প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬
রাজবাড়ীতে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় মুরগির খামার অপসারণ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষার দাবি
||
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ী: রাজবাড়ী সদর উপজেলার কৈডাঙ্গা গ্রামে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় মুরগির খামার অপসারণ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের কৈডাঙ্গা গ্রামে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।ভুক্তভোগী সুরুজ মিয়া বলেন, গ্রামের বাসিন্দা সোহেল মন্ডল কোনো নিয়মনীতি ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই সম্পূর্ণ গায়ের জোরে আমাদের বসতবাড়ির একদম গা ঘেঁষে একটি বিশাল পোল্ট্রি খামার স্থাপন করেছেন। বর্তমানে এই খামারে প্রায় ৪ হাজার লেয়ার মুরগি পালন করা হচ্ছে। যার বর্জ্য ও তীব্র দুর্গন্ধে এলাকায় বসবাস করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।তিনি বলেন, আমরা এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে এবং ব্যক্তিগতভাবে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর পরিবেশ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। পরিবেশ অধিদপ্তর নোটিশের মাধ্যমে সোহেল মন্ডলকে খামার বন্ধের নির্দেশ দেয়। কিন্তু প্রশাসনের সেই নির্দেশ তোয়াক্কা না করে খামার চালু রাখলে ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর তাকে দ্বিতীয়বার নোটিশ দেওয়া হয়। দুঃখের বিষয়, সরকারি আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এখনো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।আমরা ভুক্তভোগী এলাকাবাসী অত্যন্ত নিরুপায় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। শান্তিপূর্ণ বসবাসের গ্রামটিতে এক প্রভাবশালীর অবৈধ কর্মকাণ্ডে আজ আমাদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। আমরা এর প্রতিকার চাই। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, ইউএনও এবং পরিবেশ অধিদপ্তর বরাবর খামারটি বন্ধের আবেদন জানিয়েছি।ভুক্তভোগী সুরুজ মিয়া বলেন, অবিলম্বের পোল্ট্রি খামারটি আবাসিক এলাকা থেকে অপসারণ করতে হবে। এ সময় তিনি আইন অমান্যকারী সোহেল মন্ডলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।ভুক্তভোগী স্থানীয় নূরজাহান বেগম বলেন, মুরগির খামারের দুর্গন্ধে বাড়িতে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়া, খাবার খাওয়া বা ঘুমানো দায় হয়ে পড়েছে। বিশাল সংখ্যক মুরগির বর্জ্যের কারণে এলাকায় মশা, মাছি ও ইঁদুরের উপদ্রব চরম আকার ধারণ করেছে। এলাকার শিশু, বৃদ্ধ এবং বিশেষ করে শ্বাসকষ্টের রোগীদের স্বাস্থ্য এখন মারাত্মক হুমকির মুখে। আমরা শুধুমাত্র বসবাসের অধিকার এবং সুস্থভাবে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা চাই। অবিলম্বে এই পোল্ট্রি ফার্মটি বন্ধের জন্য দাবি জানাচ্ছি।স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, জনবসতি এলাকায় মুরগির খামার হওয়াতে আমরা দুর্গন্ধে টিকতে পারি না। এলাকার পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। আত্মীয় স্বজন আসলে বাসাবাড়িতে থাকতে চাইনা। আমরা খুব কষ্টের মধ্যে আছি।অভিযোগ প্রসঙ্গে পোল্ট্রি ফার্মের মালিক সোহেল মন্ডল বলেন, আমি যথাযথ নিয়ম মেনেই খামার করেছি। নিয়মিত খামার পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখি।মুরগির খামার থাকলে সেখানে তো একটু গন্ধ বের হবেই। তারপরও চেষ্টা করি যাতে পাশ্ববর্তী প্রতিবেশীর যেন কষ্ট না হয়।রাজবাড়ী পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক পারভেজ আহম্মেদ বলেন, পোল্ট্রি ফার্মের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে এর আগে নোটিশ পাঠিয়েছিলাম। এ অভিযোগের ভিত্তিতে শুনানি নেওয়া হবে। এরপরও যদি তারা সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাহলে এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করবো। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন সহ আদালতে মামলা দায়ের করবো। কোন অবস্থাতেই রাজবাড়ীতে অবৈধ প্রতিষ্ঠান চলতে দেয়া হবে না।
সম্পাদক: রাশেদ ইসলাম
কপিরাইট © ২০২৫ । সর্বস্ব সংরক্ষিত রাজবাড়ী মেইল