প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬
রাজবাড়ীতে গ্রাম পুলিশ সদস্য ও নারীকে বেঁধে ও গলায় জুতা পরিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ
||
হেলাল মাহমুদ, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাচুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের এক গ্রাম পুলিশ সদস্য ও এক নারীকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগে স্থানীয় লোকজন কোমড়ে রশি দিয়ে বেধে ও গলায় জুতা পরিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এমন একাধিক ভিডিও তিন দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঘুরপাক খাচ্ছে। নির্যাতনের শিকার গ্রাম পুলিশ বর্তমানে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি পাচুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে কাজ করতেন। তাঁদের এমন নির্যাতনের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় নির্যাতনের শিকার ওই নারী বর্তমানে এলাকা ছাড়া রয়েছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, ঘরের মধ্যে ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তির সঙ্গে একজন নারী এবং গ্রামপুলিশ কথা বলছেন। ওই নারীর সাথে কোনো অনৈতিক কাজ হয়নি দাবি করে ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তির সঙ্গে তর্ক করছেন। গ্রাম পুলিশ সদস্যও কলা বিক্রির টাকা নিতে এসে ফাসানো হয়েছে বলে দাবি করছেন। আরেক ভিডিওতে তাদের দুজনের গলায় জুতা এবং কোমড়ে রশি দিয়ে টেনে ঘোরাতে দেখা যায়। এ সময় উৎসুক অনেক নারী-পুরুষ এমনকি শিশু বাচ্চাদের দেখা যায়। গ্রাম পুলিশ সদস্য দাবি করেন, তিনি রাজবাড়ীর শ্রীপুর বাজারে স্থানীয় দোকানগুলোতে কলা বিক্রি করতেন। রোববার (৯ আগষ্ট) সকাল সাতটার দিকে শ্রীপুর বাজারে কলা বিক্রি করছিলেন। এ সময় পাশের আলীপুর ইউনিয়নের কল্যাণপুর এলাকার পূর্ব পরিচিত এক নারী তাঁর কাছ থেকে কলা নেন। এক হাজার টাকার নোট ভাঙতি না থাকায় ওই নারী পরে দিচ্ছেন বলে চলে যান। সকাল ৮টার দিকে দিকে তিনি কল্যাণপুর বাজার ইটভাটার কাছে গিয়ে নারীকে ফোন করেন। বাড়ির কাছে যাওয়া মাত্র স্থানীয় আব্দুল কাদের বেপারীর ছেলে অটোরিকশা চালক লাভলু বেপারী (২৫) তাকে জোর করে ঘরের ভিতর নিয়ে পড়নের প্যান্ট খুলতে বলে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করে নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক আছে বলে চিৎকার করতে থাকে। এ সময় তার কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর শুরু করে। আশপাশের লোকজন ডেকে এনে তাঁদের মারধর করে। গলায় জুতার মালা, কোমড়ে রশি দিয়ে বেধে এবং নারীর চুল কেটে এলাকা ঘোরানো হয়।গ্রাম পুলিশ সদস্য বলেন, স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পরে তিনি মুক্ত হন। বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান দেখছেন। আমাদের সাথে চরম অন্যায় করা হয়েছে। ঘরে বয়স্ক ছেলে থাকা অবস্থায় কোন নারী অনৈতিক কাজ করতে পারেন না। এছাড়া ঘরের দরজা খোলা ছিল। লাভলুর সঙ্গে ওই নারীর সম্পর্ক ভালো না থাকায় নির্যাতন করে আমার দুটি দাঁত ভেঙে ফেলেছে। এ ঘটনার পর লজ্জায় আমার স্ত্রী ও সন্তান এখন পর্যন্ত আমাকে দেখতে আসেনি। পাচুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবর রহমান বলেন, ভিডিওটি ফেসবুকে দেখেছি। ঘটনার দিন কয়েকজন গ্রাম পুলিশকে মোটরসাইকেলে করে আমার ইউনিয়ন পরিষদে দিয়ে এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের কারনে মারধরা করা হয়েছে বলে জানিয়ে যায়। আমরা ঘটনার প্রকৃত কারন খতিয়ে দেখছি। তিনি অপরাধ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধ না করলে করণীয় নিয়ে ভাববো। তবে আইনগত পদক্ষেপ তিনি এবং তার পরিবার সিদ্ধান্ত নিবেন। এ ধরনের ভিডিও নজরে এসেছে জানিয়ে রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, এখন পর্যন্ত নির্যাতনের শিকার কেউ অভিযোগ দেয়নি। ভিডিওতে যা দেখেছি খুবই দুঃখজনক। এভাবে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সম্পাদক: রাশেদ ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৫ । সর্বস্ব সংরক্ষিত রাজবাড়ী মেইল