সুমন বিশ্বাস, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী শহরের প্রধান কাপড় বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানার বিরোধকে কেন্দ্র করে পুলিশের সামনে তাঁকে লাঞ্ছিতের ঘটনার তিনদিন পর মামলা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতে জাকিয়া সুলতানা বাদী হয়ে মামলাটি করেন। পুলিশ এ মামলা দায়েরের পর রাতেই তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ।গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন—রাজবাড়ী পৌরসভার ধূঞ্চি ১ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত জমজম খানের ছেলে আব্দুল্লাহ আল সিয়াম খান (১৯), একই ওয়ার্ডের ধুঞ্চি ২৮ কলোনি এলাকার মো. দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মো. রুবেল হোসেন (১৯) এবং পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ধূঞ্চি গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে মো. হেলাল উদ্দিন (৩৮)।পুলিশ জানায়, সোমবার (৩১ আগষ্ট) দিবাগত রাতে নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানা বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে মামলাটি করেন।মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, জাকিয়া সুলতানা রাজবাড়ী বড় বাজারের কাদেরিয়া সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় ‘আস্থা পোশাক শিল্প' নামের একটি পোশাকের প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানের শাহনাজ পারভীন বৃষ্টি নামের এক কর্মচারী চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর বেতন ও মালামালের হিসাব নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়।এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ২৩ আগস্ট রাতে ওই কর্মচারী শাহনাজ পারভীন বৃষ্টি ১৫ থেকে ২০ জন লোক নিয়ে জাকিয়া সুলতানার প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বেতন দাবি করেন এবং তাকে হুমকি দেন। এক পর্যায়ে হামলা করেন।এর কয়েক দিন পর শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১১ টার দিকে ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে বড় বাজারের কাপড় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জাকিয়া সুলতানার উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে তিনি তাঁর কয়েকজন নারীকে সঙ্গে নিয়ে কাপড় বাজারে অবস্থান নেন এবং নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার বিচার দাবি করে মানববন্ধন ও মাইক নিয়ে বিক্ষোভ করেন।এমন অবস্থায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে কাপড় বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে (জাকিয়া সুলতানা) ওই মার্কেট থেকে বের করার চেষ্টা করে। পরে খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় পুলিশের সামনে একাধিক যুবক জাকিয়া সুলতানাকে লাথি ও থাপ্পড় মারেন। এ ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একজন নারী পুলিশ সদস্য জাকিয়া সুলতানাকে সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় পাশ থেকে প্রথমে এক যুবক লাথি মারার চেষ্টা করেন। অপর পাশ থেকে আরেক যুবক তাকে লাথি ও পিছন থেকে থাপ্পড় মারছেন। এমন ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।ঘটনার তিনদিন পর সোমবার (৩১ আগষ্ট) রাতে জাকিয়া সুলতানা রাজবাড়ী সদর থানায় মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর সোমবার রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।এর আগে সোমবার দুপুরে জাকিয়া সুলতানা বলেন, তিনি সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ করবেন। এছাড়া এ বিষয়ে পরবর্তীতে সাংবাদিক সম্মেলন করে বিস্তারিত তুলে ধরবেন।এ বিষয়ে জানতে চাইলে মঙ্গলবার সকালে জাকিয়া সুলতানা বলেন, সোমবার রাতে মামলা করেছি। ইতিমধ্যে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তারও করেছে। আজ এ বিষয়ে রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের সঙ্গে দেখা করে পরবর্তী করনীয় নিয়ে ভাববেন। রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, ‘নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানা থানায় মামলা করেছেন। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হবে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’এর আগে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, নারী উদ্যোক্তাকে মারধরের ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। পরে ভুক্তভোগী নারী মামলা করায় পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে।
অনলাইন জরিপ
রাজনীতি
সুমন বিশ্বাস, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী শহরের প্রধান কাপড় বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানার বিরোধকে কেন্দ্র করে পুলিশের সামনে তাঁকে লাঞ্ছিতের ঘটনার তিনদিন পর মামলা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতে জাকিয়া সুলতানা বাদী হয়ে মামলাটি করেন। পুলিশ এ মামলা দায়েরের পর রাতেই তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ।গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন—রাজবাড়ী পৌরসভার ধূঞ্চি ১ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত জমজম খানের ছেলে আব্দুল্লাহ আল সিয়াম খান (১৯), একই ওয়ার্ডের ধুঞ্চি ২৮ কলোনি এলাকার মো. দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মো. রুবেল হোসেন (১৯) এবং পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ধূঞ্চি গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে মো. হেলাল উদ্দিন (৩৮)।পুলিশ জানায়, সোমবার (৩১ আগষ্ট) দিবাগত রাতে নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানা বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে মামলাটি করেন।মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, জাকিয়া সুলতানা রাজবাড়ী বড় বাজারের কাদেরিয়া সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় ‘আস্থা পোশাক শিল্প' নামের একটি পোশাকের প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানের শাহনাজ পারভীন বৃষ্টি নামের এক কর্মচারী চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর বেতন ও মালামালের হিসাব নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়।এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ২৩ আগস্ট রাতে ওই কর্মচারী শাহনাজ পারভীন বৃষ্টি ১৫ থেকে ২০ জন লোক নিয়ে জাকিয়া সুলতানার প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বেতন দাবি করেন এবং তাকে হুমকি দেন। এক পর্যায়ে হামলা করেন।এর কয়েক দিন পর শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১১ টার দিকে ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে বড় বাজারের কাপড় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জাকিয়া সুলতানার উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে তিনি তাঁর কয়েকজন নারীকে সঙ্গে নিয়ে কাপড় বাজারে অবস্থান নেন এবং নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার বিচার দাবি করে মানববন্ধন ও মাইক নিয়ে বিক্ষোভ করেন।এমন অবস্থায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে কাপড় বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে (জাকিয়া সুলতানা) ওই মার্কেট থেকে বের করার চেষ্টা করে। পরে খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় পুলিশের সামনে একাধিক যুবক জাকিয়া সুলতানাকে লাথি ও থাপ্পড় মারেন। এ ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একজন নারী পুলিশ সদস্য জাকিয়া সুলতানাকে সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় পাশ থেকে প্রথমে এক যুবক লাথি মারার চেষ্টা করেন। অপর পাশ থেকে আরেক যুবক তাকে লাথি ও পিছন থেকে থাপ্পড় মারছেন। এমন ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।