প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথঃ মাঝ নদীতে যানবাহন বোঝাই ফেরির ইঞ্জিন বিকল, তিন ঘন্টা পর উদ্ধার
||
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া থেকে আসা রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটগামী ‘ধলেশ্বরী’ নামক যানবাহন বোঝাই ইউটিলিটি ফেরির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ায় বিপাকে পড়েন চালকসহ যাত্রীরা। পরে প্রায় তিন ঘন্টা পর অপর আরেকটি ফেরির সহযোগিতায় ধলেশ্বরী ফেরিটি উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার দিবাগত রাত দশটার দিকে ফেরিটি উদ্ধারের পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানায় নিরাপদে রাখা হয়েছে। ফেরিটিতে ১৩টি যানবাহনসহ অর্ধশতাধিক যাত্রী নিরাপদে পাটুরিয়া ঘাটে নামানো হয়। পরে বিকল্প আরেক ফেরিতে করে যানবাহনসহ যাত্রীদের দৌলতদিয়ায় পাঠানো হয়। বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) আব্দুল্লাহ আল মামুন সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেন। বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয় জানায়, বিআইডব্লিউটিসির নিজস্ব ধলেশ্বরী ও পায়রা নামক দুটি ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি ১৬ আগষ্ট দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে যুক্ত হয়। এরপর ট্রায়াল হিসেবে (পরীক্ষামূলক) ফেরি দুটি যানবাহন পারাপার কার্যক্রম শুরু করে। মঙ্গলবার (২৫ আগষ্ট) রাত ৭টা ২০ মিনিটের দিকে পাটুরিয়া ঘাট থেকে ফেরি ‘ধলেশ্বরী’ ১৩টি যানবাহনসহ প্রায় অর্ধশত যাত্রী নিয়ে দৌলতদিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। মাঝ পদ্মা পাড়ি দিয়ে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরি ঘাটের কাছাকাছি পৌঁছলে স্রোতের মুখে পড়ে আকষ্মিকভাবে ফেরির ডান পাশের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। স্রোতের টানে ফেরিটি প্রায় দুই কিলোমিটার ভাটিতে ভেসে যায়। বিপাকে পড়েন চালকসহ ফেরির ষ্টাফরা। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ফেরিতে থাকা যাত্রী সাধারণ। ফেরির মাষ্টার আবুল কালাম বলেন, রাত পৌনে ৮টার দিকে দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ঘাটের কাছাকাছি পৌঁছামাত্র প্রচণ্ড স্রোতের মুখে পড়ে। আকষ্মিকভাবে ডান পাশের একটি ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেলে ভাটিতে ভেসে যায়। নতুন ফেরির ইঞ্জিন বন্ধ হওয়ায় আতঙ্ক দেখা দেয়। উপায় না পেয়ে ঘাটের অদূরে নিরাপদে সোয়া ৮টার দিকে নোঙর করে থাকি। নিজ থেকে চেষ্টায় ব্যার্থ হয়ে উদ্ধারের জন্য কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়। ফেরিতে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের কারিগরি বিভাগের একজন টেকনিশিয়ান ছিলেন, তিনি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে পাটুরিয়ায়ু অবস্থিত নতুন ফেরি ‘পায়রা’ উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। রাত ১০টার দিকে ফেরিটি পাটুরিয়া ঘাটে নিরাপদে ভেড়ানো হয়। ফেরিতে থাকা যানবাহন সহ যাত্রীদের বিকল্প আরেক ফেরিতে তুলে দিলে দৌলতদিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ছোট-বড় ১৭টি ফেরি রয়েছে। সাধারণত জুলাই থেকে আগষ্ট মাস পর্যন্ত বর্ষাকাল থাকায় স্রোত বেড়ে ফেরি চলাচল ব্যাহত হয়। ফেরি পারাপারে আগের থেকে ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় বেশি লাগে। তবে দৌলতদিয়া ঘাটের কাছে প্রচণ্ড স্রোত থাকায় ফেরিগুলো ঘাটে ভিড়তে অনেক বেগ পোহাতে হয়। মঙ্গলবার দুপুর পৌনে দুইটার দিকে পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে আসা ‘শাহ পরান’ নামক রো রো (বড়) ফেরি দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ঘাটের অদূরে স্রোতের ধাক্কায় ডুবোচরে ধাক্কা খায়। প্রায় পচিশ মিনিট আটকে থাকার পর নিজস্ব চেষ্টায় ফেরিটি ঘাটে ভিড়ে। বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (মেরিন বিভাগ) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিআইডব্লিউটিসির নিজস্ব ‘ধলেশ্বরী’ ও ‘পায়রা’ নামক ফেরি দুটি ১৬ আগষ্ট বহরে যুক্ত হওয়ার পর থেকে পারাপার কার্যক্রম শুরু করে। মঙ্গলবার রাতে যানবাহন বোঝাই ধলেশ্বরী ফেরিটি দৌলতদিয়া ঘাটের কাছাকাছি পৌছলে হঠাৎ একটি ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। মঙ্গলবার রাত দশটার দিকে ফেরিটি উদ্ধার করে পাটুরিয়া ঘাটে নিয়ে রাখা হয়। কি কারণে এমনটি হয়েছে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান দেখভাল করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করবেন।
সম্পাদক: রাশেদ ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৫ । সর্বস্ব সংরক্ষিত রাজবাড়ী মেইল