প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজবাড়ীতে সরকার নির্ধারিত দামে সার সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ ১১ দফা দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল
||
আব্দুল হালিম, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীতে সরকার নির্ধারিত দামে কৃষককে সার সরবরাহ নিশ্চিত করা, কৃষিপণ্যে ধলতা বা তোলাবাজি বন্ধে কার্যকরী প্রদক্ষেপ গ্রহণ ও প্রকৃত কৃষককে কৃষি কার্ড প্রদানসহ ১১ দফা দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২ টার দিকে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা পরিষদের সামনে বাংলাদেশ কৃষক সমিতি পাংশা উপজেলা শাখার উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন পাংশা উপজেলা শাখার সভাপতি মো. তোফাজ্জেল হোসেন। এতে বক্তব্য দেন রাজবাড়ী জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি আব্দুস সামাদ মিয়া, জেলা কৃষক সমিতির সভাপতি আব্দুস সাত্তার মন্ডল, পাংশা উপজেলা কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, কৃষক নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তোস দাস।এ সময় বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনীতির প্রধান বুনিয়াদ কৃষি। পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে দেশের অর্থনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক ভিত্তি কৃষির উপর নির্ভর করে দাঁড়িয়ে আছে। অথচ কৃষি ও কৃষক সবচায়তে নিগৃহীত। কৃষক মাঠে ফসল ফলায়। কিন্তু সেই ফসল ফলাতে সবচায়তে বেশি প্রয়োজন রাসায়নিক সার। দীর্ঘদিন ধরে সারের বাজার অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। সরকার নির্ধারিত এক কেজি ইউরিয়ার সারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ২৭ টাকা। কিন্তু কৃষককে স্থানভেদে এই সার কিনতে হয় ৩০ থেকে ৩৩ টাকায়। এক কেজি ডিএপি সারের খুচরা মূল্য ২১ টাকা, এক কেজি টিএসপি সার ২৭ টাকা ও এক কেজি এমওপি (পটাশ) সার সরকার নির্ধারিত দাম ২০ টাকা। কিন্তু পাংশা ও আশপাশের কোন স্থানেই এই দামে সার পাওয়া যায় না। স্থানভেদে কোন কোন সার ৪৫ টাকা কেজি দরেও কিনতে হয়। কৃষক যখন দোকানে যায় তখন দোকানদাররা বলেন সারের সংকট রয়েছে। অথচ বেশি টাকা হলেই সারের আর অভাব থাকে না। সারের এই সিন্ডিকেট বন্ধ করতে হবে।বক্তারা বলেন, শুধুমাত্র সারের দাম বৃদ্ধি নয়। অতিরিক্ত খরচ দিয়ে ফসল উৎপাদন করা হয়। সেই ফসল বাজারে নিয়ে গেলে আবার ধলতা দিতে হয়। আন্দোলনের মুখে সরকার দলতা প্রথা বাতিল করেছে। কিন্তু হাটে বাজারে সেটা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এখনও হাটবাজারে পেঁয়াজ, রসুন, পাটসহ বিভিন্ন পণ্যের উপর ধলতা নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনকে এই দিকে নজর দিতে হবে। কৃষি ও কৃষক বাঁচাতে হলে সরকারকে এই দিকে নজর দিতে হবে। এ সময় বক্তারা সরকার যে কৃষি কার্ড দিচ্ছে সেটা যেন প্রকৃত কৃষকরা পায় সে বিষয়ে নজর দেওয়ার আহবান জানান তারা।মানববন্ধন শেষে একটি সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। পরে পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা। অন্য দাবিগুলো হলো, ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি ক্রয়কেন্দ্র চালু করা, সরকারি ক্রয়কৃত পণ্য সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ক্রয় করতে হবে, ফসলের লাভজনক দাম দিতে হবে। সার, বীজ, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের দাম কমাতে হবে। সবজি সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করতে হবে। নিরবিছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। বিএডিসিকে সচল, পল্লী রেশন ও শস্যবীমা চালু করতে হবে। পল্লী বিদ্যুৎ ও ভূমি অফিসের অনিয়ম, হয়রানি ও দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।
সম্পাদক: রাশেদ ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৫ । সর্বস্ব সংরক্ষিত রাজবাড়ী মেইল