প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলার ৯দিন পর হাসপাতালে যৌনকর্মীর মৃত্যু
||
মঈনুল হক, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ইউনিয়নের পূর্বপাড়ায় (যৌনপল্লি) দুর্বৃত্তদের হামলার ৯ দিন পর যৌনকর্মী সোনিয়া আক্তারের (৩০) মৃত্যু হয়েছে। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউতে) চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে মারা যান। ময়না তদন্ত শেষে মঙ্গলবার তাঁর লাশ গ্রামের বাড়ি বরিশাল নেয়া হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম। এর আগে ২৯ আগষ্ট ভোর চারটার দিকে দৌলতদিয়া যৌনপল্লির তোফাজ্জল হোসেন তপুর বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে রক্তাত্ব অবস্থায় সোনিয়াকে উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। হামলার ঘটনায় রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বাড়ি মালিক তোফাজ্জল হোসেন তপু বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের অভিযুক্ত করে একটি মামলা করেন। তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ২৯ আগষ্ট ভোর পাঁচটার দিকে যৌনপল্লির বাড়ির আরেক ভাড়াটিয়া আইরিন (২৬) তাঁকে ফোন করে জানান, ভোররাত সাড়ে তিনটা থেকে চারটার দিকে দ্বিতীয় তলা থেকে অনেক শব্দ হয়। বাড়ির কেয়ারটেকার মঞ্জু শেখকে সঙ্গে নিয়ে আইরিন দ্বিতীয় তলার সোনিয়ার কক্ষ খোলা দেখতে পেয়ে ভিতরে প্রবেশ করে মেঝতে রক্তাত্ব অচেতন অবস্থায় সোনিয়াকে পড়ে থাকেত দেখেন। তাৎক্ষনিকভাবে বিষয়টি অবগত করে তারা সোনিয়াকে দ্রæত গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে আমিও হাসপাতালে যাই। এ সময় সোনিয়ার মাথায় ধারালো অস্ত্র ও শক্ত কোন বস্তু দিয়ে আঘাতের কাটা স্থান দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ দেখতে পান। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চিকিৎসক দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসায় বিলম্ব হওয়ায় ধানমণ্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মাথায় অস্ত্রপচার শেষে আইসিইউতে ভর্তি রাখা হয়। পরবর্তীতে টানা ৯দিন চিকিৎসা শেষে সোনিয়া সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে মারা যান। তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সোনিয়া সব সময় গলায় ও কানে স্বর্ণালংকার পড়তেন। ধারণা, স্বর্ণালংকার লুট করতেই হত্যার উদ্দেশ্যে জখম করেছে। অন্য কোনো কারনও থাকতে পারে। এ ছাড়া সোনিয়ার ঘর থেকে আরও কিছু খোয়া গেছে কি না এখনও জানতে পারিনি। সোনিয়ার বরিশালের হিজলা থানার গ্রামের বাড়ি থেকে পরিবারের লোকজন সাথে আছেন। তারা অতিশয় দরিদ্র পরিবার হওয়ায় সোনিয়ার চিকিৎসার ব্যায় ভারও বহন করতে পারিনি। সোনিয়ার ভাই আরিফ হোসেন বলেন, এতদিন জানতাম আমার বোন ঢাকায় চাকরি করেন। আমাদের পরিবার অনেকটাই বোনের আয়ের ওপর নির্ভর করতো। আমি আমার বোনের হত্যার বিচার চাই। পুলিশ অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে। মঙ্গলবার ময়না তদন্ত শেষে লাশ গ্রামের বাড়ি নেয়া হবে। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম বলেন, সোনিয়া হত্যায় স্বর্ণলংকার লুটই মূখ্য কারণ নয়, অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। আমরা সব বিষয় মাথায় নিয়ে তদন্ত কাজ অব্যাহত রেখেছি। মাথায় পাঁচ থেকে ছয়টি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহৃ রয়েছে। সোনিয়ার লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে লাশ গ্রামের বাড়ি নেয়া হবে। অপরাধীদের ধরতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।
সম্পাদক: রাশেদ ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৫ । সর্বস্ব সংরক্ষিত রাজবাড়ী মেইল