রাজবাড়ী মেইল
সর্বশেষ

 সারাদেশ সারাদেশ

মতামতমতামত

রোহান হত্যা: মূল পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজবাড়ীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের কলেজছাত্র ফুহাদ চৌধুরী রোহান হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থের জোগানদাতাদের গ্রেপ্তার করে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা এবং মামলার বাদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে ‘এলাকাবাসী ও রোহানের সহপাঠীবৃন্দ’ ব্যানারে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে রোহানের স্বজন, সহপাঠী, এলাকাবাসী এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।মানববন্ধনে রোহানের বাবা ফরহাদ চৌধুরী অভিযোগ করেন, রাসেল সরদার, লিটন সরদার, মিলন সরদার, রাজীব সরদার, খোকন সরদার, টোকন সরদার ও সুমন সরদার বিদেশে অবস্থান করে নির্দেশনা ও অর্থের জোগান দিয়ে স্থানীয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে তাঁর ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে জড়িত কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও অভিযুক্ত ওই সাতজন এখনো বিদেশে রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।ফরহাদ চৌধুরী আরও অভিযোগ করেন, বিদেশে অবস্থানরত অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে, যা তিনি মিথ্যা বলে দাবি করেন। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে গ্রেপ্তার, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি।মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রাজবাড়ী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবিব ও রেজাউল করিম শিকদার পিন্টু, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ এহসানুল করিম চৌধুরী হিটু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান লিখন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেদ পাভেল, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খায়রুল আনাম বকুল, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল মালেক খান, জিয়া সৈনিক দলের সভাপতি মোহাব্বত হোসেন খোকন, ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম রোমানসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা।বক্তারা রোহান হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়টি যথাযথভাবে পর্যালোচনার আহ্বান জানান তাঁরা।স্মারকলিপিতে হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে এনে গ্রেপ্তার, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়।যেভাবে উদ্ধার হয় রোহানের মরদেহঃগত ৫ অক্টোবর বিকেল চারটার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন রোহান। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। তাঁর সন্ধান না পেয়ে পরদিন ৬ অক্টোবর রাজবাড়ী সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার। পরে ৮ অক্টোবর বিকেল পাঁচটার দিকে সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের পাকুড়িকান্দা গ্রামের দিলীপ সেনের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে রোহানের বস্তাবন্দী ও পেট কাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।এ ঘটনায় ৯ অক্টোবর রোহানের বাবা ফরহাদ চৌধুরী বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

অসহায় রিকশাচালকের পাশে দাঁড়াল গোয়ালন্দ ও রাজবাড়ী বন্ধুসভা

জীবন চক্রবর্তী, রাজবাড়ীঃ স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে ধারদেনায় জর্জরিত হয়েছেন। তিন মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন অনেক কষ্টে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনের অবলম্বন রিকশাটিও সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত হয়ে নিজেও ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন না। এমন অবস্থায় অসহায় হয়ে পড়েছেন রিকশাচালক মো. সিদ্দিক শেখ (৫৬)। তাঁর এই দুর্দিনে পাশে দাঁড়িয়েছে প্রথম আলো বন্ধুসভার রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দের সদস্যরা।রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জবানীপাড়ায় সিদ্দিক শেখের বাড়িতে গিয়ে রিকশা মেরামতের জন্য তাঁকে আর্থিক সহায়তা দেন বন্ধুসভার সদস্যরা।সিদ্দিক শেখের পরিবারে রয়েছেন বৃদ্ধ মা, স্ত্রী মারা যাওয়ার পর এক ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে তিন মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন তিনি। রিকশা চালিয়ে যা আয় করতেন, তা দিয়েই চলত সংসার। প্রায় চার বছর আগে তাঁর স্ত্রী নুর জাহান বেগমের শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে। দীর্ঘদিন চিকিৎসা করাতে গিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ হয়। এ জন্য ধারদেনাও করতে হয় তাঁকে। এরপরও স্ত্রীকে বাঁচাতে পারেননি। প্রায় তিন বছর আগে মারা যান নুর জাহান বেগম।সিদ্দিক শেখ বলেন, ‘রিকশা চালিয়ে যা আয় করতাম, তা দিয়েই সংসার চলত। স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। অনেক ধারদেনাও করতে হয়েছে। তারপরও তাঁকে বাঁচাতে পারিনি।’তিনি জানান, গত ২৭ আগস্ট গোয়ালন্দের পিয়ার আলীর মোড় এলাকায় রিকশা নিয়ে বাজারে যাওয়ার পথে দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় তিনি আহত হন। এতে তাঁর ডান পায়ের গোড়ালির তিনটি শিরা কেটে যায়। দুর্ঘটনায় তাঁর রিকশাটিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিভিন্নজনের সহযোগিতায় চিকিৎসা করালেও অর্থের অভাবে রিকশাটি মেরামত করতে পারেননি। রিকশাটি ঠিক করতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা প্রয়োজন।গোয়ালন্দ বন্ধুসভার সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর অর্থের অভাবে সিদ্দিক শেখের অস্ত্রোপচার করানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। তখন তিনি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর পাশে দাঁড়ান এবং অস্ত্রোপচারসহ চিকিৎসার ব্যয় বহনের দায়িত্ব নেন। পরে বন্ধুসভার সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁর জীবিকার একমাত্র অবলম্বন রিকশাটি মেরামতের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।জাকির হোসেন আরও বলেন, প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বন্ধুসভার ভালো কাজের অংশ হিসেবে অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে পেরে তাঁরা আনন্দিত।আর্থিক সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সিদ্দিক শেখ। তিনি প্রথম আলো বন্ধুসভার সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর রাজবাড়ী প্রতিনিধি এম রাশেদুল হক, রাজবাড়ী বন্ধুসভার সদস্য মাহাফুজুর রহমান, গোয়ালন্দ বন্ধুসভার সভাপতি জাকির হোসেন, সাবেক সভাপতি অম্বরেশ চক্রবর্তী জীবন, সহসভাপতি মঈনুল হক মৃধা, সাধারণ সম্পাদক সফিক মণ্ডল ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ আহম্মেদসহ অন্য সদস্যরা।

হরিজনদের স্থায়ী বাসস্থান, বাড়বে বেতন, মন্দির সংস্কারে দেড় লাখ টাকা: রাজবাড়ীতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

শামীম শেখ ও মঈন মৃধা, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে হরিজন সম্প্রদায়ের ৫০টি পরিবারের স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা, পৌরসভা ও উপজেলা থেকে পাওয়া বেতনের বাইরে মাসে আরও এক হাজার টাকা করে দেওয়া এবং মন্দির সংস্কারে দেড় লাখ টাকা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে গোয়ালন্দ উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এসব আশ্বাস দেন।পরিদর্শনের একপর্যায়ে গোয়ালন্দ পৌরসভার রেলস্টেশন-সংলগ্ন হরিজন সার্বজনীন পূজামণ্ডপে যান প্রতিমন্ত্রী। সেখানে হরিজন সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন।এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রেলের পাশে তোমাদের আর থাকতে হবে না। আগে জায়গার ব্যবস্থা করা হবে। এরপর সেই জায়গায় তোমাদের ৫০টি পরিবারের জন্য আলাদা আলাদা প্লটের মাধ্যমে ঘর তৈরি করে দেওয়া হবে। তোমাদের স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। তোমরা আমার কাছ থেকে সবকিছু আদায় করে নেবে।’তিনি আরও বলেন, ‘তোমরা এখন পৌরসভা ও উপজেলা থেকে যে বেতন পাও, তার সঙ্গে প্রতি মাসে আরও এক হাজার টাকা করে অতিরিক্ত পাবে। এ ছাড়া তোমাদের মন্দির সংস্কারের জন্য দেড় লাখ টাকা দিয়ে সহযোগিতা করা হবে।’শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রসঙ্গে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপন করতে দেখে আসছেন। এ উৎসবের আনন্দ সবাই মিলে ভাগাভাগি করে উপভোগ করেন। তিনি বলেন, ‘এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ বা সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই। আমরা সবাই বাঙালি ও বাংলাদেশি।’প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে বিশ্বাসী। রাষ্ট্র সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে।তিনি আরও বলেন, সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ও বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হবে।এ সময় উপস্থিত ছিলেন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুনতাসির হাসান খান, রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আজমল হোসেন, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবলু, সাবেক সদস্যসচিব নাজিরুল ইসলাম তিতাস, গোয়ালন্দ পৌর বিএনপির সহসভাপতি মাহবুবুল আলম শাহীনসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।

৮০ লাখ থেকে এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে গেছে: রাজবাড়ীতে তিতুমীর

হেলাল মাহমুদ, রাজবাড়ীঃ বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৮০ লাখ থেকে এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে দারিদ্র্য পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে রাজবাড়ী পৌরসভা মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। জেলা প্রশাসন আয়োজিত এ সভায় রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়াও উপস্থিত ছিলেন।রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘আমরা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। উত্তরাধিকার সূত্রে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি। মূল্যস্ফীতি ও দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৮০ লাখ থেকে এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে।’তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে অনেক মানুষকে তাঁদের সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে, আবার অনেককে ঋণ করতে হচ্ছে। বিনিয়োগ পরিস্থিতি, বিশেষ করে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের দুরবস্থার কারণে কর্মসংস্থানের সংকট বেড়েছে। যুব বেকারত্ব ও শিক্ষিত বেকারত্বও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) নিয়ে বিভিন্ন সংস্থা বিভিন্ন তথ্য দিচ্ছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল ধারণা ও বিকৃত তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু আগের সরকার এ ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তাঁর অভিযোগ, স্বজনপ্রীতি ও পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক ব্যবস্থার কারণে অর্থনীতির বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।তিনি বলেন, ব্যাংক খাতের সংস্কারে ৪০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া গ্যাস অনুসন্ধান ও টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিনিয়োগ বাড়াতে হলে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব কমাতে দক্ষতা উন্নয়নের বিকল্প নেই। এ জন্য শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে শিক্ষা খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ শতাংশ ব্যয় করা হবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।তিনি বলেন, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার পাশাপাশি সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশও প্রয়োজন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ২০ শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময়ে তা ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এখন উপজেলা পর্যায়ে ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

রাজবাড়ীতে পিয়ারুল হত্যা: সাবেক ছাত্রদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ২

ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী শহরে পিয়ারুল সরদার (৩০) নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ছাত্রদলের সাবেক এক নেতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. শামীম আহসান (৩৬) ও মো. সুমন মণ্ডল (৩৫)। শামীমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বাড়ি থেকে পিস্তলের ১১টি গুলি জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোররাতে ফরিদপুর শহরতলি থেকে শামীম আহসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি রাজবাড়ী সদর উপজেলার শহীদওহাবপুর ইউনিয়নের আহলাদীপুর বারইপাড়া গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে। তিনি জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে। একই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত সোমবার ফরিদপুরের মধুখালী এলাকা থেকে সুমন মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি রাজবাড়ী পৌর শহরের সজ্জনকান্দা এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে।পুলিশ জানায়, শামীমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তাঁর বাড়ি থেকে পলিথিনে মোড়ানো ১১টি পিস্তলের গুলি জব্দ করা হয়। মঙ্গলবার বিকেলে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে সুমনকে আদালতে পাঠানো হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। তাঁর জবানবন্দিতে শামীমের নাম উঠে আসে বলে পুলিশ জানিয়েছে।গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪০ মিনিটে রাজবাড়ী শহরের সজ্জনকান্দা মধ্যপাড়া মসজিদসংলগ্ন রাজনের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এশার নামাজের পর পিয়ারুল সেখানে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে হেলমেট পরা চারজন এসে তাঁর কাছে থামেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁদের একজন খুব কাছ থেকে পিয়ারুলকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। গুলিটি তাঁর বুকের বাঁ পাশে লাগে। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।পরে স্থানীয় লোকজন পিয়ারুলকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে নিয়ে যাওয়ার পথে রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে গোয়ালন্দ মোড়ে পৌঁছালে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে তাঁকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।এ ঘটনায় গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে পিয়ারুলের স্ত্রী ফারজানা হক বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ২০।নিহত পিয়ারুল সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বড় মুরারিপুর গ্রামের হারুন সরদারের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে রাজবাড়ী সদরসহ বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, হত্যা, মাদক ও দস্যুতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ১৪টি মামলা রয়েছে।রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, পিয়ারুল হত্যা মামলায় ১১টি গুলিসহ শামীম আহসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে সুমন মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

সবার অংশগ্রহণে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ব: রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

মঈনুল হক, রাজবাড়ীঃ প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, বাংলাদেশ এখন একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সবার অংশগ্রহণ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। সবাইকে নিয়ে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। সবার অংশগ্রহণে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপদেষ্টা প্রথমে গোয়ালন্দ পৌরসভার বিজয় বাবুরপাড়া বড়বাড়ি সার্বজনীন পূজামণ্ডপ (মঠ মন্দির) পরিদর্শন করেন। পরে তিনি গোয়ালন্দ বাজার হরিজন সম্প্রদায়ের সার্বজনীন পূজামণ্ডপ, গোয়ালন্দ বাজার গরুহাট সার্বজনীন পূজামণ্ডপ ও বালক সমিতির সার্বজনীন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি রাজবাড়ী জেলা শহরের বিভিন্ন মন্দির পরিদর্শন করেন।পরিদর্শনকালে অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে যে দর্শন তুলে ধরেছেন, তা হলো—সবার আগে বাংলাদেশ, সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশ। গত ১৭ বছরে দেশে দুঃশাসন ও নিপীড়নের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেই ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সবার সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ প্রয়োজন।তিনি বলেন, উৎসব-পার্বণে সব মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সব ধর্মের মানুষের পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, সেবায়েতসহ ধর্মীয় ব্যক্তিদের সম্মান জানিয়েছে। পারস্পরিক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে।রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষও সবার মতোই মানুষ। সবার বড় পরিচয়, আমরা মানুষ এবং সবাই একই সৃষ্টিকর্তার সন্তান। দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে দৃষ্টান্ত রয়েছে, তা ধরে রাখতে হবে। নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে জনগণ সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে। এই অধিকার ও গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে।তিনি আরও বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সবাই অংশগ্রহণ করতে পারবেন। বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে নিয়ে কাজ করতে হবে। নারীদের সম্মান অটুট রাখতে হবে। সমাজে সম্প্রীতি, সম্মানবোধ ও মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যথাযথ পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং মাদকের অভিশাপ থেকে সমাজকে মুক্ত করতে হবে।এ সময় রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. তারিফ-উল হাসান, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদা, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম, গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. নিজাম উদ্দিন শেখ, সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ আহমেদ, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মোল্লাসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা এবং পূজামণ্ডপ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গোয়ালন্দের বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করলেন জেলা পুলিশ সুপার

মঈন মৃধা, রাজবাড়ীঃ শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনের লক্ষ্যে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন।এ সময় তিনি পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে তিনি প্রথমে তিনি শ্রীদাম দত্ত পাড়া সর্বজনীন পূজা মন্দির, পৌরসভার মঠ মন্দির ও বাজার সর্বজনীন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা জোরদারে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, স্বেচ্ছাসেবকদের তালিকা প্রস্তুত এবং জরুরি সেবার প্রয়োজনীয় নম্বর দৃশ্যমান স্থানে টাঙিয়ে রাখার পরামর্শ দেন পুলিশ সুপার।এ ছাড়া পূজামণ্ডপে সার্বক্ষণিক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত রাখা, নারী ও পুরুষের যাতায়াতের জন্য পৃথক পথের ব্যবস্থা করা, পর্যাপ্ত আলোর পাশাপাশি বিকল্প বিদ্যুতের জন্য জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।পুলিশ সুপার আজান ও নামাজের সময় মাইক বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়ে বলেন, দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এ জন্য পূজা উদযাপন কমিটি, স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।পরিদর্শনকালে গোয়ালন্দঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম, জেলা এনএসআই'র যুগ্ন পরিচালক এ.বি.এম. ফারুক, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি তদন্ত মো. হুমায়ুন রেজা সহ পুলিশের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ এবং পূজা উদযাপন কমিটির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ প্রমুখ।

গোয়ালন্দ পৌরসভার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, অর্থসহায়তা দিলেন বিএনপি নেতা নিজাম

মইনুল হক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ১৪টি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র প্রার্থী মো. নিজাম উদ্দিন শেখ। এ সময় তিনি নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে প্রতিটি পূজামণ্ডপে ৫ হাজার টাকা করে নগদ অর্থসহায়তা প্রদান করেন।সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পৌরসভার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং পূজার আয়োজন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।পরিদর্শনকালে প্রতিটি পূজামণ্ডপে ৫ হাজার টাকা করে অর্থসহায়তা প্রদান করেন নিজাম উদ্দিন শেখ। এতে পৌরসভার ১৪টি পূজামণ্ডপে মোট ৭০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়।এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোশাররফ আহম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আমজাদ হোসেন, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মো. সানেয়ার আহম্মেদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. আবু সাইদ মন্ডলসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়া আখড়া বাড়িতে লালন উৎসব ‘লালনের চর্চার মধ্য দিয়ে আত্মার অনুসন্ধান করি’

মইনুল হক মৃধা, রাজবাড়ীঃ বাউল সাধক ও দার্শনিক ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে দ্বিতীয় দিনে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় চলছে লালন উৎসব ও মেলা। লালন একাডেমি চত্বরে এ আয়োজন চলবে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত। তিনদিনের এ আয়োজনে থাকছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং লালন সংগীতের আসর।লালনের আখড়ায় দেখা হয় এক বাউল সাধকের সঙ্গে। মমিনুল শাহ নামের সেই সাধক প্রায় ২৫ বছর ধরে লালনচর্চা করছেন। তার বাড়ি বগুড়াতে।তিনি বলেন, ‘গুরু পরম্পরার যে ধারা, সেটা মোতাবেক গতকাল সন্ধ্যায় শুরু হয় মূল আয়োজন। যথারীতি রাতে অধিবাস সেবা ও পরদিন বাল্য সেবা ও দুপুরে পরিপূর্ণ পূর্ণ সেবা মধ্য দিয়ে আমাদের এই মিলনমেলা শেষ হবে।’লালনের বাণী থেকেই জীবনচর্চা করেন তারা। তিনি আরও বলেন, ‘লালন উৎসবকে ঘিরে মানুষের বিরল মেলা চলে এখানে। তবে এখানে এসে কিছুক্ষণ বসে বা ঘুরে চলে যাওয়া মধ্যে আসল শিক্ষনীয় বিষয়টি নেই। আমরা লালনকে শুদ্ধতার মধ্যে চর্চা করি, তার দর্শনকে আমরা ধারণ করি; সেবব কিন্তু সাঁইজির বাণী থেকেই এসেছে।’লালনের চর্চার মধ্য দিয়ে আত্মার অনুসন্ধান, সত্যের অন্বেষণে মানুষের আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে বলেই মনে করেন হৃদয় শাহ।তাঁর ভাষ্য, ‘যারা লালন সাঁইজির ধারক-বাহক, তাদের কাছে অনেক দর্শক আসেন। কিন্তু গুরু পরম্পরার যে বিষয়টি, সেটি নির্দিষ্ট নিয়মেই হয়। যেমন সবাইকে সবটা বললে যেমন বোঝাপরাটা তৈরি হবে না, ঠিক তেমনি অনুরাগ বা প্রেম না থাকলে শুদ্ধতার জায়গা তৈরি হবে না। তবে যে ভিড় দেখতে পাচ্ছি, এই ভিড়ের মধ্যে অবশ্যই সেই আলোকিত মানুষটি আছেন, যিনি অনেক দূর থেকে এসেছেন। তিনি বসে থাকার চেষ্টা করেন, কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন, চোখের আঙিনায় আসার চেষ্টা করেন। সত্যকে জানার চেষ্টা দিনদিন বেড়েই যাচ্ছে।’লালনের দর্শন মেনে মানবপ্রেমকে জাগ্রত করার আহ্বান জানিয়ে মমিনুল শাহ বলেন, ‘লালন উৎসবের যে ধারা, তাতে মানুষজনের ভিতরে নতুন করে তৃষ্ণা জাগছে। মানুষ তার দর্শনকে মনে নেয়ার চেষ্টা করছে। লালন সাঁইজির দর্শন গভীরের দর্শন, ভেতরের দর্শন। আমাদের আরো বেশি শুদ্ধতার প্রয়োজন। কেননা আমরা যদি আমাদের মানবপ্রেমকে আরো জাগ্রত করতে পারি, তাহলে শুধু ব্যক্তি নয় পরিবার নয়, সামাজিকতা নয়, রাষ্ট্রীয় নয়, সকলের ভিতরে নতুন করে মানবতার বীজ জাগ্রত করতে পারব।’

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৩ জন
১

রাজবাড়ীতে ৩২ বছর পর আ.লীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যানের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

২

স্মৃতি-গান আর আড্ডায় খানখানাপুর তমিজুদ্দিন খান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান

৩

পুরোনো রাউটারকে বানিয়ে ফেলুন ওয়াই-ফাই এক্সটেন্ডার

৪

গোয়ালন্দে ছয় মামলার আসামি, ডাকাত দলের সদস্য গ্রেপ্তার

৫

চামড়া সংরক্ষণে বিনামূল্যে ৩০ হাজার টন লবণ দেবে সরকার

৬

দৌলতদিয়ায় যৌনপল্লীর নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় ‘প্রজন্ম সোপান’প্রকল্পের উদ্বোধন

৭

অন্য কেউ আপনার জিমেইল ব্যবহার করছে? এখনই ব্যবস্থা না নিলে হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি!

