প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬
রাজবাড়ীর পাংশায় ছুরিকাঘাতে প্রবাসী হত্যার ঘটনায় একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
||
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত আব্দুর রহিম মোল্লা (৩০) নামের এক কাতার প্রবাসী হত্যার ঘটনায় আদালত অভিযুক্ত যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। অপর আসামীদের খালাস প্রদান করেছেন। মঙ্গলবার বেলা পৌনে বারোটার দিকে রাজবাড়ীর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান এ রায় প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম মো. সাদ্দাম মিয়া। তিনি পাংশা পৌরসভার নারায়নপুর গ্রামের মৃত শহিদ মিয়ার ছেলে। এছাড়া মামলার অপর আসামী পাংশা পৌরসভার নারায়নপুর গ্রামের জলিল মণ্ডলের ছেলে পলাশ মণ্ডল ও রাসেল মণ্ডল এবং পাংশা কুড়াপাড়া গ্রামের নুরু মুন্সীর ছেলে শরীফ মুন্সীকে ঘটনার সাথে সন্দেহাতীতভাবে জড়িত থাকার কোনো প্রমান না হওয়ায় আদালত তাদেরকে আনীত অভিযোগের দায় হতে অব্যাহতি প্রদান পূর্বক খালাস প্রদান করেন। এ সময় আসামীরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। নিহত আব্দুর রহিম মোল্লা জেলার পাংশা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল মান্নান মোল্লার ছেলে। ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুর রহিম মোল্লা মারা যান। তার আগে ৫ নভেম্বর বিকেলে পাংশা সরকারি কলেজ এলাকার চাচার ক্যান্টিনের সামনে তাঁকে ডেকে নিয়ে যায়। এ সময় পাওনা টাকা নিয়ে তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে আব্দুর রহিমকে সাদ্দাম মিয়া ছুরিকাঘাত করেন। এ ঘটনায় ৮ নভেম্বর রাতে নিহত রহিম মোল্লার স্ত্রী ময়না বেগম বাদী হয়ে সাদ্দাম মিয়াকে (২৭) প্রধান আসামি করে পাংশা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। সাদ্দাম মিয়া পাংশা পৌরসভার নারায়নপুর গ্রামের মৃত শহিদ মিয়ার ছেলে।আদালত সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রহিম মোল্লা এ ঘটনার ছয় মাস আগে কুয়েত থেকে দেশে ফিরেন। দুর্ঘটনার প্রায় দুই মাস আগে রহিম মোল্লার ছোট ভাই রহমান মোল্লাকে চাকুরি দেওয়ার কথা বলে অভিযুক্ত সাদ্দাম মিয়া ১০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। টাকা গ্রহণের দুই মাস পরও চাকুরি না হওয়ায় ওই টাকা ফেরত চান। টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়। ২০১৬ সালের ৫ নভেম্বর বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে রহিম মোল্লাকে পাংশা সরকারি কলেজ সংলগ্ন চাচার ক্যান্টিনের কাছে ডেকে নেন সাদ্দাম মিয়া। ঘটনাস্থলে পৌছলে পাওনা টাকা নিয়ে সাদ্দাম মিয়া ও রহিম মোল্লার কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সাদ্দামের হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে রহিমের পেটে ও উরুতে আঘাত করেন। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে সাদ্দাম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় রহিমকে উদ্ধার করে প্রথমে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ নভেম্বর বিকেল পাঁচটার দিকে রহিম মোল্লা মারা যান। পরে রহিম মোল্লার স্ত্রী বাদী হয়ে সাদ্দামকে প্রধান আসামী করে পাংশা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌশুলী (পিপি) আব্দুর রাজ্জাক-২ বলেন, দীর্ঘ শুনানি ও তদন্ত শেষে আজ মঙ্গলবার বেলা পৌনে বারোটার দিকে বিজ্ঞ আদালত কাতার প্রবাসী আব্দুর রহিম মোল্লার হত্যায় অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় সাদ্দাম মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনদায়ে অতিরিক্ত এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। একই সঙ্গে মামলার অপর তিন আসামীর সম্পৃক্ততা সন্দেহাতীতভাবে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় তাঁদেরকে আদালত খালাস প্রদান করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে মামলার এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি।
সম্পাদক: রাশেদ ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৫ । সর্বস্ব সংরক্ষিত রাজবাড়ী মেইল