সরকারীভাবে পরিষ্কার করে জনগনের জন্য উম্মুক্ত করে দেয়া, গোয়ালন্দ উপজেলার খননকৃত খালের পানি প্রবাহ, বিভিন্ন জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সরকারী জলাশয় জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উম্মুক্ত করে দেয়ার দাবী জানানো হয়।

রাজবাড়ীতে নারী উদ্যোক্তাকে মারধরে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী শহরের প্রধান কাপড় বাজারে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানার বিরোধকে কেন্দ্র করে পুলিশের সামনে তাঁকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং বন্ধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ব্যানার হাতে নারী কর্মীদের নিয়ে দাঁড়িয়ে জাকিয়া সুলতানা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।এর আগে ৩১ আগস্ট রাতে রাজবাড়ী সদর থানায় জাকিয়া সুলতানা বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ ওইদিন মধ্যরাতে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পরদিন ১ সেপ্টেম্বর সকালে আদালতে পাঠায়। আসামীরা ওইদিন বিকেলেই জামিনে বের হয়ে আসেন। এ ঘটনায় জাকিয়া সুলতানা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।  জাকিয়া সুলতানা বলেন, আমি একজন নারী উদ্যোক্তা। ২০০৫ সাল থেকে সততার সাথে ব্যবসা করছি। নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অসহায় অসংখ্য নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। ‘আস্থা’ নামক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শাখা ও কারখানায় প্রায় চার হাজার কর্মী কাজ করেন। কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে জয়ীতা পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছি। ২০১২ সাল থেকে রাজবাড়ী কাপড় বাজারে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। আমার থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেক নারী কাপড় বাজারে কাজ করছেন। কিন্তু ২৯ আগষ্ট কাপড় বাজারে অনাকাঙ্খিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে করে আমার ওপর অন্যায় ও নির্যাতন চালানো হয়েছে। আরও একটি কষ্টের বিষয় ওইদিন থেকে এখন পর্যন্ত আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি অন্যায়ভাবে বন্ধ করে রাখা হয়েছে।জাকিয়া সুলতানা বলেন, আমার দোকানের সাবেক কর্মচারী শাহনাজ পারভীন বৃষ্টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও বানোয়াট গল্প বানিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় একজন নারী উদ্যোক্তার সম্মান ক্ষুণœ করেছে, প্রকাশ্যে মানহানি করেছে। তার বিুরদ্ধে তদন্তপূর্বক সঠিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। রাজবাড়ী বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির দায়িত্বে যারা ছিলেন, তাঁদের উপস্থিতিতে ও প্রত্যক্ষ ইন্ধনে কীভাবে একজন নারী উদ্যোক্তার গায়ে হাত তোলার মতো জঘন্য সাহস করা হলো? যে বা যারা শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে এবং এর মদদ দিয়েছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।  এ সময় জাকিয়া সুলতানা ছাড়াও পান্না আক্তার, হাসিনা বেগম, আছিয়া খাতুন, শাহনাজ পারভীন, রিমি বেগম, শাবনুর বেগম, লিপি বেগম উপস্থিত ছিলেন।প্রসঙ্গত, ব্যবসায়ীক বিরোধের জেরে ২৩ আগষ্ট রাতে শহরের কাপড় বাজারে জাকিয়া সুলতানার ‘আস্থা পোশাক শিল্প’ নামক প্রতিষ্ঠানে সাবেক কর্মচারী শাহনাজ পারভীন বৃষ্টি কিছু বহিরাগত লোক নিয়ে তাঁর ওপর চড়াও হয়। প্রতিবাদে ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দের কাছে অভিযোগ করে বিচার না পেয়ে ২৯ আগষ্ট দুপুরে জাকিয়া সুলতানা তাঁর প্রতিষ্ঠানের নারী কর্মচারীদের নিয়ে কাপড় বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। এ সময় কিছু ব্যবসায়ী ও বহিরাগত পুলিশের উপস্থিতিতে তাঁকে লাঞ্ছিত করে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে আলোচনা ও সমালোচনার সৃস্টি হয়। 

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ

মঈনুল হক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে মৎস্য অধিদপ্তরাধীন রাজস্ব বাজেটের আওতায় অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়, বর্ষাপ্লাবিত ধানক্ষেত, প্লাবনভূমি ও প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে রুই জাতীয় পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা এগারটায় জলাশয় নির্বাচন, পোনামাছ সংগ্রহ ও অবমুক্তকরণ কমিটি গোয়ালন্দের বাস্তবায়নে এ পোনা মাছ উপজেলা পরিষদ পুকুর সহ বিভিন্ন জলাশয়ে অবমুক্ত করা হয়। এতে এক লাখ টাকা বরাদ্দের মোট ৩৩৩ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়। পোনামাছ অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ সাইফুল হুদা।উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম পাইলটের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ নিজাম উদ্দিন শেখ, সাধারণ সম্পাদক মোশারফ আহমেদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সৈয়দ রায়হানুল হায়দার, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ হাফিজুল হক, উপজেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা সালমা বেগম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ লুৎফর রহমান, রাজবাড়ী জেলা রিপোর্টাস ইউনিটের সভাপতি হেলাল মাহমুদ সহ উপজেলার অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

যান্ত্রিক ত্রুটিতে প্রবল স্রোতে ভেসে গেল ১৮টি যানবাহন বোঝাই ফেরি, সাড়ে চার ঘন্টা পর উদ্ধার

ফিরোজ আহমেদ, রাজবাড়ীঃ রোববার সকাল পৌনে দশটার দিকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া থেকে যানবাহন বোঝাই রো রো (বড়) ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। দৌলতদিয়া ঘাটে ভেড়ার আগে স্রোতের মুখে ফেরিতে যান্ত্রিক ত্রæটি দেখা দেয়। মুহুর্তেই প্রায় দুই কিলোমিটার ভাটিতে ভেসে যায় ফেরি। আইটি জাহাজ ও আরেক বড় ফেরির সহযোগিতায় প্রায় সাড়ে চার ঘন্টা পর উদ্ধার করা হয় ফেরি।বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডবিøউটিসি) আরিচা কার্যালয় জানায়, রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে পাটুরিয়ার ২ নম্বর ঘাট থেকে ৮টি যাত্রীবাহি বাস, ৪টি পণ্যবাহী ট্রাক, ৩টি ব্যক্তিগত গাড়ি (প্রাইভেটকার), ৩টি ছোট গাড়িসহ কয়েকটি মোটরসাইকেল নিয়ে দৌলতদিয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় বড় ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান। ফেরিটি দৌলতদিয়া ঘাটে ভেড়ানোর আগেই প্রবল স্রোতের মুখে পড়ে। স্রোতের তোড়ে ফেরির হাইড্রোলিক পাইপ ফেটে সুকানে ত্রুটি দেখা দেয়। গতি ঠিক রাখতে না পারায় ফেরিটি স্রোতের টানে প্রায় দুই কিলোমিটার ভাটিতে ভেসে যায়। উপায় না পেয়ে ফেরিটি সেখানে নোঙর করতে বাধ্য হয়। ফেরিতে থাকা যানবাহনের যাত্রী ও চালকদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দেয়।  ফেরিতে থাকা লালন পরিবহনের তত্বাবধায়ক (সুপার ভাইজার) সুমন হোসেন জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আমাদের গাড়ি ফেরিতে ওঠে। পৌনে দশটার দিকে ফেরিটি ঘাট ছেড়ে মাঝ নদী পার হওয়ার পরই তীব্র স্রোতের মুখে পড়ে। মুহুর্তের মধ্যে ফেরিটি ঘুরপাক খেয়ে কয়েক কিলোমিটার ভাটিতে চলে যায়। এ সময় ফেরিতে থাকা যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়লে সবাইকে সতর্কতার সাথে অবস্থান করতে অনুরোধ জানাই। পরে উদ্ধারকারী জাহাজ ও আরেক বড় ফেরির চেষ্টায় বেলা আড়াইটার দিকে আমাদের ফেরিটি পুনরায় পাটুরিয়া ঘাটে আসে। সেখান থেকে বিকল্প ফেরিতে আমাদের তুলে দেওয়া হয়। ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের প্রধান মাষ্টার রুমান সরকার রতন প্রথম আলোকে বলেন, ফেরিটি দৌলতদিয়ার ৫ নম্বর ঘাটে কাছে পৌছানো মাত্র প্রবল স্রোতের মুখে পড়ে হাইড্রোলিক পাইপ ফেটে যাওয়ায় সুকান (ডান ও বায়ে ঘোরানো) কাজ করছিলনা। ওই সময় স্রোতের টানে ঘাট থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার ভাটিতে চলে গেলে তাৎক্ষনিক ফেরিটি নোঙর করা হয়। এ সময় দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে থাকা উদ্ধারকারী জাহাজ আইটি-৯৬ এর সহায়তা চাওয়া হলে আইটি এসে ফেরিটি টেনে নিতে অনেক বেগ পোহাতে হয়। পাটুরিয়া থেকে আরেকটি বড় ফেরি খানজাহান আলী এসে যৌথভাবে আমাদের ফেরিটি টেনে পুনরায় পাটুরিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে নিয়ে ভেড়ায়।তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ফেরিটি ৩ নম্বর ঘাটে রেখেই কারিগরি বিভাগের লোকজন হাইড্রোলিক পাইপের কাজ করছেন। আশা করছি আজকের মধ্যে তাদের মেরামত কাজ সম্পন্ন হবে। কাজ শেষ হলেই পুনরায় বহরে যানবাহন আনা নেয়ায় যুক্ত হবে। এ ধরনের সমস্যা এর আগেও একবার হয়েছিল বলে জানান।বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে পদ্মা নদীর দৌলতদিয়া প্রান্তে তীব্র স্রোতের কারনে ফেরি ভেড়ানোয় সমস্যা পড়তে হচ্ছে। বতর্মানে দৌলতদিয়া এবং পাটুরিয়া নৌপথে ছোট-বড় মিলে ১৭টি ফেরি রয়েছে। রোববার ৭টি বড় এবং ৫টি ছোটসহ মোট ১২টি ফেরি চলাচল করছে। যান্ত্রিক ত্রæটিতে বিকল বড় ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের মেরামত শেষে অতি দ্রুত বহরে যুক্ত করা হবে বলে জানান।

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

রাজবাড়ীতে ৩২ বছর পর আ.লীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যানের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

স্মৃতি-গান আর আড্ডায় খানখানাপুর তমিজুদ্দিন খান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান

পুরোনো রাউটারকে বানিয়ে ফেলুন ওয়াই-ফাই এক্সটেন্ডার

গোয়ালন্দে ছয় মামলার আসামি, ডাকাত দলের সদস্য গ্রেপ্তার

চামড়া সংরক্ষণে বিনামূল্যে ৩০ হাজার টন লবণ দেবে সরকার

দৌলতদিয়ায় যৌনপল্লীর নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় ‘প্রজন্ম সোপান’প্রকল্পের উদ্বোধন

অন্য কেউ আপনার জিমেইল ব্যবহার করছে? এখনই ব্যবস্থা না নিলে হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি!

