প্রিন্ট এর তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬
রাজবাড়ীতে কলেজছাত্র হত্যা, গ্রেপ্তার ৪; আসামিদের বাড়ি-ঘরে ভাঙচুর ও আগুন
||
সুমন বিশ্বাস, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে কলেজছাত্র চৌধুরী ফুয়াদ হাসান রোহানকে (১৯) শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন এসব তথ্য জানান। এদিকে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছেন বিক্ষুব্ধ লোকজন। হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে ধারণাকারী ব্যক্তির বাড়িতেও আগুন দেয় বিক্ষুদ্ধ লোকজন। পরে খবর পেয়ে রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নেভায়। এছাড়া সদর থানা সহ জেলা পুলিশ লাইনস থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এখনও এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামের দুলাল সরদারের ছেলে ফিরোজ সরদার ওরফে বাবু (৩৪), গণি সরদারের ছেলে রিয়াজ সরদার (২৩), একই উপজেলার সমেশপুর গ্রামের সিদ্দিক মণ্ডলের ছেলে মো. শরীফ মণ্ডল (২৭) ও বদের সদারের ছেলে আলাল সরদার (৬০) । শনিবার ভোররাতে নিজ নিজ এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সুপার বলেন, জমিজমা নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে চৌধুরী ফুয়াদ হাসান রোহানকে ডেকে নিয়ে গামছা ও টি-শার্ট দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ পানিতে ভেসে ওঠা ঠেকাতে পেট কেটে বস্তাবন্দী করে ডোবায় ফেলে রাখা হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত টি-শার্ট, গামছা ও ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মাদকাসক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি। তবে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।পুলিশ জানায়, গত ৫ অক্টোবর বিকেলে ফোনকল পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন রোহান। এরপর তিনি আর ফেরেননি। পরদিন ৬ অক্টোবর তাঁর পরিবার রাজবাড়ী সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। ৮ অক্টোবর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।এ ঘটনায় রোহানের বাবা ফরহাদ চৌধুরী বাদী হয়ে ওইদিন রাতেই রাজবাড়ী সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির তদন্তে সদর থানা-পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও কাজ করে। এর ধারাবাহিকতায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. শামসুল হক, রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ, গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি মফিজুল ইসলামসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে শনিবার দুপুরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন বিক্ষুব্ধ লোকজন। হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী বলে ধারণা করা হচ্ছে, এমন এক ব্যক্তির বাড়িতেও আগুন দেওয়া হয়। খবর পেয়ে রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভান। সদর থানা-পুলিশ ও জেলা পুলিশ লাইনস থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাজবাড়ী সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফয়জুর রহমান বলেন, দুপুর দেড়টার দিকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে চলে আসি। এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত পুলিশ সহ আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছি। প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টার মতো সময় লেগেছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে। স্থানীয় বিক্ষুদ্ধ লোকজন গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামী এবং ইন্ধনদাতার চারটি বাড়ি ভাঙচুর ও আগুন দিয়েছে। এছাড়া আসামীদের দুই আত্মীয় স্বজনের বাড়ি ভাঙচুর করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সম্পাদক: রাশেদ ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৫ । সর্বস্ব সংরক্ষিত রাজবাড়ী মেইল