প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬
রাজবাড়ীতে ৯২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পোষ্টমাষ্টার বরখাস্ত ও চার কর্মচারীকে শোকজ
||
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে সঞ্চয় হিসাব খোলার নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ৯২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত পোষ্টমাষ্টার বিকাশ চন্দ্রকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে অতিরিক্ত দায়িত্বে পোষ্টমাষ্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে কুষ্টিয়া প্রধান ডাকঘরের সহকারী পোষ্টমাষ্টার হিসেবে কর্মরত আছেন। এছাড়া অভিযুক্ত আরও চারজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।কুষ্টিয়া প্রধান ডাকঘরের পোষ্ট মাষ্টার আবুল কালাম আছাদ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গত ৪ আগষ্ট দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা পোষ্টমাষ্টার জেনারেল (চলতি দায়িত্ব) কবির আহমেদ স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বিকাশ চন্দ্রকে সাময়িক বরখাস্তের কথা বলা হয়। তবে ১০ আগষ্ট থেকে তাঁর সাময়িক বহিস্কারাদেশ কার্যকর করা হয়। অফিস আদেশে বলা হয়, জনস্বার্থে এবং সরকারি কাজের স্বার্থে রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত পোষ্টমাষ্টার, বর্তমানে কুষ্টিয়া প্রধান ডাকঘরের সহকারী পোষ্টমাষ্টার বিকাশ চন্দ্রকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি অনুযায়ী অসদাচারণের দায়ে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময় তাঁকে নিয়মিত হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে হবে। পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ব্যতিরেকে সদর দপ্তর ত্যাগ করতে পারবেন না। বিধি মোতাবেক তিনি খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন। এ অফিস আদেশ অবিলম্বে কার্যকর এবং সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে চার্জ রিপোর্ট প্রেরণ করা হবে। কুষ্টিয়া প্রধান ডাকঘরের পোষ্টমাষ্টার আবুল কালাম আছাদ বলেন, গ্রাহকদের প্রায় ৯২ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের সহকারী পোষ্টমাষ্টার বিকাশ চন্দ্রকে কুষ্টিয়া প্রধান ডাকঘরে বদলি করা হয়। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া প্রধান ডাকঘরে কর্মরত আছেন। ৪ আগষ্ট খুলনা পোষ্টমাষ্টার জেনারেল (চলতি দায়িত্ব) কবির স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ কপি ৯ আগষ্ট পাই। পরদিন ১০ আগষ্ট থেকে বিকাশ চন্দ্রকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।আবুল কালাম আছাদ বলেন, আলাপ প্রসঙ্গে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের বিষয় বিকাশ চন্দ্রের জানা নেই বলে দাবি করেন। কখনও কোন গ্রাহকের সমস্যা হলে লেটার রাইটার সিহাবের কাছে পাঠিয়ে দিতেন। লেটার রাইটার শিহাব গ্রাহকের টাকা অফিসে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রাখতেন এমন বিষয় জানা ছিলনা। টাকা আত্মসাতের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদনে ওঠে আসা রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে কর্মরত পোস্টাল অপারেটর, ট্রেজারার ও এমএলএসএসসহ চার কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ৯ আগষ্ট কুষ্টিয়া ডেপুটি পোষ্টমাষ্টার জেনারেলের কার্যালয় থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাঁদেরকে লিখিত জবাব দেওয়ার কথা বলা হয় বলে জানান, রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের দায়িত্বরত পোষ্টমাষ্টার শামীম আহমেদ। শামীম আহমেদ বলেন, অভিযুক্ত বাকি চারজন হলেন অফিস সহায়ক রেজাউল আলম, তৎকালীন ট্রেজারার নাজমুল হাসান (বর্তমানে কুষ্টিয়ার খাস মথুরাপুর), পোস্টাল অপারেটল গোলাম মোস্তফা বাচ্চু ও প্রণব কুমার সরকার। তাঁরা বৃহস্পতিবার (১৩ আগষ্ট) কুষ্টিয়া প্রধান ডাকঘরে লিখিত জবাব দিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর থেকে চলতি বছর ৩০ জুন পর্যন্ত রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের অভিযুক্তরা পরষ্পপরের যোগসাজশে ৭৪ জন গ্রাহকের সঞ্চয় হিসাব খোলার নামে প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ ৩০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু ওই অর্থ সরকারি হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। পরে ১৩ জন গ্রাহকের প্রায় ২০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ফেরত দিলেও ৬১ জনের ৯১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা এখনো ফেরত দেননি। প্রধান অভিযুক্ত রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের লেটার রাইটার শিহাব মৃধা ও তাঁর ভাই পিএলআই এজেন্ট মাহবুব হাসান মৃধা এ ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে আছেন। টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২ আগষ্ট তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত পোস্টমাষ্টটারসহ সাতজনের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে রাজবাড়ী জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে কুষ্টিয়া ডাক বিভাগের পোস্ট অফিস পরিদর্শক (প্রশাসন) শহিদুল ইসলাম মামলা করেন। এর আগে ৩০ জুলাই ভুক্তভোগী গ্রাহক নাছরিক আক্তার দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় রাজবাড়ীর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্রসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালত মামলটি আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন এবং আগামী ৩ নভেম্বর হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।
সম্পাদক: রাশেদ ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৫ । সর্বস্ব সংরক্ষিত রাজবাড়ী মেইল