প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬
রাজবাড়ীতে ট্রেন-বাস-মাহিন্দ্র-ইজিবাইকের চতুর্মুখী সংঘর্ষ, নিহত ২
||
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ীঃ রাজবাড়ীর খানখানাপুর রেলগেট এলাকায় রোববার রাতে তেলবাহী ট্রেনের বগির সাথে যাত্রীবাহি বাস, মাহিন্দ্র ও ইজিবাইকের চতুর্মুখী সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১০ জন যাত্রী গুরুতর আহত হন। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পর দুই জনের মৃত্যু হয়। রোববার রাত পৌনে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন, ইজিবাইকের যাত্রী রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর ইউনিয়নের ব্র্যাক পাড়ার মনোয়ার হোসেন (৫০) ও মাহিন্দ্র যাত্রী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের শামুকখোলা গ্রামের আব্দুল মালেক (৪৫)। এছাড়া আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। জানা যায়, রোববার (২৬ জুলাই) রাতে ফরিদপুর পাওয়ার প্লান্ট সদর উপজেলার ধুলদি থেকে তেল নামিয়ে ইঞ্জিনসহ ৩০টি বগি রাজবাড়ীর দিকে যাচ্ছিল। রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে ট্রেনটি সদর উপজেলার খানখানাপুর রেলগেট অতিক্রম করার আগে পিছনের পাঁচটি বগির কাপলিং (সংযুক্ত ক্লিপ) খুলে যায়। ইঞ্জিনসহ ২৫টি ওয়াগন রেলক্রসিং পার হওয়ার পর রেলগেটের দায়িত্বে থাকা গেটম্যান ব্যারিয়ার তুলে দিলে ফরিদপুর থেকে আসা দৌলতদিয়াগামী অপর্ণা পরিবহনের যাত্রীবাহি লোকাল বাস, যাত্রীবাহি মাহিন্দ্র, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় রেলের বিচ্ছিন্ন বগিগুলো সজোরে আঘাত করলে দুমড়ে মুচড়ে যায় মাহিন্দ্রা ও ইজিবাইক। যাত্রীবাহি বাসটির সামনের অংশ ভেঙে মহাসড়ক থেকে ছিটকে রেললাইনের পাশে আটকা পড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উভয় যানবাহনের অন্তত ১০জন যাত্রী গুরুতর আহত হন। মাহিন্দ্র ও ইজিবাইকের আটকা পড়া চারজন যাত্রীর হাত, পা সহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয়দের পাশাপাশি পাশেই অবস্থিত খানখানাপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ উদ্ধার কাজ শুরু করে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্য, হাইওয়ে পুলিশ ও সদর থানা পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় একজন বলেন, রেললাইনের ব্যারিয়ার তুলে দেওয়ার পর বাসটি পার হওয়ার জন্য রেললাইনের ওপর আসে। বিপরিত পাশ থেকে মাহেন্দ্র ও একটি ইজিবাইকও আসে। এক মিনিটও লাগেনি, মুহুর্তের মধ্যে রেলের বগিগুলো এসে সজোড়ে আঘাত করে টেনে নিয়ে যায়। এক মিনিট পর ব্যারিয়াটি তুললে হয়তো এ দুর্ঘটনা ঘটতো না। মো. মমিন নামের একজন বলেন, রেলগেটের ব্যারিয়ার তুলে দেওয়ার পরই বাস, মাহিন্দ্র, ইজিবাইকসহ আমরা রেললাইন পার হচ্ছিলাম। গেটের দায়িত্বরত গেটম্যান কি খেয়াল করলো না পিছনে আরও চার-পাঁচটি বগি রয়েছে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বগিগুলো এসে আঘাত করে সব দুমড়ে মুচড়ে নিয়ে যায়। রাজবাড়ী রেলওয়ের জ্যেষ্ঠ উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মাহাবুব হাসান বলেন, ফরিদপুরের পাওয়ার প্লান্টে তেল নামিয়ে দিয়ে ৩০টি বগি নিয়ে রাজবাড়ী আসছিল। পথিমধ্যে বগির কাপলিং খুলে যাওয়ায় পিছনের পাঁচটি বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রায় ৮৫ কিলোমিটার গতিতে ইঞ্জিনসহ বগিগুলো খানখানাপুর রেলক্রসিং পার হওয়ার পর গেটম্যান ব্যারিয়ার তুলে দেন। পিছনে বিচ্ছিন্ন আরও পাঁচটি বগি রয়েছে যা দেখতে পাননি। ব্যারিয়ার উঠানোর পর রেললাইন পার হওয়ার সময় যানবাহনগুলোকে পিছনের বগিগুলো এসে আঘাত করে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে বগিগুলোকে ফরিদপুর আমিরাবাদ স্টেশনে রাখা হয়েছে। রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ জানান, ব্যারিয়ার খুলে দেওয়ার পর রেললাইনে চলে আসা যাত্রীবাহি বাস, মাহিন্দ্র, অটোরিক্সা সাথে বগির চতুর্মুখী সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পাঁচজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে রাতেই দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
সম্পাদক: রাশেদ ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৫ । সর্বস্ব সংরক্ষিত রাজবাড়ী মেইল