৮

রাজবাড়ীতে দুই বন্ধু মিলে প্রেমিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ, তরুণকে আটক করে পুলিশে দিল এলাকাবাসী

৯

দৌলতদিয়া ঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও চাঁদাবাজি চলবে না - সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী মাহমুদ

১০

বাজেটে কৃষি খাতে ৪০ শতাংশ উন্নয়ন বরাদ্দের দাবি

জনপ্রিয় সব খবর
১

রোহান হত্যা: মূল পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজবাড়ীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

২

রাজবাড়ীতে ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষের পর ট্রাকচাপায় মাদ্রাসাছাত্র নিহত

৩

অসহায় রিকশাচালকের পাশে দাঁড়াল গোয়ালন্দ ও রাজবাড়ী বন্ধুসভা

৪

রাজবাড়ীর পদ্মায় বন্ধুদের সঙ্গে গোসলে নেমে নিখোঁজের ২২ ঘন্টা পর ভেসে উঠল শিশুর মরদেহ

৫

রাজবাড়ীর বরাটে ঘরোয়া ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল, চ্যাম্পিয়ন ওয়াসফি ওয়ারিয়র্স

৬

গোয়ালন্দ মহাসড়কে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান, জরিমানা ৬ হাজার টাকা

৭

দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে অভিযানে ৬ বোতল দেশীয় মদসহ গ্রেপ্তার ১

৮

হরিজনদের স্থায়ী বাসস্থান, বাড়বে বেতন, মন্দির সংস্কারে দেড় লাখ টাকা: রাজবাড়ীতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

৯

৮০ লাখ থেকে এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে গেছে: রাজবাড়ীতে তিতুমীর

১০

রাজবাড়ীতে পিয়ারুল হত্যা: সাবেক ছাত্রদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ২

সর্বশেষ সব খবর

 বানিজ্য বানিজ্য

৮০ লাখ থেকে এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে গেছে: রাজবাড়ীতে তিতুমীর

৮০ লাখ থেকে এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে গেছে: রাজবাড়ীতে তিতুমীর

হেলাল মাহমুদ, রাজবাড়ীঃ বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৮০ লাখ থেকে এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে দারিদ্র্য পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে রাজবাড়ী পৌরসভা মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। জেলা প্রশাসন আয়োজিত এ সভায় রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়াও উপস্থিত ছিলেন।রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘আমরা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। উত্তরাধিকার সূত্রে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি। মূল্যস্ফীতি ও দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৮০ লাখ থেকে এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে।’তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে অনেক মানুষকে তাঁদের সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে, আবার অনেককে ঋণ করতে হচ্ছে। বিনিয়োগ পরিস্থিতি, বিশেষ করে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের দুরবস্থার কারণে কর্মসংস্থানের সংকট বেড়েছে। যুব বেকারত্ব ও শিক্ষিত বেকারত্বও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) নিয়ে বিভিন্ন সংস্থা বিভিন্ন তথ্য দিচ্ছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল ধারণা ও বিকৃত তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু আগের সরকার এ ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তাঁর অভিযোগ, স্বজনপ্রীতি ও পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক ব্যবস্থার কারণে অর্থনীতির বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।তিনি বলেন, ব্যাংক খাতের সংস্কারে ৪০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া গ্যাস অনুসন্ধান ও টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিনিয়োগ বাড়াতে হলে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব কমাতে দক্ষতা উন্নয়নের বিকল্প নেই। এ জন্য শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে শিক্ষা খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ শতাংশ ব্যয় করা হবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।তিনি বলেন, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার পাশাপাশি সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশও প্রয়োজন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ২০ শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময়ে তা ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এখন উপজেলা পর্যায়ে ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

রাজবাড়ীতে মাস্টার জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টারের পরিচালকের জন্মদিন পালন

রাজবাড়ীতে মাস্টার জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টারের পরিচালকের জন্মদিন পালন

মঈনুল হক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর স্বনামধন্য ভাষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাস্টার জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টারের পরিচালক মোহাম্মদ রিপন আহমেদের জন্মদিন পালন করা হয়েছে। জন্মদিন উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাস্টার জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার এর শিক্ষক আহসান মাহমুদ। শিক্ষার্থীরা তাঁকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান এবং বিভিন্ন ধরনের উপহার সামগ্রী তার হাতে তুলে দেন।রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে রাজবাড়ী সরকারি কলেজ সংলগ্ন ভাষা সেন্টারের নিজস্ব কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি হতে এ পর্যন্ত ২২ জন শিক্ষার্থী জাপানে পাড়ি জমিয়েছেন এবং আরো ১০ জন শিক্ষার্থী জাপানের বিভিন্ন স্কুলে চূড়ান্ত হয়ে আছেন। যেকোনো দিন তারাও জাপানে পাড়ি জমাবেন।সেন্টারের শিক্ষার্থী মোহনা ইসলাম বলেন, আমাদের ভাষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও শিক্ষকগণ খুব যত্ন করে আমাদের জাপানি ভাষা শেখান। আজ আমাদের প্রতিষ্ঠানের পরিচালক রিপন স্যারের জন্মদিন। স্যারের জন্মদিন উপলক্ষে অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও দোয়া কামনা করছি।সেন্টারের পরিচালক রিপন আহমেদ সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আমি আজ অনেক খুশি। তিনি শিক্ষার্থীদের উন্নত জীবন কামনা করেন। তিনি বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানের লক্ষ ও উদ্দেশ্য হলো, শিক্ষার্থীদের জাপানি ভাষায় পারদর্শী করে জাপানে উচ্চ শিক্ষা ও উন্নত জীবনের জন্য পাঠিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা। সবাই আমার প্রতিষ্ঠানের জন্য দোয়া করবেন।

রাজবাড়ীর পাংশায় চাঁদা না পেয়ে প্রবাসীর পুকুরে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ, বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার

রাজবাড়ীর পাংশায় চাঁদা না পেয়ে প্রবাসীর পুকুরে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ, বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার

শামীম হোসাইন, পাংশা, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর পাংশায় জমিসংক্রান্ত বিরোধ ও চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক প্রবাসীর মাছের পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে কয়েক লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তাঁর মাছের প্রকল্পে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ আজ বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে কালাম মন্ডল নামের এক বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাংশা উপজেলার যশাই ইউনিয়নের নিভাকেষ্টপুর গ্রামে সিঙ্গাপুরপ্রবাসী মো. আসাদ মন্ডলের মাছের পুকুরে মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতের কোন এক সময় বিষ প্রয়োগ করা হয়। এতে পুকুরে থাকা প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার মাছ মারা যায় বলে দাবি করেছেন তিনি। আসাদ মন্ডল অভিযোগ করেন, প্রায় ১৬-১৭ বছর ধরে সিঙ্গাপুরে উপার্জন করা অর্থ দিয়ে তিনি এলাকায় মাছের প্রকল্প গড়ে তুলেছেন। সম্প্রতি যশাই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান প্রামাণিক এবং সাধারণ সম্পাদক কালাম মন্ডল তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।আসাদের ভাষ্য, এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বহিরাগত লোকজন নিয়ে তাঁর প্রকল্পে হামলা চালানো হয়। এ সময় সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করা হয় এবং পুকুরপাড়ের প্রায় ৫০ কাঁদি কলাগাছ কেটে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। হামলাকারীরা যাওয়ার সময় তাঁকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতের কোন এক সময় তাঁর পুকুরে বিষ প্রয়োগ করা হয় বলে জানান আসাদ মন্ডল। এতে পুকুরের অন্তত ৪৫ মণ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মারা যায়। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা। পাংশা মডেল থানার ওসি শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, বুধবার ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। পরবর্তীতে মামলার প্রধান আসামী বিএনপি নেতা কালাম মন্ডলকে বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরেই তাকে রাজবাড়ীর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

রাজবাড়ীতে পদ্মা নদীর এক কাতলা অর্ধ লক্ষ টাকা ও দুই বাগাড় ৪২ হাজারে বিক্রি

রাজবাড়ীতে পদ্মা নদীর এক কাতলা অর্ধ লক্ষ টাকা ও দুই বাগাড় ৪২ হাজারে বিক্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার আগে বুধবার রাতে পদ্মা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়া প্রায় ২২ কেজি ওজনের একটি কাতলা বিক্রি হয়েছে প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকায়। এছাড়া মহাবিপন্ন প্রাণী হিসেবে দুটি বাগাড় বিক্রি হয়েছে ৪২ হাজার টাকায়। বৃহস্পতিবার সকালে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট বাজারে কাতলা এবং বাগাড় দুটি বিক্রি হয়। স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানান, মা ইলিশ রক্ষায় বুধবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাত ১২টার পর থেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আগে বুধবার সন্ধ্যার পর পদ্মা নদীর মোহনায় মানিকগঞ্জের জাফরগঞ্জ অঞ্চলের জেলে সুরেশ হালদার সঙ্গীদের নিয়ে জাল ফেলেন। ভাটিতে ভাসার কিছুক্ষণ পর জালে প্রচÐ ঝাঁকুনি দিলে বুঝতে পারেন বড় কোনো মাছ আটকা পড়েছে। জাল টেনে নৌকায় তুলেই দেখতে পান বড় আকারের একটি পাঙ্গাশ। বিক্রির জন্য রাতেই দৌলতদিয়াঘাট বাজার রেজাউল মণ্ডলের আড়তে নিয়ে আসেন। এ সময় নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা পাঙ্গাশটি কিনেন।  দৌলতদিয়ার ৫ নম্বর ফেরি ঘাট এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা বলেন, বুধবার রাত ১০টার দিকে তিনি রেজাউল মণ্ডলের আড়তে পাঙ্গাশটি কেনার জন্য নিলামে শরিক হন। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে প্রায় ২২ কেজি ওজনের পাঙ্গাশ ২ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে ৪৭ হাজার ৫০০ টাকায় ক্রয় করেন। রাতেই ঢাকা আশুলিয়া এলাকার এক পরিচিত ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে কেজি প্রতি ১০০ টাকা করে লাভে ২ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে ৪৯ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি করেন। মাছটি বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর দেওয়া ঠিকানায় তিনি পরিবহযোগে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে দৌলতদিয়া ঘাট বাজারে অন্যান্য মাছের সঙ্গে কয়েকটি মহাবিপন্ন প্রাণী হিসেবে স্বীকৃত নিষিদ্ধ বাগাড় মাছ নিলামে বিক্রি হয়। এ সময় স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে প্রায় ১৫ কেজি এবং ১৩ কেজি ওজনের দুটি বাগাড় মাছ ক্রয় করেন। বাগাড় দুটি তিনি তাঁর ফেরিঘাট পন্টুনের সঙ্গে রশি দিয়ে বেধে রাখেন।  ফেরি ঘাট সংলগ্ন মৎস্য ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ বলেন, তিনি সকালে বাজারের রেজাউল মÐলের আড়তে দুটি বাগাড় দেখতে পেয়ে নিলামে শরীক হন। এ সময় সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে প্রায় ১৫ কেজি ওজনের বাগাড়টি ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে ২১ হাজার টাকায় ক্রয় করেন। একই সঙ্গে ১৩ কেজি ওজনের বাগাড়টি তিনি ১ হাজার ৩৫০ টাকা কেজি দরে ১৭ হাজার ৫০০ টাকায় ক্রয় করেন। শাহজাহান শেখ আরও বলেন, বাগাড় মাছ দুটি আজ সকালে শ্রীলঙ্কা প্রবাসী ব্রাম্মণবাড়িয়া এলাকার জহির উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে দরদাম শেষে ১৫ কেজির বাগাড়টি ১ হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে ২৪ হাজার টাকায় এবং ১৩ কেজির বাগাড়টি ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে ১৮ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করেন। পরে তাঁর দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী সকালেই বাগাড় দুটি পরিবহণযোগে পাঠিয়ে দেন। 