ঘটনার তিনদিন পর সোমবার (৩১ আগষ্ট) রাতে জাকিয়া সুলতানা রাজবাড়ী সদর থানায় মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর সোমবার রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।এর আগে সোমবার দুপুরে জাকিয়া সুলতানা বলেন, তিনি সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ করবেন। এছাড়া এ বিষয়ে পরবর্তীতে সাংবাদিক সম্মেলন করে বিস্তারিত তুলে ধরবেন।এ বিষয়ে জানতে চাইলে মঙ্গলবার সকালে জাকিয়া সুলতানা বলেন, সোমবার রাতে মামলা করেছি। ইতিমধ্যে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তারও করেছে। আজ এ বিষয়ে রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের সঙ্গে দেখা করে পরবর্তী করনীয় নিয়ে ভাববেন। রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, ‘নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানা থানায় মামলা করেছেন। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হবে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’এর আগে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, নারী উদ্যোক্তাকে মারধরের ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। পরে ভুক্তভোগী নারী মামলা করায় পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে।
সুমন বিশ্বাস, রাজবাড়ীঃ ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে রাজবাড়ীতে এক নারী উদ্যোক্তাকে লাঞ্ছিতের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুরে শহরের প্রধান কাপড় বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ওই নারীকে কাপড় বাজার থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় পুলিশের উপস্থিতিতে নারীকে লাঞ্ছিত করা হয়। এমন একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। নির্যাতনের শিকার ওই নারী উদ্যোক্তার নাম জাকিয়া সুলতানা। তিনি রাজবাড়ীর প্রধান কাপড় বাজার কাদেরিয়া মার্কেটের তৃতীয় তলায় ‘আস্থা পোশাক শিল্প’ নামক প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী এবং শহরের বড়পুল এলাকার বাসিন্দা। শনিবার (২৯ আগষ্ট) রাত থেকে এমন ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া তাঁর প্রতিষ্ঠানের নামে জেলায় আরও একাধিক সাব সেন্টার রয়েছে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একজন নারী পুলিশ সদস্যের সঙ্গে হেঁটে যাচ্ছেন জাকিয়া সুলতানা। তাঁর সাথে আরও পুলিশ সদস্য রয়েছে। তাঁদের পিছনে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি বিক্ষোভ করছেন। এ সময় পাশ থেকে প্রথমে এক যুবক লাথি মারার চেষ্টা করেন। আরেক পাশ থেকে আরেক যুবক লাথি মারেন। একই সময় পিছন থেকে আরেক ব্যক্তি তাকে একটি থাপ্পর মারেন। জাকিয়া সুলতানা বলেন, তিনি ২০১২ সাল থেকে শহরের কাদেরিয়া সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় ‘আস্থা পোশাক শিল্প’ নামক প্রতিষ্ঠান দিয়ে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেন। তিনি হাতে তৈরী নারীদের যাবতীয় পোষাক বিক্রি শুরু করেন। এছাড়া জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে তাঁর প্রতিষ্ঠানের নামে আরও কয়েকটি শাখা রয়েছে। জাকিয়া সুলতানার অভিযোগ, তাঁর প্রতিষ্ঠানে দুইজন নারী কর্মচারী কাজ করতেন। এরমধ্যে শাহনাজ পারভীন বৃষ্টি নামের একজন কয়েক মাস আগে যোগ দেন। সম্প্রতি শাহনাজ পারভীন বৃষ্টি তাঁর প্রতিষ্ঠানে কাজ করবেন না বলে জানিয়ে দেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলে তিনি চলতি মাসের ৩০আগষ্ট পর্যন্ত কাজ শেষ করে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর বেতন নিতে বলেন। ২২ আগষ্ট ফের বেতন নিয়ে তাঁদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। পরদিন ২৩ আগষ্ট রাত ৮টার দিকে শাহনাজ পারভীন বহিরাগত লোক নিয়ে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তাঁর ওপর চড়াও হয়ে একদিনের মধ্যে বেতন পরিশোধের দাবি জানান। উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে তাঁর প্রতিষ্ঠানে হামলা করে। পরদিন ২৪ আগষ্ট বিচার দাবি করে তিনি মার্কেটের নেতৃবৃন্দের কাছে অভিযোগ করেন। নেতৃবৃন্দ আইনগতভাবে মোকাবেলা করার পরামর্শ দেন। জাকিয়া সুলতানা বলেন, শনিবার (২৯ আগষ্ট) দুপুর বারোটার দিকে তাঁর প্রতিষ্ঠানে হামলার প্রতিবাদে তিনি মানববন্ধন ও মিছিল করেন। এ সময় ব্যবসায়ীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁকে উদ্ধার করে আনার সময় স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ীসহ বহিরাগত তাঁকে লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ না দিলেও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।অভিযোগের বিষয়ে রাজবাড়ী বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক বেনজির আহমেদ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি কাপড় বাজারে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে উভয় পক্ষ বসে সমাধান হয়েছে। এছাড়া ওই নারীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ শুনে আসছি। শাহনাজ পারভীন বৃষ্টি নামের তাঁর দোকানের এক কর্মচারী পৃথক ব্যবসা করার উদ্যোগ নেওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বিরোধ তৈরী হয়। রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, রাজবাড়ী কাপড় বাজারে ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিরোধ দেখা দেওয়ায় উত্তেজনা তৈরী হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে ওই নারীকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে আসেন। পরে উভয় পক্ষ বসে সমাধান করেছে বলে জানতে পেরেছি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোন পক্ষ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঈনুল হক, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেশের সর্ববৃহৎ দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বসবাসরত বাসিন্দাদের আর্থসামাজিক অবস্থা ও পুনর্বাসন চাহিদা নিরূপণে ‘আর্থসামাজিক ও পুনর্বাসন চাহিদা নিরূপণ জরিপ-২০২৬’ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেল ৩টায় পূর্বপাড়া এলাকায় এ জরিপ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে এবং গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জরিপ কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা।জানা গেছে, দৌলতদিয়ায় বসবাসরত যৌনপল্লীর বাসিন্দাদের সরকারি তথ্য কার্যক্রমের আওতায় আনা, তাদের প্রকৃত আর্থসামাজিক অবস্থা, জীবনযাত্রা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসন-সংক্রান্ত চাহিদা চিহ্নিত করার লক্ষ্যে এ জরিপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা এবং পুনর্বাসন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।জরিপ কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে মুক্তি মহিলা সমিতি, কর্মজীবী কল্যাণ সংস্থা (কেকেএস), গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, পায়াকট বাংলাদেশ, শাপলা মহিলা সংস্থা (এসএমএস) ও হাউস অব হোপ বাংলাদেশ।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সাইফুল হুদা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলাম।এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা ও দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মোঃ নিজাম উদ্দিন, জেলা এনজিও ফেডারেশনের সভাপতি মোঃ লুৎফর রহমান লাবু, মুক্তি মহিলা সমিতির প্রজেক্ট ডিরেক্টর আতাউর রহমান মঞ্জু, কর্মজীবী কল্যাণ সংস্থার (কেকেএস) প্রজেক্ট অফিসার প্রথিক কুমার পাল, পায়াকট বাংলাদেশের ম্যানেজার মোঃ মজিবুর রহমান জুয়েল, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ জুলফিকার আলী, শাপলা মহিলা সংস্থার প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন অফিসার মোঃ খোরশেদ আলমসহ বিভিন্ন এনজিও কর্মকর্তা, যৌনপল্লীর বাসিন্দা এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর সঠিক ও হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে তাদের বাস্তব জীবনযাত্রা ও প্রয়োজনগুলো চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে কী ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন, জরিপের মাধ্যমে তা নিরূপণ করা হবে।গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, “সমাজের কোনো জনগোষ্ঠী যেন সরকারি সেবা ও আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ জরিপের মাধ্যমে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর বাসিন্দাদের প্রকৃত অবস্থা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। তাদের নিরাপত্তা ও আইনগত সহযোগিতার বিষয়েও থানা পুলিশ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।”গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সাইফুল হুদা বলেন, “সরকারি পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বসবাসরত মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থা ও পুনর্বাসনের প্রকৃত চাহিদা নিরূপণের জন্য এ জরিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।”সংশ্লিষ্টরা জানান, জরিপ কার্যক্রমে সংগৃহীত তথ্য গোপনীয়তা ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংরক্ষণ করা হবে। পরবর্তীতে এসব তথ্যের ভিত্তিতে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর বাসিন্দাদের জন্য প্রয়োজনীয় উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রম গ্রহণে সহায়তা পাওয়া যাবে।স্থানীয় বাসিন্দারা জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার মধ্যে বসবাস করছেন। তাদের বাস্তব পরিস্থিতি সরকারি পর্যায়ে উঠে এলে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও সহায়তা পাওয়ার পথ আরও সহজ হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের নিহত সকল শহীদদের স্মরণে ও বঙ্গবন্ধুর শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজবাড়ী জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে বিক্ষোভ মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এমন একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ফেসবুক পেইজ, রাজবাড়ী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলামসহ অনেকে ভিডিওটি শেয়ার করেন। এক মিনিট ৫৩ ও এক মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, রাজবাড়ী জেলা ছাত্রলীগের ব্যানারে অন্তত অর্ধশত নেতাকর্মী মিছিল করছেন। মিছিলের অগ্রভাগে রাজবাড়ী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদুল ইসলাম। তিনি হাতে দলীয় পতাকা এবং পিছনে ব্যানার সহ দলীয় কর্মীরা হাতে মশাল জ¦ালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করছেন। মিছিলটি মূলতক কোন জায়গা থেকে ধারণ করা পরিষ্কার বোঝা না গেলেও ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের রাজবাড়ী জেলার বসন্তপুর অংশে করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিক্ষোভ মিছিল শেষে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “জননেত্রী শেখ হাসিনা এই বাংলাদেশে ডিসেম্বরে আসবে। আমরা রাজবাড়ী জেলা ছাত্রলীগ ঐক্যবদ্ধ রয়েছি। আমাদের সেই সাথে বলতে চাই, আমাদের রাজবাড়ী-১ আসনের সাবেক এমপি কাজী কেরামত আলী এবং রাজবাড়ী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. শাহিন শেখকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। একই সাথে মামলাগুলো প্রত্যাহার করতে হবে।” এর আগে মিছিলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনা আসছে, বাংলাদেশ হাসছে। শেখ হাসিনা আসবে, রাজপথ কাঁপবে। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু সহ নানা স্লোগানে মুখরিত করে রাখে। প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী মশাল হাতে নিয়ে মিছিল করতে দেখা যায়। এ সময় মহাসড়ক দিয়ে বেশ কিছু যানবাহন চলাচল করতেও দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে গভীররাতের কোন এক সময় মিছিল বের হয়। ভিডিওটি জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম তাঁর নিজের ফেসুবক আইডিতে পোস্ট করার সময় লিখেন, শোককে শক্তি করে মাথা উঁচু করে- জয় বাংলার ধ্বনি আজ, সবার কণ্ঠস্বরে আমরাও ফিরবো, আপনিও ফিরবেন- রাজবাড়ী দেখবে আমাদের প্রত্যাবর্তন, আর সারা বাংলাদেশ দেখবে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, ভিডিওটি দেখার পর তাৎক্ষনিকভাবে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে অভিযান চালানো হয়। খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, ভিডিওটি ৪-৫দিন আগের এবং মিছিলটি ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের রাজবাড়ীর সীমান্তবর্তী ফরিদপুরের শিবরামপুর এলাকায় জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ভিডিওটি ফেসবুকে শেয়ার করলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তারপরও আমরা আরও খোঁজ নিচ্ছি মিছিলটি কোথায় করেছে এবং কে কে উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর পাংশা পৌরসভা এলাকা থেকে ৩০ পিস ইয়াবাবড়ি সহ কালুখালী উপজেলার মাজবাড়ী ইউনিয়নের সংরক্ষিত দুই নারী ইউপি সদস্যকে (নারী মেম্বর) গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। গত মঙ্গলবার (২৫ আগষ্ট) সন্ধ্যার দিকে তাঁদেরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার (২৬ আগষ্ট) রাজবাড়ী ডিবি পুলিশের ওসি মোঃ মফিজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরে তাঁদেরকে ওইদিনই জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। ডিবি পুলিশের ওসি মফিজুল ইসলাম জানান, জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার উপপরিদর্শক (এসআই) শিমুল শেখ সহ সঙ্গীয় অফিসার ও সদস্যরা মঙ্গলবার বিকালে জেলার পাংশা পৌরসভা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় পাংশা পৌরসভার কলেজ রোড ‘উড ওয়ার্ড ফার্নিচার’দোকানের সামনে পাঁকা রাস্তার ওপর থেকে ৩০ পিস মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা সহ দুইজন নারীকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, কালুখালী উপজেলার মোহনপুর এলাকার আব্দুল মান্নান মন্ডলের স্ত্রী মোসাঃ হামিদা খাতুন (৪৭) ও উপজেলার চর কুলটিয়ার কদর আলী মন্ডলের স্বামী সাজেদা বেগম (৪০)। এর মধ্যে হামিদা খাতিন উপজেলার মাজবাড়ী ইউনিয়নের সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং সাজেদা বেগম একই ইউনিয়নের সংরক্ষিত ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।মাজবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কাজী শরিফুল ইসলাম জানান, তাঁর মাজবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের দুইজন সংরক্ষিত নারী সদস্য ডিবি পুলিশের হাতে ইয়াবাবড়ি সহ গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে জানতে পেরেছেন। কিন্তু প্রশাসনিকভাবে তাঁকে এখনও এ বিষয়ে কিছুই জানানো হয় নাই।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ সিজারিয়ান অপারেশনের পর পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া কনিকা মণ্ডলের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রদান এবং কনিকার পরিবারকে ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।শুক্রবার (২১ আগষ্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের বাড়িতে কনিকার পরিবারের খবর নিতে ছুটে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের সান্ত্বনা দেন। কনিকার চিকিৎসা ও মৃত্যুর বিষয়ে তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত শোনেন।