রাজবাড়ীতে দুই বন্ধু মিলে প্রেমিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ, তরুণকে আটক করে পুলিশে দিল এলাকাবাসী

দৌলতদিয়া ঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও চাঁদাবাজি চলবে না - সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী মাহমুদ

১০

বাজেটে কৃষি খাতে ৪০ শতাংশ উন্নয়ন বরাদ্দের দাবি

জনপ্রিয় সব খবর

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন

রাজবাড়ীতে ১৮ শিল্পী গভীররাত পর্যন্ত গাইলেন বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিমের গান

বর্তমান সরকার টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার পুরো পরিকল্পনা করেছে -রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

আগামী ছয় মাসের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজের কাজ শুরু হবে, বদলে যাবে ২৪ জেলার অর্থনীতি -পানিসম্পদমন্ত্রী

গোয়ালন্দের স্বজ্জন ব্যাক্তি কোবাদ হোসেনের দাফন সম্পন্ন

রাজবাড়ীতে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে রাজবাড়ীতে র্যালি ও আলোচনা সভা

কৃষিপণ্যে ধলতা বাতিল, সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার বিতরণসহ ১০ দফা দাবীতে বিক্ষোভ

তীব্র স্রোতে চারদিন ধরে বন্ধ ফেরি, ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ নৌরুটে ভোগান্তি

রাজবাড়ীতে নারী উদ্যোক্তাকে মারধরে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি

১০

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলার ৯দিন পর হাসপাতালে যৌনকর্মীর মৃত্যু

সর্বশেষ সব খবর

 বানিজ্য বানিজ্য

বর্তমান সরকার টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার পুরো পরিকল্পনা করেছে -রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

বর্তমান সরকার টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার পুরো পরিকল্পনা করেছে -রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, বর্তমান সরকার টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার পুরো পরিকল্পনা যেমন করেছে, একই সঙ্গে সেই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে বলেই আমরা আশা করছি কিছু দিনের মধ্যে আমরা স্বস্তি পাবো। গ্রীষ্মকালে পুরোটাই স্বস্তি পাবো এবং আমাদের ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির জন্যে যে জ্বালানি কাঠামো দরকার, সেটাও নিশ্চিত করা হবে। রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের নিজ বাসভবনে অবস্থানকালে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে শুক্রবার দুপুরে অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা পদ্মা ব্যারাজের প্রস্তাবিত স্থান উপজেলার হাবাসপুর এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন-অর রশিদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি আসলাম মিয়া, জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে হাবাসপুর কে রাজ উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনসভা শেষে কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিদর্শন করেন। কুষ্টিয়া থেকে ফিরে সন্ধ্যায় নিজ বাসভবনে অবস্থান করেন। রাতে বাসভবনে অবস্থানকালে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাথে মতবিনিময়কালে উপদেষ্টা সৌর বিদ্যুৎ নিয়ে বলেন, সৌর বিদ্যুৎ আমরা যে কোন গ্রাহক থেকে উৎপাদন করতে পারি। কিন্তু অতিতের সরকার, পতিত সরকার যেহেতু আমদানী নির্ভরতা চেয়েছে, যেহেতু তার গোষ্ঠীর স্বার্থ নিশ্চিত করতে চেয়েছে। অলিগারকির শাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চেয়েছে, সেই জন্য কোনো উদ্যোগ নেয়নি। যাতে করে সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে যে সমস্ত উপকরণ লাগে, ইতিমধ্যেই সেই উপকরণগুলোর ক্ষেত্রে শুল্কো ব্যবস্থায় বড় রকমের পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে। একই সঙ্গে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে করে দেশের মধ্যেও সৌরবিদ্যুতের জন্যে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো তারা উৎপাদন করতে পারে। পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের মৌলিক সমস্যা পানির ক্ষেত্রে, অনেক সময় অনেক বেশি পানি থাকে, আবার কিছুদিন কোনো পানি থাকে না। অর্থাৎ টু মাস ওয়াটার, টু লিটেল ওয়াটার। যার কারনে আমাদের উৎপাদন কৃষি, প্রকৃতি, পরিবেশ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। আমাদের যেহেতু গঙ্গা, ব্রম্ম্রপুত্র, মেঘনা অববাহিকার ভাটির দেশ। উজানের পানির হিস্যা দরকার। এরকম পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের পানি সম্পদের মৌলিক পরিকল্পনা দরকার। নিশ্চিত করা দরকার কৃষক, প্রকৃতি, মৎস্যসহ সকল সম্পদ যাতে থাকে। সে কারনে দরকার নদীতে সঠিক পরিমান পানি থাকা এবং নদী থেকে যে শাখা নদী বা খাল আছে সেখানেও পানি থাকা দরকার। যাতে কৃষি উৎপাদন হোক, মৎস্য উৎপাদন হোক বা প্রকৃতির ভারসাম্যই হোক তা বজায় থাকা দরকার। এ জন্যই বর্তমান সরকার নির্বাচনে ইশতেহারে সার্বিক, সামগ্রিক, দেশব্যাপী পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক পানি থেকে ন্যায্য হিস্যার কথা বলেছে। তারই পদক্ষেপ হিসেবে পদ্মা ব্যারাজ একনেক অনুমোদন করেছে। 

আগামী ছয় মাসের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজের কাজ শুরু হবে, বদলে যাবে ২৪ জেলার অর্থনীতি -পানিসম্পদমন্ত্রী

আগামী ছয় মাসের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজের কাজ শুরু হবে, বদলে যাবে ২৪ জেলার অর্থনীতি -পানিসম্পদমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, আগামী জানুয়ারী থেকে মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজের কাজ শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে পাংশার হাবাসপুরে প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন। পদ্মা ব্যারাজ হলে শুধু রাজবাড়ী নয়, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলসহ ২৪টি জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষ সুফল পাবেন। মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদী ভাঙন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য, নৌযোগাযোগ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে বদলে যাবে এ অঞ্চলের অর্থনীতি। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর কে রাজ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এসব কথা বলেন। হাবাসপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান প্রামানিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন-অর-রশিদ হারুন, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আসলাম মিয়া বক্তব্য রাখেন। এর আগে বেলা ১২টার দিকে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন-অর-রশিদ হারুন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব এ কে এম শাহাবুদ্দিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া, কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহসভাপতি আব্দুস আসলাম মিয়া, জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার হাবাসপুর পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেন। জনসভায় পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারাজ বাংলাদেশের আকেটি মাস্টারমাইন্ড মেগা প্রকল্প। পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যায় হবে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এই পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ২৪টি জেলার অর্থনৈতিক রুপান্তর ঘটবে। কৃষিতে বিপ্লব হবে, বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে, মাছের উৎপাদন বাড়বে। শুধু রাজবাড়ীর মানুষই নয়, উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৪ জেলরা মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পানি সংকট ও নদীভাঙনের ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের পাশাপাশি নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।মন্ত্রী আরও বলেন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ দীর্ঘদিনের। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি পানি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে কারিগরি সমীক্ষা ও সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ২০০৪ সাল থেকে কারিগরি সমীক্ষা নিযে আমরা এগিয়ে এসেছি। আজ ২০২৬ সালে এসে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এখনন বাস্তবে রুপ দেওয়ার সময় এসেছে।  সরকারের পক্ষ থেকে পদ্মা ব্যারাজকে অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আগামী বছরের জানুয়ারী, ফেব্রæয়ারি অথবা মার্চ মাসের মধ্যে যে কোন সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই হাবাসপুর এসে প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন। একই সঙ্গে তিনি পাবনার সুজানগর এলাকায় গিয়েও এমন অনুষ্ঠানের মাধ্যমের সভা করবেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলে কৃষি বিপ্লব ঘটবে। আধুনিক প্রযুক্তির নানা সুযোগ-সুবিধা যুক্ত হবে। এর মধ্য দিয়ে ২৪টি জেলার অর্থনৈতিক রুপান্তর ঘটানো সম্ভব হবে। প্রকল্পের আওতায় নেভিগেশন লক, বিভিন্ন ধরনের গেট ও পানি নিয়ন্ত্রণের অবকাঠামো থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সংরক্ষন ও সরবরাহের ব্যবস্থাও থাকবে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল ব্যারাজের ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডারসুলইস, দুটি ফিশ পাস, নেভিগেশন লক ও পাইড বাঁধ থাকবে। প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের মাধ্যমে দুই ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনারও কথাও জানান পানিসম্পদমন্ত্রী। প্রকল্পের সঙ্গে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পে দুটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে মোট প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, এই পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইন কিন্তু আগের ডিজাইনে নয়। বর্তমান বাস্তবতার আঙ্গিকে ডিজাইন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইন করছেন। আপনারা পানামা খালের কথা শুনেছেন, পানামা খালের চেয়েও বড় কায়দায় স্বয়ং সম্পন্ন পদ্মা ব্যারাজ নির্মিত হবে।উপদেষ্টা বলেন, গঙ্গাচুক্তি একমাত্র গ্যারান্টি ক্রস প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান করেছিলেম। জাতিসংঘেও পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনিই তুলেছেন। বাংলাদেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বৈপল্পিক পরিকল্পনা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া করেছিলেন। তার ধারাবাহিকতায় উত্তরে তিস্তা ব্যারাজ পরিকল্পনা, পদ্মা ব্যারাজ পরিকল্পনাসহ একই কায়দার মহাপরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রী করছেন। বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলো মিটার খাল খনন করা হয়েছে। বাংলাদেশের পানি, প্রাণ, প্রকৃতি সব কিছুই নিয়ে পরিকল্পনা করে কাজ করছেন। পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বড় রকমের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমরা ফ্যাসিস্ট আমলে জনগণের তেমান কোন কাজ দেখিনাই। বাংলাদেশে ম্যাগা প্রজেক্ট হয়েছে, গিগা দুর্নীতি হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য আপনারা আবার একটা সুযোগ আপনারা করে দিয়েছে। সবার আগে বাংলাদেশ। অর্থাৎ সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ। তিনি বলেন, আজকের যে গ্যাস, বিদ্যুৎ সমস্যা হয়েছে। তিনি কিন্তু আপনাদের সাথে ব্যাথিত হয়েছেন। আজকে সারাদেশে একটা বড় সমস্যা অর্থাৎ বেকার সমস্যা। সারা বাংলাদেশে অবহেলিত অঞ্চলের জন্য তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। আজকে আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা বলছি, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে, হাওর অঞ্চলের উন্নয়নের কথা ভাবছি। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার আমল পরিবর্তনের জন্য জানুয়ারী মাসে দেখবেন একটা বড় রকমের পরিবর্তন দেখতে পারবেন। যার মাধ্যমে কর্মসংস্থান যোগ্য শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হবে।

 কৃষিপণ্যে ধলতা বাতিল, সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার বিতরণসহ ১০ দফা দাবীতে বিক্ষোভ

কৃষিপণ্যে ধলতা বাতিল, সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার বিতরণসহ ১০ দফা দাবীতে বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে কৃষিপণ্যে ধলতা বাতিল, সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিতরণ সহ ১০ দফা দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি পেশ করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষক সমিতির ব্যানারে কয়েকশ কৃষক বিক্ষোভ মিছিল সহকারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে যায়। পরে ইউএনওর কাছে এ সংক্রান্তে স্মারকলিপি পেশ করেন নেতৃবৃন্দ। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গোয়ালন্দ বাজার শহীদ মহিউদ্দিন আনসার ক্লাব চত্ত¡রে উপজেলা কৃষক সমিতির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। এ সময় কৃষকদের দাবী দাওয়া নিয়ে ব্যানার হাতে পাঁচ শতাধিক কৃষক মানববন্ধনে অংশ নেন। পরবর্তীতে বিক্ষোভ মিছিল সহকারে কৃষকরা গোয়ালন্দ বাজার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে যান। এর আগে আনসার ক্লাব চত্বরে আয়োজিত সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষক সমিতির সংগঠক মো. মজিবর রহমান। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রাবেয়া ইদ্রিস মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল কাদের শেখ, উপজেলা কৃষক সমিতির সংগঠন মো. হাবিবুর রহমান, সংগঠক শাহজাহান বিশ^াস, সংগঠক রতুন কুমার প্রমূখ।   সমাবেশ থেকে অবিলম্বে কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে ধলতা/তোলাবাজি বাতিল করা, সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষককে সার সরবরাহ, মান সম্পন্ন বীজ ও কীটনাশক স্বল্পমূল্যে সরবরাহ, জমির খাজনা, খারিজ ও ক্রয়-বিক্রয়ে সরকার নির্ধারিত ফি গ্রহণ, সেচ কাজে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ¦ালানী সরবরাহ নিশ্চিত করন, বাজারে অব্যবস্থাপনা (ময়লা ও রাস্তা দখল) দূর করতে হবে এবং কৃষি পণ্য ক্রয় বিক্রয়ে খাজনার হার র্নির্ধারণ করে দৃশ্যমান স্থানে তালিকা টানানোর দাবী জানান।এছাড়াও প্রত্যেক ইউনিয়নে সরকারীভাবে কৃষিপণ্য ক্রয়কেন্দ্র চালু করা, প্রতি উপজেলায় হিমাগার স্থাপন করে মৌসুমী ফসল সংরক্ষণ করা, গোয়ালন্দ থেকে কামারডাঙ্গী পর্যন্ত মরা পদ্মার কচুরিপানা সরকারীভাবে পরিষ্কার করে জনগনের জন্য উম্মুক্ত করে দেয়া, গোয়ালন্দ উপজেলার খননকৃত খালের পানি প্রবাহ, বিভিন্ন জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সরকারী জলাশয় জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উম্মুক্ত করে দেয়ার দাবী জানানো হয়।

