প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
রাজবাড়ীতে স্বামীর যৌতুক মামলায় সেবিকা স্ত্রী কারাগারে
||
সুমন বিশ্বাস, রাজবাড়ীঃ যৌতুক নিরোধ আইনে স্বামীর করা মামলায় মোছা. তানিয়া খাতুন (২২) নামে এক সেবিকাকে (নার্স) কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ওই সেবিকা ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি আমলি আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক আরিফ হোসেন তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন আদালত পুলিশের উপপরিদর্শক সুবির কুমার কর্মকার। মামলা ও আদালত সূত্র জানায়, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের খালকুলা গ্রামের মোহন মল্লিকের মেয়ে তানিয়া খাতুনের পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ে হয়।বিয়ের সময় সাখাওয়াতের পরিবারের পক্ষ থেকে তানিয়াকে স্বর্ণালংকার সহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রী দেওয়া হয়।মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের পর তানিয়া তাঁর স্বামী সাখাওয়াত হোসেনের কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা না দিলে সংসার করবেন না বলেও জানানো হয়। এক পর্যায়ে তিনি স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে পারিবারিকভাবে এবং স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তানিয়া খাতুন যৌতুকের টাকা ছাড়া স্বামীর সংসারে ফিরতে রাজি হননি বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ঘটনায় মো. সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় বালিয়াকান্দি আমলি আদালতে মামলা করেন। মামলাটি সি.আর. মামলা নং-৪০/২৬ হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে।মামলার বাদী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “পারিবারিক ও সামাজিকভাবে তাঁকে নিয়ে সুন্দর একটি সংসারের স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে নানা অশান্তি ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ও সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের অনেক চেষ্টা করা হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। বাধ্য হয়েই আইনের আশ্রয় নিয়েছি। আদালতের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।” তবে তাঁর বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা রয়েছে। একটি ভ্রুণ হত্যা ও অর্থ আত্মসাতের মামলা। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, আদালতের তদন্তের পর আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আসামি স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়ে সংসার করার শর্তে জামিন নেন। এরপর বাদী এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মাধ্যমে একাধিকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। লিগ্যাল এইডের মাধ্যমেও বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।এই আইনজীবী আরও বলেন, আসামি বাদীর সঙ্গে সংসার করতে রাজি না হওয়ায় এবং মীমাংসার উদ্যোগ কার্যকর না হওয়ায় আজ মঙ্গলবার আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত তানিয়া আক্তারের মা ফাতেমা বেগম বলেন, তাঁর মেয়ে তানিয়া ও সাখাওয়াত হোসেনের বিয়ের বিষয়টি তাদের জানা ছিল না। পরে তারা জানতে পারলে এ বিয়ে মেনে নেন। তবে অর্থ আত্মসাত বা টাকা নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। এমনকি আজকে যে মামলার তারিখ ছিল তাও তাদের জানা নেই। মেয়ে থাকেন ঢাকায়। আজ বিকেলে তারা লোকমারফত বিষয়টি জানতে পারেন।
সম্পাদক: রাশেদ ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৫ । সর্বস্ব সংরক্ষিত রাজবাড়ী মেইল