জাতীয়

রোহান হত্যা: মূল পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজবাড়ীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

রোহান হত্যা: মূল পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজবাড়ীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের কলেজছাত্র ফুহাদ চৌধুরী রোহান হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থের জোগানদাতাদের গ্রেপ্তার করে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা এবং মামলার বাদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে ‘এলাকাবাসী ও রোহানের সহপাঠীবৃন্দ’ ব্যানারে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে রোহানের স্বজন, সহপাঠী, এলাকাবাসী এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।মানববন্ধনে রোহানের বাবা ফরহাদ চৌধুরী অভিযোগ করেন, রাসেল সরদার, লিটন সরদার, মিলন সরদার, রাজীব সরদার, খোকন সরদার, টোকন সরদার ও সুমন সরদার বিদেশে অবস্থান করে নির্দেশনা ও অর্থের জোগান দিয়ে স্থানীয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে তাঁর ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে জড়িত কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও অভিযুক্ত ওই সাতজন এখনো বিদেশে রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।ফরহাদ চৌধুরী আরও অভিযোগ করেন, বিদেশে অবস্থানরত অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে, যা তিনি মিথ্যা বলে দাবি করেন। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে গ্রেপ্তার, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি।মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রাজবাড়ী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবিব ও রেজাউল করিম শিকদার পিন্টু, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ এহসানুল করিম চৌধুরী হিটু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান লিখন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেদ পাভেল, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খায়রুল আনাম বকুল, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল মালেক খান, জিয়া সৈনিক দলের সভাপতি মোহাব্বত হোসেন খোকন, ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম রোমানসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা।বক্তারা রোহান হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়টি যথাযথভাবে পর্যালোচনার আহ্বান জানান তাঁরা।স্মারকলিপিতে হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে এনে গ্রেপ্তার, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়।যেভাবে উদ্ধার হয় রোহানের মরদেহঃগত ৫ অক্টোবর বিকেল চারটার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন রোহান। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। তাঁর সন্ধান না পেয়ে পরদিন ৬ অক্টোবর রাজবাড়ী সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার। পরে ৮ অক্টোবর বিকেল পাঁচটার দিকে সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের পাকুড়িকান্দা গ্রামের দিলীপ সেনের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে রোহানের বস্তাবন্দী ও পেট কাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।এ ঘটনায় ৯ অক্টোবর রোহানের বাবা ফরহাদ চৌধুরী বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

৪ ঘন্টা আগে

 বিশ্ব বিশ্ব

বর্তমান সরকার টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার পুরো পরিকল্পনা করেছে -রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

বর্তমান সরকার টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার পুরো পরিকল্পনা করেছে -রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, বর্তমান সরকার টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার পুরো পরিকল্পনা যেমন করেছে, একই সঙ্গে সেই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে বলেই আমরা আশা করছি কিছু দিনের মধ্যে আমরা স্বস্তি পাবো। গ্রীষ্মকালে পুরোটাই স্বস্তি পাবো এবং আমাদের ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির জন্যে যে জ্বালানি কাঠামো দরকার, সেটাও নিশ্চিত করা হবে। রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের নিজ বাসভবনে অবস্থানকালে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে শুক্রবার দুপুরে অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা পদ্মা ব্যারাজের প্রস্তাবিত স্থান উপজেলার হাবাসপুর এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন-অর রশিদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি আসলাম মিয়া, জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে হাবাসপুর কে রাজ উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনসভা শেষে কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিদর্শন করেন। কুষ্টিয়া থেকে ফিরে সন্ধ্যায় নিজ বাসভবনে অবস্থান করেন। রাতে বাসভবনে অবস্থানকালে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাথে মতবিনিময়কালে উপদেষ্টা সৌর বিদ্যুৎ নিয়ে বলেন, সৌর বিদ্যুৎ আমরা যে কোন গ্রাহক থেকে উৎপাদন করতে পারি। কিন্তু অতিতের সরকার, পতিত সরকার যেহেতু আমদানী নির্ভরতা চেয়েছে, যেহেতু তার গোষ্ঠীর স্বার্থ নিশ্চিত করতে চেয়েছে। অলিগারকির শাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চেয়েছে, সেই জন্য কোনো উদ্যোগ নেয়নি। যাতে করে সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে যে সমস্ত উপকরণ লাগে, ইতিমধ্যেই সেই উপকরণগুলোর ক্ষেত্রে শুল্কো ব্যবস্থায় বড় রকমের পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে। একই সঙ্গে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে করে দেশের মধ্যেও সৌরবিদ্যুতের জন্যে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো তারা উৎপাদন করতে পারে। পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের মৌলিক সমস্যা পানির ক্ষেত্রে, অনেক সময় অনেক বেশি পানি থাকে, আবার কিছুদিন কোনো পানি থাকে না। অর্থাৎ টু মাস ওয়াটার, টু লিটেল ওয়াটার। যার কারনে আমাদের উৎপাদন কৃষি, প্রকৃতি, পরিবেশ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। আমাদের যেহেতু গঙ্গা, ব্রম্ম্রপুত্র, মেঘনা অববাহিকার ভাটির দেশ। উজানের পানির হিস্যা দরকার। এরকম পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের পানি সম্পদের মৌলিক পরিকল্পনা দরকার। নিশ্চিত করা দরকার কৃষক, প্রকৃতি, মৎস্যসহ সকল সম্পদ যাতে থাকে। সে কারনে দরকার নদীতে সঠিক পরিমান পানি থাকা এবং নদী থেকে যে শাখা নদী বা খাল আছে সেখানেও পানি থাকা দরকার। যাতে কৃষি উৎপাদন হোক, মৎস্য উৎপাদন হোক বা প্রকৃতির ভারসাম্যই হোক তা বজায় থাকা দরকার। এ জন্যই বর্তমান সরকার নির্বাচনে ইশতেহারে সার্বিক, সামগ্রিক, দেশব্যাপী পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক পানি থেকে ন্যায্য হিস্যার কথা বলেছে। তারই পদক্ষেপ হিসেবে পদ্মা ব্যারাজ একনেক অনুমোদন করেছে। 

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 রাজনীতি রাজনীতি

রোহান হত্যা: মূল পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজবাড়ীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

রোহান হত্যা: মূল পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজবাড়ীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের কলেজছাত্র ফুহাদ চৌধুরী রোহান হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থের জোগানদাতাদের গ্রেপ্তার করে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা এবং মামলার বাদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে ‘এলাকাবাসী ও রোহানের সহপাঠীবৃন্দ’ ব্যানারে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে রোহানের স্বজন, সহপাঠী, এলাকাবাসী এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।মানববন্ধনে রোহানের বাবা ফরহাদ চৌধুরী অভিযোগ করেন, রাসেল সরদার, লিটন সরদার, মিলন সরদার, রাজীব সরদার, খোকন সরদার, টোকন সরদার ও সুমন সরদার বিদেশে অবস্থান করে নির্দেশনা ও অর্থের জোগান দিয়ে স্থানীয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে তাঁর ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে জড়িত কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও অভিযুক্ত ওই সাতজন এখনো বিদেশে রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।ফরহাদ চৌধুরী আরও অভিযোগ করেন, বিদেশে অবস্থানরত অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে, যা তিনি মিথ্যা বলে দাবি করেন। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে গ্রেপ্তার, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি।মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রাজবাড়ী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবিব ও রেজাউল করিম শিকদার পিন্টু, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ এহসানুল করিম চৌধুরী হিটু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান লিখন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেদ পাভেল, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খায়রুল আনাম বকুল, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল মালেক খান, জিয়া সৈনিক দলের সভাপতি মোহাব্বত হোসেন খোকন, ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম রোমানসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা।বক্তারা রোহান হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়টি যথাযথভাবে পর্যালোচনার আহ্বান জানান তাঁরা।স্মারকলিপিতে হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে এনে গ্রেপ্তার, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়।যেভাবে উদ্ধার হয় রোহানের মরদেহঃগত ৫ অক্টোবর বিকেল চারটার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন রোহান। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। তাঁর সন্ধান না পেয়ে পরদিন ৬ অক্টোবর রাজবাড়ী সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার। পরে ৮ অক্টোবর বিকেল পাঁচটার দিকে সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের পাকুড়িকান্দা গ্রামের দিলীপ সেনের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে রোহানের বস্তাবন্দী ও পেট কাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।এ ঘটনায় ৯ অক্টোবর রোহানের বাবা ফরহাদ চৌধুরী বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

রাজবাড়ীর বরাটে ঘরোয়া ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল, চ্যাম্পিয়ন ওয়াসফি ওয়ারিয়র্স

রাজবাড়ীর বরাটে ঘরোয়া ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল, চ্যাম্পিয়ন ওয়াসফি ওয়ারিয়র্স

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নে বরাট একতা ক্লাব আয়োজিত ঘরোয়া ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফাইনালে ওয়াসফি ওয়ারিয়র্স ১-০ গোলে মিরাজ স্পোর্টিং ক্লাবকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে বরাট বাজারসংলগ্ন বরাট একতা ক্লাবের নিজস্ব মাঠে এ ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বরাট একতা ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গাজী আতাউর রহমানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কে. এ. সবুর শাহীন।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বরাট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কাজী সামসুদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক দিরাজ আলী শেখ, বরাট একতা ক্লাবের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার ইয়াকুব আলী খান, বরাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মেছের আলী খান এবং বরাট ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক। এ ছাড়া স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও ক্লাবের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বরাট একতা ক্লাবের সভাপতি ও বরাট ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ইমরুল হাসান বিশ্বাস (সাচ্চু)।টুর্নামেন্টের সার্বিক পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন বরাট একতা ক্লাবের ক্রীড়া সম্পাদক রাজন সরদার। এ ছাড়া সেলিম শেখ, শিপন মোল্যা, শাহিন আব্দুল্লাহ, মিনাল সরদার, চঞ্চল হুসাইন, জুলহাস মৃধা, আকাশ সরদার, কামরুল ইসলাম, সাকিব হোসেন, ওহিদ খান ও জয় টুর্নামেন্ট পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করেন।ফাইনাল খেলাটি উপভোগ করতে মাঠে সহস্রাধিক দর্শকের সমাগম ঘটে। দর্শকদের উপস্থিতিতে পুরো মাঠ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

হরিজনদের স্থায়ী বাসস্থান, বাড়বে বেতন, মন্দির সংস্কারে দেড় লাখ টাকা: রাজবাড়ীতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