তীব্র স্রোতে চারদিন ধরে বন্ধ ফেরি, ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ নৌরুটে ভোগান্তি

তীব্র স্রোতে চারদিন ধরে বন্ধ ফেরি, ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ নৌরুটে ভোগান্তি

কামাল হোসেন, রাজবাড়ীঃ পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে চারদিন ধরে বন্ধ রয়েছে রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া-পাবনার নাজিরগঞ্জ নৌরুটে ফেরি চলাচল। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এ নৌরুটে চলাচলকারী যাত্রী, চালক ও ব্যবসায়ীরা। ফেরি বন্ধ থাকায় অনেক যানবাহন ঘাট থেকে ফিরে যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ দীর্ঘ ও বিকল্প পথে গন্তব্যে যাচ্ছেন। এতে বাড়ছে সময় ও পরিবহন ব্যয়। ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রী ও যানবাহনের চালকেরা। ধাওয়াপাড়া দিয়ে পদ্মা পার হয়ে পাবনাসহ আশপাশের এলাকায় যাতায়াতকারী মানুষকে এখন বিকল্প পথে যেতে হচ্ছে। এতে গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লাগার পাশাপাশি বেড়ে যাচ্ছে যাতায়াতের খরচ। জরুরি প্রয়োজনে অনেকে ঝুঁকি নিয়ে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও স্পিডবোটে পদ্মা পার হচ্ছেন। তবে এসব নৌযানে অনেক যাত্রীর লাইফ জ্যাকেট না থাকায় তীব্র স্রোতে পারাপার নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।ঘাটসংশ্লিষ্টরা জানান, গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে পদ্মায় পানি ও স্রোত বেড়ে গেলে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ধাওয়াপাড়া ঘাটে থাকা দুটি ফেরির একটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল। অপর ফেরিটিও তীব্র স্রোতের কারণে নিরাপদে চলাচল করতে পারছে না।স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরোনো ও সংস্কারের অভাবে ঘাটের ফেরি সার্ভিস প্রায়ই ব্যাহত হয়। দ্রুত বিকল্প ফেরির ব্যবস্থা এবং পুরোনো ফেরিগুলো মেরামতের দাবি জানিয়েছেন তারা।ধাওয়াপাড়া ঘাটের স্থানীয় দোকানদার আজমল মন্ডল বলেন, ‘এই ঘাটের একটি ফেরি দুই থেকে তিন মাস আগেই নষ্ট হয়ে বন্ধ হয়ে আছে। যে ফেরিটি চলাচল করত, সেটিও কয়েকদিন ধরে বন্ধ। অথচ এই ঘাট দিয়ে প্রতিনিয়ত ১৫০ থেকে ২০০ যানবাহন এবং ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ যাত্রী পারাপার হয়। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌরুটে ভালো মানের কোনো ফেরি নেই। মাঝেমধ্যেই ফেরি চলাচলে সমস্যা হয়। এখন পদ্মায় তীব্র স্রোত থাকায় ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এই নৌরুটে ভালো মানের একটি ফেরি খুবই প্রয়োজন।’আরেক যাত্রী আব্দুল আজিজ বলেন, ‘ফেরি চলার জন্য, তা বন্ধ থাকবে কেন? আর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে যদি বন্ধ থাকে, তবে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। যাতে যাত্রী সাধারণ এবং যানবাহনগুলো নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে।’এদিকে ফেরি বন্ধ থাকায় বিকল্প হিসেবে স্পিডবোট ও ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে নদী পার হচ্ছেন অনেকে। যাত্রীদের অভিযোগ, ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় স্পিডবোটের ভাড়াও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।সুজাত বিশ্বাস বলেন, ‘স্পিডবোটের ভাড়া ছিল ১০০ টাকা, তা থেকে বাড়িয়ে ১২০ টাকা, আজকে আবার ১৫০ টাকা ভাড়া নিচ্ছে। ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে বেশি টাকা দিয়ে স্পিডবোট এবং ট্রলারে যেতে হচ্ছে।’ট্রাকচালক নুরুজ্জামান বলেন, ‘আজ তিনদিন হলো ঘাটে এসে বসে আছি। স্রোত কমলে ফেরি চলাচল শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু আজ দুদিন হলো ঘাট এলাকায় বিআইডব্লিউটিসির কোনো কর্মকর্তাকে দেখা যায়নি। সিরাজগঞ্জ যাব, অন্য পথ হয়েও যাব, তারও উপায় নেই। অর্থসংকট রয়েছে।’বিআইডব্লিউটিসির ধাওয়াপাড়া ফেরিঘাটের টার্মিনাল সুপারিনটেনডেন্ট সুমন খান বলেন, ‘তীব্র স্রোতের কারণে তিনদিন ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফেরির চাহিদার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি তারা দেখছে।’

জাতীয়

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন

মঈনুল হক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মোছা. আফরোজা পারভীন। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে তিনি গোয়ালন্দ ঘাট থানায় পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করেন। এ সময় তাঁকে গার্ড অব অনার সম্মান করা হয়।শেষে উপজেলায় পৌঁছলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদা, জেলা প্রশাসক মোছা. আফরোজা পারভীনকে ফুল ও বৃক্ষ দিয়ে স্বাগত জানান।পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক গোয়ালন্দ ঘাট থানা, ভূমি অফিস, গোয়ালন্দ বাজারের নির্মাণাধীন পৌর মার্কেট, দৌলতদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস, পৌরসভা সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও বিভিন্ন স্কুলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যক্রম, সেবার মান, চলমান উন্নয়নকাজ এবং বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। যেসব ক্ষেত্রে সমস্যা বা জটিলতা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে সরকারি সেবা সাধারণ মানুষের কাছে সহজে ও দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।এ সময় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ছিলেন, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদা, উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান, গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সফিকুল ইসলাম সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী। জেলা প্রশাসকের পরিদর্শনে উপজেলার সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম আরও গতিশীল এবং জনসেবামুখী হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

৩ ঘন্টা আগে

 বিশ্ব বিশ্ব

বর্তমান সরকার টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার পুরো পরিকল্পনা করেছে -রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

বর্তমান সরকার টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার পুরো পরিকল্পনা করেছে -রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, বর্তমান সরকার টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার পুরো পরিকল্পনা যেমন করেছে, একই সঙ্গে সেই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে বলেই আমরা আশা করছি কিছু দিনের মধ্যে আমরা স্বস্তি পাবো। গ্রীষ্মকালে পুরোটাই স্বস্তি পাবো এবং আমাদের ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির জন্যে যে জ্বালানি কাঠামো দরকার, সেটাও নিশ্চিত করা হবে। রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের নিজ বাসভবনে অবস্থানকালে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে শুক্রবার দুপুরে অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা পদ্মা ব্যারাজের প্রস্তাবিত স্থান উপজেলার হাবাসপুর এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন-অর রশিদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি আসলাম মিয়া, জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে হাবাসপুর কে রাজ উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনসভা শেষে কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিদর্শন করেন। কুষ্টিয়া থেকে ফিরে সন্ধ্যায় নিজ বাসভবনে অবস্থান করেন। রাতে বাসভবনে অবস্থানকালে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাথে মতবিনিময়কালে উপদেষ্টা সৌর বিদ্যুৎ নিয়ে বলেন, সৌর বিদ্যুৎ আমরা যে কোন গ্রাহক থেকে উৎপাদন করতে পারি। কিন্তু অতিতের সরকার, পতিত সরকার যেহেতু আমদানী নির্ভরতা চেয়েছে, যেহেতু তার গোষ্ঠীর স্বার্থ নিশ্চিত করতে চেয়েছে। অলিগারকির শাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চেয়েছে, সেই জন্য কোনো উদ্যোগ নেয়নি। যাতে করে সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে যে সমস্ত উপকরণ লাগে, ইতিমধ্যেই সেই উপকরণগুলোর ক্ষেত্রে শুল্কো ব্যবস্থায় বড় রকমের পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে। একই সঙ্গে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে করে দেশের মধ্যেও সৌরবিদ্যুতের জন্যে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো তারা উৎপাদন করতে পারে। পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের মৌলিক সমস্যা পানির ক্ষেত্রে, অনেক সময় অনেক বেশি পানি থাকে, আবার কিছুদিন কোনো পানি থাকে না। অর্থাৎ টু মাস ওয়াটার, টু লিটেল ওয়াটার। যার কারনে আমাদের উৎপাদন কৃষি, প্রকৃতি, পরিবেশ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। আমাদের যেহেতু গঙ্গা, ব্রম্ম্রপুত্র, মেঘনা অববাহিকার ভাটির দেশ। উজানের পানির হিস্যা দরকার। এরকম পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের পানি সম্পদের মৌলিক পরিকল্পনা দরকার। নিশ্চিত করা দরকার কৃষক, প্রকৃতি, মৎস্যসহ সকল সম্পদ যাতে থাকে। সে কারনে দরকার নদীতে সঠিক পরিমান পানি থাকা এবং নদী থেকে যে শাখা নদী বা খাল আছে সেখানেও পানি থাকা দরকার। যাতে কৃষি উৎপাদন হোক, মৎস্য উৎপাদন হোক বা প্রকৃতির ভারসাম্যই হোক তা বজায় থাকা দরকার। এ জন্যই বর্তমান সরকার নির্বাচনে ইশতেহারে সার্বিক, সামগ্রিক, দেশব্যাপী পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক পানি থেকে ন্যায্য হিস্যার কথা বলেছে। তারই পদক্ষেপ হিসেবে পদ্মা ব্যারাজ একনেক অনুমোদন করেছে। 

৩ ঘন্টা আগে

 রাজনীতি রাজনীতি

বর্তমান সরকার টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার পুরো পরিকল্পনা করেছে -রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