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন অনিয়মের কারনে ডাক্তার বরখাস্তসহ ক্লিনিকগুলোকে জরিমানা করা হচ্ছে। ডিসি ও সিভিল সার্জনরা তৎপর রয়েছেন। যেসব ক্লিনিকে লেবার রুম নেই, লাইসেন্স ও পরিবেশ সার্টিফিকেট নেই, সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গত ১৭ বছরে ব্যাঙয়ের ছাতার মত হাসপাতালের সামনে ক্লিনিক গজে উঠেছে। এক-দুই মাসে এগুলো সমাধান সম্ভব না। চিকিৎসায় অবহেলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। কেউ জড়িত থাকলে বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, কনিকার মৃত্যুর ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২০ আগষ্ট) রাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো আধুনিকায়নের জন্যও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমাদের অবহেলার কারণে একজন মায়ের মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাতেই আমি এখানে এসেছি। সরকার এই পরিবারের পাশে থাকবে। এ সময় তিনি ব্যক্তিগতভাবে কনিকার পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন।কনিকার স্বামী অশান্ত মণ্ডল জানান, গত ২৯ জুন আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্ত পরীক্ষা করে দ্রুত সিজারিয়ান অপারেশন করার পরামর্শ দেন। ওই দিনই তার সিজার করা হয় এবং একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। সন্তান জন্মের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, নবজাতকের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়, সিসিইউতে রাখতে হবে। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন। পরদিন কনিকার পেট ফুলে যায়। হাসপাতাল থেকে তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে তারা ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে কনিকাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।অশান্ত মণ্ডলের দাবি, সেখানে সিটি স্ক্যান করার পর চিকিৎসকরা কনিকার পেটের ভেতরে কিছু বস্তু থাকার কথা জানান। পরে অপারেশন করে তার পেট থেকে গজ-ব্যান্ডেজ বের করা হয়। তার শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি হতে থাকে। বেশ কয়েকদিন তাঁকে আইসিইউতে রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি।তিনি বলেন, চিকিৎসা করাতে গিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। স্ত্রী চলে যাওয়ায় আমাদের সংসারটাই শেষ হয়ে গেছে। এখন তিন সন্তানকে কীভাবে মানুষ করব, সেটাই বুঝতে পারছি না। কনিকার বড় ছেলে নবম শ্রেণিতে এবং ছোট ছেলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। পরিবার জানায়, গত ২৯ জুন ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্তের মাধ্যমে সিজারিয়ান অপারেশনে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন বালিয়াকান্দির বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী কনিকা মণ্ডল (৩৫)। পরদিন তার পেট ফুলে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ৩ জুলাই ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ৭ জুলাই কনিকার পেটে গজ থাকার বিষয়টি শনাক্ত হলে ওই দিনই অস্ত্রোপচার করে গজ বের করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে মারা যান কনিকা। তাঁর মৃত্যুতে স্বামী অশান্ত মণ্ডল ও তিন সন্তানসহ পুরো পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কনিকার বাড়িতে অবস্থানকালে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, সিভিল সার্জন এস এম মাসুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সামসুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তারিফ উল হাসান, বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেন, বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুর রব তালুকদার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম শওকত সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরওয়ার ভূইয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
বিনোদন
সুমন বিশ্বাস, রাজবাড়ীঃ একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিমের ৭৬ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজবাড়ীতে নানা আয়োজনে স্মরণ করা হয়েছে এই গুণী শিল্পীকে। শনিবার রাজবাড়ী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মনসুর উল করিম স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং কেক কাটার মধ্য দিয়ে জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, "মনসুর উল করিম শুধু রাজবাড়ীর নন, তিনি বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। রাজবাড়ীর মাটিতে তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। তাঁর সৃষ্টিকর্ম আজও শিল্পপ্রেমীদের অনুপ্রাণিত করে। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর শিল্পকর্ম ও জীবনাদর্শ তুলে ধরতে আমাদের আরও উদ্যোগী হতে হবে।"প্রতিমন্ত্রী বলেন, "রাজবাড়ীর সাংস্কৃতিক বিকাশে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জেলার শিল্প-সংস্কৃতির প্রসারে একটি আধুনিক কালচারাল কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই এর নির্মাণকাজ শুরু হবে। এছাড়া রাজবাড়ীর অ্যাক্রোবেটিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে আরও আধুনিক ও কার্যকরভাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি ভবিষ্যতে জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।" মনসুর উল করিম স্মৃতি পরিষদের আহ্বায়ক কবি খোকন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল, চিত্রশিল্পী মনসুর করিম স্মৃতি সংসদের সদস্য সচিব আজিজা খানম, উপদেষ্টা চৌধুরী আহসানুল করিম হিটু, নূরুল হক আলম, জেলা কালচারাল অফিসার সুজিত কুমার সাহা, মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি সংসদের আহ্বায়ক কবি সালাম তাসির, রাজবাড়ী বাংলা একাডেমির সভাপতি সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমানসহ চিত্রশিল্পী মনসুর করিম স্মৃতি সংসদের অন্যান্য সদস্য, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।আলোচনা সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিম তাঁর সৃষ্টিশীলতা, নান্দনিক চিন্তা ও শিল্পকর্মের মাধ্যমে দেশের শিল্পাঙ্গনে অনন্য অবদান রেখে গেছেন। তাঁর স্মৃতি ও কর্ম নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।পরে অতিথিরা কেক কেটে মনসুর উল করিমের ৭৬ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করেন। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।উল্লেখ্য, চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিম ১৯৫০ সালের ১৪ জুলাই রাজবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ শিল্পজীবনে তিনি দেশ-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করেন এবং শিল্পকলায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে একুশে পদকে ভূষিত হন। ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর শিল্পকর্ম আজও বাংলাদেশের চারুকলার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
আব্দুল হালিম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে গান, নৃত্য ও ফলাহারের মধ্য দিয়ে উদীচীতে বর্ষা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী রাজবাড়ী জেলা কমিটির উদ্যোগে শহরের আজাদী ময়দান সংলগ্ন সংগঠনের মিলনায়তনে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়।আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা উদীচীর সহসভাপতি আজিজুল হাসান খোকা। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা উদীচীর সংগীত বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল জব্বার। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উদীচী কেন্দ্রীয় কমিটির সংগীত বিষয়ক সম্পাদক সুরাইয়া পারভীন, সদস্য শিখা কর্মকার। এতে স্মৃতিচারণ মূলক বক্তব্য দেন জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কমরেড আব্দুস সামাদ মিয়া, রাজবাড়ী নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফকীর শাহাদত হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা চিত্রশিল্পী মো. গোলাম আলী, রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক এম দেলোয়ার হোসেন, রাজবাড়ী বৈচিত্র্য সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি আজাদ সিদ্দিকী মিলন, জেলা উদীচীর সাংগঠনিক সম্পাদক ধীরেন্দ্র নাথ দাস প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক এজাজ আহম্মেদ। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ছয়টি ঋতুর মধ্যে বর্ষা ঋতু হলো মধুর ঋতু। এই ঋতু শুরু হলে প্রকৃতি হাঁসে। প্রকৃতি জীবন্ত হয়ে ওঠে। চারপাশ সবুজে ভরে যায়। প্রবীণ তার কৈশোরে ফিরে যায়। তবে মানুষ আজ প্রকৃতি ধ্বংস করে ফেলছে। নিয়মিত বনায়ন ধ্বংস করা হচ্ছে। একারণে বর্ষার প্রকৃত রূপ এখন আর দেখা যায় না। বর্ষাকে বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের বেশি বেশি গাছ রোপণ করতে হবে। প্রকৃতি সুন্দর হলে এই পৃথিবী আরও সুন্দর হবে।অনুষ্ঠানে উদীচী ও রাবেয়া কাদের স্মৃতি পাঠাগারের শিল্পীরা সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা করেন