শামীম শেখ ও মঈন মৃধা, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে হরিজন সম্প্রদায়ের ৫০টি পরিবারের স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা, পৌরসভা ও উপজেলা থেকে পাওয়া বেতনের বাইরে মাসে আরও এক হাজার টাকা করে দেওয়া এবং মন্দির সংস্কারে দেড় লাখ টাকা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে গোয়ালন্দ উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এসব আশ্বাস দেন।পরিদর্শনের একপর্যায়ে গোয়ালন্দ পৌরসভার রেলস্টেশন-সংলগ্ন হরিজন সার্বজনীন পূজামণ্ডপে যান প্রতিমন্ত্রী। সেখানে হরিজন সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন।এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রেলের পাশে তোমাদের আর থাকতে হবে না। আগে জায়গার ব্যবস্থা করা হবে। এরপর সেই জায়গায় তোমাদের ৫০টি পরিবারের জন্য আলাদা আলাদা প্লটের মাধ্যমে ঘর তৈরি করে দেওয়া হবে। তোমাদের স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। তোমরা আমার কাছ থেকে সবকিছু আদায় করে নেবে।’তিনি আরও বলেন, ‘তোমরা এখন পৌরসভা ও উপজেলা থেকে যে বেতন পাও, তার সঙ্গে প্রতি মাসে আরও এক হাজার টাকা করে অতিরিক্ত পাবে। এ ছাড়া তোমাদের মন্দির সংস্কারের জন্য দেড় লাখ টাকা দিয়ে সহযোগিতা করা হবে।’শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রসঙ্গে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপন করতে দেখে আসছেন। এ উৎসবের আনন্দ সবাই মিলে ভাগাভাগি করে উপভোগ করেন। তিনি বলেন, ‘এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ বা সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই। আমরা সবাই বাঙালি ও বাংলাদেশি।’প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে বিশ্বাসী। রাষ্ট্র সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে।তিনি আরও বলেন, সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ও বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হবে।এ সময় উপস্থিত ছিলেন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুনতাসির হাসান খান, রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আজমল হোসেন, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবলু, সাবেক সদস্যসচিব নাজিরুল ইসলাম তিতাস, গোয়ালন্দ পৌর বিএনপির সহসভাপতি মাহবুবুল আলম শাহীনসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।

হরিজনদের স্থায়ী বাসস্থান, বাড়বে বেতন, মন্দির সংস্কারে দেড় লাখ টাকা: রাজবাড়ীতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

৮০ লাখ থেকে এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে গেছে: রাজবাড়ীতে তিতুমীর

হেলাল মাহমুদ, রাজবাড়ীঃ বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৮০ লাখ থেকে এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে দারিদ্র্য পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে রাজবাড়ী পৌরসভা মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। জেলা প্রশাসন আয়োজিত এ সভায় রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়াও উপস্থিত ছিলেন।রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘আমরা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। উত্তরাধিকার সূত্রে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি। মূল্যস্ফীতি ও দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৮০ লাখ থেকে এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে।’তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে অনেক মানুষকে তাঁদের সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে, আবার অনেককে ঋণ করতে হচ্ছে। বিনিয়োগ পরিস্থিতি, বিশেষ করে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের দুরবস্থার কারণে কর্মসংস্থানের সংকট বেড়েছে। যুব বেকারত্ব ও শিক্ষিত বেকারত্বও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) নিয়ে বিভিন্ন সংস্থা বিভিন্ন তথ্য দিচ্ছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল ধারণা ও বিকৃত তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু আগের সরকার এ ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তাঁর অভিযোগ, স্বজনপ্রীতি ও পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক ব্যবস্থার কারণে অর্থনীতির বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।তিনি বলেন, ব্যাংক খাতের সংস্কারে ৪০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া গ্যাস অনুসন্ধান ও টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিনিয়োগ বাড়াতে হলে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব কমাতে দক্ষতা উন্নয়নের বিকল্প নেই। এ জন্য শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে শিক্ষা খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ শতাংশ ব্যয় করা হবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।তিনি বলেন, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার পাশাপাশি সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশও প্রয়োজন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ২০ শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময়ে তা ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এখন উপজেলা পর্যায়ে ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

৮০ লাখ থেকে এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে গেছে: রাজবাড়ীতে তিতুমীর

রাজবাড়ীতে পিয়ারুল হত্যা: সাবেক ছাত্রদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ২

ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী শহরে পিয়ারুল সরদার (৩০) নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ছাত্রদলের সাবেক এক নেতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. শামীম আহসান (৩৬) ও মো. সুমন মণ্ডল (৩৫)। শামীমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বাড়ি থেকে পিস্তলের ১১টি গুলি জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোররাতে ফরিদপুর শহরতলি থেকে শামীম আহসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি রাজবাড়ী সদর উপজেলার শহীদওহাবপুর ইউনিয়নের আহলাদীপুর বারইপাড়া গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে। তিনি জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে। একই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত সোমবার ফরিদপুরের মধুখালী এলাকা থেকে সুমন মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি রাজবাড়ী পৌর শহরের সজ্জনকান্দা এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে।পুলিশ জানায়, শামীমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তাঁর বাড়ি থেকে পলিথিনে মোড়ানো ১১টি পিস্তলের গুলি জব্দ করা হয়। মঙ্গলবার বিকেলে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে সুমনকে আদালতে পাঠানো হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। তাঁর জবানবন্দিতে শামীমের নাম উঠে আসে বলে পুলিশ জানিয়েছে।গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪০ মিনিটে রাজবাড়ী শহরের সজ্জনকান্দা মধ্যপাড়া মসজিদসংলগ্ন রাজনের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এশার নামাজের পর পিয়ারুল সেখানে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে হেলমেট পরা চারজন এসে তাঁর কাছে থামেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁদের একজন খুব কাছ থেকে পিয়ারুলকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। গুলিটি তাঁর বুকের বাঁ পাশে লাগে। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।পরে স্থানীয় লোকজন পিয়ারুলকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে নিয়ে যাওয়ার পথে রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে গোয়ালন্দ মোড়ে পৌঁছালে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে তাঁকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।এ ঘটনায় গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে পিয়ারুলের স্ত্রী ফারজানা হক বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ২০।নিহত পিয়ারুল সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বড় মুরারিপুর গ্রামের হারুন সরদারের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে রাজবাড়ী সদরসহ বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, হত্যা, মাদক ও দস্যুতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ১৪টি মামলা রয়েছে।রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, পিয়ারুল হত্যা মামলায় ১১টি গুলিসহ শামীম আহসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে সুমন মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

রাজবাড়ীতে পিয়ারুল হত্যা: সাবেক ছাত্রদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ২

সবার অংশগ্রহণে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ব: রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

মঈনুল হক, রাজবাড়ীঃ প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, বাংলাদেশ এখন একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সবার অংশগ্রহণ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। সবাইকে নিয়ে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। সবার অংশগ্রহণে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপদেষ্টা প্রথমে গোয়ালন্দ পৌরসভার বিজয় বাবুরপাড়া বড়বাড়ি সার্বজনীন পূজামণ্ডপ (মঠ মন্দির) পরিদর্শন করেন। পরে তিনি গোয়ালন্দ বাজার হরিজন সম্প্রদায়ের সার্বজনীন পূজামণ্ডপ, গোয়ালন্দ বাজার গরুহাট সার্বজনীন পূজামণ্ডপ ও বালক সমিতির সার্বজনীন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি রাজবাড়ী জেলা শহরের বিভিন্ন মন্দির পরিদর্শন করেন।পরিদর্শনকালে অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে যে দর্শন তুলে ধরেছেন, তা হলো—সবার আগে বাংলাদেশ, সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশ। গত ১৭ বছরে দেশে দুঃশাসন ও নিপীড়নের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেই ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সবার সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ প্রয়োজন।তিনি বলেন, উৎসব-পার্বণে সব মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সব ধর্মের মানুষের পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, সেবায়েতসহ ধর্মীয় ব্যক্তিদের সম্মান জানিয়েছে। পারস্পরিক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে।রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষও সবার মতোই মানুষ। সবার বড় পরিচয়, আমরা মানুষ এবং সবাই একই সৃষ্টিকর্তার সন্তান। দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে দৃষ্টান্ত রয়েছে, তা ধরে রাখতে হবে। নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে জনগণ সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে। এই অধিকার ও গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে।তিনি আরও বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সবাই অংশগ্রহণ করতে পারবেন। বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে নিয়ে কাজ করতে হবে। নারীদের সম্মান অটুট রাখতে হবে। সমাজে সম্প্রীতি, সম্মানবোধ ও মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যথাযথ পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং মাদকের অভিশাপ থেকে সমাজকে মুক্ত করতে হবে।এ সময় রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. তারিফ-উল হাসান, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদা, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম, গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. নিজাম উদ্দিন শেখ, সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ আহমেদ, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মোল্লাসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা এবং পূজামণ্ডপ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সবার অংশগ্রহণে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ব: রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

 খেলা খেলা

সকল জেলার খবর

 সাহিত্য সাহিত্য

আর্কাইভ

কৃষকের জানালা

হরিজনদের স্থায়ী বাসস্থান, বাড়বে বেতন, মন্দির সংস্কারে দেড় লাখ টাকা: রাজবাড়ীতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

হরিজনদের স্থায়ী বাসস্থান, বাড়বে বেতন, মন্দির সংস্কারে দেড় লাখ টাকা: রাজবাড়ীতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

শামীম শেখ ও মঈন মৃধা, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে হরিজন সম্প্রদায়ের ৫০টি পরিবারের স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা, পৌরসভা ও উপজেলা থেকে পাওয়া বেতনের বাইরে মাসে আরও এক হাজার টাকা করে দেওয়া এবং মন্দির সংস্কারে দেড় লাখ টাকা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে গোয়ালন্দ উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এসব আশ্বাস দেন।পরিদর্শনের একপর্যায়ে গোয়ালন্দ পৌরসভার রেলস্টেশন-সংলগ্ন হরিজন সার্বজনীন পূজামণ্ডপে যান প্রতিমন্ত্রী। সেখানে হরিজন সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন।এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রেলের পাশে তোমাদের আর থাকতে হবে না। আগে জায়গার ব্যবস্থা করা হবে। এরপর সেই জায়গায় তোমাদের ৫০টি পরিবারের জন্য আলাদা আলাদা প্লটের মাধ্যমে ঘর তৈরি করে দেওয়া হবে। তোমাদের স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। তোমরা আমার কাছ থেকে সবকিছু আদায় করে নেবে।’তিনি আরও বলেন, ‘তোমরা এখন পৌরসভা ও উপজেলা থেকে যে বেতন পাও, তার সঙ্গে প্রতি মাসে আরও এক হাজার টাকা করে অতিরিক্ত পাবে। এ ছাড়া তোমাদের মন্দির সংস্কারের জন্য দেড় লাখ টাকা দিয়ে সহযোগিতা করা হবে।’শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রসঙ্গে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপন করতে দেখে আসছেন। এ উৎসবের আনন্দ সবাই মিলে ভাগাভাগি করে উপভোগ করেন। তিনি বলেন, ‘এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ বা সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই। আমরা সবাই বাঙালি ও বাংলাদেশি।’প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে বিশ্বাসী। রাষ্ট্র সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে।তিনি আরও বলেন, সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ও বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হবে।এ সময় উপস্থিত ছিলেন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুনতাসির হাসান খান, রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আজমল হোসেন, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবলু, সাবেক সদস্যসচিব নাজিরুল ইসলাম তিতাস, গোয়ালন্দ পৌর বিএনপির সহসভাপতি মাহবুবুল আলম শাহীনসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।

আইন-কানুন

রোহান হত্যা: মূল পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজবাড়ীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

