প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় দুটি ফেরিঘাট বন্ধ, ঘাট স্বল্পতায় গাড়ির দীর্ঘ লাইন
||
ফিরোজ আহম্মেদ, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় প্রবল স্রোতের কারণে পন্টুনের ফিঙ্গার ভেঙে যাওয়ায় বুধবার দুপুর থেকে ৩ নম্বর ফেরিঘাট বন্ধ রয়েছে। এর আগে ঘাটের সামনে বালুমাটি পড়ে ফেরি ভিড়তে না পারায় ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ নম্বর ঘাট বন্ধ রয়েছে। ১৮ দিনের ব্যবধানে দুটি ফেরিঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে ছোট-বড় দুটি ঘাট দিয়ে যানবাহন পারাপার হচ্ছে। এতে দৌলতদিয়া প্রান্তে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ যানজট।বৃহস্পতিবার বিকেলে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ যানবাহনের সারি। সারিতে যাত্রীবাহী বাসের পাশাপাশি পণ্যবাহী যানবাহনও রয়েছে। দীর্ঘ সময় ঘাটে আটকে থাকায় চালক ও যাত্রীদের বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এতে ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় থাকা চালক ও যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দৌলতদিয়ায় ছোট-বড় সাতটি ঘাট রয়েছে। কয়েক বছর আগে ভাঙনের কারণে ১ ও ২ নম্বর ঘাট বিলীন হয়ে যায়। ৩, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ঘাট চালু থাকলেও প্রায় তিন বছর আগে ভাঙনে ৫ নম্বর ঘাট বন্ধ হয়ে যায়। যানবাহন পারাপারের স্বার্থে পরে ৭ নম্বর ঘাট চালু করা হয়।বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, বাস্তবে ৩, ৪ ও ৭ নম্বর ঘাট সচল ছিল। প্রবল স্রোতের কারণে ঘাটের সামনে বালুমাটি পড়ে ডুবোচর সৃষ্টি হওয়ায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর ভোর থেকে ৭ নম্বর ঘাট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া ৬ নম্বর ঘাটটি হাইওয়ে লেভেলের হওয়ায় পর্যাপ্ত পানির অভাবে শুষ্ক মৌসুমের বেশির ভাগ সময় বন্ধ থাকে।তিনি বলেন, প্রবল স্রোতের কারণে ফেরি ভেড়াতে সমস্যা হওয়ার পাশাপাশি ৩ নম্বর ঘাটের পন্টুনের ফিঙ্গারে ফাটল দেখা দেয়। পন্টুনের ফিঙ্গার মেরামত করতে গিয়ে গার্ডারও ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি দেখা যায়। দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে বুধবার দুপুর ২টার পর থেকে ৩ নম্বর ফেরিঘাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে রোরো ফেরির জন্য ৪ নম্বর এবং ইউটিলিটি ফেরির জন্য ৬ নম্বর ঘাট চালু রয়েছে।বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে প্রায় ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ যানবাহন নদী পার হয়। একইভাবে পাটুরিয়া প্রান্ত থেকেও বিপুলসংখ্যক যানবাহন নদী পারাপার করে। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ছোট-বড় ১৭টি ফেরি চলাচলের জন্য থাকলেও বর্তমানে ১২ থেকে ১৩টি ফেরি চলাচল করছে। দুটি ঘাট দিয়ে যানবাহন পারাপার হওয়ায় ঘাট এলাকায় যানজট তৈরি হয়েছে।তবে জরুরি যাত্রীবাহী বাস ও কাঁচা পণ্যবাহী যানবাহনকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফেরিতে ওঠার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানান বিআইডব্লিউটিসির এই কর্মকর্তা।কুষ্টিয়া থেকে আসা লালন পরিবহনের দৌলতদিয়া ঘাট তত্ত্বাবধায়ক ফিরোজ আহমেদ বলেন, মাত্র দুটি ঘাট চালু থাকায় যাত্রীবাহী পরিবহনকে নদী পার হওয়ার জন্য তিন থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সাধারণ পণ্যবাহী যানবাহনগুলো সাত থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত আটকে থাকছে। এতে যাত্রী ও চালকদের বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সম্পাদক: রাশেদ ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৫ । সর্বস্ব সংরক্ষিত রাজবাড়ী মেইল