মঈনুল হক, গোয়ালন্দ রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে ঘোষিত নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭ এর শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানের শুরুতে ভার্চ্যুয়ালি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ টেলিকাস্ট) উপভোগ করেন উপস্থিত অতিথি ও দর্শকরা। পরে স্থানীয়ভাবে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাসের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি (তদন্ত) মো. রাশিদুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার দাস, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু মোল্লা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবলু, নাজিরুল ইসলাম তিতাস, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মোল্লা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আবু সাঈদ মণ্ডল সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।উপজেলা প্রশাসন জানায়, তিন দিনব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে প্রথম দিনে আলোচনা সভা, উদ্ভোধনী সংগীত (চল চল), সমবেত সংগীত, সমবেত নৃত্য, আবৃত্তি, একক সংগীত ও নৃত্য, দ্বিতীয় দিনে নজরুলের উপর রচনা, আবৃত্তি, নজরুল সংগীত ও নৃত্য প্রতিযোগিতা, তৃতীয় দিনে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে লালন, দেশত্ববোধক, ভাটিয়ালি সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনা সভায় বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর জীবন, সাহিত্যকর্ম, দেশপ্রেম, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, বিদ্রোহ, সাম্য ও মানবতার কবি নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত আজও বাঙালির স্বাধীনতার চেতনা, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মূল্যবোধের অন্যতম প্রেরণার উৎস। নতুন প্রজন্মের মাঝে নজরুলের আদর্শ, সাহিত্য ও সংগীত ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা মন্তব্য করেন।আলোচনা সভা শেষে নজরুল সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, দর্শন ও সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।
ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে দেশব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’-এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি দেশের ৬৪ জেলা এবং নির্বাচিত ৭৪টি উপজেলায় একযোগে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’-এর স্মারক ও ডাক টিকিট অবমুক্ত, লোগো উন্মোচন ও নজরুল বর্ষের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে রাজবাড়ীতেও শুরু হলো ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭-এর কর্মসূচি। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে বছরব্যাপী নানা সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক আয়োজনের মাধ্যমে এ বর্ষ উদযাপন করা হবে।সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি বক্তব্য রাখেন।বিশেষ অতিথি হিসেবে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি; তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডাঃ জাহেদ উর রহমান ও মন্ত্রী পরিষদের সচিব ডঃ নাসিমুল গনি বক্তব্য।এদিকে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মিয়া, সিভিল সার্জন ডাঃ এস এম মাসুদ, স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক কল্যাণ চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ তারিফ-উল-হাসান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ্যাডঃ লিয়াকত আলী বাবু, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবীব, রাজবাড়ী সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজে অধ্যক্ষ প্রফেসর রেজভি জামান, রাজবাড়ী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর মোস্তফা কামাল সহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিসহ সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বছরব্যাপী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।উল্লেখ্য, গত ২৫ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে এ বছরের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত এক বছর নজরুল বর্ষ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।
সোহাগ মিয়া, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের হামিদ মৃধার হাট এলাকায় ব্যতিক্রমী ঘটনার জন্ম দিয়েছেন আলাল মোল্লা নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে সে এলাকায় আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের ঘোর সমর্থক হিসেবে পরিচিত থাকলেও এবার তিনি প্রকাশ্যে দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরান ফুটবল দলের সমর্থক হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এমন ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাত ৯টার দিকে হামিদ মৃধার হাট বাজারে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে আলাল মোল্লা তাঁর কর্মী সমর্থকদের জড়ো হন। এ সময় তিনি দুধ দিয়ে গোসল করে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নতুন ইসলামী রাষ্ট্র ইরানের পক্ষে অবস্থানের কথা ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণার পর মুহূর্তেই তাঁর কর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তোলে। একই সাথে বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। বাজারে উপস্থিত অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেন, আবার কেউ কেউ বিষয়টিকে ব্যক্তিগত পছন্দ ও মতামতের স্বাধীনতা হিসেবেও দেখেন।আলাল মোল্লা বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক ছিলাম। তবে ব্যক্তিগত চিন্তা-ভাবনা ও ধর্মীয় অনুভূতি থেকে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আজ থেকে আমি ইরান দলকে সমর্থন করব। আমি আর কখনো আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেব না। এজন্য দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরান ফুটবল দলের সমর্থক হয়েছি।তার এই ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয় যুবকদের মধ্যে কেউ বিষয়টিকে মজার ঘটনা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে একজন সমর্থকের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন।স্থানীয় হামিদ মৃধা হাট এরাকার আক্কাস সরদার, আব্বাস মোল্লা, জামাল হোসেন, হারুন ব্যাপারী সহ অনেকে জানান, সাধারণত ফুটবল দল পরিবর্তনের ঘটনা নতুন নয়। তবে প্রকাশ্যে দুধ দিয়ে গোসল করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে এক দলের সমর্থন ছেড়ে অন্য দলের প্রতি সমর্থন জানানোর ঘটনা এলাকায় খুব একটা দেখা যায় না। ফলে আলাল মোল্লার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।এ বিষয়ে স্থানীয় নুরুল ইসলাম, আহম্মদ আলী শেখ সহ অনেকের ভাষ্য, খেলাধুলা মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। যে কেউ নিজের পছন্দ অনুযায়ী যে কোনো দলকে সমর্থন করতে পারেন। আলাল মোল্লার এই ঘোষণাও তার ব্যক্তিগত মতামত ও পছন্দেরই বহিঃপ্রকাশ।ব্যতিক্রমী এই দলবদলের ঘটনা এখন গোয়ালন্দের হামিদ মৃধার হাট সহ আশপাশের এলাকায় আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।