রোহান হত্যা: মূল পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজবাড়ীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের কলেজছাত্র ফুহাদ চৌধুরী রোহান হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থের জোগানদাতাদের গ্রেপ্তার করে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা এবং মামলার বাদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে ‘এলাকাবাসী ও রোহানের সহপাঠীবৃন্দ’ ব্যানারে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে রোহানের স্বজন, সহপাঠী, এলাকাবাসী এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।মানববন্ধনে রোহানের বাবা ফরহাদ চৌধুরী অভিযোগ করেন, রাসেল সরদার, লিটন সরদার, মিলন সরদার, রাজীব সরদার, খোকন সরদার, টোকন সরদার ও সুমন সরদার বিদেশে অবস্থান করে নির্দেশনা ও অর্থের জোগান দিয়ে স্থানীয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে তাঁর ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে জড়িত কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও অভিযুক্ত ওই সাতজন এখনো বিদেশে রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।ফরহাদ চৌধুরী আরও অভিযোগ করেন, বিদেশে অবস্থানরত অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে, যা তিনি মিথ্যা বলে দাবি করেন। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে গ্রেপ্তার, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি।মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রাজবাড়ী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবিব ও রেজাউল করিম শিকদার পিন্টু, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ এহসানুল করিম চৌধুরী হিটু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান লিখন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেদ পাভেল, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খায়রুল আনাম বকুল, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল মালেক খান, জিয়া সৈনিক দলের সভাপতি মোহাব্বত হোসেন খোকন, ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম রোমানসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা।বক্তারা রোহান হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়টি যথাযথভাবে পর্যালোচনার আহ্বান জানান তাঁরা।স্মারকলিপিতে হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে এনে গ্রেপ্তার, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়।যেভাবে উদ্ধার হয় রোহানের মরদেহঃগত ৫ অক্টোবর বিকেল চারটার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন রোহান। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। তাঁর সন্ধান না পেয়ে পরদিন ৬ অক্টোবর রাজবাড়ী সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার। পরে ৮ অক্টোবর বিকেল পাঁচটার দিকে সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের পাকুড়িকান্দা গ্রামের দিলীপ সেনের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে রোহানের বস্তাবন্দী ও পেট কাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।এ ঘটনায় ৯ অক্টোবর রোহানের বাবা ফরহাদ চৌধুরী বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

৪ ঘন্টা আগে

 বিনোদন বিনোদন

রাজবাড়ীর কালুখালীতে শেষ হলো তিন দিনের নৌকাবাইচ, বিজয়ী পাবনার নিউ শাপলা

রাজবাড়ীর কালুখালীতে শেষ হলো তিন দিনের নৌকাবাইচ, বিজয়ী পাবনার নিউ শাপলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ আবহমান বাংলার ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে রাজবাড়ীর কালুখালীতে শেষ হলো তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলা। কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের মহেন্দ্রপুর খেয়াঘাট সংলগ্ন পদ্মার শাখা নদীতে বুধবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। পাবনার আমিনপুর উপজেলার চর গোবিন্দপুর থেকে আসা নৌকাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় পাবনার সৈয়দপুরের নিউ শাপলা নৌকা। এছাড়া প্রতিযোগিতায় চর গোবিন্দপুরের নৌকা দ্বিতীয় এবং খয়রান একতা চ্যালেঞ্জার নামক নৌকা তৃতীয় স্থান অর্জন করে। প্রতিযোগিতায় মোট ৮টি নৌকা অংশ গ্রহণ করে। বিজয়ী নৌকাকে মোটরসাইকেল এবং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী নৌকাগুলোর মধ্যে রিফ্রেজারেটর প্রদান করা হয়।পদ্মার পাড়ে তিন দিনব্যাপী নৌকা বাইচ এবং গ্রামীণ মেলায় দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় পড়ে। মুখরোচক খাবার সহ নানা ধরনের পণ্যের পসরা বসে পদ্মার পাড়ে। মেলা ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ আর উদ্দীপনা দেখা দেয়। কালুখালীসহ আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে মহেন্দ্রপুর পদ্মার পাড়ে জড়ো হন।মহেন্দ্রপুর খেয়াঘাট মেলা কমিটির আয়োজনে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান তোতার সঞ্চালনায় নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় উপস্থিত ছিলেন, পাংশা উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ আলী খান, পাংশা পৌর বিএনপির সভাপতি বাহারাম হোসেন সরদার, কালুখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি লুৎফর রহমান খান, রাজবাড়ী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব তুহিনুর রহমান, কালুখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রকিবুল হাসান প্রমূখ। এছাড়াও অনুষ্ঠান উপভোগ করতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।  সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিন দিনব্যাপী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলার উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কালুখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোটেক রকিবুল হাসান, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহŸায়ক কে এম আইনুল হাবীব, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মনজুর হোসেন মঞ্জু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব তুহিনুর রহমান, কালুখালী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জামাল খান প্রমূখ। উদ্বোধনী দিনে চারটি নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে। প্রথম প্রতিযোগিতায় উলাট একতা এক্সপ্রেসকে হারিয়ে বিজয়ী হয় ‘নিউ শাপলা’ নামক নৌকা। দ্বিতীয় বাইচে ‘চর গোবিন্দপুরের নৌকা’কে হারিয়ে বিজয়ী হয় ‘নিউ জনতার সংগ্রাম’, তৃতীয় বাইচে হয় ‘দুলদুল এক্সপ্রেস’কে হারিয়ে বিজয়ী হয় ‘খয়রানা একতা চ্যালেঞ্জার’ এবং শেষ বাইচে ‘কুষ্টিয়ার লালন’কে হারিয়ে বিজয়ী হয় পাবনার সুজানগরের ‘শিমুল একতা এক্সপ্রেস’। আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব তুহিনুর রগমান বলেন, নৌকাবাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি আবহমান গ্রামবাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হারিয়ে যেতে বসা এ ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এমন আয়োজন করা হয়েছে।

মনসুর উল করিম বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনের উজ্জল নক্ষত্র - সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

মনসুর উল করিম বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনের উজ্জল নক্ষত্র - সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

সুমন বিশ্বাস, রাজবাড়ীঃ একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিমের ৭৬ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজবাড়ীতে নানা আয়োজনে স্মরণ করা হয়েছে এই গুণী শিল্পীকে। শনিবার রাজবাড়ী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মনসুর উল করিম স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং কেক কাটার মধ্য দিয়ে জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, "মনসুর উল করিম শুধু রাজবাড়ীর নন, তিনি বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। রাজবাড়ীর মাটিতে তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। তাঁর সৃষ্টিকর্ম আজও শিল্পপ্রেমীদের অনুপ্রাণিত করে। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর শিল্পকর্ম ও জীবনাদর্শ তুলে ধরতে আমাদের আরও উদ্যোগী হতে হবে।"প্রতিমন্ত্রী বলেন, "রাজবাড়ীর সাংস্কৃতিক বিকাশে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জেলার শিল্প-সংস্কৃতির প্রসারে একটি আধুনিক কালচারাল কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই এর নির্মাণকাজ শুরু হবে। এছাড়া রাজবাড়ীর অ্যাক্রোবেটিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে আরও আধুনিক ও কার্যকরভাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি ভবিষ্যতে জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।" মনসুর উল করিম স্মৃতি পরিষদের আহ্বায়ক কবি খোকন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল, চিত্রশিল্পী মনসুর করিম স্মৃতি সংসদের সদস্য সচিব আজিজা খানম, উপদেষ্টা চৌধুরী আহসানুল করিম হিটু, নূরুল হক আলম, জেলা কালচারাল অফিসার সুজিত কুমার সাহা, মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি সংসদের আহ্বায়ক কবি সালাম তাসির, রাজবাড়ী বাংলা একাডেমির সভাপতি সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমানসহ চিত্রশিল্পী মনসুর করিম স্মৃতি সংসদের অন্যান্য সদস্য, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।আলোচনা সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিম তাঁর সৃষ্টিশীলতা, নান্দনিক চিন্তা ও শিল্পকর্মের মাধ্যমে দেশের শিল্পাঙ্গনে অনন্য অবদান রেখে গেছেন। তাঁর স্মৃতি ও কর্ম নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।পরে অতিথিরা কেক কেটে মনসুর উল করিমের ৭৬ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করেন। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।উল্লেখ্য, চিত্রশিল্পী মনসুর উল করিম ১৯৫০ সালের ১৪ জুলাই রাজবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ শিল্পজীবনে তিনি দেশ-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করেন এবং শিল্পকলায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে একুশে পদকে ভূষিত হন। ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর শিল্পকর্ম আজও বাংলাদেশের চারুকলার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।

রাজবাড়ীতে উদীচীর গান, নৃত্য ও ফলাহারে বর্ষা উৎসব অনুষ্ঠিত

আব্দুল হালিম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে গান, নৃত্য ও ফলাহারের মধ্য দিয়ে উদীচীতে বর্ষা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী রাজবাড়ী জেলা কমিটির উদ্যোগে শহরের আজাদী ময়দান সংলগ্ন সংগঠনের মিলনায়তনে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়।আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা উদীচীর সহসভাপতি আজিজুল হাসান খোকা। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা উদীচীর সংগীত বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল জব্বার। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উদীচী কেন্দ্রীয় কমিটির সংগীত বিষয়ক সম্পাদক সুরাইয়া পারভীন, সদস্য শিখা কর্মকার। এতে স্মৃতিচারণ মূলক বক্তব্য দেন জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কমরেড আব্দুস সামাদ মিয়া, রাজবাড়ী নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফকীর শাহাদত হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা চিত্রশিল্পী মো. গোলাম আলী, রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক এম দেলোয়ার হোসেন, রাজবাড়ী বৈচিত্র্য সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি আজাদ সিদ্দিকী মিলন, জেলা উদীচীর সাংগঠনিক সম্পাদক ধীরেন্দ্র নাথ দাস প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক এজাজ আহম্মেদ।  বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ছয়টি ঋতুর মধ্যে বর্ষা ঋতু হলো মধুর ঋতু। এই ঋতু শুরু হলে প্রকৃতি হাঁসে। প্রকৃতি জীবন্ত হয়ে ওঠে। চারপাশ সবুজে ভরে যায়। প্রবীণ তার কৈশোরে ফিরে যায়। তবে মানুষ আজ প্রকৃতি ধ্বংস করে ফেলছে। নিয়মিত বনায়ন ধ্বংস করা হচ্ছে। একারণে বর্ষার প্রকৃত রূপ এখন আর দেখা যায় না। বর্ষাকে বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের বেশি বেশি গাছ রোপণ করতে হবে। প্রকৃতি সুন্দর হলে এই পৃথিবী আরও সুন্দর হবে।অনুষ্ঠানে উদীচী ও রাবেয়া কাদের স্মৃতি পাঠাগারের শিল্পীরা সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা করেন