বর্তমান সরকার টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার পুরো পরিকল্পনা করেছে -রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, বর্তমান সরকার টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার পুরো পরিকল্পনা যেমন করেছে, একই সঙ্গে সেই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে বলেই আমরা আশা করছি কিছু দিনের মধ্যে আমরা স্বস্তি পাবো। গ্রীষ্মকালে পুরোটাই স্বস্তি পাবো এবং আমাদের ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির জন্যে যে জ্বালানি কাঠামো দরকার, সেটাও নিশ্চিত করা হবে। রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের নিজ বাসভবনে অবস্থানকালে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে শুক্রবার দুপুরে অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা পদ্মা ব্যারাজের প্রস্তাবিত স্থান উপজেলার হাবাসপুর এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন-অর রশিদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি আসলাম মিয়া, জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে হাবাসপুর কে রাজ উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনসভা শেষে কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিদর্শন করেন। কুষ্টিয়া থেকে ফিরে সন্ধ্যায় নিজ বাসভবনে অবস্থান করেন। রাতে বাসভবনে অবস্থানকালে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাথে মতবিনিময়কালে উপদেষ্টা সৌর বিদ্যুৎ নিয়ে বলেন, সৌর বিদ্যুৎ আমরা যে কোন গ্রাহক থেকে উৎপাদন করতে পারি। কিন্তু অতিতের সরকার, পতিত সরকার যেহেতু আমদানী নির্ভরতা চেয়েছে, যেহেতু তার গোষ্ঠীর স্বার্থ নিশ্চিত করতে চেয়েছে। অলিগারকির শাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চেয়েছে, সেই জন্য কোনো উদ্যোগ নেয়নি। যাতে করে সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে যে সমস্ত উপকরণ লাগে, ইতিমধ্যেই সেই উপকরণগুলোর ক্ষেত্রে শুল্কো ব্যবস্থায় বড় রকমের পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে। একই সঙ্গে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে করে দেশের মধ্যেও সৌরবিদ্যুতের জন্যে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো তারা উৎপাদন করতে পারে। পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের মৌলিক সমস্যা পানির ক্ষেত্রে, অনেক সময় অনেক বেশি পানি থাকে, আবার কিছুদিন কোনো পানি থাকে না। অর্থাৎ টু মাস ওয়াটার, টু লিটেল ওয়াটার। যার কারনে আমাদের উৎপাদন কৃষি, প্রকৃতি, পরিবেশ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। আমাদের যেহেতু গঙ্গা, ব্রম্ম্রপুত্র, মেঘনা অববাহিকার ভাটির দেশ। উজানের পানির হিস্যা দরকার। এরকম পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের পানি সম্পদের মৌলিক পরিকল্পনা দরকার। নিশ্চিত করা দরকার কৃষক, প্রকৃতি, মৎস্যসহ সকল সম্পদ যাতে থাকে। সে কারনে দরকার নদীতে সঠিক পরিমান পানি থাকা এবং নদী থেকে যে শাখা নদী বা খাল আছে সেখানেও পানি থাকা দরকার। যাতে কৃষি উৎপাদন হোক, মৎস্য উৎপাদন হোক বা প্রকৃতির ভারসাম্যই হোক তা বজায় থাকা দরকার। এ জন্যই বর্তমান সরকার নির্বাচনে ইশতেহারে সার্বিক, সামগ্রিক, দেশব্যাপী পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক পানি থেকে ন্যায্য হিস্যার কথা বলেছে। তারই পদক্ষেপ হিসেবে পদ্মা ব্যারাজ একনেক অনুমোদন করেছে। 

আগামী ছয় মাসের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজের কাজ শুরু হবে, বদলে যাবে ২৪ জেলার অর্থনীতি -পানিসম্পদমন্ত্রী

আগামী ছয় মাসের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজের কাজ শুরু হবে, বদলে যাবে ২৪ জেলার অর্থনীতি -পানিসম্পদমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, আগামী জানুয়ারী থেকে মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজের কাজ শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে পাংশার হাবাসপুরে প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন। পদ্মা ব্যারাজ হলে শুধু রাজবাড়ী নয়, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলসহ ২৪টি জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষ সুফল পাবেন। মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদী ভাঙন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য, নৌযোগাযোগ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে বদলে যাবে এ অঞ্চলের অর্থনীতি। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর কে রাজ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এসব কথা বলেন। হাবাসপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান প্রামানিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন-অর-রশিদ হারুন, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আসলাম মিয়া বক্তব্য রাখেন। এর আগে বেলা ১২টার দিকে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন-অর-রশিদ হারুন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব এ কে এম শাহাবুদ্দিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া, কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহসভাপতি আব্দুস আসলাম মিয়া, জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার হাবাসপুর পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেন। জনসভায় পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারাজ বাংলাদেশের আকেটি মাস্টারমাইন্ড মেগা প্রকল্প। পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যায় হবে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এই পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ২৪টি জেলার অর্থনৈতিক রুপান্তর ঘটবে। কৃষিতে বিপ্লব হবে, বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে, মাছের উৎপাদন বাড়বে। শুধু রাজবাড়ীর মানুষই নয়, উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৪ জেলরা মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পানি সংকট ও নদীভাঙনের ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের পাশাপাশি নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।মন্ত্রী আরও বলেন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ দীর্ঘদিনের। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি পানি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে কারিগরি সমীক্ষা ও সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ২০০৪ সাল থেকে কারিগরি সমীক্ষা নিযে আমরা এগিয়ে এসেছি। আজ ২০২৬ সালে এসে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এখনন বাস্তবে রুপ দেওয়ার সময় এসেছে।  সরকারের পক্ষ থেকে পদ্মা ব্যারাজকে অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আগামী বছরের জানুয়ারী, ফেব্রæয়ারি অথবা মার্চ মাসের মধ্যে যে কোন সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই হাবাসপুর এসে প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন। একই সঙ্গে তিনি পাবনার সুজানগর এলাকায় গিয়েও এমন অনুষ্ঠানের মাধ্যমের সভা করবেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলে কৃষি বিপ্লব ঘটবে। আধুনিক প্রযুক্তির নানা সুযোগ-সুবিধা যুক্ত হবে। এর মধ্য দিয়ে ২৪টি জেলার অর্থনৈতিক রুপান্তর ঘটানো সম্ভব হবে। প্রকল্পের আওতায় নেভিগেশন লক, বিভিন্ন ধরনের গেট ও পানি নিয়ন্ত্রণের অবকাঠামো থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সংরক্ষন ও সরবরাহের ব্যবস্থাও থাকবে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল ব্যারাজের ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডারসুলইস, দুটি ফিশ পাস, নেভিগেশন লক ও পাইড বাঁধ থাকবে। প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের মাধ্যমে দুই ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনারও কথাও জানান পানিসম্পদমন্ত্রী। প্রকল্পের সঙ্গে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পে দুটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে মোট প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, এই পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইন কিন্তু আগের ডিজাইনে নয়। বর্তমান বাস্তবতার আঙ্গিকে ডিজাইন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইন করছেন। আপনারা পানামা খালের কথা শুনেছেন, পানামা খালের চেয়েও বড় কায়দায় স্বয়ং সম্পন্ন পদ্মা ব্যারাজ নির্মিত হবে।উপদেষ্টা বলেন, গঙ্গাচুক্তি একমাত্র গ্যারান্টি ক্রস প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান করেছিলেম। জাতিসংঘেও পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনিই তুলেছেন। বাংলাদেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বৈপল্পিক পরিকল্পনা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া করেছিলেন। তার ধারাবাহিকতায় উত্তরে তিস্তা ব্যারাজ পরিকল্পনা, পদ্মা ব্যারাজ পরিকল্পনাসহ একই কায়দার মহাপরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রী করছেন। বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলো মিটার খাল খনন করা হয়েছে। বাংলাদেশের পানি, প্রাণ, প্রকৃতি সব কিছুই নিয়ে পরিকল্পনা করে কাজ করছেন। পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বড় রকমের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমরা ফ্যাসিস্ট আমলে জনগণের তেমান কোন কাজ দেখিনাই। বাংলাদেশে ম্যাগা প্রজেক্ট হয়েছে, গিগা দুর্নীতি হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য আপনারা আবার একটা সুযোগ আপনারা করে দিয়েছে। সবার আগে বাংলাদেশ। অর্থাৎ সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ। তিনি বলেন, আজকের যে গ্যাস, বিদ্যুৎ সমস্যা হয়েছে। তিনি কিন্তু আপনাদের সাথে ব্যাথিত হয়েছেন। আজকে সারাদেশে একটা বড় সমস্যা অর্থাৎ বেকার সমস্যা। সারা বাংলাদেশে অবহেলিত অঞ্চলের জন্য তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। আজকে আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা বলছি, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে, হাওর অঞ্চলের উন্নয়নের কথা ভাবছি। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার আমল পরিবর্তনের জন্য জানুয়ারী মাসে দেখবেন একটা বড় রকমের পরিবর্তন দেখতে পারবেন। যার মাধ্যমে কর্মসংস্থান যোগ্য শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হবে।

রাজবাড়ীতে নারী উদ্যোক্তাকে মারধরে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী শহরের প্রধান কাপড় বাজারে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানার বিরোধকে কেন্দ্র করে পুলিশের সামনে তাঁকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং বন্ধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ব্যানার হাতে নারী কর্মীদের নিয়ে দাঁড়িয়ে জাকিয়া সুলতানা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।এর আগে ৩১ আগস্ট রাতে রাজবাড়ী সদর থানায় জাকিয়া সুলতানা বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ ওইদিন মধ্যরাতে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পরদিন ১ সেপ্টেম্বর সকালে আদালতে পাঠায়। আসামীরা ওইদিন বিকেলেই জামিনে বের হয়ে আসেন। এ ঘটনায় জাকিয়া সুলতানা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।  জাকিয়া সুলতানা বলেন, আমি একজন নারী উদ্যোক্তা। ২০০৫ সাল থেকে সততার সাথে ব্যবসা করছি। নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অসহায় অসংখ্য নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। ‘আস্থা’ নামক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শাখা ও কারখানায় প্রায় চার হাজার কর্মী কাজ করেন। কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে জয়ীতা পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছি। ২০১২ সাল থেকে রাজবাড়ী কাপড় বাজারে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। আমার থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেক নারী কাপড় বাজারে কাজ করছেন। কিন্তু ২৯ আগষ্ট কাপড় বাজারে অনাকাঙ্খিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে করে আমার ওপর অন্যায় ও নির্যাতন চালানো হয়েছে। আরও একটি কষ্টের বিষয় ওইদিন থেকে এখন পর্যন্ত আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি অন্যায়ভাবে বন্ধ করে রাখা হয়েছে।জাকিয়া সুলতানা বলেন, আমার দোকানের সাবেক কর্মচারী শাহনাজ পারভীন বৃষ্টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও বানোয়াট গল্প বানিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় একজন নারী উদ্যোক্তার সম্মান ক্ষুণœ করেছে, প্রকাশ্যে মানহানি করেছে। তার বিুরদ্ধে তদন্তপূর্বক সঠিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। রাজবাড়ী বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির দায়িত্বে যারা ছিলেন, তাঁদের উপস্থিতিতে ও প্রত্যক্ষ ইন্ধনে কীভাবে একজন নারী উদ্যোক্তার গায়ে হাত তোলার মতো জঘন্য সাহস করা হলো? যে বা যারা শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে এবং এর মদদ দিয়েছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।  এ সময় জাকিয়া সুলতানা ছাড়াও পান্না আক্তার, হাসিনা বেগম, আছিয়া খাতুন, শাহনাজ পারভীন, রিমি বেগম, শাবনুর বেগম, লিপি বেগম উপস্থিত ছিলেন।প্রসঙ্গত, ব্যবসায়ীক বিরোধের জেরে ২৩ আগষ্ট রাতে শহরের কাপড় বাজারে জাকিয়া সুলতানার ‘আস্থা পোশাক শিল্প’ নামক প্রতিষ্ঠানে সাবেক কর্মচারী শাহনাজ পারভীন বৃষ্টি কিছু বহিরাগত লোক নিয়ে তাঁর ওপর চড়াও হয়। প্রতিবাদে ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দের কাছে অভিযোগ করে বিচার না পেয়ে ২৯ আগষ্ট দুপুরে জাকিয়া সুলতানা তাঁর প্রতিষ্ঠানের নারী কর্মচারীদের নিয়ে কাপড় বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। এ সময় কিছু ব্যবসায়ী ও বহিরাগত পুলিশের উপস্থিতিতে তাঁকে লাঞ্ছিত করে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে আলোচনা ও সমালোচনার সৃস্টি হয়। 

রাজবাড়ীতে নারী উদ্যোক্তাকে মারধরে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি

রাজবাড়ীতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে নারীর মৃত্যু, লাশ গুমের চেষ্টার ঘটনায় যুবক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের তারে জড়িয়ে নবিরন বেগম (৫৫) নামের এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত এক রফিকুল ইসলাম মৃধাকে (৩৫) র‌্যাব-১০ এর সদস্যরা গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে ফরিদপুর শহরতলী থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত রফিকুল মৃধা গোয়ালন্দ উপজেলার চর দৌলতদিয়া আইনদ্দিন প্রামানিক পাড়ার জলিল মৃধার ছেলে।নিহত নবিরন বেগম গোয়ালন্দ উপজেলার চর দৌলতদিয়া আইনদ্দিন প্রামানিক পাড়ার আব্দুর রহিম শেখের স্ত্রী। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৯টার দিকে বাড়ির অদূরে প্রতিবেশী রফিকুল মৃধার আখখেত সংলগ্ন পুকুর পাড়ের গর্তের আবর্জনা দিয়ে ঢেকে রাখা হাত ও পা বাধা অবস্থায় তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে নিহত নবিরনের মেয়ে জুলেখা খাতুন বাদী হয়ে রফিকুল মৃধাকে এজাহার নামীয় এবং অজ্ঞাত দুই-তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন।  নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, বুধবার বিকেলে বাড়ির কাছে দরিদ্র কৃষাণী নবিরন বেগম অন্যের কাছ থেকে নেওয়া বর্গা জমির ধান খেত দেখতে যান। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলেও বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সবাই খোঁজ করতে থাকেন। খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে রাত ৯টার দিকে রফিকুল মৃধার আখখেত সংলগ্ন পুকুর পাড়ের গর্তের আবর্জনা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় ওই নারীর হাত ও পা বাধা অবস্থায় মৃতদেহ উদ্ধার করে এলাকাবাসী। অভিযোগ রয়েছে, রফিকুল মৃধা চুরি ঠেকাতে বাড়ি থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুতের তার দিয়ে আখখেতের চারপাশ ঘিরে রাখে। নবিরন বেগম বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা গেলে ঝামেলা এড়াতে অপরাধীরা স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহযোগিতায় প্রায় চার লাখ টাকায় বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। প্রথমে স্ট্রোক করে মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার চালায় এবং পুলিশে অনুরোধ করে লাশ দাফনের অনুমতি নেয়। কিন্তু পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল থেকে স্থানীয় লোকজন রফিকুল মৃধার আখখেতের বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে অভিযোগ করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে গোসল শেষে জানাজা হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশের সুরতহাল শেষে দ্রæত ময়না তদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠায়। ময়না তদন্ত শেষে দাফন সম্পন্নের পর অভিযুক্ত রফিকুল মৃধার বিরুদ্ধে নিহতের মেয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এদিকে র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের কমাণ্ডার ফারহান মাহমুদ মুক্তাদা শনিবার দুপুরে ফরিদপুর ক্যাম্পে সংবাদ সম্মেলনে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে ফরিদপুর শহরের কোতয়ালী থানার বেপারী পাড়া এলাকা থেকে রফিকুল মৃধাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

রাজবাড়ীতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে নারীর মৃত্যু, লাশ গুমের চেষ্টার ঘটনায় যুবক গ্রেপ্তার

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজবাড়ীতে ৪২ হাজার গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন অ্যাড. আসলাম মিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজবাড়ী জেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে মাসব্যাপী ৪২ হাজার বিভিন্ন গাছের চারা রোপণে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে জেলা বিএনপি। বুধবার ( ২ সেপ্টেম্বর) বিকেল পাঁচটায় রাজবাড়ী জেলা বিএনপির কার্যালয়ে বৃক্ষ রোপণের মধ্য দিয়ে দলীয় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি ও রাজবাড়ী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আসলাম মিয়া। বুক্ষ রোপনকালে কেন্দ্রীয় কৃষকদল নেতা আসলাম মিয়া বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা বিএনপির সহায়তায় রাজবাড়ী জেলার ৪২টি ইউনিয়নে মোট ৪২ হাজার বৃক্ষ রোপন করা হবে। দলের চেয়ারম্যান আমাদের সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নির্দেশে দেশব্যাপী সবুজয়ান করতে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি চলছে। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা মাসব্যাপী জেলার প্রত্যেক ইউনিয়নের এক হাজার করে বিভিন্ন ধরেনর গাছের চারা রোপন করবো। আনুষ্ঠানিকভাবে আজ থেকে আমরা কর্মসূচি শুরু করলাম। নেতাকর্মীদের সাথে করে আমাদের প্রাণের রাজবাড়ী জেলাকেও সবুজয়ান করে গড়ে তোলা হবে। এ উপলক্ষে রাজবাড়ী জেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে রেলস্টেশন সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করে। বৃক্ষ রোপন শেষে দলীয় কার্যালয় থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পৌর শহরের পান্না চত্বর হয়ে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।রাজবাড়ী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কামরুল আলম, জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক রেজাউল করিম সিকদার পিন্টু, রাজবাড়ী পৌর বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেদ পাভেল, গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. নিজাম উদ্দিন সেখ, সাধারণ সম্পাদক মোশারফ আহমেদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান লিখন, জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক আরিফুল ইসলাম রোমান সহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। শোভাযাত্রায় কয়েক হাজার নেতাকর্মীর পাশাপাশি নারীরাও অংশগ্রহণ করেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজবাড়ীতে ৪২ হাজার গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন অ্যাড. আসলাম মিয়া

সরকারকে এখন বিরাট চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে- রাজবাড়ীতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ সরকারকে এখন বিরাট চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। সরকার নতুন এসেছে, বিদ্যুতের সমস্যা, তেলের সমস্যা। এই সমস্যাগুলো কিন্তু বিএনপি এসে সৃষ্টি করেনি, এটা বিগত সরকারের সৃষ্ট সমস্যা। দীর্ঘদিন নানা অবস্থ্যাপনার কারনে বাংলাদেশের অর্থনীতি এই পর্যায়ে চলে এসেছে। এই অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা, দেশটাকে ঠিক করা সেটা দীর্ঘ আলোচনার বিষয়। সেটা আমাদের সামনে একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ। জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার বিকেলে রাজবাড়ী পৌরসভা মিলনায়তনে জেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠান ভেঙে গেছে। কোন একটা প্রতিষ্ঠান ঠিক নাই। আমাদের দেশে সরকার যেভাবে আগে চলেছে, প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান- সেটা আপনি আইন বলেন, কোটকাচারী বলেন, পুলিশ বলেন, কৃষি অফিস বলেন, যে কোন অফিস আদালত বলেন, যে কোন স্থানীয় সরকার বলেন। বিচার আইন, সমস্ত যা কিছু বাংলাদেশে আছে- সবকিছু গত সরকার নষ্ট করে গেছে। ফলে এটাকে ঠিক করে রাষ্ট্রকে মেরামত করা চাট্টিখানি কথা নয়। এটা বললেই হবে না যে, কাল সকাল বেলায় যেন সব চকচক করে। যে সমস্ত ঝামেলা ছিল, বাংলাদেশে আছে এগুলো কাল সকালবেলাই যেন ঠিক হয়ে যাবে, এটা মনে করার কোনো কারন নেই। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ঠিক করা এবং সমাজটাকে ঠিক করে একটা শান্তিপূর্ণ জায়গায় আনা সরকারের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ।প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে-বিদেশে আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে অনেক রকম ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য। আমাদের এই দেশ সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে এই দেশ নিয়ে দেশে-বিদেশে অনেক খেলা হয়। সুতরাং এটাকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে দেশে বিদেশে। আমাদের পাশের দেশে ভারতে বসে শেখ হাসিনা কি করছে। সুতরাং দেশে বিদেশে কিন্তু নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চললে। সেটাও কিন্তু সরকারকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আরেকটা বড় প্রবণতা দেখছেন, আমাদের দেশে উগ্র মৌলবাদের দেখা দিয়েছে। শেখ হাসিনা দেশে দীর্ঘদিন সেটাকে লালন পালন করেছেন। উগ্র মৌলবাদের একটা আষ্ফলান চারদিকে আমরা খেয়াল করছি। আমরা চাই হিন্দু, মসুলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সমস্ত জাতি গোষ্ঠির মানুষ এক সঙ্গে মিলেমিশে থাকবো। কিন্তু এখানে একটা বিভাজন তৈরী করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এলাকার বিষয়ও ভাবতে হচ্ছে। রাজবাড়ীর ইতিহাসে যে উন্নয়ন হয়নি তা হবে। বিগত ৫০ বছরে, বৃটিশ আমল থেকে ধরলে ১০০ বছরে যা হয়নি আগামী পাঁচ বছরে হবে। পদ্মা ব্যারেজ, পদ্মাসেতু, রাজবাড়ীতে রেলওয়ের বৃহত্তম ওয়ার্কশপ নির্মিত হচ্ছে। এসব হলে রাজবাড়ী জেলার চেহারাই পাল্টে যাবে। বহু দুষ্ঠলোক থাকে ভালো কাজকে নষ্ট করার। আমাদের সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বলতে পারি, আপনারা যদি আমার পাশে থাকেন ইনশাআল্লাহ হবে। নিজেদের মধ্যে রাগ ঘোষা ঠেলাঠেলি বাদ গিয়ে একত্রে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে।  রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নঈম আনসারীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবীব, যুগ্ম আহ্বায়ক আকমল হোসেন, জেলা বিএনপির সদস্য ও সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কে এ সবুর শাহিন, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এহসানুল করিম হিটু চৌধুরী, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খায়রুল আনাম বকুল, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আয়বুর রহমান আয়ুব প্রমূখ।

সরকারকে এখন বিরাট চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে- রাজবাড়ীতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

 খেলা খেলা

সকল জেলার খবর

 সাহিত্য সাহিত্য

লাইফ স্টাইল

আর্কাইভ

কৃষকের জানালা

বর্তমান সরকার টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার পুরো পরিকল্পনা করেছে -রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

বর্তমান সরকার টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার পুরো পরিকল্পনা করেছে -রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, বর্তমান সরকার টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার পুরো পরিকল্পনা যেমন করেছে, একই সঙ্গে সেই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে বলেই আমরা আশা করছি কিছু দিনের মধ্যে আমরা স্বস্তি পাবো। গ্রীষ্মকালে পুরোটাই স্বস্তি পাবো এবং আমাদের ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির জন্যে যে জ্বালানি কাঠামো দরকার, সেটাও নিশ্চিত করা হবে। রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের নিজ বাসভবনে অবস্থানকালে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে শুক্রবার দুপুরে অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা পদ্মা ব্যারাজের প্রস্তাবিত স্থান উপজেলার হাবাসপুর এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন-অর রশিদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি আসলাম মিয়া, জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে হাবাসপুর কে রাজ উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনসভা শেষে কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিদর্শন করেন। কুষ্টিয়া থেকে ফিরে সন্ধ্যায় নিজ বাসভবনে অবস্থান করেন। রাতে বাসভবনে অবস্থানকালে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাথে মতবিনিময়কালে উপদেষ্টা সৌর বিদ্যুৎ নিয়ে বলেন, সৌর বিদ্যুৎ আমরা যে কোন গ্রাহক থেকে উৎপাদন করতে পারি। কিন্তু অতিতের সরকার, পতিত সরকার যেহেতু আমদানী নির্ভরতা চেয়েছে, যেহেতু তার গোষ্ঠীর স্বার্থ নিশ্চিত করতে চেয়েছে। অলিগারকির শাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চেয়েছে, সেই জন্য কোনো উদ্যোগ নেয়নি। যাতে করে সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে যে সমস্ত উপকরণ লাগে, ইতিমধ্যেই সেই উপকরণগুলোর ক্ষেত্রে শুল্কো ব্যবস্থায় বড় রকমের পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে। একই সঙ্গে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে করে দেশের মধ্যেও সৌরবিদ্যুতের জন্যে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো তারা উৎপাদন করতে পারে। পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের মৌলিক সমস্যা পানির ক্ষেত্রে, অনেক সময় অনেক বেশি পানি থাকে, আবার কিছুদিন কোনো পানি থাকে না। অর্থাৎ টু মাস ওয়াটার, টু লিটেল ওয়াটার। যার কারনে আমাদের উৎপাদন কৃষি, প্রকৃতি, পরিবেশ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। আমাদের যেহেতু গঙ্গা, ব্রম্ম্রপুত্র, মেঘনা অববাহিকার ভাটির দেশ। উজানের পানির হিস্যা দরকার। এরকম পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের পানি সম্পদের মৌলিক পরিকল্পনা দরকার। নিশ্চিত করা দরকার কৃষক, প্রকৃতি, মৎস্যসহ সকল সম্পদ যাতে থাকে। সে কারনে দরকার নদীতে সঠিক পরিমান পানি থাকা এবং নদী থেকে যে শাখা নদী বা খাল আছে সেখানেও পানি থাকা দরকার। যাতে কৃষি উৎপাদন হোক, মৎস্য উৎপাদন হোক বা প্রকৃতির ভারসাম্যই হোক তা বজায় থাকা দরকার। এ জন্যই বর্তমান সরকার নির্বাচনে ইশতেহারে সার্বিক, সামগ্রিক, দেশব্যাপী পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক পানি থেকে ন্যায্য হিস্যার কথা বলেছে। তারই পদক্ষেপ হিসেবে পদ্মা ব্যারাজ একনেক অনুমোদন করেছে। 