মাঈনুল হক, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ীঃ “নারীর সম্মান, সমাজের উন্নয়ন”এ স্লোগানে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের সংগঠন স্বপ্ন কুঁড়ি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে “শ্রেষ্ঠ পুত্রবধূ সম্মাননা স্মারক-২০২৬” প্রদান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভিন্নধর্মী এ অনুষ্ঠানে তিনজন সংগ্রামী নারীকে শ্রেষ্ঠ তিন পুত্রবধূকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। ব্যাতিক্রমধর্মী এমন আয়োজনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত এবং আমন্ত্রিত অতিথিগন সবাই মুগ্ধ হন। সোমবার (৮ জুন) বেলা ১১টায় গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ভিন্নধর্মী এ আয়োজনে অনুষ্ঠানে সমাজে পারিবারিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। “স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন দেখাই”স্লোগানধারী সংগঠন আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান।অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, গোয়ালন্দ রাবেয়া ইদ্রিস মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল কাদের শেখ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম, গোয়ালন্দ সরকারি কামরুল ইসলাম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও সংগঠনটির উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুহিত হিরা, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সালমা বেগম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার দাস, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. হাফিজুল হক, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ও স্বপ্ন কুঁড়ি সামাজিক সংগঠনের উপদেষ্টা সানোয়ার আহমেদ সহ সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মণ্ডল, সদস্য নাহিদুল ইসলাম, নাজমুল ইসলাম, আকিব সরদার, ফাহিম আশরাফ হিমেলম সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।গোয়ালন্দ উপজেলার ৪৭ জন সংগ্রামী নারীর মধ্যে সম্মাননা প্রাপ্ত তিন নারী হলেন, গোয়ালন্দ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড গোয়ালন্দ বাজার রেলওয়ে ষ্টেশন এলাকার বাসিন্দা প্রয়াত ছাত্তার শেখ এর স্ত্রী মোছাঃ সহিতুন নেছা, গোয়ালন্দ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বীপেন রায় পাড়ার প্রয়াত ইকবাল হোসেন বাবলুর স্ত্রী নাসিমা আখতার ডলি ও পৌরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ড বদিউজ্জামান বেপারী পাড়ার মো. সেলিম মিয়ার স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম।বক্তারা বলেন, একটি পরিবার ও সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে এবং শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি সম্মান, দায়িত্ববোধ ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। এ ধরনের আয়োজন সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।অনুষ্ঠানে উপস্থিত নারীদের উদ্দেশ্যে পারিবারিক সম্পর্ক উন্নয়ন, বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং সামাজিক মূল্যবোধ চর্চার বিষয়ে বিভিন্ন দিক নির্দেশনামূলক আলোচনা করা হয়। পরে নির্বাচিত তিন জন নারীর মাঝে “শ্রেষ্ঠ পুত্রবধূ সম্মাননা স্মারক-২০২৬”হিসেবে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।আয়োজকরা জানান, সমাজে ইতিবাচক মূল্যবোধ ও পারিবারিক সম্প্রীতি জোরদারের লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
সুমন বিশ্বাস, রাজবাড়ীঃ ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে রাজবাড়ীতে এক নারী উদ্যোক্তাকে লাঞ্ছিতের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুরে শহরের প্রধান কাপড় বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ওই নারীকে কাপড় বাজার থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় পুলিশের উপস্থিতিতে নারীকে লাঞ্ছিত করা হয়। এমন একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। নির্যাতনের শিকার ওই নারী উদ্যোক্তার নাম জাকিয়া সুলতানা। তিনি রাজবাড়ীর প্রধান কাপড় বাজার কাদেরিয়া মার্কেটের তৃতীয় তলায় ‘আস্থা পোশাক শিল্প’ নামক প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী এবং শহরের বড়পুল এলাকার বাসিন্দা। শনিবার (২৯ আগষ্ট) রাত থেকে এমন ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া তাঁর প্রতিষ্ঠানের নামে জেলায় আরও একাধিক সাব সেন্টার রয়েছে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একজন নারী পুলিশ সদস্যের সঙ্গে হেঁটে যাচ্ছেন জাকিয়া সুলতানা। তাঁর সাথে আরও পুলিশ সদস্য রয়েছে। তাঁদের পিছনে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি বিক্ষোভ করছেন। এ সময় পাশ থেকে প্রথমে এক যুবক লাথি মারার চেষ্টা করেন। আরেক পাশ থেকে আরেক যুবক লাথি মারেন। একই সময় পিছন থেকে আরেক ব্যক্তি তাকে একটি থাপ্পর মারেন। জাকিয়া সুলতানা বলেন, তিনি ২০১২ সাল থেকে শহরের কাদেরিয়া সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় ‘আস্থা পোশাক শিল্প’ নামক প্রতিষ্ঠান দিয়ে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেন। তিনি হাতে তৈরী নারীদের যাবতীয় পোষাক বিক্রি শুরু করেন। এছাড়া জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে তাঁর প্রতিষ্ঠানের নামে আরও কয়েকটি শাখা রয়েছে। জাকিয়া সুলতানার অভিযোগ, তাঁর প্রতিষ্ঠানে দুইজন নারী কর্মচারী কাজ করতেন। এরমধ্যে শাহনাজ পারভীন বৃষ্টি নামের একজন কয়েক মাস আগে যোগ দেন। সম্প্রতি শাহনাজ পারভীন বৃষ্টি তাঁর প্রতিষ্ঠানে কাজ করবেন না বলে জানিয়ে দেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলে তিনি চলতি মাসের ৩০আগষ্ট পর্যন্ত কাজ শেষ করে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর বেতন নিতে বলেন। ২২ আগষ্ট ফের বেতন নিয়ে তাঁদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। পরদিন ২৩ আগষ্ট রাত ৮টার দিকে শাহনাজ পারভীন বহিরাগত লোক নিয়ে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তাঁর ওপর চড়াও হয়ে একদিনের মধ্যে বেতন পরিশোধের দাবি জানান। উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে তাঁর প্রতিষ্ঠানে হামলা করে। পরদিন ২৪ আগষ্ট বিচার দাবি করে তিনি মার্কেটের নেতৃবৃন্দের কাছে অভিযোগ করেন। নেতৃবৃন্দ আইনগতভাবে মোকাবেলা করার পরামর্শ দেন। জাকিয়া সুলতানা বলেন, শনিবার (২৯ আগষ্ট) দুপুর বারোটার দিকে তাঁর প্রতিষ্ঠানে হামলার প্রতিবাদে তিনি মানববন্ধন ও মিছিল করেন। এ সময় ব্যবসায়ীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁকে উদ্ধার করে আনার সময় স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ীসহ বহিরাগত তাঁকে লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ না দিলেও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।অভিযোগের বিষয়ে রাজবাড়ী বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক বেনজির আহমেদ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি কাপড় বাজারে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে উভয় পক্ষ বসে সমাধান হয়েছে। এছাড়া ওই নারীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ শুনে আসছি। শাহনাজ পারভীন বৃষ্টি নামের তাঁর দোকানের এক কর্মচারী পৃথক ব্যবসা করার উদ্যোগ নেওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বিরোধ তৈরী হয়। রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, রাজবাড়ী কাপড় বাজারে ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিরোধ দেখা দেওয়ায় উত্তেজনা তৈরী হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে ওই নারীকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে আসেন। পরে উভয় পক্ষ বসে সমাধান করেছে বলে জানতে পেরেছি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোন পক্ষ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঈনুল হক, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেশের সর্ববৃহৎ দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বসবাসরত বাসিন্দাদের আর্থসামাজিক অবস্থা ও পুনর্বাসন চাহিদা নিরূপণে ‘আর্থসামাজিক ও পুনর্বাসন চাহিদা নিরূপণ জরিপ-২০২৬’ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেল ৩টায় পূর্বপাড়া এলাকায় এ জরিপ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে এবং গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জরিপ কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা।জানা গেছে, দৌলতদিয়ায় বসবাসরত যৌনপল্লীর বাসিন্দাদের সরকারি তথ্য কার্যক্রমের আওতায় আনা, তাদের প্রকৃত আর্থসামাজিক অবস্থা, জীবনযাত্রা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসন-সংক্রান্ত চাহিদা চিহ্নিত করার লক্ষ্যে এ জরিপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা এবং পুনর্বাসন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।জরিপ কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে মুক্তি মহিলা সমিতি, কর্মজীবী কল্যাণ সংস্থা (কেকেএস), গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, পায়াকট বাংলাদেশ, শাপলা মহিলা সংস্থা (এসএমএস) ও হাউস অব হোপ বাংলাদেশ।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সাইফুল হুদা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলাম।এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা ও দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মোঃ নিজাম উদ্দিন, জেলা এনজিও ফেডারেশনের সভাপতি মোঃ লুৎফর রহমান লাবু, মুক্তি মহিলা সমিতির প্রজেক্ট ডিরেক্টর আতাউর রহমান মঞ্জু, কর্মজীবী কল্যাণ সংস্থার (কেকেএস) প্রজেক্ট অফিসার প্রথিক কুমার পাল, পায়াকট বাংলাদেশের ম্যানেজার মোঃ মজিবুর রহমান জুয়েল, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ জুলফিকার আলী, শাপলা মহিলা সংস্থার প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন অফিসার মোঃ খোরশেদ আলমসহ বিভিন্ন এনজিও কর্মকর্তা, যৌনপল্লীর বাসিন্দা এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর সঠিক ও হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে তাদের বাস্তব জীবনযাত্রা ও প্রয়োজনগুলো চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে কী ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন, জরিপের মাধ্যমে তা নিরূপণ করা হবে।গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, “সমাজের কোনো জনগোষ্ঠী যেন সরকারি সেবা ও আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ জরিপের মাধ্যমে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর বাসিন্দাদের প্রকৃত অবস্থা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। তাদের নিরাপত্তা ও আইনগত সহযোগিতার বিষয়েও থানা পুলিশ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।”গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সাইফুল হুদা বলেন, “সরকারি পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বসবাসরত মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থা ও পুনর্বাসনের প্রকৃত চাহিদা নিরূপণের জন্য এ জরিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।”সংশ্লিষ্টরা জানান, জরিপ কার্যক্রমে সংগৃহীত তথ্য গোপনীয়তা ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংরক্ষণ করা হবে। পরবর্তীতে এসব তথ্যের ভিত্তিতে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর বাসিন্দাদের জন্য প্রয়োজনীয় উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রম গ্রহণে সহায়তা পাওয়া যাবে।স্থানীয় বাসিন্দারা জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার মধ্যে বসবাস করছেন। তাদের বাস্তব পরিস্থিতি সরকারি পর্যায়ে উঠে এলে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও সহায়তা পাওয়ার পথ আরও সহজ হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
ইমরান হোসেন মনিম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের খলিশা সোনাপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল শেখ (৫৮) এর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সকালে স্থানীয়দের সহায়তায় বাড়ির পিছনের বাঁশ বাগানের একটি সজনে গাছের ডালে গলায় গামছ দিয়ে ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। সে ওই গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুস শেখ এর ছেলে। নিহতের পরিবার ও গ্রামের লোকজন ধারণা করছেন, দেনার দায়ে জর্জরিত হয়ে মানসিক কষ্ট থেকে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য আজ রোববার দুপুরের দিকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। নিহতের পরিবারের লোকজন জানায়, জলিল শেখ শনিবার (২৯ আগষ্ট) দিবাগত রাতে নিজের বসত ঘরে স্ত্রীর সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত শেষে আজ রোববার ভোরের দিকে ঘরে থাকা স্ত্রীর ঘুম ভেঙে গেলে দেখেন বিছানায় তিনি নেই। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন হয়তো কোন কাজে বাড়ির বাইরে আছেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কৃষকরা মাঠে যাওয়ার সময় বাড়ির অদূরে একটি সজনে গাছের ডালের সঙ্গে জলিল শেখকে ঝুলতে দেখে দ্রুত বাড়িতে খবর দেন। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় গলায় পেঁচানো গামছা কেটে লাশ মাটিতে নামায়। খবর পেয়ে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ এসে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী করে। স্থানীয় কয়েকজন জানান, জলিল শেখ সংসার চালাতে গিয়ে নানা সময় বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋন নিয়ে পরিশোধ করতে পারছিলেন না। দেনার দায়ে তিনি জর্জরিত হয়ে পড়েন। ঋনের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় তিনি বেশিরভাগ সময় বিমর্ষ থাকতেন। এ কারণে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে সকলে ধারণা করছেন। জলিল শেখের একটি মাত্র কন্যা সন্তান থাকলেও কয়েক বছর আগে আত্মহত্যা করায় পরিবারে স্ত্রী ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ জানান, খবর পেয়ে বেলা সাড়ে এগারটার দিকে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী শেষে দুুপুরে ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, নিহত জলিল শেখ অনেক টাকা ঋনগ্রস্থ হয়ে পড়েন। দেনার দায়ে জর্জরিত হয়ে পড়ায় ঋন পরিশোধ করতে পারছিলেন না। যে কারনে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারপরও আমরা ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছি। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন হাতে আসার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