রাজবাড়ীতে উদীচীর গান, নৃত্য ও ফলাহারে বর্ষা উৎসব অনুষ্ঠিত

গোয়ালন্দে নজরুল বর্ষের শুভ উদ্বোধন

মঈনুল হক, গোয়ালন্দ রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে ঘোষিত নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭ এর শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানের শুরুতে ভার্চ্যুয়ালি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ টেলিকাস্ট) উপভোগ করেন উপস্থিত অতিথি ও দর্শকরা। পরে স্থানীয়ভাবে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাসের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি (তদন্ত) মো. রাশিদুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার দাস, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু মোল্লা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবলু, নাজিরুল ইসলাম তিতাস, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মোল্লা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আবু সাঈদ মণ্ডল সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।উপজেলা প্রশাসন জানায়, তিন দিনব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে প্রথম দিনে আলোচনা সভা, উদ্ভোধনী সংগীত (চল চল), সমবেত সংগীত, সমবেত নৃত্য, আবৃত্তি, একক সংগীত ও নৃত্য, দ্বিতীয় দিনে নজরুলের উপর রচনা, আবৃত্তি, নজরুল সংগীত ও নৃত্য প্রতিযোগিতা, তৃতীয় দিনে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে লালন, দেশত্ববোধক, ভাটিয়ালি সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনা সভায় বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর জীবন, সাহিত্যকর্ম, দেশপ্রেম, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, বিদ্রোহ, সাম্য ও মানবতার কবি নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত আজও বাঙালির স্বাধীনতার চেতনা, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মূল্যবোধের অন্যতম প্রেরণার উৎস। নতুন প্রজন্মের মাঝে নজরুলের আদর্শ, সাহিত্য ও সংগীত ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা মন্তব্য করেন।আলোচনা সভা শেষে নজরুল সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, দর্শন ও সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।

গোয়ালন্দে নজরুল বর্ষের শুভ উদ্বোধন

রাজবাড়ীতে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে দেশব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’-এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি দেশের ৬৪ জেলা এবং নির্বাচিত ৭৪টি উপজেলায় একযোগে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’-এর স্মারক ও ডাক টিকিট অবমুক্ত, লোগো উন্মোচন ও নজরুল বর্ষের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে রাজবাড়ীতেও শুরু হলো ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭-এর কর্মসূচি। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে বছরব্যাপী নানা সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক আয়োজনের মাধ্যমে এ বর্ষ উদযাপন করা হবে।সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি বক্তব্য রাখেন।বিশেষ অতিথি হিসেবে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি; তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডাঃ জাহেদ উর রহমান ও মন্ত্রী পরিষদের সচিব ডঃ নাসিমুল গনি বক্তব্য।এদিকে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মিয়া, সিভিল সার্জন ডাঃ এস এম মাসুদ, স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক কল্যাণ চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ তারিফ-উল-হাসান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ্যাডঃ লিয়াকত আলী বাবু, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবীব, রাজবাড়ী সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজে অধ্যক্ষ প্রফেসর রেজভি জামান, রাজবাড়ী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর মোস্তফা কামাল সহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিসহ সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বছরব্যাপী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।উল্লেখ্য, গত ২৫ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে এ বছরের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত এক বছর নজরুল বর্ষ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।

রাজবাড়ীতে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরান দলকে সমর্থন

সোহাগ মিয়া, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের হামিদ মৃধার হাট এলাকায় ব্যতিক্রমী ঘটনার জন্ম দিয়েছেন আলাল মোল্লা নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে সে এলাকায় আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের ঘোর সমর্থক হিসেবে পরিচিত থাকলেও এবার তিনি প্রকাশ্যে দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরান ফুটবল দলের সমর্থক হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এমন ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাত ৯টার দিকে হামিদ মৃধার হাট বাজারে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে আলাল মোল্লা তাঁর কর্মী সমর্থকদের জড়ো হন। এ সময় তিনি দুধ দিয়ে গোসল করে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নতুন ইসলামী রাষ্ট্র ইরানের পক্ষে অবস্থানের কথা ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণার পর মুহূর্তেই তাঁর কর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তোলে। একই সাথে বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। বাজারে উপস্থিত অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেন, আবার কেউ কেউ বিষয়টিকে ব্যক্তিগত পছন্দ ও মতামতের স্বাধীনতা হিসেবেও দেখেন।আলাল মোল্লা বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক ছিলাম। তবে ব্যক্তিগত চিন্তা-ভাবনা ও ধর্মীয় অনুভূতি থেকে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আজ থেকে আমি ইরান দলকে সমর্থন করব। আমি আর কখনো আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেব না। এজন্য দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরান ফুটবল দলের সমর্থক হয়েছি।তার এই ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয় যুবকদের মধ্যে কেউ বিষয়টিকে মজার ঘটনা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে একজন সমর্থকের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন।স্থানীয় হামিদ মৃধা হাট এরাকার আক্কাস সরদার, আব্বাস মোল্লা, জামাল হোসেন, হারুন ব্যাপারী সহ অনেকে জানান, সাধারণত ফুটবল দল পরিবর্তনের ঘটনা নতুন নয়। তবে প্রকাশ্যে দুধ দিয়ে গোসল করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে এক দলের সমর্থন ছেড়ে অন্য দলের প্রতি সমর্থন জানানোর ঘটনা এলাকায় খুব একটা দেখা যায় না। ফলে আলাল মোল্লার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।এ বিষয়ে স্থানীয় নুরুল ইসলাম, আহম্মদ আলী শেখ সহ অনেকের ভাষ্য, খেলাধুলা মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। যে কেউ নিজের পছন্দ অনুযায়ী যে কোনো দলকে সমর্থন করতে পারেন। আলাল মোল্লার এই ঘোষণাও তার ব্যক্তিগত মতামত ও পছন্দেরই বহিঃপ্রকাশ।ব্যতিক্রমী এই দলবদলের ঘটনা এখন গোয়ালন্দের হামিদ মৃধার হাট সহ আশপাশের এলাকায় আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।

দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরান দলকে সমর্থন

 মতামত মতামত

রোহান হত্যা: মূল পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজবাড়ীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

রোহান হত্যা: মূল পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজবাড়ীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের কলেজছাত্র ফুহাদ চৌধুরী রোহান হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থের জোগানদাতাদের গ্রেপ্তার করে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা এবং মামলার বাদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে ‘এলাকাবাসী ও রোহানের সহপাঠীবৃন্দ’ ব্যানারে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে রোহানের স্বজন, সহপাঠী, এলাকাবাসী এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।মানববন্ধনে রোহানের বাবা ফরহাদ চৌধুরী অভিযোগ করেন, রাসেল সরদার, লিটন সরদার, মিলন সরদার, রাজীব সরদার, খোকন সরদার, টোকন সরদার ও সুমন সরদার বিদেশে অবস্থান করে নির্দেশনা ও অর্থের জোগান দিয়ে স্থানীয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে তাঁর ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে জড়িত কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও অভিযুক্ত ওই সাতজন এখনো বিদেশে রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।ফরহাদ চৌধুরী আরও অভিযোগ করেন, বিদেশে অবস্থানরত অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে, যা তিনি মিথ্যা বলে দাবি করেন। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে গ্রেপ্তার, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি।মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রাজবাড়ী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবিব ও রেজাউল করিম শিকদার পিন্টু, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ এহসানুল করিম চৌধুরী হিটু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান লিখন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেদ পাভেল, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খায়রুল আনাম বকুল, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল মালেক খান, জিয়া সৈনিক দলের সভাপতি মোহাব্বত হোসেন খোকন, ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম রোমানসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা।বক্তারা রোহান হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়টি যথাযথভাবে পর্যালোচনার আহ্বান জানান তাঁরা।স্মারকলিপিতে হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে এনে গ্রেপ্তার, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়।যেভাবে উদ্ধার হয় রোহানের মরদেহঃগত ৫ অক্টোবর বিকেল চারটার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন রোহান। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। তাঁর সন্ধান না পেয়ে পরদিন ৬ অক্টোবর রাজবাড়ী সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার। পরে ৮ অক্টোবর বিকেল পাঁচটার দিকে সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের পাকুড়িকান্দা গ্রামের দিলীপ সেনের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে রোহানের বস্তাবন্দী ও পেট কাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।এ ঘটনায় ৯ অক্টোবর রোহানের বাবা ফরহাদ চৌধুরী বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

৪ ঘন্টা আগে

 স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

রোহান হত্যা: মূল পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজবাড়ীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

রোহান হত্যা: মূল পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজবাড়ীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

ইমরান মনিম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের কলেজছাত্র ফুহাদ চৌধুরী রোহান হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থের জোগানদাতাদের গ্রেপ্তার করে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা এবং মামলার বাদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে ‘এলাকাবাসী ও রোহানের সহপাঠীবৃন্দ’ ব্যানারে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে রোহানের স্বজন, সহপাঠী, এলাকাবাসী এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।মানববন্ধনে রোহানের বাবা ফরহাদ চৌধুরী অভিযোগ করেন, রাসেল সরদার, লিটন সরদার, মিলন সরদার, রাজীব সরদার, খোকন সরদার, টোকন সরদার ও সুমন সরদার বিদেশে অবস্থান করে নির্দেশনা ও অর্থের জোগান দিয়ে স্থানীয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে তাঁর ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে জড়িত কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও অভিযুক্ত ওই সাতজন এখনো বিদেশে রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।ফরহাদ চৌধুরী আরও অভিযোগ করেন, বিদেশে অবস্থানরত অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে, যা তিনি মিথ্যা বলে দাবি করেন। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে গ্রেপ্তার, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি।মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রাজবাড়ী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবিব ও রেজাউল করিম শিকদার পিন্টু, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ এহসানুল করিম চৌধুরী হিটু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান লিখন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেদ পাভেল, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খায়রুল আনাম বকুল, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল মালেক খান, জিয়া সৈনিক দলের সভাপতি মোহাব্বত হোসেন খোকন, ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম রোমানসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা।বক্তারা রোহান হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়টি যথাযথভাবে পর্যালোচনার আহ্বান জানান তাঁরা।স্মারকলিপিতে হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে এনে গ্রেপ্তার, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়।যেভাবে উদ্ধার হয় রোহানের মরদেহঃগত ৫ অক্টোবর বিকেল চারটার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন রোহান। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। তাঁর সন্ধান না পেয়ে পরদিন ৬ অক্টোবর রাজবাড়ী সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার। পরে ৮ অক্টোবর বিকেল পাঁচটার দিকে সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের পাকুড়িকান্দা গ্রামের দিলীপ সেনের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে রোহানের বস্তাবন্দী ও পেট কাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।এ ঘটনায় ৯ অক্টোবর রোহানের বাবা ফরহাদ চৌধুরী বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

রাজবাড়ীতে ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষের পর ট্রাকচাপায় মাদ্রাসাছাত্র নিহত

রাজবাড়ীতে ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষের পর ট্রাকচাপায় মাদ্রাসাছাত্র নিহত