আইন-কানুন

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন

মঈনুল হক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মোছা. আফরোজা পারভীন। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে তিনি গোয়ালন্দ ঘাট থানায় পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করেন। এ সময় তাঁকে গার্ড অব অনার সম্মান করা হয়।শেষে উপজেলায় পৌঁছলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদা, জেলা প্রশাসক মোছা. আফরোজা পারভীনকে ফুল ও বৃক্ষ দিয়ে স্বাগত জানান।পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক গোয়ালন্দ ঘাট থানা, ভূমি অফিস, গোয়ালন্দ বাজারের নির্মাণাধীন পৌর মার্কেট, দৌলতদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস, পৌরসভা সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও বিভিন্ন স্কুলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যক্রম, সেবার মান, চলমান উন্নয়নকাজ এবং বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। যেসব ক্ষেত্রে সমস্যা বা জটিলতা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে সরকারি সেবা সাধারণ মানুষের কাছে সহজে ও দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।এ সময় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ছিলেন, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদা, উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান, গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সফিকুল ইসলাম সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী। জেলা প্রশাসকের পরিদর্শনে উপজেলার সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম আরও গতিশীল এবং জনসেবামুখী হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

৩ ঘন্টা আগে

 বিনোদন বিনোদন

মনসুর উল করিম বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনের উজ্জল নক্ষত্র - সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

মনসুর উল করিম বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনের উজ্জল নক্ষত্র - সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

সুমন বিশ্বাস, রাজবাড়ীঃ একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিমের ৭৬ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজবাড়ীতে নানা আয়োজনে স্মরণ করা হয়েছে এই গুণী শিল্পীকে। শনিবার রাজবাড়ী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মনসুর উল করিম স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং কেক কাটার মধ্য দিয়ে জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, "মনসুর উল করিম শুধু রাজবাড়ীর নন, তিনি বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। রাজবাড়ীর মাটিতে তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। তাঁর সৃষ্টিকর্ম আজও শিল্পপ্রেমীদের অনুপ্রাণিত করে। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর শিল্পকর্ম ও জীবনাদর্শ তুলে ধরতে আমাদের আরও উদ্যোগী হতে হবে।"প্রতিমন্ত্রী বলেন, "রাজবাড়ীর সাংস্কৃতিক বিকাশে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জেলার শিল্প-সংস্কৃতির প্রসারে একটি আধুনিক কালচারাল কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই এর নির্মাণকাজ শুরু হবে। এছাড়া রাজবাড়ীর অ্যাক্রোবেটিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে আরও আধুনিক ও কার্যকরভাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি ভবিষ্যতে জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।" মনসুর উল করিম স্মৃতি পরিষদের আহ্বায়ক কবি খোকন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল, চিত্রশিল্পী মনসুর করিম স্মৃতি সংসদের সদস্য সচিব আজিজা খানম, উপদেষ্টা চৌধুরী আহসানুল করিম হিটু, নূরুল হক আলম, জেলা কালচারাল অফিসার সুজিত কুমার সাহা, মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি সংসদের আহ্বায়ক কবি সালাম তাসির, রাজবাড়ী বাংলা একাডেমির সভাপতি সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমানসহ চিত্রশিল্পী মনসুর করিম স্মৃতি সংসদের অন্যান্য সদস্য, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।আলোচনা সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিম তাঁর সৃষ্টিশীলতা, নান্দনিক চিন্তা ও শিল্পকর্মের মাধ্যমে দেশের শিল্পাঙ্গনে অনন্য অবদান রেখে গেছেন। তাঁর স্মৃতি ও কর্ম নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।পরে অতিথিরা কেক কেটে মনসুর উল করিমের ৭৬ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করেন। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।উল্লেখ্য, চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিম ১৯৫০ সালের ১৪ জুলাই রাজবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ শিল্পজীবনে তিনি দেশ-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করেন এবং শিল্পকলায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে একুশে পদকে ভূষিত হন। ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর শিল্পকর্ম আজও বাংলাদেশের চারুকলার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।

রাজবাড়ীতে উদীচীর গান, নৃত্য ও ফলাহারে বর্ষা উৎসব অনুষ্ঠিত

রাজবাড়ীতে উদীচীর গান, নৃত্য ও ফলাহারে বর্ষা উৎসব অনুষ্ঠিত

আব্দুল হালিম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে গান, নৃত্য ও ফলাহারের মধ্য দিয়ে উদীচীতে বর্ষা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী রাজবাড়ী জেলা কমিটির উদ্যোগে শহরের আজাদী ময়দান সংলগ্ন সংগঠনের মিলনায়তনে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়।আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা উদীচীর সহসভাপতি আজিজুল হাসান খোকা। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা উদীচীর সংগীত বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল জব্বার। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উদীচী কেন্দ্রীয় কমিটির সংগীত বিষয়ক সম্পাদক সুরাইয়া পারভীন, সদস্য শিখা কর্মকার। এতে স্মৃতিচারণ মূলক বক্তব্য দেন জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কমরেড আব্দুস সামাদ মিয়া, রাজবাড়ী নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফকীর শাহাদত হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা চিত্রশিল্পী মো. গোলাম আলী, রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক এম দেলোয়ার হোসেন, রাজবাড়ী বৈচিত্র্য সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি আজাদ সিদ্দিকী মিলন, জেলা উদীচীর সাংগঠনিক সম্পাদক ধীরেন্দ্র নাথ দাস প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক এজাজ আহম্মেদ।  বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ছয়টি ঋতুর মধ্যে বর্ষা ঋতু হলো মধুর ঋতু। এই ঋতু শুরু হলে প্রকৃতি হাঁসে। প্রকৃতি জীবন্ত হয়ে ওঠে। চারপাশ সবুজে ভরে যায়। প্রবীণ তার কৈশোরে ফিরে যায়। তবে মানুষ আজ প্রকৃতি ধ্বংস করে ফেলছে। নিয়মিত বনায়ন ধ্বংস করা হচ্ছে। একারণে বর্ষার প্রকৃত রূপ এখন আর দেখা যায় না। বর্ষাকে বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের বেশি বেশি গাছ রোপণ করতে হবে। প্রকৃতি সুন্দর হলে এই পৃথিবী আরও সুন্দর হবে।অনুষ্ঠানে উদীচী ও রাবেয়া কাদের স্মৃতি পাঠাগারের শিল্পীরা সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা করেন

গোয়ালন্দে নজরুল বর্ষের শুভ উদ্বোধন

মঈনুল হক, গোয়ালন্দ রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে ঘোষিত নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭ এর শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানের শুরুতে ভার্চ্যুয়ালি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ টেলিকাস্ট) উপভোগ করেন উপস্থিত অতিথি ও দর্শকরা। পরে স্থানীয়ভাবে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাসের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি (তদন্ত) মো. রাশিদুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার দাস, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু মোল্লা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবলু, নাজিরুল ইসলাম তিতাস, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মোল্লা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আবু সাঈদ মণ্ডল সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।উপজেলা প্রশাসন জানায়, তিন দিনব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে প্রথম দিনে আলোচনা সভা, উদ্ভোধনী সংগীত (চল চল), সমবেত সংগীত, সমবেত নৃত্য, আবৃত্তি, একক সংগীত ও নৃত্য, দ্বিতীয় দিনে নজরুলের উপর রচনা, আবৃত্তি, নজরুল সংগীত ও নৃত্য প্রতিযোগিতা, তৃতীয় দিনে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে লালন, দেশত্ববোধক, ভাটিয়ালি সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনা সভায় বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর জীবন, সাহিত্যকর্ম, দেশপ্রেম, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, বিদ্রোহ, সাম্য ও মানবতার কবি নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত আজও বাঙালির স্বাধীনতার চেতনা, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মূল্যবোধের অন্যতম প্রেরণার উৎস। নতুন প্রজন্মের মাঝে নজরুলের আদর্শ, সাহিত্য ও সংগীত ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা মন্তব্য করেন।আলোচনা সভা শেষে নজরুল সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, দর্শন ও সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।

গোয়ালন্দে নজরুল বর্ষের শুভ উদ্বোধন

রাজবাড়ীতে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে দেশব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’-এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি দেশের ৬৪ জেলা এবং নির্বাচিত ৭৪টি উপজেলায় একযোগে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’-এর স্মারক ও ডাক টিকিট অবমুক্ত, লোগো উন্মোচন ও নজরুল বর্ষের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে রাজবাড়ীতেও শুরু হলো ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭-এর কর্মসূচি। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে বছরব্যাপী নানা সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক আয়োজনের মাধ্যমে এ বর্ষ উদযাপন করা হবে।সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি বক্তব্য রাখেন।বিশেষ অতিথি হিসেবে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি; তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডাঃ জাহেদ উর রহমান ও মন্ত্রী পরিষদের সচিব ডঃ নাসিমুল গনি বক্তব্য।এদিকে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মিয়া, সিভিল সার্জন ডাঃ এস এম মাসুদ, স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক কল্যাণ চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ তারিফ-উল-হাসান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ্যাডঃ লিয়াকত আলী বাবু, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবীব, রাজবাড়ী সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজে অধ্যক্ষ প্রফেসর রেজভি জামান, রাজবাড়ী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর মোস্তফা কামাল সহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিসহ সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বছরব্যাপী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।উল্লেখ্য, গত ২৫ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে এ বছরের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত এক বছর নজরুল বর্ষ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।

রাজবাড়ীতে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরান দলকে সমর্থন

সোহাগ মিয়া, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের হামিদ মৃধার হাট এলাকায় ব্যতিক্রমী ঘটনার জন্ম দিয়েছেন আলাল মোল্লা নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে সে এলাকায় আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের ঘোর সমর্থক হিসেবে পরিচিত থাকলেও এবার তিনি প্রকাশ্যে দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরান ফুটবল দলের সমর্থক হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এমন ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাত ৯টার দিকে হামিদ মৃধার হাট বাজারে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে আলাল মোল্লা তাঁর কর্মী সমর্থকদের জড়ো হন। এ সময় তিনি দুধ দিয়ে গোসল করে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নতুন ইসলামী রাষ্ট্র ইরানের পক্ষে অবস্থানের কথা ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণার পর মুহূর্তেই তাঁর কর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তোলে। একই সাথে বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। বাজারে উপস্থিত অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেন, আবার কেউ কেউ বিষয়টিকে ব্যক্তিগত পছন্দ ও মতামতের স্বাধীনতা হিসেবেও দেখেন।আলাল মোল্লা বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক ছিলাম। তবে ব্যক্তিগত চিন্তা-ভাবনা ও ধর্মীয় অনুভূতি থেকে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আজ থেকে আমি ইরান দলকে সমর্থন করব। আমি আর কখনো আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেব না। এজন্য দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরান ফুটবল দলের সমর্থক হয়েছি।তার এই ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয় যুবকদের মধ্যে কেউ বিষয়টিকে মজার ঘটনা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে একজন সমর্থকের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন।স্থানীয় হামিদ মৃধা হাট এরাকার আক্কাস সরদার, আব্বাস মোল্লা, জামাল হোসেন, হারুন ব্যাপারী সহ অনেকে জানান, সাধারণত ফুটবল দল পরিবর্তনের ঘটনা নতুন নয়। তবে প্রকাশ্যে দুধ দিয়ে গোসল করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে এক দলের সমর্থন ছেড়ে অন্য দলের প্রতি সমর্থন জানানোর ঘটনা এলাকায় খুব একটা দেখা যায় না। ফলে আলাল মোল্লার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।এ বিষয়ে স্থানীয় নুরুল ইসলাম, আহম্মদ আলী শেখ সহ অনেকের ভাষ্য, খেলাধুলা মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। যে কেউ নিজের পছন্দ অনুযায়ী যে কোনো দলকে সমর্থন করতে পারেন। আলাল মোল্লার এই ঘোষণাও তার ব্যক্তিগত মতামত ও পছন্দেরই বহিঃপ্রকাশ।ব্যতিক্রমী এই দলবদলের ঘটনা এখন গোয়ালন্দের হামিদ মৃধার হাট সহ আশপাশের এলাকায় আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।

দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরান দলকে সমর্থন

গোয়ালন্দের তিন সংগ্রামী নারী পেলেন স্বপ্নকুঁড়ির সেরা পুত্রবধূ সম্মাননা স্মারক

মাঈনুল হক, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ীঃ “নারীর সম্মান, সমাজের উন্নয়ন”এ স্লোগানে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের সংগঠন স্বপ্ন কুঁড়ি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে “শ্রেষ্ঠ পুত্রবধূ সম্মাননা স্মারক-২০২৬” প্রদান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভিন্নধর্মী এ অনুষ্ঠানে তিনজন সংগ্রামী নারীকে শ্রেষ্ঠ তিন পুত্রবধূকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। ব্যাতিক্রমধর্মী এমন আয়োজনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত এবং আমন্ত্রিত অতিথিগন সবাই মুগ্ধ হন। সোমবার (৮ জুন) বেলা ১১টায় গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ভিন্নধর্মী এ আয়োজনে অনুষ্ঠানে সমাজে পারিবারিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। “স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন দেখাই”স্লোগানধারী সংগঠন আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান।অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, গোয়ালন্দ রাবেয়া ইদ্রিস মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল কাদের শেখ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম, গোয়ালন্দ সরকারি কামরুল ইসলাম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও সংগঠনটির উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুহিত হিরা, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সালমা বেগম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার দাস, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. হাফিজুল হক, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ও স্বপ্ন কুঁড়ি সামাজিক সংগঠনের উপদেষ্টা সানোয়ার আহমেদ সহ সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মণ্ডল, সদস্য নাহিদুল ইসলাম, নাজমুল ইসলাম, আকিব সরদার, ফাহিম আশরাফ হিমেলম সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।গোয়ালন্দ উপজেলার ৪৭ জন সংগ্রামী নারীর মধ্যে সম্মাননা প্রাপ্ত তিন নারী হলেন, গোয়ালন্দ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড গোয়ালন্দ বাজার রেলওয়ে ষ্টেশন এলাকার বাসিন্দা প্রয়াত ছাত্তার শেখ এর স্ত্রী মোছাঃ সহিতুন নেছা, গোয়ালন্দ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বীপেন রায় পাড়ার প্রয়াত ইকবাল হোসেন বাবলুর স্ত্রী নাসিমা আখতার ডলি ও পৌরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ড বদিউজ্জামান বেপারী পাড়ার মো. সেলিম মিয়ার স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম।বক্তারা বলেন, একটি পরিবার ও সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে এবং শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি সম্মান, দায়িত্ববোধ ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। এ ধরনের আয়োজন সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।অনুষ্ঠানে উপস্থিত নারীদের উদ্দেশ্যে পারিবারিক সম্পর্ক উন্নয়ন, বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং সামাজিক মূল্যবোধ চর্চার বিষয়ে বিভিন্ন দিক নির্দেশনামূলক আলোচনা করা হয়। পরে নির্বাচিত তিন জন নারীর মাঝে “শ্রেষ্ঠ পুত্রবধূ সম্মাননা স্মারক-২০২৬”হিসেবে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।আয়োজকরা জানান, সমাজে ইতিবাচক মূল্যবোধ ও পারিবারিক সম্প্রীতি জোরদারের লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

গোয়ালন্দের তিন সংগ্রামী নারী পেলেন স্বপ্নকুঁড়ির সেরা পুত্রবধূ সম্মাননা স্মারক

 মতামত মতামত

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন

মঈনুল হক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মোছা. আফরোজা পারভীন। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে তিনি গোয়ালন্দ ঘাট থানায় পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করেন। এ সময় তাঁকে গার্ড অব অনার সম্মান করা হয়।শেষে উপজেলায় পৌঁছলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদা, জেলা প্রশাসক মোছা. আফরোজা পারভীনকে ফুল ও বৃক্ষ দিয়ে স্বাগত জানান।পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক গোয়ালন্দ ঘাট থানা, ভূমি অফিস, গোয়ালন্দ বাজারের নির্মাণাধীন পৌর মার্কেট, দৌলতদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস, পৌরসভা সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও বিভিন্ন স্কুলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যক্রম, সেবার মান, চলমান উন্নয়নকাজ এবং বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। যেসব ক্ষেত্রে সমস্যা বা জটিলতা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে সরকারি সেবা সাধারণ মানুষের কাছে সহজে ও দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।এ সময় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ছিলেন, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদা, উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান, গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সফিকুল ইসলাম সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী। জেলা প্রশাসকের পরিদর্শনে উপজেলার সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম আরও গতিশীল এবং জনসেবামুখী হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

৩ ঘন্টা আগে

 স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

গোয়ালন্দের স্বজ্জন ব্যাক্তি কোবাদ হোসেনের দাফন সম্পন্ন

গোয়ালন্দের স্বজ্জন ব্যাক্তি কোবাদ হোসেনের দাফন সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের দুদুখান পাড়ার বাসিন্দা, উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত ডাক্তার মহোসিন মিয়ার একমাত্র পুত্র মো. কোবাদ হোসেন (৭৬) ওরফে কোবাদ ডাক্তার বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ফরিদপুর ডায়াবেটিকস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি লিভার, কিডনি, হার্টসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। ডাক্তার কোবাদ হোসেন দীর্ঘদিন রাজবাড়ী পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির গোয়ালন্দের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি উজানচর জামতলা বাজারে গ্রামাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দিতেন। এছাড়া তিনি উজানচর জামতলা হাই স্কুল ও দুদুখানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিন পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জামতলা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হিসেবেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। তিনি গোয়ালন্দের একজন আলোকিত এবং স্বজ্জন মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর জানাজা নামাজে গোয়ালন্দ সহ রাজবাড়ী এবং ফরিদপুর অঞ্চলের অসংখ্য মানুষ অংশ গ্রহণ করেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বাদ জুম্মা উজানচর দুদুখান পাড়া জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা মাঠে প্রথম এবং পাশ্ববর্তী জামতলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাজা নামাজ শেষে তাকে চেয়ারম্যান বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, তিন মেয়ে সহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে যান। তাঁর বড় ছেলে সোয়েব ওরফে সবুজ হাসান দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান আকিজ গ্রুপের একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কোবাদ হোসেন, দুদুখানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক, প্রথম আলো গোয়ালন্দ বন্ধুসভার সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসরিন আক্তার ইতির স্বামী। তাঁর মৃত্যুতে গোয়ালন্দ ও রাজবাড়ী বন্ধুসভা গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলার ৯দিন পর হাসপাতালে যৌনকর্মীর মৃত্যু

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলার ৯দিন পর হাসপাতালে যৌনকর্মীর মৃত্যু

মঈনুল হক, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ইউনিয়নের পূর্বপাড়ায় (যৌনপল্লি) দুর্বৃত্তদের হামলার ৯ দিন পর যৌনকর্মী সোনিয়া আক্তারের (৩০) মৃত্যু হয়েছে। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউতে) চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে মারা যান। ময়না তদন্ত শেষে মঙ্গলবার তাঁর লাশ গ্রামের বাড়ি বরিশাল নেয়া হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম।  এর আগে ২৯ আগষ্ট ভোর চারটার দিকে দৌলতদিয়া যৌনপল্লির তোফাজ্জল হোসেন তপুর বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে রক্তাত্ব অবস্থায় সোনিয়াকে উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। হামলার ঘটনায় রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বাড়ি মালিক তোফাজ্জল হোসেন তপু বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের অভিযুক্ত করে একটি মামলা করেন। তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ২৯ আগষ্ট ভোর পাঁচটার দিকে যৌনপল্লির বাড়ির আরেক ভাড়াটিয়া আইরিন (২৬) তাঁকে ফোন করে জানান, ভোররাত সাড়ে তিনটা থেকে চারটার দিকে দ্বিতীয় তলা থেকে অনেক শব্দ হয়। বাড়ির কেয়ারটেকার মঞ্জু শেখকে সঙ্গে নিয়ে আইরিন দ্বিতীয় তলার সোনিয়ার কক্ষ খোলা দেখতে পেয়ে ভিতরে প্রবেশ করে মেঝতে রক্তাত্ব অচেতন অবস্থায় সোনিয়াকে পড়ে থাকেত দেখেন। তাৎক্ষনিকভাবে বিষয়টি অবগত করে তারা সোনিয়াকে দ্রæত গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে আমিও হাসপাতালে যাই। এ সময় সোনিয়ার মাথায় ধারালো অস্ত্র ও শক্ত কোন বস্তু দিয়ে আঘাতের কাটা স্থান দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ দেখতে পান। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চিকিৎসক দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসায় বিলম্ব হওয়ায় ধানমণ্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মাথায় অস্ত্রপচার শেষে আইসিইউতে ভর্তি রাখা হয়। পরবর্তীতে টানা ৯দিন চিকিৎসা শেষে সোনিয়া সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে মারা যান।  তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সোনিয়া সব সময় গলায় ও কানে স্বর্ণালংকার পড়তেন। ধারণা, স্বর্ণালংকার লুট করতেই হত্যার উদ্দেশ্যে জখম করেছে। অন্য কোনো কারনও থাকতে পারে। এ ছাড়া সোনিয়ার ঘর থেকে আরও কিছু খোয়া গেছে কি না এখনও জানতে পারিনি। সোনিয়ার বরিশালের হিজলা থানার গ্রামের বাড়ি থেকে পরিবারের লোকজন সাথে আছেন। তারা অতিশয় দরিদ্র পরিবার হওয়ায় সোনিয়ার চিকিৎসার ব্যায় ভারও বহন করতে পারিনি। সোনিয়ার ভাই আরিফ হোসেন বলেন, এতদিন জানতাম আমার বোন ঢাকায় চাকরি করেন। আমাদের পরিবার অনেকটাই বোনের আয়ের ওপর নির্ভর করতো। আমি আমার বোনের হত্যার বিচার চাই। পুলিশ অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে। মঙ্গলবার ময়না তদন্ত শেষে লাশ গ্রামের বাড়ি নেয়া হবে।  গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম বলেন, সোনিয়া হত্যায় স্বর্ণলংকার লুটই মূখ্য কারণ নয়, অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। আমরা সব বিষয় মাথায় নিয়ে তদন্ত কাজ অব্যাহত রেখেছি। মাথায় পাঁচ থেকে ছয়টি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহৃ রয়েছে। সোনিয়ার লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে লাশ গ্রামের বাড়ি নেয়া হবে। অপরাধীদের ধরতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।

রাজবাড়ীতে দিনব্যাপী আবৃত্তি ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