হেলাল মাহমুদ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর পাংশায় ট্রেনের নীচে ঝাঁপ দিয়ে আফিয়া খানম জান্নাতি ওরফে মুমু (১৫) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে নিশ্চিত করেন পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাংশা উপজেলার কুড়াপাড়া রেলগেট এলাকায় এ দূর্ঘটনা ঘটে। নিহত আফিয়া জান্নাতি মুমু ভোলার দৌলতখান উপজেলার পূর্ব ভবানীপুর এলাকার আব্দুল হাইয়ের মেয়ে।পাংশা থানা পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, প্রায় পাঁচ মাস আগে আফিয়া জান্নাতি মুমু সম্পর্ক করে পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চরআফরা গ্রামের জামাল চৌধুরীর ছেলে আকাশ চৌধুরীর সঙ্গে দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। তবে পরিবার তাদের এ সম্পর্ক মেনে নেয়নি। সম্পর্কের জেরে গত এপ্রিল মাসে কুষ্টিয়া জজকোর্টে গিয়ে আকাশকে বিয়ে করেন ওই স্কুল ছাত্রী। এরপর থেকে স্বামীর বাড়িতেই থাকতেন। কিন্তু বিয়ের পর থেকে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ তৈরী হয়। বৃহস্পতিবার (২৭ আগষ্ট) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে বেনাপল থেকে ছেড়ে আসা পাংশা শহরের কুড়াপাড়া রেলগেট এলাকায় খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি পাংশায় পৌঁছালে সে পাংশার শ্বশুর বাড়ি থেকে এসে ওই ট্রেনের সামনে গিয়ে আত্নহত্যার জন্য ঝাঁপ দেন। এতে ট্রেনের ধাক্কায় সে দূরে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।এ বিষয়ে পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, ট্রেনের নীচে ঝাঁপ দেওয়া নিহত কিশোরীর লাশটি দুপুর দেড়টার দিকে উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সুমন বিশ্বাস, রাজবাড়ীঃ যৌতুক নিরোধ আইনে স্বামীর করা মামলায় মোছা. তানিয়া খাতুন (২২) নামে এক সেবিকাকে (নার্স) কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ওই সেবিকা ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি আমলি আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক আরিফ হোসেন তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন আদালত পুলিশের উপপরিদর্শক সুবির কুমার কর্মকার। মামলা ও আদালত সূত্র জানায়, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের খালকুলা গ্রামের মোহন মল্লিকের মেয়ে তানিয়া খাতুনের পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ে হয়।বিয়ের সময় সাখাওয়াতের পরিবারের পক্ষ থেকে তানিয়াকে স্বর্ণালংকার সহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রী দেওয়া হয়।মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের পর তানিয়া তাঁর স্বামী সাখাওয়াত হোসেনের কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা না দিলে সংসার করবেন না বলেও জানানো হয়। এক পর্যায়ে তিনি স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে পারিবারিকভাবে এবং স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তানিয়া খাতুন যৌতুকের টাকা ছাড়া স্বামীর সংসারে ফিরতে রাজি হননি বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ঘটনায় মো. সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় বালিয়াকান্দি আমলি আদালতে মামলা করেন। মামলাটি সি.আর. মামলা নং-৪০/২৬ হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে।মামলার বাদী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “পারিবারিক ও সামাজিকভাবে তাঁকে নিয়ে সুন্দর একটি সংসারের স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে নানা অশান্তি ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ও সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের অনেক চেষ্টা করা হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। বাধ্য হয়েই আইনের আশ্রয় নিয়েছি। আদালতের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।” তবে তাঁর বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা রয়েছে। একটি ভ্রুণ হত্যা ও অর্থ আত্মসাতের মামলা। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, আদালতের তদন্তের পর আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আসামি স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়ে সংসার করার শর্তে জামিন নেন। এরপর বাদী এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মাধ্যমে একাধিকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। লিগ্যাল এইডের মাধ্যমেও বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।এই আইনজীবী আরও বলেন, আসামি বাদীর সঙ্গে সংসার করতে রাজি না হওয়ায় এবং মীমাংসার উদ্যোগ কার্যকর না হওয়ায় আজ মঙ্গলবার আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত তানিয়া আক্তারের মা ফাতেমা বেগম বলেন, তাঁর মেয়ে তানিয়া ও সাখাওয়াত হোসেনের বিয়ের বিষয়টি তাদের জানা ছিল না। পরে তারা জানতে পারলে এ বিয়ে মেনে নেন। তবে অর্থ আত্মসাত বা টাকা নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। এমনকি আজকে যে মামলার তারিখ ছিল তাও তাদের জানা নেই। মেয়ে থাকেন ঢাকায়। আজ বিকেলে তারা লোকমারফত বিষয়টি জানতে পারেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আলোচিত ব্যবসায়ী ফারুক শেখ (৪৪) হত্যার রহস্য কয়েক ঘন্টার মধ্যে উদঘাটন করেছে পুলিশ। হত্যকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী নিহত ফারুকের আপন ছোট ভাই বারেক শেখসহ তাদের দোকানের দুই কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো দুটি দা, রক্তমাখা পোশাক, মোবাইলফোন ও মাস্ক জব্দ করেছে। রোববার (২৩ আগষ্ট) বিকেল পাঁচটায় রাজবাড়ী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মো. শামসুল হক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন গোয়ালন্দ পৌরসভার জামতলা বাজার সংলগ্ন হাউলি কেউটিল গ্রামের খালেক শেখের ছেলে নিহত ফারুকের ছোট ভাই বারেক শেখ (৪০), দোকানের কর্মচারী উপজেলার দৌলতদিয়া হোসেন মণ্ডল পাড়ার ওয়াজেদ সরদারের ছেলে আলমগীর হোসেন (২৬) ও একই গ্রামের বাবু শেখের ছেলে রুবেল শেখ (৩০)। শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে নিজ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামসুল হক বলেন, শনিবার (২২ আগষ্ট) দুপুর পৌনে একটা থেকে বেলা আড়াইটার মধ্যে গোয়ালন্দ পৌর জামতলা বাজার সংলগ্ন এলাকার নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় ব্যবসায়ী ফারুক শেখকে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহত ফারুকের বাবা খালেক শেখ বাদী হয়ে শনিবার রাতে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ ও জেলার গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশের চৌকস দল তদন্ত কাজ শুরু করে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী হত্যাকা-ে জড়িত সন্দেহে নিহত ফারুকের ছোট ভাই বারেক শেখকে শনিবার রাতে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের পুলিশ জানতে পারেন, পারিবারিক কলহ, বহু নারীতে আসক্ত হওয়া, জীবদ্দশতায় মাকে মারধর করা এবং ব্যাংকে থাকা ফারুকের প্রায় ৮ লাখ টাকার এফডিআরসহ সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বারেককে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কয়েক মাস আগে রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর বাজার থেকে দুটি ধারালো দা কিনে আনেন। হত্যাকা- বাস্তবায়নে দৌলতদিয়া ঘাট পূর্বপাড়ার তাদের দোকানের কর্মচারী আলমগীর হোসেন ও রুবেল শেখকে নিয়ে পরিকল্পনা করেন। শুক্রবার (২১ আগষ্ট) রাতে দৌলতদিয়া রেলষ্টেশনে ফারুককে খুন করতে চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেন বারেক ও দুই কর্মচারী। তিন হাজার টাকায় চুক্তি করে সাময়িক খরচ বাবদ কর্মচারীদের ১৭০০ টাকা দেন বারেক। পরদিন শনিবার দুপুর একটার দিকে তাদের বাড়িতে নিয়ে বারেক ধারালো দা তাদের হাতে দিয়ে রাস্তায় পাহারা দেন। এসময় ঘুমন্ত ফারুকের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে ও দুই হাত বিচ্ছিন্ন করে হত্যার পর ঘরের পাশে ময়লার স্তুপের ভিতর দা দুটি রেখে রুবেল ও আলমগীর বাড়ি থেকে বের হয়। পরে বারেকের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে দৌলতদিয়া হোসেন ম-ল পাড়ার বাড়ি থেকে রুবেল ও আলমগীরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তাদের দেওয়া তথ্যে পুলিশ ময়লার স্তুপ থেকে হত্যাকা-ে ব্যবহৃত দা দুটি উদ্ধার, তাদের পড়নের রক্তমাখা পোশাক, মোবাইলফোন ও মাস্ক জব্দ করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামসুল হক জানান, গ্রেপ্তারকৃত তিনজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত আছেন কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম, জেলা ডিবির ওসি মফিজুল ইসলাম, ডিআইও-১ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।