হেলাল মাহমুদ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর কালুখালীতে ভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষের পর সড়কে ছিটকে পড়েন মোটরসাইকেল আরোহী রবিন হাসান (২০)। এ সময় অজ্ঞাত একটি ট্রাকের চাপায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে।গতকাল রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে আটটার দিকে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের কালুখালী উপজেলার বাংলাদেশ হাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত রবিন হাসান রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের পুঁইজোর গ্রামের মফিজুর রহমানের ছেলে। তিনি পুঁইজোর আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিলেন।স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, রবিন বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে করে কালুখালীর দিকে যাচ্ছিলেন। পথে বাংলাদেশ হাট এলাকায় একটি ভ্যানের সঙ্গে তাঁর মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি মহাসড়কের ওপর ছিটকে পড়েন। এ সময় দ্রুতগতিতে আসা একটি ট্রাক তাঁকে চাপা দিয়ে চলে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা অনিক কুমার দাস বলেন, রাত সাড়ে আটটার দিকে রবিন নামের এক মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।পাংশা হাইওয়ে মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকন উজ্জামান বলেন, রোববার রাতে দুর্ঘটনার বিষয়ে তাঁরা সোমবার সকালে জানতে পেরেছেন। এ বিষয়ে আগে কেউ তাঁদের অবহিত করেননি।

অসহায় রিকশাচালকের পাশে দাঁড়াল গোয়ালন্দ ও রাজবাড়ী বন্ধুসভা

জীবন চক্রবর্তী, রাজবাড়ীঃ স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে ধারদেনায় জর্জরিত হয়েছেন। তিন মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন অনেক কষ্টে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনের অবলম্বন রিকশাটিও সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত হয়ে নিজেও ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন না। এমন অবস্থায় অসহায় হয়ে পড়েছেন রিকশাচালক মো. সিদ্দিক শেখ (৫৬)। তাঁর এই দুর্দিনে পাশে দাঁড়িয়েছে প্রথম আলো বন্ধুসভার রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দের সদস্যরা।রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জবানীপাড়ায় সিদ্দিক শেখের বাড়িতে গিয়ে রিকশা মেরামতের জন্য তাঁকে আর্থিক সহায়তা দেন বন্ধুসভার সদস্যরা।সিদ্দিক শেখের পরিবারে রয়েছেন বৃদ্ধ মা, স্ত্রী মারা যাওয়ার পর এক ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে তিন মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন তিনি। রিকশা চালিয়ে যা আয় করতেন, তা দিয়েই চলত সংসার। প্রায় চার বছর আগে তাঁর স্ত্রী নুর জাহান বেগমের শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে। দীর্ঘদিন চিকিৎসা করাতে গিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ হয়। এ জন্য ধারদেনাও করতে হয় তাঁকে। এরপরও স্ত্রীকে বাঁচাতে পারেননি। প্রায় তিন বছর আগে মারা যান নুর জাহান বেগম।সিদ্দিক শেখ বলেন, ‘রিকশা চালিয়ে যা আয় করতাম, তা দিয়েই সংসার চলত। স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। অনেক ধারদেনাও করতে হয়েছে। তারপরও তাঁকে বাঁচাতে পারিনি।’তিনি জানান, গত ২৭ আগস্ট গোয়ালন্দের পিয়ার আলীর মোড় এলাকায় রিকশা নিয়ে বাজারে যাওয়ার পথে দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় তিনি আহত হন। এতে তাঁর ডান পায়ের গোড়ালির তিনটি শিরা কেটে যায়। দুর্ঘটনায় তাঁর রিকশাটিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিভিন্নজনের সহযোগিতায় চিকিৎসা করালেও অর্থের অভাবে রিকশাটি মেরামত করতে পারেননি। রিকশাটি ঠিক করতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা প্রয়োজন।গোয়ালন্দ বন্ধুসভার সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর অর্থের অভাবে সিদ্দিক শেখের অস্ত্রোপচার করানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। তখন তিনি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর পাশে দাঁড়ান এবং অস্ত্রোপচারসহ চিকিৎসার ব্যয় বহনের দায়িত্ব নেন। পরে বন্ধুসভার সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁর জীবিকার একমাত্র অবলম্বন রিকশাটি মেরামতের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।জাকির হোসেন আরও বলেন, প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বন্ধুসভার ভালো কাজের অংশ হিসেবে অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে পেরে তাঁরা আনন্দিত।আর্থিক সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সিদ্দিক শেখ। তিনি প্রথম আলো বন্ধুসভার সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর রাজবাড়ী প্রতিনিধি এম রাশেদুল হক, রাজবাড়ী বন্ধুসভার সদস্য মাহাফুজুর রহমান, গোয়ালন্দ বন্ধুসভার সভাপতি জাকির হোসেন, সাবেক সভাপতি অম্বরেশ চক্রবর্তী জীবন, সহসভাপতি মঈনুল হক মৃধা, সাধারণ সম্পাদক সফিক মণ্ডল ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ আহম্মেদসহ অন্য সদস্যরা।

অসহায় রিকশাচালকের পাশে দাঁড়াল গোয়ালন্দ ও রাজবাড়ী বন্ধুসভা

রাজবাড়ীর পদ্মায় বন্ধুদের সঙ্গে গোসলে নেমে নিখোঁজের ২২ ঘন্টা পর ভেসে উঠল শিশুর মরদেহ

হেলাল মাহমুদ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ ৮ বছরের শিশু নুর আমিনের মরদেহ ২২ ঘন্টা পর আজ শনিবার বেলা এগারোটার দিকে ভেসে উঠে। এর আগে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে উপজেলার দৌলতদিয়া ৬ ও ৭ নম্বর ফেরি ঘাটের মধ্যবর্তী এলাকা বাহির চর দৌলতদিয়া ছাত্তার মেম্বার পাড়া পদ্মা নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ হয় নুর আমিন। এরপর শিশুটিকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালিয়েও নুর আমিনের সন্ধান পাননি। তারপরও স্বজনেরা ইঞ্জিন চালিত নৌকা দিয়ে দীর্ঘ সময় উদ্ধার তৎপরতা চালায়। তবে সবাই হতাশা নিয়ে বাড়ি ফেরেন।এদিকে শনিবার সকাল থেকে পুনরায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্বজনরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। উদ্ধার তৎপরতার মাঝেই বেলা ১১টার দিকে হঠাৎ করে নুর আমিনের মরদেহ ডুবে যাওয়া স্হান হতেই ভেসে ওঠে। এরপর স্বজনরা মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় নদী পাড়ে স্বজন ও এলাকাবাসীর আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে।নিখোঁজ নুর আমিন দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড শাহাদাৎ মেম্বার পাড়ার রেজাউল ফকিরের ছেলে। শিশু নুর আমিনের দাদা আনোয়ার ফকির তার নাতির উদ্ধার প্রক্রিয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দৌলতদিয়া ৭ নং ফেরিঘাট এলাকায় শিশু নুর আমিনের বাবা রেজাউল ফকির মুদির দোকান করেন। যে কারনে নুর আমিন প্রায়ই সেখানে যেত। শুক্রবার দুপুরে গ্রামের চার বন্ধুর সঙ্গে সে ফেরিঘাট এলাকায় যায়। এ সময় তারা অভিভাবকদের চোখের আড়ালে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নামে। গোসলের একপর্যায়ে নুর আমিন স্রোতের টানে পানিতে তলিয়ে যায়।  এ সময় তার ফুফাতো ভাই ও সহপাঠী সাব্বি (৭) ও রায়হান নুর আমিনের হাত ধরে টেনে তোলার চেষ্টা করে। তবে তাকে উদ্ধার করতে না পেরে সাব্বির তীরে উঠে স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি জানায়।খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করেন।মানিকগঞ্জের আরিচা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা ডুবুরিদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। কিন্তু সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তারা শিশুটিকে উদ্ধার করতে পারেননি।শনিবার সকাল থেকে পুনরায় তারা নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। এক পর্যায়ে বেলা ১১ টার দিকে শিশুটির মরদেহ ডুবে যাওয়া স্থানে ভেসে ওঠে। দৌলতদিয়া হাফিজিয়া ফোরকানীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, নুর আমিন তার প্রতিষ্ঠানের প্রথম শ্রেনীর শিক্ষার্থী। সে অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও মেধাবী একটি শিশু ছিল। তার এ মৃত্যুতে এলাকার সকল মানুষ গভীরভাবে শোকাহত। দৌলতদিয়া নৌ- পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ত্রিনাথ সাহা জানান, শিশু নুর আমিনের মৃত্যুর ঘটনায়  অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের জন্য পরিবারের পক্ষ হতে আবেদন করলে উর্ধতন কতৃপক্ষের নির্দেশে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

রাজবাড়ীর পদ্মায় বন্ধুদের সঙ্গে গোসলে নেমে নিখোঁজের ২২ ঘন্টা পর ভেসে উঠল শিশুর মরদেহ

দৌলতদিয়ায় অবৈধ চিকিৎসার বিরুদ্ধে অভিযান; দুই পল্লী চিকিৎসককে জরিমানা-জেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ও বাজারের পাশে অবৈধ চিকিৎসা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।এ সময় নিবন্ধন ছাড়া চিকিৎসাসেবা পরিচালনার দায়ে আসলাম নামের এক পল্লী চিকিৎসককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং রোথী নামের অপর এক পল্লী চিকিৎসককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন গোয়ালন্দ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান।অভিযান সূত্রে জানা যায়, নিবন্ধন ছাড়া চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালনার দায়ে আসলাম নামের এক ব্যক্তিকে মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০-এর ২৮(১) ধারায় ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই অভিযানে রোথী নামের অপর এক ব্যক্তিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।অভিযানে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রোমেল হাসান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান বলেন, জনস্বার্থে চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিত করা এবং অবৈধ চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

দৌলতদিয়ায় অবৈধ চিকিৎসার বিরুদ্ধে অভিযান; দুই পল্লী চিকিৎসককে জরিমানা-জেল

রাজবাড়ীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত ১৪ মামলার আসামির

হেলাল মাহমুদ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী শহরে পিয়ারুল সরদার (৩০) নামের এক যুবককে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত পৌনে আটটার দিকে শহরের সজ্জনকান্দা মধ্যপাড়া মসজিদসংলগ্ন রাজনের দোকান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত পিয়ারুল সরদার রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বড় মুরারিপুর গ্রামের হারুন সরদারের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র, হত্যা, মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে রাজবাড়ী সদর থানায় ১৪টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত পৌনে আটটার দিকে সজ্জনকান্দা মধ্যপাড়া মসজিদের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন পিয়ারুল। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরা দুই ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে দুটি গুলি ছোড়েন। এরপর তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। গুলিবিদ্ধ পিয়ারুলকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বুকে দুটি গুলির ক্ষত ছিল।রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক অনিক কুমার মণ্ডল বলেন, রাত ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে পিয়ারুলকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। দ্রুত ইসিজি করার পর দেখা যায়, তিনি মারা গেছেন। এ অবস্থায় তাঁর স্বজনেরা তাঁকে ফরিদপুরে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।পুলিশ জানায়, পিয়ারুলের বিরুদ্ধে অস্ত্র, হত্যা, মাদক, ডাকাতি ও দস্যুতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৪টি মামলা রয়েছে। তাঁকে একাধিকবার গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। সর্বশেষ চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি এলাকায় অবস্থান করছিলেন।রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন বলেন, পিয়ারুল সরদার একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তাঁর বিরুদ্ধে মোট ১৪টি মামলা রয়েছে। হেলমেট পরা দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে তাঁকে গুলি করেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের কয়েকটি দল কাজ করছে। হত্যার কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

রাজবাড়ীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত ১৪ মামলার আসামির