রবিউল ইসলাম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে আবৃত্তি ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ফরিদপুর মনোজগৎ সেন্টার ও রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস এর সহযোগিতায় শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কর্মশালার আয়োজন করে বেসকারি স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠন ঢাকার তূর্যশিকড় ও রাজবাড়ী সুহৃদ সমাবেশ।  উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ী সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ রেজভী জামান। মূখ্য আলোচক ছিলেন শিশু, কিশোর ও পরিবার মনোরোগবিদ্যা বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, রাজবাড়ী একাডেমির সভাপতি সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান, সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আজিজা খানম, রাজবাড়ী আবৃত্তি পরিষদের সভাপতি নুরুল হক আলম, রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস এর সিনিয়র জোনাল ম্যানেজার একেএম মিজানুর রহমান, রাবেয়া কাদের স্মৃতি পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা নজরুল ইসলাম, রাজবাড়ী সুহৃদ সমাবেশের সাধারণ সম্পাদক মানিক হোসেন প্রমূখ। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সভাপতিত্ব করেন রাজবাড়ী সুহৃদ সমাবেশের উপদেষ্টা কমল কান্তি সরকার এবং দ্বিতীয় পর্বে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সহসভাপতি ডা. রাজীব দে সরকার। দিনব্যাপী কর্মশালায় রাজবাড়ীর সাতটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী আবৃত্তি চর্চার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য, মানিসক চাপ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং সুস্থ্য মানসিক বিকাশের নানা দিক সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন। মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মশালা পরিচালনা করেন শিশু, কিশোর ও পরিবার মনোরোগবিদ্যা বিশেষজ্ঞ প্রফেসার ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. মেজবাউল খান ফরহাদ। তাঁরা অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন এবং মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরেন। শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশ, পারিবারিক পরিবেশের প্রভাব, শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক চাপ মোকাবিলা, আবেগ ও আচরণগত পরিবর্তন এবং প্রয়োজনের সময় মানসিক সহায়তা নেওয়ার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। আবৃত্তি কর্মশালায় কবিতা নির্বাচন, উচ্চারণের শুদ্ধতা, বাচনভঙ্গি, স্বরক্ষেপণ, ছন্দ, আবেগ ও অভিব্যক্তির যথাযথ প্রয়োগ নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কবিতার বক্তব্য ও অনুভূতি শ্রোতার কাছে সাবলীল ও প্রাণবন্তভাবে তুলে ধরার কৌশলও শেখানো হয়। আবৃত্তি কর্মশালা পরিচালনা করেন আবৃত্তিশিল্পী সুমনা শিল্পী। প্রশিক্ষাণার্থীরা বিভিন্ন কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে হাতে-কলমে অনুশীলনে অংশ নেন। আয়োজকরা বলেন, আবৃত্তি শুধু সাংস্কৃতিক চর্চাই নয়, এটি আত্মবিশ্বাস, মনোযোগ, প্রকাশভঙ্গি ও সৃজনশীলতা বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা তৈরি হলে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী মানুষের জীবনযাপন আরও ইতিবাচক ও ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারে। এ দুটি বিষয়কে একই কর্মশালায় যুক্ত করার উদ্দেশ্য ছিল সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে মানসিক সুস্থতার গুরুত্ব তুলে ধরা। পরে কর্মশালায় অংশ নেওয়া প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।

রাজবাড়ীতে দিনব্যাপী আবৃত্তি ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

রাজবাড়ীর পাংশায় শিশু সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় মায়ের মৃত্যু

হেলাল মাহমুদ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর পাংশায় একমাত্র শিশু সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় মনিরা খাতুন (২৫) নামে এক গৃহবধুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর তিন বছর বয়সী ছেলে ইভান গুরুতর আহত হয়েছে।শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে জেলার পাংশা উপজেলার মাছপাড়া রেলগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মনিরা খাতুন মাছপাড়া ইউনিয়নের কানুখালী গ্রামের আজম প্রামাণিকের স্ত্রী।রাজবাড়ী রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গৃহবধু মনিরা খাতুনের ছেলে ইভান বাড়ির পাশের রেললাইনের ওপর ছাতা হাতে নিয়ে বসে ছিল। দূর থেকে দ্রুতগতির ট্রেন আসার শব্দ শুনে ছেলেকে বাঁচাতে মা মনিরা খাতুন ছুটে যান। এ সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস নামক ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন গৃহবধু। স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। কিন্তু পথিমধ্যেই ওই গৃহবধুর মর্মান্তিক হয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাজবাড়ী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, খবর পাওয়া মাত্র ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এ সময় তারা গৃহবধুকে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন এবং পথিমধ্যে মারা গেছেন বলে জানতে পারেন। গৃহবধুর তিন বছর বয়সী শিশু সন্তান ইভানের এক পা গুরুতর জখম হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রাজবাড়ীর পাংশায় শিশু সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় মায়ের মৃত্যু

রাজবাড়ীতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে নারীর মৃত্যু, লাশ গুমের চেষ্টার ঘটনায় যুবক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের তারে জড়িয়ে নবিরন বেগম (৫৫) নামের এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত এক রফিকুল ইসলাম মৃধাকে (৩৫) র‌্যাব-১০ এর সদস্যরা গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে ফরিদপুর শহরতলী থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত রফিকুল মৃধা গোয়ালন্দ উপজেলার চর দৌলতদিয়া আইনদ্দিন প্রামানিক পাড়ার জলিল মৃধার ছেলে।নিহত নবিরন বেগম গোয়ালন্দ উপজেলার চর দৌলতদিয়া আইনদ্দিন প্রামানিক পাড়ার আব্দুর রহিম শেখের স্ত্রী। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৯টার দিকে বাড়ির অদূরে প্রতিবেশী রফিকুল মৃধার আখখেত সংলগ্ন পুকুর পাড়ের গর্তের আবর্জনা দিয়ে ঢেকে রাখা হাত ও পা বাধা অবস্থায় তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে নিহত নবিরনের মেয়ে জুলেখা খাতুন বাদী হয়ে রফিকুল মৃধাকে এজাহার নামীয় এবং অজ্ঞাত দুই-তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন।  নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, বুধবার বিকেলে বাড়ির কাছে দরিদ্র কৃষাণী নবিরন বেগম অন্যের কাছ থেকে নেওয়া বর্গা জমির ধান খেত দেখতে যান। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলেও বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সবাই খোঁজ করতে থাকেন। খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে রাত ৯টার দিকে রফিকুল মৃধার আখখেত সংলগ্ন পুকুর পাড়ের গর্তের আবর্জনা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় ওই নারীর হাত ও পা বাধা অবস্থায় মৃতদেহ উদ্ধার করে এলাকাবাসী। অভিযোগ রয়েছে, রফিকুল মৃধা চুরি ঠেকাতে বাড়ি থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুতের তার দিয়ে আখখেতের চারপাশ ঘিরে রাখে। নবিরন বেগম বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা গেলে ঝামেলা এড়াতে অপরাধীরা স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহযোগিতায় প্রায় চার লাখ টাকায় বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। প্রথমে স্ট্রোক করে মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার চালায় এবং পুলিশে অনুরোধ করে লাশ দাফনের অনুমতি নেয়। কিন্তু পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল থেকে স্থানীয় লোকজন রফিকুল মৃধার আখখেতের বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে অভিযোগ করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে গোসল শেষে জানাজা হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশের সুরতহাল শেষে দ্রæত ময়না তদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠায়। ময়না তদন্ত শেষে দাফন সম্পন্নের পর অভিযুক্ত রফিকুল মৃধার বিরুদ্ধে নিহতের মেয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এদিকে র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের কমাণ্ডার ফারহান মাহমুদ মুক্তাদা শনিবার দুপুরে ফরিদপুর ক্যাম্পে সংবাদ সম্মেলনে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে ফরিদপুর শহরের কোতয়ালী থানার বেপারী পাড়া এলাকা থেকে রফিকুল মৃধাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

রাজবাড়ীতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে নারীর মৃত্যু, লাশ গুমের চেষ্টার ঘটনায় যুবক গ্রেপ্তার

রাজবাড়ী আখক্ষেতে পেতে রাখা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে নারীর মৃত্যু, পুতে ফেলতে ব্যার্থ হওয়ার পর ৪ লাখ টাকায় আপসের চেষ্টা

শামীম শেখ ও মঈনুল হক, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আখ ক্ষেতের চারপাশে পেতে রাখা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে নবীরন বেগম (৫৫) নামে এক নারীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য অপরাধীরা ক্ষেতের পাশেই গর্ত করে আংশিক পুঁতে ফেলে আখের পাতা দিয়ে ঢেকে দেয়। কিন্তু ঘটনা জানাজানির পর হতভাগ্য নারীর পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়। এ কাজে স্হানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা মধ্যস্থতা করে। থানার ওসির ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। বুধবার রাতে তিনি হাসপাতাল হতে লাশটি হেফাজতে নিয়েও সুপারিশের ভিত্তিতে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। সেইসাথে এটা ষ্ট্রোকজনিত মৃত্যু বলে বক্তব্য দেন। ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্হানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আইনদ্দিন প্রামাণিক পাড়ায় রফিকুল মৃধার পুকুরপাড় সংলগ্ন আখক্ষেতের পাশ থেকে নবীরন বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত নারী স্থানীয় দুলাল বেপারী পাড়ার আব্দুর রহিম শেখের স্ত্রী। বুধবার বিকেলের দিকে ওই নারী আখ খেতের পাশে নিজেদের ধানের জমিতে পরিচর্যা করতে সেখানে গিয়েছিলন। এদিকে এ মৃত্যু নিয়ে নিহত নারীর ভাই আবজাল শেখের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি বক্তব্য ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে তিনি দাবি করেন, এলাকার কয়েকজন বিএনপি নেতা ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা দিয়েছেন এবং তারা লাশের ময়নাতদন্ত চান না। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টার দিকে স্হানীয় মণ্ডল হ্যাচারীজ সংলগ্ন জামে মসজিদে মরহুমার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেলা ১ টার দিকে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যায়। সরজমিনে ঘটনাস্থলে দেখা যায়, রকিফুল মৃধার পুকুরপাড় ও আখক্ষেত সক্রিয় কারেন্টের তার দিয়ে ঘেরা। আখক্ষেতের ভেতরে মরদেহ উদ্ধারের স্থানে একটি গর্ত খোড়া হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, ওই গর্তে মরদেহটি পুঁতে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। নিহত নারীর দেবর আলতাফ শেখ জানান, অনেক খোঁজাখুজির পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে রফিকুল মৃধার আখক্ষেতের পাশ থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার ভাবি নবীরন বেগমকে উদ্ধার করে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। কিন্তু চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে থানা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে মরদেহ থানায় নিয়ে যায়। এরপর আমরা নেতাদের মাধ্যমে সুপারিশ করিয়ে রাতেই লাশ বাড়িতে নিয়ে যাই। আপস-রফার কথা পরে শুনেছি। কিন্তু আমি এর মধ্যে ছিলাম না। তাই ভালে করে কিছু বলতে পারব না। দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন বলেন, মরদেহ উদ্ধারের সময় তার পায়ে কাপড় প্যাঁচানো ছিল এবং শরীরের মাথার অংশটি মাটির নিচে পুঁতে আখের পাতা দিয়ে ডেকে রাখা ছিল। তার দাবি, পুকুরপাড় ও আখক্ষেতের পাশে থাকা বিদ্যুতের তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই তার মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনা ধামাচাপা দিতে ৪ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়েছে বলে শুনেছি। যা আমাদের দলের স্থানীয় কয়েকজন নেতার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। টাকা লেনদেনের বিষয়ে অভিযুক্তরা হলেন স্থানীয় বিএনপি নেতা আবু তালেব বেপারী,ইসমাইল বেপারী, ইউসুফ,আবু হানিফ, আবজাল শেখ, কৃষকদল নেতা তারা মিয়া সহ কয়েকজন। এর মধ্যে আবু তালেব ও আফজাল অভিযোগ স্বীকার করেছেন। নিহতের ছেলে রাসেল শেখ বলেন, আমার মা ধানক্ষেতে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন। অর্থ লেনদেন সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। অভিযুক্ত রফিকুল মৃধার বাড়ীতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায় নি। ঘর-বাড়ী তালাবদ্ধ। মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বন্ধ পাওয়া যায়। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম বলেন, প্রথমে পরিবার থেকে স্ট্রোকজনিত মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছিল। এ নিয়ে তাদের কোন ধরনের অভিযোগ নেই মর্মে লাশটি নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছিল। যে কারনে লাশটি স্বজনদেরকে দিয়ে দেয়া হয়। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার বিভিন্ন মাধ্যমে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি জানা গেলে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

রাজবাড়ী আখক্ষেতে পেতে রাখা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে নারীর মৃত্যু, পুতে ফেলতে ব্যার্থ হওয়ার পর ৪ লাখ টাকায় আপসের চেষ্টা